📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আট: হযরত খাদীজা (রা) এবং ওয়ারাকার নিকট হইতে উৎসাহ লাভ

📄 আট: হযরত খাদীজা (রা) এবং ওয়ারাকার নিকট হইতে উৎসাহ লাভ


ওয়াট আলোচনার শেষ উপ-শিরোনামে তাহার আলোচনা শুরু করেন এই বিষয়ের উপর জোর দিয়া যে, "হযরত খাদীজা (রা) কিভাবে হযরত মুহাম্মাদকে আশ্বাস দেন সেই বর্ণনা বাতিল করার কোন কারণ নাই"। ওয়াট তাহার বক্তব্য অব্যাহত রাখিয়া বলেন, ইহা এই প্রদর্শন যে, “এই পর্যায়ে মুহাম্মাদ-এর আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল"। তিনি পরে বেল্-এর ধারণার সঙ্গে এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করিয়া বলেন যে, নামূস সম্পর্কিত প্রকাশভঙ্গির নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে সন্দেহ পেষণ করার কোন জোরালো কারণ নাই। ওয়াট যুক্তি প্রদর্শন করিয়া বলেন, নামূস শব্দটির ব্যবহার কুরআনে তাওরাতের উল্লেখ, বরং ইহার বিশুদ্ধতার একটি যৌক্তিক উদাহরণ। ওয়াট তখন বলেন যে, ওরাকার নিকট হইতে "পুননিশ্চিতকরণই ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়"। ইহা মুহাম্মাদ-কে তাঁহার অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে উপনীত করার" প্রেরণা লাভ করেন। যেমন ইহা ছিল "তাঁহার অভ্যন্তরীণ উন্নতির ব্যাপারে অনেক গুরুত্ববহ"। ইহা হইতে আরও বুঝা যায় যে, "তিনি প্রাথমিক অবস্থায় দ্বিধাপূর্ণ স্বভাবের ছিলেন"। ওয়াট বর্ণনার শেষদিকে এই মন্তব্য করেন, মনে হয় তিনি এই ব্যাখ্যা করিতে চেষ্টা করেন যে, ওয়ারাকা কেন মুসলমান হইলেন না, যদিও তিনি মুহাম্মাদ-এর নবৃওয়াত (অনুমোদন) করিয়াছিলেন। ৮৩
ইতোমধ্যে ইহা উল্লেখ করা হইয়াছে৮৪ যে, নামূস শব্দটির ব্যবহার বর্ণনার বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ। ওয়াট ইহা ব্যাখ্যা করিয়া বলেন নাই, কেন পরবর্তী বর্ণনাকারীগণ অথবা তথ্য প্রদানকারীগণ ওরাকাকে রক্ষা করার জন্য এত আগ্রহী ছিলেন এবং ইহাও ব্যাখ্যা করেন নাই যে, তিনি (ওয়ারাকা) কেন মুসলমান হন নাই? যদি তাহারা বাস্তবিক বর্ণনার সঙ্গে কিছু যোগ করিতেন অথবা বর্ণনাটির পরিশোধন করিতেন তাহা হইলে তাহারা আরও সঙ্গতভাবেই বর্ণনার ঐসব উদ্দেশ্য অনুযায়ী তাহা করিতেন, যেমন ওয়াট বর্ণনা করেন, তাহাদের রাসূল সম্পর্কে এই বক্তেব্যের মাধ্যমে যে, তিনি আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং দ্বিধাপূর্ণ স্বভাবের ব্যক্তি ছিলেন। প্রকৃত ঘটনা এই যে, এই বর্ণনার উভয় অংশের কোন একটিও পরবর্তী কালে "অনুমান কল্পনার সংযোজন নহে”। সার্বিকভাবে ঘটনা এই সত্য তুলিয়া ধরে যে, মুহাম্মাদ-এর হেরায় নির্জন অবস্থানের পিছনে উদ্দেশ্য যাহাই থাকুন না কেন এবং তাহানুছ-এর ধরন যাহাই হউক না কেন, ওহী আগমনের বিষয়টি তাঁহার নিকট অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক ছিল এবং তাঁহার লোকজানের নিকট নিজেকে রাসূল হিসাবে ঘোষণা করার ব্যাপারে তাঁহার না কোন পরিকল্পনা ছিল এবং না কোন প্রস্তুতি ছিল।

