📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সালাম বিনিময়

📄 সালাম বিনিময়


ইমাম বুখারী হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও কখনও শ্রোতাদের বুঝার সুবিধার্থে তিনবার সালাম দিতেন। এমনিভাবে বুঝিবার সুবিধার্থে কখনও একটি কথাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করিতেন (সহীহ বুখারী, ফাতহু'ল-বারীর শরাহসহ, ১১খ, পৃ. ২৮, নং ৬২৪৪)।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি একদা কয়েকজন কিশোরের নিকট দিয়া অতিক্রমকালে তাহাদিগকে সালাম করিলেন ও বলিলেন: রাসূলুল্লাহ (স) এইরূপ করিতেন (বুখারী, ফাতহুল-বারীসহ, ১১খ, পৃ. ৩৪, নং ৬২৪৭; মুসলিম, ইকমালসহ, ৭খ., পৃ. ৩৩৩, নং ২১৬৮)।
আবূ দাউদ হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) একবার কিছু ক্রীড়ারত বালকের নিকট আসিয়া তাহাদিগকে সালাম করিলেন। অন্য রিওয়ায়াতে তিনি আরও বলিয়াছেন, একদা আমি কয়েকজন বালকের সঙ্গে কোন স্থানে ছিলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের নিকট তাশরীফ আনিয়া আমাদিগকে সালাম করিলেন এবং আমার হাতে একটি চিঠি দিয়া এক ব্যক্তির নিকট পৌছাইতে বলিলেন। অতঃপর তিনি একটি দেয়ালে
বসিয়া রহিলেন। আমি চিঠি পৌছাইয়া প্রত্যাবর্তন করা পর্যন্ত তিনি সেখানে বসিয়া রহিলেন। ('আওনুল-মা'বূদ শরহু আবী দাউদ, ১৪খ., পৃ. ৭৪, নং ৫১৯১-২)।
ইবন মাজা হযরত আসমা বিন্ত ইয়াযীদের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, একদা আমরা কিছু মহিলার নিকট দিয়া অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে সালাম করিলেন (আস-সুনান লি-ইব্‌ন মাজা, ২খ., পৃ. ১২২০, নং ৩৭০১)।
আবূ দাউদ হযরত আসমা বিন্ত ইয়াযীদ আল-আনসারিয়‍্যা (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন, তিনি বলেন: একদা আমি কয়েকজন বান্ধবীসহ কোন স্থানে ছিলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (স) সেই স্থান দিয়া অতিক্রমকালে আমাদিগকে সালাম করিলেন ('আওনুল- মা'বৃদ শরহু আবী দাউد, ১৪খ., পৃ. ৭৪, নং ৫১৯৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাতের ইশারায় সালাম

📄 হাতের ইশারায় সালাম


ইমাম বুখারী তাঁহার আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে হযরত আসমা (রা)-এর বরাতে উল্লেখ করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদের নিকট দিয়া অতিক্রম করিতেছিলেন। মসজিদে একদল মহিলাকে উপবিষ্ট দেখিতে পাইয়া তিনি ডান হাতের ইশারায় তাহাদেরকে সালাম জানাইলেন (আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ৪৫৯, নং ১০৪৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঘুমন্ত ব্যক্তির নিকট অবস্থানরত জাগ্রত ব্যক্তিকে সালাম

📄 ঘুমন্ত ব্যক্তির নিকট অবস্থানরত জাগ্রত ব্যক্তিকে সালাম


ইমাম মুসলিম হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও রাত্রি বেলায় বাসায় আসিয়া এইভাবে সালাম করিতেন যাহাতে ঘুমন্তরা জাগিয়া না যায় অথচ জাগ্রতরা সালামের শব্দ শুনিতে পায় (ফাতহুল-বারী, ১১খ., পৃ. ২০, ৬২৩৫ নং হাদীছের টীকা)।

ইমাম মুসলিম হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও রাত্রি বেলায় বাসায় আসিয়া এইভাবে সালাম করিতেন যাহাতে ঘুমন্তরা জাগিয়া না যায় অথচ জাগ্রতরা সালামের শব্দ শুনিতে পায় (ফাতহুল-বারী, ১১খ., পৃ. ২০, ৬২৩৫ নং হাদীছের টীকা)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সালামের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি

📄 সালামের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি


ইবন কাছীর ইন জারীরের বরাতে হযরত সালমান ফারসী (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি প্রিয়নবী (স)-এর খিদমতে আগমন পূর্বক বলিল, আস্সালামু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রিয়নবী (স) উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। অতঃপর আরেক ব্যক্তি আগমন করিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ! তিনি উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলারকাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। অতঃপর তৃতীয় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু! নবী কারীম (স) ইহার উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কা। এই উত্তর শ্রবণ করিয়া আগন্তুক বলিল, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হউক, ইয়া রাসূলাল্লাহ। অযুক ব্যক্তিকে আপনি আমার চাইতে অধিক জবাব প্রদান করিয়াছেন, অথচ আমাকে রাসূলুল্লাহ (স)
বলিলেনঃ তুমি তো আমার জন্য কোন কিছু বাকী রাখ নাই (কাজেই তুমি যেইভাবে পূর্ণ সালাম দিয়াছ আমিও ওয়া 'আলায়কা-এর মাধ্যমে পূর্ণ উত্তরই দিয়াছি)। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَاِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِاَحْسَنَ مِنْهَا اَوْ رُدُّوهَا . "তোমাদিগকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও উহা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করিবে অথবা উহারই অনুরূপ করিবে” (৪৪৮৬)।
যেহেতু তোমার চাইতে উত্তম অভিবাদন হইতে পারে না, কাজেই আমি উহাই পেশ করিলাম (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম, ১খ., পৃ. ৫০৩-৪)।
তাবারানী তাঁহার আল-আওসাত কিতাবে হযরত 'আইশা (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) একবার আমাকে বলিলেন: হে 'আইশা! এই যে হযরত জিবরাঈল (আ) তাশরীফ আনিয়াছেন। তিনি তোমাকে সালাম বলিতেছেন। আমি বলিলাম, ওয়া আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। এতটুকু বলার পর আমি আরও বাড়াইতে চাহিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: এইখানেই সালাম সমাপ্ত হইয়া গিয়াছে। হযরত 'আইশা (রা)-এর জবাব শ্রবণ করিয়া হযরত জিবরাঈল (আ) বলিলেনঃ হে নবী পরিবার! তোমাদিগের উপর আল্লাহ্র রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হউক (হায়াতুস-সাহাবা, ২খ., পৃ. ২৭২)।

ইবন কাছীর ইন জারীরের বরাতে হযরত সালমান ফারসী (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি প্রিয়নবী (স)-এর খিদমতে আগমন পূর্বক বলিল, আস্সালামু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রিয়নবী (স) উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। অতঃপর আরেক ব্যক্তি আগমন করিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ! তিনি উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলারকাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। অতঃপর তৃতীয় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আস্সালামু 'আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু! নবী কারীম (স) ইহার উত্তরে বলিলেন: ওয়া 'আলায়কা। এই উত্তর শ্রবণ করিয়া আগন্তুক বলিল, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হউক, ইয়া রাসূলাল্লাহ। অযুক ব্যক্তিকে আপনি আমার চাইতে অধিক জবাব প্রদান করিয়াছেন, অথচ আমাকে রাসূলুল্লাহ (স)
বলিলেনঃ তুমি তো আমার জন্য কোন কিছু বাকী রাখ নাই (কাজেই তুমি যেইভাবে পূর্ণ সালাম দিয়াছ আমিও ওয়া 'আলায়কা-এর মাধ্যমে পূর্ণ উত্তরই দিয়াছি)। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَاِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِاَحْسَنَ مِنْهَا اَوْ رُدُّوهَا . "তোমাদিগকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও উহা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করিবে অথবা উহারই অনুরূপ করিবে” (৪৪৮৬)।
যেহেতু তোমার চাইতে উত্তম অভিবাদন হইতে পারে না, কাজেই আমি উহাই পেশ করিলাম (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম, ১খ., পৃ. ৫০৩-৪)।
তাবারানী তাঁহার আল-আওসাত কিতাবে হযরত 'আইশা (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) একবার আমাকে বলিলেন: হে 'আইশা! এই যে হযরত জিবরাঈল (আ) তাশরীফ আনিয়াছেন। তিনি তোমাকে সালাম বলিতেছেন। আমি বলিলাম, ওয়া আলায়কাস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। এতটুকু বলার পর আমি আরও বাড়াইতে চাহিলে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: এইখানেই সালাম সমাপ্ত হইয়া গিয়াছে। হযরত 'আইশা (রা)-এর জবাব শ্রবণ করিয়া হযরত জিবরাঈল (আ) বলিলেনঃ হে নবী পরিবার! তোমাদিগের উপর আল্লাহ্র রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হউক (হায়াতুস-সাহাবা, ২খ., পৃ. ২৭২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00