📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে তাঁহার পরিবারবর্গের ঘোষণা

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে তাঁহার পরিবারবর্গের ঘোষণা


বিশেষ করিয়া কাহারও আখলাক সম্পর্কে পারিবারিক মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কথাটি একদা রাসূলুল্লাহ (স) স্বয়ং তাঁহার এক হাদীছে বলিয়াছিলেন এইভাবে:
خيركم خيركم لاهله وانا خير لاهلي . "তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তাহার পরিবারের নিকট উত্তম। আর আমি আমার পরিজনের কাছে উত্তম।"
অপর এক হাদীছে তিনি বলিয়াছেন خیارکم خياركم لنسائهم "তোমাদের মধ্যে তাহারা উত্তম, যাহারা তাহার স্ত্রীদের নিকট উত্তম” (তিরমিযী, আস-সুনান)।
এই দৃষ্টিকোণ হইতে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর আখলাক সম্পর্কে তাঁহার পরিবার- পরিজনের মন্তব্য তুলিয়া ধরিব। হযরত 'আইশা (রা) বলেন,
ما كان احد احسن خلقا من رسول الله ﷺ "রাসূলুল্লাহ (স) হইতে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী আর কোন লোক ছিলেন না"।
তিনি আরও বলেন, তাঁহার সাহাবা ও পরিবারবর্গের মধ্য হইতে কেহ যখন তাঁহাকে ডাকিতেন তখন তিনি জবাবে বলিতেন, লাব্বায়ক-আমি হাজির। এই কারণেই মহান আল্লাহ তাঁহার সম্পর্কে নাযিল করিয়াছেন, وَأَنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ “নিঃসন্দেহে আপনি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত” (৬৮: ৫; আখলাকুন-নবী, পৃ. ১)।
হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা) মহানবী (স)-এর সঙ্গে প্রায় ২৫ বৎসর সংসার জীবন যাপন করিয়াছিলেন। তিনি বলিয়াছেন।
اِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَصْدُقُ الْحَدِيْثَ وَتَحْمِلُ الْكَلَّ وَتَكْسِبُ الْمَعْدُوْمَ وَتَقْرِى الضَّيْفَ وتعين على نوائب الحق .
“নিশ্চয় আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, অভাবীর অভাব মোচন করেন, মেহমানের মেহমানদারী করেন এবং বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন” (ইমাম বুখারী, আস-সাহীহ, ১ম, পৃ. ৩)।
হযরত আয়েশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আখলাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিতেন, كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ “তাঁহার চরিত্র ছিল আল-কুরআন” (আখলাকুন-নবী, পৃ. ১)।
হযরত ইয় abandoned ইয়াযীদ ইব্‌ন বাবানুস হইতে বর্ণিত। হাদীছে আসিয়াছে, তিনি বলেন, আমি ‘আয়েশা (রা)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলাম, হে উম্মুল-মুমিনীন! রাসূলুল্লাহ (স)-এর আখলাক সম্পর্কে কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র ছিল আল-কুরআন। তারপর তিনি বলেন, তোমরা কি ‘সূরা মু’মিনুন পড় না? আমরা বলিলাম হাঁ, পড়ি। তিনি বলিলেন, পড়। তখন আমি পড়িলাম—
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِيْنَ هُمْ فِيْ صَلَاتِهِمْ خَاشِعُوْنَ. وَالَّذِيْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَ. وَالَّذِيْنَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُوْنَ. وَالَّذِيْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حَافِظُوْنَ.
“অবশ্যই সফলকাম হইয়াছে মু’মিনগণ; যাহারা নিজেদের সালাতের মধ্যে বিনয় নম্র; যাহারা অসার ক্রিয়াকলাপ হইতে বিরত থাকে; যাহারা যাকাত দানে সক্রিয়; যাহারা আপন যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।”
অতঃপর হযরত ‘আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র এইরূপই ছিল (আখলাকুন-নবী, পৃ. ২)।
হযরত আবূ আবদুল্লাহ আল-জাদালী বলেন, আমি ‘আয়েশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলেন :
لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَلَا سَخَّابًا فِى الْاَسْوَاقِ وَلَا يَجْزِى بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَّعْفُوْ وَيَصْفَحُ .
