📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধের কারণ

📄 যুদ্ধের কারণ


প্রথমত, কাফিরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা’আলা যেই জিহাদ ফরয করিয়াছেন তাবুকের যুদ্ধ ছিল তাহারই ধারাবাহিক অংশ। মক্কা ও মদীনার পার্শ্ববর্তী এলাকার কাফিরগণ ইতোমধ্যে জিযয়া দেওয়ার শর্তে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হইয়াছে অথবা ইসলাম গ্রহণ করিয়া যাকাত দিতে সম্মত হইয়াছে। নিকট এলাকার অভিযান শেষ করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) দূরবর্তী সিরিয়া অভিমুখে জিহাদ পরিচালনা যুক্তিযুক্ত মনে করিলেন। ইতোপূর্বে তিনি সিরিয়ার কাফিরদেরকে পত্রের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত প্রদান করিয়াছেন। এইবার জিহাদী অভিযানের মাধ্যমে ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত করা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর তাবুক যুদ্ধের অন্যতম কারণ।
দ্বিতীয়ত, এই যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল রোমান শাসিত প্রতিবেশী সরকারগুলিকে ভীত-চকিত করিয়া তোলা যাহাতে ইসলামের কেন্দ্রভূমি ও ইসলামের উঠতি দাওয়াত এবং ক্রমবর্ধমান শক্তি ও সামর্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করিতে না পারে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে সেইসব হুকুমতকে সতর্ক করিবার দরকার ছিল, তাহারা যেন তাহাদের ভূখণ্ড হইতে মুসলমানদের উপর আক্রমণ পরিচালনার স্পর্ধা ও দুঃসাহস না দেখায় এবং তাহাদিগকে পর্যুদস্ত করা যাইবে এমনটিও যেন না ভাবে (নবীয়ে রহমত, পৃ. ১০১-২)। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِّنَ الكُفَّارِ وَلَيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ.
“হে মু’মিনগণ! কাফিরদের মধ্যে যাহারা তোমাদের নিকটবর্তী তাহাদের সহিত যুদ্ধ কর এবং উহারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখিতে পায়। জানিয়া রাখ, আল্লাহ তো মুত্তাকীদের সহিত আছেন” (৯:১২৩)।
তৃতীয়ত, সিরিয়ার নাবাতী (نبتی) ব্যবসায়িগণ যায়তুন তৈল ক্রয় করিবার উদ্দেশ্যে প্রায়শ মদীনায় যাতায়াত করিত। তাহাদের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (স) জানিতে পারিলেন যে, রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস মুসলমানদের মুকাবিলা করিবার জন্য সিরিয়ার সীমান্তে এক লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন করিয়াছে। সৈন্যদের মনোবল অটুট রাখিবার জন্য এক বৎসরের অগ্রিম বেতন ও সাজসরঞ্জাম সরবরাহ করা হইয়াছে। লাখম, জুযাম, আমিলা ও গাসসান গোত্রের লোকেরাও খৃস্টান বাহিনীর সহিত যোগ দিয়াছে। তাহাদের উদ্দেশ্য হইতেছে প্রচণ্ড আক্রমণের মাধ্যমে উদীয়মান মুসলিম শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করিয়া দেওয়া এবং আরবের উত্তরাংশ সিরিয়ায় রোমানদের এবং পূর্বাংশ হীরায় ইরানীদের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা। ইতোমধ্যে রোমান বাহিনীর অগ্রবর্তী দল ‘বালকা’ নামক স্থানে পৌঁছিয়া গিয়াছিল (তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৬৫; কিতাবুল মাগাযী, ৩ খ., পৃ. ৯৯০)। হিরাক্লিয়াস স্বয়ং অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে হিস্স নামক স্থানে অবস্থান করিতেছিলেন। ইহাকে তাবুক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণরূপে বিবেচনা করা হয়।
