📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন

📄 যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন


হুনায়ন যুদ্ধে পরাজিত মুশরিকগণের তৃতীয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলটি তায়েফ-এ আসিয়া আশ্রয় গ্রহণ করে। হাওয়াযিনদের সর্দার মালিকও পলাতক সৈন্যদিগকে লইয়া তায়েফ গমন করে (আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃ. ৪১৭)।
হুনায়নের যুদ্ধে গনীমতরূপে যেই পরিমাণ বন্দী ও মালামাল মুসলমানদিগের হস্তগত হইয়াছিল, ইতোপূর্বে আর কখনও এইরূপ গনীমত অর্জিত হয় নাই। গনীমতের মধ্যে ছিল ছয় হাজার যুদ্ধবন্দী, চব্বিশ হাজার উট, চল্লিশ হাজারের অধিক ছাগ-মেষ এবং চার হাজার উকিয়া রৌপ্য (অর্থাৎ এক লক্ষ ষাট হাজার দিরহাম, যাহার পরিমাণ ছয় কুইন্টালের কয়েক কেজি কম)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) গনীমতের এই সকল মাল জি'রানা নামক স্থানে একত্র করিবার নির্দেশ দেন।
তিনি মাস'উদ ইব্‌ন আমর গিফারী (রা)-কে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন। তায়েফ অভিযান হইতে প্রত্যাবর্তনের পর রাসূলুল্লাহ্ (স) গনীমতের মাল বণ্টনকার্যে মনোনিবেশ করেন (যাদুল মা'আদ, ২খ., পৃ., ১৬৮; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫২; হযরত মুহাম্মদ (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৮১৪; ইসলামী ইনসাইক্লোপেডিয়া, উর্দু, পৃ. ৮২২; দাইরাতুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া, ৮খ., পৃ. ১৩৪)।
গনীমতের মাল বণ্টনের পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ (স) মুসলমানদিগকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, হে মুসলিম বাহিনী! গনীমতের মাল হইতে এক-পঞ্চমাংশের অতিরিক্ত একটি সূঁচ পর্যন্তও গ্রহণ করিবার অধিকার আমার নাই। এই পঞ্চমাংশ আমার জন্য নহে; বরং তোমাদেরই জন্য। কারণ এই অংশ হইতে সর্বসাধারণের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মিটাইবার জন্য বায়তুল মালে জমা রাখা হয় এবং নিঃস্ব, দুস্থ ও অনাথকে ইহা হইতে দান করা হয়। যদি কেহ এই গনীমতের মাল হইতে একটি সূঁচ বা সুতা পর্যন্তও লইয়া থাক, তবে তাহা ফেরৎ দাও। গোপনে কেহ এই মালের কোন অংশ আত্মসাত করিলে তাহার জন্য উহা দোষখের আগুন ও বিচার দিবসে বড় বিপদের কারণ হইবে (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৫)।
গনীমতের মাল হইতে যাহারা খুব সামান্য বস্তু প্রয়োজনবশত লইয়াছিল তাহারা উহা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট উপস্থিত করিয়া বলিল, ইহা অতি সামান্য বস্তু, প্রয়োজনবশতই আমরা ইহা লইয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, এই ক্ষুদ্র বস্তুটিতে আমার প্রাপ্য অংশ আমি মাফ করিয়া দিলাম। কিন্তু অন্য লোকের প্রাপ্যতো মাফ করিয়া দেওয়ার অধিকার আমি রাখি না। এই কথা শুনিয়া তাহারা হককুল 'ইবাদ বা বান্দার হকের গুরুত্ব উপলব্ধি করিতে পারিল এবং সাথে সাথে উহা ফেরত প্রদান করিল (হযরত মুহাম্মদ (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৮২০; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৫)।
