📄 ২. বেল্-এর ধারণাসমূহ
ওয়াট-এর মনোভাব আলোচনা করার পূর্বে এই বিষয়ে রিচার্ড বেল্-এর ধারণাসমূহ বিবেচনায় আনা দরকার। ইহা এইজন্য যে, যদি মারগোলিয়থ কুরআনের সূরা আন্-নাজম-এর ২-১০ (৫৩: ২-১০) আয়াতকে ভিত্তি করিা তাহার ধারণা ব্যক্ত করেন এবং এই বিষয়ের উপর নূতন যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং ওয়াট যদিও কতিপয় নূতন যুক্তি উপস্থাপন পূর্বক আলোচনায় অগ্রসর হন, তবুও অপরিহার্যরূপে তিনি রিচার্ড বেল্-এর ধারণার উপর তাহার আলোচনার উপসংহার টানেন। এইভাবে রিচার্ড বেল মারগোলিয়থ ও ওয়াট-এর মধ্যে একটি যোগসূত্র মাত্র।
রিচার্ড বেল্ এই সম্পর্কে তাহার ধারণাসমূহ ১৯৩৪ সালের “দি মুসলিম ওয়ার্ল্ড” নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত একটি সাময়িকীর পর পর দুইটি সংখ্যায় দুইটি নিবন্ধে তুলিয়া ধরেন। ১ ঐ নিবন্ধ দুইটিতে তিনি নিম্নলিখিত (বিভ্রান্তিকর) যুক্তি পেশ করেন:
(ক) ওহী আগমন সংক্রান্ত হাদীছগুলি পরবর্তী কালের উদ্ভাবন এবং এইগুলি কুরআনের সূরা আন্-নাজম-এর ১-১৮ নং (৫৩: ১-১৮) আয়াতের ভিত্তিতে উদ্ভাবন করা হয়।
(খ) রাসূলুল্লাহ উপরোল্লিখিত কুরআনের আয়াতে (৫৩: ১-১৮) বর্ণিত “দৃষ্ট বস্তু” বা বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করার পূর্বে তিনি কতিপয় পদ্ধতির কথা বলেন; কিন্তু কুরআন অবতীর্ণ হওয়া অথবা রচনা করার কথা বলেন নাই।
(গ) ওহী পরিভাষাটি কুরআনের মূল পাঠের মৌখিক ভাষাগত যোগাযোগের অর্থ বহন করে না, বরং কুরআন “রচনা” করার “পরামর্শ”, “প্রণোদনা” অথবা “প্রেরণা” দানের অর্থ বহন করে।
(ঘ) কুরআনের সূরা আন্-নাজম-এর ১-১৮ নম্বর (৫৩: ১-১৮) আয়াতের মর্ম অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ দাবি করেন যে, তিনি আল্লাহকে দেখিয়াছেন, কিন্তু তিনি যেমন অধিকতর ভালভাবে অবহিত হন এবং তিনি যেসব রহস্যপূর্ণ কথাবার্তা বলেন, সেই সম্পর্কিত বিভিন্ন আপত্তি (বিরোধিতার) মুকাবিলা করেন এবং কুরআনের আয়াতসমূহ পরিমার্জিত করিয়া ইহাদের মধ্যে “আধ্যাত্মিক দৃশ্যে”র ধারণা প্রদান করেন।
(ঙ) পরবর্তী সময়ে তিনি ফেরেশতার অস্তিত্ব ও উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হন। তিনি এই সম্পর্কে সূরা আত্-তাকবীর (৮১)-এ পুনঃ জোর দাবি করেন যে, তিনি সংবাদবাহক ফেরেশতাকে পরিষ্কার দিগন্তে দেখিয়াছেন।
(চ) ইহার আরও পরে তিনি মদীনায় জিবরাঈল (আ)-কে ওহীর বাহক হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ইহা বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, উপরিউক্ত যুক্তিগুলির মধ্যে কেবল ২টি, যেমন 'ক' ও 'গ'-এ বলা হইয়াছে যে, ওহী আগমন সংক্রান্ত হাদীছসমূহ পরবর্তী কালের উদ্ভাবন এবং 'গ'-এ বলা হইয়াছে, ওহীর অর্থ "ধারণা" অথবা "প্রণোদনা", কুরআনের মূল পাঠের প্রত্যাদেশ নহে; এই ২টি যুক্তি সম্ভবত রিচার্ড বেল্-এর নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত, যদিও তাহারা (রিচার্ড বেল্, মারগোলিয়থ, ওয়াট প্রমুখ) অন্য ৪টি যুক্তি সম্পর্কেও অনুরূপ পরোক্ষ মতামত পোষণ করেন। যাহা হউক, এই ধারণাগুলির মধ্যে ৪টি ধারণা মৌলিকভাবে মূর ও মারগোলিয়থ কর্তৃক বর্ণিত। অনুরূপভাবে 'খ'-এ বর্ণিত যুক্তি, যেমন রাসূলুল্লাহ কুরআন নাযিলের পূর্বে তাঁহার 'বক্তব্য' বিভিন্নভাবে প্রকাশ করিতেন, কুরআন ছিল সেইসব কথার পুনরাবৃত্তি। এই সম্পর্কে মূর, রাসূলুল্লাহর -এর প্রাক-ওহী অথবা কুরআন নাযিল-পূর্ব কথাবার্তার কথা বলেন।২ অনুরূপভাবে 'খ', 'ঙ' ও 'চ'- এ বর্ণিত ধারণাসমূহ মারগোলিয়থ কর্তৃক বর্ণিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তাহা এই যে, রাসূলুল্লাহ প্রথমে দাবি করিয়াছিলেন যে, তিনি আল্লাহকে দেখিয়াছেন এবং পরবর্তী কালে ফেরেশতা জিবরীল (আ)-কে ওহী'র বাহকরূপে উপস্থাপন করেন। এখন তাহাদের দ্বারা বর্ণিত যুক্তিগুলি আমরা একের পর এক পর্যালোচনা করিব।