বেল্-এর মত ওয়াটও এই চিন্তা করেন যে, নামুস (Nåmus) শব্দটি গ্রীক শব্দ nomos হইতে উদ্ভূত এবং ইহার অর্থ "আইন অথবা ওহীকৃত ধর্মশাস্ত্র"। ওয়াট বলেন, ওয়ারাকার মন্তব্যসমূহ এইভাবে মুহাম্মাদ সম্পর্কে কথিত : তিনি "ওহী পাইতে শুরু করেন" এবং তাহারা ইহা বুঝেন যে, তাঁহার নিকট যাহা আসে তাহা ইয়াহুদী এবং খৃষ্ট ধর্মের সঙ্গে অভিন্ন বা একই শ্রেণীভুক্ত ছিল এবং তিনি একটি সম্প্রদায়ের গোড়াপত্তনকারী অথবা আইন প্রবর্তনকারী হইতে পারেন। ৮৫

রাসূলুল্লাহ সম্পর্কে ওয়ারাকার মন্তব্য ছিল তাঁহার নিকট প্রথম ওহী আগমনের পর, অনেক কয়টি ওহী আগমনের পরে নহে। যদি তিনি অনেক কয়টি ওহী লাভ করিয়া থাকিতেন তাহা হইলে সেই বিষয়ের সঙ্গে তিনি সম্যক পরিচিত হইয়া যাইতেন। প্রাথমিক আকস্মিকতা অথবা অনিশ্চয়তার সমাপ্তি ঘটিয়া যাইত এবং আলোচনার জন্য তাঁহার ওয়ারাকার নিকট যাওয়ার কোন প্রয়োজন হইত না। পক্ষান্তরে যদি ওয়ারাকা তাহাই বুঝাইতে চাহিতেন যাহা ওয়াট চিন্তা করেন, তাহা হইলে এইরূপ করার গভীর কারণ থাকিত। ইহা কল্পনাতীত যে, ওয়ারাকার মত বুদ্ধিমান, জ্ঞানবান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব এক স্বল্প পরিচিত ও তাঁহার আত্মীয়ের নিকট হইতে এক অসাধারণ বর্ণনা শ্রবণের পর লক্ষ দিয়া উপসংহারে চলিয়া যাইবেন যে, একটি আইন অথবা ধর্মশাস্ত্রের সঙ্গে ইয়াহুদী ও খৃস্টানের মধ্যে তুলনীয় তাহা তাঁহার নিকট আসিতে শুরু করিয়াছে। ওয়ারাকা তাঁহার উল্লিখিত মন্তব্যের পূর্বেই দুইটি বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন। তিনি প্রাচীন ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে একটি ধারণা প্রাপ্ত ছিলেন যে, ঐ ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্যসমূহ অন্য একজন দূত আগমনের তাহার প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হওয়ার সুসংবাদ রহিয়াছে। মুহাম্মাদ-এর পূর্ব ঘটনা ও বৈশিষ্ট্যের জ্ঞান দ্বারা ওয়ারাকার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, মুহাম্মাদ একজন দূত (রাসূল) হওয়ার যোগ্যতার অধিকারী। পরে যখন তিনি তাঁহার অসাধারণ অভিজ্ঞতার কথা ওয়ারাকার নিকট প্রকাশ করেন, তিনি দ্রুত উপসংহারে আসিয়া বলেন যে, অতীতের ওহী নাযিল ও একজন রাসূলের আগমন সম্পর্কে প্রাচীন ধর্মশাস্ত্র হইতে যাহা তিনি জানেন যে, মুহাম্মাদ বিশ্বাসী, বিশ্বাসযোগ্য এবং সত্যবাদী হিসাবে আল্লাহ্ মিশন ও ওহী লাভ করিয়াছেন।

