📄 হুনায়নের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ধৈর্য
'আব্বাস (রা) বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত অংশগ্রহণ করিলাম। সেইখানে আমি ও আবূ সুফ্যান ইবন আল-হারিছ রাসূলুল্লাহ (স)-কে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত বেষ্টন করিয়া রাখিয়াছিলাম। ফারওয়া ইব্ নুফাছা আল-জুযামী রাসূলুল্লাহ (স)-কে একটি খচ্চর হাদিয়া দিয়াছিলেন। তিনি উহার উপর উপবিষ্ট ছিলেন। মুসলিম ও কাফির বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হইলে মুসলমানগণ পিছন দিকে হটিতে আরম্ভ করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) কাফিরদের অভিমুখে অগ্রসর হইতে লাগিলেন। আব্বাস (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খচ্চরের লাগাম ধরিয়া রাখিয়াছিলাম। খচ্চরটি দ্রুত আগে না বাড়ার জন্য আমি উহাকে বাধা দিতেছিলাম আর আবূ সুফ্যান রাসূলুল্লাহ (স)-এর পাদানি ধরিয়া রাখিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে 'আব্বাস! সামুরাওয়ালাদিগকে আহ্বান কর (হুদায়বিয়ায় যে বৃক্ষের নিচে যুদ্ধের বায়'আত অনুষ্ঠিত হইয়াছিল উহাকে সামুরা বলা হইত বিধায় তাঁহাদিগকে সামুরাওয়ালা বলিয়া সম্বোধন করিয়াছিলেন)। 'আব্বাস (রা) অত্যন্ত উচ্চ আওয়াজের অধিকারী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সর্বোচ্চ আওয়াজে বলিলাম, সামুরাওয়ালারা
কোথায়? তিনি বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমার আওয়াজ শোনামাত্র তাঁহাদের মধ্যে এমনই ভাবাবেগের সৃষ্টি হইল যেইরূপ ভাবাবেগ হইয়া থাকে গাভীর স্বীয় বাচ্চার উপর। সুতরাং তাঁহারা বলিয়া উঠিলেন-ইয়া লাব্বায়ক, ইয়া লাব্বায়ক, হাজির, হাজির। এই বলিয়া তাঁহারা কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপাইয়া পড়িলেন।
অনুরূপভাবে আনসারদিগকে আহ্বান করা হইল, ইয়া মা'শারাল আনসার! ইয়া মা'শারাল আনসার! হে আনসারবর্গ, হে আনসারবর্গ! বর্ণনাকারী বলেন, ইহার পর আনসারদিগকে একেকটি গোত্র হিসাবে ডাকা হইল, যেমন হে আল-হারিছ ইব্ন আল-খাযরাজ বংশের লোকেরা! হে হারিছ ইব্ন খাযরাজ গোত্রের সদস্যবর্গ!
এইভাবে সকলেই যুদ্ধে ঝাঁপাইয়া পড়িলে রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় সাদা খচ্চরে থাকিয়া মাথা উঁচু করিয়া যুদ্ধের অবস্থা লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, এখন শুরু হইয়াছে যুদ্ধ। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এক মুষ্টি কংকর লইয়া কাফিরদিগের চেহারায় নিক্ষেপ করিয়া বলিলেন, মুহাম্মাদের পালনকর্তার কসম! ইহারা (কাফিররা) পরাজয় বরণ করিয়াছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি যুদ্ধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করিলে আমার মনে হইল যে, যুদ্ধ বুঝি এখনও আপন অবস্থায়ই রহিয়াছে। কিন্তু আল্লাহ্র কসম! রাসূলুল্লাহ (স)-এর কংকরসমূহ নিক্ষেপ করার পর হইতে আমি দেখিতেছিলাম যে, তাহাদের শক্তি ক্রমশ নিস্তেজ হইয়া পড়িয়াছে এবং তাহারা পলায়ন করিয়াছে (মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ, বাব ফী গাযওয়াতি হুনায়ন, বাব নং ২৮, হাদীছ নং ১৭৭৫)।
