📄 ছয়: হযরত জিবরাঈল (আ) সম্পর্কে ধারণা
রিচার্ড বেল্-এর ৫ম ধারণা, যেমন ৮১: ১৯-২৭ নং আয়াত তাহাকে (জিবরাঈলকে) একজন "মহান দূত” বলা হয়, এবং রাসূলুল্লাহ তাঁহার নবী জীবনের পরবর্তী সময়ে
জিবরাঈল (আ)-কে ওহী আনয়নকারী হিসাবে আখ্যায়িত করেন। এবং এইজন্য ৫৩: ১-১৮ আয়াতের ব্যাখ্যাকে প্রভাবিত করার উচিত নহে যাহা ইতোমধ্যে ভুল প্রমাণিত হইয়াছে। দুইটি ভিত্তির উপর বেল-এর এই ধারণা দাঁড় করানো আছে। যেমন (এক) রাসূলুল্লাহ প্রাথমিক অবস্থায় ফেরেশতার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না; (দুই) তিনি অবিশ্বসীদেরকে এই কথাটি বলা পরিহার করিতেন যে, একজন ফেরেশতা তাঁহার নিকট আল্লাহ্ বাণী পৌঁছান, এই কথা সম্পূর্ণ ভুল। এইজন্য ৫২: ১-১৮ আয়াতের ব্যাখ্যার জন্য ৮১: ১৯-২৭ আয়াত আলোচনায় আনা হইয়াছে।
বেল্-এর ধারণাসমূহের শেষ প্রকারটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করে, যেমন জibraঈল (আ) ওহী আনয়নকারী হিসাবে কেবল মদীনায় আবির্ভূত হইয়াছিলেন। এক্ষণে এই বিষয়টি নিম্নের বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যাইতে পারে :
(ক) ফেরেশতারা মক্কায় রাসূলুল্লাহ এবং তাঁহার সমসাময়িকদের নিকট তাঁহার মিশনের শুরুতেই পরিচিত ছিলেন।
(খ) তাহারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলুল্লাহ-এর মধ্যে দৌত্যকর্ম পালনকারী হিসাবে আখ্যায়িত হইতেন।
(গ) মক্কায় ইহা সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করা হইয়াছিল যে, একজন "মহান দূত” ওহীকৃত মূল পাঠ (কুরআন) রাসূলুল্লাহ-এর নিকট লইয়া আসিতেন।
(ঘ) রাসূলুল্লাহ এই দাবি করার পর মক্কায় অধিবাসীরা এক বিপরীত দাবি নিয়া দৃশ্যপটে আসে এবং বলে যে, একজন ফেরেশতাকে দূত হিসাবে অথবা মুহাম্মাদ -এর সঙ্গে একজন সহকারী দূত হিসাবে প্রেরণ করা উচিত।
(ঙ) ওহী আগমন সংক্রান্ত হাদীছ এবং সুনির্দিষ্টভাবে ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আ) ওহী আনয়নকারী হিসাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি পরবর্তী কালের উদ্ভাবন নহে, যেমন বেল্ মনে করেন।
(চ) এমনকি মক্কায়ও আরবের যে কোন স্থানে বসবাসকারী খৃস্টানরা বিশ্বাস করিত এবং জানিত যে, জিবরাঈল (আ) একজন ফেরেশতা যিনি আল্লাহ্ ওহী তাঁহার রাসূলদের নিকট লইয়া আসিতেন।
এইসব প্রামাণ্য ঘটনার আলোকে ইহা বলা সমীচীন নহে যে, রাসূলুল্লাহ মদীনায় আগমনের পরই জিবরাঈল (আ) তাঁহার নিকট পরিচিত হন।
জিবরাঈল (আ) তাঁহার এই 'জিবরাঈল' নামের দ্বারা পবিত্র কুরআনে তিনবার চিহ্নিত হন এবং এই তিনটি স্থানই মাদানী সূরার অন্তর্ভুক্ত, যেমন ২: ৯৭; ২ঃ ৯৮ এবং ৬৬:৪। এই তিনটি স্থানের কেবল একটি স্থানে (২:৯৭) হযরত জিবরাঈল (আ)-কে ওহী অবতরণকরী হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে। এই আয়াতের শব্দ প্রয়োগে ইহা সুস্পষ্ট যে, কতিপয় বিষয়ে জিবরাঈলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তির উত্তরে এই আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং জিবরাঈল সম্পর্কে
