📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নারীদের প্রতি সদাচারণের নির্দেশ

📄 নারীদের প্রতি সদাচারণের নির্দেশ


অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় রাসূলুল্লাহ (স) নারীদের প্রতি কোমল আচরণের নির্দেশ প্রদান করিয়াছেন। হাদীছে বলা হইয়াছে:
عن ابي هريرة عن النبى الله قال من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذى چاره واستوصوا بالنساء خيرا فانهن خلقن من ضلع وان اعوج شيئ في الضلع اعلاه فان ذهبت تقيمه كسرته وان تركته لم يزل اعوج فاستوصوا بالنساء خيرا (رواه البخاری (۹۲۲) .
“আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, যাহারা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে তাহারা যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। নারীদের প্রতি সদাচরণের ব্যাপারে তোমরা আমার নির্দেশ পালন কর। কারণ তাহাদিগকে পুরুষের পাঁজরের হাড় হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে। পাঁজরের হাড়ের সর্বাধিক বক্রটি হইল উপরের হাড্ডি। তুমি যদি তাহাকে সোজা করিতে চাও তাহা হইলে উহা ভাঙ্গিয়া ফেলিবে। আর যদি উহাকে স্বঅবস্থায় ছাড়িয়া দাও তাহা হইলে উহা বাঁকা হইতেই থাকিবে। সুতরাং নারীদের তোমরা কল্যাণকর উপদেশ দাও” (বুখারী, সহীহ, ২খ., পৃ. ৭৭৯)।
নারী জাতির প্রতি রাসূলুল্লাহ (স) কতই যে সহানুভূতিশীল ছিলেন উহা তাহাদের ব্যাপারে সাহাবীদের সতর্কতা অবলম্বন হইতে অনুমান করা যায়। মহানবী (স) বলেন:
عن ابن عمر قال كنا نتقى الكلام والانبساط الى نسائنا على عهد النبي هيبة أن ينزل فينا شيئ فلما توفى النبي ﷺ تكلمنا وانبسطنا (رواه البخاری (۲۲۹).
“ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবদ্দশায় আমাদের নারীদের ব্যাপারে মুখ খুলিয়া কথা বলিতে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করিতাম এই ভয়ে যে, তাহাদের ব্যাপারে আমাদের উপর কোন বিধান অবতীর্ণ হইয়া যাইবে। রাসূলুল্লাহ (س)-এর ইন্তিকালের পর সেই ভয় দূর হইয়া গেলে আমরা মুখ খুলিয়া কথা বলা শুরু করি” (বুখারী, ২খ., পৃ. ৭৭৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নারীদের প্রতি অগাধ ভালবাসা

📄 নারীদের প্রতি অগাধ ভালবাসা


দুনিয়ার যে সকল বস্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অতি প্রিয় হিসাবে বিবেচিত হইত তাহার অন্যতম ছিল নারী জাতি।
عن انس قال قال رسول الله ﷺ حبب الى من الدنيا ثلث حبب الى الطيب والنساء وجعلت قرة عيني في الصلوة .
“আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, দুনিয়ার তিনটি জিনিসের প্রতি আমার অগাধ ভালবাসা আছে। সুগন্ধি ও নারী এবং সালাতকে আমার চক্ষু শীতলকারী বানাইয়া দেওয়া হইয়াছে” (মিশকাতুল মাসাবীহ, পৃ. ৪৪৯)।
عن عائشة قالت كان رسول الله ﷺ يعجبه من الدنيا ثلثة الطعام والنساء والطيب فاصاب اثنين ولم تصب واحدا اصاب النساء والطيب ولم يصب الطعام.
“আইশা (রা) বলেন, দুনিয়ার তিনটি জিনিস রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট প্রিয় ছিল: খাবার, নারী ও সুগন্ধি। উহা হইতে দুইটি জিনিস তিনি লাভ করিয়াছেন, কিন্তু একটি লাভ করিতে পারেন নাই। তিনি প্রাপ্ত হইয়াছেন নারী ও সুগন্ধি, কিন্তু খাদ্য লাভ করিতে পারেন নাই” (মিশকাত, প্রাগুক্ত)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তাকওয়া-পরবর্তী সর্বোত্তম সম্পদ সতী নারী

