📄 ১. তাওহীদ (একত্ববাদ)
একত্ববাদ হইতেছে মূল বিষয়বস্তু যাহার চারিদিকে ইসলামের সমগ্র শিক্ষা, উপদেশ ও নির্দেশাবলী আবর্তিত হইতেছে। একেবারে প্রথম আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করিলে সূরা আল-'আলাকের প্রথম দুইটি আয়াতে ব্যবহৃত রব ও খালাক শব্দ দুইটির দ্বারা এই মূল বিষয়বস্তু প্রতিভাত হয়। অন্য কোন ভাষার কোন একটি একক শব্দ দ্বারা 'রব' শব্দের অর্থ প্রকাশ করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ ইংরেজীতে ব্যবহৃত লর্ড বা প্রভু শব্দের উল্লেখ করা যায়। কারণ আরবীতে 'রব' শব্দের উপর সেই পরম এককের একটি ব্যাপক গূঢ়ার্থ প্রকাশ করে। সেই পরম একক সত্তা হইতেছেন তিনি যিনি সৃষ্টি সংরক্ষণ, পরিপোষণ ও উন্নয়ন সাধন করেন এবং যিনি মহান উদারতা ও যত্নের সহিত কোন বস্তুর ক্রমবৃদ্ধি, ক্রমবিকাশ ও চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করেন।
অতএব ওহী অবতীর্ণ হওয়ার জন্য অধিকতর যথোচিত একটি শুরুর চাইতে স্রষ্টা ও সংরক্ষক হিসাবে আল্লাহ্ এই গুণাবলীর উপর গুরুত্বারোপ করার মত আর কিছুই হইতে পারে না। এই আয়াতের প্রথম সূরাতে ব্যবহৃত 'খালাক' (সৃষ্টি) শব্দটি দ্বারা ইহা মোটামুটিভাবে সুনির্দিষ্ট করা হইয়াছে। ক্রিয়ার প্রতি কোন বস্তুর অনির্দিষ্টতা তাৎপর্যপূর্ণ। সামগ্রিক বিচারের 'সৃষ্টি' অর্থে নিখিল বিশ্ব এবং ইহার মধ্যে যাহা বর্তমান তাহা ধারণ করে এইরূপ ধারণা প্রদান করে। সাধারণভাবে সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই প্রসঙ্গের অবতারণার পর নির্দিষ্ট করিয়া মানব সৃষ্টির উল্লেখ করিতে হয়। লক্ষ্য করা যাইতে পারে যে, স্বয়ং আল্লাহই মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন। এই প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, মানুষ সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় কিভাবে সেই মহান সত্তার ইচ্ছা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত
হয়। এই সূরার প্রথম দুইটি আয়াত তাই নিখিল বিশ্ব এবং তৎসহ মানুষের উদ্ভব সম্পর্কে বর্ণনা প্রদান করে। এই আয়াতদ্বয় সুস্পষ্টভাবে দৃঢ়তার সহিত দাবি করে যে, নিখিল বিশ্বে যাহা কিছু বর্তমান তাহা আল্লাহ নিজেই সৃষ্টি, বিন্যাস ও গঠন করিয়াছেন। পরিণতি স্বরূপ এই আয়াতে কোন নাস্তিকের এই ধারণাকেও নাকচ করিয়া দেয় যে, নিখিল বিশ্ব ও মানুষ সৃষ্টি একটি দৈব ঘটনা এবং তাহা স্বাভাবিক বিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় সম্পন্ন হইয়াছে। প্রতিটি বস্তু ও প্রাণীর জন্ম, ক্রমবিবর্তন, পরিপূর্ণতা ও ফলপ্রাপ্তির ভাবধারায় এবং একটি প্রজাতির অন্য প্রজাতিতে রূপান্তরে নহে, বিবর্তনের ধারণাটি স্বীকৃত। বাস্তবিকপক্ষে 'রব' এই পরিভাষাটির মধ্যে ইহা সহজাতভাবেই বর্তমান। 'রব' শব্দটির মধ্যে ভরণপোষণকারী, সংরক্ষণকারী ইত্যাদি ভাবধারাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এখানে যে বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হইয়াছে তাহা হইতেছে কোন বস্তু বা প্রাণীর জন্ম, ক্রমবিবর্তন, পরিপূর্ণতাও, কিন্তু আল্লাহ তাআলার পরম অনুগ্রহ কাজ ও তাঁহার উদার দানশীলতার দৃষ্টান্ত। এই প্রেক্ষিতে তিনি "পরম দানশীল" আল-আকরাম। এই গুণের একটি ব্যাখ্যা হইতেছে যে, তিনি এই গুণটি মানুষকে দান করিয়াছেন যাহা মানুষকে সর্বোচ্চ উন্নতির পর্যায়ে অধিষ্ঠিত করিয়াছে। ইহার প্রভাবে মানুষের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, বোধশক্তি ও জ্ঞানের বিকাশ ঘটে। এই মৌলিক মানসিক শক্তির বলেই মানুষ কলমের সাহায্যে জ্ঞান অর্জন, সংরক্ষণ ও হস্তান্তরকরণের যোগ্যতা অর্জন করিয়াছে এবং তাহা একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলার দান।
তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর ধারণাটি সূরা আল-'আলাকের প্রথম আয়াতে এমন জোরালোভাবে উপস্থাপিত হইয়াছে যাহা সূরা আল-ফাতিহাতে আরও সহজবোধ্য ও স্পষ্টভাবে বর্ণিত হইয়াছে। এই সূরার প্রথম আয়াতটিতে বলা হইয়াছে, "সকল প্রশংসা আল্লাহ্, তিনি বিশ্বজগতের রব অর্থাৎ প্রভু”। এখানে "বিশ্বজগতের” (আল-'আলামীন) কথাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইহা আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির ব্যাপকতা ও পূর্ণাঙ্গতা এবং তৎসহ সৃষ্টির প্রতিটি জিনিস বা প্রাণীর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। কারণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করিলে ইহা যে কোন ব্যক্তির নিকট স্পষ্ট হইয়া উঠিবে যে, আল্লাহ্র সৃষ্টির প্রতিটি একক বস্তুর বা বিষয়ের উপর পৃথক একটি জগতের সৃষ্টি হইয়াছে। উদাহরণস্বরূপ একজন মানব অথবা একটি নক্ষত্রপুঞ্জের কথা বলা যাইতে পারে। অনুরূপভাবে সূরা আল-ফাতিহার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ্র অপার করুণা ও অনুগ্রহগুণের উপর জোর দেওয়া হইয়াছে, 'তিনি সর্বজনীনভাবে করুণাময় (আর-রাহমান), মহত্তমভাবে দয়ালু' (আর-রাহীম)। তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর একইরূপ ধারণা ৮৭:২-৩ (সূরা আল-আ'লা) আয়াতে পুনরাবৃত্ত হইয়াছে। উহা এইরূপ: "যিনি সৃষ্টি করেন ও সুঠাম করেন এবং যিনি পরিমিত বিকাশ সাধন করেন ও পথনির্দেশ করেন" (৮৭ঃ ২-৩)।৬০
তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর ধারণা বারংবার পুনরাবৃত্তি করার সহিত তাওহীদুল উলুহিয়াহ-এর মূল সুরও হাজির করা হইয়াছে। প্রকৃতপক্ষে তাওহীদুল উলুহিয়াহ হইতেছে তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর একটি স্বাভাবিক পরিণতি। যেহেতু আল্লাহ স্বয়ং স্রষ্টা, সংরক্ষক ইত্যাদি, অতএব মানুষের উচিত আল্লাহ্ ইবাদত এবং একমাত্র তাঁহার নিকট মিনতি সহকারে মুনাজাত করা। ইহার সহিত কোন
মানুষ, প্রাণী বা বস্তুকে শরীক না করা। বস্তুতপক্ষে একত্ববাদের এই শেষোক্ত বিষয়টি সমসাময়িক আরবীয় অবস্থার প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তথায় যদিও বহু ঈশ্বরবাদ ও মূর্তিপূজা অবাধে চলিতেছিল তবুও পরম স্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান হিসাবে আল্লাহ্র ধারণা সম্পূর্ণভাবে তিরোহিত হয় নাই। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্র সহিত মধ্যস্থতাকারী ও সুপারিশকারী হিসাবে দেব-দেবীদিগকে উপস্থাপিত করা হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে তাওহীদুল উলুহিয়াহ-এর গুরুত্ব অর্থাৎ অন্যান্য সকল সত্তা ও দেবত্বকে পরিত্যাগপূর্বক একমাত্র আল্লাহ্র ইবাদত করার প্রয়োজনীয়তা ও উপযুক্ততা ছিল অপরিহার্য। এই ধারণাটি আয়াত ১:৪-এ সুন্দরভাবে প্রকাশিত হইয়াছে: "আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আমরা আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি"। ৬১ এই একই ধারণা আয়াত ৭৩: ৯-এ অভ্রান্তভাবে জ্ঞাপন করা হইয়াছে:
رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلاً .
"তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের রব। তিনি ব্যতীত আর কাহারও বান্দার ইবাদত গ্রহণের হক নাই। সুতরাং তাঁহাকে তোমাদের অভিভাবক-তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে গ্রহণ কর'। ৬২
একত্ববাদ হইতেছে মূল বিষয়বস্তু যাহার চারিদিকে ইসলামের সমগ্র শিক্ষা, উপদেশ ও নির্দেশাবলী আবর্তিত হইতেছে। একেবারে প্রথম আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করিলে সূরা আল-'আলাকের প্রথম দুইটি আয়াতে ব্যবহৃত রব ও খালাক শব্দ দুইটির দ্বারা এই মূল বিষয়বস্তু প্রতিভাত হয়। অন্য কোন ভাষার কোন একটি একক শব্দ দ্বারা 'রব' শব্দের অর্থ প্রকাশ করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ ইংরেজীতে ব্যবহৃত লর্ড বা প্রভু শব্দের উল্লেখ করা যায়। কারণ আরবীতে 'রব' শব্দের উপর সেই পরম এককের একটি ব্যাপক গূঢ়ার্থ প্রকাশ করে। সেই পরম একক সত্তা হইতেছেন তিনি যিনি সৃষ্টি সংরক্ষণ, পরিপোষণ ও উন্নয়ন সাধন করেন এবং যিনি মহান উদারতা ও যত্নের সহিত কোন বস্তুর ক্রমবৃদ্ধি, ক্রমবিকাশ ও চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করেন।
অতএব ওহী অবতীর্ণ হওয়ার জন্য অধিকতর যথোচিত একটি শুরুর চাইতে স্রষ্টা ও সংরক্ষক হিসাবে আল্লাহ্ এই গুণাবলীর উপর গুরুত্বারোপ করার মত আর কিছুই হইতে পারে না। এই আয়াতের প্রথম সূরাতে ব্যবহৃত 'খালাক' (সৃষ্টি) শব্দটি দ্বারা ইহা মোটামুটিভাবে সুনির্দিষ্ট করা হইয়াছে। ক্রিয়ার প্রতি কোন বস্তুর অনির্দিষ্টতা তাৎপর্যপূর্ণ। সামগ্রিক বিচারের 'সৃষ্টি' অর্থে নিখিল বিশ্ব এবং ইহার মধ্যে যাহা বর্তমান তাহা ধারণ করে এইরূপ ধারণা প্রদান করে। সাধারণভাবে সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই প্রসঙ্গের অবতারণার পর নির্দিষ্ট করিয়া মানব সৃষ্টির উল্লেখ করিতে হয়। লক্ষ্য করা যাইতে পারে যে, স্বয়ং আল্লাহই মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন। এই প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, মানুষ সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় কিভাবে সেই মহান সত্তার ইচ্ছা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত
হয়। এই সূরার প্রথম দুইটি আয়াত তাই নিখিল বিশ্ব এবং তৎসহ মানুষের উদ্ভব সম্পর্কে বর্ণনা প্রদান করে। এই আয়াতদ্বয় সুস্পষ্টভাবে দৃঢ়তার সহিত দাবি করে যে, নিখিল বিশ্বে যাহা কিছু বর্তমান তাহা আল্লাহ নিজেই সৃষ্টি, বিন্যাস ও গঠন করিয়াছেন। পরিণতি স্বরূপ এই আয়াতে কোন নাস্তিকের এই ধারণাকেও নাকচ করিয়া দেয় যে, নিখিল বিশ্ব ও মানুষ সৃষ্টি একটি দৈব ঘটনা এবং তাহা স্বাভাবিক বিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় সম্পন্ন হইয়াছে। প্রতিটি বস্তু ও প্রাণীর জন্ম, ক্রমবিবর্তন, পরিপূর্ণতা ও ফলপ্রাপ্তির ভাবধারায় এবং একটি প্রজাতির অন্য প্রজাতিতে রূপান্তরে নহে, বিবর্তনের ধারণাটি স্বীকৃত। বাস্তবিকপক্ষে 'রব' এই পরিভাষাটির মধ্যে ইহা সহজাতভাবেই বর্তমান। 'রব' শব্দটির মধ্যে ভরণপোষণকারী, সংরক্ষণকারী ইত্যাদি ভাবধারাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এখানে যে বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হইয়াছে তাহা হইতেছে কোন বস্তু বা প্রাণীর জন্ম, ক্রমবিবর্তন, পরিপূর্ণতাও, কিন্তু আল্লাহ তাআলার পরম অনুগ্রহ কাজ ও তাঁহার উদার দানশীলতার দৃষ্টান্ত। এই প্রেক্ষিতে তিনি "পরম দানশীল" আল-আকরাম। এই গুণের একটি ব্যাখ্যা হইতেছে যে, তিনি এই গুণটি মানুষকে দান করিয়াছেন যাহা মানুষকে সর্বোচ্চ উন্নতির পর্যায়ে অধিষ্ঠিত করিয়াছে। ইহার প্রভাবে মানুষের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, বোধশক্তি ও জ্ঞানের বিকাশ ঘটে। এই মৌলিক মানসিক শক্তির বলেই মানুষ কলমের সাহায্যে জ্ঞান অর্জন, সংরক্ষণ ও হস্তান্তরকরণের যোগ্যতা অর্জন করিয়াছে এবং তাহা একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলার দান।
তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর ধারণাটি সূরা আল-'আলাকের প্রথম আয়াতে এমন জোরালোভাবে উপস্থাপিত হইয়াছে যাহা সূরা আল-ফাতিহাতে আরও সহজবোধ্য ও স্পষ্টভাবে বর্ণিত হইয়াছে। এই সূরার প্রথম আয়াতটিতে বলা হইয়াছে, "সকল প্রশংসা আল্লাহ্, তিনি বিশ্বজগতের রব অর্থাৎ প্রভু”। এখানে "বিশ্বজগতের” (আল-'আলামীন) কথাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইহা আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টির ব্যাপকতা ও পূর্ণাঙ্গতা এবং তৎসহ সৃষ্টির প্রতিটি জিনিস বা প্রাণীর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। কারণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করিলে ইহা যে কোন ব্যক্তির নিকট স্পষ্ট হইয়া উঠিবে যে, আল্লাহ্র সৃষ্টির প্রতিটি একক বস্তুর বা বিষয়ের উপর পৃথক একটি জগতের সৃষ্টি হইয়াছে। উদাহরণস্বরূপ একজন মানব অথবা একটি নক্ষত্রপুঞ্জের কথা বলা যাইতে পারে। অনুরূপভাবে সূরা আল-ফাতিহার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ্র অপার করুণা ও অনুগ্রহগুণের উপর জোর দেওয়া হইয়াছে, 'তিনি সর্বজনীনভাবে করুণাময় (আর-রাহমান), মহত্তমভাবে দয়ালু' (আর-রাহীম)। তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর একইরূপ ধারণা ৮৭:২-৩ (সূরা আল-আ'লা) আয়াতে পুনরাবৃত্ত হইয়াছে। উহা এইরূপ: "যিনি সৃষ্টি করেন ও সুঠাম করেন এবং যিনি পরিমিত বিকাশ সাধন করেন ও পথনির্দেশ করেন" (৮৭ঃ ২-৩)।৬০
তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর ধারণা বারংবার পুনরাবৃত্তি করার সহিত তাওহীদুল উলুহিয়াহ-এর মূল সুরও হাজির করা হইয়াছে। প্রকৃতপক্ষে তাওহীদুল উলুহিয়াহ হইতেছে তাওহীদুর রুবুবিয়াহ-এর একটি স্বাভাবিক পরিণতি। যেহেতু আল্লাহ স্বয়ং স্রষ্টা, সংরক্ষক ইত্যাদি, অতএব মানুষের উচিত আল্লাহ্ ইবাদত এবং একমাত্র তাঁহার নিকট মিনতি সহকারে মুনাজাত করা। ইহার সহিত কোন
মানুষ, প্রাণী বা বস্তুকে শরীক না করা। বস্তুতপক্ষে একত্ববাদের এই শেষোক্ত বিষয়টি সমসাময়িক আরবীয় অবস্থার প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তথায় যদিও বহু ঈশ্বরবাদ ও মূর্তিপূজা অবাধে চলিতেছিল তবুও পরম স্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান হিসাবে আল্লাহ্র ধারণা সম্পূর্ণভাবে তিরোহিত হয় নাই। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্র সহিত মধ্যস্থতাকারী ও সুপারিশকারী হিসাবে দেব-দেবীদিগকে উপস্থাপিত করা হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে তাওহীদুল উলুহিয়াহ-এর গুরুত্ব অর্থাৎ অন্যান্য সকল সত্তা ও দেবত্বকে পরিত্যাগপূর্বক একমাত্র আল্লাহ্র ইবাদত করার প্রয়োজনীয়তা ও উপযুক্ততা ছিল অপরিহার্য। এই ধারণাটি আয়াত ১:৪-এ সুন্দরভাবে প্রকাশিত হইয়াছে: "আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আমরা আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি"। ৬১ এই একই ধারণা আয়াত ৭৩: ৯-এ অভ্রান্তভাবে জ্ঞাপন করা হইয়াছে:
رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلاً .
"তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের রব। তিনি ব্যতীত আর কাহারও বান্দার ইবাদত গ্রহণের হক নাই। সুতরাং তাঁহাকে তোমাদের অভিভাবক-তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে গ্রহণ কর'। ৬২
📄 ২. সালাত
তাওহীদুল উলুহিয়াহ-এর ব্যবহারিক বাস্তবায়ন হইতেছে সালাত আদায় ও একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইবাদত। প্রথম দিকের নাযিলকৃত ওহীসমূহের মধ্যে ইহার আদেশ প্রদান করা হইয়াছে। সালাতের নির্দেশ সংক্রান্ত একেবারে প্রথম আয়াত হইতেছে ৭৩ঃ ২; ইহাতে মহানবী -কে আদেশ করা হইয়াছে )قُمِ الَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا( "রাত্রের কিছু সময় ব্যতীত সালাতে নিরত হও”। সকল ভাষ্যকার "রাত্রিতে দাঁড়াও”-এর অর্থ সালাতে দাঁড়ানোর কথা বলেন। অনুরূপভাবে ৭৪ঃ ৪২-৪৩ আয়াত ইহা স্পষ্ট করিয়া দিয়াছে যে, এই আয়াত নাযিল হইবার পূর্বে সালাত আদায়ের দায়িত্ব সম্পর্কে আদেশ দেওয়া হইয়াছে। কারণ ইহাতে বলা হইয়াছে যে, বিচার দিবসে গুনাহগার বান্দাগণকে জিজ্ঞাসা করা হইবে কি কারণে তাহাদিগকে দোযখে প্রেরণ করা হইয়াছে? তাহারা উত্তরে বলিবে:
قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ .
"যাহারা সালাত আদায় করিয়াছে আমরা তাহাদের দলে ছিলাম না"।
বিপরীত দিকে ৮৭: ১৪-১৫ আয়াতে বলা হইয়াছে:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى . وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى .
"নিশ্চয় সাফল্য লাভ করিবে যে পবিত্রতা অর্জন করে। এবং তাহার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও সালাত কায়েম করে" (৮৭: ১৪-১৫)।
সবচাইতে ইতিবাচক ও সন্দেহাতীত আয়াতগুলি হইতেছে ৯৬: ৯-১৯। এইগুলির মধ্যে প্রথম আয়াতটিতে একজন ইসলাম ধর্ম বিরোধীর প্রসঙ্গ আসিয়াছে যে আল্লাহ্র বান্দা )عبدا (
(অর্থাৎ মহানবী)-কে সালাত আদায় করিতে নিষেধ করে। তখন আয়াত ১০-১৮-তে সেই বিরোধী ব্যক্তি সম্পর্কে আরও বলা হইয়াছে এবং ইহার শেষ আয়াতে বিশেষভাবে প্রণোদিত করা হইয়াছে এইভাবেঃ “না, তাহাকে কখনও অনুসরণ করিও না; বরং প্রণত হও এবং আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ কর”। ৬৩ এই আয়াতসমূহের অনুক্রম চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে যে, "আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে নিজে নতজানু হও এবং আল্লাহ্র নৈকট্যে আস" এই ভাব প্রকাশ দ্বারা ইসলামের শত্রুদের বিরোধিতাকে উপেক্ষা করিয়া সালাত আদায়ের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ দান করা হইয়াছে। ইহার অর্থ এইরূপ দাঁড়ায় যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য সালাত হইতেছে সর্বোত্তম মাধ্যম।
বাস্তবিকই নবুওয়াত লাভের পর মহানবীকে প্রথম যে কাজটি সম্পাদনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল তাহা হইতেছে সালাত আদায়। বর্ণিত আছে যে, মহানবী একদিন যখন মক্কার উচ্চ ভূমি এলাকায় অবস্থান করিতেছিলেন তখন মানুষের আকৃতি ধারণ করিয়া জিবরাঈল (আ) তাঁহার নিকট আসিয়া তাঁহার সম্মুখে উযু সম্পাদন করেন যাহাতে ইহা দেখিয়া মহানবী কিভাবে উযু করিতে হয় তাহা শিখিতে পারেন। তারপর জibraঈল (আ) তাঁহাকে-সহ দুই রাআত সালাত আদায় করেন এবং সালাতশেষে প্রস্থান করেন। মহানবী স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করিয়া কিভাবে উযু করিয়া সালাত আদায় করিতে হয় তাহা খাদীজা (রা)-কে দেখাইলেন। খাদীজা (রা) তদনুযায়ী উযু করিয়া সালাত আদায় করেন। ৬৪
তাওহীদুল উলুহিয়াহ-এর ব্যবহারিক বাস্তবায়ন হইতেছে সালাত আদায় ও একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইবাদত। প্রথম দিকের নাযিলকৃত ওহীসমূহের মধ্যে ইহার আদেশ প্রদান করা হইয়াছে। সালাতের নির্দেশ সংক্রান্ত একেবারে প্রথম আয়াত হইতেছে ৭৩ঃ ২; ইহাতে মহানবী -কে আদেশ করা হইয়াছে )قُمِ الَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا( "রাত্রের কিছু সময় ব্যতীত সালাতে নিরত হও”। সকল ভাষ্যকার "রাত্রিতে দাঁড়াও”-এর অর্থ সালাতে দাঁড়ানোর কথা বলেন। অনুরূপভাবে ৭৪ঃ ৪২-৪৩ আয়াত ইহা স্পষ্ট করিয়া দিয়াছে যে, এই আয়াত নাযিল হইবার পূর্বে সালাত আদায়ের দায়িত্ব সম্পর্কে আদেশ দেওয়া হইয়াছে। কারণ ইহাতে বলা হইয়াছে যে, বিচার দিবসে গুনাহগার বান্দাগণকে জিজ্ঞাসা করা হইবে কি কারণে তাহাদিগকে দোযখে প্রেরণ করা হইয়াছে? তাহারা উত্তরে বলিবে:
قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ .
"যাহারা সালাত আদায় করিয়াছে আমরা তাহাদের দলে ছিলাম না"।
বিপরীত দিকে ৮৭: ১৪-১৫ আয়াতে বলা হইয়াছে:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى . وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى .
"নিশ্চয় সাফল্য লাভ করিবে যে পবিত্রতা অর্জন করে। এবং তাহার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও সালাত কায়েম করে" (৮৭: ১৪-১৫)।
সবচাইতে ইতিবাচক ও সন্দেহাতীত আয়াতগুলি হইতেছে ৯৬: ৯-১৯। এইগুলির মধ্যে প্রথম আয়াতটিতে একজন ইসলাম ধর্ম বিরোধীর প্রসঙ্গ আসিয়াছে যে আল্লাহ্র বান্দা )عبدا (
(অর্থাৎ মহানবী)-কে সালাত আদায় করিতে নিষেধ করে। তখন আয়াত ১০-১৮-তে সেই বিরোধী ব্যক্তি সম্পর্কে আরও বলা হইয়াছে এবং ইহার শেষ আয়াতে বিশেষভাবে প্রণোদিত করা হইয়াছে এইভাবেঃ “না, তাহাকে কখনও অনুসরণ করিও না; বরং প্রণত হও এবং আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ কর”। ৬৩ এই আয়াতসমূহের অনুক্রম চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে যে, "আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে নিজে নতজানু হও এবং আল্লাহ্র নৈকট্যে আস" এই ভাব প্রকাশ দ্বারা ইসলামের শত্রুদের বিরোধিতাকে উপেক্ষা করিয়া সালাত আদায়ের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ দান করা হইয়াছে। ইহার অর্থ এইরূপ দাঁড়ায় যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য সালাত হইতেছে সর্বোত্তম মাধ্যম।
বাস্তবিকই নবুওয়াত লাভের পর মহানবীকে প্রথম যে কাজটি সম্পাদনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল তাহা হইতেছে সালাত আদায়। বর্ণিত আছে যে, মহানবী একদিন যখন মক্কার উচ্চ ভূমি এলাকায় অবস্থান করিতেছিলেন তখন মানুষের আকৃতি ধারণ করিয়া জিবরাঈল (আ) তাঁহার নিকট আসিয়া তাঁহার সম্মুখে উযু সম্পাদন করেন যাহাতে ইহা দেখিয়া মহানবী কিভাবে উযু করিতে হয় তাহা শিখিতে পারেন। তারপর জিবরাঈল (আ) তাঁহাকে-সহ দুই রাআত সালাত আদায় করেন এবং সালাতশেষে প্রস্থান করেন। মহানবী স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করিয়া কিভাবে উযু করিয়া সালাত আদায় করিতে হয় তাহা খাদীজা (রা)-কে দেখাইলেন। খাদীজা (রা) তদনুযায়ী উযু করিয়া সালাত আদায় করেন। ৬৪
📄 ৩. রিসালাহ (অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াত ও রিসালাত)
একেবারে প্রথম দিকের ওহীসমূহে তৃতীয় যে বিষয়টি উপস্থাপন করা হইয়াছে তাহা হইতেছে মুহাম্মাদ-কে আল্লাহ প্রেরিত রাসূল হিসাবে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান। ইসলামী বাচনভঙ্গীতে একজন নবী (পয়গাম্বর) ও একজন রাসূল (বার্তাবাহক)-এর মধ্যে পরিভাষাগত পার্থক্য এই যে, নবী ও রাসূল উভয়ে আল্লাহ্র নিকট হইতে ওহী লাভ করেন, কিন্তু রাসূলকে তাহা মানুষকে অর্পণ ও প্রচারের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সূরা আল-মুদ্দাছছির-এর প্রথম কয়েকটি আয়াত নাযিল করিয়া মুহাম্মাদকে এই বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। মুহাম্মাদকে সম্বোধন করিয়া নাযিলকৃত আয়াতটি (নং৭৪: ১-৩) এইভাবে শুরু হইয়াছে:
يأَيُّهَا المُدثَرُ . قُمْ فَانْذِرْ ، وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ .
“হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর" (৭৪:১-৩)।
এখানে একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দেওয়া হইয়াছে। তাহা হইতেছে জনগণকে তাহাদের কৃতকর্মের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করা এবং নাযিলকৃত ওহীতে যে সকল নির্দেশ রহিয়াছে তাহা জানান। বাস্তবিকপক্ষে একেবারে প্রথম ও সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাটি এখানে বিশেষভাবে
উল্লেখ করা হইয়াছে। তাহা হইতেছে, "এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর"। ইহার অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ (আল্লাহু আকবার = اَللهُ أَكْبَرُ( এই ঘোষণা জনসমক্ষে প্রচারের জন্য মহানবীকে আদেশ দেওয়া হইয়াছিল। অন্য কথায় তাঁহাকে ঘোষণা করিতে হইত যে, কল্পিত দেব-দেবীসহ অন্য সব কিছুই আল্লাহ্র অধীন। ইহা তাওহীদ সংক্রান্ত আদেশও বটে।
সকল ভাষ্যকার (তাফসীরকারবৃন্দ) এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, সূরা আল-মুদ্দাছিরের উপরিউক্ত আয়াতে মহানবীকে সুনির্দিষ্টভাবে রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণ করা হইয়াছে। ইহার সহিত সংযোজন করা যাইতে পারে যে, রিসালাত-এর ভাবধারাটি অন্তর্নিহিত এবং এমনকি নাযিলকৃত প্রথম ওহীতেও বর্তমান। কারণ 'পড়িবার' জন্য নির্দেশ দান এবং কলমের প্রসঙ্গ উত্থাপনের মধ্যে উক্ত ভাবধারাটি রহিয়াছে যাহাতে মহানবী একটি আসমানী কিতাব প্রাপ্তির দ্বারপ্রান্তে রহিয়াছেন এবং এই কিতাব তিনি জনসমক্ষে প্রচার করিবেন। তিনি এই কিতাব সংরক্ষণ করিয়া ইহার জ্ঞান কলমের সাহায্যে প্রচার করিবেন।
