📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়ামানে হযরত আলী (রা)-এর ভাষণ

📄 ইয়ামানে হযরত আলী (রা)-এর ভাষণ


হযরত আলী (রা) ইয়ামান অভিযানে প্রেরিত হইয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা প্রদান করিয়াছিলেন। বক্তৃতা প্রদানের সময় কা'ব আল-আহবার (র) একজন ইয়াহুদী পণ্ডিতসহ সুসজ্জিত পোশাক পরিধানপূর্বক বাহনে চড়িয়া উপস্থিত হইলেন। কা'ব আল-আহবার (র) আলী (রা) প্রদত্ত বক্তৃতা শুনিয়া তাঁহার সহিত ঐকমত্য পোষণ করিলেন। হযরত আলী (রা) বলিতেছিলেন :
ان من الناس من يبصر بالليل ولا يبصر بالنهار قال كعب صدق فقال على وفيهم من لا يبصر بالليل ولا يبصر بالنهار فقال كعب صدق فقال على ومن يعط باليد القصيرة يعط باليد الطويلة فقال كعب صدق فقال الحبر وكيف تصدقه قال أما قوله ان من الناس من يبصر بالليل ولا يبصر بالنهار فهو المؤمن بالكتاب الأول ولا يؤمن بالكتاب الآخر واما قوله منهم من لا يبصر بالليل ولا يبصر بالنهار فهو الذي لا يؤمن بالكتاب والأول والآخر واما قوله من يعط باليد القصيرة يعط باليد الطويلة فهو ما يقبل الله من الصدقات قال وهو مثل رأيته بين قالوا وجاء كعبا سائل فأعطاه حلته ومضى الحبر مغضبا ومثلت بين يدى كعب امرأة تقول من يبادل راحلة براحلته فقال كعب وزيادة حلة قالت نعم فأخذ كعب وأعطى وركب الراحلة ولبس الحلة واسرع السير حتى لحق الحبر وهو يقول من يعط باليد القصيرة يعط باليد الطويلة.
"নিশ্চয় মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক রহিয়াছে যাহারা রাত্রিতে দেখিতে পায়, কিন্তু দিবসে দেখিতে পায় না। কা'ব আল-আহবার (র) বলিলেন, সত্য কথা বলিয়াছেন। পুনরায় আলী (রা) বলিলেন, মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক রহিয়াছে যাহারা রাত্রিতেও দেখিতে পায় না এবং দিবসেও দেখিতে পায় না। কা'ব (র) বলিলেন, তিনি সত্য বলিয়াছেন। পুনরায় আলী (রা) বলিলেন, মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তি অল্প পরিমাণ দান করে, আল্লাহ তা'আলা তাহাকে অপরিমিত দান করেন। কা'ব (র) বলিলেন, তিনি সত্য বলিয়াছেন। ইয়াহুদী পণ্ডিত বলিল, আপনি কীভাবে তাহার বক্তব্য উহার সত্যতা প্রতিপাদন করিলেন। তিনি বলিলেন, আলী (রা)-এর প্রথম বক্তব্যঃ "নিশ্চয় মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক রহিয়াছে যাহারা রাত্রিতে দেখিতে পায়, কিন্তু দিবসে দেখিতে পায় না" দ্বারা তিনি আহলে কিতাব (ইয়াহুদী খৃস্টান)-দিগকে উদ্দেশ্য করিয়াছেন যাহারা তাহাদিগের প্রতি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়া থাকে, কিন্তু সর্বশেষ কিতাব (আল-কুরআন) প্রতি ঈমান আনে না।
তাঁহার দ্বিতীয় বক্তব্য, "মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক রহিয়াছে যাহারা রাত্রিতেও দেখিতে পায় না এবং দিবসেও দেখিতে পায় না" ইহা দ্বারা তিনি সেই লোকদের বুঝাইয়াছেন যাহারা পূর্বাপর কোন কিতাবে বিশ্বাস করে না। তাঁহার তৃতীয় বক্তব্য "যে ব্যক্তি সৎকীর্ণ হস্তে দান করে তাহাকে মুক্ত হস্তে উহার প্রতিদান দেওয়া হয়" এই বক্তব্য দ্বারা "সাদাকাহ্” উদ্দেশ্য করিয়াছেন। তখন উক্ত ইয়াহুদী পণ্ডিত বলিল, হযরত আলী (রা)-এর বক্তব্যের ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত এতোই সুস্পষ্ট!
এক সাহায্যকারী কা'ব আল-আহবার (র)-এর নিকট আগমন করিলে তিনি তাহার চাদরখানা তাহাকে দান করিলেন এবং ইয়হুদী পণ্ডিত ক্রোধান্বিত হইয়া চলিয়া গেল। কা'ব আল-আহবার (র)-এর সহিত জনৈক মহিলার সংঘটিত ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য। মহিলা বলিল, কেহ আছ কি যে বাহনের বিনিময়ে বাহন পরিবর্তন করিবে? কা'ব (র) বলিলেন, চাদরসহ? মহিলা বলিল, হাঁ। কা'ব (র) উহা গ্রহণ করিলেন এবং নিজেরটি দান করিলেন।
অতঃপর তিনি বাহনে আরোহণ করিলেন এবং চাদর পরিধান করিয়া খুব দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করিয়া উক্ত ইহুদী পণ্ডিতের সহিত মিলিত হইয়া বলিলেন: যে ব্যক্তি সংকীর্ণ হস্তে দান করিবে তাহাকে মুক্ত হস্তে উহার প্রতিদান দেওয়া হইবে।
অপর এক বর্ণনায় কা'ব আল-আহবার (র) স্বয়ং বলিয়াছেন, হযরত আলী (রা) ইসলামের দাওয়াত পেশ করিবার জন্য যখন ইয়ামানে আগমন করিলেন, আমি তাঁহার সহিত সাক্ষাত করিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর চরিত্র-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) শুধু মুচকি হাসি দেন। কা'ব বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পূর্বেই আমরা জানিতে পারিয়াছি। অতঃপর আলী (রা) বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হইতেছেঃ যাহা অপরের জন্য হালাল উহা (যাকাত) রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য হারাম। কা'ব বলিলেন; আমাদের নিকট সর্বশেষ নবীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেইরূপ বর্ণিত রহিয়াছে উহা হুবহু হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর মধ্যে বিদ্যমান রহিয়াছে। সেই হেতু আমি তাঁহার প্রতি ঈমান আনয়ন করিলাম। অতঃপর আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি দীন-ইসলামের দাওয়াত পেশ করিলাম। ঐ সময় একটি ধর্ম গ্রন্থ বাহির করিলাম যাহা আমার পিতা মুখ বন্ধ করিয়া আমার নিকট আমানত হিসাবে রাখিয়াছিলেন এবং ইয়াছরিবে (মদীনায়) একজন নবী (হযরত মুহাম্মাদ) আগমনের পূর্বে খুলিতে নিষেধ করিয়াছিলেন। উহার মধ্যে তাঁহার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ ছিল। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইন্তিকাল পর্যন্ত দীন-ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত হইয়া ইয়ামান অবস্থান করিলাম। এমনকি হযরত উমার (রা)-এর খিলাফতকাল পর্যন্ত ইয়ামানে বসবাস করি” (কিতাবুল মাগাযী, ৩খ., ১০৮০-১০৮১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00