📄 সৈন্যবাহিনীর মদীনা প্রত্যাবর্তন এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর অভ্যর্থনা
এই যুদ্ধ মোট সাত দিন অব্যাহত ছিল (সীরাতে হালাবিয়্যা, উর্দু অনুবাদ, ৩/৩খ., ৫৯)। সৈন্যবাহিনী মৃতা হইতে মদীনায় পৌঁছিবার সময় রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জানাইয়াছিলেন। শিশুরা দৌঁড়াইয়া বাহির হইয়াও তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৬)।
এই যুদ্ধ মোট সাত দিন অব্যাহত ছিল (সীরাতে হালাবিয়্যা, উরদূ অনু, ৩/৩খ., ৫৯)। সৈন্যবাহিনী মৃতা হইতে মদীনায় পৌঁছিবার সময় রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জানাইয়াছিলেন। শিশুরা দৌঁড়াইয়া বাহির হইয়াও তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৬)।
এই যুদ্ধ মোট সাত দিন অব্যাহত ছিল (সীরাতে হালাবিয়্যা, উর্দু অনুবাদ, ৩/৩খ., ৫৯)। সৈন্যবাহিনী মৃতা হইতে মদীনায় পৌঁছিবার সময় রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জানাইয়াছিলেন। শিশুরা দৌঁড়াইয়া বাহির হইয়াও তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া; ইব্ن হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩খ., ২৬৬)।
📄 যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদা
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাস। যায়দ-এর গোলাম হইবার বিবরণ নিম্নরূপ: তাঁহার মাতা তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া পিত্রালয়ে যাইবার সময় দস্যুরা তাহাদের উপর আক্রমণ
করিয়া যায়দ (রা)-কে অপহরণ করিয়া লইয়া যায়। ইহার পর তাহাকে বিক্রয় করিলে হাকীম ইবন হিযাম স্বীয় ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদের জন্য ক্রয় করেন [কেহ কেহ বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে খাদীজা (রা)-এর জন্য ক্রয় করিয়াছিলেন]। খাদীজা (রা)-এর নুবুওয়াত লাভের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতের জন্য যায়দকে উপহার দেন। যায়দের পিতা তাহার সন্ধান পাইয়া তাহাকে নেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দকে পিতার সঙ্গে যাওয়ার অথবা না যাওয়ার অবকাশ দিলেন। যায়দ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকাকেই প্রাধান্য দিলেন। রাসুলুল্লাহ (স) তাহাকে মুক্ত করিয়া দিয়া নিজের পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করিলেন। এই জন্য তাহাকে যায়দ ইবন মুহাম্মাদ বলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আন্তরিকভাবে ভালবাসিতেন। তিনি ছিলেন গোলামদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তাঁহার সম্পর্কে আল-কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাহা হইলঃ
وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ : "আর তোমাদের পোষ্যপুত্রদিগকে তিনি তোমাদের পুত্র করেন নাই” (৩৩:৪)।
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ. "তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত” (৩৩:৫)।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ. "মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়” (৩৩:৪০)।
وَاِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَاَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكَ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِى فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسِ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا . "স্মরণ কর, আল্লাহ যাহাকে অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং তুমিও যাহার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, তুমি তাহাকে বলিতেছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীর সহিত সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে যাহা গোপন করিতেছ আল্লাহ তাহা প্রকাশ করিয়া দিতেছেন। তুমি লোকভয় করিতেছিলে, অথচ আল্লাহকে ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সংগত। অতঃপর যায়দ যখন যয়নবের সহিত বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাহাকে তোমার সহিত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করিলাম” (৩৩: ৩৭)।
তাফসীরবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন যে, উপরিউক্ত আয়াতগুলি যায়দ (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছিল। মহান আল্লাহ যায়দ (রা) ব্যতীত আর কোন সাহাবীর কথা আল-কুরআনে উল্লেখ করেন নাই। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আযাদ করিয়া তদীয় বাঁদী উম্মু আয়মান (রা)-কে তাহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। উম্মু আয়মানের নাম ছিল বারাকা। তাহার গর্ভে যায়দ
(রা)-এর পুত্র উসামা (রা)-এর জন্ম হইয়াছিল। উসামা (রা)-কে বলা হইত الحب بن الحب 'প্রিয়ের পুত্র প্রিয়'। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) তদীয় ফুফাত বোন যয়নব বিন্ত জাহ্ (রা)-কে তাঁহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় চাচা হামযা ইব্ন 'আবদুল মুত্তালিবের সহিত তাঁহার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়িয়া দিয়াছিলেন এবং মৃতা অভিযানে স্বীয় চাচাত ভাই জা'ফার ইবন আবী তালিবের উপর নেতৃত্ব দানে যায়দ (রা)-কে অগ্রাধিকার দিয়াছিলেন। ইমাম আহমাদ ও হাফিজ আবূ বাক্ ইব্ন আবী শায়বা বর্ণনা করেন:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ سَمِعْتُ الْبُهَى يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُولُ مَا بَعْتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فِي سَرِيَّةِ إِلَّا أَمْرَهُ عَلَيْهِمْ وَلَوْ بَقِي بَعْدُ لاسْتَخْلَفَهُ.
"বুহায়্য হইতে বর্ণিত। 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যেই সারিয়াতেই যায়দ ইব্ন হারিছাকে প্রেরণ করিতেন সেখানে তাহাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিতেন। যদি তিনি পরবর্তী কালেও জীবিত থাকিতেন তাহা হইলে অবশ্যই তাহাকে খলীফা নিযুক্ত করিতেন"।
এই রিওয়ায়াতটি ইমাম নাসাঈ, আহমাদ ইবন সালমান সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবন 'উবায়দ আত-তানাফিসীর বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন। এই রিওয়ায়াত সহীহ হইবার শর্তে উত্তম ও শক্তিশালী, তবে ইহা অত্যন্ত অপরিচিত )ا (غریب
সেনাপতি জা'ফার ইবন আবী তালিব (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদাঃ তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচাত ভাই। তিনি তাঁহার ভাই 'আলী (রা) হইতে বয়সে দশ বৎসর বড় ছিলেন। তাঁহার অপর ভাই 'আকীল বয়সে তাহার হইতে দশ বৎসর বড় ছিলেন। আর তাঁহার আরও এক ভাই তালিব 'আকীল হইতে দশ বৎসর বড় ছিলেন।
জা'ফার (রা) ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি হাবশায় হিজরত করিয়াছিলেন এবং সেখানে তিনি প্রচুর প্রশংসা কুড়াইয়াছিলেন। তথায় তাঁহার অবস্থানও ছিল খুবই সুদৃঢ়। হাবশা হইতে তিনি খায়বার যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়াছিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন:
مَا أَدْرِي أَنَا بَأَيِّهِمَا أَسَرَّ أَبْقُدُومٍ جَعْفَرٍ أَمْ بِفَتْحِ خَيْبَرَ.