আকীল ইব্‌ন আবী তালিব (রা) একটি রক্তমাখা তরবারি লইয়া তাঁহার স্ত্রী ফাতিমা বিন্ত ওয়ালিদ-এর নিকট আসিলেন। স্ত্রী তাঁহাকে বলিল, শুনিলাম আপনি মুশরিকদের সহিত যুদ্ধ করিয়াছেন। গনীমত হিসাবে কী পাইলেন? তিনি বলিলেন, এই সূঁচটি আনিয়াছি, ইহা দ্বারা তোমার কাপড় সেলাই করিবে। পরে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর উপরিউক্ত নির্দেশ শুনিয়া তিনি সূঁচটি গনীমতের মালে ফেরত দিলেন (কিতাবুল মাগাযী, ৩খ., পৃ. ৯১৮)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) বায়তুল মালের জন্য এক-পঞ্চমাংশ রাখিয়া অবশিষ্ট মাল মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিলেন। প্রত্যেক পদাতিকের ভাগে চারটি উট ও চল্লিশটি ছাগল পড়িল। আর অশ্বারোহী বা উষ্ট্রারোহীর ভাগে পড়িল বারটি উট এবং এক শত বিশটি করিয়া ছাগল। কাহারও সহিত অতিরিক্ত অশ্ব থাকিলে উহার জন্য কোন অংশ দেওয়া হয় নাই (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৩)। মুসলিম সৈন্যগণ গনীমত হিসাবে কিছু সংখ্যক বন্দিনীও পাইয়াছিল। যাহাদের স্ত্রী ছিল তাহারা বাঁদীদের সহিত মেলামেশা করা অপছন্দ করিতেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে এই বিষয়ে তাঁহারা জিজ্ঞাস করিলে আল্লাহ তা'আলা নিম্নের আয়াত নাযিল করেন:
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ (النساء : ٢٤) "নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ” (৪: ২৪)।
রাসূলুল্লাহ্ (স) গর্ভবর্তী মহিলার ক্ষেত্রে গর্ত খালাস না হওয়া পর্যন্ত এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে একটি মাসিক স্রাব অতিক্রম না করা পর্যন্ত মেলামেশা করিতে নিষেধ করিলেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) এক-পঞ্চমাংশ হইতে নওমুসলিমদিগকে দান করিলেন। নও মুসলিমদের অন্তরকে পূর্ণভাবে ইসলামের দিকে ঝুঁকাইবার জন্য সর্বপ্রথম আবূ সুফ্য়ান ইব্‌ন হারবকে চল্লিশ উকিয়া রৌপ্য ও এক শত উট দান করিলেন। আবু সুফ্যান বলিলেন, আমার পুত্র ইয়াযীদ ও মু'আবিয়াকেও দান করুন।
রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহোদের উভয়কে চল্লিশ উকিয়া রৌপ্য ও এক শতটি করিয়া উট প্রদানের নির্দেশ দিলেন। হাকীম ইব্‌ন হিযামকে এক শত উট দান করিলে তিনি আরও এক শত চাহিলেন। তাহাকে উহাও দেওয়া হইল। নাসর ইব্‌ন হারিছ ইব্‌ন কালদাকে এক শতটি এবং উসায়দ ইব্‌ন জারিয়া ছাকাফীকে এক শত উট প্রদান করিলেন। আলা ইব্‌ন হারিছা আছ-ছাকাফীকে পঞ্চাশটি, মাখরামা ইব্‌ন নাওফালকে পঞ্চাশটি, হারিছ ইব্‌ন হিশামকে এক শতটি, সাঈদ ইব্‌ন ইয়ারবৃকে পঞ্চাশটি, সাফওয়ান ইব্‌ন উমায়্যাকে এক শতটি, কায়স ইব্‌ন আদীকে এক শতটি, উছমান ইব্‌ন ওয়াহ্হ্বকে পঞ্চাশটি, সুহায়ল ইব্‌ন আমরকে এক শতটি, হুয়ায়তিব ইব্‌ন আবদুল উল্লাকে এক শতটি, হিশাম ইব্‌ন 'আমর আল-আমেরীকে পঞ্চাশটি, আকরা' ইব্‌ন হাবিস আত-তামীমীকে এক শতটি, উয়ায়না ইন্ন হিস্স্নকে এক শতটি, মালিক ইব্‌ন আওফকে এক শতটি এবং আব্বাস ইব্‌ন মিরদাসকে চল্লিশটি উট প্রদান করিলেন। উট পাইয়া আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস একটি কবিতা আবৃত্তি করিলে তাহাকে অতিরিক্তি আরও পঞ্চাশ, মতান্তরে এক শতটি উট প্রদান করা হয় (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫২-১৫৩)।
