📄 আবূ বাক্স (রা) কর্তৃক উসামা বাহিনীকে প্রেরণের সিদ্ধান্ত
রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইনতিকালের কয়েক মাস পূর্ব হইতেই ইয়ামান ও নাজদ এলাকায় আসওয়াদ আনাসী ও মুসায়লামার ফিতনার সূত্রপাত হইয়াছিল। এইসব এলাকার লোকদের ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞান ছিল নূতন। সুতরাং নবৃওয়াতের মিথ্যা দাবিদারদের সম্পর্কে তাহাদের সম্যক জ্ঞান ছিল না। ফলে অনেক সরলপ্রাণ মুসলমান ইহাদের দ্বারা প্রতারিত হয়। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইনতিকালের পূর্বেই আসওয়াদ আনাসীকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ইয়ামান হইতে ধর্মদ্রোহিতা সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করা যায় নাই। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইনতিকালের সংবাদে সেখানকার অবস্থার আরও অবনতি হয়। নও মুসলিম, যাহারা যথার্থভাবে ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করিতে পারে নাই, রাসূলুল্লাহ (স)-এর তিরোধানে তাহাদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মক্কা, মদীনা ও তায়েফ ছাড়া সর্বদিক হইতে ইসলাম ত্যাগ করিবার সংবাদ আসিতে থাকিল। একদল লোক সালাত ও যাকাত আদায় করাকে অস্বীকার করিল। ইয়াহুদী ও খৃস্টান জগত হইতে মদীনা আক্রমণ করিবার সংবাদ পৌছিল। ঠিক এমন অবস্থার মধ্যে খলীফা আবু বাক্ (রা) উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-কে বায়যান্টাইন অভিযানের প্রতি নির্দেশ প্রদান করিলেন (আকবার শাহ নাজীবআবাদী, তারীখে ইসলাম, ১খ., পৃ. ২৬২)।
খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করিবার পরপরই হযরত আবূ বাক্র (রা) পতাকা বহনকারী সাহাবী বুরায়দা (রা)-কে পতাকাটি লইয়া উসামা (রা)-এর গৃহ দ্বারে লইয়া যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন এবং তাঁহাকে সতর্ক করিয়া দেন যে, যত সময় পর্যন্ত উসামা বায়যান্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ না হইবে সেই পর্যন্ত যেন পতাকাটি খুলিয়া ফেলা না হয়। এই নির্দেশ পালন সম্পর্কে বুরায়দা (রা)-এর নিজস্ব অভিব্যক্তি হইলঃ আমি তাহা লইয়া উসামা (রা)-এর গৃহদ্বারে উপস্থিত হইলাম। অতঃপর সেখান হইতে তাহা বহন করিয়া সিরিয়া (রোম) অভিমুখে যাত্রা করিলাম। অতঃপর আবার তাহা বহন করিয়া উসামার গৃহে প্রত্যাবর্তন করিলাম। সেই হইতে উসামা (রা)-এর ইনতিকাল অবধি পতাকাটি তাঁহার গৃহে বিদ্যমান ছিল। মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ ও পরাশক্তির পক্ষ হইতে মদীনা আক্রান্ত হওয়ার আশংকার মুহূর্তে উসামা (রা)-কে রোম (বায়যান্টাইন) অভিযানের নির্দেশ দানের ব্যাপারে শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কিরামের মনে দাগ কাটে। হযরত উমার, হযরত উছমান, হযরত সা'দ ইব্ন আবী ওয়াককাস, হযরত আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ ও হযরত সাঈদ ইব্ন যায়দ (রা) প্রমুখ নেতৃস্থানীয় সাহাবী হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া বলিলেন, হে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খলীফা! আরবের অভ্যন্তরেই যখন চতুর্মুখী সমস্যার সূত্রপাত হইয়াছে, বহুধা বিভক্ত দল-উপদলকে নিয়ন্ত্রণে আনিতে আপনি হিমশিম খাইতেছেন, এমতাবস্থায় বহিরাক্রমণের এই সিদ্ধান্তকে আপনি স্থগিত করিয়া ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এই বাহিনীকে নিয়োজিত করুন। ইহাতে ফল ভাল হইবে, উহারা ধর্মত্যাগীদের মূলোৎপাটনে সক্ষম হইবে। অপরদিকে মদীনায় যেখানে বহিশত্রুর আক্রমণের আশংকা প্রবলভাবে অনুমিত হইতেছে, এখানে রহিয়াছে আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি; সুতরাং আগে এই সকল চক্রান্ত প্রতিহত করা হউক। উহার পর উসামা (রা)-কে রোম অভিযানে প্রেরণ করিবেন। হযরত আবূ বাক্স (রা) নেতৃবর্গের এই অভিমত শুনিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, এই ব্যাপারে আর কাহারও কোন অভিমত আছে কি? তাঁহারা বলিলেন, এই পর্যন্তই আমাদের কথা। তাঁহাদের এই অভিমতের উত্তরে আবূ বাক্স (রা) বলিলেন:
والذي نفسي بيده لو ظننت ان السباع تأكلني بالمدينة لا نفذت هذا البعث ولا بدأت باول منه ورسول الله ﷺ ينزل عليه الوحى من السماء يقول انفذوا جيش اسامة.
