📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদা

📄 যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদা


তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাস। যায়দ-এর গোলাম হইবার বিবরণ নিম্নরূপ: তাঁহার মাতা তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া পিত্রালয়ে যাইবার সময় দস্যুরা তাহাদের উপর আক্রমণ
করিয়া যায়দ (রা)-কে অপহরণ করিয়া লইয়া যায়। ইহার পর তাহাকে বিক্রয় করিলে হাকীম ইবন হিযাম স্বীয় ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদের জন্য ক্রয় করেন [কেহ কেহ বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে খাদীজা (রা)-এর জন্য ক্রয় করিয়াছিলেন]। খাদীজা (রা)-এর নুবুওয়াত লাভের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতের জন্য যায়দকে উপহার দেন। যায়দের পিতা তাহার সন্ধান পাইয়া তাহাকে নেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দকে পিতার সঙ্গে যাওয়ার অথবা না যাওয়ার অবকাশ দিলেন। যায়দ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকাকেই প্রাধান্য দিলেন। রাসুলুল্লাহ (স) তাহাকে মুক্ত করিয়া দিয়া নিজের পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করিলেন। এই জন্য তাহাকে যায়দ ইবন মুহাম্মাদ বলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আন্তরিকভাবে ভালবাসিতেন। তিনি ছিলেন গোলামদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তাঁহার সম্পর্কে আল-কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাহা হইলঃ
وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ : "আর তোমাদের পোষ্যপুত্রদিগকে তিনি তোমাদের পুত্র করেন নাই” (৩৩:৪)।
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ. "তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত” (৩৩:৫)।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ. "মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়” (৩৩:৪০)।
وَاِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَاَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكَ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِى فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسِ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا . "স্মরণ কর, আল্লাহ যাহাকে অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং তুমিও যাহার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, তুমি তাহাকে বলিতেছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীর সহিত সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে যাহা গোপন করিতেছ আল্লাহ তাহা প্রকাশ করিয়া দিতেছেন। তুমি লোকভয় করিতেছিলে, অথচ আল্লাহকে ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সংগত। অতঃপর যায়দ যখন যয়নবের সহিত বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাহাকে তোমার সহিত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করিলাম” (৩৩: ৩৭)।
তাফসীরবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন যে, উপরিউক্ত আয়াতগুলি যায়দ (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছিল। মহান আল্লাহ যায়দ (রা) ব্যতীত আর কোন সাহাবীর কথা আল-কুরআনে উল্লেখ করেন নাই। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আযাদ করিয়া তদীয় বাঁদী উম্মু আয়মান (রা)-কে তাহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। উম্মু আয়মানের নাম ছিল বারাকা। তাহার গর্ভে যায়দ
(রা)-এর পুত্র উসামা (রা)-এর জন্ম হইয়াছিল। উসামা (রা)-কে বলা হইত الحب بن الحب 'প্রিয়ের পুত্র প্রিয়'। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) তদীয় ফুফাত বোন যয়নব বিন্ত জাহ্ (রা)-কে তাঁহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় চাচা হামযা ইব্‌ন 'আবদুল মুত্তালিবের সহিত তাঁহার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়িয়া দিয়াছিলেন এবং মৃতা অভিযানে স্বীয় চাচাত ভাই জা'ফার ইবন আবী তালিবের উপর নেতৃত্ব দানে যায়দ (রা)-কে অগ্রাধিকার দিয়াছিলেন। ইমাম আহমাদ ও হাফিজ আবূ বাক্ ইব্‌ন আবী শায়বা বর্ণনা করেন:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ سَمِعْتُ الْبُهَى يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُولُ مَا بَعْتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فِي سَرِيَّةِ إِلَّا أَمْرَهُ عَلَيْهِمْ وَلَوْ بَقِي بَعْدُ لاسْتَخْلَفَهُ.
"বুহায়্য হইতে বর্ণিত। 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যেই সারিয়াতেই যায়দ ইব্‌ন হারিছাকে প্রেরণ করিতেন সেখানে তাহাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিতেন। যদি তিনি পরবর্তী কালেও জীবিত থাকিতেন তাহা হইলে অবশ্যই তাহাকে খলীফা নিযুক্ত করিতেন"।
এই রিওয়ায়াতটি ইমাম নাসাঈ, আহমাদ ইবন সালমান সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবন 'উবায়দ আত-তানাফিসীর বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন। এই রিওয়ায়াত সহীহ হইবার শর্তে উত্তম ও শক্তিশালী, তবে ইহা অত্যন্ত অপরিচিত )ا (غریب
সেনাপতি জা'ফার ইবন আবী তালিব (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদাঃ তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচাত ভাই। তিনি তাঁহার ভাই 'আলী (রা) হইতে বয়সে দশ বৎসর বড় ছিলেন। তাঁহার অপর ভাই 'আকীল বয়সে তাহার হইতে দশ বৎসর বড় ছিলেন। আর তাঁহার আরও এক ভাই তালিব 'আকীল হইতে দশ বৎসর বড় ছিলেন।
জা'ফার (রা) ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি হাবশায় হিজরত করিয়াছিলেন এবং সেখানে তিনি প্রচুর প্রশংসা কুড়াইয়াছিলেন। তথায় তাঁহার অবস্থানও ছিল খুবই সুদৃঢ়। হাবশা হইতে তিনি খায়বার যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়াছিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন:
مَا أَدْرِي أَنَا بَأَيِّهِمَا أَسَرَّ أَبْقُدُومٍ جَعْفَرٍ أَمْ بِفَتْحِ خَيْبَرَ.
"কি কারণে আমি এত আনন্দিত, জা'ফারের আগমনে, না খায়বার বিজয়ে"!
'উমরাতুল কাদার উদ্দেশ্যে সাহাবায়ে কিরাম (রা) রওয়ানা করিলে রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার (রা)-র উদ্দেশ্যে বলিয়াছিলেন:
أَشْبَهْتَ خَلْقِي وَخُلُقِى

তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাস। যায়দ-এর গোলাম হইবার বিবরণ নিম্নরূপ: তাঁহার মাতা তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া পিত্রালয়ে যাইবার সময় দস্যুরা তাহাদের উপর আক্রমণ করিয়া যায়দ (রা)-কে অপহরণ করিয়া লইয়া যায়। ইহার পর তাহাকে বিক্রয় করিলে হাকীম ইবন হিযাম স্বীয় ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদের জন্য ক্রয় করেন [কেহ কেহ বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে খাদীজা (রা)-এর জন্য ক্রয় করিয়াছিলেন]। খাদীজা (রা)-এর নুবুওয়াত লাভের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতের জন্য যায়দকে উপহার দেন। যায়দের পিতা তাহার সন্ধান পাইয়া তাহাকে নেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দকে পিতার সঙ্গে যাওয়ার অথবা না যাওয়ার অবকাশ দিলেন। যায়দ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকাকেই প্রাধান্য দিলেন। রাসুলুল্লাহ (স) তাহাকে মুক্ত করিয়া দিয়া নিজের পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করিলেন। এই জন্য তাহাকে যায়দ ইবন মুহাম্মাদ বলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আন্তরিকভাবে ভালবাসিতেন। তিনি ছিলেন গোলামদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তাঁহার সম্পর্কে আল-কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাহা হইলঃ
وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ : "আর তোমাদের পোষ্যপুত্রদিগকে তিনি তোমাদের পুত্র করেন নাই” (৩৩:৪)।
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ. "তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত” (৩৩:৫)।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ. "মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়” (৩৩:৪০)।
وَاِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَاَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكَ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِى فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسِ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا . "স্মরণ কর, আল্লাহ যাহাকে অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং তুমিও যাহার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, তুমি তাহাকে বলিতেছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীর সহিত সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে যাহা গোপন করিতেছ আল্লাহ তাহা প্রকাশ করিয়া দিতেছেন। তুমি লোকভয় করিতেছিলে, অথচ আল্লাহকে ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সংগত। অতঃপর যায়দ যখন যয়নবের সহিত বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাহাকে তোমার সহিত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করিলাম” (৩৩: ৩৭)।
তাফসীরবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন যে, উপরিউক্ত আয়াতগুলি যায়দ (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছিল। মহান আল্লাহ যায়দ (রা) ব্যতীত আর কোন সাহাবীর কথা আল-কুরআনে উল্লেখ করেন নাই। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আযাদ করিয়া তদীয় বাঁদী উম্মু আয়মান (রা)-কে তাহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। উম্মু আয়মানের নাম ছিল বারাকা। তাহার গর্ভে যায়দ (রা)-এর পুত্র উসামা (রা)-এর জন্ম হইয়াছিল। উসামা (রা)-কে বলা হইত الحب بن الحب 'প্রিয়ের পুত্র প্রিয়'। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) তদীয় ফুফাত বোন যয়নব বিন্ত জাহ্ (রা)-কে তাঁহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় চাচা হামযা ইব্‌ন 'আবদুল মুত্তালিবের সহিত তাঁহার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়িয়া দিয়াছিলেন এবং মৃতা অভিযানে স্বীয় চাচাত ভাই জা'ফার ইবন আবী তালিবের উপর নেতৃত্ব দানে যায়দ (রা)-কে অগ্রাধিকার দিয়াছিলেন। ইমাম আহমাদ ও হাফিজ আবূ বাক্ ইব্‌ন আবী শায়বা বর্ণনা করেন:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ سَمِعْتُ الْبُهَى يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُولُ مَا بَعْتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فِي سَرِيَّةِ إِلَّا أَمْرَهُ عَلَيْهِمْ وَلَوْ بَقِي بَعْدُ لاسْتَخْلَفَهُ.
"বুহায়্য হইতে বর্ণিত। 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যেই সারিয়াতেই যায়দ ইব্‌ন হারিছাকে প্রেরণ করিতেন সেখানে তাহাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিতেন। যদি তিনি পরবর্তী কালেও জীবিত থাকিতেন তাহা হইলে অবশ্যই তাহাকে খলীফা নিযুক্ত করিতেন"।
এই রিওয়ায়াতটি ইমাম নাসাঈ, আহমাদ ইবন সালমান সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবন 'উবায়দ আত-তানাফিসীর বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন। এই রিওয়ায়াত সহীহ হইবার শর্তে উত্তম ও শক্তিশালী, তবে ইহা অত্যন্ত অপরিচিত )ا (غریب।

তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাস। যায়দ-এর গোলাম হইবার বিবরণ নিম্নরূপ: তাঁহার মাতা তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া পিত্রালয়ে যাইবার সময় দস্যুরা তাহাদের উপর আক্রমণ করিয়া যায়দ (রা)-কে অপহরণ করিয়া লইয়া যায়। ইহার পর তাহাকে বিক্রয় করিলে হাকীম ইবন হিযাম স্বীয় ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদের জন্য ক্রয় করেন [কেহ কেহ বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে খাদীজা (রা)-এর জন্য ক্রয় করিয়াছিলেন]। খাদীজা (রা)-এর নুবুওয়াত লাভের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতের জন্য যায়দকে উপহার দেন। যায়দের পিতা তাহার সন্ধান পাইয়া তাহাকে নেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দকে পিতার সঙ্গে যাওয়ার অথবা না যাওয়ার অবকাশ দিলেন। যায়দ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকাকেই প্রাধান্য দিলেন। রাসুলুল্লাহ (স) তাহাকে মুক্ত করিয়া দিয়া নিজের পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করিলেন। এই জন্য তাহাকে যায়দ ইবন মুহাম্মাদ বলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আন্তরিকভাবে ভালবাসিতেন। তিনি ছিলেন গোলামদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তাঁহার সম্পর্কে আল-কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাহা হইলঃ
وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ : "আর তোমাদের পোষ্যপুত্রদিগকে তিনি তোমাদের পুত্র করেন নাই” (৩৩:৪)।
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ. "তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত” (৩৩:৫)।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ. "মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়” (৩৩:৪০)।
وَاِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَاَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكَ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِى فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسِ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا . "স্মরণ কর, আল্লাহ যাহাকে অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং তুমিও যাহার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, তুমি তাহাকে বলিতেছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীর সহিত সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে যাহা গোপন করিতেছ আল্লাহ তাহা প্রকাশ করিয়া দিতেছেন। তুমি লোকভয় করিতেছিলে, অথচ আল্লাহকে ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সংগত। অতঃপর যায়দ যখন যয়নবের সহিত বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাহাকে তোমার সহিত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করিলাম” (৩৩: ৩৭)।
তাফসীরবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন যে, উপরিউক্ত আয়াতগুলি যায়দ (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছিল। মহান আল্লাহ যায়দ (রা) ব্যতীত আর কোন সাহাবীর কথা আল-কুরআনে উল্লেখ করেন নাই। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আযাদ করিয়া তদীয় বাঁদী উম্মু আয়মান (রা)-কে তাহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। উম্মু আয়মানের নাম ছিল বারাকা। তাহার গর্ভে যায়দ (রা)-এর পুত্র উসামা (রা)-এর জন্ম হইয়াছিল। উসামা (রা)-কে বলা হইত الحب بن الحب 'প্রিয়ের পুত্র প্রিয়'। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) তদীয় ফুফাত বোন যয়নব বিন্ত জাহ্ (রা)-কে তাঁহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় চাচা হামযা ইব্‌ن 'আবদুল মুত্তালিবের সহিত তাঁহার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়িয়া দিয়াছিলেন এবং মৃতা অভিযানে স্বীয় চাচাত ভাই জা'ফার ইবন আবী তালিবের উপর নেতৃত্ব দানে যায়দ (রা)-কে অগ্রাধিকার দিয়াছিলেন। ইমাম আহমাদ ও হাফিজ আবূ বাক্ ইব্‌ن আবী শায়বা বর্ণনা করেন:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ سَمِعْتُ الْبُهَى يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُولُ مَا بَعْتَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فِي سَرِيَّةِ إِلَّا أَمْرَهُ عَلَيْهِمْ وَلَوْ بَقِي بَعْدُ لاسْتَخْلَفَهُ.
"বুহায়্য হইতে বর্ণিত। 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যেই সারিয়াতেই যায়দ ইব্‌ن হারিছাকে প্রেরণ করিতেন সেখানে তাহাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিতেন। যদি তিনি পরবর্তী কালেও জীবিত থাকিতেন তাহা হইলে অবশ্যই তাহাকে খলীফা নিযুক্ত করিতেন"।
এই রিওয়ায়াতটি ইমাম নাসাঈ, আহমাদ ইবন সালমান সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবন 'উবায়দ আত-তানাফিসীর বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন। এই রিওয়ায়াত সহীহ হইবার শর্তে উত্তম ও শক্তিশালী, তবে ইহা অত্যন্ত অপরিচিত )ا (غریب

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সেনাপতি 'আবদুল্লাহ ইন্ন রাওয়াহা (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদা

📄 সেনাপতি 'আবদুল্লাহ ইন্ন রাওয়াহা (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদা


‘আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা)-র ডাকনাম ছিল আবু মুহাম্মাদ, আবু রাওয়াহাও বলা হইত। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমান হইয়াছিলেন। আল-আকাবাতে তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। বানুল হারিছ ইবনুল খায়রাজ যেই রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই রাত্রির নেতাগণের একজন ছিলেন তিনি। উমরাতুল কাযাতেও তিনি শরীফ ছিলেন। তিনি ঐ দিন রাসূলুল্লাহ (স)-এর-উষ্ট্রীর লাগাম আঁকড়াইয়া ধরিয়া প্রবেশ করিয়াছিলেন। এই সময় তাঁহার মুখের বাণী ছিল :
خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ
মৃতা দিবসে শাহাদাত বরণকারী নেতাগণের তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোমানদের সহিত লড়িতে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অভয় দিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদাত লাভ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) সাক্ষী দিয়াছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানাতী। রাসূলুল্লাহ (স) যখন তাঁহাদিগকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইতেছিলেন তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন :
فَثَبَّتَ اللهُ مَا آتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوْ
তাঁহার কবিতা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন: وَأَنْتَ فَثَبَّتَكَ اللهُ “আল্লাহ তোমake অটল রাখুন”। হিশাম ইবন উরওয়া বলেন, وَدَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى قُتِلَ شَهِيدًا (আল্লাহ তাঁহাকে অবিচল রাখিবার ফলে তিনি শহীদ হইয়াছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়াছেন)। তাঁহার সম্পর্কে নিম্নোক্ত সনদে বর্ণিত আছে :
رَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ أَتَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ فَسَمِعَهُ يَقُوْلُ اِجْلِسُوْا فَجَلَسَ مَكَانَهُ خَارِجًا مِنْ
الْمَسْجِدِ حَتَّى فَرَغَ النَّاسُ مِنْ خُطْبَتِهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا عَلَى طواعية اللهِ وَطَوَاعِيَةِ رَسُولُه -
"আবদুর রাহমান ইব্‌ন আবী লায়লা হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন রাওয়াহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। নবী করীম (স) তখন ভাষণ দিতেছিলেন। তিনি নবী করীম (স)-কে বলিতে শুনিলেন, "বসুন”। ফলে 'আবদুল্লাহ্ মসজিদের বাহিরে নিজ স্থানে বসিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ যখন শেষ হইল তখন তাঁহার নিকট 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পৌছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেনঃ 'আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের অনুসরণ করিবার তোমার লোভ আল্লাহ বৃদ্ধি করিয়া দিন"।
ইমাম আহমাদ হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ زِيَادِ النَّحْوِي عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ إِذَ لَقِيَ الرَّجُلَ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ تَعَالَ نُؤْمِنُ بِرَبَّنَا سَاعَةً فَقَالَ ذَاتَ يَوْمِ لِرَجُلٍ فَغَضِبَ الرَّجُلَ فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تُرَى ابْنَ رَوَاحَةَ يَرْغَبُ عَنْ إِيْمَانِكَ إِلَى إِيْمَانِ سَاعَةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ رَحِمَ اللهُ ابْنَ رَوَاحَةَ إِنَّهُ يُحِبُّ الْمَجَالِسَ الَّتِي تَبَاهَى بهَا الْمَلائِكَةُ.
"আনাস (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা তাহার সাথীগণের কোন লোকের সহিত যখন মিলিত হইতেন তখন বলিতেন, আস! আমরা আমাদের রব্ব-এর উপর কিয়ামত সম্পর্কে ঈমান আনি। এইরূপ তিনি একদা এক লোককে বলিলেনঃ লোকটি তাহা শুনিয়া রাগান্বিত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি অবগত আছেন, রাওয়াহার পুত্র আপনার ঈমান আনয়ন করা হইতে বিমুখ হইয়া কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনিতেছে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্ রাওয়াহা পুত্রের উপর করুণা করুন। সে এই সকল মাজলিসকে ভালবাসে যেইগুলি লইয়া ফেরেস্তাগণ গৌরববোধ করেন।"
এই হাদীছটি অত্যন্ত অখ্যাত )غریب(। বায়হাকী অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبَيْهَقِيُّ حَدَّثَنَا الْحَاكِمُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ قَالَ لِصَاحِبِ لَهُ تَعَالَ حَتَّى نُؤْمِنُ سَاعَةً قَالَ أَوَلَسْنَا بِمُؤْمِنِينَ قَالَ بَلَى وَلَكِنَّا تَذْكُرُ اللَّهَ فَتَزْدَادُ ايْمَانًا .
"আতা ইব্‌ন ইয়াসার (র) হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা তাহার এক সাথীকে বলিলেন, আস! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি। লোকটি বুলিল আমরা কি বিশ্বাসী নই? তিনি বলিলেন, হাঁ, তবে আমরা আল্লাহ্র যিকির করিয়া ঈমান বৃদ্ধি করিব"।
হাফিজ আবুল কাসিম আল-লাকাই বা আল-আলকাই তদীয় সূত্রে শুরায়হ ইবন 'উবায়দ হইতে অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উভয় সূত্রেই হাদীছটি মুরসাল। ইমাম বুখারী তাঁহার সহীহ গ্রন্থে বলিয়াছেন:
وَقَالَ ابْنَ مُعَاذِ اجْلِسَ بِنَا نُؤْمِنُ سَاعَةً. "ইবন মু'আয বলিলেন, আমাদিগের সহিত বসুন! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি"।
সাহীহ বুখারীতে আবুদ দারদা (রা) হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فِي حَرِّ شَدِيدٍ وَمَا فِيْنَا صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. "আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত তীব্র গ্রীষ্মে এক সফরে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) ও 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের মধ্যে অন্য কেহ রোযাদার ছিল না"। রাসূলুল্লাহ (স)-এর শানে তাহার নিম্নোক্ত কবিতা ইমাম বুখারী উল্লেখ করিয়াছেন:
وَفِينَا رَسُولُ اللهِ نَتْلُوا كِتَابَهُ - إِذَا انْشَقَّ مَعْرُوفٌ مِنَ الْفَجْرِ سَاطِعُ يَبِيْتُ يُجَافِي جَنَّبَهُ عَنْ فِرَاشِهِ - إِذَا اسْتُثْقِلَتْ بِالْمُشْرِكِينَ الْمَضَاجِعِ آتَى بِالْهُدى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ.
"আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হইয়াছেন আল্লাহ্র রাসূল, আমরা তাঁহার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব তিলাওয়াত করি। ভোর হইতে অধিক আলোকিত হইয়া যখন তাহার সৎ গুণাবলী ছড়াইয়া পড়িল"।
"বিছানা হইতে তিনি তাঁহার শরীর পৃথক রাখিয়া নিশি যাপন করিতেন, মুশরিকগণের নিদ্রাবিভোরে যখন বিছানাসমূহ ভারী হইয়া যাইত”।
"গোমরাহীর পর যখন তিনি হিদায়াত লইয়া আসিলেন, আমাদের অন্তরসমূহ তখন তাহা বিশ্বাস করিল যে, তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহা অবশ্য প্রতিফলিত হইবে"।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا عِمْرَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنِ عَنْ عَامِرٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَعْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةً فَجَعَلَتْ أَخْتُهُ عَمْرَةٌ تَبْكِي وَاجبَلاهُ وكذا وكذا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِيْنَ افَاقَ مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلَّا قِبْلَ لِي أَنْتَ كَذَلِكَ.
"আন-নু'মান ইব্‌ন বাশীর (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা বেহুঁশ হইয়া পড়িলে তাহার বোন 'আমরা ইহা বলিয়া কাঁদিতে লাগিলেনঃ হে পাহাড়সম, হে এইরূপ, এইরূপ, ইহা বারবার বলিতেছিলেন। তাহার জ্ঞান ফিরিয়া আসিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, তুমি আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলিতেছিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলা হইতেছিল, তুমি কি এইরূপ এইরূপ ছিলে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৭-২৫৮)?"

