📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র

📄 মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র


রাসূলুল্লাহ (স)-এর পক্ষ হইতে যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রায় বিরাশি জন বেদুঈন ও মুনাফিক যুদ্ধে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করিল। বিভিন্ন অজুহাত দেখাইয়া তাহারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট গিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণ হইতে অব্যাহতি চাহিল। কিন্তু আল্লাহ্র রাসূল তাহদিগকে অব্যাহতি দেন নাই। মুনাফিকরা পরিষ্কার বলাবলি শুরু করিল, এইরূপ প্রচণ্ড গরমে বাহির হওয়া উচিৎ হইবে না (ইব্‌ন খালদুন, তারীখ, ১খ., পৃ. ১৭৬)। আল্লাহ তা'আলা এইসব মুনাফিকের মুখোশ উন্মোচন করিয়া বলেন:
وَقَالُوا لَا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرَّاً لَوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ. فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلِيَبْكُوا كَثِيرًا جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ.
"এবং তাহারা বলিল, 'গরমের মধ্যে অভিযানে বাহির হইও না'। বল, 'উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচণ্ডতম, যদি তাহারা বুঝিত'! অতএব তাহারা কিঞ্চিত হাসিয়া লউক, তাহারা প্রচুর কাঁদিবে তাহাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ" (৯ : ৮১-৮২)।
জাদ্দ ইন্ন কায়েস নামক এক নির্লজ্জ মুনাফিক রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে যুদ্ধ হইতে অব্যাহতি দান করুন। আমাকে বিপদে ফেলিবেন না। কারণ আমার গোত্রের লোকেরা জানে, নারীর প্রতি আমার প্রচণ্ড দুর্বলতা রহিয়াছে। আমি জানি, গৌরবর্ণের রোমান মহিলারা (বনু আস্ফার) অতীব সুন্দরী। আমার ভয় হইতেছে, এইসব সুন্দরী মহিলা দেখিলে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখিতে পারিব না। আমি স্বয়ং অভিযানে অংশ না লইলেও আর্থিক সাহায্য করিব (আল-কামিল, ২খ., পৃ. ২৯৯; তাফসীরে উছমানী, পৃ. ২৫৮)। রাসূলুল্লাহ (স) এই কথা শুনিয়া তাহার দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া লইলেন। এই প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
وَمِنْهُمْ مِّنْ يَّقُوْلُ ائْذَنْ لَّى وَلَا تَفْتِنِّىْ أَلَا فِى الْفِتْنَةِ سَقَطُوْا وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيْطَةٌ بِالْكَافِرِيْنَ.
"এবং উহাদের মধ্যে এমন লোক আছে যে বলে, আমাকে অব্যাহতি দাও এবং আমাকে ফিতনায় ফেলিও না। সাবধান! উহারাই ফিতনাতে পড়িয়া আছে। জাহান্নাম তো কাফিরদিগকে বেষ্টন করিয়াই আছে" (৯:৪৯)।
قُلْ أَنْفِقُوْا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا لَّنْ يُتَقَبَّلَ مِنْكُمْ إِنَّكُمْ كُنْتُمْ قَوْمًا فَاسِقِيْنَ.
"বল, তোমরা ইচ্ছাকৃত ব্যয় কর অথবা অনিচ্ছাকৃত, তোমাদের নিকট হইতে তাহা কিছুতেই গৃহীত হইবে না; তোমরা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়" (৯:৫৩)।
মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবাইর ষড়যন্ত্র সর্বজন বিদিত। সকল জিহাদে তাহার রহস্যময় বৈরী আচরণ সাহাবাদের নজর এড়ায় নাই। তাবুক অভিযানে মুনাফিক ও ইয়াহুদীদের সমন্বয়ে গঠিত পৃথক এক বিরাট বাহিনী লইয়া সে ছানিয়াতুল বিদা ঘাটির পার্শ্বে যুবার নামক পার্বত্য এলাকায় পৃথক শিবির স্থাপন করে। রাসূলুল্লাহ (স) ও সাহাবায়ে কিরাম যখন ছানিয়াতুল বিদা হইতে তাবুক অভিমুখে যাত্রা করিলেন তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই তাহার বাহিনী লইয়া মদীনা প্রত্যাবর্তন করে। ফিরিবার পথে সে মন্তব্য করিল, এই প্রচণ্ড রৌদ্রতাপে দূরবর্তী এলাকায় স্বল্প সরঞ্জাম লইয়া আরবরা রোমানদের মুকাবিলা করিয়া বিজয়ী হইতে পারিবে না। আল্লাহ্র শপথ! আমার তো মনে হইতেছে আগামী কাল যুদ্ধের ময়দানে মুহাম্মাদের অনুসারীরা রশিতে বাঁধা পড়িবে (তাফসীরে মাযহারী, ৫খ., পৃ. ২৯৭)। আবদুল্লাহ ইবন উবাই মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এইসব মন্তব্য করিয়াছিল। আল্লাহ তা'আলা এই সম্পর্কে বলেন:
لَوْ خَرَجُوْا فِيكُمْ مَّا زَادُوْكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَا أَوْضَعُوْا خِلْلَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّعُوْنَ لَهُمْ وَاللَّهُ عَلِيْمٌ بِالظَّلِمِينَ. لَقَدِ ابْتَغُوا الْفِتْنَةَ مِنْ قَبْلُ وَقَلَّبُوْا لَكَ الْأُمُوْرَ حَتَّى جَاءَ الْحَقُّ وَظَهَرَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَرِهُونَ.
