📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ১. মুইর ও মারগোলিয়থ-এর অভিমত

📄 ১. মুইর ও মারগোলিয়থ-এর অভিমত


মুহাম্মাদ-এর নিকট ওহী নাযিল হওয়া ছিল তাঁহার জীবনের মূল বিষয়। নবুওয়াত ও আল্লাহ্ রিসালাতের প্রতি তাঁহার দাবি, আল্লাহ্র বাণী হিসাবে কুরআনের অকৃত্রিমতা এবং আল্লাহ্র মাধ্যমে প্রাপ্ত ধর্ম হিসাবে ইসলামের মর্যাদা, সব কিছুই এই বিষয়ের উপর স্থাপিত। স্বাভাবিকভাবে ওহীর বিষয়টি তাই প্রাচ্যবিদগণের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং এই বিষয় সম্পর্কে তাহারা স্বীয় ধারণা পরিগ্রহ ও তত্ত্ব লইয়া বেশ কিছু দূর অগ্রসর হইয়াছেন। সাধারণভাবে এই সকল তত্ত্ব ও পরিগ্রহকৃত ধারণার লক্ষ্য হইতেছে : যে কোন কৌশল অবলম্বন করিয়াই হউক না কেন ইহা প্রমাণ করিতে হইবে যে, কুরআনের মূল পাঠ মুহাম্মাদ-এর নিজস্ব রচনা। নিরপেক্ষতার দাবিদার বৈষয়িক প্রাচ্যবিদগণ বড়জোর ইহা স্বীকার করেন যে, মুহাম্মাদ তাঁহার দৃঢ় বিশ্বাসের উপর খুবই আন্তরিক ছিলেন এবং আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক তিনি অনুপ্রাণিত হইয়াছিলেন, তৎসত্ত্বেও ওহী হিসাবে ইহার মূল পাঠকে তিনি যে ওহী হিসাবে ঘোষণা দান করেন তাহা তাঁহার স্বীয় মনন ও চিন্তার ফসল।
ইহা বোধগম্য যে, কোন ইয়াহুদী বা খৃস্টান অথবা এই ব্যাপারে একজন অমুসলিম স্বীয় দৃঢ় বিশ্বাসকে বিসর্জন না দিয়া অথবা স্বীয় ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে সন্দিহান না হইয়া বিবেকবুদ্ধি সহকারে স্বীকার করিতে পারে না যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল এবং কুরআন হইতেছে আল্লাহর বাণী। যাহা হউক প্রাচ্যবিদগণের নিকট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হইতেছে, কুরআন আল্লাহ তা'আলার নিকট হইতে অবতীর্ণ হইয়াছে এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্য় আদেশ লাভ করিয়াছেন- এই তথ্য প্রত্যাখ্যান করিয়াই তাহারা ক্ষান্ত হন নাই, বরং তাহারা আরও অগ্রসর হইয়া ইসলামী সূত্র ও গ্রন্থাদি হইতে ইহা প্রমাণ করিতে চেষ্টা করিয়াছেন যে, প্রকৃতপক্ষে তাহাই ছিল ঘটনা। যতদূর পর্যন্ত তাহারা এই পথ অবলম্বন করেন না কেন তাহারা কার্যত তাহাদের স্বীয় ধর্মমত প্রচারকের ভূমিকাই গ্রহণ করেন এবং তাহাদের লিখিত গ্রন্থাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক গবেষণার ছদ্মাবরণে অতি সূক্ষ্মভাবে ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় পর্যবসিত হইয়াছে। বর্তমান ও পরবর্তী তিনটি পরিচ্ছেদে মহানবী-এর নিকট ওহী অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে প্রাচ্যবিদগণের মতামত পর্যালোচনা করা হইয়াছে। প্রাচ্যবিদগণের নিজেদেরই বিভিন্ন যুক্তি ও বিচারসমূহকে বিশ্লেষণ করিবার জন্য একটি প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হইয়াছে। ইহা করিতে গিয়া তাহাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ উল্লেখ করা হইয়াছে এবং দেখান হইয়াছে যে, তাহারা তথ্যকে কিভাবে বিকৃত করিয়াছে তাহাদের ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য এবং মূল বিষয়ের কিভাবে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা করিয়াছে। বর্তমান পরিচ্ছেদে মুইর ও মারগোলিয়থের মতামত ও ধারণাসমূহকে লইয়া আলোচনা করা হইয়াছে এবং
ওয়াট সম্ভবত তাহাদের মতামত ও ধারণাসমূহ তাহাদের নিকট হইতে সরাসরি গ্রহণ করেন নাই, বরং ইহা তাহার গুরু বেল (Bell)-এর নিকট হইতে লাভ করিয়াছেন। কাজেই ওয়াট কিভাবে বিষয়টি লইয়া অগ্রসর হইয়াছেন তাহা বিবেচনা করিবার পূর্বে বেল বিষয়টিকে কী দৃষ্টিতে দেখেন তাহা আলোচনা করা প্রয়োজন বলিয়া মনে করা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00