আবূ ইসহাক বলেন, কায়স গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বারাআ (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিল, আপনারা কি হুনায়ন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স)-কে রাখিয়া ময়দান হইতে পালায়ন করিয়াছিলেন? বারাআ (রা) বলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স) পালায়ন করেন নাই। হাওয়াযিন গোত্র অতর্কিতে হামলা চালাইয়াছিল। আমরা তাহাদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালাইলে তাহারা ময়দান ছাড়িয়া পালাইয়া যায়। অতঃপর আমরা গনীমতের মাল সংগ্রহ করিতে আরম্ভ করিলে তাহারা অতর্কিত হামলা চালায় (ইহাতে মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িল)। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি লক্ষ্য করিলাম, তিনি স্বীয় খচ্চরে উপবিষ্ট আছেন, আবু সুফয়ান ইব্ন হারিছ উহার লাগাম ধরিয়া আছেন। এমতাবস্থায় তিনি বলিতেছিলেন, أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبٌ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِب "মিথ্যা নয়, আমি সত্যই নবী, আমি আবদুল মুত্তালিবের প্রপৌত্র” (প্রাগুক্ত, হাদীছ নং ১৭৭৫-এর শেষ বর্ণনা)।
📄 সচ্চরিত্রে ধৈর্যাবলম্বন
আনাস (রা) বলেন, আমি ক্রমাগত দশটি বৎসর রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমত করিয়াছি। (এই দীর্ঘদিন যাবত) তাঁহার শরীর হইতে আতরের সুঘ্রাণ পাইয়াছি। তাঁহার মুখে যেইরূপ সুঘ্রাণ বিরাজ করিত অনুভব করিয়াছি সেইরূপ অন্য কাহারো মুখে অনুভব করি নাই। কোন সাহাবী তাঁহার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আসিয়া দাঁড়াইয়া থাকিলে তিনি (সাক্ষাত না দিয়া) তাহার নিকট হইতে মুখ ফিরাইয়া লইতেন না। কোন সাহাবী সাক্ষাতের সময়ে মুসাফাহার
উদ্দেশ্যে হাত বাড়াইলে তিনিও স্বীয় হস্ত বাড়াইয়া দিতেন। অতঃপর সেই সাহাবী আগে হাত না সরাইলে তিনি সরাইতেন না। অনুরূপভাবে কোন সাহাবী কানে কানে কথা বলিতে চাহিলে স্বীয় কর্ণ তাহার প্রতি বাড়াইয়া দিতেন। অতঃপর নিজের কান আগে সরাইতেন না যতক্ষণ না সাহাবী মুখ ফিরাইত (আখলাকুন্নাবী, বাব মা যুকিরা মিন হুস্মি খুলুকি' রাসূলিল্লাহ (স), হাদীছ নং ১৮)।