"উহারা তোমাদের সহিত বাহির হইলে তোমাদের বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করিত এবং তোমাদের মধ্যে ফিত্না সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যে ছুটাছুটি করিত। তোমাদের মধ্যে উহাদের জন্য কথা শুনিবার লোক আছে। আল্লাহ যালিমদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। পূর্বেও উহারা ফিত্না সৃষ্টি করিতে চাহিয়াছিল এবং উহারা তোমার বহু কর্মে উলট-পালট করিয়াছিল যতক্ষণ না উহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য আসিল এবং আল্লাহ্ আদেশ বিজয়ী হইল" (৯:৪৭-৪৮)।
অপরদিকে কতিপয় মুনাফিক তাবুক অভিযানে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সফরসঙ্গী হইয়াছিল, কিন্তু তাহাদের অন্তর পরিচ্ছন্ন ছিল না। নানা অজুহাত ও অভিযোগ তুলিয়া তাহারা ঈমানদারদের বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালাইত। উহাদের মধ্যে ওদইয়া ইব্‌ন ছাবিত, জুলাস্ ইব্‌ন সুয়ায়দ, মাশী ইবন হুমায়্যির অন্যতম। এইসব মুনাফিক মুসলমানদের নিরুৎসাহিত করিবার উদ্দেশ্যে বলিতে লাগিল, কালই তোমরা রোমানদের হাতে বন্দী হইবে। মুনাফিক জুলাস ছিল অতি গরীব। তাহার বেশ কিছু অর্থ জনৈক ব্যক্তির নিকট আটকা পড়িয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রচেষ্টায় সে তাহার অর্থ ফেরৎ পাইয়া ধনী হইয়া যায়। ইহাতে আল্লাহর রাসূলের উপকার করা তো দূরের কথা, বরং সে সারা জীবন এই মহামানবের বিরোধিতাই করিয়া গেল।
সে মন্তব্য করিল, যদি মুহাম্মাদ সত্য হয়, তাহা হইলে আমরা গাধার চাইতেও অধম হইয়া যাইব। এই মন্তব্য শুনিয়া তাহার সৎছেলে জবাব দিল, তুমি এমনিতেই গাধার চাইতে অধম। আর আল্লাহ্র রাসূল (স) প্রকৃত সত্যবাদী। হযরত উমায়র (রা) তাহাকে বলিলেন, হে জুলাস! তুমি আমার নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রিয় ব্যক্তি। কিন্তু তুমি যেই মন্তব্য করিয়াছ তাহা যদি মানুষের কাছে প্রকাশ করিয়া দেই, তাহা হইলে তুমি বেইজ্জত হইবে। আর তোমার মন্তব্যে যদি আমি নিশ্চুপ থাকি, তবে আমি ধ্বংস হইয়া যাইব। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এই বিতর্কের খবর পৌছিলে জুলাস্ তাহার দরবারে হাজির হইল এবং কসম করিয়া বলিল, 'আমি আপনার সম্পর্কে আপত্তিকর কোন মন্তব্য করি নাই। উমায়র মিথ্যা বলিতেছে'। আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমের মাধ্যমে আসল ঘটনা অবহিত করেন:
يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَعْنُهُمُ اللَّهُ وَرَسُولَهُ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنْ يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ وَإِنْ يَتَوَلَّوا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا عَلِيمًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ:
"উহারা আল্লাহ্র শপথ করে যে, উহারা কিছু বলে নাই; কিন্তু উহারা তো কুফরীর কথা বলিয়াছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর উহারা কাফির হইয়াছে। উহারা যাহা সংকল্প করিয়াছিল তাহা পায় নাই। আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল নিজ কৃপায় উহাদিগকে অভাবমুক্ত করিয়াছিলেন বলিয়াই উহারা বিরোধিতা করিয়াছিল। উহারা তওবা করিলে উহাদের জন্য ভাল হইবে, কিন্তু উহারা মুখ ফিরাইয়া লইলে আল্লাহ্ দুনিয়ায় ও আখিরাতে উহাদিগকে মর্মন্তুদ শান্তি দিবেন। পৃথিবীতে উহাদের কোন অভিভাবক নাই এবং কোন সাহায্যকারী নাই" (৯ঃ ৭৪)।
মুনাফিক উদ্‌য়্যা ইব্‌ন ছাবিত ঈমানদারগণের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বলিল, আমাদের সঙ্গীরা মিথ্যাবাদী, পেট মোটা ও যুদ্ধের সময় কাপুরুষ। রাসূলুল্লাহ (স) আম্মার ইবন ইয়াসির (রা)-কে হুকুম দিলেন, ঐসব ব্যক্তির নিকট গিয়া দেখ তাহারা হিংসার বশবর্তী হইয়া কি মন্তব্য করিতেছে? যদি তাহারা অস্বীকার করে তবে বলিয়া দাও, তোমরা এই এই মন্তব্য করিয়াছ। হযরত আম্মার তাহাদের সহিত আলাপ করিলেন। উদয়‍্যা আগাইয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর উষ্ট্রীর হাওদার রশি ধরিয়া মন্তব্য করিল, হযরত! আমরা তো কৌতুক করিতেছিলাম। আল্লাহ তা'আলা ইহার রহস্য উদঘাটন করিয়া বলিলেন:
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ط قُلْ أَبِاللَّهِ وَأَيْتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ. لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ ط إِنْ نَعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِّنْكُمْ نُعَذِّبُ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ.
