📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আল-আমীন উপাধি লাভ

📄 আল-আমীন উপাধি লাভ


রাসূলুল্লাহ (স)-এর কৈশোরে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আমানতদারি, নম্রতা, ভদ্রতা, নিঃস্বার্থ মানবসেবা ও সত্যিকার কল্যাণ প্রচেষ্টা, চরিত্র মাধুর্য ও অমায়িক ব্যবহারের ফলে আরব মুশরিক-কাফিররা তাঁহার প্রতি আকৃষ্ট হয়। অবশেষে তিনি আল-আমীন বা পরম বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত হন। ফলে মুহাম্মাদ (স) নাম অন্তরালে পড়িয়া গিয়া তিনি আল-আমীন বা পরম বিশ্বস্ত নামেই খ্যাত হইয়া উঠিলেন। নীতিধর্ম বিবর্জিত ঈর্ষা-বিদ্বেষ কলুষিত, পরশ্রীকাতর দুর্ধর্ষ আরবদের অন্তরে এতখানি স্থান লাভ করা ঐ সময়ে খুবই কঠিন ছিল। অনুপম চরিত্র মাধুর্যের অধিকারী হওয়ার কারণেই মুহাম্মাদ (স)-এর বিপক্ষে তাহা সম্ভব হইয়াছিল (সীরাত বিশ্বকোষ, ৪খ., ২৮৯)। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবিল হাসমা নবৃওয়াতের পূর্বে একবার রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত ব্যবসায় অংশগ্রহণ করে। তাহাতে আবদুল্লাহর যিম্মায় কিছু দেনা বাকী থাকে। তিনি অঙ্গীকার করেন, অনতিবিলম্বে আমি ফিরিয়া আসিব এবং বাকী দেনা পরিশোধ করিব। আপনি কিছুক্ষণ এই জায়গায় আমার জন্য অপেক্ষা করুন। আবদুল্লাহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হইতে বাড়ি যাওয়ার পর ঘটনাক্রমে উক্ত প্রতিশ্রুতি ভুলিয়া যায়। তিন দিন পর ঐ অঙ্গীকারের কথা মনে পড়িলে তৎক্ষণাৎ সে ঐ স্থানে আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে অপেক্ষমান পায়। রাসূলুল্লাহ (স) ক্রোধ প্রকাশ করিলেন না এবং কটু বাক্যও প্রয়োগ করিলেন না বরং বলিলেন, তুমি আমাকে কষ্টের মধ্যে ফেলিয়া দিয়াছ। আমি তিন দিন যাবত এইখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করিতেছি। ইহা ন্যায়পরায়ণতা ও ওয়াদা রক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত (সীরাত বিশ্বকোষ, ৪খ., পৃ. ২৯১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ব্যবসা-বাণিজ্যে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা

📄 ব্যবসা-বাণিজ্যে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায়পরায়ণতা


রাসূলুল্লাহ (স)-এর বয়স ছিল তখন পঁচিশ বৎসর। পিতৃব্যের ছিল অর্থনৈতিক দৈন্য দশার সংসার। তখন অর্থনৈতিক সহযোগিতার বড় প্রয়োজন ছিল। এই সময় খাদীজা বিনত খুওয়ায়লিদ (রা) ছিলেন তৎকালীন আরবের একজন সম্ভ্রান্ত ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মহিলা। সেই যুগে আরবের নারী অধিকার বলিতে কিছুই ছিল না। পদে পদে নারীরা চরম অবমাননা ও লাঞ্ছনার শিকার হইত। সেই সময় এই সতী-সাধ্বী মহিলা স্বীয় পবিত্রতা ও বংশমর্যাদায় এত সম্মানিত ছিলেন যে, তাহাকে সকলেই 'তাহিরা বা পবিত্রা' উপাধিতে ভূষিত করে। তিনি তাঁহার ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ, ন্যায়পরায়ণ, আমানতদার ও সত্যবাদী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তির অনুসন্ধান করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-কে মনোনীত করিলেন এবং প্রচুর মালামাল ও অনেক মূলধনসহ সিরিয়া প্রেরণ করিলেন। সিরিয়া হইতে রাসূলুল্লাহ (স) বাণিজ্য কাফেলাসহ খাদীজা (রা)-এর বাড়িতে পৌছাইয়া আমদানীকৃত সমস্ত মালামাল ও অর্থকড়ি তাঁহাকে যথাযথভাবে বুঝাইয়া দিলেন। এই ব্যবসায়ে খাদীজা (রা) পূর্বের ব্যবসায়ের তুলনায়
অধিক লাভবান হইলেন। সুতরাং অঙ্গীকার অনুযায়ী আনন্দচিত্তে দ্বিগুণের বেশী লভ্যাংশ প্রদান করিয়া তিনি তাঁহাকে ধন্যবাদ জানাইয়া বিদায় করিলেন। অতঃপর খাদীজাতুল কুবরা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর পূত-পবিত্রতা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতায় মুগ্ধ হইয়া তাঁহা সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে মনস্থ করেন। সুতরাং খাদীজা (রা) তাঁহার সহচর এবং উভয় পক্ষের আত্মীয়া নাফীসার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (স)-কে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ৬৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হিলফুল মুতায়্যাবীন