উম্মুল মু'মিনীন 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও কাহাকেও প্রহার করেন নাই। নিজস্ব কোন খাদেমকেও প্রহার করেন নাই এবং তাঁহার কোন সহধর্মিণীকেও কখনও মারধর করেন নাই। তাঁহার প্রতি কেহ অন্যায় আচরণ করিলে যতক্ষণ পর্যন্ত উহাতে আল্লাহ্র কোন অমোঘ বিধান লঙ্ঘন না হইত ততক্ষণ পর্যন্ত উহার প্রতিশোধ গ্রহণ করিতেন না। হাঁ, আল্লাহ্ হুকুম লঙ্ঘন হইলে নিশ্চয়ই তিনি প্রতিশোধ লইতেন। অপর বর্ণনায় রহিয়াছে, তাঁহাকে দুইটি বিষয়ের মধ্যে স্বাধীনতা দেওয়া হইলে গুনাহ না হওয়া সাপেক্ষে তিনি সর্বদা তুলনামূলক সহজ-সরল বিষয়টিই অবলম্বন করিতেন। তবে উহার মধ্যে গুনাহের লেশ মাত্র থাকিলে তাহা হইতে সবচাইতে বেশী দূরে থাকিতেন (মুসলিম, কিতাবুল ফাদাইল, বাবু মুবা'আদাতিহী (স) লিল-আছাম, বাব নং ২০, হাদীছ নং ৭৯ (২৩২৮) ও ৭৮ (২৩২৭)।
📄 ধৈর্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী
আবু সা'ঈদ খুদরী (রা) বলেন, একবার আনসারী সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট কিছু আর্থিক সাহায্য চাহিলেন। তাঁহাদের মধ্য হইতে যে-ই চাহিয়াছেন তাহাকেই তিনি দান করিয়াছেন। এক পর্যায়ে তাঁহার নিকট আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিল না। দুই হস্তে বিলাইয়া দেওয়ার পর সবকিছু ফুরাইয়া গেলে তিনি তাঁহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আমার নিকট কোন সম্পদ আসিলে আমি তাহা তোমাদের অজান্তে পুঞ্জীভূত করিয়া রাখিয়া দেই না। তবে জানিয়া রাখ, যেই ব্যক্তি (হারাম হইতে ও চাওয়া হইতে) বাঁচিয়া থাকিতে চাহে আল্লাহ্ পাকও তাহাকে বাঁচাইয়া রাখেন। যেই ব্যক্তি (কষ্ট সত্ত্বেও) ধৈর্য অবলম্বন করিতে চাহে আল্লাহ তা'আলা তাহাকে ধৈর্যের তৌফিক দান করেন। অনুরূপভাবে যেই ব্যক্তি গায়রুল্লাহ্ হইতে অমুখাপেক্ষী থাকিতে চাহে আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে অমুখাপেক্ষী বানাইয়া দেন। আরও জানিয়া রাখ, তোমাদিগকে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হইতে যাহা কিছু (গুণাবলী) দান করা হইয়াছে তন্মধ্যে ধৈর্যাপেক্ষা উত্তম ও প্রশস্ত কোন গুণ দেওয়া হয় নাই (সাহীহ বুখারী, কিতাবুর রিকাক, বাবুস্ সাবরি আন মাহপরিমিল্লাহ্, বাব নং ২১, হাদীছ নং ৬৪৭০)।
গ্রন্থপঞ্জী: (১) ইব্ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম, বৈরূত, তা.বি., সূরা আহ্কাফের আয়াত নং ৩৫-এর ব্যাখ্যা, সূরা আল-'ইমরান, আয়াত নং ১২৮-এর ব্যাখ্যা; (২) ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আদ্-দুররুল-মানছুর ফিত্-তাফসীরিল মাছুর, বৈরূত তা.বি., ১খ., পৃ. ৬৫-৭; (৩) মুহাম্মাদ ইব্ন ইসমাঈল বুখারী, আস্-সাহীহ (ফাতহুল বারীসহ), কায়রো ১৯৮৮ খৃ., কিতাবুস্-সুলহি; (৪) মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী, আস্-সাহীহ (ইকমালু ইকমালিল মু'লিমসহ), বৈরূত ১৯৯৪ খৃ.; (৬) আবূ দাউদ আল-আশ'আছ, আস্-সুনান; (৭) আবূ আবদির-রাহমান আহমাদ ইব্ন শু'আয়ب আন্-নাসাঈ, আস্-সুনান; (৮) হাকেম
