📄 তিন: কুরআনের ওহীর ধরন সম্পর্কে কুরআনের আরও প্রমাণ
(১) পবিত্র কুরআনের ১২৫টিরও অধিক আয়াতে কুরআন যে নাযিলকৃত সেই বিষয়টি সম্পর্কে বলা হইয়াছে (তানযীল, تَنْزِيْلُ আন্যালনা اَنْزَلْنَا, মুনায্যাল مُنَزِّل ইত্যাদি)। এইখানে এই বিষয়টি জোর দিয়া বলা হইয়াছে যে, প্রত্যাদিষ্ট বিষয়টি ছিল সুনির্দিষ্ট মূল পাঠ। কোন কোন বিমূর্ত চিন্তা অথবা ধারণা অথবা প্রেরণায় "অবতীর্ণ" হয় নাই। কতিপয় আয়াতে, উদাহরনস্বরূপ ৬:৯৩ আয়াতে 'উনযিলা' ও 'আন্যালা' এই দুইটি শব্দের প্রয়োগ 'উহিয়া' ও 'আওহা' ৩৯ শব্দদ্বয়ের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১২৫ অথবা অনুরূপ সংখ্যকবারের মধ্যে কমপক্ষে আরও ৩৪ বার শব্দটি আল্লাহ "ইহা অবতীর্ণ করিয়াছেন" এই অবয়বে উল্লিখিত হইয়াছে (নায্যালা نَزَّلَ এবং আনযালা أَنْزَلَ)।৪০ পুনরায় আল্লাহ নিজে তাঁহার বক্তব্যে প্রথম পুরুষে কমপক্ষে ৩৪বার বলেন, "আমি ইহা অবতীর্ণ করিয়াছি” (আন্যালতু اَنْزَلْتُ, আনযালনা اَنْزَلْنَا, নায্যালনা نَزَّلْنَا)। ৪১ কমপক্ষে ৪৪ বার ইহা কর্মবাচ্যে বলা হইয়াছে যে, “ইহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে” (উনযিলা أُنْزِلَ, উনযিলাত أُنْزِلَتْ, নুযাযিলা نُزِّلَ, নুযাযিলাত نُزِّلَتْ, ইয়ুনায্যালু يُنَزِّلُ, তুনায্যালু تُنَزِّلُ)। ৪২ এবং কমপক্ষে ১৪ বার কুরআন "যাহা নাযিলকৃত” হিসাবে বর্ণিত হইয়াছে (তানযীল تَنْزِيل, মুনায্যাল مُنَزِّلُ)। ৪৩ পুনরায় এই সম্পর্কে সকল সন্দেহ দূর করার জন্য আল্লাহ নিজে নিম্নেবর্ণিত আয়াতে দ্ব্যর্থহীনভাবে সাক্ষ্য দিয়াছেন:
لَكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ وَالْمَلْئِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا.
"পরন্তু তোমার প্রতি আল্লাহ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহা তিনি সজ্ঞীনে নাযিল করিয়াছেন (এই সম্পর্কে পূর্ণ সচেতনতা সহকারে)। আল্লাহ ইহার সাক্ষ্য দেয় এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষ্য এবং সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট" (৪: ১৬৬)।
(২) অনুরূপভাবে অন্ততপক্ষে এক ডজনবার জোর দিয়া বলা হইয়াছে যে, “যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহা আরবী ভাষায় এক সুনির্দিষ্ট শব্দে বলা হইয়াছে। উদাহরণস্বরূপ:
إِنَّا أَنْزَلْنَهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا ... (۱۲ : ۲). "ইহা আমিই অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় কুরআন" (১২ঃ ২)।
وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَلَمِينَ .... بِلِسَانِ عَرَبِي مُبِين . "নিশ্চয় আল-কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালক হইতে অবতীর্ণ, ................. অবতীর্ণ করা হইয়াছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়" (২৬ঃ ১৯২...১৯৫) ।৪৪
(৩) এই কুরআন সামগ্রিকভাবে নাযিল করা হইয়াছে, এমনকি কয়েক গণ্ডারও বেশি সংখ্যক আয়াতে ইহা 'কিতাব' (পুস্তক) হিসাবে উল্লিখিত বা বর্ণিত রহিয়াছে। ৪৫. নিম্নে এই ধরনের কতিপয় আয়াত উল্লেখ করা হইল:
تَنْزِيلُ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَّبِّ الْعَلَمِينَ . "এই কিতাব জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই" (৩২:২)।
تَنْزِيلُ الْكِتَبِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ . إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ.. "এই কিতাব অবতীর্ণ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হইতে। আমি তোমার নিকট এই কিতাব যথাযথভাবে অবতীর্ণ করিয়াছি..." (৩৯:১-২)।
اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كتبًا "আল্লাহ অবতীর্ণ করিয়াছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব" (৩৯ : ২৩)।
