📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইসলামের ধারাবহিক কর্মপদ্ধতি

📄 ইসলামের ধারাবহিক কর্মপদ্ধতি


বস্তুত ইসলাম ঠিক এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচী গ্রহণ করিয়াছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম দাসদের প্রতি উহার ভদ্রজনোচিত ও সুবিচার ভিত্তিক ব্যবহারের শিক্ষা দিয়াছে। দাসদের মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তাহাদের মধ্যে মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি জাগ্রত করার জন্য ইহাই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। কেননা মানুষ একবার যখন মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে তখন তাহারা উহার দাবি ও দায়দায়িত্ব সম্বন্ধে আর শংকিত হয় না এবং আমেরিকার নূতন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দাসদের ন্যায় পুনরায় দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ হইয়া নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপনের জন্যও লালায়িত হয় না। দাসদের সহিত সদ্ব্যবহার এবং তাহাদের মানবিক মর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধার পর্যায়ে মুসলিম জাতির ইতিহাস চরম বিস্ময়কর ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্তে ভরপুর। এই পর্যায়ে আমরা পবিত্র কুরআন ও হাদীছের কিছু উদ্ধৃতি ইতোপূর্বে পেশ করিয়াছি। এখানে অত্যন্ত সংক্ষেপে মহানবী (স)-এর বাস্তব জীবন হইতে কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হইল :

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাস হইল মনিবের ভাই

📄 দাস হইল মনিবের ভাই


মদীনায় আগমনের পর রাসূলুল্লাহ (স) মুসলমানদের মধ্যে যে ভ্রাতত্বের বন্ধন স্থাপন করেন তাহাতে তিনি আরব মনিবদিগকে আযাদকৃত দাসদের ভাই বানাইয়া দেন। তিনি হযরত বিলাল (রা)-কে হযরত খালিদ ইব্‌ন রুওয়ায়হার, হযরত যায়দ ইব্‌ন হারিছাকে হযরত হামযার এবং হযরত খারিজাকে হযরত আবূ বকর (রা)-র ভাই বানাইয়া দেন। ভ্রাতৃত্বের এই সম্পর্ক রক্ত সম্পর্কের তুলনায় কোন অংশেই কম শক্তিশালী ছিল না।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাসদের সহিত বিবাহ

📄 দাসদের সহিত বিবাহ


রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার ফুফাতো বোন হযরত যয়নবকে স্বীয় মুক্ত দাস হযরত যায়দের সহিত বিবাহ দেন। এই বিবাহ স্থায়ী না হইলেও ইহাতে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর যে লক্ষ্য ছিল তাহা অর্জিত হইয়াছিল নিঃসন্দেহে। নিজ বংশের একজন মেয়েকে একজন দাসের সহিত বিবাহ দিয়া তিনি বিশ্ববাসীর নিকট এই সত্যই তুলিয়া ধরিয়াছেন যে, অত্যাচারী, মানবগোষ্ঠী তাহাদেরই একটি শ্রেণীকে লাঞ্ছনা ও অবমাননার যে গভীর পঙ্কে নিমজ্জিত করিয়াছে উহা হইতে বাহির হইয়া একজন দাসও কুরায়শ দলপতিদের ন্যায় ইজ্জত ও সম্ভ্রমের শীর্ষে আরোহণ করিতে পারে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইসলামী সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব

📄 ইসলামী সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব


ইসলাম দাসদিগকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব এবং জাতীয় অধিনায়কত্বের পদও প্রদান করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ (স) যখন আনসার ও মুহাজিরদের সমন্বয়ে একটি সেনাবাহিনী গঠন করেন তখন উহার প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করেন তাঁহারই দাস হযরত যায়দ (রা)-কে। হযরত যায়দের ইন্তিকালের পর তিনি এই দায়িত্বভার তাঁহার পুত্র হযরত উসামা (রা)-এর উপর ন্যস্ত করেন। অথচ এই সেনাবাহিনীতে হযরত আবূ বকর (রা) ও হযরত উমার (রা)-এর ন্যায় মহাসম্মানীয় ও সর্বজনমান্য আরব নেতৃবৃন্দও ছিলেন যাহারা তাঁহার জীবদ্দশায় তাঁহার সুবিশ্বস্ত পরামর্শদাতা ছিলেন এবং তাঁহার ওফাতের পর তাঁহারই স্থলাভিষিক্ত হন। এইভাবে মহানবী (স) দাসদিগকে শুধু স্বাধীন মানুষের মর্যাদা প্রদান করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, বরং স্বাধীন সৈন্যদের সুউচ্চ নেতৃত্বের পদও অলংকৃত করার সুযোগ দিয়াছেন। এই পর্যায়ে তিনি এতদূর গুরুত্ব আরোপ করিয়াছেন যে, তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন :
"শোন এবং নেতৃবৃন্দের আনুগত্য কর, একজন মস্তক মুণ্ডিত হাবশী দাসকেও যদি তোমাদের নেতা বানানো হয় তবুও তাহার আনুগত্য কর যতক্ষণ সে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর আইন জারি করে" (আল-বুখারী)।
অন্য কথায়, ইসলাম একজন দাসের এই অধিকারেরও স্বীকৃতি দিয়াছে যে, সে ইসলামী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদও অলংকৃত করিতে পারে। হযরত উমার (রা) যখন তাঁহার স্থলাভিষিক্ত খলীফা নির্বাচিত করার প্রয়োজন অনুভব করেন তখন তিনি বলিলেন, "আবূ হুযায়ফার মুক্ত দাস সালিম যদি এখন জীবিত থাকিতেন তবে আমি তাহাকে খলীফা নিয়োগ করিতাম"।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00