"এবং তুমি উহাদিগকে প্রশ্ন করিলে উহারা নিশ্চয় বলিবে, 'আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করিতেছিলাম'। বল, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁহার নিদর্শন ও তাঁহার রাসূলকে বিদ্রূপ করিতেছিলে? তোমরা দোষ স্থালনের চেষ্টা করিও না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করিয়াছ। আমি তোমাদের মধ্যে কোন দলকে ক্ষমা করিলেও অন্যদিকে শাস্তি দিব; কারণ তাহারা অপরাধী" (৯: ৬৫-৬৬)।
তখন মাখশী ইব্‌ন হুমায়্যির বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার পিতার নাম পাল্টাইয়া দিন। উপরিউক্ত আয়াতে যাহাকে ক্ষমা করার কথা বলা হইয়াছে তিনি হইলেন মাখশী ইন, হুমায়্যির। রাসূলুল্লাহ (স) তাহার নাম রাখেন আবদুর রহমান। তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করেন যাহাতে মাখশী এমন স্থানে শাহাদত বরণ করেন যাহা কেহ জানিতে না পারে। পরবর্তীতে তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। তাহার কোন চিহ্ন খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই (তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ২খ., পৃ. ৭৪; ইন্ন হিশাম, ২খ., ৫২৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবূ খায়ছামা ও উমায়রের যুদ্ধযাত্রা

📄 আবূ খায়ছামা ও উমায়রের যুদ্ধযাত্রা


রাসূলুল্লাহ (স) তাবুকের উদ্দেশ্যে বাহির হওয়ার পর হযরত আবূ হায়ছামা (রা) প্রচণ্ড খরতাপের কারণে কয়েক দিনের জন্য পরিবারবর্গের নিকট ফিরিয়া আসেন। ঘরে প্রত্যাবর্তন করিয়া দেখিলেন তাঁহার দুই স্ত্রী নিজ নিজ কক্ষের মেঝেতে ঠাণ্ডা পানি ছিটাইয়া, শীতল পানীয় ও সুস্বাদু আহার্য প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন। তিনি গৃহদ্বারের সম্মুখে দাঁড়াইয়া দুই পত্নীর দিকে তাকাইলেন এবং তাহার জন্য প্রস্তুত ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) রৌদ্র, লু *হাওয়া ও প্রচণ্ড খরতাপে দগ্ধ, আর আবূ খায়ছামা শীতল ছায়া, তৈরী খাবার, সুন্দরী স্ত্রী ও সম্পদের প্রাচুর্যের মাঝে অবস্থানরত। ইহা কোন্ ধরনের ইনসাফ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কাহারও কক্ষে প্রবেশ করিব না যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মিলিত হই। আমার জন্য পাথেয় সংগ্রহ করিয়া দাও। পত্নীদ্বয় তাঁহার জন্য বাহন ও সাজ-সরঞ্জাম তৈয়ার করিয়া দিলে তিনি তাবুক অভিমুখে রওনা হইয়া গেলেন। কিন্তু ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (স) তাবুকে পৌঁছিয়া গিয়াছেন, সেইখানে তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত মিলিত হইলেন: এইদিকে পথিমধ্যে উমায়র ইব্‌ন ওয়াহ্ আল-জুমাহী (রা)-এর সহিত তাঁহার সাক্ষাত ঘটে। তিনিও রাসূলুল্লাহ (স)-এর খোঁজে বাহির হইয়াছিলেন। তাঁহারা পরস্পরের সঙ্গী হইয়া তাবূকে পৌছিলেন। আবূ খায়ছামা (রা) উমায়র (রা)-কে বলিলেন, আমার তো অপরাধ হইয়া গিয়াছে। যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আমার সাক্ষাত হয় ততক্ষণ তুমি আমাকে ছাড়িয়া যাইও না। উমায়র তাই করিলেন। তিনি তাবুকে অবস্থানরত রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছাকাছি যখন পৌছিলেন তখন লোকেরা বলিল, রাস্তায় এক আগন্তুককে দেখা যাইতেছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: লোকটা আবূ খায়ছামা হইতে পারে। লোকটি কাছে আসিতেই তাঁহারা বলিল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম! এ তো আবূ খায়ছামাই। আবু খায়ছামা (রা) উট বসাইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে উপস্থিত হইলেন এবং সালাম পেশ করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বলিলেন:
اولى لك يا ابا خيثمة. “হে আবূ খায়ছামা! দুর্ভোগ তোমার জন্য"।
হযরত আবূ খায়ছামা (রা) পুরা ঘটনা রাসূলুল্লাহ (স)-কে অবহিত করিলে তিনি তাহার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করেন এবং কল্যাণের জন্য দু'আ করেন। আবূ খায়ছামা (রা) এই সম্পর্কে একটি কবিতা রচনা করিয়াছেন যাহা তাঁহার ঈমানী দৃঢ়তা ও রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার সম্যক পরিচয় বহন করে:
لما رايت الناس فى الدين نافقوا + اتيت التي كانت اعف واكوما وبايعت باليمنى يدى لمحمد + فلم اكتسب اثما ولم اغش محرما ترکت خضيبا في العريش وصرمة + صفايا كراما بسرها قد تحمما وكنت اذا شك المنافق اسمحت + الى الدين نفسي شطره حيث يمما .