'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা)-র ডাকনাম ছিল আবু মুহাম্মাদ, আবু রাওয়াহাও বলা হইত। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমান হইয়াছিলেন। আল-আকাবাতে তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। বানুল হারিছ ইবনুল খায়রাজ যেই রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই রাত্রির নেতাগণের একজন ছিলেন তিনি। উমরাতুল কাযাতেও তিনি শরীফ ছিলেন। তিনি ঐ দিন রাসূলুল্লাহ (স)-এর-উষ্ট্রীর লাগাম আঁকড়াইয়া ধরিয়া প্রবেশ করিয়াছিলেন। এই সময় তাঁহার মুখের বাণী ছিল :
خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ
মৃতা দিবসে শাহাদাত বরণকারী নেতাগণের তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোমানদের সহিত লড়িতে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অভয় দিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদাত লাভ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) সাক্ষী দিয়াছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানাতী। রাসূলুল্লাহ (স) যখন তাঁহাদিগকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইতেছিলেন তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন :
فَثَبَّتَ اللهُ مَا آتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوْ
তাঁহার কবিতা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন: وَأَنْتَ فَثَبَّتَكَ اللهُ “আল্লাহ তোমake অটল রাখুন”। হিশাম ইবন উরওয়া বলেন: وَدَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى قُتِلَ شَهِيدًا (আল্লাহ তাঁহাকে অবিচল রাখিবার ফলে তিনি শহীদ হইয়াছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়াছেন)। তাঁহার সম্পর্কে নিম্নোক্ত সনদে বর্ণিত আছে:
رَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ أَتَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ فَسَمِعَهُ يَقُوْلُ اِجْلِسُوْا فَجَلَسَ مَكَانَهُ خَارِجًا مِنْ الْمَسْجِدِ حَتَّى فَرَغَ النَّاسُ مِنْ خُطْبَتِهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا عَلَى طواعية اللهِ وَطَوَاعِيَةِ رَسُولُه -
"আবদুর রাহমান ইব্‌ন আবী লায়লা হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন রাওয়াহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। নবী করীম (স) তখন ভাষণ দিতেছিলেন। তিনি নবী করীম (স)-কে বলিতে শুনিলেন, "বসুন”। ফলে 'আবদুল্লাহ্ মসজিদের বাহিরে নিজ স্থানে বসিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ যখন শেষ হইল তখন তাঁহার নিকট 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পৌছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেনঃ 'আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের অনুসরণ করিবার তোমার লোভ আল্লাহ বৃদ্ধি করিয়া দিন"।
ইমাম আহমাদ হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ زِيَادِ النَّحْوِي عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ إِذَ لَقِيَ الرَّجُلَ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ تَعَالَ نُؤْمِنُ بِرَبَّنَا سَاعَةً فَقَالَ ذَاتَ يَوْمِ لِرَجُلٍ فَغَضِبَ الرَّجُلَ فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تُرَى ابْنَ رَوَاحَةَ يَرْغَبُ عَنْ إِيْمَانِكَ إِلَى إِيْمَانِ سَاعَةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ رَحِمَ اللهُ ابْنَ رَوَاحَةَ إِنَّهُ يُحِبُّ الْمَجَالِسَ الَّتِي تَبَاهَى بهَا الْمَلائِكَةُ.
"আনাস (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা তাহার সাথীগণের কোন লোকের সহিত যখন মিলিত হইতেন তখন বলিতেন, আস! আমরা আমাদের রব্ব-এর উপর কিয়ামত সম্পর্কে ঈমান আনি। এইরূপ তিনি একদা এক লোককে বলিলেনঃ লোকটি তাহা শুনিয়া রাগান্বিত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি অবগত আছেন, রাওয়াহার পুত্র আপনার ঈমান আনয়ন করা হইতে বিমুখ হইয়া কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনিতেছে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্ রাওয়াহা পুত্রের উপর করুণা করুন। সে এই সকল মাজলিসকে ভালবাসে যেইগুলি লইয়া ফেরেস্তাগণ গৌরববোধ করেন।"
এই হাদীছটি অত্যন্ত অখ্যাত )غریب(। বায়হাকী অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبَيْهَقِيُّ حَدَّثَنَا الْحَاكِمُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ قَالَ لِصَاحِبِ لَهُ تَعَالَ حَتَّى نُؤْمِنُ سَاعَةً قَالَ أَوَلَسْنَا بِمُؤْمِنِينَ قَالَ بَلَى وَلَكِنَّا تَذْكُرُ اللَّهَ فَتَزْدَادُ ايْمَانًا .
"আতা ইব্‌ন ইয়াসার (র) হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন রাওয়াহা তাহার এক সাথীকে বলিলেন, আস! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি। লোকটি বুলিল আমরা কি বিশ্বাসী নই? তিনি বলিলেন, হাঁ, তবে আমরা আল্লাহ্র যিকির করিয়া ঈমান বৃদ্ধি করিব"।
হাফিজ আবুল কাসিম আল-লাকাই বা আল-আলকাই তদীয় সূত্রে শুরায়হ ইবন 'উবায়দ হইতে অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উভয় সূত্রেই হাদীছটি মুরসাল। ইমাম বুখারী তাঁহার সহীহ গ্রন্থে বলিয়াছেন:
وَقَالَ ابْنَ مُعَاذِ اجْلِسَ بِنَا نُؤْمِنُ سَاعَةً. "ইবন মু'আয বলিলেন, আমাদিগের সহিত বসুন! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি"।
সাহীহ বুখারীতে আবুদ দারদা (রা) হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فِي حَرِّ شَدِيدٍ وَمَا فِيْنَا صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. "আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত তীব্র গ্রীষ্মে এক সফরে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) ও 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের মধ্যে অন্য কেহ রোযাদার ছিল না"। রাসূলুল্লাহ (স)-এর শানে তাহার নিম্নোক্ত কবিতা ইমাম বুখারী উল্লেখ করিয়াছেন:
وَفِينَا رَسُولُ اللهِ نَتْلُوا كِتَابَهُ - إِذَا انْشَقَّ مَعْرُوفٌ مِنَ الْفَجْرِ سَاطِعُ يَبِيْتُ يُجَافِي جَنَّبَهُ عَنْ فِرَاشِهِ - إِذَا اسْتُثْقِلَتْ بِالْمُشْرِكِينَ الْمَضَاجِعِ آتَى بِالْهُدى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ.
"আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হইয়াছেন আল্লাহ্র রাসূল, আমরা তাঁহার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব তিলাওয়াত করি। ভোর হইতে অধিক আলোকিত হইয়া যখন তাহার সৎ গুণাবলী ছড়াইয়া পড়িল"।
"বিছানা হইতে তিনি তাঁহার শরীর পৃথক রাখিয়া নিশি যাপন করিতেন, মুশরিকগণের নিদ্রাবিভোরে যখন বিছানাসমূহ ভারী হইয়া যাইত”
"গোমরাহীর পর যখন তিনি হিদায়াত লইয়া আসিলেন, আমাদের অন্তরসমূহ তখন তাহা বিশ্বাস করিল যে, তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহা অবশ্য প্রতিফলিত হইবে"।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا عِمْرَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنِ عَنْ عَامِرٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَعْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةً فَجَعَلَتْ أَخْتُهُ عَمْرَةٌ تَبْكِي وَاجبَلاهُ وكذا وكذا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِيْنَ افَاقَ مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلَّا قِبْلَ لِي أَنْتَ كَذَلِكَ.
"আন-নু'মান ইব্‌ন বাশীর (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা বেহুঁশ হইয়া পড়িলে তাহার বোন 'আমরা ইহা বলিয়া কাঁদিতে লাগিলেনঃ হে পাহাড়সম, হে এইরূপ, এইরূপ, ইহা বারবার বলিতেছিলেন। তাহার জ্ঞান ফিরিয়া আসিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, তুমি আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলিতেছিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলা হইতেছিল, তুমি কি এইরূপ এইরূপ ছিলে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৭-২৫৮)?"

'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা)-র ডাকনাম ছিল আবু মুহাম্মাদ, আবু রাওয়াহাও বলা হইত। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমান হইয়াছিলেন। আল-আকাবাতে তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। বানুল হারিছ ইবনুল খায়রাজ যেই রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই রাত্রির নেতাগণের একজন ছিলেন তিনি। উমরাতুল কাযাতেও তিনি শরীফ ছিলেন। তিনি ঐ দিন রাসূলুল্লাহ (স)-এর-উষ্ট্রীর লাগাম আঁকড়াইয়া ধরিয়া প্রবেশ করিয়াছিলেন। এই সময় তাঁহার মুখের বাণী ছিল :
خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ
মৃতা দিবসে শাহাদাত বরণকারী নেতাগণের তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোমানদের সহিত লড়িতে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অভয় দিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদাত লাভ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) সাক্ষী দিয়াছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানাতী। রাসূলুল্লাহ (স) যখন তাঁহাদিগকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইতেছিলেন তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন :
فَثَبَّتَ اللهُ مَا آتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيْتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوْ
তাঁহার কবিতা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন: وَأَنْتَ فَثَبَّتَكَ اللهُ “আল্লাহ তোমake অটল রাখুন”। হিশাম ইবন উরওয়া বলেন, وَدَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى قُتِلَ شَهِيدًا (আল্লাহ তাঁহাকে অবিচল রাখিবার ফলে তিনি শহীদ হইয়াছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়াছেন)। তাঁহার সম্পর্কে নিম্নোক্ত সনদে বর্ণিত আছে :
رَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ أَتَى رَسُولَ اللهِ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ فَسَمِعَهُ يَقُوْلُ اِجْلِسُوْا فَجَلَسَ مَكَانَهُ خَارِجًا مِنْ الْمَسْجِدِ حَتَّى فَرَغَ النَّاسُ مِنْ خُطْبَتِهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا عَلَى طواعية اللهِ وَطَوَاعِيَةِ رَسُولُه -
"আবদুর রাহমান ইব্‌ن আবী লায়লা হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ন রাওয়াহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। নবী করীম (স) তখন ভাষণ দিতেছিলেন। তিনি নবী করীম (স)-কে বলিতে শুনিলেন, "বসুন”। ফলে 'আবদুল্লাহ্ মসজিদের বাহিরে নিজ স্থানে বসিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ যখন শেষ হইল তখন তাঁহার নিকট 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পৌছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেনঃ 'আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের অনুসরণ করিবার তোমার লোভ আল্লাহ বৃদ্ধি করিয়া দিন"।
ইমাম আহমাদ হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ زِيَادِ النَّحْوِي عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ إِذَ لَقِيَ الرَّجُلَ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ تَعَالَ نُؤْمِنُ بِرَبَّنَا سَاعَةً فَقَالَ ذَاتَ يَوْمِ لِرَجُلٍ فَغَضِبَ الرَّجُلَ فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تُرَى ابْنَ رَوَاحَةَ يَرْغَبُ عَنْ إِيْمَانِكَ إِلَى إِيْمَانِ سَاعَةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ رَحِمَ اللهُ ابْنَ رَوَاحَةَ إِنَّهُ يُحِبُّ الْمَجَالِسَ الَّتِي تَبَاهَى بهَا الْمَلائِكَةُ.
"আনাস (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্‌ن রাওয়াহা তাহার সাথীগণের কোন লোকের সহিত যখন মিলিত হইতেন তখন বলিতেন, আস! আমরা আমাদের রব্ব-এর উপর কিয়ামত সম্পর্কে ঈমান আনি। এইরূপ তিনি একদা এক লোককে বলিলেনঃ লোকটি তাহা শুনিয়া রাগান্বিত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি অবগত আছেন, রাওয়াহার পুত্র আপনার ঈমান আনয়ন করা হইতে বিমুখ হইয়া কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনিতেছে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্ রাওয়াহা পুত্রের উপর করুণা করুন। সে এই সকল মাজলিসকে ভালবাসে যেইগুলি লইয়া ফেরেস্তাগণ গৌরববোধ করেন।"
এই হাদীছটি অত্যন্ত অখ্যাত )غریب(। বায়হাকী অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
قَالَ الْبَيْهَقِيُّ حَدَّثَنَا الْحَاكِمُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ قَالَ لِصَاحِبِ لَهُ تَعَالَ حَتَّى نُؤْمِنُ سَاعَةً قَالَ أَوَلَسْنَا بِمُؤْمِنِينَ قَالَ بَلَى وَلَكِنَّا تَذْكُرُ اللَّهَ فَتَزْدَادُ ايْمَانًا .
"আতা ইব্‌ن ইয়াসার (র) হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ্ ইব্‌ن রাওয়াহা তাহার এক সাথীকে বলিলেন, আস! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি। লোকটি বুলিল আমরা কি বিশ্বাসী নই? তিনি বলিলেন, হাঁ, তবে আমরা আল্লাহ্র যিকির করিয়া ঈমান বৃদ্ধি করিব"।
হাফিজ আবুল কাসিম আল-লাকাই বা আল-আলকাই তদীয় সূত্রে শুরায়হ ইবন 'উবায়দ হইতে অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উভয় সূত্রেই হাদীছটি মুরসাল। ইমাম বুখারী তাঁহার সহীহ গ্রন্থে বলিয়াছেন:
وَقَالَ ابْنَ مُعَاذِ اجْلِسَ بِنَا نُؤْمِنُ سَاعَةً. "ইবন মু'আয বলিলেন, আমাদিগের সহিত বসুন! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি"।
সাহীহ বুখারীতে আবুদ দারদা (রা) হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فِي حَرِّ شَدِيدٍ وَمَا فِيْنَا صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. "আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত তীব্র গ্রীষ্মে এক সফরে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) ও 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের মধ্যে অন্য কেহ রোযাদার ছিল না"। রাসূলুল্লাহ (স)-এর শানে তাহার নিম্নোক্ত কবিতা ইমাম বুখারী উল্লেখ করিয়াছেন:
وَفِينَا رَسُولُ اللهِ نَتْلُوا كِتَابَهُ - إِذَا انْشَقَّ مَعْرُوفٌ مِنَ الْفَجْرِ سَاطِعُ يَبِيْتُ يُجَافِي جَنَّبَهُ عَنْ فِرَاشِهِ - إِذَا اسْتُثْقِلَتْ بِالْمُشْرِكِينَ الْمَضَاجِعُ آتَى بِالْهُدى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ.
"আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হইয়াছেন আল্লাহ্র রাসূল, আমরা তাঁহার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব তিলাওয়াত করি। ভোর হইতে অধিক আলোকিত হইয়া যখন তাহার সৎ গুণাবলী ছড়াইয়া পড়িল"।
"বিছানা হইতে তিনি তাঁহার শরীর পৃথক রাখিয়া নিশি যাপন করিতেন, মুশরিকগণের নিদ্রাবিভোরে যখন বিছানাসমূহ ভারী হইয়া যাইত”
"গোমরাহীর পর যখন তিনি হিদায়াত লইয়া আসিলেন, আমাদের অন্তরসমূহ তখন তাহা বিশ্বাস করিল যে, তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহা অবশ্য প্রতিফলিত হইবে"।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا عِمْرَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنِ عَنْ عَامِرٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَعْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةً فَجَعَلَتْ أَخْتُهُ عَمْرَةٌ تَبْكِي وَاجبَلاهُ وكذا وكذا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِيْنَ افَاقَ مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلَّا قِبْلَ لِي أَنْتَ كَذَلِكَ.
"আন-নু'মান ইব্‌ن বাশীর (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা বেহুঁশ হইয়া পড়িলে তাহার বোন 'আমরা ইহা বলিয়া কাঁদিতে লাগিলেনঃ হে পাহাড়সম, হে এইরূপ, এইরূপ, ইহা বারবার বলিতেছিলেন। তাহার জ্ঞান ফিরিয়া আসিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, তুমি আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলিতেছিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলা হইতেছিল, তুমি কি এইরূপ এইরূপ ছিলে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৭-২৫৮)?"

