📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাসদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর মহানুভবতা

📄 দাসদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর মহানুভবতা


অধীনস্থ লোকদের কাজকর্মে ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (س) উহাদের প্রতি এতই সহানুভূতিশীল ছিলেন যে, কোন কাজে ত্রুটি হইলেও তাহাদেরকে ভর্ৎসনা করা তো দূরের কথা, কোন কৈফিয়তও চাহিতেন না।
عن انس قال قدم رسول الله ﷺ المدينة ليس له خادم فاخذ ابو طلحة بيدي فانطلق بي الى رسول الله ﷺ فقال يا رسول الله ان انسا غلام كيس فليخدمك فخدمته في السفر والحضر ما قال بي لشيئ صنعته لم صنعت هكذا ولا لشيئ لم اصنعه لم لم تصنع هذا هكذا رواه البخاري -۳۸۸) .
"আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (স) মদীনায় আগমন করিলেন। তাঁহার কোন খাদেম ছিল না। তাই আবূ তালহা (রা) আমাকে হাতে ধরিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর দরবারে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল। আনাস বুদ্ধিমান বালক। সে আপনার সেবায় নিয়োজিত থাকিবে। আনাস (রা) বলেন, সেই হইতে আমি সফরে ও আবাসে তাঁহার সেবারত থাকি। আমি কোন কাজ করিয়া ফেলিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলেন নাই, তুমি উহা এইরূপ করিলে কেন? আর কোন কাজ না করিলেও তিনি বলেন নাই, উহা করিলে না কেন"।
عن عائشة قالت ما ضرب رسول الله ﷺ بيده شيئا قط الا ان يجاهد في سبيل الله ولا ضرب خادما ولا امرأة رواه الترمذي في الشمائل (۳۳). "আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) নিজ হাত দ্বারা কাহাকেও কখনও প্রহার করেন নাই, আল্লাহর রাস্তায় জিহاد ব্যতীত। তিনি কোন খাদেম ও মহিলাকেও প্রহার করেন নাই"।
সাধারণত দাসদাসীকে মারপিট না করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) নির্দেশ দিয়াছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে দাস-দাসীকে প্রহার করিবার অপরাধে প্রহৃতকে আযাদ করিয়া দিবার জন্য তিনি প্রহারকারীকে নির্দেশ প্রদান করিয়াছেন। তবে সদাচরণ বা শিষ্টাচার শিক্ষা দিবার জন্য তিনি হালকা প্রহার করিবার অনুমতি দিয়াছেন বলিয়া বর্ণিত রহিয়াছে। অবশ্য প্রহার করিবার অনুমতির ক্ষেত্রে তিনি সম্মানিত স্থান, যথা মুখমণ্ডলে আঘাত না করিতে সতর্ক করিয়া দিয়াছেন। এই প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত হাদীছগুলি প্রণিধানযোগ্য:
عن ابي امامة قال اقبل النبي ﷺ معه غلامان فوهب احدهما لعلى وقال لا تضربه فاني نهيت عن ضرب أهل الصلاة واني رأيته يصلى منذ اقبلنا واعطى ابا ذر غلاما وقال استوص به معروفا فاعتقه فقال ما فعل قال امرتني ان استوصی به خیرا فاعتقته (رواه البخاري في ادب المفرد - ١٤٣) .
"আবূ উমামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) দুইটি গোলামসহ আগমন করিলেন। তিনি উহার একটি আলী (রা)-কে প্রদান করিয়া বলিলেন, তাহাকে প্রহার করিও না। কারণ কোন নামাযীকে প্রহার করিবার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা হইয়াছে। সে আমাদের নিকট আসিবার পর হইতে আমি তাহাকে সালাত আদায় করিতে দেখিয়াছি। তিনি অপর গোলামটি আবূ যার (را)-কে দিয়া বলিলেন, তাহার সহিত সদয় আচরণ করিও। অতএব তিনি গোলামটিকে আযاد করিয়া দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (س) জিজ্ঞাসা করিলেন, গোলামটিকে কি করিয়াছ? আবূ যার (রা) বলিলেন, আপনি আমাকে তাহার সহিত সদয় আচরণ করিতে বলিয়াছিলেন। তাই আমি তাহাকে দাসত্বমুক্ত করিয়া দিয়াছি”।
عن أبي مسعود الانصارى قال كنت اضرب غلاما لى فسمعت من خلفي صوتا اعلم ابا مسعود الله اقدر عليك منك عليه فالتفت فاذا هو رسول الله ﷺ فقلت يا رسول الله هو حر لوجه الله فقال اما لولم تفعل للفحتك النار أو لمستك النار (رواه مسلم -٥١) .
