📄 (ছ) জিহাদের ময়দানে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আখলাক
মদীনার জীবনে মহানবী (স)-কে বহুবার ইসলামের দুশমনদের সহিত মুকাবিলা করিতে হয় এবং সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করিতে হয়। প্রচলিত যুদ্ধ বিচার-বুদ্ধির পরিবর্তে আবেগ-উদ্দীপনা দ্বারা পরিচালিত হইত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (স)-এর মহান চরিত্রে এই সকল ক্ষেত্রেও সর্বদা ন্যায়পরায়ণতা ও ভারসাম্য সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। এই সকল ক্ষেত্রেও তাঁহার উত্তম আখলাক জগতকে বিস্ময়াভিভূত করিয়াছে। যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদগণের প্রতি তাঁহার নির্দেশ ছিল কেবল আল্লাহ তা'আলার মহান বাণী সমুন্নত রাখিবার উদ্দেশ্যেই জিহাদ করিবে (আল-বুখারী, কিতাবুল-জিহাদ; মুসলিম, কিতাবুল-জিহাদ)।
কোন যুদ্ধে মুজাহিদগণকে বিদায় করিবার সময় তিনি মদীনার উপকণ্ঠ পর্যন্ত গমন করিতেন। তিনি তাহাদেরকে এবং তাহাদের দীনকে আল্লাহর আশ্রয়ে ন্যস্ত করিতেন। ইহা ছাড়া এই উপদেশ প্রদান করিতেন যে, আল্লাহকে সর্বাবস্থায় ভয় করিবে এবং স্বীয় সঙ্গী মুসলমানদের কল্যাণ কামনা করিবে। তারপর বলিতেন, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করিবে; অসাধুতা ও অঙ্গীকার ভঙ্গ করিবে না। নিহতের নাক-কান কর্তন (মুছলা) করিবে না, শিশু ও নারীদের হত্যা করিবে না (আল-বুখারী, ১খ., পৃ. ৪১৫; আত-তিরমিযী, ১খ., পৃ. ১৯১)।
কোন যুদ্ধে শত্রুদের প্রতিরোধকল্পে যেই কৌশলই বিবেচিত হইত তিনি সেই কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাহাবীদের সহিত শরীক থাকিতেন। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খনন উহার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত (আল-বুখারী, কিতাবুল-জিহাদ, ১খ., ৩৯৮)।
সাহাবায়ে কিরামের প্রতি তাঁহার নির্দেশ ছিল : যদি শত্রু তোমাদের উপর হামলা করে এবং তাহারা তোমাদের হামলার সময় কালেমা পাঠ করে তবে তৎক্ষণাত তাহাদের উপর হইতে অস্ত্র সংবরণ করিবে (মুসলিম, কিতাবুল-জিহাদ)।
অধিক রক্তপাত যেন না হয় সেইজন্য তিনি এমনভাবে অভিযান পরিচালনা করিতেন যেন শত্রুপক্ষ টের না পাইয়া হতবুদ্ধি হইয়া পড়ে এবং অল্পতে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২০খ., ৬৩৪)। আল্লাহর সাহায্যে যখন রাসূলুল্লাহ (স) আনন্দদায়ক কিছু অর্জন করিতেন, তখন কৃতজ্ঞতার সিজদা আদায় করিতেন (আত-তিরমিযী, ১খ., পৃ. ১৯১)।
