📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সময় বণ্টনে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা

📄 সময় বণ্টনে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা


রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার জীবনের প্রতিটি কাজকর্ম, কথাবার্তা, চালচলন, আচার-ব্যবহার, বাহ্যিক আচরণ, অভ্যন্তরীণ আচরণ, প্রকাশ্য-গোপন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিকসহ সর্বাঙ্গণে সময় বণ্টনের ক্ষেত্রেও ছিলেন ন্যায়পরায়ণতার এক অনুপম দৃষ্টান্ত, যাহা পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ভাসিত হইয়াছে ইমাম হাসান ইবন আলী (রা)-এর হাদীছ হইতে। তিনি 'আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) হইতে বর্ণনা করেন:
كان دخوله لنفسه ماذونا له في ذلك و كان اذا اتى الى منزله جزء دخوله ثلاثة اجزاء (۱) جزء الله . (۲) جزء لاهله (۳) وجزء لنفسه . ثم يجعل جزأه بين الناس فيرد ذلك على العامة بالخاصة ولا يدخر عنهم شيئا فكان من سيرته في جزء الامة ايثار اهل الفضل بإذنه وقسمته على قدر فضلهم في الدين منهم ذو الحاجة ومنهم ذو الجاجتين ومنهم ذو الحوائز فيشغل بهم ويشغلهم فيما يصلحهم والامة من مسالته عنهم واخبارهم بالذي ينبغي لهم يقول ليبلغ الشاهد منكم الغائب وابلغوني حاجة من لا يستطيع ابلاغي حاجته فانه من ابلغ سلطانا حاجة من لا يستطيع ابلغها ثبت الله قدميه يوم القيامة لا يذكر عنده الا ذلك ولا يقبل من احد غيره . . . . . . . . . قد وسع الناس منه خلقه فصار لهم أبا و صار عنده في الحق سواء مجلسه مجلس حلم وحياء وصدق وامانة
"ব্যক্তিগতভাবে তাঁহার এই অনুমতি ছিল যে, যখনই ইচ্ছা করিতেন তখনই তিনি গৃহে প্রবেশ করিতে পারিতেন। তবুও তাঁহার ন্যায়নিষ্ঠ অভ্যাস ছিল, যখনই গৃহে গমন করিতেন তাঁহার সময়কে তিনভাগে ভাগ করিতেন।
(১) এক ভাগ আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের জন্য; (২) দ্বিতীয় ভাগ নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য; (৩) এবং তৃতীয় ভাগ নিজের আরামের জন্য; আবার নিজ আরামের সময়টুকুও লোকজনের কল্যাণে ব্যয় করিতেন।
তাঁহার অভ্যাস ছিল, উম্মতের জন্য নির্ধারিত সময়ে স্বীয় ইচ্ছা অনুযায়ী জ্ঞানীদেরকে প্রাধান্য দিতেন এবং ঐ সময়ের বণ্টনে দীনী মর্যাদা হিসাবে তারতম্য ঘটিত। তাহাদের মধ্যে কাহারও থাকিত একটি কাজ, কাহারও থাকিত দুইটি কাজ এবং কাহারও কয়েকটি কাজ।
তোমরা আমাকে সেই ব্যক্তির প্রয়োজন অবগত কর, যে তাহার প্রয়োজনকে আমার নিকট পর্যন্ত পৌঁছাইতে পারে না। কেননা যে ব্যক্তি আমীর (প্রশাসক) পর্যন্ত এমন কোন ব্যক্তির প্রয়োজনকে পৌঁছাইয়া দিয়াছে, যে তাহার নিজের প্রয়োজনকে ঐ পর্যন্ত পৌঁছাইতে পারে না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে দৃঢ়পদ রাখিবেন। এই কথাই তাহার কাছে আলোচিত হইত এবং ইহা ছাড়া তিনি কাহারও কোন কথা পছন্দ করিতেন না।
তাঁহার ব্যবহার সমস্ত লোকের জন্য সমান ছিল। (স্নেহ-মমতার ক্ষেত্রে) তিনি ছিলেন তাঁহাদের পিতা। আর লোকেরা সব (অধিকারের ক্ষেত্রে) তাঁহার নিকট ছিল সমান। তাঁহার মজলিস ছিল ধৈর্যশীলতা, লজ্জাশীলতা, সততা ও আমানতের মজলিস।