চতুর্থত, আরবের খৃস্টানগণ রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের নিকট লিখিত এক পত্রে জানায় যে, মদীনায় যেই ব্যক্তি নবী দাবি করিয়াছেন তাহার মৃত্যু হইয়াছে। এখন মদীনায় প্রচণ্ড গরম, অভাব-অনটন ও দুর্ভিক্ষ চলিতেছে। এই মুহূর্তে যদি অভিযান পরিচালনা করা যায় তাহা হইলে অনায়াসে মদীনা দখল করা যাইবে। হিরাক্লিয়াস পত্র প্রাপ্তির পর চল্লিশ হাজার সৈন্যের অগ্রবর্তী দল প্রেরণ করেন (মাজমা'উয যাওয়াইদ, ৬খ., পৃ. ১৯১; শিবলী নু'মানী, সীরাতুন্নবী, ১খ., পৃ. ৩২৩)।
পঞ্চমত, মদীনায় ইসলামের শক্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতে থাকায় মুনাফিকদের নেতা আবূ 'আমের রাহিব রোমান সম্রাটের সহিত যোগাযোগ করিয়া মদীনা আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করে। মুনাফিকগণ রোমানদের যুদ্ধ প্রস্তুতির অতিরঞ্জিত খবর মুসলমানদের মধ্যে প্রচার করিতে লাগিল যাহাতে মুসলমানদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। কিন্তু মুনাফিকরা লক্ষ্য করিল যে, সব ক্ষেত্রেই আল্লাহ্র রাসূল (স) সফল হইতেছেন এবং তিনি বিশ্বের কোন শক্তিকেই ভয় পান না। তাঁহাঁর সম্মুখে যে কোন বাধা আসিলেই তাহা ছিন্নভিন্ন হইয়া যায়। এতদসত্ত্বেও মুনাফিকগণ আশা করিয়াছিল যে, মুসলমানরা এইবার আর রক্ষা পাইবে না। সেই প্রত্যাশিত তামাশা দেখিবার দিন আর বেশী দূরে নয়। মুনাফিকগণ তাহাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করিবার অসৎ উদ্দেশ্যে মদীনার প্রাণকেন্দ্রে একটি মসজিদ নির্মাণ করিল যাহা 'মসজিদ দিরার' (দ্র. ৯: ১০৭) নামে পরিচিত। মসজিদ নাম দিলেও ইহা ছিল মূলত ষড়যন্ত্রের আস্তানা। মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, সামাজিক ঐক্যে ফাটল ধরানো ও রোমান সম্রাটের সহিত যোগাযোগসহ নানা রকম চক্রান্ত চূড়ান্ত হইত এই আস্তানায়। মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাহারা একদা রাসূলুল্লাহ (স)-কে তাহাদের নির্মিত এই মসজিদে নামায আদায়ের জন্য অনুরোধ করে। কারণ আল্লাহর রাসূল (স) যদি একবার এই ঘরে নামায আদায় করেন তাহা হইলে সাধারণ মুসলমানগণ মুনাফিকদের প্রতিষ্ঠিত মসজিদ নামক এই আখড়ার ঘৃণ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে মোটেই জানিতে পারিবে না, এমনকি ধারণাও করিতে পারিবে না কিরূপ জঘন্য ষড়যন্ত্র এইখানে চলিতেছে। কিন্তু আল্লাহ্র রাসূল (স) সেই মসজিদে তাৎক্ষণিকভাবে নামায আদায় করিতে রাজী হইলেন না। তিনি বলিলেন, ইনশাআল্লাহ যুদ্ধ হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া সেই মসজিদে নামায আদায় করিব। সেই সময় তিনি যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু মুনাফিকরা তাহাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারে নাই। মহান আল্লাহ তাহাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করিয়া দেন। তাবুক যুদ্ধ হইতে প্রতাবর্তন করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) ষড়যন্ত্রের সেই আখড়া অগ্নিসংযোগ করিয়া বিধ্বস্ত করিয়া দেন (আর-রাহীকুল মাখতুম, বাংলা সংস্করণ, পৃ. ৪৮২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মসজিদ নির্মাণ

📄 মসজিদ নির্মাণ


রাসূলুল্লাহ (স) তাবুকে অবস্থানকালে একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। মদীনা হইতে তাবুক, তাবুক হইতে মদীনা যাওয়া-আসার পথে রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীদের লইয়া যেইসব স্থানে নামায আদায় করেন পরবর্তীতে সেইসব জায়গায় সতেরটি মসজিদ নির্মিত হয়। মসজিদসমূহ হইতেছেঃ (১) তাবৃকের মসজিদ, (২) ছানিয়াতুল মাদারানের মসজিদ, (৩) যাতুয যিরাবের মসজিদ, (৪) আখদারের মসজিদ, (৫) যাতুল খুতামী মসজিদ, (৬) আলারের মসজিদ, (৭) তারাফুল বাতরা মসজিদ, (৮) শিক্কু তারা মসজিদ, (৯) যুল-জীফা মসজিদ, (১০) সাদর হাউদী মসজিদ, (১১) হিজরের মসজিদ, (১২) আস-সাঈদ মসজিদ, (১৩) ওয়াদিউল কুরা মসজিদ, (১৪) আর-রুক্'আ মসজিদ, (১৫) যুল-মারওয়া মসজিদ, (১৬) আল ফিফা মসজিদ, (১৭) যু'খুশব মসজিদ (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ২খ., পৃ. ৫৩০-১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুসলমানদের যুদ্ধের প্রস্তুতি

📄 মুসলমানদের যুদ্ধের প্রস্তুতি


রাসূলুল্লাহ (স) গোপন সূত্রে রোমান সম্রাটের যুদ্ধাভিযানের সংবাদ পাইয়া বিচলিত হইলেন না, বরং কঠোর হস্তে আগ্রাসী শক্তির মুকাবিলা করিবার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন। তিনি সাহাবায়ে কিরামকে যুদ্ধ প্রস্তুতির আদেশ দেন যাহাতে দুশমনকে সীমান্তে (তাবৃক) প্রতিরোধ করা যায়। রাসূলুল্লাহ (স) সাধারণত যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের সময়ও গন্তব্যস্থল গোপন রাখিতেন। কিন্তু এইবার তিনি গোপন না করিয়া রোমান সম্রাটের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা জারী করিলেন। কারণ তাবুকের পথ দীর্ঘ, তাহা ছাড়া বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে এইভাবে ব্যাপক রণপ্রস্তুতির সংবাদ যদি রোমানদের নিকট পৌছিয়া যায়, তবে তাহারা ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া পড়িতে পারে। এইজন্য রাসূলুল্লাহ (স) প্রকাশ্যে ব্যাপক প্রস্তুতির আদেশ দেন এবং জান ও মাল দিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য সাহাবায়ে কিরামকে আহবান জানাইলেন। ইহা ছাড়া যুদ্ধে সহযোগিতা করিবার জন্য তিনি আরবের বিভিন্ন গোত্রের কাছে দূত পাঠাইলেন। আসলাম গোত্রের নিকট হযরত বুরায়দা ইবনুল হুসায়ব (রা)-কে, সমুদ্র তীরবর্তী জনগণের নিকট আবুল জা'দ আদ-দামারীকে (রা), জুহায়না গোত্রের নিকট হযরত রাফে ও জুন্দুব (রা)-কে, আশজা' গোত্রের নিকট হযরত নু'আয়ম ইব্‌ন মাসউদাকে (রা), কা'ব ও আমর গোত্রের নিকট হযরত বুদায়ল ইবন ওয়রাকাকে (রা), সুলায়ম গোত্রের নিকট হযরত আব্বাস ইব্‌ন মিরদাসকে (রা), হযরত আবূ রুহম গিফারী (রা) ও আবু ওয়াকিদ লায়ছীকে (রা) নিজ নিজ গোত্রের নিকট প্রয়োজনীয় রসদ ও সৈন্য সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়।
মদীনা হইতে তাবূক দীর্ঘ পথ, প্রচণ্ড গরম, খেজুর পাকার মওসুম, খাদ্যাভাব, যুদ্ধাস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জামের অপ্রতুলতা প্রভৃতি কারণে কতিপয় মুসলমান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতে ইতস্তত করিলেন (তারীখ তাবারী, ৩খ., পৃ. ১০১; মাওলানা ফযল মুহাম্মদ যাঈ, গাযওয়া তাবুক, পৃ. ২২-৩)। আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (স)-এর ডাকে সাড়া দিয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য মুসলমানদের প্রতি নিম্নোক্ত আহ্বান জানাইলেন:
انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
"অভিযানে বাহির হইয়া পড় হাল্কা অবস্থায় হউক অথবা ভারি অবস্থায় এবং সংগ্রাম কর আল্লাহর পথে তোমাদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা। উহাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানিতে” (৯:৪১)।
ফলে সর্বস্তরের মুসলমানগণ স্বতস্ফুর্তভাবে সাড়া দিয়া জিহাদে ঝাপাইয়া পড়ে। এইভাবে ত্রিশ হাজার যোদ্ধার একটি কাফেলা তৈয়ার হইয়া যায়।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র