"কি কারণে আমি এত আনন্দিত, জা'ফারের আগমনে, না খায়বার বিজয়ে"!
'উমরাতুল কাদার উদ্দেশ্যে সাহাবায়ে কিরাম (রা) রওয়ানা করিলে রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার (রা)-র উদ্দেশ্যে বলিয়াছিলেন:
أَشْبَهْتَ خَلْقِي وَخُلُقِى
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাস। যায়দ-এর গোলাম হইবার বিবরণ নিম্নরূপ: তাঁহার মাতা তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া পিত্রালয়ে যাইবার সময় দস্যুরা তাহাদের উপর আক্রমণ করিয়া যায়দ (রা)-কে অপহরণ করিয়া লইয়া যায়। ইহার পর তাহাকে বিক্রয় করিলে হাকীম ইবন হিযাম স্বীয় ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদের জন্য ক্রয় করেন [কেহ কেহ বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে খাদীজা (রা)-এর জন্য ক্রয় করিয়াছিলেন]। খাদীজা (রা)-এর নুবুওয়াত লাভের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতের জন্য যায়দকে উপহার দেন। যায়দের পিতা তাহার সন্ধান পাইয়া তাহাকে নেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দকে পিতার সঙ্গে যাওয়ার অথবা না যাওয়ার অবকাশ দিলেন। যায়দ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকাকেই প্রাধান্য দিলেন। রাসুলুল্লাহ (স) তাহাকে মুক্ত করিয়া দিয়া নিজের পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করিলেন। এই জন্য তাহাকে যায়দ ইবন মুহাম্মাদ বলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আন্তরিকভাবে ভালবাসিতেন। তিনি ছিলেন গোলামদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তাঁহার সম্পর্কে আল-কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাহা হইলঃ
وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ : "আর তোমাদের পোষ্যপুত্রদিগকে তিনি তোমাদের পুত্র করেন নাই” (৩৩:৪)।
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ. "তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত” (৩৩:৫)।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ. "মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়” (৩৩:৪০)।
وَاِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَاَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكَ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِى فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسِ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا . "স্মরণ কর, আল্লাহ যাহাকে অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং তুমিও যাহার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, তুমি তাহাকে বলিতেছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীর সহিত সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে যাহা গোপন করিতেছ আল্লাহ তাহা প্রকাশ করিয়া দিতেছেন। তুমি লোকভয় করিতেছিলে, অথচ আল্লাহকে ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সংগত। অতঃপর যায়দ যখন যয়নবের সহিত বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাহাকে তোমার সহিত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করিলাম” (৩৩: ৩৭)।
তাফসীরবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন যে, উপরিউক্ত আয়াতগুলি যায়দ (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছিল। মহান আল্লাহ যায়দ (রা) ব্যতীত আর কোন সাহাবীর কথা আল-কুরআনে উল্লেখ করেন নাই। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আযাদ করিয়া তদীয় বাঁদী উম্মু আয়মান (রা)-কে তাহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। উম্মু আয়মানের নাম ছিল বারাকা। তাহার গর্ভে যায়দ (রা)-এর পুত্র উসামা (রা)-এর জন্ম হইয়াছিল। উসামা (রা)-কে বলা হইত الحب بن الحب 'প্রিয়ের পুত্র প্রিয়'। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) তদীয় ফুফাত বোন যয়নব বিন্ত জাহ্ (রা)-কে তাঁহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় চাচা হামযা ইব্ন 'আবদুল মুত্তালিবের সহিত তাঁহার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়িয়া দিয়াছিলেন এবং মৃতা অভিযানে স্বীয় চাচাত ভাই জা'ফার ইবন আবী তালিবের উপর নেতৃত্ব দানে যায়দ (রা)-কে অগ্রাধিকার দিয়াছিলেন। ইমাম আহমাদ ও হাফিজ আবূ বাক্ ইব্ন আবী শায়বা বর্ণনা করেন:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ سَمِعْتُ الْبُهَى يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُولُ مَا بَعْتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فِي سَرِيَّةِ إِلَّا أَمْرَهُ عَلَيْهِمْ وَلَوْ بَقِي بَعْدُ لاسْتَخْلَفَهُ.
"বুহায়্য হইতে বর্ণিত। 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যেই সারিয়াতেই যায়দ ইব্ন হারিছাকে প্রেরণ করিতেন সেখানে তাহাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিতেন। যদি তিনি পরবর্তী কালেও জীবিত থাকিতেন তাহা হইলে অবশ্যই তাহাকে খলীফা নিযুক্ত করিতেন"।
এই রিওয়ায়াতটি ইমাম নাসাঈ, আহমাদ ইবন সালমান সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবন 'উবায়দ আত-তানাফিসীর বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন। এই রিওয়ায়াত সহীহ হইবার শর্তে উত্তম ও শক্তিশালী, তবে ইহা অত্যন্ত অপরিচিত )ا (غریب।
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাস। যায়দ-এর গোলাম হইবার বিবরণ নিম্নরূপ: তাঁহার মাতা তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া পিত্রালয়ে যাইবার সময় দস্যুরা তাহাদের উপর আক্রমণ করিয়া যায়দ (রা)-কে অপহরণ করিয়া লইয়া যায়। ইহার পর তাহাকে বিক্রয় করিলে হাকীম ইবন হিযাম স্বীয় ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদের জন্য ক্রয় করেন [কেহ কেহ বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে খাদীজা (রা)-এর জন্য ক্রয় করিয়াছিলেন]। খাদীজা (রা)-এর নুবুওয়াত লাভের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (স)-এর খেদমতের জন্য যায়দকে উপহার দেন। যায়দের পিতা তাহার সন্ধান পাইয়া তাহাকে নেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) যায়দকে পিতার সঙ্গে যাওয়ার অথবা না যাওয়ার অবকাশ দিলেন। যায়দ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট থাকাকেই প্রাধান্য দিলেন। রাসুলুল্লাহ (স) তাহাকে মুক্ত করিয়া দিয়া নিজের পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করিলেন। এই জন্য তাহাকে যায়দ ইবন মুহাম্মাদ বলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আন্তরিকভাবে ভালবাসিতেন। তিনি ছিলেন গোলামদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তাঁহার সম্পর্কে আল-কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাহা হইলঃ
وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ : "আর তোমাদের পোষ্যপুত্রদিগকে তিনি তোমাদের পুত্র করেন নাই” (৩৩:৪)।