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাসান ইন্ন ছাবিত (রা)-এর মারছিয়া

📄 হাসান ইন্ন ছাবিত (রা)-এর মারছিয়া


মৃতা যুদ্ধের দিন হাসসান ইব্‌ন ছাবিত (রা) যায়দ ইবন হারিছা ও 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-এর উদ্দেশে শোক প্রকাশার্থে বলেন:
عَيْنُ جُودِى بِدَمْعِكَ الْمَنْزُورِ - وَاذْكِرِى فِي الرَّخَاءِ أَهْلَ الْقُبُورِ واذكرى مُؤْتَةَ وَمَا كَانَ فِيهَا - يَوْمَ رَاحُوا فِي وَقْعَةِ التَّغْوِيرِ حين راخُوا وَغَادَرُوا ثُمَّ زَيْداً - نِعْمَ مَاوَى الضَّرِيكِ وَالْمَأْسُورِ حِبُّ خَيْرُ الأَنَامِ طَراً جَمِيعًا - سَيِّدُ النَّاسِ حُبُّهُ فِي الصُّدُورِ ذَاكُمْ أَحْمَدُ الَّذى لا سواه - ذاكَ حَزْنِي لَهُ مَعًا وَسُرُوري إِنَّ زَيْدًا قَدْ كَانَ مِنَّا بِأَمْرٍ - لَيْسَ أَمْرَ الْمُكَذِّبِ الْمَغْرُورِ ثُمَّ جُودِي لِلْخَزْرَجِي بِدَمْعَ - سَيِّداً كَانَ ثُمَّ غَيْرَ نَزُورٍ قَدْ آتَانَا مِنْ قَتْلِهِمْ مَا كَفَانَا - فَبِحُزْنِ نَبِيْتُ غَيْرَ سُرُورٍ.
"হে নয়ন! তোমার শুকাইয়া যাওয়া অশ্রু প্রবাহিত করিতে উদারতা প্রদর্শন কর। সুসময়ে কবরবাসীদের কথা স্মরণ কর"।
"মৃতা ও তাহাতে যাহা সংঘটিত হইয়াছিল তাহা স্মরণ কর, যেইদিন পারস্পরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়াছিল"।
"যখন তাহারা চলিয়া আসিয়াছিল য়ায়দকে সেখানে রাখিয়া, অথচ উত্তম ঠিকানা লাভ করিলেন এই অসহায় বন্দী লোকটি"।
"সৃষ্টিকুলের সরদার সর্বোত্তম ব্যক্তির তিনি প্রিয়ভাজন, যাঁহার ভালবাসা প্রতিটি অন্তরে বিরাজমান"।
"তিনি হইলেন তোমাদের নবী আহমাদ, যাঁহার কোন জুড়ি নাই, যাহার শোক-দুঃখে ও আনন্দ-উৎফুল্লে আমিও একাত্মতা বোধ করি"।
"নিশ্চয় যায়দ আমাদের পক্ষ হইতে আমীর ছিলেন, যাহার নেতৃত্বে ছিল না কোন মিথ্যা বা প্রতারনা"।
অতঃপর (হে নয়ন!) খাযরাজী লোকটির ('আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা) জন্য অধিক অশ্রু বিসর্জন কর, যিনি ছিলেন জননেতা, চেষ্টার কোন কার্পণ্য করেন নাই।
"তাহাদের শহীদ হইবার যেই খবর আমাদের নিকট আসিয়াছে তাহা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা বিষাদে রাত্রি যাপন করি, একটুও আনন্দ পাই না”।
ইব্‌ন ইসহাক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, কায়স ইবনুল মুহাসসার আল-ইয়া'মুরী খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন: فَوَالله لا تَنْفَكُ نَفْسِي تَلُومُنى - عَلَى مَوْقِفِي وَالْخَيْلُ قَابِعَةٌ قَبْلُ وَقَفْتُ بِهَا لاَ مُسْتَجِيْراً فَنَافِداً - وَلَا مَانِعًا مَنْ كَانَ حُمَّ لَهُ الْقَتْلُ على أَنَّنِي آسَيْتُ نَفْسِي بِخَالِدٍ - الا خَالِدٌ فِي الْقَوْمِ لَيْسَ لَهُ مِثْلُ وَجَاشَتْ إِلَى أَنَفْسُ مِنْ النَّحْوِ جَعْفَرٍ - بِمُؤْتَةَ إِذَ لَا يَنْفَعُ النَّابِلَ النَّيْلُ وَضَمَّ إِلَيْنَا حَجْزَتَيْهِمْ كِلَيْهِمَا - مُهَاجِرَةً لَا مُشْرِكُونَ وَلَا عُزْلٌ
"আল্লাহ্র শপথ! আমার আত্মা আমার অবস্থানের উপর আমাকে অনবরত তিরস্কার করিতেছিল, যেই সময় অশ্বসমূহ সম্মুখপানে হাঁপাইতেছিল।
"আমি সেখানে থামিয়াছিলাম, না আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে যাহাতে আমার কার্যসিদ্ধি হয় এবং না যোদ্ধাদিগকে বারণকারীরূপে।
"তবে আমি খালিদের নেতৃত্বের কারণে নিজেকে সান্তনা দিলাম। খালিদ এমন এক ব্যক্তিত্ব জাতির মধ্যে যাহার তুলনা নাই"।
"মুতায় জা'ফারের পরিণতিতে আমার হৃদয় আবেগপ্রবণ হইয়া উঠিল। যখন তীর নিক্ষেপকারীর তীর কোন কাজে আসিতেছিল না"।
"খালিদ আমাদের নিকট যুদ্ধস্থলের দুই প্রান্তে অবস্থানরত সৈন্যদিগকে একত্র করিয়া দিলেন, ইহারা ছিল সবাই হিজরতকারী, মুশরিক নহে, অস্ত্রহীনও নহে"।
ইব্‌ন কাছীর এই প্রসঙ্গে বলেন, এই কবিতা দ্বারা ইব্‌ন ইসহাক তাঁহার অভিমত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিয়াছেন। তাঁহার অভিমত হইল, মুসলিম বাহিনীর স্বল্পতার ভয়ে খালিদ (রা) তাহাদিগকে রোমানদের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। ইহাকেই বিজয় বলিয়া আখ্যায়িত করা হইয়াছে। তবে ইব্‌ন কাছীর সঙ্গে সঙ্গে তাহার দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে রাসূলাল্লাহ (স) যেখানে বিজয় বলিয়াছেন সেখানে সম্ভাবনার দাবি উত্থাপন শোভা পায় না (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৯২)।

মৃতা যুদ্ধের দিন হাসসান ইব্‌ন ছাবিত (রা) যায়দ ইবন হারিছা ও 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-এর উদ্দেশে শোক প্রকাশার্থে বলেন:
عَيْنُ جُودِى بِدَمْعِكَ الْمَنْزُورِ - وَاذْكِرِى فِي الرَّخَاءِ أَهْلَ الْقُبُورِ واذكرى مُؤْتَةَ وَمَا كَانَ فِيهَا - يَوْمَ رَاحُوا فِي وَقْعَةِ التَّغْوِيرِ حين راخُوا وَغَادَرُوا ثُمَّ زَيْداً - نِعْمَ مَاوَى الضَّرِيكِ وَالْمَأْسُورِ حِبُّ خَيْرُ الأَنَامِ طَراً جَمِيعًا - سَيِّدُ النَّاسِ حُبُّهُ فِي الصُّدُورِ ذَاكُمْ أَحْمَدُ الَّذى لا سواه - ذاكَ حَزْنِي لَهُ مَعًا وَسُرُوري إِنَّ زَيْدًا قَدْ كَانَ مِنَّا بِأَمْرٍ - لَيْسَ أَمْرَ الْمُكَذِّبِ الْمَغْرُورِ ثُمَّ جُودِي لِلْخَزْرَجِي بِدَمْعَ - سَيِّداً كَانَ ثُمَّ غَيْرَ نَزُورٍ قَدْ آتَانَا مِنْ قَتْلِهِمْ مَا كَفَانَا - فَبِحُزْنِ نَبِيْتُ غَيْرَ سُرُورٍ.
"হে নয়ন! তোমার শুকাইয়া যাওয়া অশ্রু প্রবাহিত করিতে উদারতা প্রদর্শন কর। সুসময়ে কবরবাসীদের কথা স্মরণ কর"।
"মৃতা ও তাহাতে যাহা সংঘটিত হইয়াছিল তাহা স্মরণ কর, যেইদিন পারস্পরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়াছিল"।
"যখন তাহারা চলিয়া আসিয়াছিল য়ায়দকে সেখানে রাখিয়া, অথচ উত্তম ঠিকানা লাভ করিলেন এই অসহায় বন্দী লোকটি"।
"সৃষ্টিকুলের সরদার সর্বোত্তম ব্যক্তির তিনি প্রিয়ভাজন, যাঁহার ভালবাসা প্রতিটি অন্তরে বিরাজমান"।
"তিনি হইলেন তোমাদের নবী আহমাদ, যাঁহার কোন জুড়ি নাই, যাহার শোক-দুঃখে ও আনন্দ-উৎফুল্লে আমিও একাত্মতা বোধ করি"।
"নিশ্চয় যায়দ আমাদের পক্ষ হইতে আমীর ছিলেন, যাহার নেতৃত্বে ছিল না কোন মিথ্যা বা প্রতারনা"।
অতঃপর (হে নয়ন!) খাযরাজী লোকটির ('আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা) জন্য অধিক অশ্রু বিসর্জন কর, যিনি ছিলেন জননেতা, চেষ্টার কোন কার্পণ্য করেন নাই।
"তাহাদের শহীদ হইবার যেই খবর আমাদের নিকট আসিয়াছে তাহা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা বিষাদে রাত্রি যাপন করি, একটুও আনন্দ পাই না”
ইব্‌ন ইসহাক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, কায়স ইবনুল মুহাসসার আল-ইয়া'মুরী খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন: فَوَالله لا تَنْفَكُ نَفْسِي تَلُومُنى - عَلَى مَوْقِفِي وَالْخَيْلُ قَابِعَةٌ قَبْلُ وَقَفْتُ بِهَا لاَ مُسْتَجِيْراً فَنَافِداً - وَلَا مَانِعًا مَنْ كَانَ حُمَّ لَهُ الْقَتْلُ على أَنَّنِي آسَيْتُ نَفْسِي بِخَالِدٍ - الا خَالِدٌ فِي الْقَوْمِ لَيْسَ لَهُ مِثْلُ وَجَاشَتْ إِلَى أَنَفْسُ مِنْ النَّحْوِ جَعْفَرٍ - بِمُؤْتَةَ إِذَ لَا يَنْفَعُ النَّابِلَ النَّيْلُ وَضَمَّ إِلَيْنَا حَجْزَتَيْهِمْ كِلَيْهِمَا - مُهَاجِرَةً لَا مُشْرِكُونَ وَلَا عُزْلٌ
"আল্লাহ্র শপথ! আমার আত্মা আমার অবস্থানের উপর আমাকে অনবরত তিরস্কার করিতেছিল, যেই সময় অশ্বসমূহ সম্মুখপানে হাঁপাইতেছিল।
"আমি সেখানে থামিয়াছিলাম, না আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে যাহাতে আমার কার্যসিদ্ধি হয় এবং না যোদ্ধাদিগকে বারণকারীরূপে।
"তবে আমি খালিদের নেতৃত্বের কারণে নিজেকে সান্তনা দিলাম। খালিদ এমন এক ব্যক্তিত্ব জাতির মধ্যে যাহার তুলনা নাই"।
"মুতায় জা'ফারের পরিণতিতে আমার হৃদয় আবেগপ্রবণ হইয়া উঠিল। যখন তীর নিক্ষেপকারীর তীর কোন কাজে আসিতেছিল না"।
"খালিদ আমাদের নিকট যুদ্ধস্থলের দুই প্রান্তে অবস্থানরত সৈন্যদিগকে একত্র করিয়া দিলেন, ইহারা ছিল সবাই হিজরতকারী, মুশরিক নহে, অস্ত্রহীনও নহে”
ইব্‌ন কাছীর এই প্রসঙ্গে বলেন, এই কবিতা দ্বারা ইব্‌ন ইসহাক তাঁহার অভিমত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিয়াছেন। তাঁহার অভিমত হইল, মুসলিম বাহিনীর স্বল্পতার ভয়ে খালিদ (রা) তাহাদিগকে রোমানদের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। ইহাকেই বিজয় বলিয়া আখ্যায়িত করা হইয়াছে। তবে ইব্‌ন কাছীর সঙ্গে সঙ্গে তাহার দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে রাসূলাল্লাহ (স) যেখানে বিজয় বলিয়াছেন সেখানে সম্ভাবনার দাবি উত্থাপন শোভা পায় না (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়‍্যা, ৩খ., ২৯২)।