"আমি যখন মানুষকে দীনের ব্যাপারে কপটতা অবলম্বন করিতে দেখিলাম, তখন অবলম্বন করিলাম এমন নীতি যাহা অধিকতর সৌজন্যমূলক ও আবিলতামুক্ত।
আমি আমার ডান হাত দ্বারা বায়'আত গ্রহণ করিলাম মুহাম্মাদের নিকট। আমি করি নাই কোন অপরাধ, করি নাই কোন নিষিদ্ধ বস্তু আত্মসাৎ।
আমি সুন্দরী স্ত্রীকে রাখিয়া আসিয়াছি ছায়া নীড়ে; রাখিয়া আসিয়াছি উৎকৃষ্ট ফলন্ত খর্জুর বৃক্ষ যাহার ফল পাকিয়া কাল বর্ণ ধারণ করিয়াছিল।
মুনাফিক যখন সন্দেহ পোষণ করে তখন আমার হৃদয় দীনের প্রতি ঝুঁকিয়া পড়ে; দীন যেদিক চলে আমার হৃদয়ও সেই অভিমুখী" (ইব্‌ন হিশাম, ২খ., পৃ. ৫২০-১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সুওয়ায়লিম ইয়াহুদীর আস্তানায় অগ্নিসংযোগ

📄 সুওয়ায়লিম ইয়াহুদীর আস্তানায় অগ্নিসংযোগ


রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এই মর্মে সংবাদ পৌছে যে, কতিপয় মুনাফিক সুওয়ায়লিম ইয়াহুদীর বাড়ীতে জমায়েত হইয়া তাবুক অভিযানে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত না যাওয়ার জন্য মুসলমানদের প্ররোচিত করিতেছে। তাহার আস্তানাটি ছিল জাসুম নামক এলাকায়। রাসূলুল্লাহ (স) সুওয়ায়লিমের আস্তানাটি জ্বালাইয়া দেওয়ার জন্য হযরত তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রা)-এর নেতৃত্বে একদল সাহাবীকে জাসুমে প্রেরণ করেন। হযরত তালহা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর হুকুম অনুযায়ী আস্তানায় আগুন ধরাইয়া দেন। দাহ্হাক ইব্‌ন খালীফা ও তাহার সাঙ্গপাঙ্গরা ছাদ হইতে নিচে লাফাইয়া পড়ে। অন্যরা পালাইয়া যাইতে সক্ষম হইলেও দাহ্হাকের পা ভাঙ্গিয়া যায়। ঘটনার স্মৃতিচারণ করিয়া দাহ্হাক বলে :
كادت وبيت الله نار محمد + يشيط بها الضحاك وابن ابيريق وظلت وقد طبقت كبس سويلم + انوء على رجلى كسيرا مرفقى سلام عليك لا اعود لمثلها + اخاف ومن تشمل به النار يحرق
“বায়তুল্লাহ্র কসম! মুহাম্মাদের আগুনে দাহ্হাক ও ইব্‌ন উবায়রীক পুড়িয়া ভস্ম হইয়া যাইতেছিল প্রায়। আমি সুওয়ায়লিমের ছোট ঘরের ছাদে চড়িলাম। এখন আমার অবস্থা এই যে, ভাঙ্গা পা ও কনুইতে ভর করিয়া চলি। তোমাদের প্রতি সালাম, আমি আর ইহার পুনরাবৃত্তি করিব না। আমার আশংকা হয়, এই আগুন যাহাকে স্পর্শ করিবে সেই পুড়িয়া ছাই হইয়া যাইবে” (ইবন হিশাম, ২খ, পৃ. ৫১৭; ইব্‌ন খালদুন, তারীখ, ১খ., পৃ. ১৭৬)।
এই মুনাফিকদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (স)-কে নির্দেশ দেন: يَأَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنْفِقِينَ وَاغْلُظَ عَلَيْهِمْ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ.
"হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং ইহাদের প্রতি কঠোর হও; উহাদের আবাসস্থল জাহান্নাম, উহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল" (৯: ৭৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধে না যাওয়া তিন সাহাবী

📄 যুদ্ধে না যাওয়া তিন সাহাবী


তিনজন সাহাবী তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নাই, বিনা ওজরে মদীনায় থাকিয়া গিয়াছিলেন, তবে তাহাদের মনে কোন সন্দেহ ও কপটতা ছিল না। তাঁহারা হইতেছেন কা'ব ইবন মালিক (রা), মুরারা ইবনুর রাবী' (রা) ও হিলাল ইব্‌ন উমায়্যা (রা)। রাসূলুল্লাহ (স) অপরাপর সাহাবীদের বলেন:
لا تكلمن احدا من هولاء الثلاثة.
"তোমরা এই তিনজনের সহিত কিছুতেই কথাবার্তা বলিবে না"।
কা'ব ইবন মালিক (রা) নিজেই তাঁহার তাবুক যুদ্ধে পিছনে থাকিয়া যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ (স) যতগুলি যুদ্ধ করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাবুক ও বদর ছাড়া আর কোনটিতে আমি অনুপস্থিত থাকি নাই। তবে বদর যুদ্ধে যাহারা পিছনে রহিয়াছিলেন তাহাদের কাহারও উপর আল্লাহ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন নাই। বদর যুদ্ধে আসলে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উদ্দেশ্য ছিল কুরায়শদের কাফেলার পশ্চাদ্ধাবন করা। হঠাৎ এক সময় আল্লাহ তাঁহাদিগকে শত্রুর মুখোমুখি করিয়া দেন এবং যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আল-আকাবার রাত্রিতে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হাযির ছিলাম। তিনি ইসলামের উপর দৃঢ়ভাবে কায়েম থাকিবার জন্য আমাদের নিকট হইতে শপথ গ্রহণ করেন। যদিও বদর যুদ্ধ জনসাধারণের মধ্যে বেশী আলোচিত কিন্তু তাহার চাইতে লায়লাতুল 'আকাবা আমার নিকট বেশী প্রিয়। আর তাবুক যুদ্ধে আমার পিছাইয়া থাকার কারণস্বরূপ বলা যায়, এই যুদ্ধের সময় আমি বেশী শক্তিশালী ও স্বচ্ছল অবস্থায় ছিলাম। আল্লাহ্র কসম! ইতোপূর্বে আমার নিকট কখনও এক সাথে দুইটি সওয়ারী ছিল না। অথচ এই যুদ্ধের সময় আমি দুইটি সওয়ারীর মালিক ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিয়ম ছিল, কোন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তিনি কখনও পরিষ্কারভাবে স্থান, এলাকা বা কোন নিশানা জানাইতেন না, বরং কিছু অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থক শব্দ বলিয়া দিতেন। কিন্তু তাবুক যুদ্ধের সময় ছিল ভীষণ গরম, পথ ছিল দীর্ঘ এবং পানি, গাছ-পালা ও লতাপাতাশূন্য। শত্রুর সংখ্যা ছিল অনেক বেশী। কাজেই রাসূলুল্লাহ (স) মুসলমানদেরকে যুদ্ধের স্থান সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানাইয়া দেন যাহাতে তাহারা ভালভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে পারেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত বিপুল সংখ্যক মুসলমান ছিলেন, তবে এমন কোন রেজিষ্ট্রি খাতা ছিল না যাহাতে তাহাদের সকলের নাম লিপিবদ্ধ থাকিত।"
