📄 মু'আনাকা ও চুম্বন
আমার সাথে মুসাফাহা করেন নাই। একদিন তিনি আমার নিকট লোক পাঠাইলেন। আমি বাড়ীতে ছিলাম না। আস্যর পর খবর জানিতে পারিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌছিলাম। তিনি খাটিয়ার উপর বসা ছিলেন। তিনি আমাকে দেখিয়া জড়াইয়া ধরিলেন (মু'আনাকা করিলেন), সেই ভালোবাসার পরশ আমার জন্য তাবৎ বন্ধুকুলের তুলনায় উত্তম ছিল (৬খ., পৃ. ২১১, নং ২০৯৬৫)।
ইমাম বুখারী হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, একদা নবী কারীম (স) হযরত হাসান (রা)-কে চুম্বন করিলেন। সেখানে আল-আকরা ইব্ন হাবিস আত-তামীমী উপবিষ্ট ছিলেন। আকরা বলিলেন, আমার ১০টি সন্তান রহিয়াছে অথচ আমি একটিকেও চুম্বন করি নাই। ইহা শ্রবণ করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার প্রতি তাকাইলেন ও বলিলেন: যে দয়া করে না সে দয়া পায় না (ইরশাদুস-সারী শরহু সহীহ বুখারী, ১৩খ., পৃ. ২৯, নং ৫৯৯৭)।
ইমাম বুখারী হযরত 'আইশা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: একদা কতক বেদুঈন নবী কারীম (স)-এর নিকট আগমন পূর্বক জিজ্ঞাসা করিল, আপনারা কি বাচ্চাদেরকে চুম্বন করিয়া থাকেন? উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম জবাব দিলেন, হাঁ, করিয়া থাকি। তাহারা বলিল, আল্লাহ্র কসম! আমরা তো চুম্বন করি না। ইহা শুনিয়া নবী কারীম (স) বলিলেন: আল্লাহ তা'আলা যদি তোমাদের অন্তর হইতে দয়ামায়া বাহির করিয়া নেন তাহা হইলে আমি তো উহা তোমাদের অন্তরে সৃষ্টি করিতে পারিষ না (১০খ., পৃ. ৪৪০-৪৪, নং ৫৯৯৮)।
ইবন সা'দ হযরত শা'বী (র)-এর বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) খায়বার হইতে প্রত্যাবর্তন করার পর হযরত জা'ফার ইব্ন আবী তালিব মাদীনায় আগমন করিয়া তাহার সহিত সাক্ষাত করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে জড়াইয়া ধরিয়া মু'আনাকা করিয়া তাঁহার ললাটে চুম্বন করিলেন ও বলিলেন: কোনটার আনন্দ উপভোগ করিব, জা'ফারের আগমনের, না খায়বার বিজয়ের (আত-তাবাকাতুল-কুবরা, ৪খ., পৃ. ৩৩৬)।
ইবন হাজার ইমাম তিরমিযী (র)-এর বরাতে উল্লেখ করিয়াছেন, হযরত আইশা (রা) বলেন, হযরত যায়দ ইব্ন হারিছা মদীনায় আগমন পূর্বক রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাড়িতে আসিয়া দরজায় আওয়াজ করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) আমার ঘরে অবস্থান করিতেছিলেন। আমি লক্ষ্য করিলাম, তিনি খালি গায়েই তাঁহার উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়িলেন, তাঁহার কাপড় মাটিতে হেঁচড়াইতেছিল। অতঃপর মু'আনাকা করিয়া তাঁহাকে চুম্বন করিলেন। সেই দিন ব্যতীত আর কখনও তাঁহাকে খালি গায়ে বাহির হইতে দেখা যায় নাই (আল-ইসাবা, ২খ., পৃ. ৪৯, নং ২৮৯৭১)।
📄 মুসাফাহা করার পর হাত আগে পৃথক না করা
ইবন 'আদী মুহাম্মাদ ইবন সালামা (র)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: একদা আমি সফর হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাত করিলাম। তিনি আমার
হাত ধরিয়া মুসাফাহা করিলেন। অতঃপর আমি হাত সরানোর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ধরিয়াই রাখিলেন (সুবুলুল-হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৯খ., পৃ. ৩৯৯)।
আবূ দাউদ হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন: আমি যাহাদিগকে দেখিয়াছি রাসূলুল্লাহ (স)-এর কানের নিকট মুখ নিয়া কথা বলিয়াছে, তাহাদের কাহারও ক্ষেত্রে এইরূপ দেখি নাই যে, কথাশেষে রাসূলুল্লাহ (স) নিজে আগে কান সরাইয়াছেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি মুখ ঘুরাইয়াছে। এমনিভাবে তাঁহার সাথে মুসাফাহা করিলে তিনি কখনও আগে হাত সরাইতেন না যতক্ষণ না সেই লোক সরাইত (১৩ খ., পৃ. ১০৩, নং ৪৭৮৩)।
ইমাম আবূ দাউদ হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে আরও উল্লেখ করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কাহারও সঙ্গে মুsaফাহা করিলে সেই ব্যক্তির হাত সরানোর আগ পর্যন্ত তিনি হাত ধরিয়া রাখিতেন। এমনিভাবে তাঁহার চেহারা মোবারকও ঘুরাইতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি ঘুরাইত (১৩ খ., পৃ. ১০৩, নং ৪৭৮৩)।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কাহাকেও অভ্যর্থনা জানাইয়া মুসাফাহা করিলে স্বীয় হস্তদ্বয় আগে সরাইতেন না যতক্ষণ না সেই লোক নিজ হস্তদ্বয় সরাইত। তিনি সেই লোকের চেহারা হইতে আপন চেহারাও ফিরাইতেন না যতক্ষণ না সে নিজ চেহারা ফিরাইত এবং কখনও নিকটে উপবেশনকারীর দিকে তাঁহার পদদ্বয় প্রসারিত করিতেও দেখা যায় নাই (সুবুলুল-হুদা, ৯খ., পৃ. ৪০০)।
📄 সার্বিক খোঁজ-খবর নেওয়া
আবুশ-শায়খ হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও কোন সাহাবীকে তিন দিন পর্যন্ত না দেখিলে তাঁহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতেন। যদি জানা যাইত যে, সেই সাহাবী মদীনার বাহিরে কোথাও গমন করিয়াছেন তাহা হইলে তাঁহার জন্য দু'আ করিতেন। তিনি বাড়ীতেই অবস্থান করিতেছেন বলিয়া জানিতে পারিলে তাঁহার সাক্ষাতে যাইতেন। আর অসুস্থ হইলে তাহাকে দেখিতে যাইতেন (আখলাকুন-নবী ওয়া আদাবুহু, ১খ., পৃ. ৪৪৬, নং ১৬৫)।
📄 আধা পাগল মহিলাকেও সাক্ষাত দান
ইমাম মুসলিম হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, একদা এক আধা পাগল মহিলা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হাজির হইয়া বলিল, আপনার সাথে আমার কথা আছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: ঠিক আছে, মদীনার যেই গলিতে ইচ্ছা বস, আমি তোমার কথা শুনিব। অতঃপর সে কোন একটি পথে বসিলে তিনি তাহার কথা শুনিলেন ও তাহার প্রয়োজন পূরণ করিলেন (মহিলাটি আধাপাগল ছিল বিধায় তিনি তাহাকে রাস্তায় বসার কথা বলিয়াছিলেন)।