উল্লিখিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়নিষ্ঠ সময় বণ্টনের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুবাহালার ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা

📄 মুবাহালার ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা


নবম মতান্তরে দশম হিজরীতে নাজরান খৃস্টান প্রতিনিধি দল আগমন করে। তাহারা বলিল, হযরত ঈসা (আ) স্বয়ং আল্লাহ; আল্লাহর পুত্র, তিন আল্লাহর মধ্যে আল্লাহ্। কেননা তিনি মৃত্যুকে জীবিত করেন, কুষ্ঠরোগীকে ভাল করেন, ধবল রোগীকে আরোগ্যসহ অন্যান্য রোগব্যাধি আরোগ্য করেন, অদৃশ্যের সংবাদ দেন, মাটি দ্বারা পাখি বানাইয়া ফুৎকার দিয়া আকাশে উড়াইয়া দেন। এইসব আল্লাহর কাজ। অতএব তিনি আল্লাহ্। ইহা ছাড়া তাঁহার কোন পিতা নাই। তাই আল্লাহই তাঁহার পিতা হওয়া যুক্তিসঙ্গত। এতদ্ব্যতীত তিনি মাতৃক্রোড়ে কথা বলিয়াছেন যাহা একমাত্র তাঁহারই বৈশিষ্ট্য।
তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদেরকে দীন ইসলাম কবুল করিবার দাওয়াত দিলেন। তাহারা বলিল: হাঁ। আমরা তো আপনার পূর্বেই ইসলাম কবূল করিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের উভয়কে (আকিব ও আরহামকে) লক্ষ্য করিয়া বলিলেন:
الا كذبتما يمنعكما من الاسلام ادعا وكما الله ولدا وعبادتكم الصليب وأكلكما الخنزير .
“ তোমাদের মিথ্যা বক্তব্যই তোমাদেরকে দীন ইসলাম কবুল করা হইতে বিরত রাখিয়াছে। কেননা তোমরা আল্লাহ্র পুত্র স্বীকার কর, ক্রুশের পূজা কর এবং শূকরের গোশত খাও (যাহা হারাম)"।
তাহারা বলিল, ঈসা (আ)-এর পিতা যদি খোদা না হয় তবে তাহার পিতা কে? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি জান না, আমাদের প্রতিপালক চিরঞ্জীব। কিন্তু হযরত ঈসা (আ)-এর মৃত্যু হইবে। প্রতিনিধি দল বলিল, জানি। রাসূলুল্লাহ (স) পুনরায় বলিলেন, তোমাদের কি এই কথা জানা নাই যে, তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করিয়া দেন। সবকিছুকে সংরক্ষণ ও রিযিক দানের দায়িত্ব তাঁহারই। তাহারা উত্তর দিল, জানি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই রকম গুণ কি হযরত ঈসা (আ)-এর রহিয়াছে? তাহারা উত্তর দিল, না।
রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি এই জ্ঞান রাখ না যে, আকাশ ও পৃথিবীর কোন কিছুই আল্লাহ্র অগোচরে নাই? তাহারা বলিল, জানিব না কেন? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই রকম গুণ কি হযরত ঈসা (আ)-এর আছে? তাহারা বলিল, না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, আমাদের প্রতিপালক হযরত ঈসা (আ)-কে তাঁহার মায়ের উদরে সৃষ্টি করিয়াছেন। আমাদের আল্লাহ পানাহারের প্রয়োজন হইতে মুক্ত। তাহারা বলিল, হাঁ। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমরা কি এতটুকুও বুঝিতেছে না, তাঁহার মাতা হযরত ঈসা (আ)-কে অন্যান্য গর্ভধারিণী স্ত্রীলোকদের মতই আপন উদরে ধারণ করিয়াছিলেন, প্রসবও করিয়াছিলেন অন্যান্য মহিলাদের মত, তারপর তিনি আহার দিয়াছিলেন যেমন অন্যান্য শিশুদেরকে দেয়া হয়। তিনি পানাহার করিতেন এবং প্রকৃতির প্রয়োজন পূরণ করিতেন। তাহারা বলিল, এই কথা আমরা জানি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ইহার পরও তোমরা তাহাকে আল্লাহ্র পুত্র মনে কর কিভাবে? খৃস্টানরা নির্বাক হইয়া গেল। তখন আল্লাহ তা'আলা সূরা আলে ইমরানের প্রারম্ভ হইতে আশিটি আয়াত নাযিল করিলেন।
