📄 মুসাফাহা করার পর হাত আগে পৃথক না করা
ইবন 'আদী মুহাম্মাদ ইবন সালামা (র)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: একদা আমি সফর হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিলাম। তিনি আমার
হাত ধরিয়া মুসাফাহা করিলেন। অতঃপর আমি হাত সরানোর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ধরিয়াই রাখিলেন (সুবুলুল-হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৯খ., পৃ. ৩৯৯)।
আবূ দাউদ হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: আমি যাহাদিগকে দেখিয়াছি রাসূলুল্লাহ (স)-এর কানের নিকট মুখ নিয়া কথা বলিয়াছে, তাহাদের কাহারও ক্ষেত্রে এইরূপ দেখি নাই যে, কথাশেষে রাসূলুল্লাহ (স) নিজে আগে কান সরাইয়াছেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি মুখ ঘুরাইয়াছে। এমনিভাবে তাঁহার সাথে মুসাফাহা করিলে তিনি কখনও আগে হাত সরাইতেন না যতক্ষণ না সেই লোক সরাইত (১৩ খ., পৃ. ১০৩, নং ৪৭৮৩)।
ইমাম আবূ দাউদ হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে আরও উল্লেখ করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কাহারও সঙ্গে মুsaফাহা করিলে সেই ব্যক্তির হাত সরানোর আগ পর্যন্ত তিনি হাত ধরিয়া রাখিতেন। এমনিভাবে তাঁহার চেহারা মোবারকও ঘুরাইতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি ঘুরাইত (১৩ খ., পৃ. ১০৩, নং ৪৭৮৩)।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও অভ্যর্থনা জানাইয়া মুসাফাহা করিলে স্বীয় হস্তদ্বয় আগে সরাইতেন না যতক্ষণ না সেই লোক নিজ হস্তদ্বয় সরাইত। তিনি সেই লোকের চেহারা হইতে আপন চেহারাও ফিরাইতেন না যতক্ষণ না সে নিজ চেহারা ফিরাইত এবং কখনও নিকটে উপবেশনকারীর দিকে তাঁহার পদদ্বয় প্রসারিত করিতেও দেখা যায় নাই (সুবুলুল-হুদা, ৯খ., পৃ. ৪০০)।
📄 সার্বিক খোঁজ-খবর নেওয়া
আবুশ-শায়খ হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও কোন সাহাবীকে তিন দিন পর্যন্ত না দেখিলে তাঁহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতেন। যদি জানা যাইত যে, সেই সাহাবী মদীনার বাহিরে কোথাও গমন করিয়াছেন তাহা হইলে তাঁহার জন্য দু'আ করিতেন। তিনি বাড়ীতেই অবস্থান করিতেছেন বলিয়া জানিতে পারিলে তাঁহার সাক্ষাতে যাইতেন। আর অসুস্থ হইলে তাহাকে দেখিতে যাইতেন (আখলাকুন-নবী ওয়া আদাবুহু, ১খ., পৃ. ৪৪৬, নং ১৬৫)।
📄 আধা পাগল মহিলাকেও সাক্ষাত দান
ইমাম মুসলিম হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, একদা এক আধা পাগল মহিলা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হাজির হইয়া বলিল, আপনার সাথে আমার কথা আছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: ঠিক আছে, মদীনার যেই গলিতে ইচ্ছা বস, আমি তোমার কথা শুনিব। অতঃপর সে কোন একটি পথে বসিলে তিনি তাহার কথা শুনিলেন ও তাহার প্রয়োজন পূরণ করিলেন (মহিলাটি আধাপাগল ছিল বিধায় তিনি তাহাকে রাস্তায় বসার কথা বলিয়াছিলেন)।
📄 সাক্ষাতপ্রার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন
ইমাম আহমাদ (র) ইব্ন উমার (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: একদা আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইলাম। তিনি আমার বসিবার জন্য একটি চামড়ার গদি প্রদান করিলেন যাহার ভিতর খেজুর গাছের আঁশ ভর্তি ছিল। কিন্তু আমি উহাতে বসিলাম না, কাজেই উহা আমার ও মহানবী (স)-এর মাঝখানে পড়িয়া রহিল (২খ., পৃ. ২২৮; ২/৯৬, নং ৫৬৭৭)।