📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সাক্ষাতপ্রার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন

📄 সাক্ষাতপ্রার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন


ইমাম আহমাদ (র) ইব্‌ন উমার (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: একদা আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইলাম। তিনি আমার বসিবার জন্য একটি চামড়ার গদি প্রদান করিলেন যাহার ভিতর খেজুর গাছের আঁশ ভর্তি ছিল। কিন্তু আমি উহাতে বসিলাম না, কাজেই উহা আমার ও মহানবী (স)-এর মাঝখানে পড়িয়া রহিল (২খ., পৃ. ২২৮; ২/৯৬, নং ৫৬৭৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নেতৃস্থানীয় সাক্ষাতপ্রার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন

📄 নেতৃস্থানীয় সাক্ষাতপ্রার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন


হাকেম তাঁহার আল-মুসতাদরা কিতাবে হযরত জারীর ইব্‌ন 'আবদিল্লাহ (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) তিনি একদা নবী করীম (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর চতুষ্পার্শ্বে সাহাবায়ে কিরাম জড়ো হইয়া বসিয়াছিলেন। নবী করীম (স) স্বীয় চাদর মুবারক জারীরের প্রতি নিক্ষেপ করিলে তিনি শ্রদ্ধাভরে উহা স্বীয় গলা ও চেহারায় লাগাইলেন, চুম্বন করিলেন, কপালে রাখিলেন ও বলিলেন, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন যেইরূপ আপনি আমাকে সম্মানিত করিয়াছেন, অতঃপর চাদরটি রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিঠে রাখিয়া দিলেন। ইঁহার পর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসে বিশ্বাসী (মু'মিন) ব্যক্তির নিকট কোন সম্প্রদায়ের নেতা আসিলে তাঁহার সম্মান করা উচিত (আল-মুসতাদরাক, ৪খ., পৃ. ৩২৪; ১১৩/৭৭৯১)।
তাবারানী হযরত 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আব্বাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: 'উয়ায়না ইব্‌ন হিস্‌ন রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। তখন হযরত আবূ বক্স ও 'উমার (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে যমীনে উপবিষ্ট ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) একটি গদি আনিতে বলিলেন ও উহাতে তাঁহাকে বসাইলেন এবং বলিলেন: তোমাদিগের নিকট কোন সম্প্রদায়ের সম্মানিত লোক আসিলে তাহার সম্মান করিও (আল-মু'জামু'ল- কাবীর, ১৭খ., পৃ. ১৬০, ৪২২)।
আল-'আসকারী ও ইব্‌ন 'আসাকির হযরত 'আদী ইব্‌ন হাতিম (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে বসিবার জন্য একটি গদি দিলেন। কিন্তু হযরত 'আদী (রা) যমীনেই বসিলেন ও বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি পৃথিবীতে আধিপত্য ও ফাসাদ সৃষ্টি করিতে চাহেন না, কাজেই আমি ঈমান আনয়ন করিয়া মুসলমান হইলাম। অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজ আপনাকে তাহার সাথে এইরূপ ব্যবহার করিতে প্রত্যক্ষ করিয়াছি যাহা অন্য কাহারও সহিত করিতে দেখি নাই। তিনি বলিলেন: হাঁ, তিনি হইলেন নিজ সম্প্রদায়ের নেতা। তোমাদের নিকট কোন সম্প্রদায়ের নেতা আসিলে তোমরা তাঁহার সম্মান করিও (হায়াতুস- সাহাবা, ২খ., পৃ. ২৩৪)।
দুলাবী আবূ রাশেদ ইব্‌ন 'আবদির রহমান (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট নিজ সম্প্রদায়ের এক শত লোকসহ গমন করিলাম।
মদীনায় পৌঁছিয়া তাঁহার সাথে সাক্ষাতের পূর্বে আমরা এক স্থানে দাঁড়াইয়া পরামর্শ করিলাম। আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলিল, হে আবূ মু'আবিয়া! তুমি সর্বাগ্রে তাঁহার সহিত সাক্ষাত কর। তাঁহার মধ্যে পছন্দনীয় বিষয় পাইলে ফিরিয়া আসিবে, তখন আমরা সকলে যাইব। পক্ষান্তরে কোন অশোভনীয় বিষয় লক্ষ্য করিলে আমরা সকলেই ফিরিয়া চলিয়া যাইব। অতএব আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিলাম, অথচ আমি ছিলাম সম্প্রদায়ের সর্বকনিষ্ঠ।
আমি তাঁহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলাম, হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রভাত সুখকর হউক। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: ইহা মুসলমানদের অভিবাদন নহে। আমি বলিলাম, তাহা হইলে কিভাবে অভিবাদন করিব? তিনি বলিলেন: কোন মুসলমানের সহিত সাক্ষাত হইলে বলিবে : আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি তাঁহার শিক্ষা অনুযায়ী বলিলাম, আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি উত্তরে বলিলেন : ওয়া 'আলাইকাস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহ। অতঃপর আমাকে বলিলেন : তোমার নাম কি? আমি বলিলাম, আমি আবূ মু'আবিয়া আবদিল্লাহ ওয়াল-উয্যা। নবী কারীম (স) আমাকে বলিলেনঃ না, বরং তুমি আবূ রাশেদ আবদুর রহমান। অতঃপর তিনি আমার সহিত সম্মানজনক ব্যবহার করিলেন, তাঁহার পার্শ্বে বসাইলেন, তাঁহার চাদর পরিধান করাইলেন, তাঁহার লাঠি দান করিলেন। অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গীদের মধ্য হইতে কেহ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা লক্ষ্য করিয়াছি যে, আপনি তাহার সহিত খুবই সম্মানজনক ব্যবহার করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাদিগকে বলিলেন: তিনি হইলেন স্বীয় সম্প্রদায়ের নেতা। তোমাদিগের নিকট কোন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি আগমন করিলে তোমরা তাঁহার সহিত সম্মানজনক ব্যবহার করিও (আল-ইসাবা, ৪খ., পৃ. ২৭৮)।
ইবন 'আসাকির হযরত উম্মুল মু'মিনীন 'আইশা (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, একদা নবী কারীম (স) সাহাবীগণের সঙ্গে বসা ছিলেন। তাঁহার পার্শ্বে ছিলেন আবু বকর ও 'উমার (রা)। ইতোমধ্যে হযরত 'আব্বাস (রা) তাশরীফ আনিলেন। হযরত আবু বকর (রা) তাঁহার জন্য স্থান ফাঁকা করিয়া দিলে তিনি আবূ বকর ও রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাঝখানে উপবেশন করিলেন। অতঃপর নবী কারীম (স) হযরত আবূ বকর (রা)-এর প্রতি লক্ষ্য করিয়া বলিলেন: অভিজাত ব্যক্তিরাই কেবল অভিজাতদের মর্যাদা উপলব্ধি করিতে পারে। অতঃপর হযরত 'আব্বাস (রা) নবী কারীম (স)-এর প্রতি মুখ ফিরাইয়া কথা বলিতে লাগিলেন। নবী কারীম (স) তাঁহার সহিত খুবই মৃদু আওয়াজে কথা বলিতেছিলেন। এই দৃশ্য অবলোকন করিয়া হযরত আবু বকর হযরত 'উমার (রা)-কে বলিলেন, আমার মনে হইতেছে রাসূলুল্লাহ (স) কোন অসুস্থতা অনুভব করিতেছেন। অতঃপর হযরত 'আব্বাস তাঁহার দীর্ঘ আলোচনা সমাপ্ত করিয়া প্রত্যাবর্তন করিলে হযরত আবূ বকর নবী কারীম (স)-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ!