"আবূ মাস'উদ আল-আনসারী (را) বলেন, আমি আমার একটি গোলামকে প্রহার করিতেছিলাম। তখন আমি আমার পিছن হইতে একটি ধ্বনি শুনিতে পাইলাম। আবু মাসউদকে জানাইয়া দাও, এই দাসের উপর তোমার যেই ক্ষমতা রহিয়াছে আল্লাহ তোমার উপর তাহার হইতে অধিক ক্ষমতাবান। আমি ফিরিয়া তাকাইয়া দেখিলাম, তিনি হইলেন রাসূলুল্লাহ (س)। আমি তাঁহাকে বলিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহর উদ্দেশ্যে সে স্বাধীন। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, জানিয়া রাখ! যদি তুমি উহা না করিতে তাহা হইলে জাহান্নামের আগুন তোমাকে গ্রাস করিয়া লইত অথবা বলিলেন, তোমাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করিত”।
عن معاوية بن سويد قال لطمت مولى لنا فهربت ثم جئت قبيل الظهر فصليت خلف ابی فدعاه ودعاني ثم قال امتثل منه فعفا ثم قال كنا بنى مقرن على عهد رسول الله ﷺ ليس لنا الاخادم واحد فلطمها احدنا فبلغ ذلك النبي ﷺ فقال اعتقوها قالوا ليس لهم خادم غيرها قال فليستخدموها فاذا استغنوا عنها فليخلوها سبيلها (رواه مسلم - ٥١ ) .
"মু'আবিয়া ইব্‌ن সুওয়ায়দ (রা) বলেন, আমি আমাদের গোলামকে চপেটাঘাত করিয়া পালাইয়া গিয়াছিলাম। অতঃপর যুহরের কিছুক্ষণ পূর্বে আমি ফিরিয়া আসিয়া আমার পিতার পিছনে সালাত আদায় করিলাম। তিনি আমাকে ও গোলামটিকে ডাকিলেন। অতঃপর গোলামটিকে বলিলেন, তোমাকে যেই পরিমাণ আঘাত সে করিয়াছে অনুরূপ তাহাকে আঘাত কর। সে ক্ষমা করিয়া দিল। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (س)-এর যুগে আমাদের মুকায়রিন পরিবারের একটিমাত্র দাস ছিল। দাসটিকে আমাদের একজন চপেটাঘাত করিল। এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট পৌঁছিলে তিনি বলিলেন, তাহাকে দাসত্বমুক্ত করিয়া দাও। তাহারা আরয করিল, এই গোলাম ছাড়া তাহাদের অন্য গোলাম নাই। তিনি বলিলেন, তাহা হইলে আপাতত উহারা তাহার সেবা গ্রহণ করুক। তাহার পর তাহারা আত্মনির্ভরশীল হইয়া গেলে তাহাকে আযাদ করিয়া দিও"।
عن زازان ان ابن عمر دعا بغلام له فراى بظهره اثرا فقال له اوجعتك قال لا قال فانت عتيق قال ثم اخذ شيئا من الارض فقال مالي فيه من الاجر ما يزن هذا اني سمعت رسول الله ﷺ يقول من ضرب غلاما له حدا لم ياته او لطمه فان كفارته ان يعتقه (رواه مسلم ٥١) .
"যাযান (র) হইতে বর্ণিত: ইব্‌ন 'উমার (রা) তাঁহার গোলামকে ডাকিলেন (যাহাকে তিনি কোন কারণবশত প্রহার করিয়াছিলেন)। তাহার পৃষ্ঠদেশে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আহত স্থানে কি তুমি ব্যথা অনুভব করিতেছ। সে নাসূচক উত্তর দিল। তিনি বলিলেন, তুমি মুক্ত। অতঃপর তিনি ভূমি হইতে ক্ষুদ্র একটি জিনিস হাতে নিয়া বলিলেন, এই জিনিসটির ওযন পরিমাণ ছওয়াবও এই মুক্তিদানের কারণে আমার লাভ হইবে না (গোলামটিকে পূর্বে প্রহার করিবার কারণে): আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যেই ব্যক্তি তাহার দাসকে বিনা অপরাধে প্রহার করিল অথবা তাহাকে চপেটাঘাত করিল, উহার কাফফারা হইল তাহাকে মুক্ত করিয়া দেওয়া”।
عن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال اذا ضرب احدكم خادمه فليجتنب الوجه (ادب المفرد ) .
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, তোমাদের কেহ নিজ খাদেমকে প্রহার করিলে সে যেন তাহার মুখমণ্ডল পরিহার করে"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাস-দাসীদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর শেষ ওসিয়াত

📄 দাস-দাসীদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর শেষ ওসিয়াত


দাস-দাসীদের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (স) এতই যত্নবান ছিলেন যে, অন্তিমকালেও তিনি তাহাদের ব্যাপারে সতর্ক করিয়া যাইতে ভুলেন নাই।
عن على قال كان اخر كلام رسول الله ﷺ الصلوة الصلوة واتقوا الله فيما ملكت ايمانكم (رواه ابوداؤد - ٤٠١ ) .
"আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর সর্বশেষ কথা ছিল: তোমরা সালাতকে গুরুত্ব সহকারে আদায় কর, তোমাদের সালাত। তোমরা দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর"।
عن على ابن ابي طالب قال ان النبى ﷺ لما ثقل قال يا على ائتني بطبق اكتب فيه مالا يضل امتى فخشيت أن يسبقني فقلت اني لاحفظ من ذراعي الصحيفة وكان رأسه بين ذراعيه وعضدي يوصى بالصلاة والزكاة وما ملكت ايمانكم وقال كذاك حتى فاضت نفسه وامره بشهادة ان لا اله الا الله وأن محمدا عبده ورسوله من شهد بهما حرم على النار (ادب المفرد - ١٥٦) .
"আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স)-এর অসুস্থতা যখন তীব্র আকার ধারণ করিল তখন বলিলেন, হে আলী। আমার নিকট একটি ফলক লইয়া আস। আমি তাহাতে এমন কিছু লিখিয়া দিব যাহাতে আমার উম্মত পথভ্রষ্ট না হয়। (আলী বলেন) আমি আশঙ্কাবোধ করিতেছিলাম, আমি ফিরিয়া আসার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করিতে পারেন। আমি বলিলাম, আমি আমার বাহুপৃষ্ঠের ফলকে তাহা সংরক্ষণ করিব। সেই সময় তাঁহার শির মুবারক তাঁহার কনুই ও আমার উভয় বাহুর মধ্যবর্তী স্থানে ছিল। এমতাবস্থায় তিনি সালাত, যাকাত ও দাস-দাসী সম্পর্কে ওসিয়াত করিতেছিলেন। এইরূপ অবস্থাতেই তিনি ইনতিকাল করেন। তিনি তাঁহাকে 'আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, মুহাম্মাদ তাঁহার বান্দা ও রাসূল' এই সাক্ষ্য প্রদানের নির্দেশ দেন। তিনি ইহাও বলেন, যেই ব্যক্তি এই দুইটি কথার সাক্ষ্য প্রদান করিবে তাহার জন্য জাহান্নাম হারাম করিয়া দেওয়া হইবে"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাস-দাসীকে দাসত্বমুক্ত করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উৎসাহদান

📄 দাস-দাসীকে দাসত্বমুক্ত করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উৎসাহদান


দাসত্ব প্রথা ক্রমে বিলুপ্ত হউক, ইহা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর কামনা। কিন্তু সুদীর্ঘ কাল হইতে প্রচলিত একটি ব্যবস্থাকে তৎক্ষণাৎ ঘোষণার মাধ্যমে বিলুপ্ত করিয়া সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ও মানবজাতিকে দুঃখ-ক্লেশে নিক্ষেপ করা কোনক্রমেই তাঁহার কাম্য ছিল না। তাই তিনি এমন কিছু কৌশল অবলম্বন করিয়াছেন যাহাতে ক্রমান্বয়ে দাস ও মনিব প্রথা মূলোৎপাটিত হয়। তিনি ঘোষণা করিয়াছেন, কেহ মুক্ত হইয়া গেলে পুনরায় তাহাকে দাস বানানো যাইবে না। দাসদের প্রতি অন্যায়-অবিচার করা হইলে তিনি তাহাদিগকে মুক্ত করিয়া দেওয়ার নির্দেশ দিয়াছেন, এমনকি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্ত হইতে নিজ হাতে সহযোগিতা করিয়াছেন। দাস-দাসীকে মুক্ত করিয়া দেওয়ার বিনিময়ে অফুরন্ত ছওয়াব লাভের বাণী শুনাইয়াছেন। মুকাতাব, মুদাব্বার ও উন্মু ওয়ালাদ প্রথা চালু রাখিয়াছেন (মুকাতাব বলা হয় ঐ গোলামকে যাহার মনিব বিনিময়ের মাধ্যমে তাহাকে মুক্ত করিয়া দিবার প্রতিশ্রুতি দিয়াছে। মুদাব্বার বলা হয় ঐ দাসকে যাহাকে তাহার মনিব বলিয়াছে, আমার মৃত্যুর পর তুমি মুক্ত। উন্মু ওয়ালাদ বলা হয় ঐ দাসীকে যে তাহার মনিবের কোন সন্তান গর্ভে ধারণ করিয়াছে)। ইরশাদ হইয়াছে:
عن ابي ذر قال سمعت رسول الله ﷺ يقول ما من مسلم يموت له ثلاثة من الولد لم يبلغوا الحنث الا ادخله الله الجنة بفضل رحمته اياهم وما من رجل اعتق مسلما الا جعل الله عز وجل كل عضو منه فكاكه لكل عضو منه (ادب المفرد - ١٥٠ ) .
"আবূ যার (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি: যে মুসলমানের তিনটি সন্তান মারা যায় নাবালেগ অবস্থায়, তাহাদের প্রতি আল্লাহ তাঁহার করুণা ও রহমতবশত তাহাকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন। আর যেই ব্যক্তি কোন মুসলমানকে আযাদ করিয়া দিবে মহান আল্লাহ তাহার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিনিময়ে তাহার প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুক্ত করিয়া দিবেন"। আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে এই মর্মে একটি হাদীছ রহিয়াছে।
সালমান ফারসী (রা) যদিও অভিজাত পরিবারের সন্তান ছিলেন কিন্তু চক্রান্তের শিকার হইয়া দাসত্বের জিঞ্জীরে আবদ্ধ হইয়া রাসূলুল্লাহ (س)-এর দরবারে উপস্থিত হইয়াছিলেন। তিনি স্বীয় উদ্যোগে স্বহস্তে কাজের বিনিময়ে তাহাকে আযাদ করাইয়াছিলেন।
عن بريدة جاء سلمان الفارسي الى رسول الله ﷺ حين قدم المدينة وكان لليهود فاشتراه رسول الله له بكذا وكذا درهما على ان يغرس لهم نخيلا فيعمل سلمان فيه حتى تطعم فغرس رسول الله النخل (رواه الترمذي في الشمائل) .
"বুরায়দা (রা) হইতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (স) মদীনায় আগমন করিবার পর সালমান ফারসী (রা) তাঁহার দরবারে আসিলেন।........ তিনি তখন ছিলেন জনৈক ইয়াহুদীর ক্রীতদাস। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে এত এত দিরহামের বিনিময়ে এবং তিনি ইয়াহুদীকে খেজুর বৃক্ষ রোপণ করিয়া দিবেন এবং উহাতে ফলন না আসা পর্যন্ত সালমান (রা) সেখানে কর্মরত থাকিবার শর্তে ক্রয় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বৃক্ষ রোপণ করিয়া দিলেন"।
উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় রহিয়াছে, সালমান ফারসী (রা) বলেন, একদা আমাকে রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, তুমি তোমার মনিবের নিকট হইতে মুক্তিলাভের ব্যাপারে চুক্তি করিয়া লও। আমি তাহার নিকট বিষয়টি উত্থাপন করিলে সে আমাকে দুইটি জিনিসের বিনিময়ে মুক্ত করিয়া দিবার শর্তারোপ করিল। (১) চল্লিশ উকিয়া স্বর্ণ দিতে হইবে (চল্লিশ দিরহামে এক আউকিয়া); (২) তিন শতটি খেজুর বৃক্ষ রোপণ করিয়া দিয়া তাহার ফল খাওয়ার উপযোগী হওয়া পর্যন্ত পরিচর্যায় নিয়োজিত থাকা। রাসূলুল্লাহ (س) স্বয়ং তাহাকে খেজুর বৃক্ষ রোপণ করিয়া সহায়তা করিয়াছিলেন। অতঃপর কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট কিছু স্বর্ণ আসিলে তিনি তাহা সালমান (রা)-কে দিয়া বলিলেন, উহার দ্বারা মুক্তিপণ আদায় করিয়া দাও। স্বর্ণের স্বল্পতা দেখিয়া সালমান (را) বলিলেন, ইহা চুক্তির পরিমাণ হইবে না। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, আল্লাহ উহা দ্বারাই যথেষ্ট করিয়া দিবেন। সুতরাং ওযন করিয়া দেখা গেল তাহা চল্লিশ উকিয়া হইয়া গিয়াছে।
عن أبي ذر قال سألت النبي ﷺ اى العمل افضل قال ايمان بالله وجهاد في سبیله قال قلت فاى الرقاب افضل قال اغلاها ثمنا وانفسها عند اهلها (متفق عليه مشكوة .
"আবূ যার (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (س)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম, কোন আমল সর্বাধিক উত্তম? তিনি বলিলেন, আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন ও তাঁহার পথে জিহاد। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, কোন ধরনের গোলাম আযাদ করা সর্বাধিক উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, যাহা খুব মূল্যবান এবং যাহা তাহার পরিবারের প্রিয়"।
عن البراء بن عازب قال جاء اعرابي الى النبى ﷺ فقال علمني عملا يدخلني الجنة قال لئن كنت اقصرت الخطبة اعرضت المسئلة اعتق النسمة وفك رقبة قال أوليسا واحدا قال لا عتق النسمة ان تفرد بعتقها وفك الرقية ان تعين في ثمنها (رواه البيهقي في شعب الايمان) .
"আল-বারাআ ইব্‌ن আযিব (را) বলেন, জনৈক বেদুঈن রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলিয়া দিন যাহা আমাকে জান্নাতে দাখিল করিবে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যদি তুমি সংক্ষিপ্তাকারে বলিতে তাহা হইলে সমস্যার সমাধান লাভ করিতে। তুমি প্রাণী (দাস) মুক্ত করিয়া দাও ও মুক্তিলাভে সহায়তা কর। লোকটি বলিল, এই দুইটি কথা কি একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি নয়? রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, না, এক নয়। প্রাণীকে মুক্ত করিয়া দেওয়ার অর্থ হইল সম্পূর্ণভাবে তাহাকে তুমি মুক্ত করিয়া দিবে। আর দাসত্বমুক্ত করায় সহায়তা করার অর্থ হইল, দাসত্বমুক্ত হইবার ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধে সহায়তা করা"।
عن عمرو بن عبسة ان النبى الله قال من بنى مسجدا ليذكر الله فيه بني له في الجنة ومن اعتق نفسا مسلمة كانت فديته من جهنم ومن شاب شيبة في سبيل الله كانت له نورا يوم القيامة (رواه شرح السنة) .
“আমর ইব্‌ন আবাসা (را) হইতে বর্ণিত: মহানবী (س) বলিয়াছেন, যেই ব্যক্তি আল্লাহর যিকিরের উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করিবে তাহার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করা হইবে। যেই ব্যক্তি কোন মুসলিমকে দাসত্বমুক্ত করিয়া দিবে ঐ দাসত্বমুক্ত ব্যক্তি জাহান্নাম হইতে তাহার মুক্তিলাভের কারণ হইবে। আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধরত অবস্থায় যেই ব্যক্তি বৃদ্ধ হইবে তাহার জন্য কিয়ামত দিবসে জ্যোতি হইবে”।
عن سمرة بن جندب قال قال رسول الله الله افضل الصدقة الشفاعة بها تفد الرقبة (رواه البيهقي في شعب الايمان) .
“সামুরা ইব্‌ন জুনদুব (را) বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন, যেই সুপারিশের মাধ্যমে কোন দাসকে মুক্ত করা হয় তাহা হইল সর্বোত্তম সাদাকা”।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00