📄 লক্ষণীয় বিষয়
প্রথমত, ইবনুল-ফারিস হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করেন, তাওরাত শরীফে রাসূলুল্লাহ (স)-এর একটি নাম ছিল : احمد الضحوك (আহমাদু আদ'-দাহু'ক)। তাঁহার নামকরণ الضحوك )আদ-দাহুক, হাস্যোজ্জ্বল) এইজন্য
করা হইয়াছিল যে, তিনি সহাস্য বদন ও সর্বোত্তম ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন। আরবের রূঢ় ও গোঁয়ার প্রকৃতির বেদুঈন যতবারই তাঁহার নিকট আগমন করিয়াছে কেহই তাঁহাকে বিরক্তিপূর্ণ, বদমেযাজী ও রুক্ষ আচরণ করিতে দেখে নাই; বরং সকলেই তাঁহাকে আলাপচারিতায় খুবই বিনম্র ও ব্যবহারে অত্যন্ত সদয় পাইয়াছে।
দ্বিতীয়ত, আবুল হাসান ইব্ন দাহ্হাক বলেন, হাদীছসমূহের দ্বারা স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হইয়াছে যে, নবী কারীম (স) হাসিয়াছেন, এমনকি হাসার সময় মাঝে মাঝে তাঁহার নাওয়াজিয (পেষণদন্ত) পর্যন্ত প্রকাশ পাইয়াছিল। পক্ষান্তরে ইহাও প্রমাণিত হইয়াছে যে, তাঁহার হাসি মুচকির সীমা অতিক্রম করিত না। অবশ্য তিনি অধিকাংশ সময়ই মুচকি হাসিতেন; ইহার অধিক কদাচিৎ হাসিতেন। যাহারা কদাচিতের সেই হাসি প্রত্যক্ষ করেন নাই তাহারা ভাবিয়াছেন যে, তিনি মুচকির অধিক হাসিতেন না। পক্ষান্তরে যাহারা কদাচিতের হাসি লক্ষ্য করিয়াছেন তাঁহারা ইহাকে সকল সময়ের অবস্থা বর্ণনা করেন নাই, বরং কদাচিৎ এইরূপ হাসিয়াছেন ইহাই বুঝানো উদ্দেশ্য।
তৃতীয়ত, আবুল-হাসান ইব্ন দাহ্হাক হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখে হাসি আসিলে তিনি মুখে হাত রাখিয়া দিতেন এবং বলিতেন: আমি হযরত জিবরাঈল (আ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যেই দিন জাহান্নাম সৃষ্টি হইয়াছে সেই দিন হইতে আমি কখনও হাসি নাই (সুবুলুল-হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৭খ., পৃ. ১২৪)।
📄 সালাম বিনিময়
ইমাম বুখারী হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও কখনও শ্রোতাদের বুঝার সুবিধার্থে তিনবার সালাম দিতেন। এমনিভাবে বুঝিবার সুবিধার্থে কখনও একটি কথাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করিতেন (সহীহ বুখারী, ফাতহু'ল-বারীর শরাহসহ, ১১খ, পৃ. ২৮, নং ৬২৪৪)।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি একদা কয়েকজন কিশোরের নিকট দিয়া অতিক্রমকালে তাহাদিগকে সালাম করিলেন ও বলিলেন: রাসূলুল্লাহ (স) এইরূপ করিতেন (বুখারী, ফাতহুল-বারীসহ, ১১খ, পৃ. ৩৪, নং ৬২৪৭; মুসলিম, ইকমালসহ, ৭খ., পৃ. ৩৩৩, নং ২১৬৮)।
আবূ দাউদ হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) একবার কিছু ক্রীড়ারত বালকের নিকট আসিয়া তাহাদিগকে সালাম করিলেন। অন্য রিওয়ায়াতে তিনি আরও বলিয়াছেন, একদা আমি কয়েকজন বালকের সঙ্গে কোন স্থানে ছিলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের নিকট তাশরীফ আনিয়া আমাদিগকে সালাম করিলেন এবং আমার হাতে একটি চিঠি দিয়া এক ব্যক্তির নিকট পৌছাইতে বলিলেন। অতঃপর তিনি একটি দেয়ালে
বসিয়া রহিলেন। আমি চিঠি পৌছাইয়া প্রত্যাবর্তন করা পর্যন্ত তিনি সেখানে বসিয়া রহিলেন। ('আওনুল-মা'বূদ শরহু আবী দাউদ, ১৪খ., পৃ. ৭৪, নং ৫১৯১-২)।
ইবন মাজা হযরত আসমা বিন্ত ইয়াযীদের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, একদা আমরা কিছু মহিলার নিকট দিয়া অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ (স) আমাদিগকে সালাম করিলেন (আস-সুনান লি-ইব্ন মাজা, ২খ., পৃ. ১২২০, নং ৩৭০১)।
আবূ দাউদ হযরত আসমা বিন্ত ইয়াযীদ আল-আনসারিয়্যা (রা)-এর সূত্রে উল্লেখ করিয়াছেন, তিনি বলেন: একদা আমি কয়েকজন বান্ধবীসহ কোন স্থানে ছিলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (স) সেই স্থান দিয়া অতিক্রমকালে আমাদিগকে সালাম করিলেন ('আওনুল- মা'বৃদ শরহু আবী দাউد, ১৪খ., পৃ. ৭৪, নং ৫১৯৩)।
📄 হাতের ইশারায় সালাম
ইমাম বুখারী তাঁহার আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে হযরত আসমা (রা)-এর বরাতে উল্লেখ করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদের নিকট দিয়া অতিক্রম করিতেছিলেন। মসজিদে একদল মহিলাকে উপবিষ্ট দেখিতে পাইয়া তিনি ডান হাতের ইশারায় তাহাদেরকে সালাম জানাইলেন (আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ৪৫৯, নং ১০৪৭)।
📄 ঘুমন্ত ব্যক্তির নিকট অবস্থানরত জাগ্রত ব্যক্তিকে সালাম
ইমাম মুসলিম হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও রাত্রি বেলায় বাসায় আসিয়া এইভাবে সালাম করিতেন যাহাতে ঘুমন্তরা জাগিয়া না যায় অথচ জাগ্রতরা সালামের শব্দ শুনিতে পায় (ফাতহুল-বারী, ১১খ., পৃ. ২০, ৬২৩৫ নং হাদীছের টীকা)।
ইমাম মুসলিম হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও রাত্রি বেলায় বাসায় আসিয়া এইভাবে সালাম করিতেন যাহাতে ঘুমন্তরা জাগিয়া না যায় অথচ জাগ্রতরা সালামের শব্দ শুনিতে পায় (ফাতহুল-বারী, ১১খ., পৃ. ২০, ৬২৩৫ নং হাদীছের টীকা)।