📄 মৃ'তা যুদ্ধের শহীদগণ
মুহাজিরগণের কুরায়শ গোত্রীয় বানু হাশিম শাখার (১) জা'ফার ইব্ন আবী তালিব; (২) যায়দ ইব্ন হারিছা আল-কালবী; 'আদী ইব্ন কা'ব গোত্রের (১) মাসউদ ইবনুল আসওয়াদ। বনূ মালিক ইব্ন হিসল গোত্রের (১) ওয়াহ্ ইব্ন সা'দ। আনসারগণের বানু হারিছ ইবনুল খাযরাজ গোত্রের (১) আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা, (২) 'আব্বাদ ইব্ন কায়স। বানু গান্ম ইব্ন মালিক ইব্ন নাজ্জার গোত্রের (১) আল-হারিছ ইব্নুন নু'মান। বনূ মাযিন ইব্নুন নাজ্জার গোত্রের সুরাকা ইব্ন 'আমর। ইবন ইসহাকের মতে মৃতা যুদ্ধে যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা উপরিউক্ত মোট আটজন : চারজন মুহাজির এবং চারজন আনসার।
ইব্ন হিশাম বলেন, ইব্ন শিহাব যুহরীর মতে মৃতায় যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহারা হইলেন: বানু মাযিন ইব্ন নাজ্জার গোত্রের (১) আবূ কুলায়ব ইব্ন আমর; (২) জাবির ইব্ন 'আমর। দুইজনই সহোদর ভাই। বানু মালিক গোত্রের (১) 'আমর ইবন সা'দ এবং (২) তাঁহার সহোদর ভাই 'আমের ইবন সা'দ। ইহারাও আনসার গোত্রের ছিলেন। সুতরাং পূর্বের আটজনসহ এই চারজন মিলাইয়া ইমাম যুহরীর মতে মৃতার মোট শহীদের সংখ্যা বারজন। ইহা অত্যন্ত বিস্ময়কর ঘটনা যে, তিন হাজার মুসলিম সৈন্য আর দুই লক্ষ শত্রু সৈন্যের মধ্যে লড়াই সংঘটিত হয়। এত বিরাট বাহিনী মাত্র বারজনকে শহীদ করিতে সক্ষম হয়। অপরদিকে মুশরিকদিগের অনেক লোক নিহত হয়। খালিদ (রা)-এর হাতে নয়টি তরবারি ভাঙ্গিয়া যায়। ইহাতে অনুমিত হয় যে, শুধু তাঁহার হাতেই অনেক কাফির নিহত হইয়াছিল, অন্যান্য বীরদের কথা উল্লেখ নাই বা করা হইল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৭০-২৭১)।
ইবন ইসহাক বলেন, মৃতা যুদ্ধের শহীদগণের উদ্দেশ্যে হাসসান ইব্ন ছাবিত (রা) নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করিয়াছেন:
تَاوَبُنِي لَيْلٌ بِيَشْرِبَ أَعْسَرُ - وَهَمَّ إِذَا مَا نَوْمَ النَّاسُ مُسْهِرُ لذكرى حَبيبٍ هَيَّجَتَ ثُمَّ عَبْرَةٌ - سَفُوحًا وَأَسْبَابُ الْبُكَاءِ الْمُتَذَكَّرُ بَلاء وَفَقْدَانُ الحَبيبِ بليّة - وَكَمْ مِنْ كَرِيمٍ يُبْتَلِى ثُمَّ يَصْبِرَ رَأَيْتُ خِيَارَ الْمُؤْمِنِينَ تَوَارَدُوا - شُعَوْبَ وَقَدْ خُلَقْتُ فِي مَنْ يَؤْخِّرُ فَلا يُبْعِدَنَّ اللَّهُ قَتْلَى تَتَابَعُوا - بِمُؤْتَةَ مِنْهُمْ ذُو الْجَنَاحَيْنِ جَعْفَرُ وَزَيْدٌ وَعَبْدُ الله حينَ تَتَابَعُوا - جَمِيعًا وَأَسْبَابُ الْمَنِيَّةِ تَخْطُرُ غدَاةَ غَدَوْا بِالْمُؤْمِنِينَ يَقُودُهُمْ - إِلَى الْمَوْتِ مَيْمُونُ النَّقِيبَةِ أَزْهَرُ
