📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাতের ইশারায় সালাম

📄 হাতের ইশারায় সালাম


ইমাম বুখারী তাঁহার আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে হযরত আসমা (রা)-এর বরাতে উল্লেখ করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদের নিকট দিয়া অতিক্রম করিতেছিলেন। মসজিদে একদল মহিলাকে উপবিষ্ট দেখিতে পাইয়া তিনি ডান হাতের ইশারায় তাহাদেরকে সালাম জানাইলেন (আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ৪৫৯, নং ১০৪৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঘুমন্ত ব্যক্তির নিকট অবস্থানরত জাগ্রত ব্যক্তিকে সালাম

📄 ঘুমন্ত ব্যক্তির নিকট অবস্থানরত জাগ্রত ব্যক্তিকে সালাম


ইমাম মুসলিম হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও রাত্রি বেলায় বাসায় আসিয়া এইভাবে সালাম করিতেন যাহাতে ঘুমন্তরা জাগিয়া না যায় অথচ জাগ্রতরা সালামের শব্দ শুনিতে পায় (ফাতহুল-বারী, ১১খ., পৃ. ২০, ৬২৩৫ নং হাদীছের টীকা)।

ইমাম মুসলিম হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও রাত্রি বেলায় বাসায় আসিয়া এইভাবে সালাম করিতেন যাহাতে ঘুমন্তরা জাগিয়া না যায় অথচ জাগ্রতরা সালামের শব্দ শুনিতে পায় (ফাতহুল-বারী, ১১খ., পৃ. ২০, ৬২৩৫ নং হাদীছের টীকা)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সালামের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি

📄 সালামের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি


ইবন কাছীর ইন জারীরের বরাতে হযরত সালমান ফারসী (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি প্রিয়নবী (স)-এর খিদমতে আগমন পূর্বক বলিল, আস্সালামু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রিয়নবী (স) উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। অতঃপর আরেক ব্যক্তি আগমন করিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ! তিনি উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলারকাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। অতঃপর তৃতীয় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু! নবী কারীম (স) ইহার উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কা। এই উত্তর শ্রবণ করিয়া আগন্তুক বলিল, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হউক, ইয়া রাসূলাল্লাহ। অযুক ব্যক্তিকে আপনি আমার চাইতে অধিক জবাব প্রদান করিয়াছেন, অথচ আমাকে রাসূলুল্লাহ (স)
বলিলেনঃ তুমি তো আমার জন্য কোন কিছু বাকী রাখ নাই (কাজেই তুমি যেইভাবে পূর্ণ সালাম দিয়াছ আমিও ওয়া 'আলায়কা-এর মাধ্যমে পূর্ণ উত্তরই দিয়াছি)। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَاِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِاَحْسَنَ مِنْهَا اَوْ رُدُّوهَا . "তোমাদিগকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও উহা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করিবে অথবা উহারই অনুরূপ করিবে” (৪৪৮৬)।
যেহেতু তোমার চাইতে উত্তম অভিবাদন হইতে পারে না, কাজেই আমি উহাই পেশ করিলাম (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম, ১খ., পৃ. ৫০৩-৪)।
তাবারানী তাঁহার আল-আওসাত কিতাবে হযরত 'আইশা (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) একবার আমাকে বলিলেন: হে 'আইশা! এই যে হযরত জিবরাঈল (আ) তাশরীফ আনিয়াছেন। তিনি তোমাকে সালাম বলিতেছেন। আমি বলিলাম, ওয়া আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। এতটুকু বলার পর আমি আরও বাড়াইতে চাহিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: এইখানেই সালাম সমাপ্ত হইয়া গিয়াছে। হযরত 'আইশা (রা)-এর জবাব শ্রবণ করিয়া হযরত জিবরাঈল (আ) বলিলেনঃ হে নবী পরিবার! তোমাদিগের উপর আল্লাহ্র রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হউক (হায়াতুস-সাহাবা, ২খ., পৃ. ২৭২)।

ইবন কাছীর ইন জারীরের বরাতে হযরত সালমান ফারসী (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি প্রিয়নবী (স)-এর খিদমতে আগমন পূর্বক বলিল, আস্সালামু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রিয়নবী (স) উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। অতঃপর আরেক ব্যক্তি আগমন করিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ! তিনি উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলারকাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। অতঃপর তৃতীয় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু! নবী কারীম (স) ইহার উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কা। এই উত্তর শ্রবণ করিয়া আগন্তুক বলিল, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হউক, ইয়া রাসূলাল্লাহ। অযুক ব্যক্তিকে আপনি আমার চাইতে অধিক জবাব প্রদান করিয়াছেন, অথচ আমাকে রাসূলুল্লাহ (স)
বলিলেনঃ তুমি তো আমার জন্য কোন কিছু বাকী রাখ নাই (কাজেই তুমি যেইভাবে পূর্ণ সালাম দিয়াছ আমিও ওয়া 'আলায়কা-এর মাধ্যমে পূর্ণ উত্তরই দিয়াছি)। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَاِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِاَحْسَنَ مِنْهَا اَوْ رُدُّوهَا . "তোমাদিগকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও উহা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করিবে অথবা উহারই অনুরূপ করিবে” (৪৪৮৬)।
যেহেতু তোমার চাইতে উত্তম অভিবাদন হইতে পারে না, কাজেই আমি উহাই পেশ করিলাম (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম, ১খ., পৃ. ৫০৩-৪)।
তাবারানী তাঁহার আল-আওসাত কিতাবে হযরত 'আইশা (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) একবার আমাকে বলিলেন: হে 'আইশা! এই যে হযরত জিবরাঈল (আ) তাশরীফ আনিয়াছেন। তিনি তোমাকে সালাম বলিতেছেন। আমি বলিলাম, ওয়া আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। এতটুকু বলার পর আমি আরও বাড়াইতে চাহিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: এইখানেই সালাম সমাপ্ত হইয়া গিয়াছে। হযরত 'আইশা (রা)-এর জবাব শ্রবণ করিয়া হযরত জিবরাঈল (আ) বলিলেনঃ হে নবী পরিবার! তোমাদিগের উপর আল্লাহ্র রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হউক (হায়াতুস-সাহাবা, ২খ., পৃ. ২৭২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পাপাচারের কারণে সালামের উত্তর না দেওয়া