রাসূলুল্লাহ (স) শক্তি প্রয়োগ না করিয়া মুবাহালা করেন এবং তাহাদের নিকট হইতে জিযয়া গ্রহণ করিয়া তাহাদেরকে শান্তিতে বসবাস করার ব্যবস্থা করেন এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্ধির শর্ত বহির্ভূত মহিলাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা

📄 সন্ধির শর্ত বহির্ভূত মহিলাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা


হুদায়বিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হইবার পর মক্কা হইতে কিছু সংখ্যক মু'মিন মহিলা আল্লাহর রাসূল (স)-এর নিকট মদীনায় হিজরত করিয়া আসিলেন। তাহাদের আত্মীয়-স্বজন হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুযায়ী তাহাদেরকে ফেরত দাবি করিলেন। আল্লাহর রাসূল (স) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করিলেন। ন্যায়পরায়ণতার মদদগার রাসূলুল্লাহ (স) যুক্তি দেখাইলেন যে, এই বিষয়ে চুক্তিতে লিখিত বক্তব্য হইতেছে:
وعلي أنه لا يأتيك منا رجل وإن كان علي دينك الا رودته إلينا .
"আমাদের মধ্য হইতে যে সমস্ত পুরুষ আপনার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করিতে আসিবে তাহারা যদিও আপনার দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তথাপিও তাহাদিগকে ফেরৎ পাঠাইতে হইবে"।
কিন্তু মহিলাদের ব্যাপারে চুক্তিতে কোন শর্তারোপ করা হয় নাই। অতএব মহিলাগণ চুক্তির শর্ত বহির্ভূত। এতদ্ব্যতীত আল্লাহ তা'আলা এই প্রসঙ্গে বলিয়াছেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَتُ مُهْجِرَت فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِالْمُنِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَتٍ فَلا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الكُفَّارِ لا هُنَّ حِلَّ لَهُمْ وَلَاهُمْ يَحِلُّوْنَ لَهُنَّ وَأَتُوهُمْ مَّا أَنْفَقُوا وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ إِذَا أَتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ وَسْتَلُوا مَا أَنْفَقْتُمْ وَلِيَسْتَلُوا مَا أَنْفَقُوا ذَلِكُمْ حُكْمُ اللهِ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ وَاللَّهُ عَلِيْمٌ حَكِيمٌ . وَإِنْ فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِّنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَأْتُوا الَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَاجُهُمْ مِّثْلَ مَا أَنْفَقُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي انْتُمْ بِهِ مُؤْمِنُونَ . يَأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنُتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَي أَنْ لا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يُفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفِ فَبَايِعُهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ .
"হে মু'মিনগণ! তোমাদের নিকট মু'মিন নারীরা হিজরত করিয়া আসিলে তাহাদেরকে পরীক্ষা করিও। আল্লাহ তাহাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানিতে পার যে, তাহারা মু'মিন তবে তাহাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাইও না। মু'মিন নারিগণ কাফিরদের জন্য বৈধ নহে এবং কাফিররা মু'মিন নারীদের জন্য বৈধ নহে। কাফিররা যাহা ব্যয় করিয়াছে তোমরা তাহা উহাদেরকে ফিরাইয়া দিও। অতঃপর তোমরা তাহাদেরকে বিবাহ করিলে তোমাদের কোন অপরাধ হইবে না যদি তোমরা তাহাদেরকে তাহাদের মাহর দাও। তোমরা কাফির নারীদের সহিত দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না। তোমরা যাহা ব্যয় করিয়াছ তাহা ফেরত চাহিবে এবং কাফিররা ফেরত চাহিবে যাহা তাহারা ব্যয় করিয়াছে। ইহাই আল্লাহ্ বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করিয়া থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হইয়া কাফিরদের নিকট রহিয়া যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাহাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হইয়া গিয়াছে তাহাদেরকে, তাহারা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করিবে। তোমরা ভয় কর আল্লাহকে যাঁহার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী। হে নবী! মু'মিন নারীরা যখন তোমার নিকট আসিয়া বায়'আত করে এই মর্মে যে, তাহারা আল্লাহ্র সহিত কোন শরীক স্থির করিবে না, চুরি করিবে না, ব্যভিচার করিবে না, নিজেদের সন্তান হত্যা করিবে না, তাহারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করিবে না এবং সৎকার্যে তোমাকে অমান্য করিবে না তখন তাহাদের বায়'আত গ্রহণ করিও এবং তাহাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিও। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" (৬০:১০-১২)।
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর কোন মু'মিন মহিলা হিজরত করিয়া আসিলে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষ স্বীকারোক্তি করিয়া অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর মদীনায় থাকার অনুমতি লাভ করিত, ফেরত পাঠান হইত না। আর যাহারা উক্ত শর্ত মুতাবিক অঙ্গীকার করিত না তাহাদেরকে মক্কায় ফেরত পাঠান হইত। এইভাবে রাসূলুল্লাহ (স) মু'মিন নারীদের মদীনায় আশ্রয় দিয়া হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত ন্যায়সঙ্গতভাবে রক্ষা করিয়াছেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতামূলক ভাষণ

📄 বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতামূলক ভাষণ


আল্লাহ্র রাসূল (স) বিদায় হজ্জে উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে ন্যায়পরায়ণ হওয়ার জন্য আরাফা ও মিনায় খুতবাহ প্রদান করিয়াছেন। তিনি মুসলমানদেরকে বিদায় হজ্জে ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে বলেন:
(۱) ان دماءكم وأموالكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا . (۲) ألا كل شئ من أمر الجاهلية تحت قدمي موضوع . (۳) ودماء الجاهلية موضوعة . (٤) فاتقوا الله في النساء فانكم أخذتموهن بامانة الله - ( ٥ ) واستحللتم فروجهن بكلمة الله . (٦) ولكم عليهن أن لا يوطئن فراشكم أحدا تكرهونه . (۷) فان فعلن ذلك فاضربوهن ضربا غير مبرح . (۸) ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف . (۹) وقد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به كتاب الله وسنة رسوله . (۱۰) أنتم تسألون عنى فما أنتم قائلون . قالوا نشهد انك قد بلغت وأديت ونصحت . فقال باصبعه السبابة يرفعها الي السماء وينكتها الي الناس اللهم اشهد ثلاث مرات .
