📄 দাস-দাসীদের দায়িত্বশীলতা
দাসকেও রাসূলুল্লাহ (স) দায়িত্বশীল বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন। সামাজিকভাবে দাস- দাসিগণকে তখনকার সমাজে ছোট মনে করা হইলেও রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদিগকেও অন্যান্য সকল লোকের মত দায়িত্বশীল হিসাবে আখ্যায়িত করিয়াছেন। ইরশাদ হইয়াছে:
عن عبد الله بن عمر قال سمعت رسول الله ﷺ يقول كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته الامام راع ومسئولة عن رعيته والرجل راع في اهله وهو مسئول عن رعيته المرأة راعية في بيت زوجها ومسئولة عن رعيتها والخادم راع في مال سيده وفي رواية عبد الرجل راع على مال سيده وهو مسئول عن رعيته وكلكم راع ومسئول عن رعيته (رواه البخاري) .
"আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি: তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। তোমরা সকলেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হইবে। শাসক একজন দায়িত্বশীল, প্রজাদের সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হইবেন। যে কোন ব্যক্তি তাহার পরিবারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। তাহার পরিবার সম্পর্কে সে জিজ্ঞাসিত হইবে। স্ত্রীলোকও তাহার স্বামীর গৃহের দায়িত্বশীল। সেও তাহার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হইবে। দাসও তাহার মনিবের সম্পদের উপর দায়িত্বশীল। তাহাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইবে। সাবধান! তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং সকলেই স্বীয় দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হইবে"।
عن ابي هريرة يقول العبد اذا اطاع سيده فقد اطاع الله عز وجل فاذا اضى سيده فقد عصى الله عز وجل الادب المفرد رقم الحديث - ۲۰۷) .
"আবূ হুরায়রা (را) হইতে বর্ণিত। তিনি বলিতেন, দাস যখন তাহার মনিবের আনুগত্য করিল সে যেন মহান আল্লাহ্রই আনুগত্য করিল। আর যখন সে তাহার মনিবের সহিত অন্যায় আচরণ করিল তখন যেন সে মহান আল্লাহর অবাধ্য হইল"।
📄 দাসদের সম্বোধন
নিজ ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীকে আমার গোলাম, আমার দাস ও আমার দাসী এইরূপে সম্বোধন করিতে রাসূলুল্লাহ (স) নিষেধ করিয়াছেন।
عن ابي هريرة يحدث عن النبى ﷺ انه قال لا يقل احدكم اطعم ربك وضئ ربك اسق ربك وليقل سيدي ومولاى ولا يقل احدكم عبدى وامتی ولیقل فتای فتاتی و غلامی (رواه البخاري) .
"আবূ হুয়াররা (রা) হইতে বর্ণিত। মহানবী (س) বলেন, তোমাদের কেহ যেন (দাসকে) এইভাবে না বলে, তোমার রবকে খাবার দাও, তোমার রবকে উযূ করাও, তোমার রবকে পান করাও। দাস যেন তাহার মালিককে আমার মালিক ও আমার নেতা ইত্যাদি বলে আহ্বান করে। কেহ যেন তাহার দাস-দাসীকে আমার দাস, আমার দাসী, বলিয়া আহ্বান না করে, বরং যেন বলে, আমার যুবক, আমার যুবতী বা বালক"।
📄 দাস-দাসীর সঙ্গে আহার
খাবারের আসরে দাস-দাসীকে শরীক করিতে কোন দ্বিধাবোধ করা উচিত নহে; বরং মালিকদের জন্য তাহারা যাহা পাকাইবে তাহাদেরকে সঙ্গে লইয়া খাদ্য গ্রহণ করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (س) উপদেশ দিয়াছেন। এই উপদেশটি দাস-দাসীসহ সকল ধরনের কাজের লোকদের ব্যাপারে প্রযোজ্য।
عن ابي هريرة قال قال رسول الله ﷺ اذا صنع لاحدكم خادمه طعامه ثم جاءه به وقد ولى حره ودخانه فليقعده معه فليأكل فان كان الطعام مشفوها قليلا فليضع في يده منه اكلة او اكلتين (رواه مسلم) .
"আবু হুয়ায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন, তোমাদের কাহারও জন্য যখন তোমাদের খাদেম খাবার তৈরি করে, অতঃপর সে সেই খাবার লইয়া উপস্থিত হয়, রান্না-বান্নার কাজে সে কতই না উষ্ণতা ও ধোঁয়ার যাতনা ভোগ করিয়াছে। সুতরাং তাহাকে খাবারের আসরে বসিতে দাও যাহাতে সে তোমাদের সঙ্গে খাদ্য গ্রহণ করিতে পারে। যদি খাবার অতি অল্প হয় তাহা হইলে একটি গ্রাস বা দুইটি গ্রাস তাহার হাতে তুলিয়া দাও"।
عن ابي محذورة قال كنت جالسا عند عمر اذ جاء صفوان بن أمية بجفنة يحملها نفر في عباءة فوضعوها بين يدى عمر فدعا عمر ناسا مساكين وارقاء من ارقاء الناس حوله فاكلوا معه ثم قال عند ذلك فعل الله بقوم او قال لحا الله قوما يرغبون عن ارقائهم ان ياكلوا معهم فقال صفوان اما والله ما نرغب عنهم ولكنا نستأثر عليهم لا نجد والله من الطعام الطيب ما ناكل ونطعمهم (ادب المفرد رقم الحديث - ۲۰۱) .