রাসূলুল্লাহ (স) তাবুকে বিশ দিন অবস্থানের পর যখন প্রত্যাবর্তন করিতেছিলেন তখন তাঁহার সফরসঙ্গীদের মধ্যে কতিপয় মুনাফিক তাঁহাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। তাহারা পরামর্শ করিয়া সিদ্ধান্ত লইল যে, রাসূলুল্লাহ (স) পার্বত্য গিরিপথ অতিক্রম করার সময় ধাক্কা মারিয়া তাঁহাকে নীচে ফেলিয়া দিবে। আল্লাহ তা'আলা এই ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রকারী মুনাফিকদের নাম রাসূলুল্লাহ (স)-কে অবহিত করেন। হযরত হুযায়ফা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর উষ্ট্রীর লাগাম ধরিয়া অগ্রে অগ্রে হাঁটিয়া যাইতেছিলেন এবং হযরত আম্মার (রা) পেছনের দিক হইতে উস্ত্রীকে হাঁকাইতেছিলেন। তাঁহারা যখন রাতের অন্ধকারে পার্বত্য উচ্চ ভূমিতে উপনীত হইলেন তখন সেখানে ১২ জন মুখোশধারী অশ্বারোহী আবির্ভূত হইল। রাসূলুল্লাহ (স) হযরত হুযায়ফাকে আদেশ দিলেন: এই দুষ্কৃতিকারীদের তাড়াইয়া দাও। হুযায়ফা (রা) ঢাল লইয়া তাহাদের উটের মুখে আঘাত করিতে লাগিলেন। আল্লাহ মুনাফিকদের মনে ভীতি সঞ্চার করিয়া দিলেন। তাহারা বুঝিতে পারিল যে, রাসূলুল্লাহ (স) ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত হইয়াছেন। অতঃপর দৃষ্কৃতকারীরা দ্রুত পলায়ন করিয়া কাফেলার সহিত মিলিত হইল। রাসূলুল্লাহ (স) হযরত হুযায়ফাকে বলিলেন: তুমি কি তাহাদের স্বরূপ ও দুরভিসন্ধি আঁচ করিতে পারিয়াছ? তিনি বলিলেন, না।
রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তাহারা ছিল অমুক অমুক। তাহারা স্থির করিয়াছিল, আমি যখনই উচু স্থানে আরোহণ করিব, তাহারা তখনই আমাকে ধাক্কা মারিয়া নীচে ফেলিয়া দিবে। তাহারা মুনাফিক, কিয়ামত পর্যন্ত মুনাফিক থাকিবে। আমার উম্মতের মধ্যে এই ১২জন ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করিবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সুচের ছিদ্র দিয়া উট অতিক্রম করে। আল্লাহ তা'আলা তাহাদেরকে 'দবীলা' দিয়া হত্যা করিবেন। হুযায়ফা (রা) জানিতে চাহিলেন, হুযুর, দবীলা কি? তিনি বলিলেন: ইহা আগুনের একটি শিখা যাহা তাহাদের প্রত্যেকের ধমনীতে পতিত হইবে এবং তাহাদের বধ করিবে (তাফসীর ইন্ন কাছীর, ২খ., পৃ. ৭১-২; খাসাইসুল কুবরা, ১খ., পৃ. ৫৬৮-৯)। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে ডাকিয়া কথা বলিলেন। পবিত্র কুরআনে তাহাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হইয়াছে:
وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا . “উহারা যাহা সংকল্প করিয়াছিল তাহা পায় নাই” (৯: ৭৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00