(৪) ইহা উল্লেখযোগ্য যে, উপরে উল্লিখিত আয়াতে, যাহা নাযিল করা হইয়াছে সেই বক্তব্যকে "বক্তব্য/বাণী" অথবা "পাঠ” (হাদীছ) হিসাবে অভিহিত করা হয়। অনুরূপ বর্ণনা অন্যান্য আয়াতেও উল্লিখিত হয়। উদাহরণস্বরূপ :
فَذَرْنِي وَمَنْ يُكَذِّبُ بِهَذَا الْحَدِيثِ .. "সুতরাং যাহারা এই বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদিগকে আমার হাতে ছাড়িয়া দাও” (৬৮:৪৪)।
فَلْيَأْتُوا بِحَدِيث مِثْلِهِ إِنْ كَانُوا صُدِقِينَ.. “উহারা যদি সত্যবাদী হয় ইহার সদৃশ কোন রচনা উপস্থিত করুক না" (৫২ : ৩৪)। ১৬
(৫) একই সমান গুরুত্বপূর্ণ যে, নাযিলকৃত ওহীকে আল্লাহ্র নির্দেশ (Decree- হুকুম), তাঁহার আদেশ/নির্দেশ (Amr - امر) হিসাবে বর্ণনা করা হয়। "ইহা আল্লাহর বিধান যাহা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করিয়াছেন” (৬৫ : ৫)। উদাহরণস্বরূপ বর্ণনা :
ذلِكَ أَمْرُ اللَّهِ أَنْزَلَهُ إِلَيْكُمْ وَكَذلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا "ইহা আল্লাহ্র বিধান যাহা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করিয়াছেন" (৬৫ : ৫)। "এবং এইভাবে আমি উহা অবতীর্ণ করিয়াছি এক নির্দেশ, আরবী ভাষায়” (১২: ৩৭)।
(৬) ইহা সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে, যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে, উহাকে সুনির্দিষ্টভাবে একটি সূরা বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে। উদাহরণস্বরূপ :
ورَةً أَنْزَلْتُهَا وَفَرَضْتُهَا وَأَنْزَلْنَا فِيهَا أَيْتِ بَيِّنَتِ . "ইহা একটি সূরা, ইহা আমি অবতীর্ণ করিয়াছি এবং ইহার বিধানকে অবশ্য পালনীয় করিয়াছি, ইহাতে আমি অবতীর্ণ করিয়াছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ” (২৪:১)।
يَحْذَرُ الْمُنْفِقُونَ أَنْ تُنَزِّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ.. "মুনাফিকেরা ভয় করে, তাহাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা অবতীর্ণ না হয়..." (৯:৬৪)। ৪৭
(৭) পুনরায় বলা যায় যে, যাহা "প্রেরিত হইয়াছে", তাহাকে যিক্র পরিভাষায় উল্লেখ করা হয় (উদ্ধৃতি, ঘটনা, বর্ণনা, স্মৃতিচারণ)। উদাহরণস্বরূপঃ
اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَاِنَّا لَهُ لَحَافِظُوْنَ. "আমিই কুরআন (যিক্র) অবতীর্ণ করিয়াছি এবং আমিই উহার সংরক্ষক” (১৫ : ৯)।
وَقَالُوْا يَا أَيُّهَا الَّذِيْ نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ اِنَّكَ لَمَجْنُوْنٌ. "উহারা বলে, 'ওহে যাহার প্রতি কুরআন (যিক্র) অবতীর্ণ হইয়াছে। তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ” (১৫ : ৬)।
... وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ. "এবং আমি তোমার প্রতি কুরআন (যিক্র) অবতীর্ণ করিয়াছি মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝাইয়া দিবার জন্য যাহা তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হইয়াছে” (১৬ : ৪৪)।৪৮
(৮) ইহা ছাড়াও "অবতীর্ণ করা বা নাযিল করা" এই পরিভাষার বদলে কুরআনিক ওহী বুঝাইবার জন্য অন্যান্য পরিভাষাও ব্যবহৃত। এই ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা হইল 'ইলকা'; ইহার অর্থ 'প্রকাশ করা, নিক্ষেপ করা, সবেগে নিক্ষেপ করা বা উপর হইতে ছুঁড়িয়া দেওয়া, হুকুম করা' ইত্যাদি, যাহা প্রথমদিকে নাযিলকৃত সূরাসমূহে ব্যবহৃত হইয়াছে। উদাহরণস্বরূপ:
اِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلاً ثَقِيلاً. "আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করিতেছি গুরুভার বাণী” (৭৩ : ৫)।
اُلْقِيَ الذِّكْرُ عَلَيْهِ مِن بَيْنِنَا. অন্য একটি প্রাথমিক পর্যায়ের আয়াতে এই পরিভাষাটি উল্লিখিত হয়: "আমাদিগের মধ্যে কি উহার প্রতি প্রত্যাদেশ হইয়াছে” (৫৪ : ২৫)?