কা'ব (রা) বলেন, "এই যুদ্ধ হইতে অনুপস্থিত থাকিবার ইচ্ছা পোষণ করার মত একজন লোকও ছিল না। তবে ইহাও মনে করা হইত যে, কেহ যদি অনুপস্থিত থাকে তাহা হইলে আল্লাহ্ ওহী না আসা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (স) জানিতে পারিবেন না। এই যুদ্ধের প্রস্তুতি এমন এক সময় শুরু করা হয় যখন ফল পাকিয়া গিয়াছিল এবং বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম লওয়া আরামদায়ক মনে হইতেছিল। রাসূলুল্লাহ (স) এবং তাঁহার সহিত মুসলমানগণ পূর্ণোদ্যমে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছিলেন। আমিও প্রতিদিন সকালে তাহাদের সহিত প্রস্তুতি গ্রহণের চিন্তা করিতাম। সারা দিন চলিয়া যাইত অথচ আমি কিছুই করিতাম না। আমি মনে মনে বলিতাম, আমি তো যে কোন সময় প্রস্তুত হইবার ক্ষমতা রাখি, কাজেই এত তাড়াহুড়া কিসের? এইভাবে দিন অতিবাহিত হইতে থাকে। একদিন সকালে তিনি মুসলিম বাহিনীসহ যাত্রা করিলেন অথচ তখনও আমি কোন প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করি নাই। আমি বলিলাম, আমি এই তো দুই-এক দিনের মধ্যে প্রস্তুত হইয়া তাহাদের সঙ্গে মিলিত হইব। তাহারা চলিয়া যাওয়ার পরের দিন সকালে আমি প্রস্তুতি লইতে চাহিলাম। কিন্তু দিন অতিবাহিত হইয়া গেল, অথচ আমার প্রস্তুতি শেষ হইল না। তাহার পরের দিন সকালে আবার চাহিলাম, কিন্তু এইবারও লইতে পারিলাম না। আমার এই অবস্থা চলিতে থাকিল। এখন তো সকলে অনেক দূরে চলিয়া গিয়াছে। আমি কয়েকবার ইচ্ছা করিলাম বাহির হইয়া তাহাদের সহিত মিলিত হই। আহা! যদি আমি এইরূপ করিয়া ফেলিতাম। কিন্তু তাহা আমার ভাগ্যে ছিল না। রাসূলুল্লাহ (স)-এর চলিয়া যাইবার পর আমি যখন লোকালয়ে বাহির হইতাম তখন পথে-ঘাটে মুনাফিক, দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তি ছাড়া আর কাহাকেও দেখিতাম না। আমার ভীষণ দুঃখ হইত।"
"রাসূলুল্লাহ (স) পথে কোথাও আমার কথা জিজ্ঞাসা করিলেন না। তবে তাবুকে পৌঁছিয়া যখন তিনি সকলকে লইয়া বসিলেন তখন আমার কথা জিজ্ঞাসা করিলেন:
ما فعل كعب ؟ 'কা'ব কি করিল?'
"সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! নিজের সৌন্দর্যের প্রতি মোহ ও অহংকার তাহাকে আটকাইয়া রাখিয়াছে। মু'আয ইবন জাবাল বলিলেন, "তুমি তো ভাল কথা বলিলে না। আল্লাহ্র কসম! আমরা তাহার ব্যাপারে ভাল ছাড়া কিছুই জানি না"। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) চুপ করিয়া থাকিলেন।"
কা'ব ইব্‌ন মালিক বলেন, "যখন আমি জানিতে পারিলাম রাসূলুল্লাহ (স) ফিরিয়া আসিতেছেন, আমি চিন্তা করিতে লাগিলাম এমন কোন মিথ্যা বাহানা করা যায় কিনা যাহার ফলে আমি তাঁহার ক্রোধ হইতে বাঁচিতে পারি। এই উদ্দেশ্যে আমি ঘরের বুদ্ধিমান লোকদের নিকটও পরামর্শ চাহিলাম। কিন্তু যখন শুনিলাম রাসূলুল্লাহ (স) মদীনার একেবারে নিকটে আসিয়া পৌছিয়াছেন তখন আমার মন হইতে মিথ্যা বাহানা করিবার চিন্তা একেবারেই দূর হইয়া গেল এবং আমি বিশ্বাস করিলাম যে, মিথ্যা কথা আমাকে তাঁহার ক্রোধ হইতে বাঁচাইতে পারিবে না। কাজেই আমি সত্য কথা বলিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হইলাম। সকালে রাসূলুল্লাহ (স) মদীনা পৌছিয়া গেলেন। আর তাঁহার নিয়ম ছিল যখনই তিনি সফর হইতে ফিরিয়া আসিতেন, প্রথমে মসজিদে গমন করিয়া দুই রাক'আত নামায পড়িতেন। তাহার পর জনগণের সহিত কথা বলিবার জন্য বসিয়া যাইতেন। ঐ দিন যখন তিনি নামায শেষ করিয়া মসজিদে নববীতে বসিয়া গেলেন, তখন তাবুক যুদ্ধ হইতে পিছাইয়া থাকা লোকেরা আসিতে লাগিল। তাহারা কসম করিয়া নিজেদের ওজর পেশ করিতে লাগিল। তাহাদের সংখ্যা ছিল আশির ঊর্ধ্বে। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের ওজর কবুল করিয়া তাহাদের নিকট হইতে পুনর্বার বায়আত লইলেন, তাহাদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ করিলেন এবং তাহাদের মনের গোপন বিষয় আল্লাহ্র নিকট সোপর্দ করিলেন।"
কা'ব বলেন, "আমিও তাঁহার নিকট আসিলাম। আমি সালাম দিতেই তিনি মুচকি হাসিয়া তাহার জওয়াব দিলেন। এমন হাসি যাহাতে ক্রোধের মিশ্রণ ছিল। তিনি বলিলেন: আস, আস। আমি তাঁহার সম্মুখে গিয়া বসিয়া পড়িলাম। তিনি আমাকে বলিলেন:
ما خلفك الم تكن قد ابتعت ظهرك ؟ 'তোমাকে কিসে পিছনে আটকাইয়া রাখিয়াছিল? তুমি না সওয়ারী ক্রয় করিয়াছিলে?'
