📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্ধির শর্ত বহির্ভূত মহিলাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা

📄 সন্ধির শর্ত বহির্ভূত মহিলাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা


হুদায়বিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হইবার পর মক্কা হইতে কিছু সংখ্যক মু'মিন মহিলা আল্লাহর রাসূল (স)-এর নিকট মদীনায় হিজরত করিয়া আসিলেন। তাহাদের আত্মীয়-স্বজন হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুযায়ী তাহাদেরকে ফেরত দাবি করিলেন। আল্লাহর রাসূল (স) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করিলেন। ন্যায়পরায়ণতার মদদগার রাসূলুল্লাহ (স) যুক্তি দেখাইলেন যে, এই বিষয়ে চুক্তিতে লিখিত বক্তব্য হইতেছে:
وعلي أنه لا يأتيك منا رجل وإن كان علي دينك الا رودته إلينا .
"আমাদের মধ্য হইতে যে সমস্ত পুরুষ আপনার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করিতে আসিবে তাহারা যদিও আপনার দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তথাপিও তাহাদিগকে ফেরৎ পাঠাইতে হইবে"।
কিন্তু মহিলাদের ব্যাপারে চুক্তিতে কোন শর্তারোপ করা হয় নাই। অতএব মহিলাগণ চুক্তির শর্ত বহির্ভূত। এতদ্ব্যতীত আল্লাহ তা'আলা এই প্রসঙ্গে বলিয়াছেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَتُ مُهْجِرَت فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِالْمُنِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَتٍ فَلا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الكُفَّارِ لا هُنَّ حِلَّ لَهُمْ وَلَاهُمْ يَحِلُّوْنَ لَهُنَّ وَأَتُوهُمْ مَّا أَنْفَقُوا وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ إِذَا أَتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ وَسْتَلُوا مَا أَنْفَقْتُمْ وَلِيَسْتَلُوا مَا أَنْفَقُوا ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ وَاللَّهُ عَلِيْمٌ حَكِيمٌ . وَإِنْ فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِّنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَأْتُوا الَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَاجُهُمْ مِّثْلَ مَا أَنْفَقُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي انْتُمْ بِهِ مُؤْمِنُونَ . يَأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنُتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَي أَنْ لا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يُفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفِ فَبَايِعُهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ .
"হে মু'মিনগণ! তোমাদের নিকট মু'মিন নারীরা হিজরত করিয়া আসিলে তাহাদেরকে পরীক্ষা করিও। আল্লাহ তাহাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানিতে পার যে, তাহারা মু'মিন তবে তাহাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাইও না। মু'মিন নারিগণ কাফিরদের জন্য বৈধ নহে এবং কাফিররা মু'মিন নারীদের জন্য বৈধ নহে। কাফিররা যাহা ব্যয় করিয়াছে তোমরা তাহা উহাদেরকে ফিরাইয়া দিও। অতঃপর তোমরা তাহাদেরকে বিবাহ করিলে তোমাদের কোন অপরাধ হইবে না যদি তোমরা তাহাদেরকে তাহাদের মাহর দাও। তোমরা কাফির নারীদের সহিত দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না। তোমরা যাহা ব্যয় করিয়াছ তাহা ফেরত চাহিবে এবং কাফিররা ফেরত চাহিবে যাহা তাহারা ব্যয় করিয়াছে। ইহাই আল্লাহ্ বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করিয়া থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হইয়া কাফিরদের নিকট রহিয়া যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাহাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হইয়া গিয়াছে তাহাদেরকে, তাহারা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করিবে। তোমরা ভয় কর আল্লাহকে যাঁহার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী। হে নবী! মু'মিন নারীরা যখন তোমার নিকট আসিয়া বায়'আত করে এই মর্মে যে, তাহারা আল্লাহ্র সহিত কোন শরীক স্থির করিবে না, চুরি করিবে না, ব্যভিচার করিবে না, নিজেদের সন্তান হত্যা করিবে না, তাহারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করিবে না এবং সৎকার্যে তোমাকে অমান্য করিবে না তখন তাহাদের বায়'আত গ্রহণ করিও এবং তাহাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিও। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" (৬০:১০-১২)।
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর কোন মু'মিন মহিলা হিজরত করিয়া আসিলে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষ স্বীকারোক্তি করিয়া অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর মদীনায় থাকার অনুমতি লাভ করিত, ফেরত পাঠান হইত না। আর যাহারা উক্ত শর্ত মুতাবিক অঙ্গীকার করিত না তাহাদেরকে মক্কায় ফেরত পাঠান হইত। এইভাবে রাসূলুল্লাহ (স) মু'মিন নারীদের মদীনায় আশ্রয় দিয়া হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত ন্যায়সঙ্গতভাবে রক্ষা করিয়াছেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতামূলক ভাষণ