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 লাব্বায়ক (উপস্থিত) বলিয়া ডাকে সাড়া দেওয়া

📄 লাব্বায়ক (উপস্থিত) বলিয়া ডাকে সাড়া দেওয়া


তখন কি আপনি কোনরূপ অসুস্থতা বোধ করিতেছিলেন? তিনি বলিলেন, না। হযরত আবূ বকর বলিলেন, আমি আপনাকে অত্যন্ত ক্ষীণ আওয়াজে কথা বলিতে লক্ষ্য করিয়াছি। তিনি বলিলেন, হযরত জিবরাঈল (আ) আমাকে নির্দেশ দিয়াছেন, হযরত 'আব্বাস আসিলে তাঁহার সামনে আওয়াজকে হালকা করিবার জন্য যেইভাবে তোমাদিগকে আমার সামনে নীচ করিবার হুকুম করা হইয়াছে (হায়াতুস-সাহাবা, ২খ., পৃ. ৩৩৫)।
লাব্বায়ক (উপস্থিত) বলিয়া ডাকে সাড়া দেওয়া
আবূ নু'আয়ম হযরত আইশা (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স)-এর চেয়ে অধিক উন্নত চরিত্রের অধিকারী আর কেহই ছিল না। তাঁহাকে কোন সাহাবী কিংবা তাঁহার পরিবারস্থ কেহ ডাকিলে তিনি 'লাব্বায়ক (আমি হাজির) বলিয়া সাড়া দিতেন। এইজন্যই আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করিয়াছেন:
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ . "তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত" (৬৮: ৪; আদ-দুররুল-মানছুর, ৬খ., পৃ. ২৫০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অনুমতি গ্রহণ করা: অনুমতির অপেক্ষায় ঘরের দিকে মুখ করিয়া না দাঁড়ানো

📄 অনুমতি গ্রহণ করা: অনুমতির অপেক্ষায় ঘরের দিকে মুখ করিয়া না দাঁড়ানো


অনুমতি গ্রহণ করা: অনুমতির অপেক্ষায় ঘরের দিকে মুখ করিয়া না দাঁড়ানো
ইমাম আহমাদ হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন বুস্ত্র আল-মাযিনী (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কাহারও বাড়ীতে তাশরীফ নিলে অনুমতির জন্য দরজা বরাবর ভিতর দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইতেন না বরং দরজার ডান কিংবা বাম পার্শ্বে সরিয়া অপেক্ষা করিতেন ও আস্সালামু আলাইকুম বলিতেন। তিনি অনুমতি পাইলে প্রবেশ করিতেন, অন্যথায় ফিরিয়া যাইতেন। তদানীন্তন সময়ে বাড়ীর দরজায় সাধারণত পর্দার ব্যবস্থা থাকিত না (আহমাদ, ৫খ., পৃ. ২০৯; ৪/১৯০, নং ১৭২৪১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00