এতদ্ভিন্ন আরও কিছু সংখ্যক নওমুসলিমকে রাসূলুল্লাহ্ (স) এই এক-পঞ্চমাংশ হইতে দান করিলেন। এই দান প্রসঙ্গে কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার অবতারণা হয়। এই ঘটনাগুলি উল্লেখের পূর্বে কয়েকটি বিষয়ে কিছু আলোচনা প্রাসঙ্গিক হইবে মনে হয়। তাহা হইল:
(ক) প্রকৃত আল্লাহ্র মনোনীত বান্দা ও নেককারদের নিকট পার্থিব ধন-সম্পদ মূল্যহীন। পারলৌকিক পাথেয় যতই সামান্য হউক না কেন, তাহাদের নিকট উহার মূল্য অনেক বেশী। এইজন্যই তাহারা কোন পারলৌকিক সম্পদ অর্জনকে সকল কিছুর উপর প্রাধান্য দেন। একারণেই পার্থিব সম্পদ লাভের ক্ষেত্রে নিজের প্রতি তাঁহদের দৃষ্টি খুব কমই আকৃষ্ট হইয়া থাকে।
(খ) নওমুসলিমগণ বাহ্যিকভাবে ইসলাম কবুল করিয়াছিল। ইসলামের প্রতি তখনও তাহাদের পূর্ণ আন্তরিকতা আসে নাই, সক্ষম হয় নাই তাহারা আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের যথাযথ মর্যাদা হৃদয়ঙ্গম করিতে। সুতরাং রাসূল্লাহ্ (স) সম্পর্কে কোন অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা বা অমূলক ধারণা পোষণ করা তাহাদের পক্ষে অবাস্তব ছিল না।
(গ) এই নওমুসলিমদের অতীত জীবন অতিক্রান্ত হইয়াছিল এমন একটি পারিপার্শ্বিকতার মধ্য দিয়া যেখানে পার্থিব সম্পদের মর্যাদাই ছিল অধিক। তাহাদের অন্তঃকরণ জুড়িয়া ছিল ধন-সম্পদের মোহ। অর্থ-সম্পদ পাইলে তাহারা কাহারও আনুগত্য স্বীকার করিতে কুণ্ঠাবোধ করিত না। পার্থিব সম্পদ দ্বারা ঈমানের দিকে আকর্ষণ করা এবং ইসলামের প্রতি অটল রাখার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাদিগকে এইরূপ মুক্তহস্তে দান করিয়াছিলেন। এইরূপ দানকে "তা'লীফুল কুলুব” এবং যাহাদিগকে দান করা হয় তাহাদিগকে 'মুআল্লাফাতুল কুলুব" বলা হয়। তাহদিগকে সাদাকা বা যাকাত দেওয়া যায়, এই মর্মে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা আসিয়াছে (দ্র. ৯:৬০)।
(ঘ) ইসলামের বিধান হইল, যুদ্ধলব্ধ গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ রাষ্ট্রের প্রাপ্য, ইহাতে সৈনিকদের কোন স্বত্ব নাই। (শাসক) ইচ্ছা করিলে ইহা জনহিতকর কাজে ব্যয় করিতে পারেন কিংবা বায়তুল মালে জমা রাখিতে পারেন। ইমাম শাফিঈ (র) এবং ইমাম মালিক (র) বলেন, " মুআল্লাফাতুল কুলুব" বা দুর্বল ঈমানদারগণকে রাসূলুল্লাহ্ (স) যে মাল দান করিয়াছিলেন উহা তাঁহার নিজস্ব (রাষ্ট্রীয়) প্রাপ্য পঞ্চমাংশ হইতেই দান করিয়াছিলেন। কারণ এই পঞ্চমাংশের অতিরিক্ত কোন মাল সৈন্যদের অনুমতি না লইয়া তিনি কখনও খরচ করিতেন না। এইজন্যই হাওয়াযিন বন্দীদিগকে তিনি নিজে মুক্তি দেন নাই; বরং সৈন্যদের নিকট মুক্তি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করিয়াছিলেন (হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৮২২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা

📄 কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা


১. আকরা ইব্‌ন হাবিস এবং 'উয়ায়না ইব্‌ন হিস্‌ন এতদুভয়ের প্রত্যেককে যখন এক শত উট দান করা হইল তখন এক ব্যক্তি আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স) সমীপে আরয করিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! আপনি জু'আয়ল ইব্‌ন সুরাকাকে কিছুই দিলেন না। রাসূলুল্লাহ্ (স) উত্তরে বলিলেনঃ জু'আয়লের ঈমানের প্রতি আমার দৃঢ় আস্থা রহিয়াছে। এইজন্যই তাহাকে কিছু দেওয়ার প্রয়োজন আমি অনুভব করি নাই (আসাহ্হুস সিয়ার, পৃ. ২৯৭)।
