📄 গুনাহ্ কাফ্ফারাস্বরূপ মুক্তিদান
পবিত্র কুরআনে কিছু কিছু গুনাহর কাফ্ফারাস্বরূপ দাসমুক্তির নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ (স)-ও বলিয়াছেন যে, কতক গুনাহ্ কাফ্ফারা হইল গোলাম আযাদ করা। ফলে অসংখ্য গোলাম আযাদী লাভ করে। কেননা গুনাহ্ ছাড়া কোন মানুষ নাই। কাজেই বহু মানুষ স্ব স্ব গুনাহ্ কাফ্ফারাস্বরূপ গোলামদিগকে আযাদ করে। কোন মু'মিন ব্যক্তি ভুলবশতঃ কাহাকেও হত্যা করিলে উহার কাফ্ফারাস্বরূপ কোন মু'মিন গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।
📄 মুক্তির লিখিত চুক্তিপত্র
ইসলামী বিধানে দাসমুক্তির দ্বিতীয় পদ্ধতি ছিল 'মুকাতাবাত' অর্থাৎ লিখিত চুক্তি পদ্ধতি। যদি কোন দাস তাহার মনিবের নিকট মুক্তি লাভের দাবি করিত তবে মুকাতাবাতের এই পদ্ধতি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ লাভের পরিবর্তে সেই দাসকে মুক্তি দেওয়া মনিবের জন্য অপরিহার্য হইত। 'মুকাতাবাত' চুক্তি অনুসারে দাস যখন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিত তখন তাহাকে আযাদ করা ছাড়া মনিবের কোন উপায় থাকিত না। কোন মনিব মুক্তি দিতে না চাহিলে দাস আদালতে বিচার প্রার্থনা করিত। আদালত উক্ত অর্থ আদায় করিয়া দাসের নিকট মুক্তিপত্র প্রদান করিত।
কোন দাস চুক্তির মাধ্যমে আযাদ হওয়ার আবেদন করিলে তাহার মনিব উক্ত আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে পারিত না। স্বয়ং ইসলামী সরকারই হইত তাহার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মুকাতাবাত চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর মনিবকেই তাহার দাসকে তাহার খেদমতের বিনিময়ে বাধ্যতামূলকভাবে কিছু পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করিয়া দিতে হইত যাহাতে সে চুক্তির অর্থ সংগ্রহ করিতে পারে। মনিব ইহাতে সম্মত না হইলে দাসকে এতটুকু সময় ও সুযোগ অবশ্যই দিতে হইত যাহাতে সে অন্য কাহারও কাজ করিয়া উক্ত অর্থ উপার্জনের সুযোগ পায় এবং ঐ অর্থ দিয়া মুক্তি লাভ করিতে পারে।
📄 সরকারী কোষাগার হইতে সাহায্য প্রদান
রাষ্ট্রীয় কোষাগার হইতে মুক্তিপ্রার্থী দাসের জন্য আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হইত। দাসপ্রথা বিলুপ্ত করার জন্য ইসলাম যে কতদূর দৃঢ়সংকল্প ও তৎপর উহার বাস্তব প্রমাণ এখানেও বিদ্যমান। আর এই সাহায্য প্রদানের মূলে কোন পার্থিব স্বার্থও নিহিত ছিল না; বরং একমাত্র উদ্দেশ্য হইত মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন। মানুষ যাহাতে পুরাপুরিভাবে একমাত্র আল্লাহ্র দাসত্ব করার সুযোগ লাভ করিতে পারে ইসলাম সেজন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে।
সূরা আত-তাওবার ৬০ নং আয়াত হইতে জানা যায়, যে সকল দাস নিজেদের অর্জিত অর্থ দ্বারা মুক্তিলাভ করিতে অক্ষম তাহাদিগকে যাকাত তহবিল হইতে সাহায্য করিতে হইবে।
📄 বিস্ময়কর ইতিহাস
ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় 'ইত্ক' ও মুকাতাবাত' (নিঃশর্ত মুক্তি ও অর্থের বিনিময়ে মুক্তি) দাসপ্রথায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনিয়াছে অবশিষ্ট দুনিয়ার সেই পর্যন্ত পৌঁছিতে অন্ততপক্ষে সাত শত বৎসর লাগিয়াছে। শুধু তাহাই নহে, ইসলাম দাসদের অনুকূলে সর্বাত্মক হেফাযত ও পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া মানবতাকে সমুন্নত করার যে পরিকল্পনা দিয়াছে সেই ধারণা প্রাচীন কাল তো দূরের কথা-আধুনিক যুগের কোন ইতিহাসেও বিদ্যমান নাই। ইসলাম মানুষকে দাসদের সহিত যে মহত্ত্ব, উদারতা ও মহানুভবতা প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়াছে এবং কোন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ কিংবা কোনরূপ লোভ-লালসা ছাড়াই দাসদিগকে স্বেচ্ছায় মুক্তি প্রদানের অদম্য প্রেরণা সৃষ্টি করিয়াছে উহার কোন নজীর মানবেতিহাসে নাই। পরবর্তী কালে ইউরোপে দাসরা যে স্বাধীনতা লাভ করিয়াছে তাহাতে তাহারা ততটুকু সামাজিক মর্যাদাও লাভ করিতে পারে নাই যতটুকু ইসলামী সমাজে দেওয়া হইয়াছিল বহু শতাব্দী পূর্বে।