📄 ৭. মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি বিশেষ নির্দেশাবলী
প্রথম দিকের ওহীসমূহের অন্য আরেকটি বিষয় ছিল মহানবী-এর প্রতি সান্ত্বনাসূচক বাণী ও বিশেষ নির্দেশসমূহ। এই প্রসঙ্গে প্রথম যে বিষয়টি লক্ষণীয় তাহা হইতেছে, একেবারে প্রথম দিকের দুইটি ক্ষেত্রে মহানবী -কে অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ ভাষায় আহ্বান জানান হইয়াছে। সূরাতুল-মুদ্দাছছির (সূরা ৭৪) ও সূরাতুল মুয্যামমিল (সূরা ৭৩)-এর প্রথম কয়েকটি আয়াতে ইহার প্রমাণ মিলিবে। মহানবী -কে আহ্বানের ভাষার বহিঃপ্রকাশ যথাক্রমে নিম্নরূপ : “হে মুহাম্মাদ" অথবা হে নবীর পরিবর্তে “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!” এবং “হে বস্ত্রাবৃত!” বলা হইয়াছে। এই সূরা দুইটির আয়াত নাযিলের প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হইয়াছে যে, আকাশে জিবরাঈল (আ)-কে তাহার মূল আকৃতিতে দেখিয়া মহানবী ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া পড়েন এবং দ্রুত বাড়িতে ফিরিয়া চাদর বা কম্বল দ্বারা নিজকে ঢাকিয়া রাখেন। তাই এই ধরনের আহ্বান জানান হইয়াছে। কিন্তু ঘটনা বা অবস্থা যাহাই হউক না কেন ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, আহ্বানের এই সুনির্দিষ্ট ধরন ছিল মহানবী -এর প্রতি প্রগাঢ় স্নেহ ও সদয় বিবেচনা প্রকাশ করা এবং সর্বত্র স্নেহপূর্ণ আচরণই তাঁহার সহিত করা হইয়াছে। আর তাঁহাকে নিশ্চয়তা দেওয়া হইয়াছে যে, তিনিই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্র মনোনীত।
এই সূরাতুল মুদ্দাছছিরে (অর্থাৎ ইহার প্রথম ৭টি আয়াতে) মহানবী-এর প্রতি দুইটি বিশেষ নির্দেশ রহিয়াছে। ইহা ধর্ম প্রচারের কাজের সহিত সম্পর্কিত। ইহার দ্বিতীয় আয়াতে এই দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাঁহাকে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। উহা নিম্নরূপঃ "অনুকম্পা প্রদর্শন করিও না, এই আশায় যে, প্রতিদান কালে ইহার বৃদ্ধি ঘটিবে"। অন্য কথায়, যদিও এই ওহী যাহা প্রকাশের জন্য মহানবীকে দায়িত্ব প্রদান করা হইয়াছে, মানবজাতির জন্য এক মহা আশীর্বাদ ছিল। মহানবী তাঁহার কাজের জন্য পার্থিব সুখ-সুবিধার আশা করিতে পারেন না। একেবারে শুরু হইতেই এইরূপ গুরুত্বারোপ করা হইয়াছে যে, মহানবী-এর ধর্ম প্রচারের কাজ একমাত্র আল্লাহ্র জন্য, ইহাতে তাঁহার কোন ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না।
নির্দেশের দ্বিতীয় বিষয়টি ৭ নং আয়াতে বিধৃত হইয়াছে। উহা নিম্নরূপ: وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ "এবং তোমার প্রভুর (কারণে) জন্য সহিষ্ণু হও ও অবিচলিত থাক"। ইহা ছিল খুবই সময়োচিত ও গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ এবং তৎসহ আগামীতে আসিতেছে এই বিষয়সমূহ গঠন সম্পর্কে পূর্ব