২. বিলাল (রা)-এর কাপড়ে গনীমতের রৌপ্য ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) গনীমতের মাল হইতে যখন মক্কাবাসী নওমুসলিমদিগকে দান করিতেছিলেন, এমন সময় 'যুল-খুওয়ায়সিরা' নামক এক ব্যক্তি (আবূ উমার বলেন, লোকটি ইসলাম গ্রহণ করে নাই) আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্ রাসূল! ন্যায় ও ইনসাফ করুন। রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহার কথা শুনিয়া অসন্তুষ্ট হইয়া বলিলেন :
ويلك فمن يعدل اذا لم أعدل ؟
"তোমার ক্ষতি হউক! আমি যদি ন্যায়বিচার না করি তবে আর কে ন্যায় ও ইনসাফ করিবে?"
উমার (রা) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনুমতি দিন আমি এই নরাধমের গর্দান উড়াইয়া দেই। নবী করীম (স) বলিলেন, তাহাকে ছাড়িয়া দাও। তাহার এমন কিছু সঙ্গী-সাথী হইবে, তোমরা তাহাদের নামায রোযাকে তাহাদের সাথে অপছন্দ করিবে। তাহারা ধর্ম হইতে এমনভাবে বাহির হইয়া যাইবে যেমনিভাবে ধনুক হইতে তীর বাহির হইয়া যায় (কিতাবুল মাগাযী, ৩খ., পৃ. ৯৪৮; আল-ওয়াফা বিআহওয়ালিল মুস্তাফা, ১খ., পৃ. ৭০৬)।
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর এই দান দেখিয়া আনসারগণও কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করিলেন। জনৈক আনসারী বলিলেন, "রাসূলুল্লাহ্ (স) কুরায়শদিগকে গনীমতের মাল দিতেছেন, আর আমাদিগকে কিছুই দিতেছেন না। অথচ কুরায়শদিগের রক্তে এখনও আমাদের তরবারি রঞ্জিত রহিয়াছে” (সাহীহ আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২১)। অপর একজন আনসারী বলিলেন, "বিপদে আমাদিগকে ডাকা হয় আর গনীমতের মাল বিতরণ করা হয় অন্যদের মধ্যে" (সাহীহ আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাওয়াযিন প্রতিনিধি দলের আগমন

📄 হাওয়াযিন প্রতিনিধি দলের আগমন


আনসার সাহাবীগণের এইরূপ অপ্রীতিকর মন্তব্য শুনিয়া তাঁহাদের নেতা সা'দ ইবন উবাদা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া নিবেদন করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কুরায়শদিগকে বহুল পরিমাণে দান করিয়া সম্মানিত করিয়াছেন; আর আমাদিগকে কিছুই দিলেন না। অথচ কুরায়শদের রক্তে এখনও আমাদের তরবারি সিক্ত রহিয়াছে। এইজন্য আনসারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, সা'দ! ইহা কি তোমারও অভিমত? তিনি বলিলেন, আমিও তো একজন আনসার।
কোন নওমুসলিমের মন্তব্যে রাসূলুল্লাহ্ (স) মর্মাহত হন নাই। কারণ তাহারা তখনও রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মর্যাদা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন ছিল না। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) ধৈর্য ও ক্ষমা দ্বারা তাহাদের অপ্রিয় কথার উত্তর দিয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন, "মূসা (আ)-কে তাঁহার উম্মতগণ ইহা অপেক্ষাও অধিক কষ্ট দিয়াছে"। আনসারগণ তো নওমুসলিম নহেন। ভুল ধারণার বশবর্তী হইয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর কাজের প্রতি তাহাদের মধ্যে সংশয়ের উদ্রেক হইল কেন? এই ধারণার অপনোদন অত্যাবশ্যক। তাই রাসূলুল্লাহ্ (স) আনসারদিগকে সমবেত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, "তোমরা এই ধরনের মন্তব্য করিয়াছ কি"? আনসারগণ মিথ্যা বলিতেন না। তাই তাহারা বলিলেন, "আপনি যাহা শুনিয়াছেন তাহা সত্য” (সাহীহ আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২১)। অন্য বর্ণনামতে আনসারগণ বলিলেন, "আমাদের মধ্যে কোন জ্ঞানী লোক এইসব কথা বলেন নাই, বরং আমাদের যুবক শ্রেণী এহেন মন্তব্য করিয়াছে"। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, “হে আনসারগণ! যাহাদের অন্তরে এখনও ইসলামের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা জন্মে নাই, তাহাদিগকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করিবার নিমিত্ত আমি এই সকল নশ্বর সম্পদ দান করিয়াছি। এই সামান্য পার্থিব সম্পদের জন্য তোমরা আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হইবে? ঈমান ও ইসলামের প্রতি তোমাদের অগাধ বিশ্বাস সম্পর্কে আমার আস্থা আছে বলিয়াই আমি তোমাদিগকে এই দানে সম্পৃক্ত করি নাই"।
"হে আনসারগণ! ইহা কি সত্য নহে যে, তোমরা ছিলে পথহারা, আল্লাহ্ আমার মাধ্যমে তোমাদিগকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়াছেন? তোমরা ছিলে বিচ্ছিন্ন, আমার দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদিগকে একতাবদ্ধ করিয়াছেন। তোমরা ছিলে দরিদ্র, আমার দ্বারা আল্লাহ্ তোমাদিগকে সম্পদশালী করিয়াছেন। আনসারগণ তাঁহার প্রত্যেক বাক্যের সঙ্গে সঙ্গে বলিতে লাগিলেন, "নিশ্চয় আমাদের প্রতি আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের দান অপরিসীম" (যাদুল মা'আদ, ৪খ., পৃ. ৪৩৭-৪৩৮; আবুল হাসান আলী নাদবী, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, পৃ. ৩০৮-৩০৯)।
রাসূলুল্লাহ (স) আনসারগণের প্রতি লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, না, না, আমার কথার প্রতি উত্তরে তোমরা বল, "হে মুহাম্মাদ! যখন আপনাকে কেহ বিশ্বাস করিত না তখন আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনয়ন করিয়াছি। যখন লোকেরা আপনাকে পরিত্যাগ করিয়াছিল তখন আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়াছি। যখন আপনি অসহায় ছিলেন তখন আমরা আপনাকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করিয়াছি। আমিও তোমাদের প্রতি উত্তরে বলিব, "হে আনসারগণ! লোকেরা ছাগ-মেষ ও উট লইয়া স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করিবে, আর তোমরা আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদকে লইয়া বাড়ী ফিরিবে।"
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর এই মর্মস্পর্শী বক্তব্য শুনিয়া আনসারগণ কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়িলেন। তাঁহাদের অশ্রুজলে শ্মশ্রুরাজি সিক্ত হইয়া গেল। ক্রন্দনরত অবস্থায় ব্যাকুল চিত্তে সমবেত কণ্ঠে তাহারা বলিতে লাগিলেন, "আমরা সন্তুষ্ট” (সাহীহ আল-বুখারী, ২খ., পৃ. ৬২০; সাহীহ মুসলিম, ১খ., পৃ. ৩৩৮)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আনসারদের জন্য দু'আ করিয়া বলিলেন: اللهم ارحم الانصار وابناء الانصار وابناء ابناء الانصار.
“হে আল্লাহ্! তুমি আনসার ও তাহাদের বংশধরদের প্রতি অনুগ্রহ কর" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
আনসার যুবকদের ধারণা ছিল, কুরায়শগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর বংশধর বলিয়াই তাঁহাদিগকে তিনি এত ধন-সম্পদ প্রদান করিয়াছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর বক্তব্য শুনিয়া তাঁহাদের সেই ভুল ভাঙ্গিয়া গেল। কারণ স্বগোত্রীয় হওয়ার কারণেই যদি তিনি দান করিতেন তবে মুহাজিরদিগকে দান করিলেন না কেন? তাঁহারাও তো কুরায়শ এবং মহানবী (স)-এর স্বগোত্রীয়। উপরন্তু তাঁহারা আজীবন আল্লাহ্ ও রাসূলের খিদমতে নিজদিগকে উৎসর্গ করিয়া রাখিয়াছেন।
হাওয়াযিনদের অন্তর্ভুক্ত গোত্রের যুহায়র ইব্‌ন সুরাদ-এর নেতৃত্বে চৌদ্দ, মতান্তরে বার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে উপস্থিত হয়। এই দলে রাসূলুল্লাহ (স)-এর দুধচাচা আবূ বাকরাও ছিলেন। প্রতিনিধি দল জি'রানায় রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া তাহাদের সমুদয় ধন-সম্পদ ও বন্দীদিগকে ফেরত দেওয়ার প্রার্থনা জানাইল। দলপতি যুহায়র রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সমীপে দাঁড়াইয়া কাতর কণ্ঠে আরয করিল, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! হাওয়াযিন সম্প্রদায় আজ বিপদাপন্ন অবস্থায় নিপতিত হইয়াছে, তাহা আপনার অজানা নহে। আমাদের সমস্ত অন্যায়-অপরাধ ভুলিয়া আমাদের প্রতি দয়া করুন। আমাদের ধন-সম্পদ ফেরত দিন এবং আমাদের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদিগকে মুক্তি দিন। এই বন্দীগণের মধ্যে আপনার ফুফু, খালা এবং এমন মহিলাও আছেন যাহারা শৈশবে হালীমার গৃহে আপনাকে ক্রোড়ে লইয়া স্নেহ-চুম্বন করিয়াছিলেন। হারিছ ইব্‌ন শিমর এবং নু'মান ইবন মুনযিরের ন্যায় প্রভাবশালী দুনিয়াদার রাজ-রাজড়াদের নিকট প্রার্থনা করিলে বোধ হয় এই বিপদে তাহারাও আমাদিগকে বঞ্চিত করিত না। আপনার ন্যায় মহানুভব দয়ালু ব্যক্তিত্বের নিকট আমরা তদপেক্ষাও অধিক অনুগ্রহ প্রাপ্তির আশা করি।"
তাহাদের কাতর মিনতিতে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর হৃদয় বিগলিত হইল। তিনি বলিলেন, "গনীমতের মাল কেবল আমার নহে; ইহা সৈন্যদের অধিকারর্ভুক্ত। আবার তোমরাও এই আবেদন লইয়া অতি বিলম্বে পৌছিয়াছ। সব কিছু ফেরত দেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব নহে। এখন বল, মাল ও বন্দী এতদুভয়ের কোনটি তোমরা চাও?"
তাহারা বলিল, আমাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যাই আমাদিগকে ফেরত দিন। রাসূলুল্লাহ (স)-বলিলেন, "যে সমস্ত বন্দী আমার এবং আমার বংশধর বানু আবদুল মুত্তালিবের প্রাপ্য তাহাদিগকে মুক্তি দিলাম। আর অবশিষ্ট বন্দীগণের মুক্তির জন্য আমি মুসলিম সৈন্যদের নিকট সুপারিশ করিব। যুহরের জামা'আতের পর তোমরা এই দরখাস্ত পেশ করিও।"
তাহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পরামর্শমত যুহরের নামাযান্তে মুসলমানদের নিকট মুক্তির আবেদন পেশ করিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) সকল মুসলমানকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, "আমার ও বানু আবদুল মুত্তালিবের প্রাপ্য বন্দীদিগকে আমি মুক্তি দিলাম। আর তোমাদের নিকট নিজ নিজ বন্দীদিগকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করিতেছি। এই কথা শোনামাত্র মুহাজির ও আনসারগণ একবাক্যে বলিয়া উঠিলেন, আমরাও আমাদের বন্দীদিগকে মুক্তি দিলাম" (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৩; হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স): সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৮২৬-২৭; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৩)।
কিন্তু মক্কাবাসী নওমুসলিমদের মধ্যে কেহ কেহ নিজ অংশের বন্দীদিগকে মুক্তি দিতে অসম্মত হইল। আকরা' ইবন হাবিস বলিল, আমার এবং বানু তামীমের বন্দীদিগকে মুক্তি দিব না। উয়ায়না ইন্ন হিস্স বলিল, আমার এবং বানূ ফাযারার বন্দীদিগকে মুক্তি দিব না। আব্বাস ইন মিরদাস বলিলেন, আমার এবং বানু সুলায়মের বন্দীদিগকে মুক্তি দিব না। কিন্তু বানু সুলায়মের সাধারণ মুসলমানগণ বলিল, আমাদের ভাগে যাহা পড়িয়াছে তাহা রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে দিয়া দিলাম। আব্বাস ইন্ন মিরদাস বলিলেন, তোমরা আমাকে অপমান করিলে। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, এই প্রতিনিধি দলের সকল সদস্য ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। আমি তাহাদিগকে মাল ও বন্দীর মধ্যে একটি গ্রহণের এখতিয়ার দিয়াছিলাম। তাহারা বন্দীমুক্তি কামনা করিয়াছে। সুতরাং এইবার তোমরা বন্দীদিগকে ছাড়িয়া দাও। ইহার পর যখনই কোন যুদ্ধবন্দী আমার হাতে আসিবে তখনই সর্বপ্রথম আমি তোমাদিগকে একটির বিনিময়ে ছয়টি দান করিব। এই কথা শুনিয়া তাহারাও সম্মত হইয়া গেল। প্রত্যেকেই নিজ নিজ বন্দীদিগকে মুক্তি দান করিল। কিন্তু উয়ায়না ইবন হিস্স্স তাহার অধিকারভুক্ত এক বৃদ্ধা মহিলাকে ফেরৎ দিতে প্রথম অস্বীকৃতি জানাইলেও পরে তাহাকেও মুক্তি দিল। এইরূপে ছয় হাজার হাওয়াযিন মহিলা ও শিশু মুহূর্তের মধ্যে মুক্তিলাভ করিল (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৪; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) প্রতিনিধি দলকে জিজ্ঞাসা করিলেন: তোমাদের প্রধান সেনাপতি মালিক ইবন আওফ বর্তমানে কোথায় আছে? তাহারা বলিল, তিনি ছাকীফদের সহিত তায়েফে আছেন। রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, তোমরা তাহাকে সংবাদ দাও, সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে আমি তাহাকে তাহার পরিবারবর্গ ও সমস্ত ধন-সম্পদ ফেরত দিব। তৎসঙ্গে তাহাকে এক শত উটও দান করিব (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৪)।