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ. "তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত” (৩৩:৫)।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ. "মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়” (৩৩:৪০)।
وَاِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَاَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكَ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِى فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسِ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا . "স্মরণ কর, আল্লাহ যাহাকে অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং তুমিও যাহার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, তুমি তাহাকে বলিতেছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীর সহিত সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে যাহা গোপন করিতেছ আল্লাহ তাহা প্রকাশ করিয়া দিতেছেন। তুমি লোকভয় করিতেছিলে, অথচ আল্লাহকে ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সংগত। অতঃপর যায়দ যখন যয়নবের সহিত বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাহাকে তোমার সহিত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করিলাম” (৩৩: ৩৭)।
তাফসীরবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন যে, উপরিউক্ত আয়াতগুলি যায়দ (রা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছিল। মহান আল্লাহ যায়দ (রা) ব্যতীত আর কোন সাহাবীর কথা আল-কুরআনে উল্লেখ করেন নাই। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে আযাদ করিয়া তদীয় বাঁদী উম্মু আয়মান (রা)-কে তাহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। উম্মু আয়মানের নাম ছিল বারাকা। তাহার গর্ভে যায়দ (রা)-এর পুত্র উসামা (রা)-এর জন্ম হইয়াছিল। উসামা (রা)-কে বলা হইত الحب بن الحب 'প্রিয়ের পুত্র প্রিয়'। ইহার পর রাসূলুল্লাহ (স) তদীয় ফুফাত বোন যয়নব বিন্ত জাহ্ (রা)-কে তাঁহার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) স্বীয় চাচা হামযা ইব্ن 'আবদুল মুত্তালিবের সহিত তাঁহার ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জুড়িয়া দিয়াছিলেন এবং মৃতা অভিযানে স্বীয় চাচাত ভাই জা'ফার ইবন আবী তালিবের উপর নেতৃত্ব দানে যায়দ (রা)-কে অগ্রাধিকার দিয়াছিলেন। ইমাম আহমাদ ও হাফিজ আবূ বাক্ ইব্ن আবী শায়বা বর্ণনা করেন:
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ سَمِعْتُ الْبُهَى يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُولُ مَا بَعْتَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ فِي سَرِيَّةِ إِلَّا أَمْرَهُ عَلَيْهِمْ وَلَوْ بَقِي بَعْدُ لاسْتَخْلَفَهُ.
"বুহায়্য হইতে বর্ণিত। 'আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যেই সারিয়াতেই যায়দ ইব্ن হারিছাকে প্রেরণ করিতেন সেখানে তাহাকে সেনাপতি নিযুক্ত করিতেন। যদি তিনি পরবর্তী কালেও জীবিত থাকিতেন তাহা হইলে অবশ্যই তাহাকে খলীফা নিযুক্ত করিতেন"।
এই রিওয়ায়াতটি ইমাম নাসাঈ, আহমাদ ইবন সালমান সূত্রে এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবন 'উবায়দ আত-তানাফিসীর বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন। এই রিওয়ায়াত সহীহ হইবার শর্তে উত্তম ও শক্তিশালী, তবে ইহা অত্যন্ত অপরিচিত )ا (غریب
📄 সেনাপতি 'আবদুল্লাহ ইন্ন রাওয়াহা (রা)-এর পরিচিতি ও মর্যাদা
‘আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা)-র ডাকনাম ছিল আবু মুহাম্মাদ, আবু রাওয়াহাও বলা হইত। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমান হইয়াছিলেন। আল-আকাবাতে তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। বানুল হারিছ ইবনুল খায়রাজ যেই রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই রাত্রির নেতাগণের একজন ছিলেন তিনি। উমরাতুল কাযাতেও তিনি শরীফ ছিলেন। তিনি ঐ দিন রাসূলুল্লাহ (স)-এর-উষ্ট্রীর লাগাম আঁকড়াইয়া ধরিয়া প্রবেশ করিয়াছিলেন। এই সময় তাঁহার মুখের বাণী ছিল :
خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ
মৃতা দিবসে শাহাদাত বরণকারী নেতাগণের তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোমানদের সহিত লড়িতে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অভয় দিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদাত লাভ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) সাক্ষী দিয়াছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানাতী। রাসূলুল্লাহ (স) যখন তাঁহাদিগকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইতেছিলেন তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন :
فَثَبَّتَ اللهُ مَا آتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوْ
তাঁহার কবিতা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন: وَأَنْتَ فَثَبَّتَكَ اللهُ “আল্লাহ তোমake অটল রাখুন”। হিশাম ইবন উরওয়া বলেন, وَدَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى قُتِلَ شَهِيدًا (আল্লাহ তাঁহাকে অবিচল রাখিবার ফলে তিনি শহীদ হইয়াছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়াছেন)। তাঁহার সম্পর্কে নিম্নোক্ত সনদে বর্ণিত আছে :
رَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ أَتَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ فَسَمِعَهُ يَقُوْلُ اِجْلِسُوْا فَجَلَسَ مَكَانَهُ خَارِجًا مِنْ
الْمَسْجِدِ حَتَّى فَرَغَ النَّاسُ مِنْ خُطْبَتِهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا عَلَى طواعية اللهِ وَطَوَاعِيَةِ رَسُولُه -
"আবদুর রাহমান ইব্ন আবী লায়লা হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ ইব্ন্ন রাওয়াহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। নবী করীম (স) তখন ভাষণ দিতেছিলেন। তিনি নবী করীম (স)-কে বলিতে শুনিলেন, "বসুন”। ফলে 'আবদুল্লাহ্ মসজিদের বাহিরে নিজ স্থানে বসিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ যখন শেষ হইল তখন তাঁহার নিকট 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পৌছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেনঃ 'আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের অনুসরণ করিবার তোমার লোভ আল্লাহ বৃদ্ধি করিয়া দিন"।
ইমাম আহমাদ হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ زِيَادِ النَّحْوِي عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ إِذَ لَقِيَ الرَّجُلَ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ تَعَالَ نُؤْمِنُ بِرَبَّنَا سَاعَةً فَقَالَ ذَاتَ يَوْمِ لِرَجُلٍ فَغَضِبَ الرَّجُلَ فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تُرَى ابْنَ رَوَاحَةَ يَرْغَبُ عَنْ إِيْمَانِكَ إِلَى إِيْمَانِ سَاعَةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ رَحِمَ اللهُ ابْنَ رَوَاحَةَ إِنَّهُ يُحِبُّ الْمَجَالِسَ الَّتِي تَبَاهَى بهَا الْمَلائِكَةُ.