"আমি বলিলাম, অবশ্য আমি সওয়ারী কিনিয়া লইয়াছিলাম। তবে আল্লাহ্র কসম! আপনি ছাড়া দুনিয়ার আর কোন ব্যক্তির সম্মুখে আমি বসিতাম তাহা হইলে তাহার ক্রোধ হইতে বাঁচিবার জন্য কোন মিথ্যা ওজর পেশ করিয়া বিদায় লইতাম। কারণ কথা বলার ব্যাপারে আমি কম পারদর্শী নই। কিন্তু আল্লাহ্র কসম! আমি জানি, আজ যদি আপনার নিকট মিথ্যা বলিয়া আপনাকে খুশী করি তাহা হইলে হইতে পারে কাল আল্লাহ আপনাকে আমার উপর নাখোশ করিয়া দিবেন। আর যদি আমি আপনার সম্মুখে সত্য কথা বলি তাহাতে আপনি নাখোশ হইলেও আল্লাহ্ পক্ষ হইতে ক্ষমা পাওয়ার আশা রাখি। না, আল্লাহর কসম! আমার কোন ওজর ছিল না। আমি যখন পিছনে থাকিয়া যাই তখনকার মত আর কোন সময় আমি অতটা শক্তি-সামর্থ্যের অধিকারী ছিলাম না। এই কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) মন্তব্য করিলেন:
اما هذا فقد صدق فقم حتى يقضى الله فيك. "কা'ব সত্য কথাই বলিয়াছে। ঠিক আছে, চলিয়া যাও। দেখ, আল্লাহ তা'আলা তোমার ব্যাপারে কি ফায়সালা দেন"।
"আমি উঠিয়া পড়িলাম। বানু সালামার লোকেরাও আমার সঙ্গে সঙ্গে চলিতে লাগিল। তাহারা আমাকে বলিল, আল্লাহ্র কসম! আমরা তো এই পর্যন্ত আপনার কোন গুনাহের কথা জানি না। পিছনে থাকিয়া যাওয়া অন্যান্য লোকের মত আপনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট একটি বাহানা পেশ করিতে পারিলেন না? রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইসতিগফার আপনার গুনাহ মাফির জন্য যথেষ্ট হইত। উহারা বরাবর আমাকে ভীষণভাবে ভর্ৎসনা করিতে লাগিল। এমনকি এক পর্যায়ে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট ফিরিয়া যাইতে এবং আমার প্রথম কথাটি মিথ্যা পতিপন্ন করিতে মনস্থ করিলাম। অতঃপর আমি তাহাদের জিজ্ঞাসা করিলাম, আচ্ছা, আমার মত নিজের ভুল স্বীকার করিয়াছে এমন আর কাহাকেও কি তোমরা সেইখানে দেখিয়াছ? তাহারা জওয়াব দিল, হাঁ, দুইজন লোককে আমরা দেখিয়াছি, তাহারা তোমার মত একই কথা বলিয়াছে। আর তাহাদেরকেও সেই একই কথা বলা হইয়াছে যাহা তোমাকে বলা হইয়াছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, তাহাদের পরিচয় কি? তাহারা বলিল, মুরারাহ ইবন রাবী' ও হিলাল ইন্ন উমায়‍্যা। এই ব্যক্তিদ্বয় ছিলেন সৎ, আদর্শ স্থানীয় ও বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। আমি মনে মনে স্বস্তি বোধ করিয়া চলিতে শুরু করিলাম।"
"এইদিকে রাসূলুল্লাহ (স) আমাদের এই তিনজনের সহিত কথা বলা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করিয়াছেন। কাজেই জনগণ আমাদের এড়াইয়া চলিতে লাগিল। আমাদেরকে তাঁহারা যেন একেবারেই চিনে না। অবশেষে আমার এমন মনে হইতে লাগিল, যেমন দুনিয়ার পরিচিত সকল কিছু অপরিচিত হইয়া গিয়াছে। দেখিতে দেখিতে এইভাবে পঞ্চাশটি রাত অতিবাহিত হইল। আমার অন্য দুই ভাই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করিয়া কান্নাকাটি করিতে লাগিলেন। তবে আমি ছিলাম যৌবনদীপ্ত ও সাহসী, তাই আমি বাহিরে যাইতে থাকিলাম। মুসলমানদের সহিত নামাযে যোগ দিতাম ও বাজারে ঘুরাফিরা করিতাম, কিন্তু কেহই আমার সহিত কথা বলিত না। আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট যাইতাম। নামাযের পর মজলিসে বসিলে আমি তাহাকে সালাম জানাইতাম; আমার সালামের জওয়াবে তাঁহার ঠোঁট নড়িল কিনা বুঝিতে পারিতাম না। অতঃপর আমি তাঁহার নিকট দাঁড়াইয়া নামায পড়িতাম এবং বাঁকা দৃষ্টিতে লুকাইয়া লুকাইয়া তাঁহাকে দেখিতাম। আমি যখন নামাযে মশগুল থাকি তখন তিনি আমার দিকে তাকান, আবার আমি যখন তাঁহার দিকে চাইতাম তখন তিনি মুখ ফিরাইয়া লইতেন। এই অবস্থায় দীর্ঘ দিন চলিয়া গেল। জনবিচ্ছিন্নতা আমাকে দিশাহারা করিয়া তুলিল। তাই একদিন আমার চাচাত ভাই আবু কাতাদার বাগানের পাঁচিল টপকাইয়া