(৯) অনুরূপ গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হইল ওয়াস্সালনা (وَصَّلْنَا), ইহার অর্থ "আমরা পৌঁছাইয়া দিয়াছি"। এই শব্দটি কুরআনের ওহী নাযিল হওয়ার প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হইয়াছে, যেমন:
وَلَقَدْ وَصَّلْنَا لَهُمُ الْقَوْلَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُوْنَ. "আমি তো উহাদিগের নিকট পরপর বাণী পৌঁছাইয়া দিয়াছি, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে" (২৮ : ৫১)।
(১০) অনুরূপভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আয়াতে 'কাসাস্না' (قَصَصْنَا) (আমরা বর্ণনা করিয়াছি) এবং 'নাকুস্সু' (نَقُصُّ) (আমরা বর্ণনা করি) শব্দদ্বয় 'আওহায়না' (أَوْحَيْنَا) (আমরা প্রত্যাদেশ করিয়াছি) এবং 'নূহী' (نوحى) (আমরা প্রত্যাদেশ প্রেরণ করি) শব্দদ্বয়ের অনুরূপ অর্থ বহন করে। উদাহরণস্বরূপ:
تلك القرى نقص عليك من أنبائها "এই সকল জনপদের কিছু বৃত্তান্ত আমি তোমার নিকট বিবৃত করিতেছি” (৭:১০১)।
وكلا نقص عليك من أنباء الرسل . نحن نقص عليك نبأهم بالحق . "রাসূলদিগের ঐ সকল বৃত্তান্ত আমি তোমার নিকট বর্ণনা করিতেছি” (১১: ১২০)। "আমি তোমার নিকট উহাদিগের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করিতেছি” (১৮: ১৩)।৫০
ইহা উল্লেখ্য যে, যেসকল আয়াত বর্ণনা করা হইল উহার সব কয়টিতেই এই পরিভাষাটি "বিবরণ / বর্ণনা" ইত্যাদি (নাবা, আন্না) অর্থে প্রযোজ্য।
(১১) আরও অধিকতর তাৎপর্য রহিয়াছে কতিপয় বক্তব্যের মধ্যে, যেমন: نفرى, নুরিউ "আমরা ইহা পাঠ করিয়াছি”; قرآنا, কারা'না: "আমরা পাঠ করিয়াছি” এবং نتلو ,নাতলু, "আমরা আবৃত্তি করিয়াছি" : نوحى (নূহী) এবং أوحينا (আওহায়না) শব্দের পরিবর্তে উপরিউক্ত শব্দগুলি আসিয়াছে। উদাহরণস্বরূপ:
سنقرئك فلا تنسى . "নিশ্চয় আমি তোমাকে পাঠ করাইব, ফলে তুমি বিস্মৃত হইবে না" (৮৭:৬)।
فإذا قرأته فاتبع قرأنه . "সুতরাং যখন আমি উহা পাঠ করি, তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর" (৭৫: ১৮)।
تلك أيت الله نتلوها عليك بالحق . "এইগুলি আল্লাহ্ আয়াত যাহা আমি তোমার নিকট পাঠ করিতেছি যথাযথভাবে" (৪৫:৬)।৫০
ইহা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উপরে বর্ণিত ৮ ও ৯ ক্রমিক নম্বরে উল্লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, যাহা কিছু রাসূলুল্লাহ -এর প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাকে قول অর্থাৎ আল্লাহর বক্তব্য বা কথা/শব্দ বলে। ৫১ এই পরিভাষাটির ইতোপূর্বে উল্লিখিত হাদীছের (বর্ণনা, বক্তব্য) এবং কালিমাত (শব্দসমূহ)-এর অনুরূপ তাৎপর্য রহিয়াছে। পক্ষান্তরে قل (তুমি বল), এই বক্তব্যটি কুরআনে কমপক্ষে ৩৩২ বার উল্লিখিত হইয়াছে। সুতরাং জোর দিয়া বলা যায় যে, আল্লাহ্র রাসূল আল্লাহ্ পক্ষ হইতেই নির্দেশনা প্রাপ্ত হন।
