📄 (খ) আকাশ
এই স্থলে গুরুত্ব আরোপ করিতে হইবে কাওয়ারা শব্দটির উপর। কারণ এই শব্দের অর্থ বল গড়াইয়া যাওয়া বা বৃত্ত করা। 'অন্যভাবে বলা যায়, এই আয়াতের অর্থ রাত্রি ও দিন পৃথিবীকে ঘিরিয়া এক চলমান প্রক্রিয়া।
পবিত্র কুরআন কেবল পৃথিবী ও উহাতে আল্লাহর ইচ্ছায় যাহা উৎপন্ন হয় তাহার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাই; বরং দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছে আকাশের প্রতি, মহাবিশ্বের প্রতি-যাহাতে আল্লাহ্ অস্তিত্ব ও তাঁহার সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতি এবং তাহা করিতে গিয়া এইরূপ বক্তব্য রাখা হইয়াছে যাহার অর্থ বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে উন্মোচিত হইতেছে। পৃথিবী সম্পর্কে বলিতে গিয়া ওয়াট সাহেব যাহা বলিয়াছিলেন তেমনি আকাশ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের বক্তব্যকে তিনি সেকালের ভ্রান্ত ধারণার পুনরুল্লেখ বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন যে, আকাশ এইরূপ কঠিন কোন বস্তু দ্বারা নির্মিত; 'সম্ভবত প্রস্তর'। ৪৮ তিনি তাহার অনুমানের সপক্ষে পবিত্র কুরআনের যে আটটি আয়াত উদ্ধৃত করিয়াছেন তাহার তিনটি আয়াতকে নিজের মনের মত অনুবাদ করিয়া বলিয়াছেন যে, পবিত্র কুরআনে বৈজ্ঞানিক ভ্রান্তি রহিয়াছে। নিম্নে সেই আয়াত তিনটি ও তিনি যে অনুবাদ করিয়াছেন তাহা দেওয়া গেল:
(ক) أَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنْهَا . رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوهَا
"Are you harder to create or the heaven he built? He raised up its roof and ordered it".
"তোমাদের সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই ইহা নির্মাণ করিয়াছেন, তিনি ইহার ছাদকে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করিয়াছেন" (৭৯: ২৭-২৮)।
(খ) أَفَلا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ، وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ .
"Will they not regard the camels, how they are formed? And the heaven how it is raised"?
"তবে কি উহারা দৃষ্টিপাত করে না উটের দিকে, কিভাবে উহাকে সৃষ্টি করা হইয়াছে? এবং আকাশের দিকে, কিভাবে উহাকে ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হইয়াছে" (৮৮:১৭-১৮)।
(গ) وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ .
"The heaven we have built with hands, and it is we who make it of vast extent".
"আমি আকাশ নির্মাণ করিয়াছি আমার ক্ষমতাবলে এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী” (৫১:৪৭)।
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً .(7) "(your Lord) made for you the earth a carpet and the heaven an edifice..."
"যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা এবং আকাশকে ছাদ করিয়াছেন" (২:২২)।
উপরিউক্ত (ক), (গ) ও (ঘ) আয়াত তিনটিতে যথাক্রমে তিনটি শব্দ রহিয়াছে : بَنهَا / بَنَيْنِهَا وَبَنَاءَ - বানাহা, বানায়নাহা ও বিনা। ওয়াট তাহার নিজের মনের মতই অনুবাদ করিয়াছেন। কারণ তাহা দ্বারা তিনি যাহা বলিতে চাহিতেছেন তাহাই বোঝা যায়। তাহার অনুবাদ যদি গ্রহণ করা হয় তাহা হইলেও দেখিতে হইবে যে, বিল্ড ও এডিফিস কেবল কঠিন বস্তুর ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় না। এইগুলি কঠিন নহে অথবা বিমূর্ত এইরূপ বস্তুর ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত। যাহা হউক তিনি ওয়াইন্না লা-মূসি'ঊন )وَأَنا لَمُوسِعُونَ( -এর অনুবাদ করিয়াছেন 'এবং আমরা ইহাকে বিশাল আয়তন করি', ইহা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। এই স্থলে যাহাকে 'বিশাল আয়তন করা' বলা হইয়াছে তাহার প্রকৃত অর্থ হইবে 'ক্রমসম্প্রসারমান' অথবা 'ক্রমবিস্তারমান'। ইহা পূর্বেও বলা হইয়াছে।
বর্তমান কালে আমরা অবগত আছি যে, একটি পরমাণু ও একটি 'গঠিত কাঠামো' কতকগুলি মৌলিক উপাদান লইয়া গঠিত। অনুরূপভাবে সমগ্র মহাবিশ্ব এবং ইহার বিভিন্ন অংশ যাহার মধ্যে রহিয়াছে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, উপগ্রহ, বিভিন্ন সিস্টেম, যেমন সোলার সিস্টেম-এই সকল কিছুই সুসংগঠিত কাঠামো অথবা প্রাণীসত্তা অথবা আলঙ্কারিক অর্থে একটি স্বপ্নসৌধও হইতে পারে। এমতাবস্থায় নির্মিত, সৃষ্ট বা গঠিত-এই শব্দগুলি তাহাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হইতে পারে। এমনকি সৌরমণ্ডলের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হইতে পারে, যদিও তাহার মধ্যে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ রহিয়াছে। প্রশ্ন হইতেছে কোন দৃষ্টিতে আমরা বিষয়টিকে দেখি, যেমন ওয়াট সাহেব তার নিজের দৃষ্টিতে দেখিয়াছেন। যে শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে তাহা দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে, পবিত্র কুরআন অনুযায়ী আকাশ কোন কঠিন বস্তু।
অনুরূপভাবে 'সাঙ্ক' (سَمَاء) শব্দটিকে ওয়াট সাহেব অনুবাদ করিয়াছেন 'ছাদ', অথচ ইহার অন্যান্য অর্থ হইতে পারে উচ্চতা, প্রসারিত, ব্যাপকতা এবং বুরুজ অথবা নক্ষত্রপুঞ্জের এলাকা। ৪৯ অবশ্য পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হইয়াছে اَلسَّقْف المرفوع 'উন্নীত ছাদ' (৫২:৫) এবং سَقْفًا مَّحْفُوظ “রক্ষাকারী ছাদ" (২১ঃ ৩২)। মূল আরবী সাক্ফ অর্থ আচ্ছাদন অথবা কোন কিছুর উপর ছাদ। এই শব্দটি যথাযথই ব্যবহৃত হইয়াছে-কারণ আমাদের নিকটস্থ পৃথিবীর চারপাশে যে মণ্ডল সেগুলি আমাদেরকে রক্ষা করার জন্যই। এই চারটি আয়াত ছাড়াও কুরআনে আরও অনেক আয়াত রহিয়াছে যেগুলি আকাশ সংক্রান্ত, কিন্তু ওয়াট সেগুলি বিবেচনায় আনেননি।
এই আয়াতগুলিকে বৃহৎ তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন, (ক) যেগুলিতে সৃষ্টির প্রথমাবস্থায় আকাশের অবস্থা বলা হইয়াছে; (খ) যেগুলিতে আকাশের প্রকৃতি ও তাহাতে কি আছে অথবা আকাশ এখন কি প্রকার তাহা বলা হইয়াছে; (গ) পরিশেষে যেগুলিতে আকাশের অবস্থা কি তাহা বলা হইয়াছে।
