📄 নবজাতকের কানে আযান দেয়া
শিশুর জন্মলগ্নেই তাহার কানে আযান দেওয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সুন্নত। কোন শিশু ভূমিষ্ঠ হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট নীত হইলে তিনি তাহাকে মিষ্টিমুখ করাইয়া দিতেন এবং তাহার জন্য বরকতের দু'আ করিতেন।
عن ابي رافع قال رأيت رسول الله الله اذن في اذن الحسن بن على حين ولدته فاطمة بالصلوة (رواه الترمذى وقال هذا حديث صحيح) .
"আবু রাফে' (রা) বলেন, যখন ফাতিমা (রা) হাসান (রা)-কে প্রসব করেন তখন আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে হাসান ইব্ন আলী (রা)-এর কানে সালাতের অনুরূপ আযান দিতে দেখিয়াছি”।
عن الحسن بن على عن النبي ﷺ قال من ولد له مولود فأذن في اذنه اليمنى واقام في اذنه اليسرى لم تضره ام الثبيان .
"হাসান ইব্ন আলী (রা) হইতে বর্ণিত। মহানবী (স) বলেন, যাহার কোন নবজাতক জন্মগ্রহণ করিবে এবং সে তাহার ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামত দিবে, মাতৃকা রোগ সেই নবজাতকের কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না”।
📄 মিষ্টিমুখ করানো এবং তাহার জন্য বরকতের দু'আ করা
শিশুর জন্মলগ্নেই তাহার কানে আযান দেওয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সুন্নত। কোন শিশু ভূমিষ্ঠ হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট নীত হইলে তিনি তাহাকে মিষ্টিমুখ করাইয়া দিতেন এবং তাহার জন্য বরকতের দু'আ করিতেন।
عن اسماء بنت ابي بكر انها حملت بعبد الله بن الزبير بمكة قالت فولدت بقباء ثم اتیت به رسول الله الله فوضعته في حجره ثم دعا بتمرة فمضغها ثم تقل في فيه ثم حنكه ثم دعا له وبرك عليه وكان اول مولود في الاسلام (متفق عليه) .
"আসমা বিন্ত আবী বাক্স (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি মক্কাতে অবস্থানকালে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রা)-কে গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেন, আমি (হিজরতের সময়) কুবায় পৌছিয়া তাহাকে প্রসব করি, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিয়া তাহার কোলে ছেলেটিকে তুলিয়া দেই। তিনি খেজুর আনাইয়া তাহা চর্বণ করিলেন এবং তাহার মুখের ভিতর লালা লাগাইয়া দিলেন, তালুতে মিষ্টি সংযুক্ত )تحنيك( করিলেন। উহার পর তাহার জন্য কল্যাণ ও বরকতের দু'আ করিলেন। তিনিই ছিলেন হিজরতের পর মুহাজিরগণের কোলে ইসলামের প্রথম সন্তান"।
وعن عائشة أن رسول الله الله كان يؤتى بالصبيان فيبرك عليهم وحنكهم (رواه مسلم) .
"আইশা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট শিশুদেরকে আনা হইলে তিনি তাহাদের কল্যাণ কামনায় দু'আ করিতেন এবং তাহাদের মুখের তালুতে মিষ্টি লাগাইয়া দিতেন”।
📄 মৃত শিশু সন্তান কিয়ামত দিবসে মাতা-পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবে
ছোটদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (স) এতই অনুগ্রহশীল ছিলেন যে, কোন শিশু অপরিণত বয়সে ইনতিকাল করিলে তিনি তাহার জন্য সমবেদনা জানাইতেন, শিশুর মৃত্যুর ফলে হতাশাগ্রস্থ মাতা-পিতাকে সান্ত্বনা দিতেন। শিশুটিকে কেবল জান্নাতী বলিয়া আখ্যায়িত করিয়া তিনি ক্ষান্ত হন নাই, বরং এই শিশুর কারণে তাহার মাতা-পিতাকে জান্নাতী বলিয়া সুসংবাদও প্রদান করিয়াছেন।
عن ابي هريرة قال قال رسول الله ﷺ النسوة من الانصار لا يموت لاحدكن ثلثة من الولد فتحتسبه الا دخلت الجنة فقالت امرأة منهن او اثنان يارسول الله قال او اثنان (رواه مسلم) .