'নামূস' শব্দটির অর্থ ও উৎস যাহাই হউক না কেন, ইহা যেমনভাবে ওয়ারাকা কর্তৃক ব্যবহৃত হইয়াছে, যাহার মুহাম্মাদ -এর নিকট আগমনের ব্যাপারে কোন সন্দেহ ছিল না এবং ঐ সম্পর্ক কেবল এই শব্দসমূহের জন্য নহে যাহা তিনি প্রাপ্ত হন, বরং ইহা ছিল এক অসাধারণ ঘটনা ও পরিবেশের জন্যও বটে। এই অসাধারণ ঘটনা ছিল সেই সত্তার উপস্থিতি, যিনি এই শব্দসমূহ অবতরণ করেন। ইহা ছিল এই "উপস্থিতি” যাহা মুহাম্মাদ-এর আশ্চর্য ও হতবুদ্ধিতার কারণ ছিল এবং যাহা তাঁহাকে এবং তাঁহার স্ত্রীকে সম্প্রদায়ের একজন জ্ঞানী লোকের নিকট ইহার ব্যাখ্যার জন্য লইয়া যায়। ইহা যদি মুহাম্মাদ-এর শ্রুত শব্দসমূহ হইত অথবা তাঁহার অভ্যন্তরীণ বাচনভঙ্গি হইত ধারণাগত অথবা বুদ্ধিগত, তাহা হইলে ইহা তাঁহার আশ্চর্যান্বিত হওয়ার এবং ভয় পাওয়ার কারণ হইত না। এই "উপস্থিতি" অথবা "দর্শন” এইভাবে আহ্বান শুরুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। নামূস এই বৈশিষ্ট্য এবং প্রাপ্ত শব্দসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করে।

ওয়ারাকার 'নামূস' শব্দটির ব্যবহার অন্যান্য ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিক বর্ণনায় ইহা পরিষ্কার যে, প্রথম ব্যক্তিত্ব তাঁহারাই ছিলেন যাহাদের নিকট মুহাম্মাদ তাঁহার অসাধারণ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন, তাঁহারা ছিলেন হযরত খাদীজা (রা) ও ওয়ারাকা। তিনি যদি দাবি করিতেন অথবা তাঁহার দর্শনকে আল্লাহ্র দর্শন বলিয়া ব্যাখ্যা করিতেন তাহা হইলে ওয়ারাকা তাহার ইয়াহুদী ও খৃষ্ট ধর্মশাস্ত্রের জ্ঞান দ্বারা ইহাকে একটি ধারণা হিসাবে এবং ভুল হিসাবে সরাসরি নাকচ করিয়া দিতেন এবং ইহা মুহাম্মাদ-এর জন্য অথবা বিংশ শতাব্দীর কোন পণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক এই ভুল ধরাইয়া দেওয়ার জন্য রাখিয়া যাইতেন না। ইহার নামূসের উৎস ও অর্থ যাহাই হউক না কেন "আল্লাহ্র দর্শন” অর্থে 'নামুস' শব্দটি প্রযোজ্য হইতে পারে না।

ওয়ারাকার আশ্বাস বাণীর উপর গুরুত্ব দেওয়ার পর ওয়াট বলেন, “প্রথম” ওহীর উপসংহারমূলক শব্দাবলী, যেমন "যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দেন, তিনি মানুষকে শিক্ষা দেন যাহা সে জানিত না", এই ওহী "পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশে"র প্রতি ইঙ্গিত করে। "পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশ” -এর দ্বারা ওয়াট আদি পুস্তক (Old Testament) এবং নূতন পুস্তক (New Testament) বুঝাইতে চাহেন এবং যুক্তি দিয়া বলেন যে, রাসূলুল্লাহ-এর এই কথা বলার কোন ক্ষেত্র ছিল না যে, আল্লাহ "কলমের ব্যবহার শিখাইয়াছেন", যদিও তিনি না পড়িতে পারিতেন, না লিখিতে পারিতেন। যেহেতু তিনি ওয়ারাকার ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিলেন, যিনি তাঁহার খৃস্ট ধর্মশাস্ত্রের অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন, মুহাম্মাদ তাঁহার নিকট হইতে "অনেক সাধারণ বৈশিষ্ট্য" শিখিয়াছিলেন। এইজন্য তিনি যখন এই সূরা পুন উচ্চারণ করেন, ইহা অবশ্যই তাঁহাকে "পুনরায় স্মরণ করাইয়া দেয় যাহার ব্যাপারে তিনি ওয়ারাকার নিকট ঋণী ছিলেন"। "পরবর্তী ইসলামী ধারণাসমূহ" বর্ণনার পর ওয়াট উপসংহার টানিয়া বলেন, "ইহা ব্যাপকভাবে ওয়ারাকার ধারণাসমূহের ছাঁচে গঠিত অর্থাৎ মুহাম্মাদ-এর নিকট আগত প্রত্যাদেশ পূর্বে আগত প্রত্যাদেশের ধারাবাহিকতা”। ৮৬

