📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 প্রাচ্য জগতে দাসত্বের প্রভাব

📄 প্রাচ্য জগতে দাসত্বের প্রভাব


নিকট অতীতের মিসর ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলির ইতিহাস পর্যালোচনা করিলে দেখা যায়, পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদ প্রাচ্যের মুসলিম অধিবাসীদের জীবনকে মানসিক, দৈহিক ও চিন্তাগত দাসত্বের নিগড়ে বাঁধিয়া কতদূর মূল্যহীন ও অথর্ব করিয়া দিয়াছে। পাশ্চাত্যমনা নামধারী মুসলমানদের কথাবার্তা ও বক্তৃতার মাধ্যমে এই মানসিক দাসত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাহারা যখন ইসলামের কতক আইন-কানুনকে অকেজো সাব্যস্ত করিয়া এইরূপ ধারণা পোষণ করে যে, বর্তমান যুগে উহা সম্পূর্ণরূপে অচল তখন ইহার অন্তরালে তাহাদের সেই দাস মনোবৃত্তিই সক্রিয় হইয়া উঠে যাহার ফলে একজন দাস স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং উহার সুফল-কুফলকে পৌরুষের সহিত মুকাবিলা করার যোগ্যতা হারাইয়া ফেলে। যদি কোন ইংরেজ বা আমেরিকান আইনবিদ কোন ঘৃণ্য আইনকে সমর্থন করে তাহা হইলে এই লোকেরা খুব আনন্দের সহিত উহা জারি করার জন্য প্রস্তুত হইয়া যায়। প্রাচ্যের দেশসমূহে এখন যে অফিস ব্যবস্থাপনা (Official Management) দেখা যায় উহাও সেই গোলামী যুগের স্মৃতি বহন করিতেছে। এই সকল কার্যালয়ের নিষ্প্রাণ কর্মপদ্ধতি এবং উহার ভীতসন্ত্রস্ত কর্মচারীদের প্রতি তাকাইলে সহজেই অনুমান করা যায়, দাসত্বের অভিশপ্ত ছায়া এখনও প্রাচ্যের অধিবাসীদিগকে কীরূপে গ্রাস করিয়া রাখিয়াছে! এই দাস মনোবৃত্তিই একজন স্বাধীন মানুষকে দাসে পরিণত করে। যতই দিন যাইতে থাকে ততই উহার বন্ধন দৃঢ় হইতে দৃঢ়তর হইতে থাকে এবং পরিশেষে ইহা এক স্বতন্ত্র স্বভাবে পরিণত হয়। এই প্রকার দাস্য মনোবৃত্তিকে কেবল দাসত্ব বিরোধী আইন করিয়াই নির্মূল করা যায় না। উহা নির্মূল করার জন্য প্রয়োজন নূতন পরিবেশ এবং অভ্যন্তরীণ বিপ্লব। তাহা হইলে দাসদের মনস্তাত্ত্বিক ও প্রকৃতিগত ধারাকে সম্পূর্ণ নূতন খাতে প্রবাহিত করা যাইতে পারে এবং ব্যক্তিচরিত্রের সেই সকল দিককে অনুপ্রাণিত করা যাইতে পারে যাহার ফলে একজন মানুষ স্বাধীন মানুষ হিসাবে জীবন যাপনের সকল ক্ষেত্রে যাবতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দ্বিধায় অগ্রসর হইতে পারে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইসলামের ধারাবহিক কর্মপদ্ধতি

📄 ইসলামের ধারাবহিক কর্মপদ্ধতি


বস্তুত ইসলাম ঠিক এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচী গ্রহণ করিয়াছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম দাসদের প্রতি উহার ভদ্রজনোচিত ও সুবিচার ভিত্তিক ব্যবহারের শিক্ষা দিয়াছে। দাসদের মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তাহাদের মধ্যে মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি জাগ্রত করার জন্য ইহাই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। কেননা মানুষ একবার যখন মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে তখন তাহারা উহার দাবি ও দায়দায়িত্ব সম্বন্ধে আর শংকিত হয় না এবং আমেরিকার নূতন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দাসদের ন্যায় পুনরায় দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ হইয়া নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপনের জন্যও লালায়িত হয় না। দাসদের সহিত সদ্ব্যবহার এবং তাহাদের মানবিক মর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধার পর্যায়ে মুসলিম জাতির ইতিহাস চরম বিস্ময়কর ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্তে ভরপুর। এই পর্যায়ে আমরা পবিত্র কুরআন ও হাদীছের কিছু উদ্ধৃতি ইতোপূর্বে পেশ করিয়াছি। এখানে অত্যন্ত সংক্ষেপে মহানবী (স)-এর বাস্তব জীবন হইতে কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হইল :

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাস হইল মনিবের ভাই

📄 দাস হইল মনিবের ভাই


মদীনায় আগমনের পর রাসূলুল্লাহ (স) মুসলমানদের মধ্যে যে ভ্রাতত্বের বন্ধন স্থাপন করেন তাহাতে তিনি আরব মনিবদিগকে আযাদকৃত দাসদের ভাই বানাইয়া দেন। তিনি হযরত বিলাল (রা)-কে হযরত খালিদ ইব্‌ন রুওয়ায়হার, হযরত যায়দ ইব্‌ন হারিছাকে হযরত হামযার এবং হযরত খারিজাকে হযরত আবূ বকর (রা)-র ভাই বানাইয়া দেন। ভ্রাতৃত্বের এই সম্পর্ক রক্ত সম্পর্কের তুলনায় কোন অংশেই কম শক্তিশালী ছিল না।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাসদের সহিত বিবাহ

📄 দাসদের সহিত বিবাহ


রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার ফুফাতো বোন হযরত যয়নবকে স্বীয় মুক্ত দাস হযরত যায়দের সহিত বিবাহ দেন। এই বিবাহ স্থায়ী না হইলেও ইহাতে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর যে লক্ষ্য ছিল তাহা অর্জিত হইয়াছিল নিঃসন্দেহে। নিজ বংশের একজন মেয়েকে একজন দাসের সহিত বিবাহ দিয়া তিনি বিশ্ববাসীর নিকট এই সত্যই তুলিয়া ধরিয়াছেন যে, অত্যাচারী, মানবগোষ্ঠী তাহাদেরই একটি শ্রেণীকে লাঞ্ছনা ও অবমাননার যে গভীর পঙ্কে নিমজ্জিত করিয়াছে উহা হইতে বাহির হইয়া একজন দাসও কুরায়শ দলপতিদের ন্যায় ইজ্জত ও সম্ভ্রমের শীর্ষে আরোহণ করিতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00