أَغَرُّ كَلَوْنِ الْبَدْرِ مِنْ آلِ هَاشِمِ - أَبِيُّ إِذَا سِيْمَ الظُّلامَةَ مِجْسَرُ. فَطَاعَنَ حَتَّى مَاتَ غَيْرَ مُؤَسِّدٍ - بِمُعْتَرَكَ فِيهِ الْقَنَا يُتَكَسَّرُ فَصَارَ مَعَ الْمُسْتَشْهِدِينَ ثَوَابُهُ - جِنَانٌ وَمُلْتَفُ الْحَدَائِقِ أَخْضَرُ وكُنَّا نَرى فِى جَعْفَرِ مِنْ مُحَمَّدٍ - وَفَاءً وَأَمْرًا حَازِمًا حِيْنَ يَأْمُرُ فَمَا زَالَ فِي الإِسْلَامِ مِنْ آلِ هَاشِرٍ - دَعَائِمُ عِزَّ لَا تُرَامٌ مَفْخَرُ هُمُوا جَبَلُ الإِسْلَامِ وَالنَّاسُ حَولَهُ - رِضَامٌ إِلَى طَوْدٍ يَرُوفُ يَقْهَرُ تَهَالِيْلٌ مِّنْهُمْ جَعْفَرٌ وَابْنُ أُمِّه - عَلَى وَمِنْهُمْ أَحْمَدُ الْمُتَخَيَّرُ وَحَمْزَةُ وَالْعَبَّاسُ مِنْهُمْ وَمِنْهُمُوا - عَقِيلُ وَمَاءُ الْعُودِ مِنْ حَيْثُ يُعْصَرُ بِهِمْ تُكْشَفُ اللأواءِ فِي كُلِّ مَازِقٍ - عَمَاسِ إِذَا مَا ضَاقَ بِالْقَوْمِ مَصْدَرُ هُمْ أَوْلِيَاءُ اللهِ أَنْزَلَ حُكْمَهُ - عَلَيْهِمْ وَفِيهِمْ الْكِتَابِ المُطَهَّرُ.
"ইয়াছরিবে (মদীনায়) আমার উপর ফিরিয়া আসিল অত্যন্ত কঠিন এক রাত্রি ও দুশ্চিন্তা। মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন আমি জাগ্রত"।
"আমার এক বন্ধুর স্মরণে, কান্নার অশ্রু প্রবল বেগে প্রবাহিত হইতেছিল। কান্নার কারণসমূহ ছিল স্মরণ, বন্ধুর স্মরণ"।
“হাঁ, নিশ্চয় বন্ধুর বিরহ এক মহাবিপদ; কিন্তু অনেক সম্ভ্রান্ত লোক রহিয়াছেন যাহাদিগকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হইলে তাহারা ধৈর্য ধারণ করেন"।
"আমি কত অতি উত্তম, মুমিনদের একের পর এক মৃত্যুর ঘাটে অবতরণ করিতে দেখিলাম। তবে পশ্চাতে পড়িয়া থাকা লোকদের সহিত আমিও পশ্চাতে পড়িয়া রহিলাম"।
"আল্লাহ তা'আলা যেন তাঁহার খাস রহমত হইতে দূরে না রাখেন সেই সকল শহীদকে যাঁহারা মু'তা প্রান্তরে একের পর এক শহীদ হইলেন। তাঁহাদের একজন হইলেন দুইডানা বিশিষ্ট জা'ফার"।
"অন্যরা হইলেন যায়দ ও 'আবদুল্লাহ্, যাঁহারা সকলে পরপর শহীদ হইয়াছিলেন। আর মৃত্যুর সকল কারণ সেখানে সক্রিয় ছিল"।
"ইহা সেই দিনের কথা যখন এই শহীদগণ মুমিনগণকে লইয়া মৃত্যুর প্রতি এক অত্যুজ্জ্বল ভাগ্যবান নেতার নেতৃত্বে অগ্রসর হইতেছিলেন"।
"তিনি ছিলেন হাশিম বংশীয়, পূর্ণিমার চাঁদ, সমুজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। অপকর্ম ও অনাচারের প্রতি অতি ঘৃণা পোষণকারী অত্যন্ত সাহসী পুরুষ"।
"লড়িতে লড়িতে তিনি লুটাইয়া পড়েন এমন রণাঙ্গনে যেখানে বল্লম চূর্ণবিচূর্ণ হইতেছিল”।
"ফলে তিনি অন্তর্ভুক্ত হইয়া গেলেন শহীদগণের, ইহার প্রতিদান জান্নাতসমূহ, সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা বাগানাদি"।
"জা'ফার যখন কোন আদেশ করিতেন তখন আমরা তাঁহার মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি আনুগত্য, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিচক্ষণতা প্রত্যক্ষ করিতাম”।