(১) “নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও সম্পদ তোমাদের নিকট তেমন পবিত্র যেমন পবিত্র আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহর।
(২) জাহিলী যুগের অনৈসলামিক সকল কার্যকলাপ আমার পদতলে, এই ব্যাপারে সাবধান থাকিবে।
(৩) জাহিলী যুগের অবৈধ অনৈসলামিক সকল রক্তপাত বন্ধ করা হইল।
(৪) আর তোমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করিও। কেননা তাহাদেরকে তোমরা আল্লাহ্ আমানতস্বরূপ গ্রহণ করিয়াছ।
(৫) আর আল্লাহর বিধান মুতাবিক তাহাদেরকে সম্ভোগের বৈধতা লাভ করিয়াছ।
(৬) তাহাদের (স্ত্রীদের) উপর তোমাদের হক রহিয়াছে যে, তাহারা স্বামীর অবর্তমানে তাহাদের সতীত্ব রক্ষা করিবে।
(৭) যদি তাহারা (স্ত্রীগণ) স্বামীর অবর্তমানে অবৈধ কর্মে লিপ্ত হয় তবে তাহাদেরকে এমনভাবে প্রহার কর যেন শরীরে দাগ না পড়ে।
(৮) তোমাদের উপর তাহাদের (স্ত্রীদের) হক রহিয়াছে যে, তোমাদের সামর্থ্যানুযায়ী তাহাদেরকে খোরপোষ প্রদান করিবে।
(৯) তোমাদের জন্য রাখিয়া যাইতেছি এমন বস্তু যাহা আকড়াইয়া ধরিলে তোমরা আমার অবর্তমানে কখনও পথভ্রষ্ট হইবে না। তাহা হইতেছে: (ক) আল্লাহর কিতাব ও (খ) তাঁহার রাসূলের সুন্নাত।
(১০) হাশরের মাঠে তোমরা আমার সম্পর্কে আল্লাহ্র নিকট জিজ্ঞাসিত হইবে। অতএব তাহার জবাবে তোমরা কী বলিবে? সাহাবায়ে কিরাম (রা) প্রত্যুত্তরে বলিলেন, আমরা সকলে অবশ্য অবশ্য সাক্ষ্য দিব যে, আপনি আপনার রিসালাতের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় নসীহত যথাযথভাবে আমাদের নিকট পৌঁছাইয়াছেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার শাহাদাত আঙ্গুলী আকাশের দিকে উত্তোলন করিয়া সাহাবায়ে কিরাম (রা)-এর দিকে ইঙ্গিতপূর্বক ঘোষণা করিলেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকিও! হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকিও! হে আল্লাহ। তুমি সাক্ষী থাকিও! (আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিয়াছি)"
অন্য রিওয়ায়াতে রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেনঃ
يايها الناس اسمعوا وأطيعوا وان أمر عليكم عبد حبشي مجدع ما أقام فيكم كتاب الله تعالي . ارقاءكم ارقاءكم أطعموهم مما تأكلون واكسوهم مما تلبسون وان جاؤ ا بذنب لا تريدون أن تغفروه فبيعوا عباد الله ولا تعذبوهم أيها الناس اسمعوا قولي اعقلوه تعلمن أن كل مسلم أخ للمسلم وان المسلمين إخوة فلا يحل لامرئ من أخيه إلا ما أعطاه عن طيب نفس منه فلا تظلمن أنفسكم .
“হে মানুষ! তোমাদের আমীর (নেতা) যদি হাবশী কৃষ্ণ দাসও হয়, তথাপি তাহার আদেশ-নিষেধ মান্য করিবে এবং আনুগত্য করিবে যাবত তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্ কিতাব অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করিবে।"
"তোমাদের দাস। তোমাদের দাস! তোমরা যাহা খাইবে তাহাকেও তাহা খাওয়াইবে। তোমরা যাহা পরিধান করিবে তাহাকেও তাহা পরিধান করাইবে। আর যদি উক্ত দাস কোন গুরুতর অপরাধ করিয়া ফেলে যাহা ক্ষমার অযোগ্য তবে আল্লাহর বান্দাকে বিক্রয় করিয়া দাও, কষ্ট দিও না।"
"হে মানুষ! তোমরা আমার বক্তব্য শ্রবণ কর এবং উপলব্ধি করিয়া শিক্ষা গ্রহণ কর। এক মুসলিম অপর মুসলিম-এর ভাই। আর অবশ্যই মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই। নিজের জন্য যাহা পছন্দনীয় তাহা ছাড়া মুসলমান ভাইয়ের জন্য অন্যকিছু পছন্দ করা বৈধ নহে।"
"তোমরা পরস্পরের প্রতি অত্যাচার করিবে না"।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00