আন-নীশাপুরী, আল-মুস্তাদরাক; (৯) ইবন হিব্বান, আস্-সাহীহ, বিতারতিবি ইবন বালবান, তাহকীক শু'আয়ب আল-আরনাউত, বৈরূত ১৯৯৭ খৃ.; (১০) ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১/৩৭৪; (১১) আবূ বাক্স আহমাদ ইবনুল হুসায়ন আল-বায়হাকী, আস্-সুনান, তাহকীক আবূ হাজির মুহাম্মাদ আস্-সাঈদ ইব্ন বাসয়ূনী যাগলুল, বৈরূত ১৯৯০ খৃ.; (১২) হাফিয তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর, তাহকীক হুমায়দী আবদুল মাজীদ আস্-সালাফী, তা.বি., ২২খ. পৃ. ৪৩২; (১৩) হাফিজ নূরুদ্দীন আলী ইব্ন আবী বাক্স আল-হারছামী, বুগয়াতুর-রাইদ ফী তাহকীকি মাজমাইয যাওয়াইদ, তাহকীক আবদুল্লাহ্ মুহাম্মاد আদ্-দারবীশ, বৈরূত ১৯৯৪ খৃ.; (১৪) হাফিজ আবূ মুহাম্মাদ যাকিয়্যুদ্দীন আল-মুনযিরী, আত্-তারগীবু ওয়াত-তারহীব, বৈরূত ১৯৯২ খৃ.; (১৫) ইব্ন হাজার আস্কালানী, ফাতহুল বারী; (১৬) আল্লামা কাসতাল্লানী, শারহয যুরকানী 'আলাল-মাওয়াহিব, বৈরূত ১৯৯৬ খৃ.; (১৭) মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আস্-সালিহী আশ্-শামী, সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, বৈরুত ১৯৯৩ খৃ.; (১৮) আবুশ-শায়খ, আখলাকুন্নাবী (س), রিয়াদ, ১৯৯৮ খৃ.; (১৯) শিবলী নু'মানী ও সায়্যিদ সুলায়মান নাদবী, সীরাতুন্নাবী (س), লাহোর ২০০০ খৃঃ; (২০) ইব্ন হিশাম, আস্-সীরাহ আন্-নাবাবিয়্যা, 'তাহকীক-মুস্তাফা আস্-সাক্কা, মিস্ত্র ১৯৩৬ খৃ.; (২১) ইবনুল জাওযী, আল-ওয়াফা বিআহ ওয়ালিল মুস্তাফা, তাহকীক-মুস্তাফা আবদুল কাদির আতা, বৈরূত ১৯৮৮ খৃ.; (২২) আবদুল্লাহ সিরাজুদ্দীন, সায়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, মাকতাবা দারুল ফালাহ, হালাব, আফয়ূন, ১৯৯০ খৃ.; (২৩) আল্লামা আলাউদ্দীন আলী আল- মুত্তাকী আলা-হিন্দী, কানযুল উম্মাল, বৈরত ১৯৮৯ পৃ.; (২৪) অবদুর রউফ দানাপুরী, আসাহহুস সিয়ার, দেওবন্দ তা. বি.; (২৫) আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ আল-মাওয়ারদী, আল্লামুন-নবুওয়াহ্, বৈরূত ১৯৯২ খৃ.; (২৬) কাদী মুহাম্মাদ সুলায়মান সালমান মানসূরপুরী, রাহমাতুল লিল আলামীন, দিল্লী ১৯৯৯ খৃ.; (২৭) আবূ ঈসা আত্-তিরমিযী, আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যা, মদীনা মুনাওয়ারা ২০০১ খৃ.: (২৮) ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, বৈরূত ১৯৮৫ খৃ.; (২৯) মুহাম্মাদ ইউসুফ কান্ধালবী, হায়াতুস্-সাহাবা, দিল্লী ১৯৯০ খৃ.; (৩০) মুহাম্মাদ ইবন সা'দ আয-যুহরী, আত্-তাবাকাতুল কুবরা, বৈরূত তা.বি.; (৩১) হাফিজ মিযী, তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল, বৈরূত ১৯৯৪ খৃ.; (৩২) আহমাদ শিহাবুদ্দীন আল-খাফাজী, নাসীমুর-রিয়াদ ফী শারহি শিনাইল কাদী 'ইয়াদ, বৈরূত তা.বি.; (৩৩) আবদুর রাযযাক আস্-সান'আনী, আল-মুসান্নাফ, তাহকীক-হাবীবুর রহমান আযমী, ইদারাতুল কুরআন ওয়াল-উলূম আল-ইসলামিয়্যা, করাচী ১৯৯৬ খৃ.; (৩৪) ইমাম বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান, তাহকীক-আবূ হাজির মুহাম্মদ আস্-সাঈদ, বৈরূত ১৯৯০ খৃ.; (৩৫) হাফিজ যাহাবী, আস্-সীরাহ আন্-নাবাবিয়্যা, তাহকীক-হুসামুদ্দীন আল-কুদসী, বৈরূত ১৯৮২ খৃ.; (৩৬) সায়িদ আবুল হাসান আলী নাদবী, আস্-সীরাহ আন্-নাবাবিয়্যাহ্, জেদ্দা, তা. বি।
নূর মুহাম্মদ