"আনাস (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা তাহার সাথীগণের কোন লোকের সহিত যখন মিলিত হইতেন তখন বলিতেন, আস! আমরা আমাদের রব্ব-এর উপর কিয়ামত সম্পর্কে ঈমান আনি। এইরূপ তিনি একদা এক লোককে বলিলেনঃ লোকটি তাহা শুনিয়া রাগান্বিত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি অবগত আছেন, রাওয়াহার পুত্র আপনার ঈমান আনয়ন করা হইতে বিমুখ হইয়া কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনিতেছে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্ রাওয়াহা পুত্রের উপর করুণা করুন। সে এই সকল মাজলিসকে ভালবাসে যেইগুলি লইয়া ফেরেস্তাগণ গৌরববোধ করেন।"
এই হাদীছটি অত্যন্ত অখ্যাত )غریب(। বায়হাকী অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبَيْهَقِيُّ حَدَّثَنَا الْحَاكِمُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ قَالَ لِصَاحِبِ لَهُ تَعَالَ حَتَّى نُؤْمِنُ سَاعَةً قَالَ أَوَلَسْنَا بِمُؤْمِنِينَ قَالَ بَلَى وَلَكِنَّا تَذْكُرُ اللَّهَ فَتَزْدَادُ ايْمَانًا .
"আতা ইব্ন ইয়াসার (র) হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা তাহার এক সাথীকে বলিলেন, আস! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি। লোকটি বুলিল আমরা কি বিশ্বাসী নই? তিনি বলিলেন, হাঁ, তবে আমরা আল্লাহ্র যিকির করিয়া ঈমান বৃদ্ধি করিব"।
হাফিজ আবুল কাসিম আল-লাকাই বা আল-আলকাই তদীয় সূত্রে শুরায়হ ইবন 'উবায়দ হইতে অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উভয় সূত্রেই হাদীছটি মুরসাল। ইমাম বুখারী তাঁহার সহীহ গ্রন্থে বলিয়াছেন:
وَقَالَ ابْنَ مُعَاذِ اجْلِسَ بِنَا نُؤْمِنُ سَاعَةً. "ইবন মু'আয বলিলেন, আমাদিগের সহিত বসুন! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি"।
সাহীহ বুখারীতে আবুদ দারদা (রা) হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فِي حَرِّ شَدِيدٍ وَمَا فِيْنَا صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. "আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত তীব্র গ্রীষ্মে এক সফরে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) ও 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের মধ্যে অন্য কেহ রোযাদার ছিল না"। রাসূলুল্লাহ (স)-এর শানে তাহার নিম্নোক্ত কবিতা ইমাম বুখারী উল্লেখ করিয়াছেন:
وَفِينَا رَسُولُ اللهِ نَتْلُوا كِتَابَهُ - إِذَا انْشَقَّ مَعْرُوفٌ مِنَ الْفَجْرِ سَاطِعُ يَبِيْتُ يُجَافِي جَنَّبَهُ عَنْ فِرَاشِهِ - إِذَا اسْتُثْقِلَتْ بِالْمُشْرِكِينَ الْمَضَاجِعِ آتَى بِالْهُدى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ.
"আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হইয়াছেন আল্লাহ্র রাসূল, আমরা তাঁহার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব তিলাওয়াত করি। ভোর হইতে অধিক আলোকিত হইয়া যখন তাহার সৎ গুণাবলী ছড়াইয়া পড়িল"।
"বিছানা হইতে তিনি তাঁহার শরীর পৃথক রাখিয়া নিশি যাপন করিতেন, মুশরিকগণের নিদ্রাবিভোরে যখন বিছানাসমূহ ভারী হইয়া যাইত”।
"গোমরাহীর পর যখন তিনি হিদায়াত লইয়া আসিলেন, আমাদের অন্তরসমূহ তখন তাহা বিশ্বাস করিল যে, তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহা অবশ্য প্রতিফলিত হইবে"।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا عِمْرَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنِ عَنْ عَامِرٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَعْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةً فَجَعَلَتْ أَخْتُهُ عَمْرَةٌ تَبْكِي وَاجبَلاهُ وكذا وكذا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِيْنَ افَاقَ مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلَّا قِبْلَ لِي أَنْتَ كَذَلِكَ.
"আন-নু'মান ইব্ন বাশীর (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা বেহুঁশ হইয়া পড়িলে তাহার বোন 'আমরা ইহা বলিয়া কাঁদিতে লাগিলেনঃ হে পাহাড়সম, হে এইরূপ, এইরূপ, ইহা বারবার বলিতেছিলেন। তাহার জ্ঞান ফিরিয়া আসিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, তুমি আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলিতেছিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলা হইতেছিল, তুমি কি এইরূপ এইরূপ ছিলে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৭-২৫৮)?"
'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা)-র ডাকনাম ছিল আবু মুহাম্মাদ, আবু রাওয়াহাও বলা হইত। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমান হইয়াছিলেন। আল-আকাবাতে তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। বানুল হারিছ ইবনুল খায়রাজ যেই রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই রাত্রির নেতাগণের একজন ছিলেন তিনি। উমরাতুল কাযাতেও তিনি শরীফ ছিলেন। তিনি ঐ দিন রাসূলুল্লাহ (স)-এর-উষ্ট্রীর লাগাম আঁকড়াইয়া ধরিয়া প্রবেশ করিয়াছিলেন। এই সময় তাঁহার মুখের বাণী ছিল :
خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ
মৃতা দিবসে শাহাদাত বরণকারী নেতাগণের তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোমানদের সহিত লড়িতে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অভয় দিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদাত লাভ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) সাক্ষী দিয়াছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানাতী। রাসূলুল্লাহ (স) যখন তাঁহাদিগকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইতেছিলেন তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন :
فَثَبَّتَ اللهُ مَا آتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوْ
তাঁহার কবিতা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন: وَأَنْتَ فَثَبَّتَكَ اللهُ “আল্লাহ তোমake অটল রাখুন”। হিশাম ইবন উরওয়া বলেন: وَدَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى قُتِلَ شَهِيدًا (আল্লাহ তাঁহাকে অবিচল রাখিবার ফলে তিনি শহীদ হইয়াছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়াছেন)। তাঁহার সম্পর্কে নিম্নোক্ত সনদে বর্ণিত আছে:
رَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ أَتَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ فَسَمِعَهُ يَقُوْلُ اِجْلِسُوْا فَجَلَسَ مَكَانَهُ خَارِجًا مِنْ الْمَسْجِدِ حَتَّى فَرَغَ النَّاسُ مِنْ خُطْبَتِهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا عَلَى طواعية اللهِ وَطَوَاعِيَةِ رَسُولُه -
"আবদুর রাহমান ইব্ন আবী লায়লা হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ ইব্ন্ন রাওয়াহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। নবী করীম (স) তখন ভাষণ দিতেছিলেন। তিনি নবী করীম (স)-কে বলিতে শুনিলেন, "বসুন”। ফলে 'আবদুল্লাহ্ মসজিদের বাহিরে নিজ স্থানে বসিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ যখন শেষ হইল তখন তাঁহার নিকট 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পৌছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেনঃ 'আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের অনুসরণ করিবার তোমার লোভ আল্লাহ বৃদ্ধি করিয়া দিন"।
ইমাম আহমাদ হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ زِيَادِ النَّحْوِي عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ إِذَ لَقِيَ الرَّجُلَ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ تَعَالَ نُؤْمِنُ بِرَبَّنَا سَاعَةً فَقَالَ ذَاتَ يَوْمِ لِرَجُلٍ فَغَضِبَ الرَّجُلَ فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تُرَى ابْنَ رَوَاحَةَ يَرْغَبُ عَنْ إِيْمَانِكَ إِلَى إِيْمَانِ سَاعَةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ رَحِمَ اللهُ ابْنَ رَوَاحَةَ إِنَّهُ يُحِبُّ الْمَجَالِسَ الَّتِي تَبَاهَى بهَا الْمَلائِكَةُ.