পুরা বিষয়টির সারমর্ম এই দাঁড়ায় যে, কমপক্ষে অর্ধ ডজন বিভিন্ন ধরনের পরিভাষা কুরআনে ব্যবহৃত হইয়াছে 'ওহী' শব্দের পরিবর্তে রাসূলুল্লাহ -এর নিকট কুরআনের ওহী অবতরণকে বুঝাইবার জন্য। এইসব পরিভাষা পুনরায় আলোচনা করা যাইতে পারে:
(ক) আনযালনা (اَنْزَلْنَا) : "আমরা অবতীর্ণ করিয়াছি": মূল শব্দে বিভিন্ন গঠন কাঠামোয় এবং পুনঃ পুন প্রতিভাত হয় যে, কুরআন একটি "নাযিলকৃত” (তানযীল, মুনায্যাল) বিষয়।
(খ) ওয়াসালনা وَصَلْنَا : "আমরা পৌছাইয়াছি"।
(গ) নুকরিউ/কারা'না (نُفْرى / قرآنًا) : "আমরা ইহা পাঠ করিয়াছি"।
(ঘ) নাতলূ (نتلوا) : "আমরা আবৃত্তি” করিয়াছি।
(ঙ) নুল্কী (نتلقى) : "আমরা নিক্ষেপ করি/পৌছাইয়া দেই”
(চ) নাকুসু (نَقُصُ) : "আমরা বিববরণ দেই/বর্ণনা করি"।
এই শব্দগুলি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যে, যাহা কিছু রাসূলুল্লাহ -এর নিকট নাযিল হইয়াছিল তাহা ছিল সুনির্দিষ্ট পাঠযোগ্য পদ্ধতিতে, কিন্তু প্রমাণাদি কেবল একটি পরিভাষায় সীমাবদ্ধ নহে। ঐ আয়াতসমূহ 'ওহী' পরিভাষার সঙ্গে অন্যান্য পরিভাষা সম্বলিতও ছিল এবং অনেক বর্ণনায় দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয় যে, অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ -এর কাছে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছিল তাহা ছিল এই যে:
(ক) A Quran, কুরআন (পাঠ/আবৃত্তি)।
(খ) A Kitab, কিতাব (পুস্তক/ধর্মগ্রন্থ)।
(গ) A Surah, সূরা (সূরা, অধ্যায়)।
(ঘ) Hadith, হাদীছ (আল্লাহ্র বর্ণনা/বক্তব্য)।
(ঙ) Qawl, কাওল (আল্লাহ্ বাণী/বক্তব্য)।
(চ) Kalimat, কালিমাত (আল্লাহ্ কথাসমূহ)।
(ছ) Hukm, হুম (আল্লাহ্র আদেশ/নির্দেশ)।
(জ) Amr, আম্র (আল্লাহ্র নির্দেশ)।
(ঝ) 'Anba, আন্না (আল্লাহ প্রদত্ত বিবরণ/বর্ণনাসমূহ)।
অবশ্যই উপরিউক্ত পরিভাষা ও শব্দাবলী ছাড়াও কুরআনের ওহী বুঝাইবার জন্য আরও পরিভাষা রহিয়াছে। যাহা হউক, উপরের আলোচনা হইতে ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কুরআনের ওহীর ধরন সম্পর্কে কুরআনী সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ইহার সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের ধারণা পরস্পর বিরোধী। অতএব উদাহরণস্বরূপ বলা যায়:
(ক) কুরআন বলে (এবং প্রামাণ্য বিবরণ অনুরূপ ঘটনার ক্ষেত্রে পুনঃ বর্ণিত) যে, আল্লাহ একজন দূত-ফেরেশতাকে (জিবরীল) কুরআনের ওহীসহ রাসূলুল্লাহ-এর নিকট প্রেরণ করেন। পক্ষান্তরে প্রাচ্যবিদগণ আমাদেরকে বিশ্বাস করাইতে চাহেন যে, রাসূলুল্লাহ-এর নিকট ফেরেশতার আগমন ছিল "সম্ভবত" একটি "বুদ্ধিগত" বিষয় অথবা তাঁহার পক্ষে একটি "কাল্পনিক” দৃশ্য মাত্র!
(খ) কুরআন বলে যে, কুরআনের ওহী প্রাপ্ত হওয়ার প্রাথমিক স্তরে রাসূলুল্লাহ ওহী মুখস্থ করার জন্য তাড়াহুড়া করিয়া তাঁহার জিহ্বা বারবার সঞ্চালন করিতেন। কিন্তু তিনি এইরূপ না করার জন্য (আল্লাহ কর্তৃক) নির্দেশিত হন এবং আল্লাহ তাঁহাকে কুরআন স্মরণে রাখা ও আবৃত্তি বা তিলাওয়াত করায় সক্ষমতা দানের প্রতিশ্রুতি দেন। পক্ষান্তরে প্রাচ্যবিদগণ বলেন যে, রাসূলুল্লাহ-এর অভিজ্ঞতা ছিল "সম্ভবত" একটি 'বাহ্যিক বিষয়' অথবা একটি 'বুদ্ধিগত' বাচনভঙ্গিপূর্ণ বিষয়।
(গ) কুরআন বলে যে, ইহা আল্লাহ্র 'বাণী' (কালিমাত), তাঁহার "বক্তব্য" (কাওল/হাদীছ), 'একটি পুস্তক' (কিতাব), যাহা রাসূলুল্লাহ-এর প্রতি অবতীর্ণ হয় এবং ইহা "সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়" অবতীর্ণ হয়। পক্ষান্তরে প্রাচ্যবিদগণ জোর দিয়া বলেন যে, রাসূলুল্লাহ-এর কেবল বুদ্ধিগত বাচনভঙ্গি ছিল "শব্দাবলী ছাড়া" এবং এমনকি "কোন সুনির্দিষ্ট ভাষা ছাড়া"! সুস্পষ্টভাবে এইরূপ ধারণার কোন সমর্থন কুরআনে বিদ্যমান নাই, যে কোন "তথ্যাদি" দ্বারা ইহা বিন্যস্ত করা হউক না কেন।
ওহী পরিভাষা ও ইহার সমতুল্য পরিভাষাসম্বলিত আয়াতসমূহ ছাড়া কুরআনে অনেক সংখ্যক এমন ঘটনার উল্লেখ করা হইয়াছে যেগুলি সুস্পষ্টরূপে কুরআনের ওহীর ধরন প্রকাশ করে। যেমন:
(১) কুরআন স্বয়ং এবং রাসূলুল্লাহ নিজেও দৃঢ়ভাবে এবং বারবার অবিশ্বাসীদের এই দাবি অস্বীকার করেন যে, ইহা (কুরআন) তাঁহার নিজের রচনা ছিল। বর্ণিত আছে যে, এমন গুরুতর পাপী কেহ নাই যে নিজ হইতে একটি পুস্তক রচনা করিবে এবং ইহাকে আল্লাহ্র রচিত পুস্তক বলিয়া মিথ্যা দাবি করিবে এবং রাসূলুল্লাহ যদি এমন দাবি করিতেন তাহা হইলে তিনি এমন অপরাধমূলক কাজের জন্য কঠিন শাস্তি এড়াইতে পারিতেন না। ৫২
(২) ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট এই ধরনের পুনঃ পুনঃ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান একটি চ্যালেঞ্জস্বরূপ, যাহার সম্পর্কে কুরআন (এবং এমনকি রাসূলুল্লাহ নিজেও) (কুরআনের বিরুদ্ধে) সকল যুগের কুৎসা রটনাকারীদেরকে প্রাপ্ত কুরআনের অনুরূপ একটি গ্রন্থ রচনা করার চ্যালেঞ্জ প্রদান করে। ইহা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য যে, এই চ্যালেঞ্জ পরবর্তী কালে তথাকথিত ইসলামী গোড়াপন্থীদের কোন অনুষঙ্গ নহে, বরং একান্তভাবেই কুরআনের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ। ৫৩ এই চ্যালেঞ্জ অদ্যাবধি উন্মুক্ত। কিন্তু প্রকৃত সত্য এই যে, ইহা ঐ সময়কার চ্যালেঞ্জ যখন কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ উভয়ে 'ইহা তাঁহার রচনা' বলিয়া যে অভিযোগ ছিল তাহা প্রত্যাখ্যান করেন।
(৩) কুরআন আরও বলে যে, ঐ সময়ের অবিশ্বাসী কাফিররা পরোক্ষভাবে স্বীকার করিয়া লয় যে, কুরআন প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ -এর নিজের রচনা নহে। যখন তহারা এই বাস্তবতা উপলব্ধি করিতে সক্ষম হইল যে, তিনি নিজে এই কুরআন রচনা করিতে অপারগ, তখন তাহারা আর একটি বিকল্প অভিযোগ আনিল যে, অন্য কেহ তাঁহার জন্য এই কুরআন রচনা করিয়া দিয়াছে। ঐ অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও খণ্ডন করা হয়। ৫৪
(৪) কাফিরদের পক্ষ হইতে আর একটি পরোক্ষ স্বীকারোক্তি এই ছিল যে, যদিও তাহারা রাসূলুল্লাহ -এর নিকট কিছু সুনির্দিষ্ট অলৌকিক বিষয় প্রদর্শনের দাবি করিয়াছিল কিন্তু তাহারা কুরআনের অসাধারণত্ব সম্পর্কে তাহাদের আশ্চর্যান্বিত হওয়ার বিষয়টি গোপন করিতে পারে নাই। অতএব যখন কোন একটি সূরা অথবা কোন আয়াত তাহাদিগকে পেশ করা হইত তখন তাহারা মন্তব্য করিত যে, ইহা “একটি সুস্পষ্ট মায়া”, “এক সুস্পষ্ট যাদু” (سحر مبین) (৫৫ তাহাদের এই কথার দ্বারা ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, সর্বোপরি তাহারা কুরআনের আয়াতসমূহকে রাসূলুল্লাহ -এর সাধারণ বক্তব্য হিসাবে বিবেচনা করিত না এবং তাহারা আয়াতসমূহকে যে ধরনের রচনা শ্রবণ করিতে অভ্যস্ত ছিল, সেই ধরনের রচনার সঙ্গে তুলনা করার চিন্তাও করিত না।
(৫) ইহা আরও উল্লেখ্য যে, অবিশ্বাসী কাফিররা রাসূলুল্লাহ -কে পুনঃ পুনঃ তাগাদা দিত তাহাদেরকে ভিন্ন ধরনের কুরআন অথবা ইহার পরিবর্তে অন্য কিছু দেওয়ার জন্য। ইহার উত্তরে তিনি তাহাদেরকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, তাঁহার কাছে যাহা ওহী করা হয়, এমনকি ইহার একটি শব্দ পর্যন্ত পরিবর্তন করার কোন ক্ষমতা তাঁহার নাই এবং তিনি নিজে অক্ষরে অক্ষরে ইহার অনুসরণ করিতে বাধ্য। অবিশ্বাসী কাফিরদের এই দাবি সম্পর্কে কুরআন বলেঃ
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيْنَتٍ قَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَبَدَّلَهُ مِنْ تِلْقَائِي نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ .
"যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তাহাদের নিকট পাঠ করা হয় তখন যাহারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তাহারা বলে, তুমি অন্য এক কুরআন আন ইহা ছাড়া অথবা ইহাকে বদলাও। বল, নিজ হইতে ইহা বদলানো আমার কাজ নহে। আমার প্রতি যাহা ওহী হয় আমি কেবল তাহাই অনুসরণ করি" (১০: ১৫)।
উপরের আয়াতের শেষ বাক্যটিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু তাহাই নহে, রাসূলুল্লাহ কুরআন রচনা করেন নাই, এমনকি তিনি ইহার একটি শব্দও পরিবর্তন করার এখতিয়ার রাখেন না। ইহার আদেশ ও নির্দেশ মানিয়া চলা তাঁহার নিজের জন্য অপরিহার্য। ৫৬
(৬) পুনরায়, আল্লাহ্র রাসূল -এর রিসালাত-পূর্ব জীবনের কথা উল্লিখিত হইয়াছে এই বাস্তব তথ্য তুলিয়া ধরার জন্য যে, কুরআন মোটেই তাঁহার রচনাকর্ম ছিল না। অতএব নিম্নলিখিত আয়াত উপরের বর্ণনার সমর্থন করে:
فَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
“বল, আল্লাহ্র সেরূপ অভিপ্রায় হইলে আমি তোমাদিগের নিকট ইহা পাঠ করিতাম না এবং তিনিও তোমাদিগকে এ বিষয়ে অবহিত করিতেন না। আমি তো ইহার পূর্বে তোমাদিগের মধ্যে জীবনের দীর্ঘকাল অবস্থান করিয়াছি। তবুও কি তোমরা বুঝিতে পার না” (১০ : ১৬)?