বলা বাহুল্য, যে কোন প্রাচ্যবিদের জন্য ইহা দুর্লভ সুযোগ, যিনি যখন, রাসূলের ওয়ারাকার সঙ্গে আলোচনার সুপরিচিত বর্ণনা উদ্ধৃত করার সুযোগ পান, তখন তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করিবার জন্য ইহা বলিতে কসুর করেন না যে, কুরআন এবং ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞান পেশ করিতে রাসূলুল্লাহ অনেক কিছুই ওয়ারাকার নিকট হইতে শিক্ষা লাভ করিয়াছিলেন।

পূর্বের ধর্মীয় পদ্ধতি হইতে সাধারণ ধারণা গ্রহণ করা, বিশেষ করিয়া ইয়াহুদীবাদ ও খৃস্টবাদ হইতে ধারণা গ্রহণ করার প্রাচ্যবিদদের দাবি পূর্বে খণ্ডন করাসহ আলোচিত হইয়াছে। ৮৭ এইখানে আমরা কেবল ওয়াট-এর উপরে উল্লিখিত কতিপয় মন্তব্য আলোচনা করিব। এই বক্তব্যটি "যিনি কলমের দ্বারা শিক্ষা দিয়াছেন" অথবা "যিনি কলম ব্যবহারের শিক্ষা দান করিয়াছেন" (এই দুইটি অনুবাদের মধ্যে অর্থের পার্থক্য খুবই কম) বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্রে কেবল জোর দেওয়া বুঝায় না। এই আয়াত সার্বিকভাবে একদিকে এই কথার উপর জোর দেয়, যেমন ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হইয়াছে, মানুষের মূল উৎস এবং সৃষ্টি সম্পর্কে তাহার মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক উন্নতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হইল তাহার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা। মানুষের মূল উৎস ও সৃষ্টির জন্য তাহার ঋণকে স্মরণ করাইয়া দেওয়ার চাইতে প্রত্যাদেশের জন্য আর কোন ভাল কিছুই শুরু করার নাই এবং যে গুণ তাহাকে অন্যান্য সৃষ্টি হইতে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করিয়াছে, তাহা হইল একমাত্র আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা। এই ধারণায় কলমের উল্লেখের বিষয়টি এইখানে প্রতীকীমাত্র।