"আনাস (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা তাহার সাথীগণের কোন লোকের সহিত যখন মিলিত হইতেন তখন বলিতেন, আস! আমরা আমাদের রব্ব-এর উপর কিয়ামত সম্পর্কে ঈমান আনি। এইরূপ তিনি একদা এক লোককে বলিলেনঃ লোকটি তাহা শুনিয়া রাগান্বিত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি অবগত আছেন, রাওয়াহার পুত্র আপনার ঈমান আনয়ন করা হইতে বিমুখ হইয়া কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনিতেছে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্ রাওয়াহা পুত্রের উপর করুণা করুন। সে এই সকল মাজলিসকে ভালবাসে যেইগুলি লইয়া ফেরেস্তাগণ গৌরববোধ করেন।"
এই হাদীছটি অত্যন্ত অখ্যাত )غریب(। বায়হাকী অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبَيْهَقِيُّ حَدَّثَنَا الْحَاكِمُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ قَالَ لِصَاحِبِ لَهُ تَعَالَ حَتَّى نُؤْمِنُ سَاعَةً قَالَ أَوَلَسْنَا بِمُؤْمِنِينَ قَالَ بَلَى وَلَكِنَّا تَذْكُرُ اللَّهَ فَتَزْدَادُ ايْمَانًا .
"আতা ইব্ন ইয়াসার (র) হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা তাহার এক সাথীকে বলিলেন, আস! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি। লোকটি বুলিল আমরা কি বিশ্বাসী নই? তিনি বলিলেন, হাঁ, তবে আমরা আল্লাহ্র যিকির করিয়া ঈমান বৃদ্ধি করিব"।
হাফিজ আবুল কাসিম আল-লাকাই বা আল-আলকাই তদীয় সূত্রে শুরায়হ ইবন 'উবায়দ হইতে অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উভয় সূত্রেই হাদীছটি মুরসাল। ইমাম বুখারী তাঁহার সহীহ গ্রন্থে বলিয়াছেন:
وَقَالَ ابْنَ مُعَاذِ اجْلِسَ بِنَا نُؤْمِنُ سَاعَةً. "ইবন মু'আয বলিলেন, আমাদিগের সহিত বসুন! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি"।
সাহীহ বুখারীতে আবুদ দারদা (রা) হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فِي حَرِّ شَدِيدٍ وَمَا فِيْنَا صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. "আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত তীব্র গ্রীষ্মে এক সফরে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) ও 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের মধ্যে অন্য কেহ রোযাদার ছিল না"। রাসূলুল্লাহ (স)-এর শানে তাহার নিম্নোক্ত কবিতা ইমাম বুখারী উল্লেখ করিয়াছেন:
وَفِينَا رَسُولُ اللهِ نَتْلُوا كِتَابَهُ - إِذَا انْشَقَّ مَعْرُوفٌ مِنَ الْفَجْرِ سَاطِعُ يَبِيْتُ يُجَافِي جَنَّبَهُ عَنْ فِرَاشِهِ - إِذَا اسْتُثْقِلَتْ بِالْمُشْرِكِينَ الْمَضَاجِعِ آتَى بِالْهُدى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ.
"আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হইয়াছেন আল্লাহ্র রাসূল, আমরা তাঁহার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব তিলাওয়াত করি। ভোর হইতে অধিক আলোকিত হইয়া যখন তাহার সৎ গুণাবলী ছড়াইয়া পড়িল"।
"বিছানা হইতে তিনি তাঁহার শরীর পৃথক রাখিয়া নিশি যাপন করিতেন, মুশরিকগণের নিদ্রাবিভোরে যখন বিছানাসমূহ ভারী হইয়া যাইত”
"গোমরাহীর পর যখন তিনি হিদায়াত লইয়া আসিলেন, আমাদের অন্তরসমূহ তখন তাহা বিশ্বাস করিল যে, তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহা অবশ্য প্রতিফলিত হইবে"।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا عِمْرَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنِ عَنْ عَامِرٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَعْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةً فَجَعَلَتْ أَخْتُهُ عَمْرَةٌ تَبْكِي وَاجبَلاهُ وكذا وكذا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِيْنَ افَاقَ مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلَّا قِبْلَ لِي أَنْتَ كَذَلِكَ.
"আন-নু'মান ইব্ন বাশীর (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা বেহুঁশ হইয়া পড়িলে তাহার বোন 'আমরা ইহা বলিয়া কাঁদিতে লাগিলেনঃ হে পাহাড়সম, হে এইরূপ, এইরূপ, ইহা বারবার বলিতেছিলেন। তাহার জ্ঞান ফিরিয়া আসিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, তুমি আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলিতেছিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলা হইতেছিল, তুমি কি এইরূপ এইরূপ ছিলে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৭-২৫৮)?"