“তিনি ইচ্ছাকৃত-অনিচ্ছাকৃত কোনভাবে কখনও অশ্লীল কথা বলিতেন না, হাট-বাজারে শোরগোল ও চীৎকার করিতেন না এবং অন্যায়ের প্রতিকার অন্যায় দ্বারা করিতেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করিতেন” (আত্-তিরমিযী, শামাইল, পৃ. ২৫; ইবনুল-জাভী, আল-ওয়াফা, ২খ., পৃ. ৪১৬; ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ৩৬; আত্-তিরমিযী, আস-সুনان, ২খ., পৃ. ২২)।
হযরত ‘আয়েশা (রা) আরও বলেন, কেহ যদি স্বীয় ব্যাপারে তাঁহার নিকট দুইটি প্রস্তাব উপস্থাপন করিতেন, তবে তিনি তাহার পক্ষে যাহা সহজসাধ্য হইত তাহাই পছন্দ করিতেন, যদি
উহা পাপের কাজ না হইত (আত-তিরমিযী, শামাইল, পৃ. ৩৮৯; আল-ওয়াফা, ২খ., পৃ. ৪২০; মুসলিম, আস-সাহীহ, ২খ., পৃ. ২৫৬)।
অপর বর্ণনায় আসিয়াছে, যদি উহা পাপের কাজ হইত তবে উহা হইতে তিনি সর্বাধিক দূরে থাকিতেন। তিনি কখনও তাঁহার নিজের উপর কোন অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নাই (মুসলিম, ২খ., পৃ. ২৫৬; ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ৩৮)।
হযরত 'আইশা (রা) বলেন: كان ابر الناس واكرم الناس ضحاكا بساما - “তিনি ছিলেন সর্বাধিক সৎ, ভদ্র ও হাসিখুশি লোক” (আখলাকুন-নবী, পৃ. ১৩)।
হযরত সাফিয়্যা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স) অপেক্ষা সুন্দর চরিত্রের অধিকারী আর কাহাকেও দেখি নাই (ইউসুফ কান্ধলবী, হায়াতুস-সাহাবা, ৩খ.)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে তাঁহার সাহাবীদের মন্তব্য

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে তাঁহার সাহাবীদের মন্তব্য


রাসূলুল্লাহ (স) যে সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী, ইহার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হইতেছে তাঁহার সঙ্গী-সাথীদের পক্ষ হইতে তাঁহার উত্তম আখলাক সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা। এই বিষয়টিকে একদা রাসূলুল্লাহ (স) এইভাবে বলিয়াছিলেন: خير الاصحاب عند الله تعالى خيرهم لصاحبه "সাথী হিসাবে ঐ ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নিকট উত্তম যে তাহার সঙ্গীর নিকট উত্তম” (আল-আরবা'উনা হাদীছান ফিল-আখলাক, পৃ. ২৯)।
সুতরাং সঙ্গী হিসাবে রাসূলুল্লাহ (স)-এর আখলাক সম্পর্কে যে সকল বিবরণ তাঁহার সাহাবীগণের পক্ষ হইতে প্রদান করা হইয়াছে উহার কতিপয় দৃষ্টান্ত নিম্নে প্রদান করা হইল।
হযরত আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) চরিত্রের দিক হইতে সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। একদা তিনি আমাকে কোন একটা প্রয়োজনে যাইতে বলিয়াছিলেন। আমি বলিয়াছিলাম, আল্লাহ্র কসম! আমি যাইব না। অথচ আমার মনে মনে ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশমত আমি যাইব। অতঃপর আমি বাহির হইয়া বাজারে কতিপয় খেলাধুলারত ছেলের পাশ দিয়া যাইতেছিলাম। তখন পিছন দিক হইতে রাসূলুল্লাহ (স) আমার কাঁধ ধরিলেন। আমি দেখিলাম তিনি হাসিতেছেন এবং বলিলেন, হে উনায়স! আমি যেইখানে যাইতে বলিয়াছিলাম সেইখানে গিয়াছ? আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যাইতেছি (ইমাম মুসলিম, আস-সাহীহ, ২খ., পৃ. ২৫৩)।
