📄 ছোটরা বড়কে সালাম দিবে
রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি রহিয়াছে, ছোটরা বড়কে সালাম দিবে। এই ব্যাপারে তাঁহার ইরশাদ হইল :
عن أبي هريرة قال قال رسول الله الله يسلم الصغير على الكبير والمار على القاعد والقليل على الكثير .
“আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, ছোট বড়কে, পথিক উপবিষ্টকে ও অল্প সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে” (বুখারী, ১খ., পৃ. ৯২১)।
এই হাদীছের তাৎপর্য বর্ণনায় আহমাদ আলী সাহারানপুরী বলেন, “ইহার কারণ হইল, ছোটরা বড়দের প্রতি বিনয়ী হইবে এবং তাহাদিগকে সম্মান করিবে”।
📄 বয়স্কদের সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর খোশালাপ
রাসূলুল্লাহ (স) অনেক সময় বয়স্কদের সহিত কৌতুক করিতেন। ইহাও তাঁহার মহোত্তম চরিত্রের একটি দিক। তবে তিনি কখনও অসত্য কথা বলিয়া কৌতুক করিতেন না এবং উহার দ্বারা কাহাকেও হেয় প্রতিপন্ন করা উদ্দেশ্য হইত না। উম্মত জননী ‘আইশা (রা) সূত্রে বায়হাকী শরীফে বর্ণিত আছে, একদা রাসূলুল্লাহ (س) গৃহে তাশরীফ আনিলেন; তখন আমার নিকট একজন বৃদ্ধা উপবিষ্ট ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (س) জিজ্ঞাসা করিলেন, এই মহিলাটি কে? আমি বলিলাম, তিনি আমার সম্পর্কের এক খালা। তখন রাসূলুল্লাহ (স) কৌতুকাচ্ছলে বলিলেন:
لا تدخل الجنة عجوز . "জান্নাতে কোন বৃদ্ধ মহিলা প্রবেশ করিবে না।"
এই কথা শুনিয়া মহিলাটি বিষণ্ণ হইয়া পড়িল। কোন কোন সূত্রে বর্ণিত আছে, মহিলাটি তখন কাঁদিতে লাগিল। তখন রাসূলুল্লাহ (س) তাঁহাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং স্বীয় উক্তির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করিয়া বলিলেন, জান্নাতে যখন প্রবেশ করিবেন আর বৃদ্ধা রহিবেন না, বরং যুবতী হইয়া প্রবেশ করিবেন। অতঃপর এই আয়াতটি পাঠ করিলেন :
انَّا أَنْشَأَنَا هُنَّ إِنْشَاء فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عربا أتراباً .
"আমি তাহাদিগকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করিয়াছি। অতঃপর তাহাদিগকে করিয়াছি চিরকুমারী, কামিনী, সমবয়স্কা" (৫৬ : ৩৫-৩৭)।
📄 ছোটদের প্রতি স্নেহ
রাসূলুল্লাহ (স) ছোটদেরকে অত্যধিক স্নেহ করিতেন, তাহাদেরকে কোলে টানিয়া লইতেন, পথে তাহাদেরকে আগেই সালাম দিতেন, আদরের আতিশয্যে তাহাদেরকে চুম্বন করিতেন। কোন কোন সময় সফর হইতে ফিরিবার প্রাক্কালে স্বীয় বাহনে তুলিয়া লইতেন। তাহাদের মাথায় হাত বুলাইতেন। তাহাদের বিরুদ্ধে কোন নালিশ আসিলে অন্যায়-অপরাধে জড়িত না হইবার জন্য তাহাদেকে বুঝাইতেন। ছোটদের খেলাধুলায় বাধা দিতেন না, বরং তাহা উপভোগ করিতেন। তাহাদের কাজে উৎসাহ প্রদান করিতেন। কাহাকেও ছোটদেরকে ধমক দিতে বা যাতনা দিতে দেখিলে তাহাকে এরূপ কাজ হইতে বারণ করিতেন। ছোটদের প্রতি স্নেহ করিতে তিনি ধর্ম-বর্ণের কোন ভেদাভেদ করিতেন না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি সকল শিশুকেই পিতৃতুল্য স্নেহ-মমতা প্রদর্শন করিতেন। শিশুদেরকে কোলে তুলিয়া লইতেন। উহাতে শিশুরা কোন কোন সময় তাঁহার কোলে পেশাব করিয়া দিত, তবুও তিনি বিরক্ত বোধ করিতেন না। ইরশাদ হইয়াছে:
عن عائشة أن النبى ﷺ وضع صبيا في حجره فحنکه فبال عليه فدعا بماء فاتبعه
"হযরত 'আইশা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) একটি শিশুকে কোলে তুলিয়া তাহাকে তাহনীক (মিষ্টিমুখ) করাইতেছিলেন। এমতাবস্থায় সে তাঁহার কোলে পেশাব করিয়া দিল। তিনি পানি আনাইয়া সেখানে তাহা ঢালিয়া দিলেন”।
এই শিশু কে ছিল সেই সম্পর্কে দুই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। আল্লামা আহমদ আলী সাহারানপুরী বলেন, আদ-দারু কুতনীর বর্ণনামতে সে ছিল আবদুল্লাহ ইবনুষ যুবায়র (রা)। আর মুসতাদরাকে হাকেমের বর্ণনানুযায়ী ররাসূলুল্লাহ (স)-এর দৌহিত্র হুসায়ন ইবন আলী (রা) (পাদটীকা, সহীহ বুখারী, প্রাগুক্ত)।
উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান (রা)-এর দুগ্ধপোষ্য ছেলেকেও রাসূলুল্লাহ (স) অনুরূপ সোহাগ করিয়াছিলেন বলিয়া বর্ণিত আছে। ইরশাদ হইন্ডেছে:
عن ام قيس بنت محصن انها انت بابن لها صغير لم ياكل الطعام الى رسول الله ﷺ فاجلسه رسول الله ﷺ في حجره فمال على ثوبه فدعا بماء فنضجه ولم يغسله .
"উম্মু কায়س বিন্ত মিহসান (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি তাঁহার এমন দুগ্ধপোষ্য শিশু ছেলেকে লইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর দরবারে আসিয়াছিলেন যে তখনও খাদ্য গ্রহণে সক্ষম হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) তাহাকে নিজের কোলে বসাইলেন। সে তাঁহার কাপড়ে পেশাব করিয়া দিল। তিনি পানি আনাইয়া তাহাতে ছিটাইয়া দিলেন, উহা ধৌত করিলেন না”।
📄 শিশুদের প্রতি করুণা
ছোটদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (স) এতই দয়ার্দ্র ছিলেন যে, সালাতরত অবস্থায় যদি তিনি কোন শিশুর কান্না শুনিতে পাইতেন তাহা হইলে সর্বোত্তম এই ইবাদতটিও সংক্ষেপে আদায় করিয়া লইতেন, যাহাতে জামআতে শরীক মাতা সালাত শেষে শিশুটিকে পরিচর্যা করিয়া লয়। এই সম্পর্কে ইমাম বুখারী সালাত অধ্যায়ে স্বতন্ত্র একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেন। তাহা হইল এইরূপ:
باب من اخف الصلوة عند بكاء الصبي.
"অনুচ্ছেদ: শিশুর কান্নায় যিনি সালাত সংক্ষিপ্ত করেন"। এই অনুচ্ছেদের অধীনে ইমাম বুখারী এই সম্পর্কিত চারিটি হাদীছ বর্ণনা করেন। একটি হাদীছ হইল এইরূপ:
عن انس بن مالك يقول ما صليت وراء امام قط اخف صلوة ولا اتم من النبي ﷺ وان كان ليسمع بكاء الصبي فيخفف مخافة ان تفتن امه .
"আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স) ব্যতীত অন্য কোন ইমামের পিছনে এত সংক্ষিপ্ত এবং এত পরিপূর্ণ সালাত আদায় করি নাই। তিনি যদি কোন শিশুর কান্না শুনিতে পাইতেন তাহা হইলে সালাত সংক্ষিপ্ত করিতেন যাহাতে তাহার কান্নায় তাহার মাতার সালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়”।