সতর্কবাণী। ইহার অর্থ এই দাঁড়ায়, যে দায়িত্ব তাঁহার উপর অর্পিত হইয়াছে (অর্থাৎ প্রচার ও সতর্কীকরণ) তাহা পালন করিতে তাঁহাকে প্রচণ্ড কষ্টস্বীকার, বিরোধিতা ও অন্যের শত্রুতার মোকাবিলা করিতে হইবে। আর এই সকল প্রতিবন্ধকতা কাটাইয়া উঠিবার জন্য তাঁহাকে আল্লাহ্র নিমিত্ত পরিপূর্ণ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন করিতে হইবে। এই একই সতর্কতামূলক নির্দেশ আয়াত ৭৩ : ৫-এ দেখা যায়। ইহাতে বলা হইয়াছে, إِنَّا سَنُلْقَى عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلاً "শীঘ্রই আমি তোমার নিকট গুরুভারসম্পন্ন বাণী প্রেরণ করিব"।
অন্য যে সকল নির্দেশ ও সান্ত্বনামূলক বাণী প্রথম দিকের নাযিলকৃত সূরাসমূহে রহিয়াছে তাহা কাফিরদের বিরোধিতা ও অবাধ্যতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হইয়াছে। পরবর্তী পরিচ্ছেদে যখন এই বিষয় লইয়া আলোচনা করা হইবে তখন ইহা বিবেচনা করা হইবে। এখানে শুধুমাত্র ইহাই উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, উপরে উপদেশমূলক বিষয়বস্তুর যে বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে তাহা কেবল ১০টি সূরার উপর ভিত্তি করিয়া রচিত হইয়াছে এবং ইহা এই অধ্যায়ের শুরুতেই উল্লেখ করা হইয়াছে। ইহা বলা অনাবশ্যক যে, কুরআনে বিধৃত বিষয়বস্তুর বেশির ভাগ অংশ হইতে এই একই উপদেশ বাণী ও নির্দেশাবলী গ্রহণ করা হইয়াছে এবং অবশিষ্ট সূরাসমূহে প্রচুর সংখ্যক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বর্ণনা দ্বারা তাহা পুনরাবৃত্ত ও বিশদীকৃত হইয়াছে।
মহানবী কিভাবে ধর্ম প্রচারের কার্যাবলী শুরু করেন এবং তাহার ফলাফল কি হইয়াছিল তাহা দেখিবার জন্য অগ্রসর হওয়ার পূর্বে সাধারণভাবে ওহী সম্পর্কে প্রাচ্যবিদ পণ্ডিতবর্গের মতামত ও ধারণাসমূহ সম্পর্কে এখানে উল্লেখ করা যথাযথ হইবে বলিয়া মনে করা যায়।
প্রথম দিকের ওহীসমূহের অন্য আরেকটি বিষয় ছিল মহানবী-এর প্রতি সান্ত্বনাসূচক বাণী ও বিশেষ নির্দেশসমূহ। এই প্রসঙ্গে প্রথম যে বিষয়টি লক্ষণীয় তাহা হইতেছে, একেবারে প্রথম দিকের দুইটি ক্ষেত্রে মহানবী -কে অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ ভাষায় আহ্বান জানান হইয়াছে। সূরাতুল-মুদ্দাছছির (সূরা ৭৪) ও সূরাতুল মুয্যামমিল (সূরা ৭৩)-এর প্রথম কয়েকটি আয়াতে ইহার প্রমাণ মিলিবে। মহানবী -কে আহ্বানের ভাষার বহিঃপ্রকাশ যথাক্রমে নিম্নরূপ : “হে মুহাম্মাদ" অথবা হে নবীর পরিবর্তে “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!” এবং “হে বস্ত্রাবৃত!” বলা হইয়াছে। এই সূরা দুইটির আয়াত নাযিলের প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হইয়াছে যে, আকাশে জিবরাঈল (আ)-কে তাহার মূল আকৃতিতে দেখিয়া মহানবী ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া পড়েন এবং দ্রুত বাড়িতে ফিরিয়া চাদর বা কম্বল দ্বারা নিজকে ঢাকিয়া রাখেন। তাই এই ধরনের আহ্বান জানান হইয়াছে। কিন্তু ঘটনা বা অবস্থা যাহাই হউক না কেন ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, আহ্বানের এই সুনির্দিষ্ট ধরন ছিল মহানবী -এর প্রতি প্রগাঢ় স্নেহ ও সদয় বিবেচনা প্রকাশ করা এবং সর্বত্র স্নেহপূর্ণ আচরণই তাঁহার সহিত করা হইয়াছে। আর তাঁহাকে নিশ্চয়তা দেওয়া হইয়াছে যে, তিনিই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্র মনোনীত।