তাহার নিকট আসিলাম। সে ছিল আমার সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তি। আমি তাহাকে সালাম দিলাম, কিন্তু সে আমার সালামের জওয়াব দিল না। আমি তাহাকে বলিলাম, হে আবু কাতাদা! আল্লাহ্র কসম দিয়া আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি কি জান না আমি আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল (স)-কে ভালবাসি? সে নীরব রহিল। আমি আবার আল্লাহর নামের কসম করিয়া তাঁহাকে এই প্রশ্ন করিলাম। এইবারও সে চুপ করিয়া থাকিল। আমি তৃতীয়বার তাহাকে একই প্রশ্ন করিলাম। এইবার সে জওয়াব দিল, আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলই ভাল জানেন। আমি আর নিজেকে সামলাইতে পারিলাম না। আমার দুই চোখ হইতে ঝরঝর করিয়া অশ্রু নির্গত হইতে লাগিল। আমি পাঁচিল টপকাইয়া ফিরিয়া আসিলাম।"
"এই সময় একদিন আমি মদীনার বাজারে হাঁটিতেছিলাম। সিরিয়ার এক খৃস্টান কৃষক মদীনার বাজারে শস্য বিক্রয় করিতে আসিয়াছিল। সে আমাকে খোঁজ করিতেছিল। লোকেরা ইশারা করিয়া দেখাইয়া দিলে সে আমার নিকট আসিয়া গাস্সানের খৃস্টান রাজার একটি চিঠি আমাকে হস্তান্তর করিল। চিঠিতে রাজা লিখিয়াছিল:
فانه قد بلغنى ان صاحبك قد جفاك ولم يجعلك الله بدار هوان ولا حضيعة فالحق بنا نواسك.
"আমি জানিতে পারিয়াছি, আপনার নেতা আপনার উপর নির্যাতন চালাইতেছেন, অথচ আল্লাহ আপনাকে লাঞ্ছনা ও অবমাননাকর অবস্থায় রাখেন নাই। কাজেই আপনি আমাদের দেশে চলিয়া আসুন। আমরা আপনাকে সাহায্য করিব"।
"চিঠিটি পড়িয়া আমি বলিলাম, ইহাও আরেকটি পরীক্ষা। কাজেই চিঠিটি তন্দুরের আগুনে নিক্ষেপ করিলাম। এইভাবে পঞ্চাশ দিনের মধ্যে চল্লিশ দিন অতিবাহিত হইয়া গেল। এমন সময় খুযায়মা ইব্‌ন ছাবিত (রা) আমার নিকট আসিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তোমাকে তোমার স্ত্রী হইতে পৃথক থাকিবার হুকুম দিয়াছেন। আমি বলিলাম, আমি কি তাহাকে তালাক দিব, না কি আর কিছু করিব? তিনি বলিলেন না, তালাক দিবে না। তবে তাহা হইতে পৃথক থাকিবে এবং তাহার সান্নিধ্যে যাইবে না। আমার অন্য দুইজন সাথীর নিকটও এই মর্মে দূত পাঠানো হইল। আমি আমার স্ত্রীকে বলিলাম, তুমি নিজের আত্মীয়দের নিকট চলিয়া যাও এবং আমার ব্যাপারে আল্লাহ কোন ফায়সালা না দেওয়া পর্যন্ত তাহাদের সহিত অবস্থান কর।"
কা'ব (রা) বলেন, "হিলাল ইবন উমায়‍্যার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার স্বামী বৃদ্ধ হইয়া গিয়াছে, তাহার কোন খাদেম নাই। যদি আমি তাহার খেদমত করি, তাহার কাজকর্ম করিয়া দেই, তাহা হইলে কি কোন ক্ষতি আছে? রাসূলুল্লাহ (স) জবাব দিলেন: না, কোন ক্ষতি নাই। তবে সে যেন তোমার কাছে না আসে। হিলালের স্ত্রী বলিলেন, আল্লাহর কসম! তাহার মধ্যে এই ব্যাপারে কোন আকর্ষণ বা আকাংক্ষা নাই। যেই দিন এই ঘটনা ঘটিয়াছে সেই দিন হইতে সে কেবল কাঁদিয়াই চলিয়াছে। কা'ব বলেন, আমাকেও আমার পরিবারের কেহ কেহ বলিল, তুমিও রাসূলুল্লাহ (স)-এর দরবারে যাও। তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে একটা অনুমতি লইয়া আস, যাহাতে সে তোমার খেদমত করিতে পারে। আমি বলিলাম, না। যখন এই ব্যাপারে অনুমতি চাইব তখন রাসূলুল্লাহ (স) কি বলিবেন? কারণ আমি তো যুবক।"
"এইভাবে দুঃসহ যন্ত্রণার ভেতরে পঞ্চাশটি রাত অতিক্রান্ত হইয়া গেল। আমার মনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। জীবন যেমন আমার নিকট দুঃসাধ্য, পৃথিবী যেন তাহার সব বিস্তীর্ণতা সত্ত্বেও আমার জন্য সংকীর্ণ হইয়া পড়িয়াছে। একদিন ফজরের নামাযের পর ঘরের আঙিনায় বসিয়া আছি। সেই মুহূর্তে সা'আ পাহাড়ের দিক হইতে একটি আওয়াজ শুনিতে পাইলাম। কে যেন চিৎকার করিয়া বলিতেছে:
"হে কা'ব ইবন মালিক! সুসংবাদ গ্রহণ কর"।
يا كعب بن مالك ابشر.