কতিপয় বক্তব্য এই আয়াতের পূর্ববর্তী আয়াতে প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই সূরায় ওহী অবতরণ সংক্রান্ত সকল বর্ণনা এই বিবরণের সঙ্গে একমত যে, যখন মদীনায় ইয়াহুদীরা এই কথা জানিতে পারিল যে, রাসূলুল্লাহ এই যৌক্তিক দাবি করেন যে, ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আ) তাঁহার নিকট ওহী লইয়া আসেন, তখন তাহারা ফেরেশতা জিবরাঈলের প্রতি তাহাদের বিদ্বেষ প্রকাশ করিল এবং বলিল যে, রাসূলুল্লাহ যদি এই কথা বলেন যে, ফেরেশতা হযরত মীকাঈল ওহী আনয়নকারী ছিলেন তাহা হইলে তাহারা তাঁহাকে (রাসূলুল্লাহ -কে) অনুসরণ করিবে। এই কারণে ইয়াহুদীদের আপত্তির উত্তর এই আয়াতে প্রদান করা হইয়াছে। ৫৬ এই আয়াত ও ইহার প্রেক্ষাপট, যাহা বর্ণনা দ্বারা জানা গেল তাহা এই তথ্য নির্দেশ করে না যে, জিবরাঈল (আ)-এর নাম এই স্থানেই প্রথমবারের মত ওহী আনয়নকারী হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
তদুপরি প্রকৃত ঘটনা এই যে, জিবরাঈল (আ) তাহার এই নামে আখ্যায়িত হওয়ার কথা কেবল মাদানী সূরায় উল্লিখিত হওয়া এই কথা বুঝায় না যে, মক্কী সূরায় তাঁহার (জিবরাঈল) সম্পর্কে কোন তথ্যনির্দেশ নাই। প্রকৃতপক্ষে 'রাসূল কারীম' (একজন মহান/সম্মানিত দূত) অভিধাটি যে ৮১: ১৯ আয়াতে এবং 'শাদীদুল কুওয়া' (ক্ষমতায় শক্তিশালী একজন) অভিধাটি ৫৩: ৩ আয়াতে বর্ণিত হইয়াছে, সকল তাফসীরকার এই দুইটি অভিধার দ্বারা জিবরাঈল (আ)-কে বুঝান। ইহার দ্বারা মনে হয় যে, 'শাদীদুল কুওয়া' এবং জিবরাঈল পরিভাষা দুইটি সমার্থক। কাহারও মতে 'জিবরাঈল' একটি যৌগিক শব্দ, যাহা জার এবং ইল শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত, ইহার অর্থ "আল্লাহর সাহসী বীর" অথবা "আল্লাহর দাস"। জার শব্দটি হিব্রু ভাষায় Geber যাহার অর্থ “একজন দাস/চাকর” এবং II-এর অর্থ "শক্তিশালী" "ক্ষমতাশালী" অর্থাৎ আল্লাহ। ৫৭ অনুরূপ রূহ্ আল-কুদ্স্স (পবিত্র আত্মা) ৫৮ অভিধাটি ১৬: ১০২ আয়াতে এবং আর-রূহুল আমীন (বিশ্বস্ত আত্মা) ২৬: ১৯৩ আয়াতে উল্লিখিত হইয়াছে। এই দুইটি শব্দের দ্বারাও মুফাসসিরগণ সর্বসম্মতভাবে জিবরাঈলকে বুঝাইয়াছেন। ইহাও বলা আবশ্যক যে, 'নামূস' পরিভাষাটি হাদীছে উল্লিখিত হইয়াছে, ইহার অর্থ বিশ্বস্ত অথবা গোপনীয় ফেরেশতা। ৫৯ এইভাবে কুরআন ও হাদীছ এই বিষয়ে কোন পার্থক্য করে না। উভয়টিতে জিবরাঈল (আ)-কে নবী-রাসূলগণকে পৃথিবীতে প্রেরণের মিশন শুরু হওয়ার পর হইতে ওহী আনয়নকারী হিসাবে আখ্যায়িত করা হইয়াছে।
রিচার্ড বেল্-এর ৫ম ধারণা, যেমন ৮১: ১৯-২৭ নং আয়াত তাহাকে (জিবরাঈলকে) একজন "মহান দূত” বলা হয়, এবং রাসূলুল্লাহ তাঁহার নবী জীবনের পরবর্তী সময়ে
জিবরাঈল (আ)-কে ওহী আনয়নকারী হিসাবে আখ্যায়িত করেন। এবং এইজন্য ৫৩: ১-১৮ আয়াতের ব্যাখ্যাকে প্রভাবিত করার উচিত নহে যাহা ইতোমধ্যে ভুল প্রমাণিত হইয়াছে। দুইটি ভিত্তির উপর বেল-এর এই ধারণা দাঁড় করানো আছে। যেমন (এক) রাসূলুল্লাহ প্রাথমিক অবস্থায় ফেরেশতার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না; (দুই) তিনি অবিশ্বসীদেরকে এই কথাটি বলা পরিহার করিতেন যে, একজন ফেরেশতা তাঁহার নিকট আল্লাহ্ বাণী পৌঁছান, এই কথা সম্পূর্ণ ভুল। এইজন্য ৫২: ১-১৮ আয়াতের ব্যাখ্যার জন্য ৮১: ১৯-২৭ আয়াত আলোচনায় আনা হইয়াছে।
বেল্-এর ধারণাসমূহের শেষ প্রকারটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করে, যেমন জিবরাঈল (আ) ওহী আনয়নকারী হিসাবে কেবল মদীনায় আবির্ভূত হইয়াছিলেন। এক্ষণে এই বিষয়টি নিম্নের বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যাইতে পারে :
(ক) ফেরেশতারা মক্কায় রাসূলুল্লাহ এবং তাঁহার সমসাময়িকদের নিকট তাঁহার মিশনের শুরুতেই পরিচিত ছিলেন।
(খ) তাহারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলুল্লাহ-এর মধ্যে দৌত্যকর্ম পালনকারী হিসাবে আখ্যায়িত হইতেন।
(গ) মক্কায় ইহা সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করা হইয়াছিল যে, একজন "মহান দূত” ওহীকৃত মূল পাঠ (কুরআন) রাসূলুল্লাহ-এর নিকট লইয়া আসিতেন।
(ঘ) রাসূলুল্লাহ এই দাবি করার পর মক্কার অধিবাসীরা এক বিপরীত দাবি নিয়া দৃশ্যপটে আসে এবং বলে যে, একজন ফেরেশতাকে দূত হিসাবে অথবা মুহাম্মাদ -এর সঙ্গে একজন সহকারী দূত হিসাবে প্রেরণ করা উচিত।
(ঙ) ওহী আগমন সংক্রান্ত হাদীছ এবং সুনির্দিষ্টভাবে ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আ) ওহী আনয়নকারী হিসাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি পরবর্তী কালের উদ্ভাবন নহে, যেমন বেল্ মনে করেন।
(চ) এমনকি মক্কায়ও আরবের যে কোন স্থানে বসবাসকারী খৃস্টানরা বিশ্বাস করিত এবং জানিত যে, জিবরাঈল (আ) একজন ফেরেশতা যিনি আল্লাহ্ ওহী তাঁহার রাসূলদের নিকট লইয়া আসিতেন।
এইসব প্রামাণ্য ঘটনার আলোকে ইহা বলা সমীচীন নহে যে, রাসূলুল্লাহ মদীনায় আগমনের পরই জিবরাঈল (আ) তাঁহার নিকট পরিচিত হন।
জিবরাঈল (আ) তাঁহার এই 'জিবরাঈল' নামের দ্বারা পবিত্র কুরআনে তিনবার চিহ্নিত হন এবং এই তিনটি স্থানই মাদানী সূরার অন্তর্ভুক্ত, যেমন ২: ৯৭; ২ঃ ৯৮ এবং ৬৬:৪। এই তিনটি স্থানের কেবল একটি স্থানে (২:৯৭) হযরত জিবরাঈল (আ)-কে ওহী অবতরণকরী হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে। এই আয়াতের শব্দ প্রয়োগে ইহা সুস্পষ্ট যে, কতিপয় বিষয়ে জিবরাঈলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তির উত্তরে এই আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং জিবরাঈল সম্পর্কে
