📄 শিশুদের উৎসাহ দান
উম্মু খালিদ বিন্ত খালিদ ইব্ন সাঈদ (রা) ছিলেন হাবশায় জন্মগ্রহণকারী একজন মহিলা সাহাবী। সেখানে কয়েক মাস তিনি প্রতিপালিতও হইয়াছিলেন। তাঁহার নিকট হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
اتيت رسول الله ﷺ مع ابي وعلى قميص اصفر قال رسول الله ﷺ سنه سنه قال عبد الله وهي بالحبشة حسنة قالت فذهبت العب بخاتم النبوة فريزني ابي قال رسول الله دعها ثم قال رسول الله ﷺ ابلى واخلقى ثم ابلى واخلقي ثم ابلي واخلقي قال عبد الله فبقيت حتى ذكرت (رواه البخاري) .
"আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আমার পিতার সহিত আগমন করিয়াছিলাম। তখন আমার গায়ে হলুদ বর্ণের একটি জামা ছিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহা দেখিয়া বলিলেন, চমৎকার। খুবই সুন্দর হইয়াছে। বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন, হাবশী ভাষায় সান্নাহ শব্দের অর্থ হইল حسنة (সুন্দর)। উম্মু খালিদ বলেন, আমি মাহরে নবুওয়াত লইয়া খেলা করিতে লাগিলাম। আমার পিতা আমাকে শাসাইতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তাহাকে খেলা করিতে দাও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, কাপড়টিকে পুরাতন করিও, কাপড়টিকে পুরাতন করিও, কাপড়টিকে পুরাতন করিও। বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইব্ن মুবারক বলেন, এই দু'আর ফলে উন্মু খালিদ দীর্ঘায়ু লাভ করিয়াছিলেন এবং বহু কাল তাঁহার কথা আলোচিত হইতেছিল"।
এই হাদীছটি ইমাম বুখারী মোট চারটি স্থানে বর্ণনা করিয়াছেন। একটি যা উপরে উল্লিখিত। দ্বিতীয় স্থান হইল কিতাবুল মানাকিব, বাবু হিজরাতিল হাবশা। এখানে বর্ণিত হইয়াছে, উম্মু খালিদ (রা) বলেন, আমি হাবশা হইতে ছোট অবস্থায় আগমন করিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে ডোরাযুক্ত একটি খামীসা (خميصة) কাপড় পরাইয়া দিয়াছিলেন (খামীসা বলা হয় পশমী ডোরাযুক্ত কাপড়কে)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার হাত মুবারক উহার ডোরাসমূহে বুলাইয়া বলিলেন, সানাহ, সানাহ (سناة سناة حبشي শব্দ, অর্থ সুন্দর সুন্দর)।
তৃতীয় স্থানটি হইল কিতাবুল লিবাস, বাবুল খামীসাতিস সাওদা। উহাতে বলা হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) উপস্থিত জনতাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, উহা আমি কাহাকে পরিধান করাইব। সকলেই নিরুত্তর থাকিলে তিনি উন্মু খালিদ (রা)-কে ডাকাইয়া তাহাকে পরাইয়া দিলেন। চতুর্থ স্থানটি হইল, কিতাবুল-আদاب, বাবু মান তারাকা সারিয়্যাতা গায়রিহি।
📄 শিশুর শিক্ষা
শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার। সেইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে আদর্শবান হিসাবে গড়িয়া তোলার জন্য গুরুত্বারোপ করিয়াছেন। শিশুর শিক্ষার সুব্যবস্থা করার জন পিতা-মাতাকে রাসূলুল্লাহ (স) নির্দেশ দিয়াছেন। ইরশাদ হইয়াছে:
حق الولد على الوالد ثلثة اشياء ان يحسن اسمه اذا ولد ويعلمه الكتاب اذا عقل ويزوجه اذا ادرك
"পিতার উপর শিশু সন্তানের তিনটি অধিকার রহিয়াছে। জন্মের পর তাহার একটি উত্তম নাম রাখা, বুদ্ধি হইলে তাহাকে কিতাব তথা দীন শিক্ষা দিবে এবং বালেগ হইলে বিবাহ দিবে”।
عن أيوب بن موسى عن أبيه عن جده ان رسول الله ﷺ قال ما نحل والد ولده من نحل فضل من ادب حسن رواه الترمذي) .
"রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, কোন পিতা তাহার সন্তানকে শিক্ষা-দীক্ষাদান অপেক্ষা উত্তম কোন কিছু দান করিতে পারে না”।
من ولد الله ولد فليحسن اسمه واربه
"কাহারও সন্তান জন্মগ্রহণ করিলে সে যেন তাহার সুন্দর নাম রাখে এবং উত্তম শিক্ষা-দীক্ষা দান করে”।
📄 শিশুর মাথার হাত বুলানো ও আদর করা
দয়াপরবশ হইয়া রাসূলুল্লাহ (স) শিশুর মাথায় হাত বুলাইতেন:
عن يوسف بن عبد الله بن سلام قال سمانی رسول الله ﷺ يوسف واقعدني على حجره ومسح راسي .
“ইউসুফ ইব্ন আবদিল্লাহ ইব্ন সালাম (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার নাম রাখিলেন “ইউসুফ’। 'তিনি আমাকে তাঁহার কোলে বসাইলেন এবং আমার মাথায় হাত বুলাইলেন”।
ছোটদের প্রতি জননীদের আদর দেখিলে রাসূলুল্লাহ (স) পুলকিত হইতেন এবং স্নেহদানকারী জননীকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করিতেন।
ইরশাদ হইয়াছে:
عن عروة بن الزبير أن عائشة زوج النبي الله حدثته قالت جاءتني امرءة معها ابنتان فسألتني فلم تجد عندى شيئا غير تمرة واحدة فاعطيتها اياها فقسمتها بين ابنتيها ثم قامت فخرجت فدخل النبي ﷺ فحدثته فقال من ابتلي من هذه المبنات شيئا فاحسن اليهن كن له سترا من النار (رواه البخاري) .
"উরওয়া ইবনুয যুবায়র (র) হইতে বর্ণিত। 'আইশা (রা) তাহাকে বলিয়াছেন, এক মহিলা তাহার দুইটি কন্যাসন্তান লইয়া আসিল এবং আমার নিকট কিছু চাহিল। আমার নিকট তখন একটি খেজুর ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। আমি তাহাকে উহা দান করিলাম। সে তাহা দুই কন্যার মধ্যে ভাগ করিয়া দিল, অতঃপর উঠিয়া চলিয়া গেল। রাসূলুল্লাহ (স) গৃহে তাশরীফ আনিলে আমি তাঁহাকে ঘটনাটি জানাইলাম। তিনি বলিলেন, যেই ব্যক্তি এই ধরনের সন্তান লইয়া পরীক্ষার সম্মুখীন হইবে, উহা সত্ত্বেও তাহাদের প্রতি সে যত্নবান থাকিবে, এই সন্তানগুলি তাহার জন্য জাহান্নাম হইতে প্রতিবন্ধক হইবে”।
📄 শিশুদের কাঁধে তুলিয়া লওয়া
শিশুদেরকে রাসূলুল্লাহ (স) এতই সোহাগ করিতেন যে, কোন কোন সময় সালাতরত অবস্থায়ও তাহাদেরকে কোলে তুলিয়া লইতেন। সালাতের বাহিরে হইলে তো আর কোন কথাই ছিল না। ইরশাদ হইয়াছে:
عَنْ اَبِى قَتَادَةَ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِىُّ ﷺ وَاُمَامَةُ بِنْتُ اَبِى الْعَاصِ عَلٰى عَاتِقِهِ فَصَلَّى فَاِذَا رَكَعَ وَضَعَ وَاِذَا رَفَعَ رَفَعَهَا (رواه البخاری) -
“আবু কাতাদা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের নিকট বাহির হইলেন, তখন উমামা বিনত আবিল আস (রা) ছিল তাঁহার কাঁধে। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করিতে লাগিলেন। যখন তিনি রুকুতে যাইতেন তখন তাহাকে নামাইয়া রাখিতেন এবং রুকু হইতে উঠিয়া আবার তাহাকে উঠাইয়া লইতেন”।
وَعَنِ الْبَرَاءِ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِىّ عَلٰى عَاتِقِهِ يَقُوْلُ اللَّهُمَّ اِنِّىْ اُحِبُّهُ فَاحِبَّهُ (رواه البخاری) -
“আল-বারাআ (রা) বলেন, আমি হাসান ইব্ন আলী (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাঁধের উপর দেখিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) তখন বলিতেছিলেন, হে আল্লাহ! আমি তাহাকে ভালবাসি, তুমিও তাহাকে ভালবাস”।