কা'ব বলেন, "আমি আল্লাহর দরবারে সিজদায় অবনত হইলাম। আমার আর বুঝিতে বাকী রহিল না যে, এইবার আমার সংকট কাটিয়া গিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) ফজরের নামাযের পর ঘোষণা দিয়াছেন যে, আল্লাহ আমাদের তওবা কবুল করিয়াছেন। কাজেই লোকেরা আমার ও আমার সাথীদের সুসংবাদ ও মুবারকবাদ জানাইবার জন্য আসা-যাওয়া করিতে লাগিল। হামযা ইবন 'আমর আল-আসলামী আমার নিকট আসিয়া যখন সুসংবাদ জানাইল তখন আমি এতই খুশী হইয়াছিলাম যে, আমার পোশাক খুলিয়া তাহাকে পরাইয়া দিলাম। আল্লাহ্র কসম! তখন আমার নিকট ঐ পোশাক ছাড়া আর কোন কাপড় ছিল না। অতঃপর আমি একজোড়া পোশাক ধার করিয়া পরিধান করিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়িলাম। পথে দলে দলে লোকেরা আমার সহিত মোলাকাত করিতেছিল এবং তওবা কবুল হওয়ার জন্য মুবারকবাদ জানাইতেছিল। তাহার বলিতেছিল:
لتهنك توبة الله عليك "আল্লাহ তোমার তওবা কবুল করার জন্য তোমাকে মুবারকবাদ।"
কা'ব (রা) বলিলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! এই ক্ষমা আপনার পক্ষা হইতে না আল্লাহর পক্ষ হইতে। তিনি বলেন: না, ইহা স্বয়ং আল্লাহ্ পক্ষ হইতে। অতঃপর আমি তাঁহার সম্মুখে উপবেশন করিয়া আরয করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার তওবা কবুলের শুকরিয়া স্বরূপ আমি আমার সমস্ত ধন-সম্পদ আল্লাহ ও রাসূলের পথে সদাকা করিয়া দিতে চাই। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, সম্পদের কিছু অংশ নিজের জন্য রাখিয়া দাও, তাহাতে তোমার মঙ্গল হইবে। আমি নিবেদন করিলাম, তাহা হইলে আমি শুধু খায়বারের অংশটুকু নিজের জন্য রাখিয়া বাকি সব আল্লাহ ও রাসূলের পথে দান করিয়া দিলাম। ইয়া রাসূলাল্লাহ! সত্য কথা বলিবার কারণে আল্লাহ তা'আলা আমাকে মুক্তি দিয়াছেন। আমার তওবার অংশ হিসাবে আমি ওয়াদা করিলাম, যতদিন জীবিত থাকিব সত্য কথাই বলিব। এই ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন:
لَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهْجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيعُ قُلُوبُ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ط إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ. وَعَلَى الثَّلْثَةِ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ الَّذِينَ خُلَفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا لَا مَلْجَأَ مِنَ اللهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا ط إِنَّ اللهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ. يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ.
"আল্লাহ অবশ্যই অনুগ্রহপরায়ণ হইলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছিল সংকটকালে (তাবুক যুদ্ধের সময়), এমনকি যখন তাহাদের এক দলের চিত্ত-বৈকল্যের উপক্রম হইয়াছিল। পরে আল্লাহ উহাদিগকে ক্ষমা করিলেন; তিনি তো উহাদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু। এবং তিনি ক্ষমা করিলেন অপর তিনজনকেও যাহাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হইয়াছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাহাদের জন্য উহা সংকুচিত হইয়াছিল এবং তাহাদের জীবন তাহাদের জন্য দুর্বিষহ হইয়াছিল এবং তাহারা উপলব্ধি করিয়াছিল যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নাই, তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন ব্যতীত; পরে তিনি উহাদের তওবা কবুল করিলেন যাহাতে উহারা তওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও" (৯:১১৭-৮)।
কা'ব বলেন, "আল্লাহ্র কসম! আল্লাহ তা'আলা আমাকে ইসলামের প্রতি পথনির্দেশ করিবার পর এমন কোন অনুগ্রহ আমার উপর করেন নাই, যাহা আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট সত্য কথা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। আল্লাহ্ মেহেরবানী যে, আমি তাঁহার নিকট মিথ্যা বলি নাই। তাহা হইলে মিথ্যাবাদীরা যেইভারে ধ্বংস হইয়া গিয়াছে, তেমনি আমিও ধ্বংস হইয়া যাইতাম। কেননা মিথ্যাবাদীদের সম্পর্কে ওহী নাযিল করিয়া আল্লাহ যে মন্তব্য করিয়াছেন তাহা অত্যন্ত কঠোর ও মারাত্মক। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ طَ فَاعْرِضُوا عَنْهُمْ طَ إِنَّهُ رِجْسٌ وَمَا وَهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوا عَنْهُمْ فَإِنْ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَسِقِينَ.
"তোমরা উহাদের নিকট ফিরিয়া আসিলে অচিরেই উহারা আল্লাহ্র শপথ করিবে যাহাতে তোমরা উহাদের উপেক্ষা কর। সুতরাং তোমরা উহাদিগকে উপেক্ষা করিবে; উহারা অপবিত্র এবং উহাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ জাহান্নাম উহাদের আবাসস্থল। উহারা তোমাদের নিকট শপথ করিবে যাহাতে তোমরা উহাদের প্রতি তুষ্ট হও। তোমরা তাহাদের প্রতি তুষ্ট হইলেও আল্লাহ তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি তুষ্ট হইবেন না" (৯৪ ৯৫-৬)।
কা'ব (রা) বলেন, “যেই সকল লোক রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট শপথ করিয়া অজুহাত প্রদর্শন করিয়াছিল, রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের অজুহাত গ্রহণ করিয়া তাহাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছিলেন। আমাদের তিনজনের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা আমাদের তওবা কবুল করিয়া মুক্তির ফায়সালা দান করেন" (সহীহ আল-বুখারী, ৩খ., ১৩০-৫; ইন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ২খ., পৃ. ৫৩১-৭; তাফসীর ইব্‌ন কাছীর, ২খ., পৃ. ২৫-৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00