মৃতা যুদ্ধের দিন হাসসান ইব্‌ন ছাবিত (রা) যায়দ ইবন হারিছা ও 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-এর উদ্দেশে শোক প্রকাশার্থে বলেন:
عَيْنُ جُودِى بِدَمْعِكَ الْمَنْزُورِ - وَاذْكُرِى فِي الرَّخَاءِ أَهْلَ الْقُبُورِ واذكرى مُؤْتَةَ وَمَا كَانَ فِيهَا - يَوْمَ رَاحُوا فِي وَقْعَةِ التَّغْوِيرِ حين راخُوا وَغَادَرُوا ثُمَّ زَيْداً - نِعْمَ مَاوَى الضَّرِيكِ وَالْمَأْسُورِ حِبُّ خَيْرُ الأَنَامِ طَراً جَمِيعًا - سَيِّدُ النَّاسِ حُبُّهُ فِي الصُّدُورِ ذَاكُمْ أَحْمَدُ الَّذى لا سواه - ذاكَ حَزْنِي لَهُ مَعًا وَسُرُوري إِنَّ زَيْدًا قَدْ كَانَ مِنَّا بِأَمْرٍ - لَيْسَ أَمْرَ الْمُكَذِّبِ الْمَغْرُورِ ثُمَّ جُودِي لِلْخَزْرَجِي بِدَمْعَ - سَيِّداً كَانَ ثُمَّ غَيْرَ نَزُورٍ قَدْ آتَانَا مِنْ قَتْلِهِمْ مَا كَفَانَا - فَبِحُزْنِ نَبِيْتُ غَيْرَ سُرُورٍ.
"হে নয়ন! তোমার শুকাইয়া যাওয়া অশ্রু প্রবাহিত করিতে উদারতা প্রদর্শন কর। সুসময়ে কবরবাসীদের কথা স্মরণ কর"।
"মৃতা ও তাহাতে যাহা সংঘটিত হইয়াছিল তাহা স্মরণ কর, যেইদিন পারস্পরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়াছিল"।
"যখন তাহারা চলিয়া আসিয়াছিল য়ায়দকে সেখানে রাখিয়া, অথচ উত্তম ঠিকানা লাভ করিলেন এই অসহায় বন্দী লোকটি"।
"সৃষ্টিকুলের সরদার সর্বোত্তম ব্যক্তির তিনি প্রিয়ভাজন, যাঁহার ভালবাসা প্রতিটি অন্তরে বিরাজমান"।
"তিনি হইলেন তোমাদের নবী আহমাদ, যাঁহার কোন জুড়ি নাই, যাহার শোক-দুঃখে ও আনন্দ-উৎফুল্লে আমিও একাত্মতা বোধ করি"।
"নিশ্চয় যায়দ আমাদের পক্ষ হইতে আমীর ছিলেন, যাহার নেতৃত্বে ছিল না কোন মিথ্যা বা প্রতারনা"।
অতঃপর (হে নয়ন!) খাযরাজী লোকটির ('আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা) জন্য অধিক অশ্রু বিসর্জন কর, যিনি ছিলেন জননেতা, চেষ্টার কোন কার্পণ্য করেন নাই।
"তাহাদের শহীদ হইবার যেই খবর আমাদের নিকট আসিয়াছে তাহা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা বিষাদে রাত্রি যাপন করি, একটুও আনন্দ পাই না”।
ইব্‌ন ইসহাক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, কায়স ইবনুল মুহাসসার আল-ইয়া'মুরী খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন: فَوَالله لا تَنْفَكُ نَفْسِي تَلُومُنى - عَلَى مَوْقِفِي وَالْخَيْلُ قَابِعَةٌ قَبْلُ وَقَفْتُ بِهَا لاَ مُسْتَجِيْراً فَنَافِداً - وَلَا مَانِعًا مَنْ كَانَ حُمَّ لَهُ الْقَتْلُ على أَنَّنِي آسَيْتُ نَفْسِي بِخَالِدٍ - الا خَالِدٌ فِي الْقَوْمِ لَيْسَ لَهُ مِثْلُ وَجَاشَتْ إِلَى أَنَفْسُ مِنْ النَّحْوِ جَعْفَرٍ - بِمُؤْتَةَ إِذَ لَا يَنْفَعُ النَّابِلَ النَّيْلُ وَضَمَّ إِلَيْنَا حَجْزَتَيْهِمْ كِلَيْهِمَا - مُهَاجِرَةً لَا مُشْرِكُونَ وَلَا عُزْلٌ
"আল্লাহ্র শপথ! আমার আত্মা আমার অবস্থানের উপর আমাকে অনবরত তিরস্কার করিতেছিল, যেই সময় অশ্বসমূহ সম্মুখপানে হাঁপাইতেছিল।
"আমি সেখানে থামিয়াছিলাম, না আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে যাহাতে আমার কার্যসিদ্ধি হয় এবং না যোদ্ধাদিগকে বারণকারীরূপে।
"তবে আমি খালিদের নেতৃত্বের কারণে নিজেকে সান্তনা দিলাম। খালিদ এমন এক ব্যক্তিত্ব জাতির মধ্যে যাহার তুলনা নাই"।
"মুতায় জা'ফারের পরিণতিতে আমার হৃদয় আবেগপ্রবণ হইয়া উঠিল। যখন তীর নিক্ষেপকারীর তীর কোন কাজে আসিতেছিল না"।
"খালিদ আমাদের নিকট যুদ্ধস্থলের দুই প্রান্তে অবস্থানরত সৈন্যদিগকে একত্র করিয়া দিলেন, ইহারা ছিল সবাই হিজরতকারী, মুশরিক নহে, অস্ত্রহীনও নহে”।
ইব্‌ন কাছীর এই প্রসঙ্গে বলেন, এই কবিতা দ্বারা ইব্‌ন ইসহাক তাঁহার অভিমত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিয়াছেন। তাঁহার অভিমত হইল, মুসলিম বাহিনীর স্বল্পতার ভয়ে খালিদ (রা) তাহাদিগকে রোমানদের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। ইহাকেই বিজয় বলিয়া আখ্যায়িত করা হইয়াছে। তবে ইব্‌ন কাছীর সঙ্গে সঙ্গে তাহার দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে রাসূলাল্লাহ (স) যেখানে বিজয় বলিয়াছেন সেখানে সম্ভাবনার দাবি উত্থাপন শোভা পায় না (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়‍্যা, ৩খ., ২৯২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মৃ'তা যুদ্ধের শহীদগণ