"ইসলামে হাশিমীরা চিরকাল রহিয়াছেন মর্যাদার স্তম্ভ ও গৌরবের পাত্র, যাহা ওজনের আশা করা যায় না"।
"তাঁহারা হইলেন ইসলামের পর্বতস্বরূপ আর অন্যান্য মুসলিমরা হইলেন পাহাড়ের আশে পাশের পাথরস্বরূপ, যাহা সর্বাবস্থায় সমুন্নত থাকে"।
"ইঁহারা হইলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন জা'ফার ও তাঁহার সহোদর আলী, সর্বোপরি তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন (আল্লাহ্) মনোনীত পুরুষ আহমাদ (স)"।
"তাঁহাদের মধ্যে আরও রহিয়াছেন হামযা, 'আব্বাস ও আকীল (রা)-এর মত ব্যক্তিত্ব। এমন সরস ও সুরভিত কাঠ যেখান হইতে আতর (হেদায়েত) পাওয়া যায়”
"তাঁহাদের দ্বারা সকল সংকটময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রণাঙ্গনের সংকট নিরসন করা যায়, যখন সেখান হইতে লোকজনের উত্তরণ দুঃসাধ্য হয়"।
"তাঁহারা আল্লাহ্ প্রিয় বান্দা, যাঁহাদের প্রতি আল্লাহ তাঁহার হুকুম অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাঁহাদের মধ্যেই রহিয়াছেন পবিত্র গ্রন্থের বাহক (মুহাম্মাদ)" (হাসসান ইব্ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৭)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا
صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”।
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”।
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬১-৬২; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৯-২৭০; ঐ, উর্দু অনুবাদ, ৪৫২-৪৫৪)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا
صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”।
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”।
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন”।
মুহাজিরগণের কুরায়শ গোত্রীয় বানু হাশিম শাখার (১) জা'ফার ইব্ন আবী তালিব; (২) যায়দ ইব্ন হারিছা আল-কালবী; 'আদী ইব্ন কা'ব গোত্রের (১) মাসউদ ইবনুল আসওয়াদ। বনূ মালিক ইব্ন হিসল গোত্রের (১) ওয়াহ্ ইব্ন সা'দ। আনসারগণের বানু হারিছ ইবনুল খাযরাজ গোত্রের (১) আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা, (২) 'আব্বাদ ইব্ন কায়স। বানু গান্ম ইব্ন মালিক ইব্ন নাজ্জার গোত্রের (১) আল-হারিছ ইব্নুন নু'মান। বনূ মাযিন ইব্নুন নাজ্জার গোত্রের সুরাকা ইব্ন 'আমর। ইবন ইসহাকের মতে মৃতা যুদ্ধে যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা উপরিউক্ত মোট আটজন : চারজন মুহাজির এবং চারজন আনসার।