হযরত আনাস (রা) আরও বলেন, “আমি দশ বৎসর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমত করিয়াছি। তিনি কখনও কোনও কাজের ব্যাপারে আমাকে এই কথা বলেন নাই, তুমি এই কাজটি করিলে কেন এবং এই কাজটি করিলে না কেন” (আত-তিরমিযী, শামাইল, পৃ. ৩৮৪; ইব্ন সা'দ, আত-তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৮২; মুসলিম, ২খ., পৃ. ২৫৩)।
হযরত ইব্‌ন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কখনও ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন অশ্লীল কথা বলিতেন না। তিনি বলিতেন, তোমাদের মধ্যে যে চরিত্রের দিক হইতে উত্তম সেই প্রকৃত উত্তম (আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৮৯১; মুসলিম, ২খ., পৃ. ২৫৫; তিরমিযী, ২খ., পৃ. ১৯)। অনুরূপ বর্ণনায় হযরত আবূ যার (রা)-ও বলেন, আমার পিতামাতার শপথ, রাসূলুল্লাহ (স) ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে অশ্লীল কথা বলিতেন না এবং বাজারে শোরগোল করিতেন না (আখলাকুন্নবী, পৃ. ২১)।
হযরত আল-বারা'আ ইব্‌ন আযিব (রা) বলেন:
كان رسول الله ﷺ احسن الناس وجها واحسن الناس خلقا -
"রাসূলুল্লাহ (স) ছিলেন চেহারার দিক হইতেও সর্বাধিক সুন্দর এবং চরিত্রের দিক হইতেও সর্বাধিক সুন্দর" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ৩৮; মুসলিম, ২খ., পৃ. ২৫৮)।
হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) হইতে বর্ণিত এক বর্ণনায় আসিয়াছে,
كان رسول الله ﷺ احسن الناس وكان اجود الناس وكان اشجع الناس
"রাসূলুল্লাহ (স) ছিলেন সর্বাধিক সুন্দর মানুষ, সর্বাধিক দানশীল এবং সর্বাধিক বীর বাহাদুর মানুষ” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ৩৯; আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৮৯১; মুসলিম, ২খ., পৃ. ২৫২)।
তিনি আরও বলেন:
لم يكن رسول الله ﷺ سبابا ولا لعانا ولا فاحشا
"রাসূলুল্লাহ (স) না ছিলেন গালমন্দকারী, না অভিশাপ দানকরী আর না অশ্লীল বাক্যালাপকারী” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, প্রাগুক্ত; আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৮৯১)।
হযরত আলী (রা) নবুওয়তের ২৩ বৎসর এবং ইহার পূর্বের কয়েকটি বৎসর নবী করীম (স)-কে দেখিয়াছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর মহান চরিত্র সম্পর্কে বলিতেন: মহানবী (স) হাস্যমুখ, নম্র স্বভাব ও দয়ার্দ্র প্রকৃতির ছিলেন। তিনি উগ্র প্রকৃতির ও সংকীর্ণ চিত্ত ছিলেন না। কোন মন্দ কথা অশ্লীল বাক্য তাঁহার পবিত্র মুখ হইতে বাহির হইত না। কাহারও দোষ-ত্রুটি খুঁজিয়া বেড়াইতেন না। যাহা তাঁহার পসন্দ হইত না, মুখ ফিরাইয়া নিতেন। তিনি নিজেকে তিনটি আচরণ হইতে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখিয়াছিলেন: ঝগড়া-কলহ, অহংকার