“যেই সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁহার শপথ! যদি আমার এমন ধারণা হয় যে, হিংস্র প্রাণীসমূহ আমাকে মদীনায় সাবাড় করিয়া ফেলিবে, তবুও আমি এই বাহিনীকে রওয়ানা করা হইতে পিছপা হইব না। উহাই আমার সর্বপ্রথম কাজ। কারণ রাসূলুল্লাহ (স), যাহার উপর ওহী অবতীর্ণ হইত, তিনি বলিয়াছেন, তোমরা উসামা বাহিনীকে রওয়ানা হইতে দাও"।
"তবে হযরত উমার (রা) সম্পর্কে আমি বাহিনী প্রধান উসামার সহিত কথা বলিব, যাহাতে তাহাকে এখানে থাকিয়া যাওয়ার জন্য উসামা অনুমতি প্রদান করেন। কারণ মদীনায় তাহার অবস্থান বর্তমানে খুবই প্রয়োজন। তবে উসামা তাহা স্বীকার করিবেন কিনা এই সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নাই। অবশ্য তিনি সেই অনুমতি প্রদান না করিলে আমি মনোক্ষুণ্ণ হইব না।"
হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর এই ভাষণে দ্বিমত পোষণকারিগণ উপলব্ধি করিতে পারিলেন যে, বাহিনী প্রেরণে খলীফা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অতঃপর হযরত আবূ বাক্স (রা) উসামা (রা)-এর গৃহে আসিলেন এবং হযরত উমার (রা)-কে প্রত্যাহার করিয়া লওয়া সম্পর্কে তাঁহার সহিত কথা বলিলেন। উসামা (রা) উহাতে সম্মতি জ্ঞাপন করিলেন। হযরত আবূ বাক্স (রা) তখন তাঁহার নিকট সবিনয়ে নিবেদন করিলেন, আপনি কি আনন্দ চিত্তে উহাতে সম্মতি দিতেছেন? উসামা (রা) বলিলেন: হাঁ। অতঃপর হযরত আবূ বাক্স (রা) তাঁহার গৃহ হইতে বাহির হইয়া জনৈক ঘোষককে এই মর্মে ঘোষণা দিতে বলিলেন, আমার কঠিন সিদ্ধান্ত হইল, যাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর জীবিতাবস্থায় এই যুদ্ধের জন্য রওয়ানা করিয়াছেন তাহাদের কেহ যেন এই মুহূর্তে রওয়ানা হইতে পিছপা না হয়। কেহ পিছনে পড়িলে তাহাকে পায়ে হাঁটিয়া এই বাহিনীর সহিত যোগ দিতে বাধ্য করা হইবে (ওয়াকিদী)। কোন কোন সূত্রে পাওয়া যায় যে, দ্বিমত পোষণকারীদের জবাবে হযরত আবূ বাক্স (রা) বলিয়াছিলেন, আল্লাহ্র শপথ! যেই বাহিনীকে রাসূলুল্লাহ (স) প্রেরণ করিয়া গিয়াছেন তাহা কখনও আমি প্রত্যাহার করিয়া লইব না। যদিও কুকুররা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহধর্মিনীগণের পায়ে ঝাঁপাইয়া পড়ে এবং যেই পতাকাটি রাসূলুল্লাহ (স) উড্ডীন করিয়া গিয়াছেন তাহা নমিত করিব না। অন্য সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলিয়াছিলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশ পালনের পূর্বে অন্য কিছু শুরু করা অপেক্ষা আমাকে কোন পাখি ছোঁ মারিয়া লইয়া যাওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় (হালাবী)।
📄 আনসারগণ কর্তৃক সেনাপতি বদলের আবেদন
হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর নির্দেশমত বাহিনীর সকল সদস্য রওয়ানা হইয়া যান। কেহ কেহ মনে করেন, তাহারা তখন খন্দক নামক স্থানে গিয়া অবস্থান গ্রহণ করেন। সেনাপতি উসামা (রা) তখন হযরত উমার (রা)-কে খলীফা আবূ বাক্স (রা)-এর নিকট এই বলিয়া পাঠান যে, আল্লাহর রাসূলের খলীফা ও মদীনার মুসলমানদের ব্যাপারে আমার আশংকা হইতেছে যে, মুশরিকরা তাহাদের উপর ঝাঁপাইয়া পড়িবে। তাহারা খলীফা ও মুসলমানদের মূলোৎপাটনের পায়তারা করিবে। সুতরাং যদি তিনি অনুমতি প্রদান করেন তাহা হইলে এই স্থান হইতে আমি আমার বাহিনীকে লইয়া মদীনায় ফিরিয়া আসিব। কারণ এই বাহিনীতে রহিয়াছেন অনেক বীর সাহাবী। ইসলামের শত্রুরা তাহাদের অনুপস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করিবে।
হযরত উমার (রা) যখন এই বার্তা লইয়া রওয়ানা হইতে চাহিলেন তখন আনসারদের কিছু সাহাবী তাঁহাকে বলিলেন, খলীফা যদি ইহাতে অসম্মতি প্রকাশ করেন তাহা হইলে আমাদের সালাম তাঁহার নিকট পৌছাইয়া দিয়া বলিবেন, উসামা (রা) হইতে বয়স্ক একজন লোককে যেন তিনি আমাদের সেনাপতি নিযুক্ত করিয়া দেন। হযরত উমার (রা) যখন উসামা (রা)-এর বার্তা লইয়া তাঁহার নিকট আসিলেন তখন তিনি বলিলেন, আল্লাহ্র শপথ! হিংস্র চিতা ও কুকুররা যদি আমাকে নির্মূল করিয়া ফেলিতে চায় তবুও রাসূলুল্লাহ (স) যেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়া গিয়াছেন তাহা আমি কখনও পরিবর্তন করিব না।
অতঃপর হযতর উমার (রা) আনসারদের অভিমত তাঁহাকে অবহিত করিলেন। উসামা হইতে বয়স্ক লোককে সেনাপতি নিযুক্ত করিবার মতামত শুনিয়া হযরত আবূ বাক্স (রা) ক্রোধান্বিত হইলেন। তিনি উপবিষ্ট অবস্থা হইতে দাঁড়াইয়া গেলেন এবং হযরত উমার (রা)-এর দাড়ি ধরিয়া বলিলেন, হে খাত্তাবের পুত্র! রাসূলুল্লাহ (স) যাহাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিয়া গিয়াছেন তাঁহাকে অপসারণ করিবার অনুরোধ লইয়া তুমি আমার নিকট আসিয়াছ? অতঃপর হযরত উমার (রা) সৈন্যবাহিনীর লোকদের নিকট ফিরিয়া গেলেন এবং তাহাদেরকে রওয়ানা করিবার পরামর্শ দিয়া বলিলেন, তোমাদের কারণে আজ আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খলীফার ক্ষোভের শিকার হইলাম।
এখানে একটি প্রশ্ন দেখা দেয় যে, পূর্বেই তো স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (স) হযরত উসামার স্থলে অন্য কোন লোককে সেনাপতি নিযুক্তির আবেদনকে নাকচ করিয়া দিয়াছিলেন, ইহার পর আবার আনসার সাহাবীগণ কি করিয়া সেই অভিযোগ উত্থাপন করিলেন? উহার উত্তরে বলা হয়, সম্ভবত আনসারগণ সেই সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না অথবা বলা যায় যে, আনসারগণ মনে করিয়াছিলেন যে, ইহাতে মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ নিহিত রহিয়াছে। তাহাদের সহিত খলীফাও একমত হইবেন। বিশেষ করিয়া হযরত উমার (রা) তাহাই মনে করিয়াছিলেন। তাই তিনি এই বার্তা বহন করিতে কোন আপত্তি করেন নাই।
📄 উসামা বাহিনীকে বিদায় দান