ইব্ন হিশাম বলেন, ইব্ন শিহাব যুহরীর মতে মৃতায় যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহারা হইলেন: বানু মাযিন ইব্ন নাজ্জার গোত্রের (১) আবূ কুলায়ব ইব্ন আমর; (২) জাবির ইব্ন 'আমর। দুইজনই সহোদর ভাই। বানু মালিক গোত্রের (১) 'আমর ইবন সা'দ এবং (২) তাঁহার সহোদর ভাই 'আমের ইবন সা'দ। ইহারাও আনসার গোত্রের ছিলেন। সুতরাং পূর্বের আটজনসহ এই চারজন মিলাইয়া ইমাম যুহরীর মতে মৃতার মোট শহীদের সংখ্যা বারজন। ইহা অত্যন্ত বিস্ময়কর ঘটনা যে, তিন হাজার মুসলিম সৈন্য আর দুই লক্ষ শত্রু সৈন্যের মধ্যে লড়াই সংঘটিত হয়। এত বিরাট বাহিনী মাত্র বারজনকে শহীদ করিতে সক্ষম হয়। অপরদিকে মুশরিকদিগের অনেক লোক নিহত হয়। খালিদ (রা)-এর হাতে নয়টি তরবারি ভাঙ্গিয়া যায়। ইহাতে অনুমিত হয় যে, শুধু তাঁহার হাতেই অনেক কাফির নিহত হইয়াছিল, অন্যান্য বীরদের কথা উল্লেখ নাই বা করা হইল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৭০-২৭১)।
ইবন ইসহাক বলেন, মৃতা যুদ্ধের শহীদগণের উদ্দেশ্যে হাসসান ইব্ন ছাবিত (রা) নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করিয়াছেন:
تَاوَبُنِي لَيْلٌ بِيَشْرِبَ أَعْسَرُ - وَهَمَّ إِذَا مَا نَوْمَ النَّاسُ مُسْهِرُ لذكرى حَبيبٍ هَيَّجَتَ ثُمَّ عَبْرَةٌ - سَفُوحًا وَأَسْبَابُ الْبُكَاءِ الْمُتَذَكَّرُ بَلاء وَفَقْدَانُ الحَبيبِ بَلِيّة - وَكَمْ مِنْ كَرِيمٍ يُبْتَلِى ثُمَّ يَصْبِرَ رَأَيْتُ خِيَارَ الْمُؤْمِنِينَ تَوَارَدُوا - شُعَوْبَ وَقَدْ خُلَقْتُ فِي مَنْ يَؤْخِّرُ فَلا يُبْعِدَنَّ اللَّهُ قَتْلَى تَتَابَعُوا - بِمُؤْتَةَ مِنْهُمْ ذُو الْجَنَاحَيْنِ جَعْفَرُ وَزَيْدٌ وَعَبْدُ الله حينَ تَتَابَعُوا - جَمِيعًا وَأَسْبَابُ الْمَنِيَّةِ تَخْطُرُ غدَاةَ غَدَوْا بِالْمُؤْمِنِينَ يَقُودُهُمْ - إِلَى الْمَوْتِ مَيْمُونُ النَّقِيبَةِ أَزْهَرُ
أَغَرُّ كَلَوْنِ الْبَدْرِ مِنْ آلِ هَاشِمِ - أَبِيُّ إِذَا سِيْمَ الظُّلامَةَ مِجْسَرُ. فَطَاعَنَ حَتَّى مَاتَ غَيْرَ مُؤَسِّدٍ - بِمُعْتَرَكَ فِيهِ الْقَنَا يُتَكَسَّرُ فَصَارَ مَعَ الْمُسْتَشْهِدِينَ ثَوَابُهُ - جِنَانٌ وَمُلْتَفُ الْحَدَائِقِ أَخْضَرُ وكُنَّا نَرى فِى جَعْفَرِ مِنْ مُحَمَّدٍ - وَفَاءً وَأَمْرًا حَازِمًا حِيْنَ يَأْمُرُ فَمَا زَالَ فِي الإِسْلَامِ مِنْ آلِ هَاشِرٍ - دَعَائِمُ عِزَّ لَا تُرَامٌ مَفْخَرُ هُمُوا جَبَلُ الإِسْلَامِ وَالنَّاسُ حَولَهُ - رِضَامٌ إِلَى طَوْدٍ يَرُوفُ يَقْهَرُ تَهَالِيْلٌ مِّنْهُمْ جَعْفَرٌ وَابْنُ أُمِّه - عَلَى وَمِنْهُمْ أَحْمَدُ الْمُتَخَيَّرُ وَحَمْزَةُ وَالْعَبَّاسُ مِنْهُمْ وَمِنْهُمُوا - عَقِيلُ وَمَاءُ الْعُودِ مِنْ حَيْثُ يُعْصَرُ بِهِمْ تُكْشَفُ اللأواءِ فِي كُلِّ مَازِقٍ - عَمَاسِ إِذَا مَا ضَاقَ بِالْقَوْمِ مَصْدَرُ هُمْ أَوْلِيَاءُ اللهِ أَنْزَلَ حُكْمَهُ - عَلَيْهِمْ وَفِيهِمْ الْكِتَابِ المُطَهَّرُ.