গ্রন্থপঞ্জী : (১) আল-কুরআনুল কারীম; (২) ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, এম বশীর এণ্ড সন্স, ভারত, ১খ., ২খ.; (৩) ইমাম মুসলিম, কুতুবখানা রহীমিয়া, ভারত, ২খ.; (৪) ইমাম তিরমিযী, আল-জামে', কুতুবখানা রহীমিয়া, দিল্লী, ১খ., ২খ.; (৫) ইমাম আবূ দাউদ, আস্-সুনান, দারু ইহয়াইস সুন্নাতিন্নাবাৰী, ৪খ.; (৬) ইমাম ইবন মাজা, আস্-সুনান, এম বশীর
এণ্ড সন্স, কলিকাতা; (৭) ইমাম আহমাদ ইব্ন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, দারুল হাদীছ কায়রো; (৮) ইমাম গাযালী, ইহয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, দারুল মা'রিফা, বৈরূত, ৩খ.; (৯) ইব্ন সা'দ, আত্-তাবাকাত, দারু সাদির, বৈরূত, ২খ., ১খ.; (১০) কাদী 'ইয়াদ, আশ্-শিফা, মাকতাবুল-ফারাবী, দামিশক; (১১) ইবনুল জাওযী, আল-ওয়াফা, দারু ইয়াইত-তুরাছ আল-আরাবী, বৈরূত, ২খ.; (১২) ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, কায়রো, ২খ.; (১৩) মুহাম্মাদ আবদুল আযীয, আল-আদাবুন-নাবাবী, দারুল-মা'রিফা, বৈরূত, তা. বি.; (১৪) ইমাম তিরমিযী, আশ-শামাইল, কুতুবখানা রহীমিয়া (আল-জামি সংশ্লিষ্ট), দিল্লী; (১৫) ইমাম কুরতুবী, আল-জামি'উ লি-আহকামিল-কুরআন, দারুল হাদীছ, কায়রো ১৭ খ.; (১৬) সায়্যিদ কুত্ব, ফী যিলালিল কুরআন, কায়রো, ৬খ.; (১৭) ইব্ন মানযূর, লিসানুল-আরাব, বৈরূত, ১০খ.; (১৮) ইমাম রাগিব, আল-মুফরাদাত ফী গারীবিল-কুরআন; (১৯) মুহাম্মাদ রিদা, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স), বৈরূত, ১ম সং. ১৪১৭ হি. / ১৯৯৭ খৃ.; (২০) হাফিজ আবূ শায়খ ইসফাহানী, আখলাকুন-নবী, ই.ফা.বা. ১৪১৮ হি. / ১৯৯৮ খৃ.; (২১) ইউসুফ কান্ধলভী, হায়াতুস-সাহাবা, ৩খ.; (২২) ইমাম নববী, রিয়াদুস-সালিহীন, ভারত; (২৩) ইমাম কাসতাল্লানী, আল-মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়া, আল-মাকতাবুল-ইসলামী, ২খ.; (২৪) ওয়াকিদী, কিতাবুল মাগাযী, 'আলামুল-কুতুব, লণ্ডন তা. বি., ২খ.; (২৫) ইবন হাজার আল-'আসকালানী, তাহযীবুত তাহযীব, দারুল মা'রিফা, বৈরূত তা.বি., ১০খ.; (২৬) মাওলানা আমিনুল ইসলাম, তাফসীরে নূরুল কোরআন, আল-বালাগ প্রকাশনী, ঢাকা, ২৯খ.; (২৭) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ইসলামী বিশ্বকোষ, ঢাকা; (২৮) ইসলামী বিশ্বকোষ সম্পাদনা পরিষদ, হযরত রাসূল করীম (স) জীবন ও শিক্ষা, ই.ফা.বা.; (২৯) ইব্ন কাছীর, শামাইলুর-রাসূল, দারুল মা'রিফা, বৈরূত, তা.বি.; (৩০) মুহাম্মাদ ইসমাঈল আস-সানআন, সুবুলুস-সালাম, দারুল হাদীছ, কায়রো, ১ম সং. ১৪১৭ হি. /১৯৯৭ খৃ.; (৩১) সুলায়মান ইব্ন আবদুল হানলালী, বাহজাতুন-নাজিরীন, দারু ইব্ন জাওযী, ১ম সং. ১৪১৫ হি. /১৯৯৪ খৃ., ১খ.; (৩২) ঈদে মিলাদুন্নবী স্মরণিকা, সং ১৪২২ হিজরী, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ।
খান মুহম্মদ ইলিয়াস