📄 মৃ'তা যুদ্ধের শহীদগণ


মুহাজিরগণের কুরায়শ গোত্রীয় বানু হাশিম শাখার (১) জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব; (২) যায়দ ইব্‌ন হারিছা আল-কালবী; 'আদী ইব্‌ন কা'ব গোত্রের (১) মাসউদ ইবনুল আসওয়াদ। বনূ মালিক ইব্‌ন হিসল গোত্রের (১) ওয়াহ্ ইব্‌ন সা'দ। আনসারগণের বানু হারিছ ইবনুল খাযরাজ গোত্রের (১) আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা, (২) 'আব্বাদ ইব্‌ন কায়স। বানু গান্ম ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের (১) আল-হারিছ ইব্‌নুন নু'মান। বনূ মাযিন ইব্‌নুন নাজ্জার গোত্রের সুরাকা ইব্‌ন 'আমর। ইবন ইসহাকের মতে মৃতা যুদ্ধে যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা উপরিউক্ত মোট আটজন : চারজন মুহাজির এবং চারজন আনসার।
ইব্‌ন হিশাম বলেন, ইব্‌ন শিহাব যুহরীর মতে মৃতায় যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহারা হইলেন: বানু মাযিন ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের (১) আবূ কুলায়ব ইব্‌ন আমর; (২) জাবির ইব্‌ন 'আমর। দুইজনই সহোদর ভাই। বানু মালিক গোত্রের (১) 'আমর ইবন সা'দ এবং (২) তাঁহার সহোদর ভাই 'আমের ইবন সা'দ। ইহারাও আনসার গোত্রের ছিলেন। সুতরাং পূর্বের আটজনসহ এই চারজন মিলাইয়া ইমাম যুহরীর মতে মৃতার মোট শহীদের সংখ্যা বারজন। ইহা অত্যন্ত বিস্ময়কর ঘটনা যে, তিন হাজার মুসলিম সৈন্য আর দুই লক্ষ শত্রু সৈন্যের মধ্যে লড়াই সংঘটিত হয়। এত বিরাট বাহিনী মাত্র বারজনকে শহীদ করিতে সক্ষম হয়। অপরদিকে মুশরিকদিগের অনেক লোক নিহত হয়। খালিদ (রা)-এর হাতে নয়টি তরবারি ভাঙ্গিয়া যায়। ইহাতে অনুমিত হয় যে, শুধু তাঁহার হাতেই অনেক কাফির নিহত হইয়াছিল, অন্যান্য বীরদের কথা উল্লেখ নাই বা করা হইল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৭০-২৭১)।
ইবন ইসহাক বলেন, মৃতা যুদ্ধের শহীদগণের উদ্দেশ্যে হাসসান ইব্‌ন ছাবিত (রা) নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করিয়াছেন:
تَاوَبُنِي لَيْلٌ بِيَشْرِبَ أَعْسَرُ - وَهَمَّ إِذَا مَا نَوْمَ النَّاسُ مُسْهِرُ لذكرى حَبيبٍ هَيَّجَتَ ثُمَّ عَبْرَةٌ - سَفُوحًا وَأَسْبَابُ الْبُكَاءِ الْمُتَذَكَّرُ بَلاء وَفَقْدَانُ الحَبيبِ بليّة - وَكَمْ مِنْ كَرِيمٍ يُبْتَلِى ثُمَّ يَصْبِرَ رَأَيْتُ خِيَارَ الْمُؤْمِنِينَ تَوَارَدُوا - شُعَوْبَ وَقَدْ خُلَقْتُ فِي مَنْ يَؤْخِّرُ فَلا يُبْعِدَنَّ اللَّهُ قَتْلَى تَتَابَعُوا - بِمُؤْتَةَ مِنْهُمْ ذُو الْجَنَاحَيْنِ جَعْفَرُ وَزَيْدٌ وَعَبْدُ الله حينَ تَتَابَعُوا - جَمِيعًا وَأَسْبَابُ الْمَنِيَّةِ تَخْطُرُ غدَاةَ غَدَوْا بِالْمُؤْمِنِينَ يَقُودُهُمْ - إِلَى الْمَوْتِ مَيْمُونُ النَّقِيبَةِ أَزْهَرُ
أَغَرُّ كَلَوْنِ الْبَدْرِ مِنْ آلِ هَاشِمِ - أَبِيُّ إِذَا سِيْمَ الظُّلامَةَ مِجْسَرُ. فَطَاعَنَ حَتَّى مَاتَ غَيْرَ مُؤَسِّدٍ - بِمُعْتَرَكَ فِيهِ الْقَنَا يُتَكَسَّرُ فَصَارَ مَعَ الْمُسْتَشْهِدِينَ ثَوَابُهُ - جِنَانٌ وَمُلْتَفُ الْحَدَائِقِ أَخْضَرُ وكُنَّا نَرى فِى جَعْفَرِ مِنْ مُحَمَّدٍ - وَفَاءً وَأَمْرًا حَازِمًا حِيْنَ يَأْمُرُ فَمَا زَالَ فِي الإِسْلَامِ مِنْ آلِ هَاشِرٍ - دَعَائِمُ عِزَّ لَا تُرَامٌ مَفْخَرُ هُمُوا جَبَلُ الإِسْلَامِ وَالنَّاسُ حَولَهُ - رِضَامٌ إِلَى طَوْدٍ يَرُوفُ يَقْهَرُ تَهَالِيْلٌ مِّنْهُمْ جَعْفَرٌ وَابْنُ أُمِّه - عَلَى وَمِنْهُمْ أَحْمَدُ الْمُتَخَيَّرُ وَحَمْزَةُ وَالْعَبَّاسُ مِنْهُمْ وَمِنْهُمُوا - عَقِيلُ وَمَاءُ الْعُودِ مِنْ حَيْثُ يُعْصَرُ بِهِمْ تُكْشَفُ اللأواءِ فِي كُلِّ مَازِقٍ - عَمَاسِ إِذَا مَا ضَاقَ بِالْقَوْمِ مَصْدَرُ هُمْ أَوْلِيَاءُ اللهِ أَنْزَلَ حُكْمَهُ - عَلَيْهِمْ وَفِيهِمْ الْكِتَابِ المُطَهَّرُ.
"ইয়াছরিবে (মদীনায়) আমার উপর ফিরিয়া আসিল অত্যন্ত কঠিন এক রাত্রি ও দুশ্চিন্তা। মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন আমি জাগ্রত"।
"আমার এক বন্ধুর স্মরণে, কান্নার অশ্রু প্রবল বেগে প্রবাহিত হইতেছিল। কান্নার কারণসমূহ ছিল স্মরণ, বন্ধুর স্মরণ"।
“হাঁ, নিশ্চয় বন্ধুর বিরহ এক মহাবিপদ; কিন্তু অনেক সম্ভ্রান্ত লোক রহিয়াছেন যাহাদিগকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হইলে তাহারা ধৈর্য ধারণ করেন"।
"আমি কত অতি উত্তম, মুমিনদের একের পর এক মৃত্যুর ঘাটে অবতরণ করিতে দেখিলাম। তবে পশ্চাতে পড়িয়া থাকা লোকদের সহিত আমিও পশ্চাতে পড়িয়া রহিলাম"।
"আল্লাহ তা'আলা যেন তাঁহার খাস রহমত হইতে দূরে না রাখেন সেই সকল শহীদকে যাঁহারা মু'তা প্রান্তরে একের পর এক শহীদ হইলেন। তাঁহাদের একজন হইলেন দুইডানা বিশিষ্ট জা'ফার"।
"অন্যরা হইলেন যায়দ ও 'আবদুল্লাহ্, যাঁহারা সকলে পরপর শহীদ হইয়াছিলেন। আর মৃত্যুর সকল কারণ সেখানে সক্রিয় ছিল"।
"ইহা সেই দিনের কথা যখন এই শহীদগণ মুমিনগণকে লইয়া মৃত্যুর প্রতি এক অত্যুজ্জ্বল ভাগ্যবান নেতার নেতৃত্বে অগ্রসর হইতেছিলেন"।
"তিনি ছিলেন হাশিম বংশীয়, পূর্ণিমার চাঁদ, সমুজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। অপকর্ম ও অনাচারের প্রতি অতি ঘৃণা পোষণকারী অত্যন্ত সাহসী পুরুষ"।
"লড়িতে লড়িতে তিনি লুটাইয়া পড়েন এমন রণাঙ্গনে যেখানে বল্লম চূর্ণবিচূর্ণ হইতেছিল”।
"ফলে তিনি অন্তর্ভুক্ত হইয়া গেলেন শহীদগণের, ইহার প্রতিদান জান্নাতসমূহ, সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা বাগানাদি"।
"জা'ফার যখন কোন আদেশ করিতেন তখন আমরা তাঁহার মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি আনুগত্য, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিচক্ষণতা প্রত্যক্ষ করিতাম”।
"ইসলামে হাশিমীরা চিরকাল রহিয়াছেন মর্যাদার স্তম্ভ ও গৌরবের পাত্র, যাহা ওজনের আশা করা যায় না"।
"তাঁহারা হইলেন ইসলামের পর্বতস্বরূপ আর অন্যান্য মুসলিমরা হইলেন পাহাড়ের আশে পাশের পাথরস্বরূপ, যাহা সর্বাবস্থায় সমুন্নত থাকে"।
"ইঁহারা হইলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন জা'ফার ও তাঁহার সহোদর আলী, সর্বোপরি তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন (আল্লাহ্) মনোনীত পুরুষ আহমাদ (স)"।
"তাঁহাদের মধ্যে আরও রহিয়াছেন হামযা, 'আব্বাস ও আকীল (রা)-এর মত ব্যক্তিত্ব। এমন সরস ও সুরভিত কাঠ যেখান হইতে আতর (হেদায়েত) পাওয়া যায়”
"তাঁহাদের দ্বারা সকল সংকটময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রণাঙ্গনের সংকট নিরসন করা যায়, যখন সেখান হইতে লোকজনের উত্তরণ দুঃসাধ্য হয়"।
"তাঁহারা আল্লাহ্ প্রিয় বান্দা, যাঁহাদের প্রতি আল্লাহ তাঁহার হুকুম অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাঁহাদের মধ্যেই রহিয়াছেন পবিত্র গ্রন্থের বাহক (মুহাম্মাদ)" (হাসসান ইব্‌ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৭)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا
صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”।
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”।
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬১-৬২; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৯-২৭০; ঐ, উর্দু অনুবাদ, ৪৫২-৪৫৪)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا
صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”।
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”।
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন”।