"ইয়াছরিবে (মদীনায়) আমার উপর ফিরিয়া আসিল অত্যন্ত কঠিন এক রাত্রি ও দুশ্চিন্তা। মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন আমি জাগ্রত"।
"আমার এক বন্ধুর স্মরণে, কান্নার অশ্রু প্রবল বেগে প্রবাহিত হইতেছিল। কান্নার কারণসমূহ ছিল স্মরণ, বন্ধুর স্মরণ"।
“হাঁ, নিশ্চয় বন্ধুর বিরহ এক মহাবিপদ; কিন্তু অনেক সম্ভ্রান্ত লোক রহিয়াছেন যাহাদিগকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হইলে তাহারা ধৈর্য ধারণ করেন"।
"আমি কত অতি উত্তম, মুমিনদের একের পর এক মৃত্যুর ঘাটে অবতরণ করিতে দেখিলাম। তবে পশ্চাতে পড়িয়া থাকা লোকদের সহিত আমিও পশ্চাতে পড়িয়া রহিলাম"।
"আল্লাহ তা'আলা যেন তাঁহার খাস রহমত হইতে দূরে না রাখেন সেই সকল শহীদকে যাঁহারা মু'তা প্রান্তরে একের পর এক শহীদ হইলেন। তাঁহাদের একজন হইলেন দুইডানা বিশিষ্ট জা'ফার"।
"অন্যরা হইলেন যায়দ ও 'আবদুল্লাহ্, যাঁহারা সকলে পরপর শহীদ হইয়াছিলেন। আর মৃত্যুর সকল কারণ সেখানে সক্রিয় ছিল"।
"ইহা সেই দিনের কথা যখন এই শহীদগণ মুমিনগণকে লইয়া মৃত্যুর প্রতি এক অত্যুজ্জ্বল ভাগ্যবান নেতার নেতৃত্বে অগ্রসর হইতেছিলেন"।
"তিনি ছিলেন হাশিম বংশীয়, পূর্ণিমার চাঁদ, সমুজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। অপকর্ম ও অনাচারের প্রতি অতি ঘৃণা পোষণকারী অত্যন্ত সাহসী পুরুষ"।
"লড়িতে লড়িতে তিনি লুটাইয়া পড়েন এমন রণাঙ্গনে যেখানে বল্লম চূর্ণবিচূর্ণ হইতেছিল”
"ফলে তিনি অন্তর্ভুক্ত হইয়া গেলেন শহীদগণের, ইহার প্রতিদান জান্নাতসমূহ, সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা বাগানাদি"।
"জা'ফার যখন কোন আদেশ করিতেন তখন আমরা তাঁহার মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি আনুগত্য, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিচক্ষণতা প্রত্যক্ষ করিতাম”
"ইসলামে হাশিমীরা চিরকাল রহিয়াছেন মর্যাদার স্তম্ভ ও গৌরবের পাত্র, যাহা ওজনের আশা করা যায় না"।
"তাঁহারা হইলেন ইসলামের পর্বতস্বরূপ আর অন্যান্য মুসলিমরা হইলেন পাহাড়ের আশে পাশের পাথরস্বরূপ, যাহা সর্বাবস্থায় সমুন্নত থাকে"।
"ইঁহারা হইলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন জা'ফার ও তাঁহার সহোদর আলী, সর্বোপরি তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন (আল্লাহ্) মনোনীত পুরুষ আহমাদ (স)"।
