📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিশুদের প্রতি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিদান

📄 শিশুদের প্রতি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিদান


অপরাধ তো অপরাধই, তবুও শিশু মনের অপরাধকে রাসূলুল্লাহ (স) একটু হালকা দৃষ্টিতে দেখিতেন। রাফে’ ইব্‌ন আম্‌ر (রা)-এর শৈশবকালে বাগানে ঢিল ছোঁড়ার একটি ঘটনা :
عن رافع بن عمرو قال كنت ارمى نخل الانصارى فاخذوني فذهبوا بي الى النبي ﷺ فقال يا رافع لم ترمى نخلهم قال قلت يا رسول الله الجوع قال لا ترم وكل ما وقع الشبعك الله وارواك ( رواه الترمذي) .
"রাফে' ইবন আমর (রা) বলেন, আমি আনসার গোত্রের এক লোকের খেজুর গাছে ঢিল হুড়িয়াছিলাম। তাহারা আমাকে গ্রেফতার করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সমীপে উপস্থিত করিল। রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞাসা করিলেন, হে রাফে'! তুমি তাহাদের বাগানে ঢিল ছুড়িয়াছ কেন? আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল। ক্ষুধার জ্বালায় আমি ঢিল ছুড়িয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, অপরের বাগানে ঢিল ছুড়িও না। নিচে যাহা পতিত হয় তাহা কুড়াইয়া খাইও। আল্লাহ তোমার ক্ষুধা নিবারণ করিবেন এবং তৃপ্তি দান করিবেন"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কন্যা শিশুর প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিশেষ অনুগ্রহ

📄 কন্যা শিশুর প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিশেষ অনুগ্রহ


শিশু পুত্র হউক আর কন্যা হউক তাহাদের প্রতি সমান আচরণের জন্য ইসলাম শিক্ষা দিয়াছে। কন্যা শিশুরা যেহেতু দুর্বল, তাহাদের প্রতি লক্ষ রাখিয়া কোন কোন ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (স) কন্যা শিশুর প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য বিধান এবং মেয়েদের উপর ছেলেদেরকে অযথা প্রাধান্য দান কঠোরভাবে নিষেধ করিয়াছেন।
এরশাদ হইয়াছে:
عن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ من كانت له انثى فلم يأدها ولم يهنها ولم يؤثر ولده عليها يعنى الذكور ادخله الله الجنة (رواه ابو داؤد ) .
"ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন: যাহার কন্যা সন্তান রহিয়াছে আর সে তাহাকে জীবন্ত দাফন করে নাই, তাহার প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করে নাই এবং পুত্র সন্তানকে তাহার উপর প্রাধান্য দেয় নাই, আল্লাহ তাহাকে জান্নাতে দাখিল করাইবেন”।
عن ابن عباس قال قال رسول الله ﷺ من عال ثلث بنات او مثلهن من الاخوات فأد بهن ورحمهن حتى يغنيه الله أوجب له الجنة فقال رجل يا رسول الله او اثنين قبال واثنين حتى لو قالوا او واحدة لقال واحدة (رواه شرح السنة ) .
"ইব্‌ن আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তান অথবা তিনটি বোনকে প্রতিপালন করিল, তাহাদেরকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিল এবং তাহাদের প্রতি করুণা করিল-যতদিন পর্যন্ত তাহাদের প্রয়োজন ছিল, আল্লাহ তা'আলা তাহার জন্য জান্নাত অবধারিত করিয়া দিবেন। কেহ জিজ্ঞাসা করিল, দুইজনকে প্রতিপালন করিলে কি সেই মর্যাদা লাভ হইবে? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হাঁ, দুইজনকে প্রতিপালন করিলেও সেই মর্যাদা হইবে। এমনকি লোকজন যদি একজনের কথাও জিজ্ঞাসা করিত তাহা হইলে তিনি একজনের ব্যাপারেও হাঁসূচক জবাব দিতেন"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নিজ শিশু সন্তানের প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্নেহ-মমতা

📄 নিজ শিশু সন্তানের প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্নেহ-মমতা


হযরত আনাস (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স) হইতে সন্তান-সন্ততির প্রতি অধিক স্নেহ-মমতা পোষণকারী অন্য কাহাকেও দেখি নাই। তাঁহার পুত্র ইবরাহীম (রা) মদীনায় উঁচু প্রান্তে ধাত্রীমাতার কাছে দুধপান করিতেন। প্রায়ই সেখানে তিনি গমন করিতেন। আমরাও তাঁহার সহিত গমন করিতাম। তিনি যেই গৃহে গমন করিতেন সেইটি প্রায়ই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকিত। কারণ ইবরাহীমের ধাত্রীমাতার স্বামী ছিল একজন কর্মকার। তিনি ইবরাহীমকে কোলে তুলিয়া লইতেন এবং আদর করিতেন ও চুমা দিতেন, ইহার পর চলিয়া আসিতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইবরাহীম (রা) ইনতিকাল করিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ইবরাহীম আমার পুত্র। সে দুধপানের বয়সে ইনতিকাল করিয়াছে। সুতরাং জান্নাতে তাহাকে একজন ধাত্রী দুধ পান করাইবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00