'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা)-র ডাকনাম ছিল আবু মুহাম্মাদ, আবু রাওয়াহাও বলা হইত। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমান হইয়াছিলেন। আল-আকাবাতে তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। বানুল হারিছ ইবনুল খায়রাজ যেই রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করিয়াছিলেন সেই রাত্রির নেতাগণের একজন ছিলেন তিনি। উমরাতুল কাযাতেও তিনি শরীফ ছিলেন। তিনি ঐ দিন রাসূলুল্লাহ (স)-এর-উষ্ট্রীর লাগাম আঁকড়াইয়া ধরিয়া প্রবেশ করিয়াছিলেন। এই সময় তাঁহার মুখের বাণী ছিল :
خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ
মৃতা দিবসে শাহাদাত বরণকারী নেতাগণের তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোমানদের সহিত লড়িতে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অভয় দিয়াছিলেন। তাঁহার শাহাদাত লাভ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) সাক্ষী দিয়াছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানাতী। রাসূলুল্লাহ (স) যখন তাঁহাদিগকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইতেছিলেন তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন :
فَثَبَّتَ اللهُ مَا آتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيْتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوْ
তাঁহার কবিতা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেন: وَأَنْتَ فَثَبَّتَكَ اللهُ “আল্লাহ তোমake অটল রাখুন”। হিশাম ইবন উরওয়া বলেন, وَدَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى قُتِلَ شَهِيدًا (আল্লাহ তাঁহাকে অবিচল রাখিবার ফলে তিনি শহীদ হইয়াছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়াছেন)। তাঁহার সম্পর্কে নিম্নোক্ত সনদে বর্ণিত আছে :
رَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ أَتَى رَسُولَ اللهِ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ فَسَمِعَهُ يَقُوْلُ اِجْلِسُوْا فَجَلَسَ مَكَانَهُ خَارِجًا مِنْ الْمَسْجِدِ حَتَّى فَرَغَ النَّاسُ مِنْ خُطْبَتِهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا عَلَى طواعية اللهِ وَطَوَاعِيَةِ رَسُولُه -
"আবদুর রাহমান ইব্ن আবী লায়লা হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ ইব্ন্ন রাওয়াহা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আগমন করিলেন। নবী করীম (স) তখন ভাষণ দিতেছিলেন। তিনি নবী করীম (স)-কে বলিতে শুনিলেন, "বসুন”। ফলে 'আবদুল্লাহ্ মসজিদের বাহিরে নিজ স্থানে বসিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ভাষণ যখন শেষ হইল তখন তাঁহার নিকট 'আবদুল্লাহর আগমনের খবর পৌছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছিলেনঃ 'আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের অনুসরণ করিবার তোমার লোভ আল্লাহ বৃদ্ধি করিয়া দিন"।
ইমাম আহমাদ হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ زِيَادِ النَّحْوِي عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ إِذَ لَقِيَ الرَّجُلَ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ تَعَالَ نُؤْمِنُ بِرَبَّنَا سَاعَةً فَقَالَ ذَاتَ يَوْمِ لِرَجُلٍ فَغَضِبَ الرَّجُلَ فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تُرَى ابْنَ رَوَاحَةَ يَرْغَبُ عَنْ إِيْمَانِكَ إِلَى إِيْمَانِ سَاعَةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ رَحِمَ اللهُ ابْنَ رَوَاحَةَ إِنَّهُ يُحِبُّ الْمَجَالِسَ الَّتِي تَبَاهَى بهَا الْمَلائِكَةُ.
"আনাস (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্ن রাওয়াহা তাহার সাথীগণের কোন লোকের সহিত যখন মিলিত হইতেন তখন বলিতেন, আস! আমরা আমাদের রব্ব-এর উপর কিয়ামত সম্পর্কে ঈমান আনি। এইরূপ তিনি একদা এক লোককে বলিলেনঃ লোকটি তাহা শুনিয়া রাগান্বিত হইয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি অবগত আছেন, রাওয়াহার পুত্র আপনার ঈমান আনয়ন করা হইতে বিমুখ হইয়া কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনিতেছে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্ রাওয়াহা পুত্রের উপর করুণা করুন। সে এই সকল মাজলিসকে ভালবাসে যেইগুলি লইয়া ফেরেস্তাগণ গৌরববোধ করেন।"
এই হাদীছটি অত্যন্ত অখ্যাত )غریب(। বায়হাকী অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
قَالَ الْبَيْهَقِيُّ حَدَّثَنَا الْحَاكِمُ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ قَالَ لِصَاحِبِ لَهُ تَعَالَ حَتَّى نُؤْمِنُ سَاعَةً قَالَ أَوَلَسْنَا بِمُؤْمِنِينَ قَالَ بَلَى وَلَكِنَّا تَذْكُرُ اللَّهَ فَتَزْدَادُ ايْمَانًا .
"আতা ইব্ن ইয়াসার (র) হইতে বর্ণিত। 'আবদুল্লাহ্ ইব্ن রাওয়াহা তাহার এক সাথীকে বলিলেন, আস! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি। লোকটি বুলিল আমরা কি বিশ্বাসী নই? তিনি বলিলেন, হাঁ, তবে আমরা আল্লাহ্র যিকির করিয়া ঈমান বৃদ্ধি করিব"।
হাফিজ আবুল কাসিম আল-লাকাই বা আল-আলকাই তদীয় সূত্রে শুরায়হ ইবন 'উবায়দ হইতে অনুরূপ একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উভয় সূত্রেই হাদীছটি মুরসাল। ইমাম বুখারী তাঁহার সহীহ গ্রন্থে বলিয়াছেন:
وَقَالَ ابْنَ مُعَاذِ اجْلِسَ بِنَا نُؤْمِنُ سَاعَةً. "ইবন মু'আয বলিলেন, আমাদিগের সহিত বসুন! আমরা কিয়ামতের উপর ঈমান আনি"।
সাহীহ বুখারীতে আবুদ দারদা (রা) হইতে বর্ণিত আছে: قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فِي حَرِّ شَدِيدٍ وَمَا فِيْنَا صَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. "আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত তীব্র গ্রীষ্মে এক সফরে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) ও 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের মধ্যে অন্য কেহ রোযাদার ছিল না"। রাসূলুল্লাহ (স)-এর শানে তাহার নিম্নোক্ত কবিতা ইমাম বুখারী উল্লেখ করিয়াছেন:
وَفِينَا رَسُولُ اللهِ نَتْلُوا كِتَابَهُ - إِذَا انْشَقَّ مَعْرُوفٌ مِنَ الْفَجْرِ سَاطِعُ يَبِيْتُ يُجَافِي جَنَّبَهُ عَنْ فِرَاشِهِ - إِذَا اسْتُثْقِلَتْ بِالْمُشْرِكِينَ الْمَضَاجِعُ آتَى بِالْهُدى بَعْدَ الْعَمَى فَقُلُوبُنَا بِهِ مُوقِنَاتٌ أَنَّ مَا قَالَ وَاقِعُ.
"আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হইয়াছেন আল্লাহ্র রাসূল, আমরা তাঁহার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব তিলাওয়াত করি। ভোর হইতে অধিক আলোকিত হইয়া যখন তাহার সৎ গুণাবলী ছড়াইয়া পড়িল"।
"বিছানা হইতে তিনি তাঁহার শরীর পৃথক রাখিয়া নিশি যাপন করিতেন, মুশরিকগণের নিদ্রাবিভোরে যখন বিছানাসমূহ ভারী হইয়া যাইত”
"গোমরাহীর পর যখন তিনি হিদায়াত লইয়া আসিলেন, আমাদের অন্তরসমূহ তখন তাহা বিশ্বাস করিল যে, তিনি যাহা বলিয়াছেন তাহা অবশ্য প্রতিফলিত হইবে"।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করিয়াছেন: قَالَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا عِمْرَانَ بْنِ مَيْسَرَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنِ عَنْ عَامِرٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَعْمِيَ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةً فَجَعَلَتْ أَخْتُهُ عَمْرَةٌ تَبْكِي وَاجبَلاهُ وكذا وكذا تُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَقَالَ حِيْنَ افَاقَ مَا قُلْتِ شَيْئًا إِلَّا قِبْلَ لِي أَنْتَ كَذَلِكَ.