রাবী'উছ ছানীর ১ তারিখ। একাদশ হিজরী সনে উসামা (রা) তাঁহার নেতৃত্বাধীন বাহিনী লইয়া রোম (বায়যান্টাইন) সাম্রাজ্যের উদ্দেশে রওয়ানা করেন (হালাবী)। এই বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল মোট তিন হাজার। ইহাতে অশ্বারোহী বাহিনী ছিল এক হাজার। হযরত আবূ বাক্ (রা) তাহাদেরকে বিদায় জানাইতে বাহির হইয়া আসেন এবং উসামা (রা)-এর সঙ্গে কিছুক্ষণ হাঁটেন। অতঃপর বলেন: "আমি তোমার দীন, আমানত ও আমলের শেষ পরিণতি আল্লাহ্র নিকট সোপর্দ করিলাম। আমি তোমাকে আদেশ নিষেধ কিছুই করিব না। আমি কেবল তাহাই কার্যকরকারী যেই নির্দেশ রাসূলুল্লাহ (স) দিয়া গিয়াছিলেন” (ওয়াকিদী)।
বিদায় দেওয়ার সময় হযরত আবূ বাক্স (রা) পায়ে হাঁটিয়া অগ্রসর হইতেছিলেন, আর হযরত উসামা (রা) ছিলেন বাহনের উপর উপবিষ্ট। হযরত আবূ বাক্স (রা)-এর খালি বাহনটিকে তখন আবদুর রহমান ইব্ন আওফ (রা) সম্মুখ হইতে টানিয়া লইয়া যাইতেছিলেন। উসামা (রা) নিবেদন করিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূলের খলীফা! হয় আপনি সওয়ার হউন, না হয় আমি অবতরণ করি। হযরত আবূ বাক্স (রা) বলিলেন, তোমার অবতরণের প্রয়োজন নাই। আর আমিও সওয়ার হইব না (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩/৬খ., পৃ. ২২৮)।
হযরত মু'আয (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) যখন ইয়ামানে প্রেরণ করিয়াছিলেন তখনও এ ধরনের বিদায় দানের দৃশ্য পরিলক্ষিত হইয়াছিল। হযরত মু'আয (রা) ছিলেন বাহনের উপর আর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে পায়ে হাঁটিয়া বিদায় জানাইতেছিলেন। আকবর খান নজীব আবাদী বলেন, আবূ বাক্স (রা) কর্তৃক এই ধরনের বিদায় দানের দৃশ্য দেখিয়া আনসারগণের মনে তাঁহার নেতৃত্ব সম্পর্কে যেই প্রশ্ন জাগ্রত হইয়াছিল তাহা নিরসন হইয়া যায়।
📄 উসামা (রা)-কে দশটি উপদেশ
মাওলানা আকবর শাহ খান নজীবআবাদী বলেন, হযরত আবূ বাক্স (রা) উসামা (রা)-কে পায়ে হাঁটিয়া বিদায় জানানোর সময় যে দশটি উপদেশ দেন তাহা হইল: (১) খিয়ানত করিবেন না; (২) শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলাদিগকে হত্যা করিবেন না; (৩) অন্যায় আচরণ করিবেন না; (৪) মিথ্যা কথা বলিবেন না; (৫) ফলবান বৃক্ষ কর্তন করিবেন না; (৬) খাদ্যের প্রয়োজন ব্যতিরেকে উট, গরু ও বকরী যবেহ করিবেন না; (৭) যখন কোন সম্প্রদায়ের সহিত মিলিত হইবেন তখন নম্রভাবে তাহাদিগকে ইসলামের দাওয়াত দিবেন; (৮) যখন কাহারও সহিত সাক্ষাত ঘটিবে, তখন তাহার মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রাখিবেন; (৯) আহার সামনে আসিলে আল্লাহ্ নাম লইয়া তাহা খাওয়া শুরু করিবেন; (১০) ইয়াহুদী খৃস্টানদের যে সকল লোককে নিজ নিজ উপাসনালয়ে উপাসনারত দেখিতে পাইবেন তাহাদিগকে আক্রমণ করিবেন না এবং আল্লাহর পথে আল্লাহর নামে কাফিরদের সাথে লড়াই করিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) যেই সকল কাজ করিবার জন্য আপনাদিগকে নির্দেশ দিয়াছেন, তাহার বেশীও করিবেন না আবার কমও করিবেন না।
নজীবআবাদীর মতে, এই সময়ই উসামা (রা)-এর অনুমতিক্রমে হযরত আবূ বাক্স (রা) হযরত উমার (রা)-কে এই বাহিনী হইতে প্রত্যাহার করিয়া লইয়াছিলেন (তারীখে ইসলাম, ১খ., পৃ. ২৮২)।