"আবূ মাহযুরা (রা) বলেন, আমি উমার (রা)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় সাফওয়ান ইবন উমায়্যা একদল লোক লইয়া আগমন করিলেন যাহারা একটি বড় পাত্র চাদর দিয়া গুটাইয়া লইয়া আসিতেছিল। পাত্রটি বহন করিয়া আনিয়া তাহারা উমার (রা)-এর সামনে রাখিল। উমার (রা) তখন কতিপয় নিঃস্ব লোক ও তাঁহার নিকট উপস্থিত কয়েকজন দাসকে ডাকিয়া তাঁহার নিকট আনিলেন। তাহারা তাঁহার সঙ্গে খাদ্য গ্রহণ করিল। অতঃপর তিনি বলিলেন, আল্লাহ তা'আলা এমন লোকদিগকে ধ্বংস করিয়াছেন অথবা বলিলেন, এমন সম্প্রদায়কে অপদস্থ করিয়াছেন যাহারা নিজেদের দাসদের সহিত খাদ্যগ্রহণকে অপসন্দ করিত। সাফওয়ান (রা) বলিলেন, আল্লাহর শপথ। আমরা তাহাদিগকে ঘৃণা করি না, যদিও আমরা তাহাদের পূর্বে আহার করি। আল্লাহর শপথ! আমরা উত্তম খাবার পাইলেই যাহা আমরা ভক্ষণ করি তাহাদিগকেও তাহা ভক্ষণ করাই"।
اخبرنى ابن الزبير انه سمعه يسأل جابرا عن خادم الرجل اذا كفاه المشقة والحر امر النبي ﷺ ان يدعوه قال نعم فان كبره احدكم ان يطعم معه فليطعمه اكلة في يده (الادب المفرد رقم الحديث (۱۹۸).
"ইবনুয যুবায়র (রা) হইতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জাবির (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিল, কোন লোকের দাস চরম কষ্ট ও গরম সহ্য করিয়া তাহার জন্য খাবার তৈরি করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ (স) কি আহারের সময় তাহাকে আহ্বান করিবার নির্দেশ দিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হাঁ। তোমাদের কেহ যদি তাহার সহিত আহার করিতে অনিচ্ছুক হয় তবে সে যেন তাহার হাতে এক গ্রাস খাবার তুলিয়া দেয়"।
📄 দাস-দাসীদের আতিথ্য গ্রহণ
দাস-দাসীদের গৃহে খাবার গ্রহণ করিতে রাসূলুল্লাহ (স) দ্বিধাবোধ করিতেন না, বরং তাহাদের গৃহে স্বচ্ছন্দে খাবার খাইতেন। বারীরা নাম্নী একজন দাসী ছিলেন। উম্মুল মু'মিনীন 'আইশা (রা) তাহাকে ক্রয় করিয়া মুক্ত করিয়া দিয়াছিলেন। ইরশাদ হইয়াছে ৪
عن عائشة قالت كان في بريرة ثلث سنن احدى السنن انها عتقت فخيرت في زوجها وقال رسول الله ﷺ الولاء لمن اعتق ودخل رسول الله ﷺ والبرمته تفور بلحم فقرب اليه خبز وادم من ادم البيت فقال المار برمة فيها لحم قالوا بلى ولكن ذلك لحم تصدق على بريرة وانت لا تاكل الصدقة قال هو عليها صدقة ولنا هدية (متفق عليه) .
"আইশা (রা) বলেন, বারীরা সম্পর্কে তিনটি বিধান প্রবর্তিত হইয়াছিল। (এক) তাহাকে দাসত্বমুক্ত করা হইয়াছিল, অতঃপর তাহার (গোলাম) স্বামীর বিবাহবন্ধনে থাকার ব্যাপারে তাহাকে এখতিয়ার দেওয়া হইয়াছিল। (দুই) তাহাকে আযাদ করিবার পর রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন, যেই ব্যক্তি আযাদ করিবে সে-ই তাহার সম্পদের উত্তরাধিকারী হইবে। (তিন) রাসূলুল্লাহ (স) তাহার গৃহে দাখিল হইয়া দেখিলেন, তাহার হাঁড়িতে গোশত রান্না হইতেছে। অথচ তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে গৃহের রুটি ও তরকারী খাইতে দিলেন। তিনি তখন বলিলেন, আমি কি হাঁড়িতে গোশত দেখিতেছি না? গৃহের লোকজন বলিল, হাঁ, তবে তাহা সাদাকার গোশত, উহা বারীরা (রা)-কে সাদাকা করা হইয়াছে। আপনি তো সাদাকার মাল ভক্ষণ করেন না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, উহা তাহার জন্য সাদাকা। কিন্তু সে যখন উহা আমাদেরকে দান করিবে তখন তাহা হাদিয়া হিসাবে গণ্য হইবে"।
হাত বদل হইয়া গেলে মালিকানা ও মালের প্রকৃতি বদলাইয়া যাইতে পারে। বারীরা (রা)-কে যখন দেওয়া হইয়াছিল তখন তাহা সাদাকাই ছিল। কিন্তু বারীরা (রা) যখন তাহা হইতে অন্যকে দান করিলেন তখন তাহা সাদাকা থাকিল না।