📄 শত্রুপক্ষের ধৃত মহিলা
দাসী অথবা বন্দী মহিলার প্রতিও যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করিতে ইসলাম কখনও ভুল করে নাই। অথচ ইহাদের সম্পর্ক ছিল শত্রুপক্ষের সহিত এবং যুদ্ধে পরাজিত হইয়া ইহারা মুসলমানদের হস্তগত হয়। কিন্তু ইসলাম কখনও ইহাদের ইজ্জত ও সম্ভ্রম নষ্ট করার অনুমতি দেয় নাই, যুদ্ধলব্ধ মাল গণ্য করার সুযোগও দেয় নাই এবং (অন্যান্য দেশের ন্যায়) সকলের সাধারণ সম্পত্তি ঘোষণা করিয়া বল্লাহীন ব্যভিচার ও পাশবিকতারও কোন অবকাশ দেওয়া হয় নাই, বরং সম্ভ্রম ও সতীত্ব সংরক্ষণের একমাত্র পন্থা হিসাবে ইসলাম ইহাদেরকে কেবল মালিকদের জন্যই নির্ধারিত করিয়া দিয়াছে এবং তাহাদিগকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিয়াছে, তাহাদের সহিত অপর কাহারও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ঘোষণা করিয়াছে। অধিকন্তু ইসলাম এই মহিলাদের স্বাধীন হওয়ার জন্য 'মুকাতাবাতের' পন্থাও উন্মুক্ত রাখিয়াছে, এমনকি এই নিয়মও প্রবর্তন করিয়াছে যে, মালিকের ঔরসে ইহাদের কেহ সন্তানবতী হইলে সে আপনা আপনি স্বাধীন হইয়া যাইবে এবং তাহার সন্তানও স্বাধীন মানুষ হিসাবে বিবেচিত হইবে। কয়েদী মহিলাদের প্রতি ইসলাম কতদূর উদার, মহৎ ও অনুগ্রহপরায়ণ তাহা সহজেই অনুমেয়।
নীতির দিক হইতে ইসলাম দাসপ্রথাকে পসন্দ করে নাই, বরং নিজস্ব সকল উপায়-উপাদানের মাধ্যমে ইহাকে নির্মূল করার চেষ্টা করিয়াছে। সাময়িকভাবে দাসপ্রথার অস্তিত্বকে যে স্বীকার করিয়া লওয়া হইয়াছিল উহার একমাত্র কারণ ছিল এই যে, তখন উহার কোন বিকল্প ব্যবস্থাই ছিল না। কেননা ইহার পরিপূর্ণ বিলুপ্তি জন্য শুধু মুসলমানদের সম্মতিই যথেষ্ট ছিল না, বরং অমুসলিম দুনিয়ার সহযোগিতাও অপরিহার্য ছিল। বাহিরের দেশগুলির যুদ্ধবন্দীদিগকে দাসে পরিণত করার সিদ্ধান্ত পরিহার না করা পর্যন্ত ইসলামের একার পক্ষে ইহার বিলুপ্তি সম্ভব ছিল না।