📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাসদের মানবিক অধিকার

📄 দাসদের মানবিক অধিকার


ইসলামী শিক্ষার ফলে এই সত্যটিও স্পষ্ট হইল যে, দাস থাকা অবস্থায়ও কোন দাসকে তাহার মানবিক অধিকার হইতে বঞ্চিত করা হয় নাই। ইসলামী শারী'আতের এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা শুধু দাসদের জীবন ও ইয্যতের নিরাপত্তার জন্যই যথেষ্ট ছিল না, বরং ইহা এতদূর উদার ও ভদ্রতাপূর্ণ ছিল যে, ইসলামের পূর্বাপর কোন ইতিহাসেই ইহার নজীর খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। এই পর্যায়ে ইসলাম এতদূর অগ্রসর হইয়াছে যে, ইহা কোন দাসের চেহারায় চপেটাঘাত করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করিয়াছে। আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য চপেটাঘাত করার যে অনুমতি মনিবকে দেয়া হইয়াছে উহার জন্যও সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন বিধিবদ্ধ করা হইয়াছে যাহাতে শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রেও সে বৈধ সীমালংঘন করিতে না পারে। প্রকৃতপক্ষে শিশুদের দুষ্টামি বন্ধ করার জন্য বড়রা যে ধরনের শাস্তি দিয়া থাকে উহার চেয়ে কঠিন শাস্তি দাসদের জন্য কখনও বৈধ করা হয় নাই। এই ধরনের শাস্তিও ইসলামের বিপ্লবোত্তর যুগে দাসদের মুক্তির জন্য আইনগত ভিত্তি রচনা করিয়াছে এবং তাহারা মুক্তিলাভের ন্যায্য অধিকার লাভে সমর্থ হইয়াছে।
প্রথম পর্যায়ে ইসলাম দাসদিগকে মানবিক ও আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা দান করিয়াছে, তাহাদের অতীতের মানবীয় মর্যাদা পুনরুদ্ধার করিয়াছে এবং স্পষ্টভাবে জানাইয়া দিয়াছে যে, একই যৌথ মানবতার সূত্রে গ্রথিত বলিয়া সকল দাসই তাহাদের মনিবদের ন্যায় একই মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। স্বাধীনতার গৌরব হইতে বঞ্চিত হইয়া তাহারা কোন দিন মানবতাকে হারায় নাই এবং প্রাকৃতিক বা জন্মগত কোন দুর্বলতারও শিকার হয় নাই, বরং কিছু বাহ্যিক অবস্থা ও পরিবেশের কারণেই তাহাদের স্বাধীনতাকে হরণ করা হইয়াছিল এবং যাবতীয় সামাজিক কর্মকাণ্ডের পথ তাহাদের জন্য রুদ্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। এই বাহ্যিক অবস্থা তথা দাসত্বকে বাদ দিলে তাহারা অন্যান্য লোকদের মতই মানুষ এবং মানুষ হিসাবে তাহাদের মনিবদের ন্যায় তাহারা যাবতীয় মানবীয় অধিকার লাভের উপযুক্ত।
ইসলাম এতটুকু করিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই। কেননা অন্যতম মূলনীতি হইতেছে মানুষের পূর্ণাংগ সমতা বিধান। এই নীতির দাবিই হইল, বিশ্বের সমস্ত মানুষ সমান এবং স্বাধীন মানুষ হিসাবে মানবীয় অধিকার লাভের ক্ষেত্রে সকলে সমান। তাই ইসলাম দাসদিগকে পুরাপুরি স্বাধীন করিয়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে দুইটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে। প্রথমটি হইল সরাসরি মুক্তিদান (বা 'ইত্ক°) অর্থাৎ মনিবদের পক্ষ হইতে দাসদিগকে স্বেচ্ছায় মুক্তি প্রদান করা। দ্বিতীয়টি হইল মুক্তির লিখিত চুক্তি (মুকাতাবাত) অর্থাৎ মনিব ও দাসের মধ্যে মুক্তিদানের লিখিত চুক্তি সম্পাদন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সরাসরি মুক্তিদান