উপরিউক্ত আয়াত প্রকৃতপক্ষে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করিয়াছে। (এক) ইহা সাধারণত তাঁহার নবুওয়াত-পূর্ব জীবনের চরিত্র ও আচার-আচরণের প্রতি ইঙ্গিত করে, বিশেষ করিয়া তাঁহার সত্যবাদিতা ও সততা সম্পর্কে। এইভাবে ঘটনার প্রতি জোর দিয়া বলা হয় যে, তিনি এমন কোন ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যিনি তাঁহার সম্প্রদায়ের নিকট হঠাৎ করিয়া তাঁহার স্বপক্ষে এক মিথ্যা দাবি নিয়া আবির্ভূত হন এবং তিনি তাঁহার সম্প্রদায়কে যে শিক্ষা দেন তাহাও মিথ্যা ছিল না।
(দুই) ইহা এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে কমপক্ষে তাঁহার চল্লিশ বৎসরের জীবনে তিনি কখনও তাঁহার জনগণের নেতা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নাই, এমনকি তিনি তাঁহার সমাজের সামাজিক-ধর্মীয় সংস্কার সাধনের কোন ইচ্ছাও প্রকাশ করেন নাই।
(তিন) তিনটির মধ্যে সর্বাহইতে গুরুত্বপূর্ণ হইল, তিনি কখনও কোন সাহিত্যিক কৃতিত্ব অথবা উচ্চাকাঙ্খা প্রদর্শন করেন নাই এবং তাঁহার নিকট ওহী আগমনের পূর্বে তিনি আরবী ভাষার একটি বাক্যও রচনা করেন নাই। তিনি বাস্তবতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দান করে। উদাহরণস্বরূপ ইহা সাধারণ জ্ঞানের বিষয় যে, একজন মানুষ, যাহার কোন সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা অথবা প্রশিক্ষণ নাই, তিনি কোনভাবেই একটি প্রথম শ্রেণীর অথবা অতুলনীয় সাহিত্যকর্ম হঠাৎ করিয়া রচনা করিতে পারেন না, এমনকি তিনি যদি অন্য কোন উৎস হইতে সাহিত্য রচনার জন্য ধারণা ও বিষয়বস্তুও প্রাপ্ত হন, তাহা হইলেও সম্ভব নহে।
(৭) কুরআন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্যসমৃদ্ধ, সাম্প্রতিক কালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে যাহার অর্থ ও তাৎপর্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হইতেছে। ১৭ এই উদাহরণ ইহা প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ নিজে অথবা তাঁহার অন্য কোন অনুগত সহকারী এই ধরনের কুরআনের মূল পাঠ রচনা করিতে সক্ষম ছিলেন না।
(৮) সর্বশেষ কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নহে, ফাতরাহ অর্থাৎ ওহী আগমনে বিরতি অথবা সাময়িক বিরতির ঘটনা, যাহা ইতোপূর্বে উল্লিখিত হইয়াছে, ইহা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইহা কোনভাবেই রাসূলুল্লাহ -এর ব্যক্তিত্বের কারণে হয় নাই এবং এমনকি ইহা তাঁহার কোন সচেতন কর্মকাণ্ডের ফলও ছিল না। ইহা যদি অপ্রূপ হইত তাহা হইলে ওহী আগমনে না থাকিত কোন বিরতি এবং ‘ফাতরাহ’র ফলে রাসূলুল্লাহ -এর ঐ সম্পর্কে না থাকিত কোন বিচলিত ভাব ও দুঃখবোধ।
টিকাঃ
৩৯. কুরআনের আয়াত নিম্নরূপ: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَى وَلَمْ يُوْحَ إِلَيْهِ شَيْ وَمَنْ قَالَ سَأُنْزِلُ مِثْلَ مَا أَنْزَلَ اللهُ. "যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা বলে, 'আমার নিকট ওহী হয়, যদিও তাহার প্রতি নাযিল হয় না এবং যে বলে, আল্লাহ যাহা নাযিল করিয়াছেন আমিও উহার অনুরূপ নাযিল করিব, তাহার চেয়ে বড় জালিম আর কে" (৬:৯৩)?
৪০. আয়াতগুলি এইঃ কুরআন ২:২৯; ২:১৭০; ২: ২৩১; ৩:৪৪; ৩:৪৭; ৪:৪৬১; ৪: ১১৩; ৪: ১৩৬; ৪:১৬৬; ৫:৪; ৫:৪৫; ৫:৪৭; ৫:৪৮;৫: ৪৯ (দুইবার); ৫: ১০৪; ৬:৪৯১; ৬:৪৯৩; ৬: ১১৪; ৯:৯৭; ১৬: ২; ১৬: ২৪; ১৬: ৩০; ১৬: ১১০; ১৮:১; ২৫:৬; ৩১: ২১; ৩৬: ১৫; ৪২: ১৫; ৪২: ১৭; ৪৭:৯; ৫৭:৯; ৬৫: ৫ এবং ৬৫:৯।
৪১. আয়াতগুলি নিম্নরূপ: কুরআন ২৪৪১; ২:৯৯; ৪:১০৫; ৪: ১৭৪; ৫:৪৮; ৬:৯২; ৬: ১১৫; ১০:৯৪; ১২: ২; ১৩:৩৭; ১৪:১; ১৬:৪৪; ১৭: ১০৫; ১৭: ১০৬; ২০: ২; ২০: ১১৩; ২১: ১০; ২১:৫০; ২২: ১৬; ২৪: ১; ২৪: ৩৪; ২৪: ৪৬; ২৯:৪৭; ২৯:৫১; ৩৮: ২৯; ৩৯:২; ৩৯:৪১; ৪৪:৩; ৫৮:৫; ৫৯: ২১; ৬৪:৮; ৭৬: ২৩; ৯৭:১।
৪২. আয়াতগুলি নিম্নরূপঃ কুরআন أنزل = ২:৪; ২:৯১; ২:১৩৬; ২:১৮৫; ২: ২৮৫; ৩ঃ ৭২; ৩:৮৪; ৩: ১৯৯; ৪:৬০; ৪: ১৬২; ৫:৬৭; ৫:৭০; ৫:৭১; ৫:৮৪; ৫:৮৬; ৬:১৫৬; ৬:১৫৭; ৭:২; ৭:৩; ৭: ১৫৭; ১১: ১৪; ১৩: ১; ১৩: ১৯; ১৩: ৩৬; ২৯:৪৬; ২৯:৪৬; ৩৮:৮; ৩৯:৫৫; ৪৬:৩০। أنزلت ৯:৮৬; ৯:১২৪; ৯:১২৭; ২৮:৮৭; ৪৭ : ২০ । نزل = ১৫:৬; ১৬:৪৪ ২৫: ৩২; ৪৩: ৩১; ৪৭ : ২। نزلت = ৪৭:২: ৮৭২01। تنزل = ২:১৫০৫; ২:১৫০৮। يُنزل = ৬:৬৮।
৪৩. আয়াতগুলি নিম্নরূপঃ কুরআন ৬:১১৪; ১৭:১০৬; ২০:৪; ২৬:১৯২; ৩২:২; ৩৬:৫; ৩৯:১; ৪০:২; ৪১:৪২; ৪৫: ২; ৪৬: ২; ৫৬:৮০; ৬৯:৪৩; ৭৬: ২৩।
৪৪. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ১৩: ৩৭; ১৬: ১০৩; ১৯:৯৭; ২০: ১১৩; ৩৯: ২৮; ৪১: ৩; ৪২: ৭ এবং ৪৩: ৩।
৪৫. উদাহরণস্বরূপ আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ২:১৭৬; ২: ২৩১; ৩:৪৩; ৩:৪৭; ৪:১৫৫; ৪: ১১৩; ৪: ১৩৬; ৪: ১৪০; ৫:৪৮; ৬:৯২; ৬:১৫৫; ৭:২; ৭: ১৯৬; ১৪:১; ১৫:৬; ১৫:৯; ১৬:৪৪; ১৬:৬৪; ১৬:৮৯; ১৭:১০৬; ১৮:১; ২০:২; ২১৪ ১০; ২৯:৪৭; ২৯: ৫১; ৩৮: ২৯; ৩৯:৪১; ৪২: ১৫; ৪২: ১৭; ৪৫: ২; ৪৬: ৩০।
৪৬. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ৭: ১৮৫; ১৮:৬; ৪৫:৪৬; ৫৩:৫৯; ৫৬:৮১ এবং ৭৭:৫০।
৪৭. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ৯:৮৬; ৯:১২৭; এবং ৪৭: ২০।
৪৮. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ৭ : ৬৩; ৭: ৬৯; ১২:১০৪; ২১:২; ২১৪৫০; ২৬:৫; ৩৬:১১; ৩৬:৬৯; ৩৮:১; ৩৮:৮; ৩৮:৪৯; ৩৮:৮৭; ৪১৪৪১; ৪৩:৫; ৪৩:৪৪; ৫৪: ২৫; ৬৮: ৫১; ৬৮: ৫২ এবং ৮১: ২৭।
৪৯. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ৪: ১৬৪; ৬:৫৭; ১১:১০০; ১২:৪৩; ১৬:১১৮; ১৮: ১৩; ২০: ৯৯ এবং ৪০ ৭৮।
৫০. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ২৪ ২৫২; ৩: ২৮; ৩: ১০৮।
৫১. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ১৮: ৩৯; ২৩: ৬৮; ৬৯: ৪০; ৮১: ১৯সং এবং ৮৬: ১৩।
৫২. কুরআন ৩:৯৪; ৬:২১; ৬:৯৩; ৬:১৪৪; ৭:৩৭; ১০:৩৭; ১০; ৩৭-৩৮; ১০: ৬৯; ১১:১৩; ১১:১৮; ১১:৩৫; ১৬:১১৬; ১৮:১৫; ২১৪৫; ২৫:৪; ২৯:৬৮; ৩২৪ ৩; ৪২: ২৪; ৪৬:৮; ৬১৪৭ এবং ৬৯: ৪৪-৪৭।
৫৩. কুরআন ২: ২৩; ১১: ১৩; ৫২৪৩৪।
৫৪. কুরআন ১৬: ১০৩; আরও দ্রষ্টব্য, Supra, পরিচ্ছেদ ১১, সেকশন ৪।
৫৫. উদাহরণস্বরূপ দ্রষ্টব্য কুরআন ৫:১১০; ৬: ৭; ১০: ৭৬; ১১৪ ৭; ২১৪৩; ২৭: ১৩; ৩৪:৪৩; ৩৭: ১৫; ৪৩: ৩০; ৪৬: ৭; ৫২: ২; ৬: ১৬ এবং ৭৪: ২৪।
৫৬. আরও দ্রষ্টব্য কুরআন ৬: ১০৬; ৭: ২০৩ এবং ৪৬: ৯।
৫৭. Supra, পরিচ্ছেদ ১২, সেকশন ২।
৫৮. ফুরআন ২১:৫।