সৃষ্টির প্রথমাবস্থায় আকাশের অবস্থা কিরূপ ছিল তাহা বর্ণনার ক্ষেত্রে দুইটি আয়াত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি ৪১: ১১ আয়াত। উহা বলে যে, প্রথমে আকাশ ছিল 'ধোঁয়া' (অথবা বাষ্পীভূত বা গ্যাসের মত); ৫০ অপরটি ২১: ৩০। উহা বলে, আকাশ ও পৃথিবী প্রথমাবস্থায় একীভূত বা একত্র পুঞ্জীভূত ভর ছিল, পরে উহা বিভক্ত হইয়া পৃথক হইয়া গিয়াছে। ৫১ আধুনিক বৈজ্ঞানিকগণ এই বিষয়ে বিভিন্ন মত পোষণ করেন। তাহাদের এক একজনের এক এক তত্ত্ব। বর্তমান লেখক এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন এবং এই বিষয়ে মন্তব্য করার মত পারদর্শীও নন। তদুপরি এই স্থলে উক্ত বিষয়ে আলোচনার তেমন সুযোগও নাই। তবে একজন সাধারণ পাঠক হিসাবে এই বিষয়ে নিরাপদে দুইটি মন্তব্য করা যাইতে পারে। (এক) আধুনিক কালে মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কিত যে সকল থিওরি বা তত্ত্ব দাঁড় করানো হইয়াছে উহা পবিত্র কুরআনের বক্তব্যের অনেক কাছাকাছি। (দুই) পবিত্র কুরআনের এই সকল বক্তব্য ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে প্রচলিত ধারণা হইতে বহু দূরবর্তী।
আকাশের প্রকৃতি ও উহাতে কি আছে এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বহু আয়াত রহিয়াছে। এই সকল আয়াতের সর্বাপেক্ষা আশ্চর্যের বিষয় যে, ইহাতে আকাশ কথাটি বহুবচনে (السموت) বলা হইয়াছে এবং পবিত্র কুরআনে ১৯০ বার বলা হইয়াছে এবং একবচনে (السَّمَاء) ১২০ বার বলা হইয়াছে। আরও মজার বিষয়, কমপক্ষে ৯ বার বলা হইয়াছে যে, 'সাত আসমান'। ৫২ একটির পর আর একটি (طباق), যাহাকে বলা যায় পরত পরত। ৫৩ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে অনেকেই এই মত পোষণ করেন যে, মহাশূন্য কতকগুলি সম্প্রসারমান স্তর দ্বারা গঠিত এবং প্রতিটি স্তরে তাহার নিজস্ব ছায়াপথ, নক্ষত্রপুঞ্জ ও সূর্য রহিয়াছে। পবিত্র কুরআনে ২০০ বার 'আকাশগুলি' ও 'সাত আকাশ' বলা হইয়াছে। ইহা আধুনিক জ্ঞানের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করিতে পারে। তবে একটি বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই যে, সপ্তম শতকের কোন মানুষ খালি চোখে আকাশের দিকে তাকাইয়া এবং আকাশকে কঠিন প্রস্তর নির্মিত প্রাসাদ কল্পনা করিয়া বলিতে সাহস করিবে এবং বারবার বলিবে সেখানে তেমন সাতটি প্রাসাদ আছে। এইরূপ উদ্ভট কথা বলা তো কখনই সম্ভব নহে, মহানবী -এর পক্ষে তো সম্ভব নয়ই। এই ক্ষেত্রেই পবিত্র কুরআনে সপ্তম শতকের প্রচলিত ধারণা হইতে বহু দূরে। ৫৪
আসমানসমূহ ও আসমানের অন্যান্য বস্তু তাহাদের নিজ নিজ অবস্থানে অবস্থিত রহিয়াছে কি প্রকারে সেই বিষয়ে পবিত্র কুরআন যে সকল বক্তব্য রাখিয়াছে তাহা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টই বলা হইয়াছে, আসমানকে 'উন্নীত' করিতে গিয়া আল্লাহ ইহার 'ভারসাম্য' নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন। ৫৫ ইহাও বলা হইয়াছে যে, আসমান এইরূপ কোন কাঠামো নহে যাহা দৃশ্যমান স্তম্ভের উপর রক্ষিত। ৫৬ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলা হইয়াছে যে, আসমানসমূহ এবং পৃথিবী আল্লাহ্র ইচ্ছায় ধারণকৃত হইয়া আছে। আয়াতটি নিম্নরূপ:
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولاً وَلَئِنْ زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنْ بَعْدِهِ .