ও বাজে কথা। অন্যদের সম্পর্কেও তিনি তিনটি বিষয় সর্বদা পরিহার করিয়া চলিতেন- কাহারও কুৎসা রটনা করা, অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা এবং গোপনে ছিদ্রান্বেষণ করা। তিনি এমন কথা বলিতেন যাহা জনগণের পরিণামের জন্য কল্যাণকর। যেই কথা শুনিয়া সকলে হাসিত তিনিও উহাতে হাসিতেন। যেই বিষয়ে সকলে আশ্চর্য বোধ করিত, তিনিও উহাতে আশ্চর্য বোধ করিতেন। আগন্তুক ও অপরিচিত ব্যক্তির কর্কশ বাক্য ও অসঙ্গত প্রশ্নে তিনি ধৈর্যাবলম্বন করিতেন। কেহ
তাঁহার প্রশংসা করিলে তিনি উহা পসন্দ করিতেন না। কিন্তু কেহ তাঁহার উপকারের কৃতজ্ঞতা-স্বরূপ প্রশংসা করিলে তিনি নীরব থাকিতেন। তিনি কাহারও কথার মাঝখানে বাধা দিতেন না (আত-তিরমিযী, শামাইল, পৃ. ২৫; আখলাকুন্নবী, পৃ. ৮-৯)। এক রিওয়ায়াতে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর ন্যায় কাহাকেও না পূর্বে পাইয়াছি, না পরে (হায়াতুস-সাহাবা, ৩খ.)।
হযরত আলী (রা) আরও বলেন, তিনি অতি দানশীল, সত্যভাষী, নম্র স্বভাব ও খোশমেযাজী ছিলেন। কেহ হঠাৎ দেখিয়া ভয় পাইলেও সে যদি তাঁহার সান্নিধ্যে আসিত তরে আন্তরিকভাবে তাঁহাকে ভালবাসিতে থাকিত (প্রাগুক্ত)। অন্য এক সাহাবী হযরত হিন্দ (রা) ইন আবী হালাহ্ দীর্ঘকাল যাবত রাসূলুল্লাহ (স)-এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তিনি বলেন, মহানবী (স) নম্র স্বভাবের ছিলেন, নির্দয় ছিলেন না; কাহারও অপমান তিনি কখনও অনুমোদন করিতেন না। সামান্য ব্যাপারেও লোকদের শুকরিয়া আদায় করিতেন। কোনও বস্তুকে মন্দ বলিতেন না। কখনও ব্যক্তিগত ব্যাপারেও রাগ করিতেন না। অবশ্য কেহ যদি কোন ন্যায় ও সৎ কাজের বিরোধিতা করিত, তবে অসন্তুষ্ট হইতেন (কাদী 'ইয়াদ, আশ-শিফা, পৃ. ৭০; আত-তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৪২২-৪২৩)।
হযরত আমর ইবনুল 'আস (রা) নবী করীম (স)-এর সান্নিধ্যে থাকিয়া প্রায় চারি বৎসর পর্যন্ত নবী চরিত্র প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সাধারণ মানুষের সহিতও খোশআলাপ ও উত্তম আচরণ করিতেন। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহার নিজের সম্পর্কে এইরূপ ধারণা পোষণ করিত যে, নবী করীম (স)-এর নিকট তাহার মর্যাদা সর্বাধিক। হযরত 'আমর ইবনুল 'আস (রা) নিজের সম্পর্কে বলেন, আমি আমার নিজের সম্পর্কে এইরূপ ধারণা করিতাম। তাই একবার সুযোগ পাইয়া আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দৃষ্টিতে আমি উত্তম, না আবু বকর? তিনি বলিলেন, আবূ বকর। তারপর জিজ্ঞাসা করিলাম, আমি উত্তম, না উমর? তিনি বলিলেন, উমর। পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলাম, আমি উত্তম না উছমান? তিনি বলিলেন, উছমান। মহানবী (স) সত্য প্রকাশ করিয়া আমার ভুল ধারণা দূর করিয়া দিলেন। আমার আফসোস হইল, হায়! আমি যদি তাঁহাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা না করিতাম (শামাইল, পৃ. ২৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মহানবী (স) সম্পর্কে অমুসলিমদের মন্তব্য