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) আনসার মহিলাদের বলিলেন, তোমাদের কাহারও তিনটি সন্তান মারা গেলে যদি সে ধৈর্য ধারণ করিয়া ছওয়াব কামনা করে তাহা হইলে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। উপস্থিত মহিলাদের একজন জিজ্ঞাসা করিল, দুইটি সন্তান মারা গেলে কি জান্নাত লাভ করিবে? রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, হাঁ, দুইটি সন্তান মারা গেলেও জান্নাতে প্রবেশ করিবে”।
عن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ من كان له فرطان من امتى ادخله الله بهما الجنة فقالت عائشة فمن كان له فرط من امتك قال من كان له فرط الخ (رواه الترمذي) .
"ইব্ن আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন, আমার উম্মতের মধ্যে যাহার দুইটি সন্তান অগ্রবর্তী হিসাবে ইনতিকাল করিবে আল্লাহ তা'আলা উহাদের কারণে তাহাকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন। 'আইশা (রা) বলিলেন, যাহার একটি মাত্র সন্তান অগ্রবর্তী হিসাবে মারা যাইবে তাহার কি হইবে? রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, সেও জান্নাতে যাইবে”।
عن أبي موسى الاشعرى قال قال رسول الله ﷺ اذا مات ولد العبد قال الله تعالى لملائكته قبضتم ولد عبدى فيقولون نعم فيقول قبضتم ثمرة فؤاده فيقولون نعم فيقول ماذا قال عبدى فيقولون حمدك واسترجع فيقول الله ابنوا لعبدى بيتا في الجنة وسموه بيت الحمد (رواه احمد والترمذی) .
"আবু মুসা আশ-আরী (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, বান্দার কোন সন্তান মারা গেলে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাগণকে বলেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করিলে! তাহারা বলিবে, হাঁ। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলিবেন, তোমরা তাহার অন্তরের ধনকে কাড়িয়া লইলে! তাহারা বলিবে, হাঁ। আল্লাহ তা'আলা বলিবেন, আমার বান্দা সন্তানহারা হইবার পর কী বলিল ? তাহারা বলিবে, সে আপনার প্রশংসা করিয়াছে এবং ইন্না লিল্লাহ পড়িয়াছে। আল্লাহ তা'আলা তখন বলিবেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং বায়তুল হামد উহার নামকরণ কর”।
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَجُلًا قَالَ لَهُ مَاتَ ابْنُ لِىْ فَوَجَدْتُ عَلَيْهِ هَلْ سَمِعْتَ مِنْ خَلِيْلِكَ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ شَيْئًا يَطِيْبُ بِاَنْفُسِنَا عَنْ مَوْتَانَا قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُهُ ﷺ قَالَ صِغَارُهُمْ دَعَامِيْصُ الْجَنَّةِ يَلْقَى اَحَدُهُمْ اَبَاهُ يَأْخُذُ بِنَاحِيَةِ ثَوْبِهِ فَلَا يُفَارِقُهُ حَتَّى يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ (رواه مسلم)
"আবু হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাহাকে বলিল, আমার একটি ছেলে মারা গিয়াছে। ইহাতে আমি দারুণভাবে ব্যথিত হইয়াছি। আপনি কি আপনার বন্ধু (মুহাম্মাদ সা) হইতে আমাদের মৃতদের ব্যাপারে মনের প্রশান্তিমূলক কোন কিছু শুনিয়াছেন? আবু হুরায়রা (রা) বলিলেন, হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি : তাহাদের মৃত শিশুরা হইবে জান্নাতের সর্বত্র অবাধ বিচরণকারী। কিয়ামতকালে তাহারা স্বীয় মাতা-পিতাগণের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া তাহাদের জামার আঁচল ধরিয়া টানিতে থাকিবে এবং জান্নাতে তাহাদেরকে প্রবেশ করানো ব্যতিরেকে ক্ষান্ত হইবে না”।