এই সূরাতুল মুদ্দাছছিরে (অর্থাৎ ইহার প্রথম ৭টি আয়াতে) মহানবী-এর প্রতি দুইটি বিশেষ নির্দেশ রহিয়াছে। ইহা ধর্ম প্রচারের কাজের সহিত সম্পর্কিত। ইহার দ্বিতীয় আয়াতে এই দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাঁহাকে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। উহা নিম্নরূপঃ "অনুকম্পা প্রদর্শন করিও না, এই আশায় যে, প্রতিদান কালে ইহার বৃদ্ধি ঘটিবে"। অন্য কথায়, যদিও এই ওহী যাহা প্রকাশের জন্য মহানবীকে দায়িত্ব প্রদান করা হইয়াছে, মানবজাতির জন্য এক মহা আশীর্বাদ ছিল। মহানবী তাঁহার কাজের জন্য পার্থিব সুখ-সুবিধার আশা করিতে পারেন না। একেবারে শুরু হইতেই এইরূপ গুরুত্বারোপ করা হইয়াছে যে, মহানবী-এর ধর্ম প্রচারের কাজ একমাত্র আল্লাহ্র জন্য, ইহাতে তাঁহার কোন ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না।
নির্দেশের দ্বিতীয় বিষয়টি ৭ নং আয়াতে বিধৃত হইয়াছে। উহা নিম্নরূপ: وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ "এবং তোমার প্রভুর (কারণে) জন্য সহিষ্ণু হও ও অবিচলিত থাক"। ইহা ছিল খুবই সময়োচিত ও গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ এবং তৎসহ আগামীতে আসিতেছে এই বিষয়সমূহ গঠন সম্পর্কে পূর্ব
সতর্কবাণী। ইহার অর্থ এই দাঁড়ায়, যে দায়িত্ব তাঁহার উপর অর্পিত হইয়াছে (অর্থাৎ প্রচার ও সতর্কীকরণ) তাহা পালন করিতে তাঁহাকে প্রচণ্ড কষ্টস্বীকার, বিরোধিতা ও অন্যের শত্রুতার মোকাবিলা করিতে হইবে। আর এই সকল প্রতিবন্ধকতা কাটাইয়া উঠিবার জন্য তাঁহাকে আল্লাহ্র নিমিত্ত পরিপূর্ণ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন করিতে হইবে। এই একই সতর্কতামূলক নির্দেশ আয়াত ৭৩ : ৫-এ দেখা যায়। ইহাতে বলা হইয়াছে, إِنَّا سَنُلْقَى عَلَيْكَ قَوْلاً ثَقِيلاً "শীঘ্রই আমি তোমার নিকট গুরুভারসম্পন্ন বাণী প্রেরণ করিব"।
অন্য যে সকল নির্দেশ ও সান্ত্বনামূলক বাণী প্রথম দিকের নাযিলকৃত সূরাসমূহে রহিয়াছে তাহা কাফিরদের বিরোধিতা ও অবাধ্যতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হইয়াছে। পরবর্তী পরিচ্ছেদে যখন এই বিষয় লইয়া আলোচনা করা হইবে তখন ইহা বিবেচনা করা হইবে। এখানে শুধুমাত্র ইহাই উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, উপরে উপদেশমূলক বিষয়বস্তুর যে বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে তাহা কেবল ১০টি সূরার উপর ভিত্তি করিয়া রচিত হইয়াছে এবং ইহা এই অধ্যায়ের শুরুতেই উল্লেখ করা হইয়াছে। ইহা বলা অনাবশ্যক যে, কুরআনে বিধৃত বিষয়বস্তুর বেশির ভাগ অংশ হইতে এই একই উপদেশ বাণী ও নির্দেশাবলী গ্রহণ করা হইয়াছে এবং অবশিষ্ট সূরাসমূহে প্রচুর সংখ্যক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বর্ণনা দ্বারা তাহা পুনরাবৃত্ত ও বিশদীকৃত হইয়াছে।