📄 তাকওয়া-পরবর্তী সর্বোত্তম সম্পদ সতী নারী


সতী নারীকে রাসূলুল্লাহ (س) এই জগতে সর্বোত্তম সম্পদ বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন। তিনি বলেন:
عن ابى امامة عن النبى ﷺ انه كان يقول ما استفاد المؤمن بعد تقوى الله خيرا له من زوجة صالحة ان امرها اطاعته وان نظر اليها سرته وان اقسم عليها ابرته وان غاب عنها نصحته في نفسها وماله رواه ابن ماجه (۱۳۳).
“আবু উমামা (রা) হইতে বর্ণিত। মহানবী (س) বলিতেন, তাকওয়ার পর মু'মিন ব্যক্তি সতী নারী ব্যতীত উত্তম অন্য কিছুই অর্জন করে নাই। স্বামী তাহাকে আদেশ করিলে সে উহা মান্য করে, তাহার দিকে তাকাইলে স্বামীকে সে আনন্দ দেয়। স্বামী তাহাকে কসম দিলে সে উহা পূর্ণ করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তাহার দেহ ও স্বামীর সম্পদের হেফাজত করে” (ইবন মাজা, সুনান, তা. বি., পৃ. ১৩৩)।
عن عبد الله بن عمرو أن رسول الله ﷺ قال انما الدنيا متاع وليس من متاع الدنيا شيئ افضل من المرأة الصالحة (رواه ابن ماجه) .
“আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (س) বলিয়াছেন, গোটা জগতটাই সম্পদ। গোটা জগতের সম্পদরাজির মধ্যে পুণ্যবতী নারী হইতে উত্তম কিছুই নাই” (ইব্‌ন মাজা, প্রাগুক্ত)।
عن ثوبان قال لما نزل فى الفضة والذهب ما نزل قالوا فاى المال نتخذ قال عمر فانا اعلم لكم ذلك فاوضع على بعيره فادرك النبى ﷺ وانا فى اثره فقال يا رسول الله ای المال نتخذ قال ليتخذ احدكم قلبا شاكرا ولسانا ذاكرا وزوجة مؤمنة تعين احدكم على الأمر الآخرة (رواه ابن ماجه) .
“ছাওবান (রা) বলেন, স্বর্ণ-রৌপ্য সম্পর্কে যে নির্দেশ আসার তাহা আসিবার পর সাহাবায়ে কিরাম (রা) বলাবলি করিতে লাগিলেন, তাহা হইলে আমরা কোন সম্পদ গ্রহণ করিব? হযরত উমার (রা) বলিলেন, এই সম্পর্কে আমি তোমাদিগের হইতে বেশি অবহিত। অতঃপর তিনি তাঁহার উট দ্রুত হাঁকাইতে লাগিলেন। আমিও তাঁহার পদাংক অনুসরণ করিয়া আগাইতেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (س)-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আমরা কোন্ সম্পদ গ্রহণ করিব? রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, তোমাদিগের যে কেহ যেন কৃতজ্ঞ অন্তর, যিকিররত জিহ্বা ও পুণ্যবতী স্ত্রী গ্রহণ করে। কারণ পুণ্যবতী স্ত্রী তোমাদিগকে পরকালের বিভিন্ন ব্যাপারে সাহায্য করিতে সক্ষম হইবে” (ইবন মাজা, প্রাগুক্ত)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নারীদের অধিকার সম্পর্কে বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ

📄 নারীদের অধিকার সম্পর্কে বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ


ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণে মুসলিম উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ রাসূলুল্লাহ্ (স) বর্ণনা করিয়াছেন। এই ভাষণে মহিলাদের প্রতি কোমল আচরণ করিবার নির্দেশ দান করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন:
عن عمرو بن الاحوص انه شهد حجة الوداع مع رسول الله ﷺ فحمد الله واثنى عليه وذكر ووعظ فذكر في الحديث قصة فقال الا واستوصوا بالنساء خيرا فانما هن عوان عندكم ليس تملكون منهن شيئا غير ذلك الا ان يأتين بفاحشة مبينة فان فعلن فاهجروهن في المضاجع واضربوهن ضرباً غير مبرح فان اطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا الا ان لكم على نسائكم حقا ولنسائكم عليكم حقا فاما حقكم على نسائكم فلا يوطئن فرشكم من تكرهون ولا يأذن في بيوتكم لمن تكرهون الا وحقهن عليكم ان تحسنوا اليهن في كسوتهن وطعامهن .
"আমর ইবনুল আহওয়াস (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) হামদ ও ছানার পর ওয়াজ-নসীহত করিলেন এবং দীর্ঘ ভাষণ দিলেন। অতঃপর বলিলেন, শুনিয়া রাখ! নারীদের কল্যাণ সাধনের বিষয়ে তোমরা আমার নসীহত গ্রহণ কর। কারণ তাহারা তোমাদের নিকট বন্দিনীস্বরূপ। তাহাদিগকে সতর্ক করা ব্যতীত তোমরা তাহাদের উপর অন্য কিছু করিবার অধিকার রাখ না। হাঁ, যদি তাহারা প্রকাশ্য কোন গর্হিত অপরাধে লিপ্ত হয় তবে তোমরা তাহাদের শয্যা বর্জন করিবে এবং এমনভাবে প্রহার করিবে যাহাতে তাহাদের ত্বকে দাগ না লাগে। অতঃপর যদি তাহারা আনুগত্য প্রকাশ করে তাহা হইলে আর বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নাই। জানিয়া রাখিও, তোমাদের স্ত্রীদের উপর যেমন তোমাদের অধিকার রহিয়াছে, তেমনি তোমাদিগের উপরও তাহাদের অধিকার রহিয়াছে। তাহাদিগের উপর তোমাদিগের অধিকার হইল, তোমরা যাহাদিগকে অপসন্দ কর সে তাহাদের কাহাকেও তোমাদের শয্যা ময়লা করিতে দিবে না এবং তোমাদিগের অপসন্দনীয় লোকটিকে তোমাদের গৃহে প্রবেশের অনুমতি দিবে না। জানিয়া রাখ, তোমাদের উপর তাহাদের অধিকার হইল, তোমরা উত্তমভাবে তাহাদিগকে পোশাকাদি দিবে এবং ভরণ-পোষণ প্রদান করিবে” (ইমাম তিরমিযী, আল-জামে', ১খ., পৃ. ২২০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00