কতিপয় বক্তব্য এই আয়াতের পূর্ববর্তী আয়াতে প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই সূরায় ওহী অবতরণ সংক্রান্ত সকল বর্ণনা এই বিবরণের সঙ্গে একমত যে, যখন মদীনায় ইয়াহুদীরা এই কথা জানিতে পারিল যে, রাসূলুল্লাহ এই যৌক্তিক দাবি করেন যে, ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আ) তাঁহার নিকট ওহী লইয়া আসেন, তখন তাহারা ফেরেশতা জিবরাঈলের প্রতি তাহাদের বিদ্বেষ প্রকাশ করিল এবং বলিল যে, রাসূলুল্লাহ যদি এই কথা বলেন যে, ফেরেশতা হযরত মীকাঈল ওহী আনয়নকারী ছিলেন তাহা হইলে তাহারা তাঁহাকে (রাসূলুল্লাহ -কে) অনুসরণ করিবে। এই কারণে ইয়াহুদীদের আপত্তির উত্তর এই আয়াতে প্রদান করা হইয়াছে। ৫৬ এই আয়াত ও ইহার প্রেক্ষাপট, যাহা বর্ণনা দ্বারা জানা গেল তাহা এই তথ্য নির্দেশ করে না যে, জিবরাঈল (আ)-এর নাম এই স্থানেই প্রথমবারের মত ওহী আনয়নকারী হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
তদুপরি প্রকৃত ঘটনা এই যে, জিবরাঈল (আ) তাহার এই নামে আখ্যায়িত হওয়ার কথা কেবল মাদানী সূরায় উল্লিখিত হওয়া এই কথা বুঝায় না যে, মক্কী সূরায় তাঁহার (জিবরাঈল) সম্পর্কে কোন তথ্যনির্দেশ নাই। প্রকৃতপক্ষে 'রাসূল কারীম' (একজন মহান/সম্মানিত দূত) অভিধাটি যে ৮১: ১৯ আয়াতে এবং 'শাদীদুল কুওয়া' (ক্ষমতায় শক্তিশালী একজন) অভিধাটি ৫৩: ৩ আয়াতে বর্ণিত হইয়াছে, সকল তাফসীরকার এই দুইটি অভিধার দ্বারা জিবরাঈল (আ)-কে বুঝান। ইহার দ্বারা মনে হয় যে, 'শাদীদুল কুওয়া' এবং জিবরাঈল পরিভাষা দুইটি সমার্থক। কাহারও মতে 'জিবরাঈল' একটি যৌগিক শব্দ, যাহা জার এবং ইল শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত, ইহার অর্থ "আল্লাহর সাহসী বীর" অথবা "আল্লাহর দাস"। জার শব্দটি হিব্রু ভাষায় Geber যাহার অর্থ “একজন দাস/চাকর” এবং II-এর অর্থ "শক্তিশালী" "ক্ষমতাশালী" অর্থাৎ আল্লাহ। ৫৭ অনুরূপ রূহ্ আল-কুদ্স্স (পবিত্র আত্মা) ৫৮ অভিধাটি ১৬: ১০২ আয়াতে এবং আর-রূহুল আমীন (বিশ্বস্ত আত্মা) ২৬: ১৯৩ আয়াতে উল্লিখিত হইয়াছে। এই দুইটি শব্দের দ্বারাও মুফাসসিরগণ সর্বসম্মতভাবে জিবরাঈলকে বুঝাইয়াছেন। ইহাও বলা আবশ্যক যে, 'নামূস' পরিভাষাটি হাদীছে উল্লিখিত হইয়াছে, ইহার অর্থ বিশ্বস্ত অথবা গোপনীয় ফেরেশতা। ৫৯ এইভাবে কুরআন ও হাদীছ এই বিষয়ে কোন পার্থক্য করে না। উভয়টিতে জিবরাঈল (আ)-কে নবী-রাসূলগণকে পৃথিবীতে প্রেরণের মিশন শুরু হওয়ার পর হইতে ওহী আনয়নকারী হিসাবে আখ্যায়িত করা হইয়াছে।