"তাঁহাদের মধ্যে আরও রহিয়াছেন হামযা, 'আব্বাস ও আকীল (রা)-এর মত ব্যক্তিত্ব। এমন সরস ও সুরভিত কাঠ যেখান হইতে আতর (হেদায়েত) পাওয়া যায়"।
"তাঁহাদের দ্বারা সকল সংকটময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রণাঙ্গনের সংকট নিরসন করা যায়, যখন সেখান হইতে লোকজনের উত্তরণ দুঃসাধ্য হয়"।
"তাঁহারা আল্লাহ্ প্রিয় বান্দা, যাঁহাদের প্রতি আল্লাহ তাঁহার হুকুম অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাঁহাদের মধ্যেই রহিয়াছেন পবিত্র গ্রন্থের বাহক (মুহাম্মাদ)" (হাসসান ইব্ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৬৭)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا
صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন” (হাসসান ইব্ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৭)।
মুহাজিরগণের কুরায়শ গোত্রীয় বানু হাশিম শাখার (১) জা'ফার ইব্ন আবী তালিব; (২) যায়দ ইব্ন হারিছা আল-কালবী; 'আদী ইব্ন কা'ব গোত্রের (১) মাসউদ ইবনুল আসওয়াদ। বনূ মালিক ইব্ন হিসল গোত্রের (১) ওয়াহ্ ইব্ن সা'দ। আনসারগণের বানু হারিছ ইবনুল খাযরাজ গোত্রের (১) আবদুল্লাহ ইব্ن রাওয়াহা, (২) 'আব্বাদ ইব্ন কায়স। বানু গান্ম ইব্ন মালিক ইব্ن নাজ্জার গোত্রের (১) আল-হারিছ ইব্নুন নু'মান। বনূ মাযিন ইব্নুন নাজ্জার গোত্রের সুরাকা ইব্ন 'আমর। ইবন ইসহাকের মতে মৃতা যুদ্ধে যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা উপরিউক্ত মোট আটজন : চারজন মুহাজির এবং চারজন আনসার।
ইব্ন হিশাম বলেন, ইব্ন শিহাব যুহরীর মতে মৃতায় যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহারা হইলেন: বানু মাযিন ইব্ن নাজ্জার গোত্রের (১) আবূ কুলায়ব ইব্ন আমর; (২) জাবির ইব্ন 'আমর। দুইজনই সহোদর ভাই। বানু মালিক গোত্রের (১) 'আমর ইবন সা'দ এবং (২) তাঁহার সহোদর ভাই 'আমের ইবন সা'দ। ইহারাও আনসার গোত্রের ছিলেন। সুতরাং পূর্বের আটজনসহ এই চারজন মিলাইয়া ইমাম যুহরীর মতে মৃতার মোট শহীদের সংখ্যা বারজন। ইহা অত্যন্ত বিস্ময়কর ঘটনা যে, তিন হাজার মুসলিম সৈন্য আর দুই লক্ষ শত্রু সৈন্যের মধ্যে লড়াই সংঘটিত হয়। এত বিরাট বাহিনী মাত্র বারজনকে শহীদ করিতে সক্ষম হয়। অপরদিকে মুশরিকদিগের অনেক লোক নিহত হয়। খালিদ (রা)-এর হাতে নয়টি তরবারি ভাঙ্গিয়া যায়। ইহাতে অনুমিত হয় যে, শুধু তাঁহার হাতেই অনেক কাফির নিহত হইয়াছিল, অন্যান্য বীরদের কথা উল্লেখ নাই বা করা হইল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩খ., ২৭০-২৭১)।
ইবন ইসহাক বলেন, মৃতা যুদ্ধের শহীদগণের উদ্দেশ্যে হাসসান ইব্ن ছাবিত (রা) নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করিয়াছেন:
تَاوَبُنِي لَيْلٌ بِيَشْرِبَ أَعْسَرُ - وَهَمَّ إِذَا مَا نَوْمَ النَّاسُ مُسْهِرُ لذكرى حَبيبٍ هَيَّجَتَ ثُمَّ عَبْرَةٌ - سَفُوحًا وَأَسْبَابُ الْبُكَاءِ الْمُتَذَكَّرُ بَلاء وَفَقْدَانُ الحَبيبِ بَلِيّة - وَكَمْ مِنْ كَرِيمٍ يُبْتَلِى ثُمَّ يَصْبِرَ رَأَيْتُ خِيَارَ الْمُؤْمِنِينَ تَوَارَدُوا - شُعَوْبَ وَقَدْ خُلَقْتُ فِي مَنْ يَؤْخِّرُ فَلا يُبْعِدَنَّ اللَّهُ قَتْلَى تَتَابَعُوا - بِمُؤْتَةَ مِنْهُمْ ذُو الْجَنَاحَيْنِ جَعْفَرُ وَزَيْدٌ وَعَبْدُ الله حينَ تَتَابَعُوا - جَمِيعًا وَأَسْبَابُ الْمَنِيَّةِ تَخْطُرُ غدَاةَ غَدَوْا بِالْمُؤْمِنِينَ يَقُودُهُمْ - إِلَى الْمَوْتِ مَيْمُونُ النَّقِيبَةِ أَزْهَرُ أَغَرُّ كَلَوْنِ الْبَدْرِ مِنْ آلِ هَاشِمِ - أَبِيُّ إِذَا سِيْمَ الظُّلامَةَ مِجْسَرُ. فَطَاعَنَ حَتَّى مَاتَ غَيْرَ مُؤَسِّدٍ - بِمُعْتَرَكَ فِيهِ الْقَنَا يُتَكَسَّرُ فَصَارَ مَعَ الْمُسْتَشْهِدِينَ ثَوَابُهُ - جِنَانٌ وَمُلْتَفُ الْحَدَائِقِ أَخْضَرُ وكُنَّا نَرى فِى جَعْفَرِ مِنْ مُحَمَّدٍ - وَفَاءً وَأَمْرًا حَازِمًا حِيْنَ يَأْمُرُ فَمَا زَالَ فِي الإِسْلَامِ مِنْ آلِ هَاشِرٍ - دَعَائِمُ عِزَّ لَا تُرَامٌ مَفْخَرُ هُمُوا جَبَلُ الإِسْلَامِ وَالنَّاسُ حَولَهُ - رِضَامٌ إِلَى طَوْدٍ يَرُوفُ يَقْهَرُ تَهَالِيْلٌ مِّنْهُمْ جَعْفَرٌ وَابْنُ أُمِّه - عَلَى وَمِنْهُمْ أَحْمَدُ الْمُتَخَيَّرُ وَحَمْزَةُ وَالْعَبَّاسُ مِنْهُمْ وَمِنْهُمُوا - عَقِيلُ وَمَاءُ الْعُودِ مِنْ حَيْثُ يُعْصَرُ بِهِمْ تُكْشَفُ اللأواءِ فِي كُلِّ مَازِقٍ - عَمَاسِ إِذَا مَا ضَاقَ بِالْقَوْمِ مَصْدَرُ هُمْ أَوْلِيَاءُ اللهِ أَنْزَلَ حُكْمَهُ - عَلَيْهِمْ وَفِيهِمْ الْكِتَابِ المُطَهَّرُ.