📄 বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতামূলক ভাষণ


আল্লাহ্র রাসূল (স) বিদায় হজ্জে উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে ন্যায়পরায়ণ হওয়ার জন্য আরাফা ও মিনায় খুতবাহ প্রদান করিয়াছেন। তিনি মুসলমানদেরকে বিদায় হজ্জে ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে বলেন:
(۱) ان دماءكم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا . (۲) ألا كل شئ من أمر الجاهلية تحت قدمي موضوع . (۳) ودماء الجاهلية موضوعة . (٤) فاتقوا الله في النساء فانكم أخذتموهن بامانة الله - ( ٥ ) واستحللتم فروجهن بكلمة الله . (٦) ولكم عليهن أن لا يوطئن فراشكم أحدا تكرهونه . (۷) فان فعلن ذلك فاضربوهن ضربا غير مبرح . (۸) ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف . (۹) وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به كتاب الله وسنة رسوله . (۱۰) أنتم تسألون عنى فما أنتم قائلون . قالوا نشهد انك قد بلغت وأديت ونصحت . فقال باصبعه السبابة يرفعها الي السماء وينكتها الي الناس اللهم اشهد ثلاث مرات .
(১) “নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও সম্পদ তোমাদের নিকট তেমন পবিত্র যেমন পবিত্র আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহর।
(২) জাহিলী যুগের অনৈসলামিক সকল কার্যকলাপ আমার পদতলে, এই ব্যাপারে সাবধান থাকিবে।
(৩) জাহিলী যুগের অবৈধ অনৈসলামিক সকল রক্তপাত বন্ধ করা হইল।
(৪) আর তোমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করিও। কেননা তাহাদেরকে তোমরা আল্লাহ্ আমানতস্বরূপ গ্রহণ করিয়াছ।
(৫) আর আল্লাহর বিধান মুতাবিক তাহাদেরকে সম্ভোগের বৈধতা লাভ করিয়াছ।
(৬) তাহাদের (স্ত্রীদের) উপর তোমাদের হক রহিয়াছে যে, তাহারা স্বামীর অবর্তমানে তাহাদের সতীত্ব রক্ষা করিবে।
(৭) যদি তাহারা (স্ত্রীগণ) স্বামীর অবর্তমানে অবৈধ কর্মে লিপ্ত হয় তবে তাহাদেরকে এমনভাবে প্রহার কর যেন শরীরে দাগ না পড়ে।
(৮) তোমাদের উপর তাহাদের (স্ত্রীদের) হক রহিয়াছে যে, তোমাদের সামর্থ্যানুযায়ী তাহাদেরকে খোরপোষ প্রদান করিবে।
(৯) তোমাদের জন্য রাখিয়া যাইতেছি এমন বস্তু যাহা আকড়াইয়া ধরিলে তোমরা আমার অবর্তমানে কখনও পথভ্রষ্ট হইবে না। তাহা হইতেছে: (ক) আল্লাহর কিতাব ও (খ) তাঁহার রাসূলের সুন্নাত।
(১০) হাশরের মাঠে তোমরা আমার সম্পর্কে আল্লাহ্র নিকট জিজ্ঞাসিত হইবে। অতএব তাহার জবাবে তোমরা কী বলিবে? সাহাবায়ে কিরাম (রা) প্রত্যুত্তরে বলিলেন, আমরা সকলে অবশ্য অবশ্য সাক্ষ্য দিব যে, আপনি আপনার রিসালাতের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় নসীহত যথাযথভাবে আমাদের নিকট পৌঁছাইয়াছেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার শাহাদাত আঙ্গুলী আকাশের দিকে উত্তোলন করিয়া সাহাবায়ে কিরাম (রা)-এর দিকে ইঙ্গিতপূর্বক ঘোষণা করিলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকিও! হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকিও! হে আল্লাহ। তুমি সাক্ষী থাকিও! (আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিয়াছি)"
অন্য রিওয়ায়াতে রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেনঃ
يايها الناس اسمعوا وأطيعوا وان أمر عليكم عبد حبشي مجدع ما أقام فيكم كتاب الله تعالي . ارقاءكم ارقاءكم أطعموهم مما تأكلون واكسوهم مما تلبسون وان جاؤ ا بذنب لا تريدون أن تغفروه فبيعوا عباد الله ولا تعذبوهم أيها الناس اسمعوا قولي اعقلوه تعلمن أن كل مسلم أخ للمسلم وان المسلمين إخوة فلا يحل لامرئ من أخيه إلا ما أعطاه عن طيب نفس منه فلا تظلمن أنفسكم .
“হে মানুষ! তোমাদের আমীর (নেতা) যদি হাবশী কৃষ্ণ দাসও হয়, তথাপি তাহার আদেশ-নিষেধ মান্য করিবে এবং আনুগত্য করিবে যাবত তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্ কিতাব অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করিবে।"
"তোমাদের দাস। তোমাদের দাস! তোমরা যাহা খাইবে তাহাকেও তাহা খাওয়াইবে। তোমরা যাহা পরিধান করিবে তাহাকেও তাহা পরিধান করাইবে। আর যদি উক্ত দাস কোন গুরুতর অপরাধ করিয়া ফেলে যাহা ক্ষমার অযোগ্য তবে আল্লাহর বান্দাকে বিক্রয় করিয়া দাও, কষ্ট দিও না।"
"হে মানুষ! তোমরা আমার বক্তব্য শ্রবণ কর এবং উপলব্ধি করিয়া শিক্ষা গ্রহণ কর। এক মুসলিম অপর মুসলিম-এর ভাই। আর অবশ্যই মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই। নিজের জন্য যাহা পছন্দনীয় তাহা ছাড়া মুসলমান ভাইয়ের জন্য অন্যকিছু পছন্দ করা বৈধ নহে।"
"তোমরা পরস্পরের প্রতি অত্যাচার করিবে না"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ন্যায়নিষ্ঠার সহিত দ্বিতীয় আকাবার বায়'আত পালন

