📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বড়দেরকে ইমাম নিয়োগ

📄 বড়দেরকে ইমাম নিয়োগ


রাসূলুল্লাহ (স) স্বয়ং তাঁহার অনুপস্থিতিতে এবং বয়সে তুলনামূলকভাবে প্রবীণ ব্যক্তিকে সর্বোত্তম ইবাদত সালাতে ইমাম নিয়োগ করিয়াছেন এবং অন্যদেরকেও ইমাম নিয়োগ করিবার ক্ষেত্রে এইরূপ নির্দেশ দান করিয়াছেন। তিনি আবূ বকর (রা)-কে তাঁহার কঠোর পীড়ার সময় ইমাম নিয়োগ করিবার আদেশ করিলেন। আবূ বক্স (রা)-এর কন্যা উম্মত জননী 'আইশা (را) তাঁহার কোমল হৃদয়ের কথা ভাবিয়া তাঁহার স্থলে অন্য কাহাকেও ইমাম নিয়োগ করিবার পরামর্শ দিলে রাসূলুল্লাহ (س) তাহা কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। হাদীছটি হইল:
عن حمزة بن عبد الله انه اخبره عن ابيه قال لما اشتد برسول الله ﷺ وجعه قيل له في الصلوة فقال مروا ابا بكر فليصل بالناس قالت عائشة ان ابا بكر رجل رقيق اذا قرأ غلبه البكاء قال مروه فليصل فعاودته فقال مروه فليصل انكن صواحب يوسف .
“হামযা তদীয় পিতা আবদুল্লাহ (را) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (س)-এর অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করিল তখন তাঁহার নিকট সালাতের কথা বলা হইল। তিনি বলিলেন, তোমরা আবূ বকরকে আদেশ কর সে সালাতে ইমামতি করিবে। 'আইশা (را) তাহা শুনিয়া বলিলেন, আবূ বকর (রা) কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি কিরাত পাঠ করিতে লাগিলে কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়েন। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, তাঁহাকে আদেশ দাও সেই সালাত পড়াইবেন। উহাতেও 'আইশা সেই কথার পুনরাবৃত্তি করিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) পুনরায় সেই আদেশ দিয়া বলিলেন, তোমরা মহিলারাই ইউসুফ (আ)-কে বিরক্তকারী ছিলে” (বুখারী, ১খ., পৃ. ৯৩)।
সহীহ বুখারীর অপর একটি রিওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে, রাসূলুল্লাহ (س) আবূ বক্র (রা)-কে ইমাম নিয়োগ করিবার পর তিনি ইবনুল খাত্তাব (রা)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছিলেন:
يا عمر صل بالناس فقال له عمر انت احق بذلك .
“হে উমার! আপনি সালাতে ইমামতি করুন। উমার (রা) বলিলেন, আপনিই ইমাম হইবার সর্বাধিক উপযুক্ত” (বুখারী, ১খ., পৃ. ৯৫)।
মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিছ (রা) হইতে বর্ণিত হাদীছে রহিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (س) মৌখিকভাবে তাহাদের ইমাম নিয়োজিত করিবার জন্য বয়স্ক লোককে নির্দেশ দিয়াছিলেন। ইরশাদ 'হইয়াছে:
عن مالك بن الحويرث قال قدمنا على النبي الله ونحن شببة فلبثنا عنده نحوا من عشرين ليلة وكان النبي الله رحيما فقال لو رجعتم الى بلادكم فعلمتموهم ومروهم فليصلوا بصلوة كذا في حين كذا وصلوة كذا في حين كذا فاذا حضرت الصلوة فليؤذن لكم احدكم وليؤمكم اكبركم ..
"মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিছ (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলাম। আমরা ছিলাম যুবক। আমরা তাঁহার নিকট বিশ দিনের মত অবস্থান করিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তিনি বলিলেন, যদি তোমরা এখন দেশে ফিরিয়া গিয়া সেখানকার লোকদিগকে শিক্ষাদানে নিয়োজিত হইতে, তাহাদিগকে সালাতের আদেশ দিতে এবং তাহারা অমুক অমুক ওয়াক্তে অমুক অমুক সালাত আদায় করিত। সালাতের সময় উপস্থিত হইলে তাহাদের মধ্যে একজন যেন আযান দেয় এবং সবার চেয়ে বয়স্ক লোক যেন ইমামতি করে” (বুখারী, ১খ., পৃ. ৯৫)।
অবশ্য সহীহ রিওয়ায়াত দ্বারা এই কথা প্রমাণিত ও সর্বস্তরের উলামায়ে কিরামের দ্বারা গৃহীত যে, কেবল বয়স্ক হওয়া ইমামতিতে অগ্রগণ্য হইবার মাপকাঠি নহে। ‘ইলম বা কিরাআতে কুরআনেও পারদর্শী হইতে হইবে। সেই ক্ষেত্রেই কেবল বয়স্ক লোক অন্যদের চাইতে অগ্রাধিকার পাইবে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ছোটরা বড়কে সালাম দিবে

📄 ছোটরা বড়কে সালাম দিবে


রাসূলুল্লাহ (স)-এর উক্তি রহিয়াছে, ছোটরা বড়কে সালাম দিবে। এই ব্যাপারে তাঁহার ইরশাদ হইল :
عن أبي هريرة قال قال رسول الله الله يسلم الصغير على الكبير والمار على القاعد والقليل على الكثير .
“আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, ছোট বড়কে, পথিক উপবিষ্টকে ও অল্প সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে” (বুখারী, ১খ., পৃ. ৯২১)।
এই হাদীছের তাৎপর্য বর্ণনায় আহমাদ আলী সাহারানপুরী বলেন, “ইহার কারণ হইল, ছোটরা বড়দের প্রতি বিনয়ী হইবে এবং তাহাদিগকে সম্মান করিবে”।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বয়স্কদের সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর খোশালাপ

📄 বয়স্কদের সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর খোশালাপ


রাসূলুল্লাহ (স) অনেক সময় বয়স্কদের সহিত কৌতুক করিতেন। ইহাও তাঁহার মহোত্তম চরিত্রের একটি দিক। তবে তিনি কখনও অসত্য কথা বলিয়া কৌতুক করিতেন না এবং উহার দ্বারা কাহাকেও হেয় প্রতিপন্ন করা উদ্দেশ্য হইত না। উম্মত জননী ‘আইশা (রা) সূত্রে বায়হাকী শরীফে বর্ণিত আছে, একদা রাসূলুল্লাহ (س) গৃহে তাশরীফ আনিলেন; তখন আমার নিকট একজন বৃদ্ধা উপবিষ্ট ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (س) জিজ্ঞাসা করিলেন, এই মহিলাটি কে? আমি বলিলাম, তিনি আমার সম্পর্কের এক খালা। তখন রাসূলুল্লাহ (স) কৌতুকাচ্ছলে বলিলেন:
لا تدخل الجنة عجوز . "জান্নাতে কোন বৃদ্ধ মহিলা প্রবেশ করিবে না।"
এই কথা শুনিয়া মহিলাটি বিষণ্ণ হইয়া পড়িল। কোন কোন সূত্রে বর্ণিত আছে, মহিলাটি তখন কাঁদিতে লাগিল। তখন রাসূলুল্লাহ (س) তাঁহাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং স্বীয় উক্তির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করিয়া বলিলেন, জান্নাতে যখন প্রবেশ করিবেন আর বৃদ্ধা রহিবেন না, বরং যুবতী হইয়া প্রবেশ করিবেন। অতঃপর এই আয়াতটি পাঠ করিলেন :
انَّا أَنْشَأَنَا هُنَّ إِنْشَاء فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عربا أتراباً .
"আমি তাহাদিগকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করিয়াছি। অতঃপর তাহাদিগকে করিয়াছি চিরকুমারী, কামিনী, সমবয়স্কা" (৫৬ : ৩৫-৩৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ছোটদের প্রতি স্নেহ