"ইয়াছরিবে (মদীনায়) আমার উপর ফিরিয়া আসিল অত্যন্ত কঠিন এক রাত্রি ও দুশ্চিন্তা। মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন আমি জাগ্রত"।
"আমার এক বন্ধুর স্মরণে, কান্নার অশ্রু প্রবল বেগে প্রবাহিত হইতেছিল। কান্নার কারণসমূহ ছিল স্মরণ, বন্ধুর স্মরণ"।
“হাঁ, নিশ্চয় বন্ধুর বিরহ এক মহাবিপদ; কিন্তু অনেক সম্ভ্রান্ত লোক রহিয়াছেন যাহাদিগকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হইলে তাহারা ধৈর্য ধারণ করেন"।
"আমি কত অতি উত্তম, মুমিনদের একের পর এক মৃত্যুর ঘাটে অবতরণ করিতে দেখিলাম। তবে পশ্চাতে পড়িয়া থাকা লোকদের সহিত আমিও পশ্চাতে পড়িয়া রহিলাম"।
"আল্লাহ তা'আলা যেন তাঁহার খাস রহমত হইতে দূরে না রাখেন সেই সকল শহীদকে যাঁহারা মু'তা প্রান্তরে একের পর এক শহীদ হইলেন। তাঁহাদের একজন হইলেন দুইডানা বিশিষ্ট জা'ফার"।
"অন্যরা হইলেন যায়দ ও 'আবদুল্লাহ্, যাঁহারা সকলে পরপর শহীদ হইয়াছিলেন। আর মৃত্যুর সকল কারণ সেখানে সক্রিয় ছিল"।
"ইহা সেই দিনের কথা যখন এই শহীদগণ মুমিনগণকে লইয়া মৃত্যুর প্রতি এক অত্যুজ্জ্বল ভাগ্যবান নেতার নেতৃত্বে অগ্রসর হইতেছিলেন"।
"তিনি ছিলেন হাশিম বংশীয়, পূর্ণিমার চাঁদ, সমুজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। অপকর্ম ও অনাচারের প্রতি অতি ঘৃণা পোষণকারী অত্যন্ত সাহসী পুরুষ"।
"লড়িতে লড়িতে তিনি লুটাইয়া পড়েন এমন রণাঙ্গনে যেখানে বল্লম চূর্ণবিচূর্ণ হইতেছিল”
"ফলে তিনি অন্তর্ভুক্ত হইয়া গেলেন শহীদগণের, ইহার প্রতিদান জান্নাতসমূহ, সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা বাগানাদি"।
"জা'ফার যখন কোন আদেশ করিতেন তখন আমরা তাঁহার মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি আনুগত্য, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিচক্ষণতা প্রত্যক্ষ করিতাম”
"ইসলামে হাশিমীরা চিরকাল রহিয়াছেন মর্যাদার স্তম্ভ ও গৌরবের পাত্র, যাহা ওজনের আশা করা যায় না"।
"তাঁহারা হইলেন ইসলামের পর্বতস্বরূপ আর অন্যান্য মুসলিমরা হইলেন পাহাড়ের আশে পাশের পাথরস্বরূপ, যাহা সর্বাবস্থায় সমুন্নত থাকে"।
"ইঁহারা হইলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন জা'ফার ও তাঁহার সহোদর আলী, সর্বোপরি তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন (আল্লাহ্) মনোনীত পুরুষ আহমাদ (স)"।
"তাঁহাদের মধ্যে আরও রহিয়াছেন হামযা, 'আব্বাস ও আকীল (রা)-এর মত ব্যক্তিত্ব। এমন সরস ও সুরভিত কাঠ যেখান হইতে আতর (হেদায়েত) পাওয়া যায়”
"তাঁহাদের দ্বারা সকল সংকটময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রণাঙ্গনের সংকট নিরসন করা যায়, যখন সেখান হইতে লোকজনের উত্তরণ দুঃসাধ্য হয়"।
"তাঁহারা আল্লাহ্ প্রিয় বান্দা, যাঁহাদের প্রতি আল্লাহ তাঁহার হুকুম অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাঁহাদের মধ্যেই রহিয়াছেন পবিত্র গ্রন্থের বাহক (মুহাম্মাদ)" (হাসসান ইব্ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৭)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬১-৬২; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৬৯-২৭০; ঐ, উর্দু অনুবাদ, ৪৫২-৪৫৪)।