"আল্লাহই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করেন, যাহাতে উহারা স্থানচ্যুত না হয়। উহারা স্থানচ্যুত হইলে তিনি ব্যতীত কে উহাদিগকে সংরক্ষণ করিবে" (৩৫:৪১)?
'আসামানের' ক্ষেত্রে, সেই সঙ্গে পৃথিবীর ক্ষেত্রে 'ধারণ করা' অভিব্যক্তিটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইহার অর্থ পৃথিবী অথবা আসমান কোনটিই কোন নিরেট বস্তুর উপর রক্ষিত নয়। অন্যভাবে বলিলে হয়, আয়াতে বলা হইতেছে যে, আসমান বা আসমানসমূহ এবং পৃথিবী মহাশূন্যে তাহাদের নিজস্ব অবস্থানে আল্লাহ্র ইচ্ছামাফিক ও পরিকল্পনামত রহিয়াছে, কোন কিছুই কোন কঠিন বস্তুর উপর স্থাপিত নাই।
আসমান সম্পর্কিত তৃতীয় ও সর্বাধিক আশ্চর্যের বিষয় হইতেছে যে, ইহা ক্রমাগত ক্রমবর্ধমান পদ্ধতিতে সম্প্রসারণশীল। পূর্বেও এই বিষয়ে বলা হইয়াছে। ৫৭ মহাবিশ্ব সম্পর্কিত আধুনিক বৈজ্ঞানিক মতবাদ অনেকাংশে পবিত্র কুরআনের বক্তব্যের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে আরও বলা যাইতে পারে যে, পবিত্র কুরআন সপ্ত আকাশকে 'সাতটি পথ' হিসাবেও বর্ণনা করিয়াছে। যেমন আয়াত ২৩:১৭
وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ . "আমি তো তোমাদের উর্ধ্বে সৃষ্টি করিয়াছি সপ্ত স্তর এবং আমি সৃষ্টি বিষয়ে অসতর্ক নহি"।
পবিত্র কুরআনের এই বক্তব্যের সঠিক অর্থ সেইদিন আমরা জানিতে পারিব যেদিন আধুনিক বিজ্ঞান পরিপূর্ণভাবে মহাশূন্যে ভাসমান বস্তুর চলাচল সম্পর্কে জানিতে পারিবে।
আকাশ সম্পর্কে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পবিত্র কুরআনে রহিয়াছে যে, আমাদের গ্রহে যেমন প্রাণসম্পন্ন বস্তু রহিয়াছে তেমনি অন্যত্রও আছে। কারণ ৪২: ২৯ আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলা হইয়াছে:
وَمِنْ أَيْتِهِ خَلْقُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيهِمَا مِنْ دَابَّةٍ . "তাঁহার অন্যতম নিদর্শন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এই দুইয়ের মধ্যে তিনি যে সকল জীব-জন্তু ছড়াইয়া দিয়াছেন সেইগুলি" (৪২ঃ ২৯)।
এইরূপ আরও অনেক আয়াত আছে যেখানে অনুরূপ ধারণা দেওয়া হয়। অবশেষে বলিতে হয়, সাত আসমানের মধ্যে আমাদের সবচাইতে নিকটবর্তী আসমান সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে আস-সামাউদ-দুয়া বা 'নিম্নস্থ আসমান'। অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হইয়াছে:
وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ . "আমি নিম্নস্থ আসমানকে নক্ষত্র (কাওয়াকিব) এবং ভাস্বর আলোক (মাসাবীহ) দ্বারা সুসজ্জিত করিয়াছি" (৬৭:৫)।
এইরূপে ৪১: ১২ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা সাত আসমান সৃষ্টি করার পর প্রতিটি আসমানের ক্রম নির্ধারণের বর্ণনা করেন: وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءِ أَمْرَهَا "এবং তিনি প্রতিটি আকাশে উহার বিধান ব্যক্ত করিলেন"।
انَّا زَيَّنَّا السَّمَاءِ الدُّنْيَا بزينة الكواكب . অতঃপর একই কথা ৬৭: ৫ আয়াতে বলিবার পর ৩৭: ৬ আয়াতে বলেন: "আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করিয়াছি” (৩৭ঃ ৬)। নিকটবর্তী আকাশের বৈশিষ্ট্যগুলি ইহাই। স্বাভাবিকভাবেই এই আকাশের বৈশিষ্ট্য বলা হইয়াছে। কারণ ইহাতেই রহিয়াছে আমাদের সৌরজগৎ ও নিকটবর্তী নক্ষত্রপুঞ্জ। আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কেবল নিকটবর্তী আকাশ ও উহার বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধানে নিয়োজিত। এই আকাশের উপরে 'ছাদ' হিসাবে রহিয়াছে 'ছায়াপথ', যে ছায়াপথে রহিয়াছে এক হাজার