📄 ছোটদের প্রতি স্নেহ


রাসূলুল্লাহ (স) ছোটদেরকে অত্যধিক স্নেহ করিতেন, তাহাদেরকে কোলে টানিয়া লইতেন, পথে তাহাদেরকে আগেই সালাম দিতেন, আদরের আতিশয্যে তাহাদেরকে চুম্বন করিতেন। কোন কোন সময় সফর হইতে ফিরিবার প্রাক্কালে স্বীয় বাহনে তুলিয়া লইতেন। তাহাদের মাথায় হাত বুলাইতেন। তাহাদের বিরুদ্ধে কোন নালিশ আসিলে অন্যায়-অপরাধে জড়িত না হইবার জন্য তাহাদেকে বুঝাইতেন। ছোটদের খেলাধুলায় বাধা দিতেন না, বরং তাহা উপভোগ করিতেন। তাহাদের কাজে উৎসাহ প্রদান করিতেন। কাহাকেও ছোটদেরকে ধমক দিতে বা যাতনা দিতে দেখিলে তাহাকে এরূপ কাজ হইতে বারণ করিতেন। ছোটদের প্রতি স্নেহ করিতে তিনি ধর্ম-বর্ণের কোন ভেদাভেদ করিতেন না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি সকল শিশুকেই পিতৃতুল্য স্নেহ-মমতা প্রদর্শন করিতেন। শিশুদেরকে কোলে তুলিয়া লইতেন। উহাতে শিশুরা কোন কোন সময় তাঁহার কোলে পেশাব করিয়া দিত, তবুও তিনি বিরক্ত বোধ করিতেন না। ইরশাদ হইয়াছে:
عن عائشة أن النبى ﷺ وضع صبيا في حجره فحنکه فبال عليه فدعا بماء فاتبعه
"হযরত 'আইশা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) একটি শিশুকে কোলে তুলিয়া তাহাকে তাহনীক (মিষ্টিমুখ) করাইতেছিলেন। এমতাবস্থায় সে তাঁহার কোলে পেশাব করিয়া দিল। তিনি পানি আনাইয়া সেখানে তাহা ঢালিয়া দিলেন”।
এই শিশু কে ছিল সেই সম্পর্কে দুই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। আল্লামা আহমদ আলী সাহারানপুরী বলেন, আদ-দারু কুতনীর বর্ণনামতে সে ছিল আবদুল্লাহ ইবনুষ যুবায়র (রা)। আর মুসতাদরাকে হাকেমের বর্ণনানুযায়ী ররাসূলুল্লাহ (স)-এর দৌহিত্র হুসায়ন ইবন আলী (রা) (পাদটীকা, সহীহ বুখারী, প্রাগুক্ত)।
উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান (রা)-এর দুগ্ধপোষ্য ছেলেকেও রাসূলুল্লাহ (স) অনুরূপ সোহাগ করিয়াছিলেন বলিয়া বর্ণিত আছে। ইরশাদ হইন্ডেছে:
عن ام قيس بنت محصن انها انت بابن لها صغير لم ياكل الطعام الى رسول الله ﷺ فاجلسه رسول الله ﷺ في حجره فمال على ثوبه فدعا بماء فنضجه ولم يغسله .
"উম্মু কায়س বিন্ত মিহসান (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি তাঁহার এমন দুগ্ধপোষ্য শিশু ছেলেকে লইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর দরবারে আসিয়াছিলেন যে তখনও খাদ্য গ্রহণে সক্ষম হয় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) তাহাকে নিজের কোলে বসাইলেন। সে তাঁহার কাপড়ে পেশাব করিয়া দিল। তিনি পানি আনাইয়া তাহাতে ছিটাইয়া দিলেন, উহা ধৌত করিলেন না”।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00