📄 পাপাচারের কারণে সালামের উত্তর না দেওয়া


ইমাম আবু দাউদ হযরত 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আমর (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, লাল রং-এর এক জোড়া চাদর পরিহিত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট দিয়া অতিক্রমকালে তাঁহাকে সালাম করিল, কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না ('আওনুল-মা'বুদ শরহু আবী দাউদ, ১১খ., পৃ. ৮১, নং ৪০৬৩)।
ইমাম আহমাদ হযরত 'আম্মার ইবন ইয়াসির (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: একবার আমার উভয় হাত ফাটিয়া গিয়াছিল। রাত্রে বাড়ী যাওয়ার পর পরিবারের লোকেরা আমার হাতে যাফরান লেপিয়া দিল। সকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইয়া আমি তাঁহাকে সালাম করিলে তিনি কোন উত্তর দেন নাই ও কোনরূপ অভিবাদনও জানান নাই, বরং বলিলেনঃ হাতের রং ধৌত করিয়া আস। আমি ধৌত করিয়া আসিয়া পুনর্বার সালাম করিলে তিনি উত্তরও দিলেন, অভিবাদনও জানাইলেন এবং বলিলেনঃ ফেরেশতাগণ কাফিরের জানাযা, যাফরানের রং যুক্ত ব্যক্তি ও নাপাক লোকের নিকট উপস্থিত হন না (৫খ., পৃ. ৪১৮;
ইমাম বুখারী আল-আদাবুল মুফরাদে হযরত আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: বাহরায়নের এক আগন্তুক রাসূলুল্লাহ (স)-কে সালাম করিলে তিনি উত্তর প্রদান করেন নাই। কেননা তাহার হাতের আঙ্গুলে স্বর্ণের আংটি ও গায়ে রেশমী জুব্বা ছিল। লোকটি চিন্তিতাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করিয়া স্বীয় স্ত্রীকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করিল। স্ত্রী ব্যাপারটি আঁচ করিতে পারিয়া স্বামীকে বলিল, তোমার আংটি ও জুব্বা দেখিয়া তিনি এইরূপ করিয়াছেন। তুমি এইগুলি ফেলিয়া পুনর্বার যাও। লোকটি তাহাই করিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহার সালামের উত্তর দিয়া বলিলেন, তুমি প্রথমবার আসিয়া সালাম করিলে আমি এইজন্য মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিলাম, যেহেতু তোমার হাতে জাহান্নামের একটি আংটি ছিল (পৃ. ৪৫০, নং ১০১২)।

ইমাম আবু দাউদ হযরত 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আমর (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, লাল রং-এর এক জোড়া চাদর পরিহিত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট দিয়া অতিক্রমকালে তাঁহাকে সালাম করিল, কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না ('আওনুল-মা'বুদ শরহু আবী দাউদ, ১১খ., পৃ. ৮১, নং ৪০৬৩)।
ইমাম আহমাদ হযরত 'আম্মার ইবন ইয়াসির (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: একবার আমার উভয় হাত ফাটিয়া গিয়াছিল। রাত্রে বাড়ী যাওয়ার পর পরিবারের লোকেরা আমার হাতে যাফরান লেপিয়া দিল। সকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইয়া আমি তাঁহাকে সালাম করিলে তিনি কোন উত্তর দেন নাই ও কোনরূপ অভিবাদনও জানান নাই, বরং বলিলেনঃ হাতের রং ধৌত করিয়া আস। আমি ধৌত করিয়া আসিয়া পুনর্বার সালাম করিলে তিনি উত্তরও দিলেন, অভিবাদনও জানাইলেন এবং বলিলেনঃ ফেরেশতাগণ কাফিরের জানাযা, যাফরানের রং যুক্ত ব্যক্তি ও নাপাক লোকের নিকট উপস্থিত হন না (৫খ., পৃ. ৪১৮;
ইমাম বুখারী আল-আদাবুল মুফরাদে হযরত আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: বাহরায়নের এক আগন্তুক রাসূলুল্লাহ (স)-কে সালাম করিলে তিনি উত্তর প্রদান করেন নাই। কেননা তাহার হাতের আঙ্গুলে স্বর্ণের আংটি ও গায়ে রেশমী জুব্বা ছিল। লোকটি চিন্তিতাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করিয়া স্বীয় স্ত্রীকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করিল। স্ত্রী ব্যাপারটি আঁচ করিতে পারিয়া স্বামীকে বলিল, তোমার আংটি ও জুব্বা দেখিয়া তিনি এইরূপ করিয়াছেন। তুমি এইগুলি ফেলিয়া পুনর্বার যাও। লোকটি তাহাই করিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহার সালামের উত্তর দিয়া বলিলেন, তুমি প্রথমবার আসিয়া সালাম করিলে আমি এইজন্য মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিলাম, যেহেতু তোমার হাতে জাহান্নামের একটি আংটি ছিল (পৃ. ৪৫০, নং ১০১২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00