📄 হিলফুল মুতায়্যাবীন


হিলফুল মুতায়্যাবীন হিলফুল মুতায়্যাবীন বা আতর ব্যবহারকারীগণের অঙ্গীকার ছিল প্রাগ-ইসলামী সেবাসংঘের একটি অন্যতম সেবাসংঘ। রাসূলুল্লাহ (স) উক্ত সেবাসংঘের একজন সদস্য ছিলেন যাহা হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন: বাল্যকালেই আমি আমার চাচাদের সহিত হিলফুল মুতায়্যাবীনে অংশগ্রহণ করি। সেই অঙ্গীকার ভঙ্গের বিনিময়ে অনেকগুলি লাল উটও আমি পছন্দ করি না। এই অঙ্গীকার মক্কা মুকাররমায় 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন জুদআনের গৃহে বনী হাশিম ও বনী উমায়‍্যা এবং বনী যুহরা ও বনী মাখযূমের মধ্যে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহা ছিল পরস্পর সহযোগিতা, যালিমের নিকট হইতে মযলূমের হক আদায় করার, মান-মর্যাদা প্রকৃত যোগ্যতমদেরকে ফিরাইয়া দেওয়ার এক মহান অঙ্গীকার। একটি বড় সুগন্ধির পাত্রে তাহারা সকলে হাত রাখিয়া অঙ্গীকার করিয়াছিল এবং অঙ্গীকারশেষে কা'বার দেওয়ালে হাত স্পর্শ করিয়াছিল বলিয়া এই অঙ্গীকারকে 'হিলফুল মুতায়্যারীন' বলা হয়। মক্কায় হাজীদের যমযমের পানি পান করানো ও চাঁদা লইয়া দ্বন্দুকে কেন্দ্র করিয়া এই দ্বিতীয় হিলফুল মুতায়্যাবীন গঠিত হয়। এই অঙ্গীকারে রাসূলুল্লাহ (স) অংশগ্রহণ করিয়া ন্যায়পরায়ণতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখিয়াছেন (মহানবীর জীবনী বিশ্বকোষ, ১খ., পৃ. ৩১৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হিলফুল ফুযূল

📄 হিলফুল ফুযূল


হিলফুল ফুযূল হিলফুল ফুযূল-এর হিলফ শব্দটির অর্থ পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের অঙ্গীকার (ইন মানজুর, লিসানুল 'আরাব, ২খ., পৃ. ৯৬৩)। সুদূর অতীতে আল-ফাদল নামক কয়েকজন শান্তিপ্রিয় লোকের উদ্যোগে হিজাযে, বিশেষত মক্কা মু'আজ্জমায় সামাজিক শান্তি-শৃংখলা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইহাই ইতিহাসে 'হিলফুল ফুযূল' নামে প্রসিদ্ধ।
আরব গোত্রসমূহের মধ্যে অব্যাহত যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ব্যাপক হানাহানির ফলে, বিশেষ করিয়া ফিজার যুদ্ধে বহু সংখ্যক জীবনহানি ঘটিলে এবং সামাজিক শাক্তি-শৃংখলা ও জনজীবনে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইলে কিছু সংখ্যক লোকের মনে হিলফুল ফুযূলের কথা জাগ্রত হয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা বহাল করার জন্য উক্ত সংঘের পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিতৃব্য যুবায়র ইবন 'আবদুল মুত্তালিবের অনুপ্রেরণায় বানু হাশিম, বানুল মুত্তালিব, বানু আসাদ ইব্‌ন আবদিল উয্যা, বাচ্চু যুহরা ইব্‌ন কিলাব ও বানু তায়ম ইব মুররা আবদুল্লাহ ইব্‌ন জুদআনের বাড়িতে সমবেত হইয়া ফিজার যুদ্ধের চারি বৎসর পর
মহানবী (স)-এর নবুওয়াত লাভের বিশ বৎসর পূর্বে যুলকা'দা মাসে 'হিলফুল ফুযূল' নামক সেবাসংঘ পুনর্গঠিত করে। ইহা আরবদের নিকট সর্বাধিক সম্মানিত ও প্রসিদ্ধ চুক্তি হিসাবে বিবেচিত ছিল (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ১খ., পৃ. ১৩৯-৪০; আল-বিদায়া, ২খ., পৃ ২৭০; তাবাকাত ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ১২৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00