পক্ষান্তরে ইহা এই গুরুত্বও বহন করে যে, রাসূলুল্লাহ -এর প্রতি যাহা নাযিল হইয়াছিল তাহা ছিল ধর্মশাস্ত্রের প্রারম্ভিক বিষয়, তাহা পঠন ও আবৃত্তির মাধ্যমে এবং কলমের সাহায্যে তাহা সংরক্ষণ ও প্রচারের ব্যবস্থা করিতে হইবে। রাসূলুল্লাহ নিজে লিখার যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন কি না ইহা বিবেচ্য বিষয় নহে। যাহা হউক, এই ক্ষেত্রেও ওয়াট-এর যুক্তি আমাদেরকে কোন দিকেই অগ্রসর করে না। যেমন ওয়াট ধারণা দেন, যদি সূরা ‘ইকরা’ কেবল মুহাম্মাদ -কে স্মরণ করাইয়া দেয় যখন তিনি ইহা পুনরুল্লেখ করেন, "যাহার ব্যাপারে তিনি ওয়ারাকার নিকট ঋণী", তখন তাঁহার ওয়ারাকার নিকট সম্পূর্ণ বিষয়ের ব্যাখ্যার জন্য যাওয়ার কোন কারণ থাকিত না। পক্ষান্তরে যদি ওয়ারাকা অনেক কিছু বিষয় শিক্ষা দিতেন, তাহা হইলে তিনি যে মন্তব্য করিয়াছিলেন তাহা তিনি করিতেন না। তিনি কেবল ইহাই বলিতেন, ইহা তো যাহা তিনি অনেক পূর্ব হইতে মুহাম্মাদ -কে শিক্ষা দিয়াছিলেন এবং তিনি সব কিছুর পর সত্য উপলব্ধি করিতে সক্ষম হইয়াছেন। এই ধারণা দেওয়ার সময় যে, রাসূলুল্লাহ ওয়ারাকার নিকট হইতে অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করিয়াছেন। ওয়াট এবং অন্যান্য প্রাচ্যবিদগণ নিজেদেরকে সহজ প্রশ্নটি করেন না, ওয়ারাকা কেন মুহাম্মাদ -এর নূতন ধর্মশাস্ত্র ও নূতন ধর্মের পরিকল্পনা প্রণয়নের গোপন সংবাদ জ্ঞাত হওয়ার চেষ্টা করেন নাই। তাহারা এই প্রশ্নও পরিহার করেন যে, রাসূলুল্লাহ -এর দিক হইতে পাঠ শিক্ষা করা যুক্তিসঙ্গত এবং এইভাবে তাঁহার প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করা এবং তাঁহার নিজের পরিকল্পনাসমূহ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরে অন্যদেরকে তাঁহার গোপন বিষয়াদি জানানো কি অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হইত না? যদি "পরবর্তী ইসলামিক ধারণাসমূহ" যেমন মুহাম্মাদ -এর প্রতি আগত প্রত্যাদেশ-এর সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশসমূহের সম্পর্ক” ওয়ারাকার ধারণাসমূহের ছাঁচে গঠিত হইয়াছিল। এই ধরনের ধারণাসমূহ পরবর্তীতে তাঁহার পূর্ববর্তী ধর্মশাস্ত্রের অধ্যয়ন হইতে অবশ্যই উদ্ভূত হইত। ইসলামী ধ্যান-ধারণা এইভাবে কেবল বাইবেলের পুরাতন নিয়ম ও নূতন নিয়ম-এর শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকিত এবং ঐ বিষয়ে প্রাচ্যবিদগণের এই বিশেষ ধারণার কার্যকারিতা ও সত্যতার স্বীকৃতিদানে কোন অসুবিধা থাকিত না, বিশেষ করিয়া মৌল একত্ববাদ ও সকল প্রত্যাদিষ্ট ধর্মশাস্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক। যদি "পরবর্তী ইসলামী ধারণার দ্বারা" এই বুঝায় যে, মুহাম্মাদ -এর নিকট প্রত্যাদিষ্ট ওহীর সঙ্গে পূর্বে প্রত্যাদিষ্ট ওহীর সম্পর্কের ধারণা রাসূলুল্লাহ -এর সময়ের পরে উন্নতি লাভ করে, তাহা হইলে এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল হইবে। কারণ এই সম্পর্কের কথা স্বয়ং কুরআনে অত্যন্ত জোর দিয়া বলা হইয়াছে এবং উহা অনুরূপভাবে ৮৭ : ১৮-১৯ আয়াতদ্বয়ে সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে: "ইহা তো আছে পূর্ববর্তী গ্রন্থে, ইবরাহীম ও মূসার গ্রন্থে"। পক্ষান্তরে যদি "পরবর্তী" শব্দটি এই অর্থ বুঝায় যে, রাসূলুল্লাহ পরবর্তী সময়ে তাঁহার নিকট "প্রত্যাদিষ্ট ওহীকে পূর্ববর্তী ওহীর" সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন, পরে তাঁহার নিকট এই বিষয়টি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয় এবং ইহা প্রমাণ করার জন্য এত কষ্ট করার কোন প্রয়োজন থাকে না। প্রকৃতপক্ষে এই প্রশ্ন সম্পর্কে গভীরভাবে অনুসন্ধান করার অধিকতর প্রয়োজন রহিয়াছে যে, তিনি যাহা দাবি করিয়াছেন তাহা ভিন্ন বা নূতন প্রত্যাদেশ যাহা তিনি প্রাপ্ত হইয়াছেন অথবা তিনি দাবি করিয়াছেন যে, যাহা তিনি প্রাপ্ত হইয়াছেন তাহাও প্রথমে নাযিলকৃত ওহী সম্বলিত ছিল কিন্তু মানবীয় দোষত্রুটি অথবা ভুলের কারণে তাহা বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে।

টিকাঃ
৭৫. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৯-৫০।
৭৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪১।
৭৭. প্রাগুক্ত, পৃ. ৫০।
৭৮. প্রাগুক্ত।
৭৯. প্রাগুক্ত।
৮০. প্রাগুক্ত।
৮১. Supra, পৃ. ৩৭০-৩৭৫; ৩৮৪-৩৮৫।
৮২. ওয়াট, op. cit., পৃ. ৪৯।
৮৩. প্রাগুক্ত, পৃ. ৫১।
৮৪. Supra, পৃ. ৪২৫-৪২৬।
৮৫. ওয়াট, op. cit., পৃ. ৫১।
৮৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ৫১-৫২।
৮৭. Supra, পরিচ্ছেদ ১১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00