আল্লাহর রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদ-এর দায়িত্ব প্রাপ্তি এবং তাঁহার ভূমিকা সম্পর্কে আরও কিছু প্রাসঙ্গিক আয়াত ৭৪: ৫২-৫৪ (সূরা আল-মুদ্দাছছির), ৮১: ১৫-১৯ (সূরা আত-তাকবীর) ও ৮৭: ১৮-১৯ (সূরা আল-আ'লা)-তে আলোচিত হইয়াছে। আয়াত ৭৪: ৫২-৫৩-তে মক্কার কাফিরদের বিরক্তিকর উত্যক্তকারী দাবির প্রসঙ্গটি আসিয়াছে। তাহাদের দাবি যে, তাহাদের প্রত্যেককে নাযিলকৃত ওহীর প্রকাশ্যে লিখিত কাগজ )صحف منشرة( দেওয়া হউক এবং আয়াতগুলি গুরুত্বারোপ করে যে, ইহা কখনও হইতে পারে না এবং মহানবী তাহাদিগকে যাহা অর্পণ করিতেছেন তাহা )كلا انه تذكرة( "নিশ্চিতভাবে একটি স্মারক চিহ্ন"। অনুরূপভাবে আয়াত ৮১: ১৫- ২৯ কাফিরদের নানাবিধ অভিযোগের মুকাবিলায় ঘোষণা করে যে, মহানবী
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَانٍ নিজে যেমন ভূতাবিষ্ট (মجنون) হন নাই তেমনি তিনি কোন শয়তানের কথাও ঘোষণা করিতেছেন না; বরং তিনি ফেরেশতার মাধ্যমে যে ওহী লাভ করেন তাহাই জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করিতেছেন। তিনি ফেরেশতাকে আকাশের স্পষ্ট দিগন্তে (بالأفق المُبين) দেখিতে পান এবং প্রকৃতপক্ষে ইহা সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য ছিল প্রত্যাদেশ (انْ هُوَ اِلَّا ذِكْرُ لِّلْعَلَمِينَ) । এই আয়াতে তাই মহানবী যে ওহী লাভ করিয়াছেন, তাহাই তিনি জনগণের নিকট প্রচার করেন বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্টভাবে আয়াত ৮৭:৯-এ মহানবী -কে আদেশ করা হইয়াছে। উহা এইরূপ: فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَت الذكرى . “অতএব উপদেশ দাও, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়” (৮৭:৯)।
একেবারে প্রথম দিকের ওহীসমূহে তৃতীয় যে বিষয়টি উপস্থাপন করা হইয়াছে তাহা হইতেছে মুহাম্মাদ-কে আল্লাহ প্রেরিত রাসূল হিসাবে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান। ইসলামী বাচনভঙ্গীতে একজন নবী (পয়গাম্বর) ও একজন রাসূল (বার্তাবাহক)-এর মধ্যে পরিভাষাগত পার্থক্য এই যে, নবী ও রাসূল উভয়ে আল্লাহ্র নিকট হইতে ওহী লাভ করেন, কিন্তু রাসূলকে তাহা মানুষকে অর্পণ ও প্রচারের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সূরা আল-মুদ্দাছছির-এর প্রথম কয়েকটি আয়াত নাযিল করিয়া মুহাম্মাদকে এই বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। মুহাম্মাদকে সম্বোধন করিয়া নাযিলকৃত আয়াতটি (নং৭৪: ১-৩) এইভাবে শুরু হইয়াছে:
يأَيُّهَا المُدثَرُ . قُمْ فَانْذِرْ ، وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ .
“হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর" (৭৪:১-৩)।
এখানে একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দেওয়া হইয়াছে। তাহা হইতেছে জনগণকে তাহাদের কৃতকর্মের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করা এবং নাযিলকৃত ওহীতে যে সকল নির্দেশ রহিয়াছে তাহা জানান। বাস্তবিকপক্ষে একেবারে প্রথম ও সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাটি এখানে বিশেষভাবে
উল্লেখ করা হইয়াছে। তাহা হইতেছে, "এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর"। ইহার অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ (আল্লাহু আকবার = اَللهُ أَكْبَرُ( এই ঘোষণা জনসমক্ষে প্রচারের জন্য মহানবীকে আদেশ দেওয়া হইয়াছিল। অন্য কথায় তাঁহাকে ঘোষণা করিতে হইত যে, কল্পিত দেব-দেবীসহ অন্য সব কিছুই আল্লাহ্র অধীন। ইহা তাওহীদ সংক্রান্ত আদেশও বটে।
সকল ভাষ্যকার (তাফসীরকারবৃন্দ) এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, সূরা আল-মুদ্দাছছির-এর উপরিউক্ত আয়াতে মহানবীকে সুনির্দিষ্টভাবে রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণ করা হইয়াছে। ইহার সহিত সংযোজন করা যাইতে পারে যে, রিসালাত-এর ভাবধারাটি অন্তর্নিহিত এবং এমনকি নাযিলকৃত প্রথম ওহীতেও বর্তমান। কারণ 'পড়িবার' জন্য নির্দেশ দান এবং কলমের প্রসঙ্গ উত্থাপনের মধ্যে উক্ত ভাবধারাটি রহিয়াছে যাহাতে মহানবী একটি আসমানী কিতাব প্রাপ্তির দ্বারপ্রান্তে রহিয়াছেন এবং এই কিতাব তিনি জনসমক্ষে প্রচার করিবেন। তিনি এই কিতাব সংরক্ষণ করিয়া ইহার জ্ঞান কলমের সাহায্যে প্রচার করিবেন।
আল্লাহর রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদকে যে দায়িত্বভার অর্পণ করা হইয়াছে সূরা আল-মুয্যামমিলের ১৫ নং আয়াতে সরাসরি তাহার উল্লেখ দেখা যায়।
إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمُ رَسُولاً شَاهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولاً .
"আমি তোমাদিগের নিকট পাঠাইয়াছি এক রাসূল তোমাদিগের জন্য সাক্ষীস্বরূপ, যেমন সাক্ষী পাঠাইয়াছিলাম ফিরআওনের নিকট" (৭৩:১৫)।
এই আহ্বান স্পষ্টতই মুহাম্মাদ-এর সমকালীন ব্যক্তি এবং তৎসহ পরবর্তী মানবগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে করা হয়। ফির'আওনের নিকট প্রেরিত আল্লাহর রাসূল অর্থাৎ মূসা (আ)-এর সহিত এখানে যে তুলনা করা হইয়াছে তাহা তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁহার মত মুহাম্মাদ-ও একজন রাসূল বা বার্তাবহক যাঁহাকে আল্লাহ্র কিতাব দেওয়া হইয়াছে এবং এই কিতাবে নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশাবলী ও মানব আচরণবিধি অন্তর্ভুক্ত আছে।
আল্লাহ্র রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদ-এর দায়িত্ব প্রাপ্তি এবং তাঁহার ভূমিকা সম্পর্কে আরও কিছু প্রাসঙ্গিক আয়াত ৭৪: ৫২-৫৪ (সূরা আল-মুদ্দাছছির), ৮১: ১৫-১৯ (সূরা আত-তাকবীর) ও ৮৭: ১৮-১৯ (সূরা আল-আ'লা)-তে আলোচিত হইয়াছে। আয়াত ৭৪: ৫২-৫৩-তে মক্কার কাফিরদের বিরক্তিকর উত্যক্তকারী দাবির প্রসঙ্গটি আসিয়াছে। তাহাদের দাবি যে, তাহাদের প্রত্যেককে নাযিলকৃত ওহীর প্রকাশ্যে লিখিত কাগজ )صحف منشرة( দেওয়া হউক এবং আয়াতগুলি গুরুত্বারোপ করে যে, ইহা কখনও হইতে পারে না এবং মহানবী তাহাদিগকে যাহা অর্পণ করিতেছেন তাহা )كلا انه تذكرة( "নিশ্চিতভাবে একটি স্মারক চিহ্ন"। অনুরূপভাবে আয়াত ৮১: ১৫- ২৯ কাফিরদের নানাবিধ অভিযোগের মুকাবিলায় ঘোষণা করে যে, মহানবী
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَانٍ নিজে যেমন ভূতাবিষ্ট (مجنون) হন নাই তেমনি তিনি কোন শয়তানের কথাও ঘোষণা করিতেছেন না; বরং তিনি ফেরেশতার মাধ্যমে যে ওহী লাভ করেন তাহাই জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করিতেছেন। তিনি ফেরেশতাকে আকাশের স্পষ্ট দিগন্তে (بالأفق المُبين) দেখিতে পান এবং প্রকৃতপক্ষে ইহা সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য ছিল প্রত্যাদেশ (انْ هُوَ اِلَّا ذِكْرُ لِّلْعَلَمِينَ) । এই আয়াতে তাই মহানবী যে ওহী লাভ করিয়াছেন, তাহাই তিনি জনগণের নিকট প্রচার করেন বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্টভাবে আয়াত ৮৭:৯-এ মহানবী -কে আদেশ করা হইয়াছে। উহা এইরূপ: فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَت الذكرى . "অতএব উপদেশ দাও, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়" (৮৭:৯)।
📄 ৪. মৃত্যু পরবর্তী জীবন (আখিরাত)
এই বিষয়টি প্রথম দিকের নাযিলকৃত ওহীসমূহে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করিয়া রহিয়াছে। প্রকৃতপক্ষে বিবেচনাধীন ১০টি সূরার সবগুলিতেই ইহার প্রাধান্যপূর্ণ উল্লেখ দেখা যায় এবং ইহা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ যে, মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে সূরা আল-'আলাক-এ উল্লেখ রহিয়াছে। সেখানেও মানুষের শেষ গন্তব্যের কথা উল্লিখিত হইয়াছে- “নিশ্চয় তুমি তোমার প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তন করিবে” (إِنَّ إِلَى رَبِّكَ الرُّجْعَى ) এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ অভিব্যক্তি একটি মূল সত্যকে তুলিয়া ধরে। তাহা হইতেছে পৃথিবীতে মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব। ইহার বিপরীতে মানুষের পরকালীন জীবন অর্থাৎ আল-আখিরাতকে সর্বোত্তম ও অধিকতর স্থায়ী বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى “অথচ আখিরাতই উৎকৃষ্টতর ও স্থায়ী" (৮৭:১৭)। ৬৫ পরকালীন জীবনের শুরু হইতেছে ইহজগতের সমাপ্তি। ইহার পর মানুষের পুনরুত্থান (আল-বা'ছ) ও বিচারের দিন (আল-কিয়ামাহ; ইয়াওমুদ্দীন) কিয়ামতের দিনের একমাত্র মালিক হইবেন একমাত্র আল্লাহই। ঐ সকল অনিবার্য ঘটনাবলীর কিছু সংখ্যক স্পষ্ট বিবরণী প্রদান করা হইয়াছে। ৬৬ উদাহরণস্বরূপ আয়াত ৮১: ১-১৪ (সূরা আত-তাকবীর), ৭৩: ১২-১৪ (সূরাতুল মুয্যামমিল), ৭৪ঃ ৮-১০, ২৬- ৩১, ৩৫-৫১, ৫৩ (সূরাতুল মুদ্দাছছির), ৮৭: ১২-১৩ (সূরাতুল আ'লা), ৮৯: ২১-৩০ (সূরাতুল ফাজর) ও ৯২: ১৩-১৮ (সূরাতুল লায়ল)-এ এই বিষয়ে বিধৃত হইয়াছে। উদাহরণের জন্য প্রথমে উল্লেখিত আয়াতটির উদ্ধৃতি দেওয়া যাইতে পারে। আয়াতটি নিম্নরূপ:
اذا الشَّمْسُ كُورَتْ ، وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ ، وَاذَا الجِبَالُ سَيِّرَتْ ، وَإِذَا الْعِشَارُ عطَلَتْ ، وَإِذَا الْوُحُوشِ حُشِرَتْ ، وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ ، وَإِذَا النُّفُوسُ زُوجَتْ ، وَإِذَا الْمَوْعَدَةُ سُئِلَتْ ، بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ . وَإِذَا الصُّحُفُ نُشْرَتْ ، وَإِذَا السَّمَاءُ كُشِطَتْ ، وَإِذَا الْجَحِيمُ سُعْرَتْ ، وَإِذَا الْجَنَّةُ أَزْلَفَتْ ، عَلِمَتْ نَفْسٌ مَا أَحْضَرَتْ .
"সূর্য যখন নিষ্প্রভ হইবে, যখন নক্ষত্ররাজি খসিয়া পড়িবে, পর্বতসমূহকে যখন চলমান করা হইবে, যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রী উপেক্ষিত হইবে, যখন বন্য পশু একত্র করা হইবে, সমুদ্র যখন স্ফীত করা হইবে, দেহে যখন আত্মা পুনঃ সংযোজিত হইবে, যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হইবে, কী অপরাধে উহাকে হত্যা করা হইয়াছিল? যখন ‘আমলনামা উন্মোচিত হইবে, যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হইবে, জাহান্নামের অগ্নি যখন উদ্দীপিত করা হইবে, এবং জান্নাত যখন সমীপবর্তী করা হইবে, তখন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানিবে সে কী লইয়া আসিয়াছে” (৮১:১-১৪)।
বস্তুতঃ মহানবী -এর উপর অর্পিত আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট কাজের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হইতেছে মানুষকে তাহার পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে স্মরণ করাইয়া দেওয়া, পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর বিচারের দিনের এবং গুনাহগার বান্দাদিগের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা। একই সাথে তিনি নেক বান্দাগণকে অনন্ত কালব্যাপী পরম সুখের জীবনের সুসংবাদ দান করিয়াছেন। তাই কুরআনে তাঁহাকে প্রায়ই বাশীর ও নাযীর (যথাক্রমে সুসংবাদ দানকারী ও সতর্ককারী) হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে।
এই বিষয়টি প্রথম দিকের নাযিলকৃত ওহীসমূহে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করিয়া রহিয়াছে। প্রকৃতপক্ষে বিবেচনাধীন ১০টি সূরার সবগুলিতেই ইহার প্রাধান্যপূর্ণ উল্লেখ দেখা যায় এবং ইহা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ যে, মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে সূরা আল-'আলাক-এ উল্লেখ রহিয়াছে। সেখানেও মানুষের শেষ গন্তব্যের কথা উল্লিখিত হইয়াছে- “নিশ্চয় তুমি তোমার প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তন করিবে” (إِنَّ إِلَى رَبِّكَ الرُّجْعَى ) এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ অভিব্যক্তি একটি মূল সত্যকে তুলিয়া ধরে। তাহা হইতেছে পৃথিবীতে মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব। ইহার বিপরীতে মানুষের পরকালীন জীবন অর্থাৎ আল-আখিরাতকে সর্বোত্তম ও অধিকতর স্থায়ী বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى “অথচ আখিরাতই উৎকৃষ্টতর ও স্থায়ী” (৮৭:১৭)। ৬৫ পরকালীন জীবনের শুরু হইতেছে ইহজগতের সমাপ্তি। ইহার পর মানুষের পুনরুত্থান (আল-বা'ছ) ও বিচারের দিন (আল-কিয়ামাহ; ইয়াওমুদ্দীন) কিয়ামতের দিনের একমাত্র মালিক হইবেন একমাত্র আল্লাহই। ঐ সকল অনিবার্য ঘটনাবলীর কিছু সংখ্যক স্পষ্ট বিবরণী প্রদান করা হইয়াছে। ৬৬ উদাহরণস্বরূপ আয়াত ৮১: ১-১৪ (সূরা আত-তাকবীর), ৭৩: ১২-১৪ (সূরাতুল মুয্যামমিল), ৭৪ঃ ৮-১০, ২৬- ৩১, ৩৫-৫১, ৫৩ (সূরাতুল মুদ্দাছছির), ৮৭: ১২-১৩ (সূরাতুল আ'লা), ৮৯: ২১-৩০ (সূরাতুল ফাজর) ও ৯২: ১৩-১৮ (সূরাতুল লায়ল)-এ এই বিষয়ে বিধৃত হইয়াছে। উদাহরণের জন্য প্রথমে উল্লেখিত আয়াতটির উদ্ধৃতি দেওয়া যাইতে পারে। আয়াতটি নিম্নরূপ:
اذا الشَّمْسُ كُورَتْ ، وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ ، وَاذَا الجِبَالُ سَيِّرَتْ ، وَإِذَا الْعِشَارُ عطَلَتْ ، وَإِذَا الْوُحُوشِ حُشِرَتْ ، وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ ، وَإِذَا النُّفُوسُ زُوجَتْ ، وَإِذَا الْمَوْعَدَةُ سُئِلَتْ ، بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ . وَإِذَا الصُّحُفُ نُشْرَتْ ، وَإِذَا السَّمَاءُ كُشِطَتْ ، وَإِذَا الْجَحِيمُ سُعْرَتْ ، وَإِذَا الْجَنَّةُ أَزْلَفَتْ ، عَلِمَتْ نَفْسٌ مَا أَحْضَرَتْ .
"সূর্য যখন নিষ্প্রভ হইবে, যখন নক্ষত্ররাজি খসিয়া পড়িবে, পর্বতসমূহকে যখন চলমান করা হইবে, যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রী উপেক্ষিত হইবে, যখন বন্য পশু একত্র করা হইবে, সমুদ্র যখন স্ফীত করা হইবে, দেহে যখন আত্মা পুনঃ সংযোজিত হইবে, যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হইবে, কী অপরাধে উহাকে হত্যা করা হইয়াছিল? যখন ‘আমলনামা উন্মোচিত হইবে, যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হইবে, জাহান্নামের অগ্নি যখন উদ্দীপিত করা হইবে, এবং জান্নাত যখন সমীপবর্তী করা হইবে, তখন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানিবে সে কী লইয়া আসিয়াছে” (৮১:১-১৪)।
বস্তুতঃ মহানবী -এর উপর অর্পিত আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট কাজের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হইতেছে মানুষকে তাহার পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে স্মরণ করাইয়া দেওয়া, পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর বিচারের দিনের এবং গুনাহগার বান্দাদিগের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা। একই সাথে তিনি নেক বান্দাগণকে অনন্ত কালব্যাপী পরম সুখের জীবনের সুসংবাদ দান করিয়াছেন। তাই কুরআনে তাঁহাকে প্রায়ই বাশীর ও নাযীর (যথাক্রমে সুসংবাদ দানকারী ও সতর্ককারী) হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে।