📄 হাওয়াযিন প্রতিনিধি দলের আগমন
আনসার সাহাবীগণের এইরূপ অপ্রীতিকর মন্তব্য শুনিয়া তাঁহাদের নেতা সা'দ ইবন উবাদা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া নিবেদন করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কুরায়শদিগকে বহুল পরিমাণে দান করিয়া সম্মানিত করিয়াছেন; আর আমাদিগকে কিছুই দিলেন না। অথচ কুরায়শদের রক্তে এখনও আমাদের তরবারি সিক্ত রহিয়াছে। এইজন্য আনসারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, সা'দ! ইহা কি তোমারও অভিমত? তিনি বলিলেন, আমিও তো একজন আনসার।
কোন নওমুসলিমের মন্তব্যে রাসূলুল্লাহ্ (স) মর্মাহত হন নাই। কারণ তাহারা তখনও রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মর্যাদা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন ছিল না। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) ধৈর্য ও ক্ষমা দ্বারা তাহাদের অপ্রিয় কথার উত্তর দিয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন, "মূসা (আ)-কে তাঁহার উম্মতগণ ইহা অপেক্ষাও অধিক কষ্ট দিয়াছে"। আনসারগণ তো নওমুসলিম নহেন। ভুল ধারণার বশবর্তী হইয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর কাজের প্রতি তাহাদের মধ্যে সংশয়ের উদ্রেক হইল কেন? এই ধারণার অপনোদন অত্যাবশ্যক। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) আনসারদিগকে সমবেত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, "তোমরা এই ধরনের মন্তব্য করিয়াছ কি"? আনসারগণ মিথ্যা বলিতেন না। তাই তাহারা বলিলেন, "আপনি যাহা শুনিয়াছেন তাহা সত্য” (সাহীহ আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২১)। অন্য বর্ণনামতে আনসারগণ বলিলেন, "আমাদের মধ্যে কোন জ্ঞানী লোক এইসব কথা বলেন নাই, বরং আমাদের যুবক শ্রেণী এহেন মন্তব্য করিয়াছে"। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, “হে আনসারগণ! যাহাদের অন্তরে এখনও ইসলামের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা জন্মে নাই, তাহাদিগকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করিবার নিমিত্ত আমি এই সকল নশ্বর সম্পদ দান করিয়াছি। এই সামান্য পার্থিব সম্পদের জন্য তোমরা আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হইবে? ঈমান ও ইসলামের প্রতি তোমাদের অগাধ বিশ্বাস সম্পর্কে আমার আস্থা আছে বলিয়াই আমি তোমাদিগকে এই দানে সম্পৃক্ত করি নাই"।
"হে আনসারগণ! ইহা কি সত্য নহে যে, তোমরা ছিলে পথহারা, আল্লাহ্ আমার মাধ্যমে তোমাদিগকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়াছেন? তোমরা ছিলে বিচ্ছিন্ন, আমার দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদিগকে একতাবদ্ধ করিয়াছেন। তোমরা ছিলে দরিদ্র, আমার দ্বারা আল্লাহ্ তোমাদিগকে সম্পদশালী করিয়াছেন। আনসারগণ তাঁহার প্রত্যেক বাক্যের সঙ্গে সঙ্গে বলিতে লাগিলেন, "নিশ্চয় আমাদের প্রতি আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের দান অপরিসীম" (যাদুল মা'আদ, ৪খ., পৃ. ৪৩৭-৪৩৮; আবুল হাসান আলী নাদবী, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, পৃ. ৩০৮-৩০৯)।
রাসূলুল্লাহ (স) আনসারগণের প্রতি লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, না, না, আমার কথার প্রতি উত্তরে তোমরা বল, "হে মুহাম্মাদ! যখন আপনাকে কেহ বিশ্বাস করিত না তখন আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনয়ন করিয়াছি। যখন লোকেরা আপনাকে পরিত্যাগ করিয়াছিল তখন আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়াছি। যখন আপনি অসহায় ছিলেন তখন আমরা আপনাকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করিয়াছি। আমিও তোমাদের প্রতি উত্তরে বলিব, "হে আনসারগণ! লোকেরা ছাগ-মেষ ও উট লইয়া স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করিবে, আর তোমরা আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদকে লইয়া বাড়ী ফিরিবে।"
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর এই মর্মস্পর্শী বক্তব্য শুনিয়া আনসারগণ কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়িলেন। তাঁহাদের অশ্রুজলে শ্মশ্রুরাজি সিক্ত হইয়া গেল। ক্রন্দনরত অবস্থায় ব্যাকুল চিত্তে সমবেত কণ্ঠে তাহারা বলিতে লাগিলেন, "আমরা সন্তুষ্ট” (সাহীহ আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২০; সাহীহ মুসলিম, ১খ., পৃ. ৩৩৮)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আনসারদের জন্য দু'আ করিয়া বলিলেন: اللهم ارحم الانصار وابناء الانصار وابناء ابناء الانصار.
“হে আল্লাহ্! তুমি আনসার ও তাহাদের বংশধরদের প্রতি অনুগ্রহ কর" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
আনসার যুবকদের ধারণা ছিল, কুরায়শগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর বংশধর বলিয়াই তাঁহাদিগকে তিনি এত ধন-সম্পদ প্রদান করিয়াছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর বক্তব্য শুনিয়া তাঁহাদের সেই ভুল ভাঙ্গিয়া গেল। কারণ স্বগোত্রীয় হওয়ার কারণেই যদি তিনি দান করিতেন তবে মুহাজিরদিগকে দান করিলেন না কেন? তাঁহারাও তো কুরায়শ এবং মহানবী (স)-এর স্বগোত্রীয়। উপরন্তু তাঁহারা আজীবন আল্লাহ্ ও রাসূলের খিদমতে নিজদিগকে উৎসর্গ করিয়া রাখিয়াছেন।
হাওয়াযিনদের অন্তর্ভুক্ত গোত্রের যুহায়র ইব্ন সুরাদ-এর নেতৃত্বে চৌদ্দ, মতান্তরে বার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে উপস্থিত হয়। এই দলে রাসূলুল্লাহ (স)-এর দুধচাচা আবূ বাকরাও ছিলেন। প্রতিনিধি দল জি'রানায় রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া তাহাদের সমুদয় ধন-সম্পদ ও বন্দীদিগকে ফেরত দেওয়ার প্রার্থনা জানাইল। দলপতি যুহায়র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে দাঁড়াইয়া কাতর কণ্ঠে আরয করিল, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! হাওয়াযিন সম্প্রদায় আজ বিপদাপন্ন অবস্থায় নিপতিত হইয়াছে, তাহা আপনার অজানা নহে। আমাদের সমস্ত অন্যায়-অপরাধ ভুলিয়া আমাদের প্রতি দয়া করুন। আমাদের ধন-সম্পদ ফেরত দিন এবং আমাদের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদিগকে মুক্তি দিন। এই বন্দীগণের মধ্যে আপনার ফুফু, খালা এবং এমন মহিলাও আছেন যাহারা শৈশবে হালীমার গৃহে আপনাকে ক্রোড়ে লইয়া স্নেহ-চুম্বন করিয়াছিলেন। হারিছ ইব্ন শিমর এবং নু'মান ইবন মুনযিরের ন্যায় প্রভাবশালী দুনিয়াদার রাজ-রাজড়াদের নিকট প্রার্থনা করিলে বোধ হয় এই বিপদে তাহারাও আমাদিগকে বঞ্চিত করিত না। আপনার ন্যায় মহানুভব দয়ালু ব্যক্তিত্বের নিকট আমরা তদপেক্ষাও অধিক অনুগ্রহ প্রাপ্তির আশা করি।"
তাহাদের কাতর মিনতিতে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর হৃদয় বিগলিত হইল। তিনি বলিলেন, "গনীমতের মাল কেবল আমার নহে; ইহা সৈন্যদের অধিকারর্ভুক্ত। আবার তোমরাও এই আবেদন লইয়া অতি বিলম্বে পৌছিয়াছ। সব কিছু ফেরত দেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব নহে। এখন বল, মাল ও বন্দী এতদুভয়ের কোনটি তোমরা চাও?"
তাহারা বলিল, আমাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যাই আমাদিগকে ফেরত দিন। রাসূলুল্লাহ (স)-বলিলেন, "যে সমস্ত বন্দী আমার এবং আমার বংশধর বানু আবদুল মুত্তালিবের প্রাপ্য তাহাদিগকে মুক্তি দিলাম। আর অবশিষ্ট বন্দীগণের মুক্তির জন্য আমি মুসলিম সৈন্যদের নিকট সুপারিশ করিব। যুহরের জামা'আতের পর তোমরা এই দরখাস্ত পেশ করিও।"
তাহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পরামর্শমত যুহরের নামাযান্তে মুসলমানদের নিকট মুক্তির আবেদন পেশ করিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) সকল মুসলমানকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, "আমার ও বানু আবদুল মুত্তালিবের প্রাপ্য বন্দীদিগকে আমি মুক্তি দিলাম। আর তোমাদের নিকট নিজ নিজ বন্দীদিগকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করিতেছি। এই কথা শোনামাত্র মুহাজির ও আনসারগণ একবাক্যে বলিয়া উঠিলেন, আমরাও আমাদের বন্দীদিগকে মুক্তি দিলাম" (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৩; হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৮২৬-২৭; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৩)।
কিন্তু মক্কাবাসী নওমুসলিমদের মধ্যে কেহ কেহ নিজ অংশের বন্দীদিগকে মুক্তি দিতে অসম্মত হইল। আকরা' ইবন হাবিস বলিল, আমার এবং বানু তামীমের বন্দীদিগকে মুক্তি দিব না। উয়ায়না ইন্ন হিস্স বলিল, আমার এবং বানূ ফাযারার বন্দীদিগকে মুক্তি দিব না। আব্বাস ইন মিরদাস বলিলেন, আমার এবং বানু সুলায়মের বন্দীদিগকে মুক্তি দিব না। কিন্তু বানু সুলায়মের সাধারণ মুসলমানগণ বলিল, আমাদের ভাগে যাহা পড়িয়াছে তাহা রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে দিয়া দিলাম। আব্বাস ইন্ন মিরদাস বলিলেন, তোমরা আমাকে অপমান করিলে। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, এই প্রতিনিধি দলের সকল সদস্য ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। আমি তাহাদিগকে মাল ও বন্দীর মধ্যে একটি গ্রহণের এখতিয়ার দিয়াছিলাম। তাহারা বন্দীমুক্তি কামনা করিয়াছে। সুতরাং এইবার তোমরা বন্দীদিগকে ছাড়িয়া দাও। ইহার পর যখনই কোন যুদ্ধবন্দী আমার হাতে আসিবে তখনই সর্বপ্রথম আমি তোমাদিগকে একটির বিনিময়ে ছয়টি দান করিব। এই কথা শুনিয়া তাহারাও সম্মত হইয়া গেল। প্রত্যেকেই নিজ নিজ বন্দীদিগকে মুক্তি দান করিল। কিন্তু উয়ায়না ইবন হিস্স্স তাহার অধিকারভুক্ত এক বৃদ্ধা মহিলাকে ফেরৎ দিতে প্রথম অস্বীকৃতি জানাইলেও পরে তাহাকেও মুক্তি দিল। এইরূপে ছয় হাজার হাওয়াযিন মহিলা ও শিশু মুহূর্তের মধ্যে মুক্তিলাভ করিল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৪; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) প্রতিনিধি দলকে জিজ্ঞাসা করিলেন: তোমাদের প্রধান সেনাপতি মালিক ইবন আওফ বর্তমানে কোথায় আছে? তাহারা বলিল, তিনি ছাকীফদের সহিত তায়েফে আছেন। রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, তোমরা তাহাকে সংবাদ দাও, সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে আমি তাহাকে তাহার পরিবারবর্গ ও সমস্ত ধন-সম্পদ ফেরত দিব। তৎসঙ্গে তাহাকে এক শত উটও দান করিব (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৪)।
মালিক ইব্ন আওফ হুনায়নের রণক্ষেত্রেই রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সত্যতা উপলব্ধি করিতে পারিয়াছিল। বার হাজার মুসলিম সৈন্য যখন হাওয়াযিন বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণে যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন করিতে উদ্যত হয় এবং রাসূলুল্লাহ্ (স) প্রায় একাকী অবিচল চিত্তে হাজার হাজার শত্রুর সম্মুখীন হইতে থাকেন, তখনই মালিকের হৃদয়ে সত্য প্রতিভাত হইয়া উঠে। তখনই তাহার অন্তরে জাগিয়া উঠে, তিনি সাধারণ মানব নহেন। নিশ্চয় তিনি আল্লাহ্ প্রেরিত মহাপুরুষ। নতুবা ইহা তাঁহার জন্য কিছুতেই সম্ভব হইত না। কিন্তু নেতৃত্ব ও প্রতিপত্তি লিন্সার তিমির আধারে সেই আলো ক্ষীণ ও আচ্ছন্ন হইয়া পড়ে।
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর আহবান যখন তাহার কানে পৌছিল তখনই তাহার অন্তরের সমস্ত কুয়াশা বিলীন হইয়া গেল এবং সত্যের উজ্জ্বল কিরণ বিকশিত হইয়া উঠিল। সে আর স্থির থাকিতে পারিল না। তায়েফ হইতে গোপনে জি'রানাতে, মতান্তরে মক্কায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে হাযির হইল। সে ইসলাম গ্রহণ করিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে প্রতিশ্রুত ধন-জন ও পারিতোষিক প্রদান করিলেন। ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভে উল্লসিত হইয়া সে একটি নাতিদীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিল, যাহার সূচনা ছিল এইরূপ:
ما ان رايت ولا سمعت بمثله + فى الناس كلهم بمثل محمد
"মানব সমাজের মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর ন্যায় মহান লোক আমি কোন দিন কোথাও দেখি নাই এবং কাহারও নিকট কোন দিন এমন লোকের কথা শুনিতেও পাই নাই" (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৪)।
ইহার পর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য গোত্রগুলিও ক্রমান্বয়ে ইসলাম কবুল করে। তন্মধ্যে বানু তামীম, ফাহম ও সালামা গোত্র অন্যতম। নবী করীম (স) মালিক ইবন আওফকে তাহার নিজের কবীলা ব্যতিরেকে বাকী সকল গোত্রের আমীর নিযুক্ত করেন (মহানবী (সা)-এর প্রতিরক্ষা কৌশল, পৃ. ৩২৬)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) সৈন্যদিগকে নিয়া জি'রানায় তিন রাত্র পর্যন্ত অবস্থান করিলেন। পরে মদীনায় যাত্রায় মনোনিবেশ করিলেন। ১৮ যিলকা'দ বুধবার রাত্রে তিনি জি'রানা হইতে রওয়ানা হইলেন। অতঃপর উমরা পালনের নিয়তে ইহরাম বাঁধিয়া মক্কায় প্রবেশ করিয়া তাওয়াফ, সাঈ ও মাথা মুণ্ডন করিয়া জি'রানায় গিয়া রাত্রি কাটাইলেন। পরদিন ৮ম হিজরীর যিলকা'দ মাসের বৃহস্পতিবার প্রত্যূষে মহানবী (স) সারিফ নামক স্থান হইয়া মাররুয-যাহরান-এর পথ ধরিয়া মদীনার দিকে অগ্রসর হইলেন (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
হুনায়ন-এর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই যুদ্ধে মুসলমানগণ বিরাট বিজয় লাভ করেন, যদিও এই বিজয়ের জন্য মুসলমানদিগকে অনেক মূল্য দিতে হইয়াছে। বেশ কিছু মুসলিম বীর জীবন বিসর্জন দিয়াছেন। এই যুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় নাই। কিন্তু তাহাদের ভাষ্য হইতে বুঝা যায় যে, ইহাতে মুসলমানদের প্রায় পূর্ণ দুইটি গোত্র ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। মহানবী (স) যুদ্ধে শহীদদের জান্নাত লাভের জন্য দু'আ করেন। এতদসত্ত্বেও এই যুদ্ধে সকল দিক হইতেই মুসলমানগণ বিজয় ছিনাইয়া আনেন এবং শত্রুদিগকে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত করেন, গনীমত হিসাবে তাঁহারা অঢেল সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী লাভ করেন, যাহা অতীতের গনীমত প্রাপ্তির সকল রেকর্ড ভঙ্গ করিয়াছিল। মুশরিকরা বৈষয়িক প্রাচুর্যকে সত্যের উৎস মনে করিত বিধায় যুদ্ধে মুসলমানদের প্রচুর গনীমত প্রাপ্তিকে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে সত্য দীনের প্রবর্তক মনে করিয়া অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে।