📄 বিচারক্ষেত্রে দৃঢ়তা
মক্কা বিজয়ের অব্যবহিত পর কুরায়শ গোত্রের মাখযূম বংশের এক (সম্ভ্রান্ত) মহিলা চুরি করিয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) ইসলামী বিধান অনুসারে তাহার হাত কাটিতে নির্দেশ দিলেন। এই নির্দেশ শুনিয়া উক্ত বংশের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ অত্যন্ত বিচলিত হইয়া পড়িল। হাত কাটার দণ্ড হইতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করিবার জন্য তাহারা হযরত উসামা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রেরণ করিল। উসামা (রা) এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট সুপরিশ করিলে তিনি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হইলেন এবং বলিলেন, উসামা! তুমি আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধান হদ্দ-এর বিরুদ্ধে সুপারিশ করিতে আসিয়াছ? উসামা (রা) ক্ষমা চাহিলেন এবং আরয করিলেন, আপনি আমার এই ত্রুটির জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
অতঃপর অপরাহ্নে সমবেত জনমণ্ডলীর মধ্যে দণ্ডায়মান হইয়া মহানবী (স) একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। বক্তৃতার প্রারম্ভে যথারীতি আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করিবার পর তিনি সকলকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন : তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করিলে তাহাকে কোন শাস্তি দেওয়া হইত না, পক্ষান্তরে কোন দুর্বল লোক চুরি করিলে যথাবিধি তাহাকে শাস্তি প্রদান করা হইত। এইজন্যই উক্ত জাতিসমূহ ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছে। যাঁহার হাতে মুহাম্মাদ (স)-এর প্রাণ সেই আল্লাহর কসম করিয়া বলিতেছি! আজ যদি মুহাম্মাদ (স)-এর কন্যা ফাতিমাও চুরি করিত তবে নিশ্চয়ই আমি তাহার হাত কাটিয়া ফেলিতাম। অতঃপর উক্ত মহিলার হাত কাটিয়া দেওয়া হইল। তাহার নাম ছিল ফাতিমা। হযরত আইশা (রা) বলেন, হাত কাটার পর ঐ মহিলার আচরণ ভাল হইয়া যায়। কোন প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিলে আমরা তাহার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে পেশ করিতাম (সহীহুল বুখারী, ২খ., পৃ. ৬১৫)।
এভাবে মুহাম্মাদ (স) কুরায়শদিগকে সাম্য, মৈত্রী ও একতার বাণী শুনাইলেন। তিনি বলিলেন, হে কুরায়শগণ! অতীত যুগের সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা মন হইতে মুছিয়া ফেল। কৌলিন্যের গর্ব ভুলিয়া যাও। সকলে এক হও। সকল মানুষই সমান-একথা বিশ্বাস কর। এইরূপে সকল গ্লানি ও সকল মলিনতা হইতে মুক্ত করিয়া মহানবী (স) কুরায়শ গোত্রের অন্তরে দিলেন এক নূতন প্রেরণা। সকল ভেদজ্ঞান দূর করিয়া প্রাণে প্রাণে দিলেন এক অভিনব প্রেমের বন্ধন, বক্ষে দিলেন নূতন আশা, কণ্ঠে দিলেন নূতন ভাষা, বাহুতে দিলেন নূতন বল। এক নূতন মহাজাতির বীজ আরবের মরুবক্ষে সেদিন প্রোথিত হইল।
ইব্ন শিহাব আয-যুহরী বলিয়াছেন, মক্কা অধিকার করিবার পর রাসূলুল্লাহ (স) সেখানে পনের রাত্রি অবস্থান করেন। মক্কা অধিকৃত হয় ২০ রামাদান, ৮ হিজরী সনে (ইব্ন হিশাম, সীরাতে রাসূলুল্লাহ (স), পৃ. ৫২০; Haykal, The Life of Muhammad, P. 413) ।