লক্ষ কোটির অধিক নক্ষত্র। আকাশের কথা বলিতে গিয়া মহাশূন্যের ধারণাকে ব্যক্ত করিতে চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হইয়াছে যে, উহাদিগকে আকাশেও স্থাপন করা হইয়াছে এবং উহাদিগকে নির্দিষ্ট পথে চলাচলের জন্যও নির্ধারিত করা হইয়াছে। ৫৯ যেমন ১৩: ২ আয়াতে বলা হয়েছে: وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى "তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করিলেন, প্রত্যেকে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবর্তন করে...."। অনুরূপভাবে ৩৬: ৩৮-৪০ আয়াতে বলা হইয়াছে: وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٌّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ، وَالْقَمَرَ قَدَّرْتُهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ . لا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا الَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ . "এবং সূর্য ভ্রমণ করে উহার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে; ইহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। এবং চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করিয়াছি বিভিন্ন মনযিল; অবশেষে উহা শুষ্ক বক্র পুরাতন খর্জুর শাখার আকার ধারণ করে। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রজনীর পক্ষে সম্ভব নয় দিবসকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ করে"। উপরিউক্ত আয়াতের 'মুসতাকারর' ও 'ফালাক' শব্দের যে ব্যাখ্যাই দেওয়া হউক না কেন এক দিকে এক প্রকার গতি ও চলাচলের ধারণা এবং অন্যদিকে মহাশূন্যের ধারণা 'ইয়াজরী, তাজরী ও ইয়াসবাহুন' শব্দের অভিব্যক্তিতে অত্যন্ত স্পষ্ট।
সামাওয়াত শব্দটির অর্থের মধ্যে আমাদের চারিপাশে ও উপরে শূন্যস্থানের যে ধারণা রহিয়াছে তাহাও ১৬: ৭৯ ও ৩০:৪৮ আয়াতে স্পষ্ট। প্রথম আয়াতটিতে বলা হইতেছে: أَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ مُسَخَّرَاتٍ فِي جَوِّ السَّمَاءِ .
"তাহারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের শূন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রানাধীন বিহংগের প্রতি” (১৬:৭৯)? দ্বিতীয় আয়াতে বলা হইতেছে: اللَّهُ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُهُ فِي السَّمَاءِ .
"আল্লাহ, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন, ফলে ইহা মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে, অতঃপর তিনি ইহাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়াইয়া দেন" (৩০:৪৮)।৬০
যে আয়াতগুলিতে শেষ দিনের কথা বলা হইতেছে সেইগুলি পরীক্ষা করিলে দেখা যায় উহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বলা হইতেছে, আকাশসহ সকল গ্রহ-নক্ষত্র ও সকল সৃষ্ট জগত শেষ হইয়া যাইবে। সেদিন আকাশমণ্ডলীকে গুটাইয়া ফেলিবে যেমন গুটান হয় লিখিত দফতর (স্ক্রল)। যেভাবে আমি সৃষ্টির সূচনা করিয়াছিলাম সেইভাবে পুনরায় সৃষ্টি করিব... ৬১ সেই দিন আকাশ মেঘপুঞ্জসহ বিদীর্ণ হইবে; স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হইবে আকাশ; ৬৩ যেদিন আকাশ আন্দোলিত হইবে প্রবলভাবে ৬৪; আকাশ বিদীর্ণ হইবে... উহা রক্তবর্ণে রঞ্জিত হইবে; আকাশ গলিত ধাতুর মত হইবে; আকাশ যখন বিদীর্ণ হইবে যখন নক্ষত্রমণ্ডলী বিক্ষিপ্তভাবে ঝরিয়া পড়িবে ৬৭; যখন সূর্য ও চন্দ্রকে একত্র করা হইবে; অবশেষে পুনরায় একটি নূতন পৃথিবী এবং নূতন আকাশ সৃষ্ট হইবে। يَوْمَ تُبَدِّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ .
"যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তীত হইয়া অন্য পৃথিবী হইবে এবং আকাশমণ্ডলীও” (১৪:৪৮)। এমনিভাবে বর্তমান পৃথিবী, মহাবিশ্ব নিঃশেষ হইবে, অতঃপর সূচনা হইবে নূতন বিশ্ব ও নূতন প্রাণের পরজগৎ।
এইভাবে বর্ণিত পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিহিত রহিয়াছে দূর ভবিষ্যতের গর্ভে এবং একমাত্র মহামহিম আল্লাহ তাআলাই জানেন উহা কখন, কবে সংঘটিত হইবে। আধুনিক বিজ্ঞান কেবল অনুমান করিতে পারে যে, একদিন এই বিশ্ব লোপ পাইবে কোন মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণে এবং সৌরজগতের ও গ্রহমণ্ডলীর স্থানচ্যুতির কারণে। এমতাবস্থায় আমরা সহজেই অনুধাবন করিতে পারি ইহার সহিত উপরে উল্লিখিত পবিত্র কুরআনের বক্তব্যর কোনই অসামঞ্জস্যতা নাই।
'গুটাইয়া ফেলা' অথবা 'বিক্ষিপ্তভাবে ঝরিয়া পড়া' প্রভৃতি শব্দ ও অভিব্যক্তি আকাশের আয়ুষ্কাল নিঃশেষ হওয়ার সহিত জড়িত। এই সকল অভিব্যক্তি দ্বারা ধারণা হয় যে, কোন কিছু ভাঙ্গিয়া যাইতে পারে। তেমনিভাবে, প্রাসাদ' বা 'ছাদ' শব্দের ন্যায় আকাশকেও কঠিন বস্তু বিবেচনা না করিয়াও এই সকল অভিব্যক্তিগুলিকেও ব্যাখ্যা করা যাইতে পারে, বিশেষ করিয়া যে প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে উহার মধ্যে রহিয়াছে নক্ষত্ররাজি, গ্রহ, সৌরজগৎ ইত্যাদি। অনুরূপ ভাবে আকাশ জীবনের অস্তিত্বের অর্থ ইহা নহে যে, সেই পৃথিবীর ন্যায় কঠিন বস্তু হইবে। কারণ যেমন পৃথিবী আকাশের (মহাশূন্যে) মধ্যে স্থিত তেমনি আরও অনেক পৃথিবী এই আকাশে অবস্থান করিতেছে। পবিত্র কুরআন ৬৫: ১২ আয়াতে স্পষ্টই বলিতেছে:
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ .
"আল্লাহই সৃষ্টি করিয়াছেন সপ্ত আকাশ এবং উহাদের অনুরূপ পৃথিবীও” (৬৫: ১২)।
এই প্রসঙ্গে মনে রাখিতে হইবে যে, অন্যান্য জীবনের গঠন প্রকৃতি ও গঠনের উপাদান সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হইতে পারে, হইতে পারে ভিন্ন মাত্রার আবাসস্থল, সেই আবাসস্থল আমাদের আবাসস্থলের ন্যায় নাও হইতে পারে। আবার পৃথিবী হইতে কিছু দূরে আকাশে মানুষের অবস্থা ওজনহীন হইয়া পড়ে এবং তখন তাহার চলাচল বা দাঁড়াইবার জন্য কোন প্রকার স্কুল বস্তুর সাহায্য লাগে না, তেমনি মহাশূন্যে যে সকল প্রাণসম্পন্ন বস্তু রহিয়াছে তাহারাও কঠিন বস্তু নাও হইতে পারে; তাহারা আমাদের স্পর্শের বা ধরা-ছোয়ার বাহিরে থাকিতে পারে।
উপরিউক্ত আলোচনা হইতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র কুরআনে এমন সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি রহিয়াছে তাহা যদি আকাশ সম্পর্কিত সেই পুরাতন আদিম যুগের ধারণা লইয়া পাঠ করা যায় তাহা হইলে উহার অর্থ তেমনই হইবে। কিন্তু যদি আধুনিক কালের আকাশ ও মহাশূন্য সম্পর্কিত জ্ঞান লইয়া পাঠ করা যায় তাহা হইলে অবশ্যই যথাযথ মনে হইবে। তদুপরি মনে রাখিতে হইবে, আমাদের আধুনিক কালে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানও আজও সীমাবদ্ধ। বৈজ্ঞানিকগণ অদ্যাবধি কেবল নিকটস্থ আকাশের সংবাদ সংগ্রহ করিতে সমর্থ হইয়াছেন। এই নিকটস্থ আকাশের পরে যে সীমাহীন মহাশূন্য রহিয়াছে তাহার তেমন কোন সঠিক তথ্য আজও আমরা লাভ করিতে পারি নাই। উহা আজও আমাদের ধারণার অতীত। বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেন যে, এই নিকট-আকাশের যে তথ্য তাহারা লাভ করিয়াছেন তাহাও প্রকৃত অবস্থার তুলনায় বিন্দু পরিমাণ মাত্র। দৃশ্যমান এই নিকটস্থ আকাশ, যেখানে রহিয়াছে গ্রহ-নক্ষত্র, তাহাকে অতিক্রম করিয়া যে মহাজগৎ তাহা আজও আমাদের জ্ঞান জগতের বাহিরে রহিয়াছে। এমনকি বিজ্ঞানীগণও স্বীকার করেন যে, তাহারা আকাশের বিস্তার ও প্রকৃতি সম্পর্কে আজ পর্যন্ত যাহা জানিয়াছেন উহা অজানা জগতের তুলনায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুর সমানও নহে। আমাদের জ্ঞাত জগতের বাহিরে যাহা আছে উহা আমাদের নিকট সম্পূর্ণ অন্ধকার। এই সকল আলোচনার প্রেক্ষিতে যদি অনুমান করা হয় যে, পবিত্র কুরআনের বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত নহে তাহা হইলে উহাকে চরম হঠকারিতা ব্যতীত আর কিছুই বলা চলে না।
যাহা হউক, ওয়াট সাহেবের অনুমান যে, আকাশ সম্পর্কিত পবিত্র কুরআনের বক্তব্য মধ্যযুগীয়, উহাতে সপ্তম শতকের জ্ঞান ধারণ করা হইয়াছে, তাহার সেই অনুমান তিনটি কারণে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।
(এক) তিনি মাত্র কয়েকটি আয়াত নির্বাচন করিয়াছেন এবং মধ্যযুগীয় ধারণা লইয়া বিশ্লেষণ করিতে অগ্রসর হইয়াছেন এবং অত্যন্ত সংকীর্ণ মন লইয়া বিচার করিয়াছেন।
(দুই) আকাশ সম্পর্কিত পবিত্র কুরআনের যে সকল আয়াত আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সংগতিপূর্ণ সেই সকল আয়াত তিনি সম্পূর্ণ পরিহার করিয়াছেন এবং আকাশ সম্পর্কিত সেই সকল বক্তব্য কেবল বিজ্ঞানের আরও অগ্রগতির পর বোধগম্য হইবে।
(তিন) তিনি মনে করেন বা ধরিয়া লইয়াছেন যে, আকাশ বা মহাকাশ সম্পর্কে আজ অবধি বিজ্ঞান যাহা জানিয়াছে উহাই চূড়ান্ত এবং মহাকাশ সম্পর্কে আর কিছুই জানার নাই। কিন্তু সত্য তাহা নহে। কারণ বিজ্ঞানীগণ নিজেরাই স্বীকার করিয়াছেন, বিশেষ করিয়া মহাকাশ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে তাহারা যাহা জানিয়াছেন এবং যাহা অনুসন্ধান করিতে পারিয়াছেন উহা মহাকাশের তুলনায় কণামাত্র।
টিকাঃ
৪৮. Watt, M's, M. 5.
৪৯. দ্র. লিসানুল আরাব, সাম্ফ শিরোনামে এবং তাজুল আরূস, ৭খ, পৃ. ১৪৫। ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانُ .
৫০. মূল পাঠ নিম্নরূপ : اِنَّ السَّمٰوَتِ وَالْاَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا .
৫১. মূল পাঠ নিম্নরূপ : اِنَّ السَّمٰوَتِ وَالْاَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا .
৫২. কুরআন ২:২৯; ১৭:৪৪; ২৩:১৭; ২৩:৮৬; ৪১:১২; ৬৫:১২; ৬৭:৩; ৭১:১৫; ৭৮:১২
৫৩. কুরআন ৬৭:৩ এবং ৭১:১৫ র্ট শব্দটির যদিও প্রায় অনুবাদ করা হয় একের উপর অন্যটি, তবে বিশুদ্ধতর অর্থ হইল স্তরে স্তরে অথবা একটির সহিত অন্যটি সম্পর্কিত। দ্র. Lane-এর Lexicon.
৫৪. ওয়াট এই মূল পাঠ এই বলিয়া দ্রুত অতিক্রম করিয়া যান যে, এখানে সাতটি আসমানের কথাও বলা হইয়াছে (Muhammads Mecca, 5).
৫৫. কুরআন ৫৫ : ৯ وَالسَّمَاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ .
৫৬. কুরআন ১৩: ২ এবং ৩১: ১০।
৫৭. নিম্নে দ্র.পৃ. ৩১৩; আরও দ্র. কুরআন ৫১:৪৭।
৫৮. দৃষ্টান্তস্বরূপ দ্র. কুরআন ১৬ : ৪৯; ১৭:৪৪; ১৭:৫৫; ১৯:৪০; ২১:৩৩; ২৩: ৭১; ২৪:৪১; ২৭:৬৫; ২৮: ১৮; ৩০: ২৬।
৫৯. আরও দ্র. কুরআন ১৪: ৩৩; ১৬: ১২; ২৯:৬১; ৩১:২০; ৩৫: ১৩; ৩৯:৫; ৪৫:১৩; ৭:৫৪; ১৬: ১২।
৬০. কুরআনে অবশ্য রূপক অর্থে কোন কোন ক্ষেত্রে 'সামা' শব্দটি বৃষ্টির অর্থেও ব্যবহৃত হইয়াছে, তবে তাহা আলোচ্য বিষয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক নহে।
৬১. কুরআন ২১: ১০৪ يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَى السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُ .
৬২. কুরআন ২৫:২৫ يَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمَامِ .
৬৩. কুরআন ৪৪: ১০ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِينٍ .
৬৪. কুরআন ৫২:৯ يَوْمَ تَمُورُ السَّمَاءُ مَوْرًا .
৬৫. কুরআন ৫৫ : ৩৭ فَإِذَا انْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَان .
৬৬. কুরআন ৭০ : ৮ يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ .
৬৭. কুরআন ৮২ : ১-২ إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ ، وَإِذَا الكَوَاكِبُ انْتَشَرَتْ .
৬৮. কুরআন ৭৫ : ৯ وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ; আরও দ্র. কুরআন ৩৯: ৬৭; ৬৯ : ১৬; ৭০:১৮; ৭৭:৯; ৭৮:১৯; ৮১:১১ এবং ৮৪: ১।