📄 মহানবী (স) সম্পর্কে অমুসলিমদের মন্তব্য


মহান আল্লাহ তাঁহার হাবীবের শানে এক বাণীতে বলিয়াছেন, وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ “আমি আপনার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করিয়াছি" (৯৪:৪)। প্রকৃতপক্ষে মহামবী (স)-এর জীবন এত বিশাল, তাঁহার চরিত্র মাধুর্য এতই অধিক যাঁহার স্পর্শে শুধু মুসলমান নয়, অমুসলিম অন্তরও আলোড়িত না হইয়া পারে নাই। তাই সেই হায়াতে নববী সম্পর্কে অদ্যাবধি অসংখ্য অমুসলিমও ব্যক্ত করিয়াছে রাসূলুল্লাহ (স)-এর মহান চরিত্রের একান্ত প্রশস্তিমূলক মন্তব্য যাহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র মাহাত্ম্যকে আরও সুস্পষ্ট করিয়াছে। কারণ স্বাভাবিক ছিল যে, একজন অমুসলিম, যে রাসূলুল্লাহ (স)-এর দা'ওয়াত গ্রহণ করে নাই, সে তাঁহার বিরোধিতা
করিবে। কিন্তু এমন একজন অমুসলিমের মুখেও যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র-মাহাত্ম্য স্বীকৃত হয়, তখন তাহা তাঁহার চরিত্র-মাহাত্ম্যকে আরও সুস্পষ্ট করিয়া তোলে। নিম্নে আমরা মহানবী (স)-এর চরিত্র মাধুরীতে অভিষিক্ত এমন কতিপয় অমুসলিম প্রবক্তার উদ্ধৃতি তুলিয়া ধরিব। সবচাইতে বিস্ময়ের বিষয় হইতেছে, অমুসলিমরাও যে মহানবী (স)-এর আখলাকের সম্মুখে অবনমিত, স্বয়ং আল্লাহ পাক চৌদ্দ শত বৎসর পূর্বে পবিত্র কুরআনে সেই সত্য তুলিয়া ধরিয়াছিলেন এই ভাবে-
قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يجحدون.
"অবশ্য আমি জানি যে, তাহারা যাহা বলে তাহা নিশ্চিত আপনাকে কষ্ট দেয়; কিন্তু তাহারা আপনাকে তো মিথ্যাবাদী বলে না, বরং সীমালংঘনকারীরা আল্লাহ্র আয়াতকে অস্বীকার করে" (৬৪৩৩)।
শুধু সেই যুগে নয় এই যুগেও স্তব্ধ হয় নাই অমুসলিমগণ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র সম্পর্কিত গুণকীর্তন। যে অসাধারণ প্রতিভা, মহান আদর্শ ও চরিত্রের বলে রাসূলুল্লাহ (স) অতি অল্প সময়ের মধ্যে অনাচার, ব্যভিচার ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন একটা জাতিকে এক সুসংহত ও সুসভ্য জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন, সেই সম্বন্ধে উল্লেখ করিয়া জর্জ বার্নার্ড'শ বলিয়াছেন: যদি সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায়, আদর্শ ও মতবাদের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করিয়া এক অধিনায়কের শাসনাধীনে আনা হইত তবে একমাত্র মুহাম্মাদ (স)-ই যোগ্য নেতা হিসাবে তাহাদেরকে কাঙ্ক্ষিত সুখ-শান্তির পথে পরিচালিত করিতে পারিতেন। স্যার সি.পি. রামস্বামী আয়ার ইসলামে সাম্যনীতির কথা বলিতে গিয়া বলিয়াছেন: মসজিদে ধর্মীয় আরাধনার কথাই বলুন বা সাধারণ্যে খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারই ধরুন, ইসলামের নিম্নতম মর্যাদার লোকটিও উচ্চতম মর্যাদার লোকটির সমান; ছিন্ন বস্ত্র পরিহিত ভিখারী নামাযে নেতৃত্ব দিতেছে: আর সুলতান তাহাকে অনুসরণ করিতেছেন। মুহাম্মাদ (স)-এর শিক্ষা ও ধর্ম ব্যতীত আর কোন শিক্ষা ও ধর্ম ব্যবহারিক জীবনে এই আদর্শ তুলিয়া ধরিতে সক্ষম হয় নাই।