মালিক ইব্‌ন আওফ হুনায়নের রণক্ষেত্রেই রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর সত্যতা উপলব্ধি করিতে পারিয়াছিল। বার হাজার মুসলিম সৈন্য যখন হাওয়াযিন বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণে যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন করিতে উদ্যত হয় এবং রাসূলুল্লাহ্ (স) প্রায় একাকী অবিচল চিত্তে হাজার হাজার শত্রুর সম্মুখীন হইতে থাকেন, তখনই মালিকের হৃদয়ে সত্য প্রতিভাত হইয়া উঠে। তখনই তাহার অন্তরে জাগিয়া উঠে, তিনি সাধারণ মানব নহেন। নিশ্চয় তিনি আল্লাহ্ প্রেরিত মহাপুরুষ। নতুবা ইহা তাঁহার জন্য কিছুতেই সম্ভব হইত না। কিন্তু নেতৃত্ব ও প্রতিপত্তি লিন্সার তিমির আধারে সেই আলো ক্ষীণ ও আচ্ছন্ন হইয়া পড়ে।
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর আহবান যখন তাহার কানে পৌছিল তখনই তাহার অন্তরের সমস্ত কুয়াশা বিলীন হইয়া গেল এবং সত্যের উজ্জ্বল কিরণ বিকশিত হইয়া উঠিল। সে আর স্থির থাকিতে পারিল না। তায়েফ হইতে গোপনে জি'রানাতে, মতান্তরে মক্কায় আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খিদমতে হাযির হইল। সে ইসলাম গ্রহণ করিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে প্রতিশ্রুত ধন-জন ও পারিতোষিক প্রদান করিলেন। ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভে উল্লসিত হইয়া সে একটি নাতিদীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিল, যাহার সূচনা ছিল এইরূপ:
ما ان رايت ولا سمعت بمثله + فى الناس كلهم بمثل محمد
"মানব সমাজের মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর ন্যায় মহান লোক আমি কোন দিন কোথাও দেখি নাই এবং কাহারও নিকট কোন দিন এমন লোকের কথা শুনিতেও পাই নাই" (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ২৯৪)।
ইহার পর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য গোত্রগুলিও ক্রমান্বয়ে ইসলাম কবুল করে। তন্মধ্যে বানু তামীম, ফাহম ও সালামা গোত্র অন্যতম। নবী করীম (স) মালিক ইবন আওফকে তাহার নিজের কবীলা ব্যতিরেকে বাকী সকল গোত্রের আমীর নিযুক্ত করেন (মহানবী (সা)-এর প্রতিরক্ষা কৌশল, পৃ. ৩২৬)।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) সৈন্যদিগকে নিয়া জি'রানায় তিন রাত্র পর্যন্ত অবস্থান করিলেন। পরে মদীনায় যাত্রায় মনোনিবেশ করিলেন। ১৮ যিলকা'দ বুধবার রাত্রে তিনি জি'রানা হইতে রওয়ানা হইলেন। অতঃপর উমরা পালনের নিয়তে ইহরাম বাঁধিয়া মক্কায় প্রবেশ করিয়া তাওয়াফ, সাঈ ও মাথা মুণ্ডন করিয়া জি'রানায় গিয়া রাত্রি কাটাইলেন। পরদিন ৮ম হিজরীর যিলকা'দ মাসের বৃহস্পতিবার প্রত্যূষে মহানবী (স) সারিফ নামক স্থান হইয়া মাররুয-যাহরান-এর পথ ধরিয়া মদীনার দিকে অগ্রসর হইলেন (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., পৃ. ১৫৪)।
হুনায়ন-এর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই যুদ্ধে মুসলমানগণ বিরাট বিজয় লাভ করেন, যদিও এই বিজয়ের জন্য মুসলমানদিগকে অনেক মূল্য দিতে হইয়াছে। বেশ কিছু মুসলিম বীর জীবন বিসর্জন দিয়াছেন। এই যুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় নাই। কিন্তু তাহাদের ভাষ্য হইতে বুঝা যায় যে, ইহাতে মুসলমানদের প্রায় পূর্ণ দুইটি গোত্র ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। মহানবী (স) যুদ্ধে শহীদদের জান্নাত লাভের জন্য দু'আ করেন। এতদসত্ত্বেও এই যুদ্ধে সকল দিক হইতেই মুসলমানগণ বিজয় ছিনাইয়া আনেন এবং শত্রুদিগকে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত করেন, গনীমত হিসাবে তাঁহারা অঢেল সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী লাভ করেন, যাহা অতীতের গনীমত প্রাপ্তির সকল রেকর্ড ভঙ্গ করিয়াছিল। মুশরিকরা বৈষয়িক প্রাচুর্যকে সত্যের উৎস মনে করিত বিধায় যুদ্ধে মুসলমানদের প্রচুর গনীমত প্রাপ্তিকে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে সত্য দীনের প্রবর্তক মনে করিয়া অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00