📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নারীদের অধিকার সম্পর্কে বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ

📄 নারীদের অধিকার সম্পর্কে বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ


ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণে মুসলিম উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ রাসূলুল্লাহ্ (স) বর্ণনা করিয়াছেন। এই ভাষণে মহিলাদের প্রতি কোমল আচরণ করিবার নির্দেশ দান করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন:
عن عمرو بن الاحوص انه شهد حجة الوداع مع رسول الله ﷺ فحمد الله واثنى عليه وذكر ووعظ فذكر في الحديث قصة فقال الا واستوصوا بالنساء خيرا فانما هن عوان عندكم ليس تملكون منهن شيئا غير ذلك الا ان يأتين بفاحشة مبينة فان فعلن فاهجروهن في المضاجع واضربوهن ضرباً غير مبرح فان اطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا الا ان لكم على نسائكم حقا ولنسائكم عليكم حقا فاما حقكم على نسائكم فلا يوطئن فرشكم من تكرهون ولا يأذن في بيوتكم لمن تكرهون الا وحقهن عليكم ان تحسنوا اليهن في كسوتهن وطعامهن .
"আমর ইবনুল আহওয়াস (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) হামদ ও ছানার পর ওয়াজ-নসীহত করিলেন এবং দীর্ঘ ভাষণ দিলেন। অতঃপর বলিলেন, শুনিয়া রাখ! নারীদের কল্যাণ সাধনের বিষয়ে তোমরা আমার নসীহত গ্রহণ কর। কারণ তাহারা তোমাদের নিকট বন্দিনীস্বরূপ। তাহাদিগকে সতর্ক করা ব্যতীত তোমরা তাহাদের উপর অন্য কিছু করিবার অধিকার রাখ না। হাঁ, যদি তাহারা প্রকাশ্য কোন গর্হিত অপরাধে লিপ্ত হয় তবে তোমরা তাহাদের শয্যা বর্জন করিবে এবং এমনভাবে প্রহার করিবে যাহাতে তাহাদের ত্বকে দাগ না লাগে। অতঃপর যদি তাহারা আনুগত্য প্রকাশ করে তাহা হইলে আর বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নাই। জানিয়া রাখিও, তোমাদের স্ত্রীদের উপর যেমন তোমাদের অধিকার রহিয়াছে, তেমনি তোমাদিগের উপরও তাহাদের অধিকার রহিয়াছে। তাহাদিগের উপর তোমাদিগের অধিকার হইল, তোমরা যাহাদিগকে অপসন্দ কর সে তাহাদের কাহাকেও তোমাদের শয্যা ময়লা করিতে দিবে না এবং তোমাদিগের অপসন্দনীয় লোকটিকে তোমাদের গৃহে প্রবেশের অনুমতি দিবে না। জানিয়া রাখ, তোমাদের উপর তাহাদের অধিকার হইল, তোমরা উত্তমভাবে তাহাদিগকে পোশাকাদি দিবে এবং ভরণ-পোষণ প্রদান করিবে” (ইমাম তিরমিযী, আল-জামে', ১খ., পৃ. ২২০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পুণ্যবতী নারী জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়া প্রবেশ করিতে পারিবে

📄 পুণ্যবতী নারী জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়া প্রবেশ করিতে পারিবে


কয়েকটি কাজ যথাযথভাবে নারীরা সম্পাদন করিলে তাহারা জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়া উহাতে সহজে প্রবেশ করিতে পারিবে বলিয়া রাসূলুল্লাহ (স) ঘোষণা করেন।
عن انس قال قال رسول الله ﷺ الله المرأة اذا صلت خمسها وصامت شهرها واحصنت فرجها واطاعت بعلها فلتدخل من اى ابواب الجنة شاءت .
"আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, কোন মহিলা যখন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করিবে, রমযান মাসের সাওম পালন করিবে, স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাজত করিবে ও স্বামীর আনুগত্য করিবে, সে জান্নাতের যেই দরজা দিয়া ইচ্ছা তাহাতে প্রবেশ করিতে পারিবে” (মিশকাতুল মাসাবীহ, বিবাহ অধ্যায়, পৃ. ১৮১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বৃদ্ধা মহিলার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর কৌতুক

📄 বৃদ্ধা মহিলার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর কৌতুক


রাসূলুল্লাহ (স) কোন কোন সময় হাস্যরসমূলক কথাও বলিতেন। তবে তাঁহার রসিকতায় কোন ধরনের অতিরঞ্জন ছিল না। এক বৃদ্ধা মহিলার প্রতি তাঁহার কৌতুকপূর্ণ কোমল আচরণের কথা হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে।
عن الحسن قال اتت عجوز النبي ﷺ فقالت يا رسول الله ادع الله ان يدخلني الجنة فقال يا ام فلان ان الجنة لا يدخلها عجوز قال فولت تبكى فقال اخبروها انها لا تدخلها وهى عجوز ان الله تعالى يقول إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءُ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عربا أتراباً .
"হাসান বসরী (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট জনৈকা বৃদ্ধা মহিলা আগমন করিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, জান্নাতে কোন বৃদ্ধা মহিলা প্রবেশ করিতে পারিবে না। কথাটি শুনিয়া বৃদ্ধা কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিয়া যাইতে লাগিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, তাহাকে বলিয়া দাও, সে বৃদ্ধা অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করিবে না। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন : "উহাদিগকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে, উহাদিগকে করিয়াছি কুমারী" (৫৬: ৩৫-৩; শামাইলুত-তিরমিযী)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বালিকাদের আনন্দ সঙ্গীত

📄 বালিকাদের আনন্দ সঙ্গীত


রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে কিছু সংখ্যক বালিকা দফ বাজাইয়া আনন্দ-উল্লাস করিতেছিল। তিনি উহা প্রত্যক্ষ করিলেন, কিন্তু বাধা প্রদান করিলেন না। বর্ণিত হইয়াছে:
عن الربيع بنت معوذ قالت جاء النبي الله فدخل حين بني على فجلس على فراشي كمجلسك منى فجعلت الجويريات لنا يضربن بالدف ويند بن من قتل من ابائي يوم بدر اذ قالت احدهن وفينا نبي يعلم ما في غد فقال دعى هذه وقولي بالذي كنت تقولين (رواه البخاری (۲۲۳) .
“আর-রুবায়্যি বিন্ত মু'আব্বিয (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার গৃহে প্রবেশ করিলেন যখন আমার বাসর উদ্যাপিত হইয়াছিল। তিনি আমার বিছানায় বসিলেন, যেইভাবে আপনি (স্বামী) বসিয়াছেন। তখন আমাদের বালিকারা দফ বাজাইয়া বদরের যুদ্ধে আমাদের পূর্বপুরুষ যাহারা শাহাদাতবরণ করিয়াছিলেন তাহাদিগের গুণকীর্তন করিতেছিল। একটি বালিকা বলিয়া উঠিল, আমাদের মধ্যে একজন নবী আছেন যিনি আগামী কাল কি হইবে তাহা জানেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই উক্তি বর্জন কর, যাহা পূর্বে বলিতেছিলে তাহা বলিতে থাক" (বুখারী, সাহীহ, ২খ., পৃ. ২৭৩)।
عن عامر بن سعد قال دخلت على قرظة بن كعب وابي مسعود الانصاري في عرس واذا جوار يغنين فقلت ای صاحبی رسول الله الله واهل بدر يفعل هذا عندكم فقالا اجلس ان شئت فاسمع معنا وان شئت فاذهب فانه قد رخص لنا في اللهو عند العرس (رواه النسائي) .
"আমের ইবন সা'দ (রা) বলেন, আমি কারাযা ইন্ন কা'ব ও আবী মাস'উদ আনসারী (রা)-এর সহিত একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হইলাম। আমি দেখিতে পাইলাম, কয়েকটি বালিকা সঙ্গীত পরিবেশন করিতেছে। আমি বলিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূলের দুই সাহাবী ও বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারিগণ! আপনাদের সম্মুখে উহা কী করা হইতেছে? তাহারা বলিলেন, ইচ্ছা হইলে এইখানে বস এবং আমাদের সঙ্গে উহা শ্রবণ কর; অন্যথা চলিয়া যাও। কারণ বিবাহ অনুষ্ঠানে উহা করিবার জন্য আমাদিগকে অনুমতি প্রদান করা হইয়াছে” (সুনান নাসাঈ, বরাত মিশকাত শরীফ, পৃ. ২৭৩)।
عن عائشة ان ابا بكر دخل عليها والنبي الله عندها يوم فطر او اضحى وعندها قينتان تغنيان بما تعازفت الانصار يوم بعاث فقال ابو بكر مزمار الشيطان مرتين فقال النبي الله دعهما يا أبا بكر ان لكل قوم عيد وان عيدنا هذا اليوم (رواه البخاري (٥٥٩) .
"হযরত আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার নিকট অবস্থানকালে সেখানে আবূ বকর (রা) প্রবেশ করিলেন। দিনটি ছিল ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার। তাঁহার নিকট তখন দুইটি বালিকা ছিল। আনসারগণ 'বু'আছ' যুদ্ধের দিন যেই সকল সঙ্গীত পরিবেশন করিয়াছিল, তাহারা সেইগুলি আবৃত্তি করিতেছিল। আবু বকর (রা) বলিলেন, উহা তো শয়তানের সঙ্গীত, উহা তো শয়তানের সঙ্গীত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে আবু বকর! উহাদিগকে স্বঅবস্থায় ছাড়িয়া দাও। প্রতিটি জাতির জন্য রহিয়াছে ঈদ উৎসব। আমাদের ঈদ হইল এই দিন” (বুখারী, প্রাগুক্ত, ১খ., পৃ. ১৩০, ৫৫৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00