📄 সরাসরি মুক্তিদান


সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন মনিব কর্তৃক তাহার কোন দাসকে দাসত্বের যাবতীয় বন্ধন হইতে মুক্ত করিয়া দেওয়াকে ইসলামের পরিভাষার 'ইত্ক' (মুক্তিদান) বলা হয়। ইসলাম এই পদ্ধতিকে অত্যন্ত ব্যাপকভাবে কার্যকরী করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স)-ও এই ক্ষেত্রে তাঁহার অনুসারীদের সামনে সর্বোত্তম নমুনা পেশ করেন। তিনি তাঁহার সমস্ত দাস-দাসীকে চিরতরে দাসত্ব মুক্ত করিয়া দেন। তাঁহার সাহাবীবৃন্দও তাঁহার অনুসরণে নিজ নিজ দাসদিগকে আযাদ করিয়া দেন। হযরত আবূ বকর (রা) তো তাঁহার ধন-সম্পত্তির এক বিরাট অংশ ব্যয় করিয়া কাফির মনিবদের নিকট হইতে তাহাদের দাসদিগকে ক্রয় করিয়া মুক্ত করিয়া দেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গুনাহ্ কাফ্ফারাস্বরূপ মুক্তিদান

📄 গুনাহ্ কাফ্ফারাস্বরূপ মুক্তিদান


পবিত্র কুরআনে কিছু কিছু গুনাহর কাফ্ফারাস্বরূপ দাসমুক্তির নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ (স)-ও বলিয়াছেন যে, কতক গুনাহ্ কাফ্ফারা হইল গোলাম আযাদ করা। ফলে অসংখ্য গোলাম আযাদী লাভ করে। কেননা গুনাহ্ ছাড়া কোন মানুষ নাই। কাজেই বহু মানুষ স্ব স্ব গুনাহ্ কাফ্ফারাস্বরূপ গোলামদিগকে আযাদ করে। কোন মু'মিন ব্যক্তি ভুলবশতঃ কাহাকেও হত্যা করিলে উহার কাফ্ফারাস্বরূপ কোন মু'মিন গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুক্তির লিখিত চুক্তিপত্র

📄 মুক্তির লিখিত চুক্তিপত্র


ইসলামী বিধানে দাসমুক্তির দ্বিতীয় পদ্ধতি ছিল 'মুকাতাবাত' অর্থাৎ লিখিত চুক্তি পদ্ধতি। যদি কোন দাস তাহার মনিবের নিকট মুক্তি লাভের দাবি করিত তবে মুকাতাবাতের এই পদ্ধতি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ লাভের পরিবর্তে সেই দাসকে মুক্তি দেওয়া মনিবের জন্য অপরিহার্য হইত। 'মুকাতাবাত' চুক্তি অনুসারে দাস যখন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিত তখন তাহাকে আযাদ করা ছাড়া মনিবের কোন উপায় থাকিত না। কোন মনিব মুক্তি দিতে না চাহিলে দাস আদালতে বিচার প্রার্থনা করিত। আদালত উক্ত অর্থ আদায় করিয়া দাসের নিকট মুক্তিপত্র প্রদান করিত।
কোন দাস চুক্তির মাধ্যমে আযাদ হওয়ার আবেদন করিলে তাহার মনিব উক্ত আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে পারিত না। স্বয়ং ইসলামী সরকারই হইত তাহার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মুকাতাবাত চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর মনিবকেই তাহার দাসকে তাহার খেদমতের বিনিময়ে বাধ্যতামূলকভাবে কিছু পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করিয়া দিতে হইত যাহাতে সে চুক্তির অর্থ সংগ্রহ করিতে পারে। মনিব ইহাতে সম্মত না হইলে দাসকে এতটুকু সময় ও সুযোগ অবশ্যই দিতে হইত যাহাতে সে অন্য কাহারও কাজ করিয়া উক্ত অর্থ উপার্জনের সুযোগ পায় এবং ঐ অর্থ দিয়া মুক্তি লাভ করিতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00