📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যাহারা বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের প্রতি স্নেহশীল নয়

📄 যাহারা বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের প্রতি স্নেহশীল নয়


বড়দের যাহারা সম্মান করে না এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ-পরায়ণ নয় তাহাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর কঠোর শর্তাবলী রহিয়াছে। হাদীছে ইরশাদ হইয়াছেঃ
عن انس بن مالك يقول جاء شيخ يريد النبى فابطأ القوم عنه ان يوسعوا له فقال النبي الله ليس منا من لم يرحم صغير نا ولم يوفر كبيرنا (رواه الترمذي) .
"হযরত আনاس ইবন মালিক (রা) হইতে বর্ণিত। একজন প্রবীণ লোক রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আগমন করিল। লোকজন তাহার বসিবার সুযোগ দিতে বিলম্ব করিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাহারা ছোটদের প্রতি করুণাশীল নয় এবং বড়দের সম্মানের প্রতি যত্নবান নয় তাহারা আমাদের মধ্য হইতে নয়"।
ইমাম তিরমিযী এই সম্পর্কিত আরও দুইটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আমর (রা), আবূ হুরায়রা (রা) ও ইব্‌ন আব্বাস (রা) প্রমুখ হইতে বর্ণনা রহিয়াছে। হাদীছগুলি বর্ণনা করিবার পর ইমাম তিরমিযী বলেন, অনেক বিজ্ঞজন ليس منا বাক্যটির ব্যাখ্যা করিয়াছেন এই বাক্য দ্বারা ليس من سنتنا অর্থাৎ সে আমাদের রীতির অন্তর্ভুক্ত নয়। আবার কেহ বলিয়াছেন, ليس من ادبنا )শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত নয়)। অতঃপর ইমাম তিরমিযী আলী ইবন আল-মাদীনীর সূত্রে বলেন, সুফ্যান আস-সাওরী (রা) এই উক্তিটির ব্যাখ্যা ليس مثلنا )আমাদের মত নয়) এই রূপমত পোষণ করাকে পসন্দ করিতেন না।
ইমাম নববী বলেন, "সে আমাদের রীতির উপর নয়" এইরূপ ব্যাখ্যা করাকে সুফয়ান ইব্‌ন উয়ায়না পসন্দ করিতেন না, বরং এই রূপ ব্যাখ্যাকে অত্যন্ত গর্হিত মনে করিতেন। তিনি হাদীছটিকে স্বমহিমায় বহাল রাখা পসন্দ করিতেন যাহাতে মানুষের মনে ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর অনুভূত হয়।
ليس منا )সে আমাদের মধ্য হইতে নয়) এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ সে উম্মতে মুহাম্মদীর অন্তর্ভুক্ত নয়। এই ব্যাখ্যার সপক্ষে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি অত্যন্ত স্পষ্ট। ইরশাদ হইয়াছে:
ليس من امتى من لم يبجل كبيرنا ويرحم صغيرنا ويعرف عالمنا (رواه احمد والحاكم) .
"যে ব্যক্তি আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলিমদের সম্মান বুঝে না সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়”।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বড়দের অশ্রদ্ধা মুনাফিকের কাজ

📄 বড়দের অশ্রদ্ধা মুনাফিকের কাজ


একমাত্র মুনাফিক ব্যক্তিই বড়দের সম্মানে শিথিলতা প্রদর্শন করে। এই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইরশাদ হইল:
عن ابي امامة عن رسول الله ﷺ قال ثلث لا يستخف بهم الا منافق ذوا الشيبة في الاسلام وذوا العلم وامام مقسط (ترغيب عن الطبراني) .
"আবু উমামা (রা) হইতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তিন ব্যক্তির প্রতি কেবল মুনাফিক ছাড়া অপর কেহ অবজ্ঞা প্রদর্শন করে না। তাহারা হইল: প্রবীণ মুসলিম, আলিম ও ন্যায়পরায়ণ শাসক”।
* রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তির সারকথা হইল, এই তিন শ্রেণীর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা কোন মুসলিমের কাজ নয়।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আল্লাহ্র সম্মানের অন্তর্ভুক্ত

📄 বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আল্লাহ্র সম্মানের অন্তর্ভুক্ত


বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে রাসূলুল্লাহ (স) এতই যত্নবান ছিলেন যে, তিনি উহাকে আল্লাহর সম্মান বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন। ইরশাদ হইয়াছে:
عن ابي موسى قال قال رسول الله ﷺ ان من اجلال الله اكرام ذي الشيبة المسلم وحامل القرآن غير الغالي فيه ولا الجافي عنه واكرام السلطان المقسط (رواه ابو داؤد والبيهقي في شعب الايمان (مشكوة) .
"আবূ মূসা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। তাহারা হইল, প্রবীণ মুসলমান, আল-কুরআনের বাহক, যে-উহাতে হ্রাস-বৃদ্ধি করে না এবং ন্যায়পরায়ণ শাসক"।
এই হাদীছের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী ক্বারী বলেন, শারহুস্ সুন্নায় বলা হইয়াছে:
قَالَ طَاؤُسٌ مِنَ السُنّةِ اَنْ تُوقِّرَ اَرْبَعَةَ الْعَالِمَ وَذَاالشِّبَةِ وَالسُّلْطَانَ وَالوَالِدَ “ত্বাউস (রা) হইতে বর্ণিত। মহৎ কাজের অন্যতম হইল প্রবীণ ব্যক্তিকে সম্মান করা”।
“সুন্নাত হইল চার ব্যক্তিকে সম্মান করা। তাহারা হইলেন, আলিম, প্রবীণ লোক, শাসক ও পিতা”।
বক্তীর তাঁহার জামে গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন:
عَنْ أَنَسٍ اِنَّ مِنَ الْاِجْلَالِ تَوْقِيْرُ الشَّيْخِ “আনাস (রা) হইতে বর্ণিত। মহৎ কাজের অন্যতম হইল প্রবীণ ব্যক্তিকে সম্মান করা”।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বড়দের প্রতি সম্মানের প্রতিদান

📄 বড়দের প্রতি সম্মানের প্রতিদান


প্রবীণ লোকের প্রতি যেই লোক সম্মান প্রদর্শন করিবে আল্লাহ তা'আলা তাহাকে দীর্ঘায়ু করিবেন এবং পরিণত বয়সে অন্য লোকের দ্বারা তাহার সেবা করাইবেন। এই সম্পর্কে ইরশাদ হইয়াছে:
عَنْ اَنَسِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا اَكْرَمَ شَابٌ شَيْخًا مِنْ اَجْلِ سِنّهِ إِلَّا قَيَّضَ اللهُ لَهُ عِنْدَ سِنِّه مَنْ يَّكْرُمُه (رواه الترمذى) -
“আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, যেই যুবক কোন প্রবীণ লোককে সম্মান করিবে আল্লাহ তা'আলা তাহার পরিণত বয়সে তাহাকে সম্মান করিবার জন্য কোন লোককে নিয়োজিত করিবেন”।
এই হাদীছের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী ক্বারী বলেন, হাদীছটি এইদিকে ইঙ্গিত করে যে, খেদমতকারী যুবকটি দীর্ঘায়ু লাভ করিবে এবং তাহার বৃদ্ধ বয়সে সে এমন একজন সঙ্গী লাভ করিবে যে তাহাকে সম্মান করিবে। কারণ প্রবাদ বাক্য আছে, خَدَمَ مَنْ خُدِمَ “যে সেবা করে সে সেবা পায়”। এই সম্পর্কে তিনি একটি ঘটনা উদ্ধৃত করেন। খোরাসানের জনৈক শিয়া মিসর অধিবাসী তাহার এক প্রবীণ মুর্শিদের খেদমতে নিয়োজিত হইয়াছিল। সে দীর্ঘকাল তাঁহার খেদমতে অবস্থান করিল। এক সময় উক্ত বর্ষীয়ান মুর্শিদের সাক্ষাত লাভের জন্য বহুসংখ্যক আলিমগণের একটি প্রতিনিধি দল তাঁহার দরবারে আগমন করিল। মুর্শিদ তখন শিয়াটির প্রতি ইঙ্গিত করিয়া নির্দেশ দিলেন, সে যেন মেহমানদের বাহনগুলি ধরিয়া রাখে। শিয়াটি সঙ্গে সঙ্গে সেই আদেশ তামিল করিল এবং মনে মনে ভাবিল, দীর্ঘ দিন মুর্শিদের সান্নিধ্যে অবস্থান করায় সম্মানিত আলিমগণের বাহনগুলি ধরিয়া রাখিবার সৌভাগ্য তাহার হাসিল হইয়াছে। সম্মানিত আলিমগণের প্রতিনিধি দল বিদায় হইয়া গেলে শিয়াটি মুর্শিদের দরবারে উপস্থিত হইলে তিনি বলিলেন :
يَا وَلَدِى سَيَأْتِيْكَ الْأَكَابِرُ وَيَقْدِرُ اللَّهُ لَكَ مَنْ يَخْدِمُهُمْ
“হে বৎস! ভবিষ্যতে তোমার নিকটও আলিমগণের এক প্রতিনিধি দল আসিবে এবং আল্লাহ তা'আলা তোমার নিকট এমন লোক নিয়োজিত করিবেন যে মেহমানদের সেবা করিবে”।
মানাযিলুস সাইরীন গ্রন্থকার আবদুল্লাহ আল-আনসারী বলেন, ঠিক মুর্শিদের কথামত কিছু দিন পরই এই শিষ্যের গৃহে সম্মানিত আলিমগণের বিরাট একদল স্বীয় বাহন ঘোড়া গাধা লইয়া উপস্থিত হইয়াছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00