📄 ন্যায়নিষ্ঠার সহিত দ্বিতীয় আকাবার বায়'আত পালন


হজ্জের মওসুমে প্রথম আকাবার বায়'আত মদীনার আওস ও খাযরাজ গোত্রের সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর দ্বিতীয় আকাবার বায়'আত মদীনা হইতে মক্কায় আগত আওস ও খাযরাজ গোত্রীয় সত্তরজন পুরুষ ও ২জন স্ত্রীলোকের সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বায়'আতের সময় তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর যাবতীয় শর্ত আন্তরিকতার সহিত মানিয়া লইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে একটিমাত্র শর্তে আবদ্ধ করিয়া লয়। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের প্রদত্ত শর্তটি চিরস্থায়ীভাবে মানিয়া লইয়া তাহা যথাযথভাবে রক্ষা করিয়া অনুপম প্রতিশ্রুতি রক্ষার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করিয়াছেন যাহা নিম্নে আলোচিত হইল:
মুস'আব (রা) বলিলেনঃ "অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) কথা বলিলেন, কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করিলেন, আল্লাহর পথে আহ্বান করিলেন, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করিলেন এবং বলিলেন, আমি তোমাদের এই মর্মে শপথ লইতেছি, তোমরা তোমাদের জীবন, সন্তান ও স্ত্রীদের যেইভাবে হেফাযত কর আমাকে সেইভাবে হেফাযত করিবে। মুস'আব (রা) বলিলেন, আল-বারাআ ইব্‌ন মা'রূর (রা) তাঁহার হাত ধরিয়া বলিলেন, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে নবীরূপে প্রেরণ করিয়াছেন। আমরা নিশ্চয় আপনাকে হেফাযত করিব নিজেদের সম্মানকে হেফাযত করিবার মত। হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা আপনার হাতে হাত রাখিয়া শপথ লইলাম। আল্লাহর কসম! আমরা যোদ্ধা সন্তান। আমরা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী। এই শৌর্য আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রতিষ্ঠিত। বারাআ (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে কথা বলিয়া যাইতেছেন। আবুল হায়ছাম ইব্‌ন তায়্যিহান (রা) মাঝখানে বলিয়া উঠিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। ইয়াহুদীদের সহিত আমাদের কিছু সম্পর্ক আছে। আমরা (আপনার সম্মানে) তাহা ছিন্ন করিব। আমরা যদি ইহা করি এবং আল্লাহ তা'আলা যদি আপনাকে বিজয় দান করেন তাহা হইলে আবার আমাদেরকে ছাড়িয়া স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া আসিবেন না তো?
“এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) ঈষৎ মুচকি হাসিলেন, অতঃপর বলিলেন, কঠিন অঙ্গীকার। আমি তোমাদের, তোমরাও আমার! যাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করিবে আমিও তাহাদের বিরুদ্ধে লড়াই করিব। যাহারা তোমাদের সহিত চুক্তিবদ্ধ হইবে আমিও তাহাদের সহিত চুক্তিবদ্ধ হইব। কা'ب (রা) বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমাদের পক্ষ হইতে বারজন প্রতিনিধি আমার নিকট পাঠাও যাহারা তাহাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করিবে। তাহারা তাহাদের মধ্য হইতে বারজন প্রতিনিধি নির্বাচন করিয়া প্রেরণ করিল : নয়জন খাযরাজের, তিনজন আওসের। বায়'আত সমাপ্ত হওয়ার পর আব্বাস ইবন উবাদা ইবন নাদলা (রা) দাঁড়াইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই মহান আল্লাহর শপথ যিনি আপনাকে সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করিয়াছেন। আপনি ইচ্ছা করিলে আগামীকালই আমরা আমাদের তরবারি লইয়া মিনাবাসীর উপর চড়াও হইতে পারি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমি সেই আদেশ প্রদান করি নাই। তোমরা বরং তোমাদের কাফেলায় ফিরিয়া যাও। অতএব তাহারা তাহাদের কাফেলায়" ফিরিয়া গেল।
আল্লাহ্র রাসূল (স) মদীনায় হিজরতের পর আকাবার দ্বিতীয় চুক্তি অনুযায়ী জীবনে কোনদিন মক্কায় বসবাসের জন্য ফিরিয়া আসেন নাই এবং তাঁহারদেরকে ত্যাগও করেন নাই। বর্তমানে তাঁহার রওযা শরীফও মদীনায়। এই রকমই ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর চুক্তি প্রতিপালনে ন্যায়সঙ্গত অনুপম দৃষ্টান্ত।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হুদায়বিয়ার সন্ধি রক্ষায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা

📄 হুদায়বিয়ার সন্ধি রক্ষায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা


হুদায়বিয়ার সন্ধি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মক্কার কুরায়শদের প্রতিনিধি সুহায়ল ইব্‌ন আমরের সহিত সম্পাদনের সময় নও-মুসলিম আবূ জান্দাল ইব্‌ন সুহায়ল (সুহায়লের পুত্র) উপস্থিত হন। তিনি কাফিরদের অত্যাচারে জর্জরিত ও শৃংখলাবদ্ধ ছিলেন। পায়ের শৃংখল টানিয়া টানিয়া মক্কার নিম্নভূমি দিয়া پলায়ন করিয়া তিনি মুসলমানদের সম্মুখে উপস্থিত হন। তখন তাহার পিতা সুহায়ল ছেলেকে দেখামাত্র মুখে চপেটাঘাত করিয়া বলিল, সন্ধির শর্তানুসারে সর্বপ্রথম আমি এই লোকটি সম্পর্কে ফায়সালা করিতে চাই যে, একে আমাদের নিকট ফিরাইয়া দিতে হইবে। আবূ জানদাল (রা) চিৎকার করিয়া বলিলেন, হে মুসলিম ভাইয়েরা! তাহারা আমাকে ফেরত নিতে পারিলে ধর্মচ্যুত করিবে নতুবা হত্যা করিবে। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সন্ধির কাজ এখনো তো শেষ হয় নাই (তাই তাহাকে আমরা তোমাদের কাছে রাখিয়া যাইব না)। সুহায়ল (রা) বলিল, যদি তাই হয় তবে তোমার সঙ্গে সন্ধি করিয়া কোন লাভ নাই। রাসূলুল্লাহ (স) আবু জান্দলের (রা) ব্যাপারটি সন্ধি বহির্ভূত রাখিতে চেষ্টা করিলেন, কিন্তু মিকরায ইবন হাফসের সহিত তাল মিলাইয়া সুহায়ল জিদ ধরিল, না, তাহাকে অবশ্যই ফিরাইয়া দিতে হইবে। রাসূলুল্লাহ (স) সন্ধির শর্ত মানিয়া আবু জান্দাল (রা)-কে ফিরাইয়া দিলেন। ইহা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর সন্ধির শর্ত পালনের সর্বপ্রথম ন্যায়পরায়ণতার অত্যুজ্জল দৃষ্টান্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00