মুহাজিরগণের কুরায়শ গোত্রীয় বানু হাশিম শাখার (১) জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব; (২) যায়দ ইব্‌ন হারিছা আল-কালবী; 'আদী ইব্‌ন কা'ব গোত্রের (১) মাসউদ ইবনুল আসওয়াদ। বনূ মালিক ইব্‌ন হিসল গোত্রের (১) ওয়াহ্ ইব্‌ন সা'দ। আনসারগণের বানু হারিছ ইবনুল খাযরাজ গোত্রের (১) আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা, (২) 'আব্বাদ ইব্‌ন কায়স। বানু গান্ম ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের (১) আল-হারিছ ইব্‌নুন নু'মান। বনূ মাযিন ইব্‌নুন নাজ্জার গোত্রের সুরাকা ইব্‌ন 'আমর। ইবন ইসহাকের মতে মৃতা যুদ্ধে যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা উপরিউক্ত মোট আটজন : চারজন মুহাজির এবং চারজন আনসার।
ইব্‌ন হিশাম বলেন, ইব্‌ন শিহাব যুহরীর মতে মৃতায় যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহারা হইলেন: বানু মাযিন ইব্‌ন নাজ্জার গোত্রের (১) আবূ কুলায়ব ইব্‌ন আমর; (২) জাবির ইব্‌ন 'আমর। দুইজনই সহোদর ভাই। বানু মালিক গোত্রের (১) 'আমর ইবন সা'দ এবং (২) তাঁহার সহোদর ভাই 'আমের ইবন সা'দ। ইহারাও আনসার গোত্রের ছিলেন। সুতরাং পূর্বের আটজনসহ এই চারজন মিলাইয়া ইমাম যুহরীর মতে মৃতার মোট শহীদের সংখ্যা বারজন। ইহা অত্যন্ত বিস্ময়কর ঘটনা যে, তিন হাজার মুসলিম সৈন্য আর দুই লক্ষ শত্রু সৈন্যের মধ্যে লড়াই সংঘটিত হয়। এত বিরাট বাহিনী মাত্র বারজনকে শহীদ করিতে সক্ষম হয়। অপরদিকে মুশরিকদিগের অনেক লোক নিহত হয়। খালিদ (রা)-এর হাতে নয়টি তরবারি ভাঙ্গিয়া যায়। ইহাতে অনুমিত হয় যে, শুধু তাঁহার হাতেই অনেক কাফির নিহত হইয়াছিল, অন্যান্য বীরদের কথা উল্লেখ নাই বা করা হইল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৭০-২৭১)।
ইবন ইসহাক বলেন, মৃতা যুদ্ধের শহীদগণের উদ্দেশ্যে হাসসান ইব্‌ন ছাবিত (রা) নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করিয়াছেন:
تَاوَبُنِي لَيْلٌ بِيَشْرِبَ أَعْسَرُ - وَهَمَّ إِذَا مَا نَوْمَ النَّاسُ مُسْهِرُ لذكرى حَبيبٍ هَيَّجَتَ ثُمَّ عَبْرَةٌ - سَفُوحًا وَأَسْبَابُ الْبُكَاءِ الْمُتَذَكَّرُ بَلاء وَفَقْدَانُ الحَبيبِ بَلِيّة - وَكَمْ مِنْ كَرِيمٍ يُبْتَلِى ثُمَّ يَصْبِرَ رَأَيْتُ خِيَارَ الْمُؤْمِنِينَ تَوَارَدُوا - شُعَوْبَ وَقَدْ خُلَقْتُ فِي مَنْ يَؤْخِّرُ فَلا يُبْعِدَنَّ اللَّهُ قَتْلَى تَتَابَعُوا - بِمُؤْتَةَ مِنْهُمْ ذُو الْجَنَاحَيْنِ جَعْفَرُ وَزَيْدٌ وَعَبْدُ الله حينَ تَتَابَعُوا - جَمِيعًا وَأَسْبَابُ الْمَنِيَّةِ تَخْطُرُ غدَاةَ غَدَوْا بِالْمُؤْمِنِينَ يَقُودُهُمْ - إِلَى الْمَوْتِ مَيْمُونُ النَّقِيبَةِ أَزْهَرُ
أَغَرُّ كَلَوْنِ الْبَدْرِ مِنْ آلِ هَاشِمِ - أَبِيُّ إِذَا سِيْمَ الظُّلامَةَ مِجْسَرُ. فَطَاعَنَ حَتَّى مَاتَ غَيْرَ مُؤَسِّدٍ - بِمُعْتَرَكَ فِيهِ الْقَنَا يُتَكَسَّرُ فَصَارَ مَعَ الْمُسْتَشْهِدِينَ ثَوَابُهُ - جِنَانٌ وَمُلْتَفُ الْحَدَائِقِ أَخْضَرُ وكُنَّا نَرى فِى جَعْفَرِ مِنْ مُحَمَّدٍ - وَفَاءً وَأَمْرًا حَازِمًا حِيْنَ يَأْمُرُ فَمَا زَالَ فِي الإِسْلَامِ مِنْ آلِ هَاشِرٍ - دَعَائِمُ عِزَّ لَا تُرَامٌ مَفْخَرُ هُمُوا جَبَلُ الإِسْلَامِ وَالنَّاسُ حَولَهُ - رِضَامٌ إِلَى طَوْدٍ يَرُوفُ يَقْهَرُ تَهَالِيْلٌ مِّنْهُمْ جَعْفَرٌ وَابْنُ أُمِّه - عَلَى وَمِنْهُمْ أَحْمَدُ الْمُتَخَيَّرُ وَحَمْزَةُ وَالْعَبَّاسُ مِنْهُمْ وَمِنْهُمُوا - عَقِيلُ وَمَاءُ الْعُودِ مِنْ حَيْثُ يُعْصَرُ بِهِمْ تُكْشَفُ اللأواءِ فِي كُلِّ مَازِقٍ - عَمَاسِ إِذَا مَا ضَاقَ بِالْقَوْمِ مَصْدَرُ هُمْ أَوْلِيَاءُ اللهِ أَنْزَلَ حُكْمَهُ - عَلَيْهِمْ وَفِيهِمْ الْكِتَابِ المُطَهَّرُ.
"ইয়াছরিবে (মদীনায়) আমার উপর ফিরিয়া আসিল অত্যন্ত কঠিন এক রাত্রি ও দুশ্চিন্তা। মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন আমি জাগ্রত"।
"আমার এক বন্ধুর স্মরণে, কান্নার অশ্রু প্রবল বেগে প্রবাহিত হইতেছিল। কান্নার কারণসমূহ ছিল স্মরণ, বন্ধুর স্মরণ"।
“হাঁ, নিশ্চয় বন্ধুর বিরহ এক মহাবিপদ; কিন্তু অনেক সম্ভ্রান্ত লোক রহিয়াছেন যাহাদিগকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হইলে তাহারা ধৈর্য ধারণ করেন"।
"আমি কত অতি উত্তম, মুমিনদের একের পর এক মৃত্যুর ঘাটে অবতরণ করিতে দেখিলাম। তবে পশ্চাতে পড়িয়া থাকা লোকদের সহিত আমিও পশ্চাতে পড়িয়া রহিলাম"।
"আল্লাহ তা'আলা যেন তাঁহার খাস রহমত হইতে দূরে না রাখেন সেই সকল শহীদকে যাঁহারা মু'তা প্রান্তরে একের পর এক শহীদ হইলেন। তাঁহাদের একজন হইলেন দুইডানা বিশিষ্ট জা'ফার"।
"অন্যরা হইলেন যায়দ ও 'আবদুল্লাহ্, যাঁহারা সকলে পরপর শহীদ হইয়াছিলেন। আর মৃত্যুর সকল কারণ সেখানে সক্রিয় ছিল"।
"ইহা সেই দিনের কথা যখন এই শহীদগণ মুমিনগণকে লইয়া মৃত্যুর প্রতি এক অত্যুজ্জ্বল ভাগ্যবান নেতার নেতৃত্বে অগ্রসর হইতেছিলেন"।
"তিনি ছিলেন হাশিম বংশীয়, পূর্ণিমার চাঁদ, সমুজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। অপকর্ম ও অনাচারের প্রতি অতি ঘৃণা পোষণকারী অত্যন্ত সাহসী পুরুষ"।
"লড়িতে লড়িতে তিনি লুটাইয়া পড়েন এমন রণাঙ্গনে যেখানে বল্লম চূর্ণবিচূর্ণ হইতেছিল”
"ফলে তিনি অন্তর্ভুক্ত হইয়া গেলেন শহীদগণের, ইহার প্রতিদান জান্নাতসমূহ, সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা বাগানাদি"।
"জা'ফার যখন কোন আদেশ করিতেন তখন আমরা তাঁহার মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি আনুগত্য, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিচক্ষণতা প্রত্যক্ষ করিতাম”
"ইসলামে হাশিমীরা চিরকাল রহিয়াছেন মর্যাদার স্তম্ভ ও গৌরবের পাত্র, যাহা ওজনের আশা করা যায় না"।
"তাঁহারা হইলেন ইসলামের পর্বতস্বরূপ আর অন্যান্য মুসলিমরা হইলেন পাহাড়ের আশে পাশের পাথরস্বরূপ, যাহা সর্বাবস্থায় সমুন্নত থাকে"।
"ইঁহারা হইলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন জা'ফার ও তাঁহার সহোদর আলী, সর্বোপরি তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন (আল্লাহ্) মনোনীত পুরুষ আহমাদ (স)"।
"তাঁহাদের মধ্যে আরও রহিয়াছেন হামযা, 'আব্বাস ও আকীল (রা)-এর মত ব্যক্তিত্ব। এমন সরস ও সুরভিত কাঠ যেখান হইতে আতর (হেদায়েত) পাওয়া যায়"।
"তাঁহাদের দ্বারা সকল সংকটময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রণাঙ্গনের সংকট নিরসন করা যায়, যখন সেখান হইতে লোকজনের উত্তরণ দুঃসাধ্য হয়"।
"তাঁহারা আল্লাহ্ প্রিয় বান্দা, যাঁহাদের প্রতি আল্লাহ তাঁহার হুকুম অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাঁহাদের মধ্যেই রহিয়াছেন পবিত্র গ্রন্থের বাহক (মুহাম্মাদ)" (হাসসান ইব্‌ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়‍্যা, ৩খ., ২৬৭)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا
صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন” (হাসসান ইব্‌ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৭)।

মুহাজিরগণের কুরায়শ গোত্রীয় বানু হাশিম শাখার (১) জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব; (২) যায়দ ইব্‌ন হারিছা আল-কালবী; 'আদী ইব্‌ন কা'ব গোত্রের (১) মাসউদ ইবনুল আসওয়াদ। বনূ মালিক ইব্‌ন হিসল গোত্রের (১) ওয়াহ্ ইব্‌ن সা'দ। আনসারগণের বানু হারিছ ইবনুল খাযরাজ গোত্রের (১) আবদুল্লাহ ইব্‌ن রাওয়াহা, (২) 'আব্বাদ ইব্‌ন কায়স। বানু গান্ম ইব্‌ন মালিক ইব্‌ن নাজ্জার গোত্রের (১) আল-হারিছ ইব্‌নুন নু'মান। বনূ মাযিন ইব্‌নুন নাজ্জার গোত্রের সুরাকা ইব্‌ন 'আমর। ইবন ইসহাকের মতে মৃতা যুদ্ধে যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা উপরিউক্ত মোট আটজন : চারজন মুহাজির এবং চারজন আনসার।
ইব্‌ন হিশাম বলেন, ইব্‌ন শিহাব যুহরীর মতে মৃতায় যাঁহারা শহীদ হইয়াছিলেন তাঁহারা হইলেন: বানু মাযিন ইব্‌ن নাজ্জার গোত্রের (১) আবূ কুলায়ব ইব্‌ন আমর; (২) জাবির ইব্‌ন 'আমর। দুইজনই সহোদর ভাই। বানু মালিক গোত্রের (১) 'আমর ইবন সা'দ এবং (২) তাঁহার সহোদর ভাই 'আমের ইবন সা'দ। ইহারাও আনসার গোত্রের ছিলেন। সুতরাং পূর্বের আটজনসহ এই চারজন মিলাইয়া ইমাম যুহরীর মতে মৃতার মোট শহীদের সংখ্যা বারজন। ইহা অত্যন্ত বিস্ময়কর ঘটনা যে, তিন হাজার মুসলিম সৈন্য আর দুই লক্ষ শত্রু সৈন্যের মধ্যে লড়াই সংঘটিত হয়। এত বিরাট বাহিনী মাত্র বারজনকে শহীদ করিতে সক্ষম হয়। অপরদিকে মুশরিকদিগের অনেক লোক নিহত হয়। খালিদ (রা)-এর হাতে নয়টি তরবারি ভাঙ্গিয়া যায়। ইহাতে অনুমিত হয় যে, শুধু তাঁহার হাতেই অনেক কাফির নিহত হইয়াছিল, অন্যান্য বীরদের কথা উল্লেখ নাই বা করা হইল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩খ., ২৭০-২৭১)।
ইবন ইসহাক বলেন, মৃতা যুদ্ধের শহীদগণের উদ্দেশ্যে হাসসান ইব্‌ن ছাবিত (রা) নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করিয়াছেন:
تَاوَبُنِي لَيْلٌ بِيَشْرِبَ أَعْسَرُ - وَهَمَّ إِذَا مَا نَوْمَ النَّاسُ مُسْهِرُ لذكرى حَبيبٍ هَيَّجَتَ ثُمَّ عَبْرَةٌ - سَفُوحًا وَأَسْبَابُ الْبُكَاءِ الْمُتَذَكَّرُ بَلاء وَفَقْدَانُ الحَبيبِ بَلِيّة - وَكَمْ مِنْ كَرِيمٍ يُبْتَلِى ثُمَّ يَصْبِرَ رَأَيْتُ خِيَارَ الْمُؤْمِنِينَ تَوَارَدُوا - شُعَوْبَ وَقَدْ خُلَقْتُ فِي مَنْ يَؤْخِّرُ فَلا يُبْعِدَنَّ اللَّهُ قَتْلَى تَتَابَعُوا - بِمُؤْتَةَ مِنْهُمْ ذُو الْجَنَاحَيْنِ جَعْفَرُ وَزَيْدٌ وَعَبْدُ الله حينَ تَتَابَعُوا - جَمِيعًا وَأَسْبَابُ الْمَنِيَّةِ تَخْطُرُ غدَاةَ غَدَوْا بِالْمُؤْمِنِينَ يَقُودُهُمْ - إِلَى الْمَوْتِ مَيْمُونُ النَّقِيبَةِ أَزْهَرُ أَغَرُّ كَلَوْنِ الْبَدْرِ مِنْ آلِ هَاشِمِ - أَبِيُّ إِذَا سِيْمَ الظُّلامَةَ مِجْسَرُ. فَطَاعَنَ حَتَّى مَاتَ غَيْرَ مُؤَسِّدٍ - بِمُعْتَرَكَ فِيهِ الْقَنَا يُتَكَسَّرُ فَصَارَ مَعَ الْمُسْتَشْهِدِينَ ثَوَابُهُ - جِنَانٌ وَمُلْتَفُ الْحَدَائِقِ أَخْضَرُ وكُنَّا نَرى فِى جَعْفَرِ مِنْ مُحَمَّدٍ - وَفَاءً وَأَمْرًا حَازِمًا حِيْنَ يَأْمُرُ فَمَا زَالَ فِي الإِسْلَامِ مِنْ آلِ هَاشِرٍ - دَعَائِمُ عِزَّ لَا تُرَامٌ مَفْخَرُ هُمُوا جَبَلُ الإِسْلَامِ وَالنَّاسُ حَولَهُ - رِضَامٌ إِلَى طَوْدٍ يَرُوفُ يَقْهَرُ تَهَالِيْلٌ مِّنْهُمْ جَعْفَرٌ وَابْنُ أُمِّه - عَلَى وَمِنْهُمْ أَحْمَدُ الْمُتَخَيَّرُ وَحَمْزَةُ وَالْعَبَّاسُ مِنْهُمْ وَمِنْهُمُوا - عَقِيلُ وَمَاءُ الْعُودِ مِنْ حَيْثُ يُعْصَرُ بِهِمْ تُكْشَفُ اللأواءِ فِي كُلِّ مَازِقٍ - عَمَاسِ إِذَا مَا ضَاقَ بِالْقَوْمِ مَصْدَرُ هُمْ أَوْلِيَاءُ اللهِ أَنْزَلَ حُكْمَهُ - عَلَيْهِمْ وَفِيهِمْ الْكِتَابِ المُطَهَّرُ.
"ইয়াছরিবে (মদীনায়) আমার উপর ফিরিয়া আসিল অত্যন্ত কঠিন এক রাত্রি ও দুশ্চিন্তা। মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন আমি জাগ্রত"।
"আমার এক বন্ধুর স্মরণে, কান্নার অশ্রু প্রবল বেগে প্রবাহিত হইতেছিল। কান্নার কারণসমূহ ছিল স্মরণ, বন্ধুর স্মরণ"।
“হাঁ, নিশ্চয় বন্ধুর বিরহ এক মহাবিপদ; কিন্তু অনেক সম্ভ্রান্ত লোক রহিয়াছেন যাহাদিগকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হইলে তাহারা ধৈর্য ধারণ করেন"।
"আমি কত অতি উত্তম, মুমিনদের একের পর এক মৃত্যুর ঘাটে অবতরণ করিতে দেখিলাম। তবে পশ্চাতে পড়িয়া থাকা লোকদের সহিত আমিও পশ্চাতে পড়িয়া রহিলাম"।
"আল্লাহ তা'আলা যেন তাঁহার খাস রহমত হইতে দূরে না রাখেন সেই সকল শহীদকে যাঁহারা মু'তা প্রান্তরে একের পর এক শহীদ হইলেন। তাঁহাদের একজন হইলেন দুইডানা বিশিষ্ট জা'ফার"।
"অন্যরা হইলেন যায়দ ও 'আবদুল্লাহ্, যাঁহারা সকলে পরপর শহীদ হইয়াছিলেন। আর মৃত্যুর সকল কারণ সেখানে সক্রিয় ছিল"।
"ইহা সেই দিনের কথা যখন এই শহীদগণ মুমিনগণকে লইয়া মৃত্যুর প্রতি এক অত্যুজ্জ্বল ভাগ্যবান নেতার নেতৃত্বে অগ্রসর হইতেছিলেন"।
"তিনি ছিলেন হাশিম বংশীয়, পূর্ণিমার চাঁদ, সমুজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। অপকর্ম ও অনাচারের প্রতি অতি ঘৃণা পোষণকারী অত্যন্ত সাহসী পুরুষ"।
"লড়িতে লড়িতে তিনি লুটাইয়া পড়েন এমন রণাঙ্গনে যেখানে বল্লম চূর্ণবিচূর্ণ হইতেছিল”
"ফলে তিনি অন্তর্ভুক্ত হইয়া গেলেন শহীদগণের, ইহার প্রতিদান জান্নাতসমূহ, সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা বাগানাদি"।
"জা'ফার যখন কোন আদেশ করিতেন তখন আমরা তাঁহার মধ্যে মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি আনুগত্য, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিচক্ষণতা প্রত্যক্ষ করিতাম”
"ইসলামে হাশিমীরা চিরকাল রহিয়াছেন মর্যাদার স্তম্ভ ও গৌরবের পাত্র, যাহা ওজনের আশা করা যায় না"।
"তাঁহারা হইলেন ইসলামের পর্বতস্বরূপ আর অন্যান্য মুসলিমরা হইলেন পাহাড়ের আশে পাশের পাথরস্বরূপ, যাহা সর্বাবস্থায় সমুন্নত থাকে"।
"ইঁহারা হইলেন সর্বগুণে গুণান্বিত। তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন জা'ফার ও তাঁহার সহোদর আলী, সর্বোপরি তাঁহাদের মধ্যে রহিয়াছেন (আল্লাহ্) মনোনীত পুরুষ আহমাদ (স)"।
"তাঁহাদের মধ্যে আরও রহিয়াছেন হামযা, 'আব্বাস ও আকীল (রা)-এর মত ব্যক্তিত্ব। এমন সরস ও সুরভিত কাঠ যেখান হইতে আতর (হেদায়েত) পাওয়া যায়”
"তাঁহাদের দ্বারা সকল সংকটময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রণাঙ্গনের সংকট নিরসন করা যায়, যখন সেখান হইতে লোকজনের উত্তরণ দুঃসাধ্য হয়"।
"তাঁহারা আল্লাহ্ প্রিয় বান্দা, যাঁহাদের প্রতি আল্লাহ তাঁহার হুকুম অবতীর্ণ করিয়াছেন, তাঁহাদের মধ্যেই রহিয়াছেন পবিত্র গ্রন্থের বাহক (মুহাম্মাদ)" (হাসসান ইব্‌ন ছাবিত, দীওয়ান, পৃ. ১৭৯-৮১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬০-২৬১; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৭)।
মৃতা সম্পর্কে কা'ব ইবন মালিক (রা) নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করিয়াছেন:
قَامَ الْعُيُونِ وَدَمْعُ عَيْنِكَ يَهْمِلُ - سَحَاكَمَا وَكَفَ الطَّبَابُ الْمُخْضَلُ فِي لَيْلَةٍ وَرَدَتْ عَلَى هُمُومُهَا - طوْراً أَحِنُ دَتَارَةَ أَتَمَهْلُ وَاعْتَادَنِي حُزْنٌ فَبِتْ كَانَّنِي - بِبَنَاتِ نَعْشِ وَالسَّمَاكُ مُؤكَّلٌ وكَأَنَّمَا بَيْنَ الْجَوَانِحِ وَالْحَشَا - مِمَّا تَأَوَبَنِي شِهَابٌ مُدْخَلُ وَحْدَا عَلَى النَّفَرِ الَّذِينَ تَتَابَعُوا يَوْمًا بِمُؤْتَةَ أَسْنُدا لَمْ يُنْقَلُوا صلى الا لَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ فِتْيَة - وَسَقَى عِظَامَهُمُ الْعُمَامُ الْمُسْبِلُ صَبَرُوا بِمُؤْتَةَ لِلأَلِهِ نُفُسَهُمْ - حَذَرَ الرَّدَى وَمَخَافَةَ أَنْ يَنْكُلُوا فَمَضَوا أَمَامَ الْمُسْلِمِينَ كَأَنَّهُمْ - فَنَقَ عَلَيْهِنَّ الْحَدِيدُ الْمُرْقَلَ إِذْ يَهْتَدُونَ بِجَعْفَرٍ وَلِوَائِهِ - قَدَامُ أَوَّلُهُمْ فَنِعْمَ الأَوَّلُ حَتَّى تَفَرَّجَتِ الصُّفُوفُ وَجَعْفَرُ - حَيْثُ الْتَقَى وَعْتُ الصُّفُوفِ مُجْدَلٌ فَتَغَيَّرُ الْقَمَرُ النِيْرُ لِمُفَقَدِهِ - وَالشَّمْسُ قَدْ كَسَفَتْ وَكَادَتْ نَافِلُ قرم عَلى بُنيَانِهِ مِنْ هَاشِرٍ - فَرْعًا أَشَمٌ وَسُوْدَدًا يُنْقَلُ قَوْمٌ بِهِمْ عَصَمَ الآلهُ عِبَادَهُ - وَعَلَيْهِمْ نَزَلَ الْكِتَابُ الْمُنْزَلُ فَضَلُوا المُعَاشِرَعِزَّةُ وَتَرُّمًا - وَتَعَمَّدَتْ أَحْلَامُهُمْ مَنْ يُجْهَلُ لا يُطلقُونَ إِلَى السَّفَاءِ حُبَاهُمُوا - وَيُرَى خَطِيبُهُمْ بِحَقِّ يَفْصُلُ بيض الوُجُوهِ تُرى بُطُونُ أَكُفَهِمْ - تَنْدَى إِذَا اعْتَذَرَ الزَّمَانُ الْمُمْحِلُ وَبِهَدِيهِمْ رَضِيَ الإِلهُ لِهِخْلُقِ - وَبِجَدِّهِمْ نُصِرَ النَّبِيُّ الْمُرْسَلُ.
"সকল চক্ষু যখন নিদ্রায় আচ্ছন্ন তখন তোমার চক্ষু দিয়া অশ্রুধারা এমনভাবে প্রবাহিত হইতেছে যেমন দীর্ঘ মেঘখণ্ড হইতে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়"।
"এমন এক রাত্রিতে যেই রাত্র আমার উপর দুঃখ ও বিষাদ ছায়াপাত করিয়াছিল। কোন সময় আমি কাঁদিতেছিলাম আর কোন সময় বিরত ছিলাম বা পার্শ্ব পরিবর্তন করিতেছিলাম”
"বিষাদ আমার নিত্যসঙ্গী হইয়াছে, আমি এমন অবস্থায় নিশি যাপন করিলাম যেন আমি সপ্তর্ষিমণ্ডল ও স্বাতী নক্ষত্রের সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছি"।
"আমার পার্শ্বদেশ ও অগ্রে যেন অগ্নিপিণ্ড প্রবিষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে”
"ইহা সেই সকল শহীদানের শোকব্যথার কারণে, যাহারা মৃতা দিবসে একের পর এক শহীদ হইয়া পড়িয়া রহিয়াছিলেন, তাঁহাদের মৃতদেহকে স্থানান্তরিত করা হয় নাই"।
"মহান আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন এই সকল বীর যুবকের উপর, আর তাঁহাদের অস্থিসমূহকে সিক্ত করুন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা"।
"মৃতা যুদ্ধে তাঁহারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য অবিচল রাখিয়াছিলেন যাহাতে ধ্বংস কিংবা শাস্তি হইতে পরিত্রাণ পান"।
"এই মুজাহিদ পুরুষগণ মুসলমানদের সম্মুখ দিয়া রণাঙ্গনে এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়িলেন যেন তাঁহারা লৌহশৃঙ্খল পরিহিত শক্তিশালী উস্ত্রী"।
"যখন তাহারা জা'ফার ও তাঁহার পতাকার অনুসরণ করিতেছিলেন, তিনি তাহাদের অগ্রভাগে ছিলেন। এই অগ্রবর্তী সেনাপতি কতই না উত্তম"।
"সারিবদ্ধ সৈন্যরা অগ্রসর হইতেছিল আর জা'ফার পড়িয়া গিয়া শহীদ হইলেন, যেখানে উভয় পক্ষের সারিবদ্ধ সৈন্য যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিল"।
"তাঁহার তিরোধানে দীপ্ত চন্দ্র বিবর্ণ হইয়া পড়িল, সূর্য হইল রাহুগ্রস্ত এবং অস্ত যাওয়ার উপক্রম হইয়াছিল”
"তিনি ছিলেন সরদার, হাশিম গোত্রে তাঁহার আভিজাত্য ও নেতৃত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী যাহা হস্তান্তরিত হয় না"।
"ইহারা এমন এক গোষ্ঠী যাঁহাদের দ্বারা আল্লাহ তাঁহার বান্দাদেরকে পরিত্রাণ দিয়াছেন, তাহাদের প্রতি তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাঁহার গ্রন্থ"।
"সকল সম্প্রদায়ের উপর তাঁহারা সম্মান ও সম্ভ্রমের দিক দিয়া শ্রেষ্ঠ। তাঁহাদিগের জ্ঞান-বুদ্ধি অজ্ঞদের অজ্ঞতাকে ঢাকিয়া ফেলিয়াছিল"।
"তাঁহারা নির্বুদ্ধিতামূলক কাজে কোন দিন লিপ্ত হন না। তাঁহাদিগের বক্তাদিগকে দেখা যায় এমন হক কথা প্রকাশ করিতে যাহা সুনিশ্চিত"।
"ইঁহারা উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট, অন্যরা যখন দুর্ভিক্ষের বাহানায় দান করা হইতে বিরত থাকে, তখন তাঁহাদের দানের হস্ত থাকে উন্মুক্ত"।
"আল্লাহ তাঁহার সৃষ্টিকূলের পথের দিশারীরূপে তাঁহাদের চালচলন পসন্দ করিয়াছেন। তাঁহাদের প্রচেষ্টাতেই রাসূলুল্লাহ (স) সাহায্য লাভ করিয়াছিলেন” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৬১-৬২; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৬৯-২৭০; ঐ, উর্দু অনুবাদ, ৪৫২-৪৫৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00