ঐতিহাসিক লিওনার্ড বলিয়াছেন: পৃথিবীর কোন মানুষ যদি আল্লাহকে দেখিয়া থাকেন, বুঝিয়া থাকেন এবং তিনি পৃথিবীর কোন উপকার করিয়া থাকেন, তবে এই কথা নিশ্চিত যে, তিনি হইতেছেন- ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মাদ (স) (ঈদে মিলাদুন্নবী (স) স্মরণিকা, ১৪২২ হিজরী, ই.ফা.বা., পৃ. ২৯-৩০)। কোন কোন লেখক এই কথাও বলিয়াছেন, মহানবী (স) শ্রেষ্ঠ অধ্যাত্ম শক্তির অধিকারী ছিলেন। তাঁহার স্বভাব ছিল অমায়িক, তিনি বিরাট ব্যক্তিত্ব ও অনন্যসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। সব দিক হইতে তিনি ছিলেন আদর্শ চরিত্রবান ব্যক্তি (মুহাম্মদ হায়কাল, মহানবী (স)-এর জীবন চরিত, বাংলা অনু., ই.ফা.বা., পৃ. ১৭)। দি হানড্রেড-এর লেখক মাইকেল এইচ. হার্ট বলেন, বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় যাঁহারা রহিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে আমার বিবেচনায় মুহাম্মাদই (স) সর্বোত্তম।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 উত্তম আখলাকের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী

📄 উত্তম আখলাকের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী


রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র-মাহাত্ম্য যেমন ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হইয়াছে তেমনি তাহা ফুটিয়া উঠিয়াছে তাঁহার অসংখ্য বাণীতেও। উত্তম আখলাককে তিনি যে বিশাল গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করিয়াছেন তাহা প্রকৃতপক্ষে তাঁহার স্বীয় উত্তম আখলাকেরই প্রমাণ বহন করে, নিম্নের হাদীছসমূহ দ্বারা এই কথা আমাদের নিকট দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হইয়া উঠিবে। হযরত আবু দারদা (রা) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন :
اكمل المؤمنين ايمانا احسنهم خلقا
"ঈমানের দিক হইতে পরিপূর্ণ ঐ মু'মিন যাহার আখলাক সর্বাধিক সুন্দর" (আত-তিরমিযী, ২খ., পৃ. ২০; রিয়াদুস-সালিহীন, ২খ., বাংলা অনুবাদ)।
আবূ দারদা হইতে বর্ণিত অপর এক হাদীছে রাসূলুল্লাহ (স) বলেন,
ما من شيئ يوضع في الميزان اثقل من حسن الخلق . او ما شيئ اثقل في ميزان المؤمن يوم القيامة من حسن خلق
"কিয়ামতের দিন মু'মিনের মীযানে (তৃলাদণ্ডে) উত্তম আখলাক হইতে অধিক ভারী আর কিছুই হইবে না” (আত-তিরমিযী, ২খ., পৃ. ২১)।
অপর এক হাদীছে রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন :
ان احبكم الى واقربكم منى مجلسا يوم القيامة احاسنكم اخلاقا
"কিয়ামতের দিন আমার নিকট অধিক প্রিয় এবং আমার অধিক নিকটে উপবেশনকারী সে-ই হইবে যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম আখলাকের অধিকারী" (আত-তিরমিযী, ২খ., পৃ. ২০)।
একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে আগমন করিয়া এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দীন কি )ما الدين(? তিনি বলিলেন, উত্তম চরিত্র )حسن الخلق(। সে আবার তাঁহার ডান দিক হইতে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দীন কি? তিনি বলিলেন, উত্তম চরিত্র। পুনরায় সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাম দিক হইতে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দীন কি? এইবারও তিনি বলিলেন, উত্তম চরিত্র। অতঃপর লোকটি তাঁহার পিছন দিক হইতে আসিয়া যখন আবারও একই প্রশ্ন করিল, তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার দিকে তাকাইলেন এবং বলিলেন, তুমি কি বুঝিতেছ না? উহা হইল রাগ না করা (ইহয়া উলূমিদ্দীন, ৩খ., পৃ. ৫০)।
তিনি আরও ফরমাইয়াছেন, "মীযানে সর্বপ্রথম উত্তম চরিত্র এবং দানশীলতা রাখা হইবে। যখন আল্লাহ পাক ঈমান সৃষ্টি করিলেন তখন সে বলিয়াছিল, হে আল্লাহ! আমাকে শক্তিশালী
করুন। তখন উত্তম চরিত্র এবং দানশীলতা দ্বারা ইহাকে শক্তিশালী করিয়া দিলেন। আর তিনি যখন কুফরকে সৃষ্টি করিলেন, তখন উহা বলিয়াছিল, হে আল্লাহ! আমাকে শক্তিশালী করুন। তখন কৃপণতা ও অসৎ চরিত্র দ্বারা উহাকে শক্তিশালী করিয়া দিলেন" (ইহয়া 'উলূমিদ্দীন, প্রাগুক্ত)।
একদা রাসulুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, কোন আমল সর্বাধিক উত্তম? তিনি বলেন, "উত্তম চরিত্র” (প্রাগুক্ত)। অপর এক হাদীছে তিনি ইরশাদ করিয়াছেন, "حسن الخلق خلق الله لاعظم!" উত্তম চরিত্র আল্লাহ পাকের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি” (প্রাগুক্ত)।
রাসূলুল্লাহ (স) নিজের দো'আয় বলিতেন: اللهم انت حسنت خلقی فحسن خلقی "হে আল্লাহ! আপনি আমার বাহ্যিক অবয়ব সুন্দর করিয়াছেন। সুতরাং আপনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করিয়া দিন" (প্রাগুক্ত)।
হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বেশী বেশী এই দু'আ করিতেনঃ اللهم اني اسألك الصحة والعافية وحسن الخلق “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও উত্তম চরিত্র চাই” (প্রাগুক্ত)।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত এক হাদীছে তিনি বলেন, كرم المؤمن دينه وحسبه حسن الخلق ومروءته عقله "মুমিনের মর্যাদা হইল তাহার দীন, তাহার আভিজাত্য হইল উত্তম চরিত্র এবং তাহার ব্যক্তিত্ব হইল তাহার বিবেক-বুদ্ধি” (প্রাগুক্ত)।
তিনি তাঁহার দো'আয় আরও বলিতেনঃ اللهم اهدني لاحسن الاخلاق لا يهدى لاحسنها الا انت واصرف عنى سينها لا يصرف عنى سيئها الا انت “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সর্বোত্তম আখলাকের পথে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া কেহই ঐ পথে পরিচালিত করিতে পারে না। আর আপনি আমাকে অসৎ চরিত্র হইতে ফিরাইয়া রাখুন। আপনি ছাড়া কেহই উহা হইতে ফিরাইয়া রাখিতে পারে না" (প্রাগুক্ত)।
তিনি আরও বলেন, "من سعادة المرأ حسن الخلق" "মানুষের সৌভাগ্যের জিনিস হইল উত্তম চরিত্র" (ইয়া উলূমিদ্দীন, ৩খ., পৃ. ৫১)।
একদা তিনি হযরত আবূ যার (রা)-কে বলিয়াছিলেন, یا ابا ذر لاعقل كالتدبير ولا حسب كحسن الخلق
"হে আবূ যার! বুদ্ধিমত্তার ন্যায় আর কোন তদবীর নাই। আর উত্তম চরিত্রের ন্যায় আর কোন আভিজাত্য নাই” (প্রাগুক্ত)।
অপর এক হাদীছে তিনি বলিয়াছেন: ان المسلم المؤمن ليدرك درجة الصائم القائم بحسن خلقه
"মু'মিন ব্যক্তি তাহার উত্তম আখলাকের কারণে, যাহারা সর্বদা রোযা রাখে এবং সারা রাত ইবাদত করে তাহাদের মর্তবা পাইবে” (আবূ দাউদ, ৪খ, পৃ. ২৫২)। তিরমিযীতেও অনুরূপ একটি বর্ণনা আসিয়াছে (দ্র. আত-তিরমিযী, ২খ., পৃ. ২১)।
হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণিত এক হাদীছে রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: ان العبد ليبلغ بحسن خلقه عظيم درجات الاخرة وشرف المنازل وانه الضعيف في العبادة
"বান্দা তাহার উত্তম চরিত্রের কারণে আখিরাতে বিশাল মর্যাদা এবং সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করিবে, যদিও সে ইবাদাতের ক্ষেত্রে দুর্বল থাকে” (ইয়া 'উলূমিদ্দীন, প্রাগুক্ত)।
রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলিয়াছেন, ان من خياركم احسنكم اخلاقا
"নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে আখলাকে সর্বাধিক সুন্দর” (আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৮৯১; সহীহ মুসলিম, ২খ., পৃ. ২৫৫)। তবে মুসলিমের বর্ণনায় احسنكم -এর স্থলে احاسنكم এবং বুখারীর বর্ণনায় خياركم এর স্থলে اخيركم আসিয়াছে)। হযরত আবূ উমামা আল-বাহিলী (রা) হইতে বর্ণিত এক হাদীছে রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, "আমি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের পার্শ্ববর্তী একটি ঘরের যামিন, যে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকিয়াও ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করে; আর ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের মধ্যকার একটি ঘরের যামিন যে ঠাট্টাচ্ছলেও মিথ্যা কথা না বলিবে এবং ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের শীর্ষস্থানের একটি ঘরের যামিন, যে তাহার চরিত্রকে সুন্দর করিবে” (আবূ দাউদ, আস-সুনান, ৪খ., পৃ. ২৫৩; রিয়াদুস্-সালিহীন, পৃ. ২৮৯; শব্দের কিছুটা পরিবর্তনসহ অনুরূপ একটি বর্ণনা আসিয়াছে, তিরমিযী, ২খ., পৃ. ২০)।
রাসূলুল্লাহ (স) আরও বলিয়াছেন, "তোমরা কি জান, কোন জিনিস মানুষকে অধিক সংখ্যায় জান্নাতে নিয়া যাইবে? সাহাবায়ে কেরাম আরয করিলেন, আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বলিলেন, জান্নাতে যে জিনিস সর্বাধিক সংখ্যায় নিয়া যাইবে তাহা হইল তাকওয়া ও উত্তম আখলাক” (আত-তিরমিযী, ২খ., পৃ. ২১; ইহয়া 'উলূমিদ্দীন, প্রাগুক্ত)।
একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষকে সর্বোত্তম কি বস্তু দান করা হইয়াছে? তিনি বলিলেন, "উত্তম আখলাক” (তাফসীরে নূরুল-কোরআন, ২৯খ., পৃ. ৫৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00