"আন-নু'মান ইব্ن বাশীর (রা) বলেন, 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা বেহুঁশ হইয়া পড়িলে তাহার বোন 'আমরা ইহা বলিয়া কাঁদিতে লাগিলেনঃ হে পাহাড়সম, হে এইরূপ, এইরূপ, ইহা বারবার বলিতেছিলেন। তাহার জ্ঞান ফিরিয়া আসিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, তুমি আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলিতেছিলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলা হইতেছিল, তুমি কি এইরূপ এইরূপ ছিলে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৭-২৫৮)?"
📄 হাসান ইন্ন ছাবিত (রা)-এর মারছিয়া
মৃতা যুদ্ধের দিন হাসসান ইব্ন ছাবিত (রা) যায়দ ইবন হারিছা ও 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-এর উদ্দেশে শোক প্রকাশার্থে বলেন:
عَيْنُ جُودِى بِدَمْعِكَ الْمَنْزُورِ - وَاذْكِرِى فِي الرَّخَاءِ أَهْلَ الْقُبُورِ واذكرى مُؤْتَةَ وَمَا كَانَ فِيهَا - يَوْمَ رَاحُوا فِي وَقْعَةِ التَّغْوِيرِ حين راخُوا وَغَادَرُوا ثُمَّ زَيْداً - نِعْمَ مَاوَى الضَّرِيكِ وَالْمَأْسُورِ حِبُّ خَيْرُ الأَنَامِ طَراً جَمِيعًا - سَيِّدُ النَّاسِ حُبُّهُ فِي الصُّدُورِ ذَاكُمْ أَحْمَدُ الَّذى لا سواه - ذاكَ حَزْنِي لَهُ مَعًا وَسُرُوري إِنَّ زَيْدًا قَدْ كَانَ مِنَّا بِأَمْرٍ - لَيْسَ أَمْرَ الْمُكَذِّبِ الْمَغْرُورِ ثُمَّ جُودِي لِلْخَزْرَجِي بِدَمْعَ - سَيِّداً كَانَ ثُمَّ غَيْرَ نَزُورٍ قَدْ آتَانَا مِنْ قَتْلِهِمْ مَا كَفَانَا - فَبِحُزْنِ نَبِيْتُ غَيْرَ سُرُورٍ.
"হে নয়ন! তোমার শুকাইয়া যাওয়া অশ্রু প্রবাহিত করিতে উদারতা প্রদর্শন কর। সুসময়ে কবরবাসীদের কথা স্মরণ কর"।
"মৃতা ও তাহাতে যাহা সংঘটিত হইয়াছিল তাহা স্মরণ কর, যেইদিন পারস্পরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়াছিল"।
"যখন তাহারা চলিয়া আসিয়াছিল য়ায়দকে সেখানে রাখিয়া, অথচ উত্তম ঠিকানা লাভ করিলেন এই অসহায় বন্দী লোকটি"।
"সৃষ্টিকুলের সরদার সর্বোত্তম ব্যক্তির তিনি প্রিয়ভাজন, যাঁহার ভালবাসা প্রতিটি অন্তরে বিরাজমান"।
"তিনি হইলেন তোমাদের নবী আহমাদ, যাঁহার কোন জুড়ি নাই, যাহার শোক-দুঃখে ও আনন্দ-উৎফুল্লে আমিও একাত্মতা বোধ করি"।
"নিশ্চয় যায়দ আমাদের পক্ষ হইতে আমীর ছিলেন, যাহার নেতৃত্বে ছিল না কোন মিথ্যা বা প্রতারনা"।
অতঃপর (হে নয়ন!) খাযরাজী লোকটির ('আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা) জন্য অধিক অশ্রু বিসর্জন কর, যিনি ছিলেন জননেতা, চেষ্টার কোন কার্পণ্য করেন নাই।
"তাহাদের শহীদ হইবার যেই খবর আমাদের নিকট আসিয়াছে তাহা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা বিষাদে রাত্রি যাপন করি, একটুও আনন্দ পাই না”।
ইব্ন ইসহাক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, কায়স ইবনুল মুহাসসার আল-ইয়া'মুরী খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন: فَوَالله لا تَنْفَكُ نَفْسِي تَلُومُنى - عَلَى مَوْقِفِي وَالْخَيْلُ قَابِعَةٌ قَبْلُ وَقَفْتُ بِهَا لاَ مُسْتَجِيْراً فَنَافِداً - وَلَا مَانِعًا مَنْ كَانَ حُمَّ لَهُ الْقَتْلُ على أَنَّنِي آسَيْتُ نَفْسِي بِخَالِدٍ - الا خَالِدٌ فِي الْقَوْمِ لَيْسَ لَهُ مِثْلُ وَجَاشَتْ إِلَى أَنَفْسُ مِنْ النَّحْوِ جَعْفَرٍ - بِمُؤْتَةَ إِذَ لَا يَنْفَعُ النَّابِلَ النَّيْلُ وَضَمَّ إِلَيْنَا حَجْزَتَيْهِمْ كِلَيْهِمَا - مُهَاجِرَةً لَا مُشْرِكُونَ وَلَا عُزْلٌ
"আল্লাহ্র শপথ! আমার আত্মা আমার অবস্থানের উপর আমাকে অনবরত তিরস্কার করিতেছিল, যেই সময় অশ্বসমূহ সম্মুখপানে হাঁপাইতেছিল।
"আমি সেখানে থামিয়াছিলাম, না আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে যাহাতে আমার কার্যসিদ্ধি হয় এবং না যোদ্ধাদিগকে বারণকারীরূপে।
"তবে আমি খালিদের নেতৃত্বের কারণে নিজেকে সান্তনা দিলাম। খালিদ এমন এক ব্যক্তিত্ব জাতির মধ্যে যাহার তুলনা নাই"।
"মুতায় জা'ফারের পরিণতিতে আমার হৃদয় আবেগপ্রবণ হইয়া উঠিল। যখন তীর নিক্ষেপকারীর তীর কোন কাজে আসিতেছিল না"।
"খালিদ আমাদের নিকট যুদ্ধস্থলের দুই প্রান্তে অবস্থানরত সৈন্যদিগকে একত্র করিয়া দিলেন, ইহারা ছিল সবাই হিজরতকারী, মুশরিক নহে, অস্ত্রহীনও নহে"।
ইব্ন কাছীর এই প্রসঙ্গে বলেন, এই কবিতা দ্বারা ইব্ন ইসহাক তাঁহার অভিমত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিয়াছেন। তাঁহার অভিমত হইল, মুসলিম বাহিনীর স্বল্পতার ভয়ে খালিদ (রা) তাহাদিগকে রোমানদের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। ইহাকেই বিজয় বলিয়া আখ্যায়িত করা হইয়াছে। তবে ইব্ন কাছীর সঙ্গে সঙ্গে তাহার দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে রাসূলাল্লাহ (স) যেখানে বিজয় বলিয়াছেন সেখানে সম্ভাবনার দাবি উত্থাপন শোভা পায় না (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৯২)।
মৃতা যুদ্ধের দিন হাসসান ইব্ন ছাবিত (রা) যায়দ ইবন হারিছা ও 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-এর উদ্দেশে শোক প্রকাশার্থে বলেন:
عَيْنُ جُودِى بِدَمْعِكَ الْمَنْزُورِ - وَاذْكِرِى فِي الرَّخَاءِ أَهْلَ الْقُبُورِ واذكرى مُؤْتَةَ وَمَا كَانَ فِيهَا - يَوْمَ رَاحُوا فِي وَقْعَةِ التَّغْوِيرِ حين راخُوا وَغَادَرُوا ثُمَّ زَيْداً - نِعْمَ مَاوَى الضَّرِيكِ وَالْمَأْسُورِ حِبُّ خَيْرُ الأَنَامِ طَراً جَمِيعًا - سَيِّدُ النَّاسِ حُبُّهُ فِي الصُّدُورِ ذَاكُمْ أَحْمَدُ الَّذى لا سواه - ذاكَ حَزْنِي لَهُ مَعًا وَسُرُوري إِنَّ زَيْدًا قَدْ كَانَ مِنَّا بِأَمْرٍ - لَيْسَ أَمْرَ الْمُكَذِّبِ الْمَغْرُورِ ثُمَّ جُودِي لِلْخَزْرَجِي بِدَمْعَ - سَيِّداً كَانَ ثُمَّ غَيْرَ نَزُورٍ قَدْ آتَانَا مِنْ قَتْلِهِمْ مَا كَفَانَا - فَبِحُزْنِ نَبِيْتُ غَيْرَ سُرُورٍ.
"হে নয়ন! তোমার শুকাইয়া যাওয়া অশ্রু প্রবাহিত করিতে উদারতা প্রদর্শন কর। সুসময়ে কবরবাসীদের কথা স্মরণ কর"।
"মৃতা ও তাহাতে যাহা সংঘটিত হইয়াছিল তাহা স্মরণ কর, যেইদিন পারস্পরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়াছিল"।
"যখন তাহারা চলিয়া আসিয়াছিল য়ায়দকে সেখানে রাখিয়া, অথচ উত্তম ঠিকানা লাভ করিলেন এই অসহায় বন্দী লোকটি"।
"সৃষ্টিকুলের সরদার সর্বোত্তম ব্যক্তির তিনি প্রিয়ভাজন, যাঁহার ভালবাসা প্রতিটি অন্তরে বিরাজমান"।
"তিনি হইলেন তোমাদের নবী আহমাদ, যাঁহার কোন জুড়ি নাই, যাহার শোক-দুঃখে ও আনন্দ-উৎফুল্লে আমিও একাত্মতা বোধ করি"।
"নিশ্চয় যায়দ আমাদের পক্ষ হইতে আমীর ছিলেন, যাহার নেতৃত্বে ছিল না কোন মিথ্যা বা প্রতারনা"।
অতঃপর (হে নয়ন!) খাযরাজী লোকটির ('আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা) জন্য অধিক অশ্রু বিসর্জন কর, যিনি ছিলেন জননেতা, চেষ্টার কোন কার্পণ্য করেন নাই।
"তাহাদের শহীদ হইবার যেই খবর আমাদের নিকট আসিয়াছে তাহা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা বিষাদে রাত্রি যাপন করি, একটুও আনন্দ পাই না”
ইব্ন ইসহাক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, কায়স ইবনুল মুহাসসার আল-ইয়া'মুরী খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন: فَوَالله لا تَنْفَكُ نَفْسِي تَلُومُنى - عَلَى مَوْقِفِي وَالْخَيْلُ قَابِعَةٌ قَبْلُ وَقَفْتُ بِهَا لاَ مُسْتَجِيْراً فَنَافِداً - وَلَا مَانِعًا مَنْ كَانَ حُمَّ لَهُ الْقَتْلُ على أَنَّنِي آسَيْتُ نَفْسِي بِخَالِدٍ - الا خَالِدٌ فِي الْقَوْمِ لَيْسَ لَهُ مِثْلُ وَجَاشَتْ إِلَى أَنَفْسُ مِنْ النَّحْوِ جَعْفَرٍ - بِمُؤْتَةَ إِذَ لَا يَنْفَعُ النَّابِلَ النَّيْلُ وَضَمَّ إِلَيْنَا حَجْزَتَيْهِمْ كِلَيْهِمَا - مُهَاجِرَةً لَا مُشْرِكُونَ وَلَا عُزْلٌ
"আল্লাহ্র শপথ! আমার আত্মা আমার অবস্থানের উপর আমাকে অনবরত তিরস্কার করিতেছিল, যেই সময় অশ্বসমূহ সম্মুখপানে হাঁপাইতেছিল।
"আমি সেখানে থামিয়াছিলাম, না আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে যাহাতে আমার কার্যসিদ্ধি হয় এবং না যোদ্ধাদিগকে বারণকারীরূপে।
"তবে আমি খালিদের নেতৃত্বের কারণে নিজেকে সান্তনা দিলাম। খালিদ এমন এক ব্যক্তিত্ব জাতির মধ্যে যাহার তুলনা নাই"।
"মুতায় জা'ফারের পরিণতিতে আমার হৃদয় আবেগপ্রবণ হইয়া উঠিল। যখন তীর নিক্ষেপকারীর তীর কোন কাজে আসিতেছিল না"।
"খালিদ আমাদের নিকট যুদ্ধস্থলের দুই প্রান্তে অবস্থানরত সৈন্যদিগকে একত্র করিয়া দিলেন, ইহারা ছিল সবাই হিজরতকারী, মুশরিক নহে, অস্ত্রহীনও নহে”
ইব্ন কাছীর এই প্রসঙ্গে বলেন, এই কবিতা দ্বারা ইব্ন ইসহাক তাঁহার অভিমত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিয়াছেন। তাঁহার অভিমত হইল, মুসলিম বাহিনীর স্বল্পতার ভয়ে খালিদ (রা) তাহাদিগকে রোমানদের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। ইহাকেই বিজয় বলিয়া আখ্যায়িত করা হইয়াছে। তবে ইব্ন কাছীর সঙ্গে সঙ্গে তাহার দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে রাসূলাল্লাহ (স) যেখানে বিজয় বলিয়াছেন সেখানে সম্ভাবনার দাবি উত্থাপন শোভা পায় না (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৯২)।
মৃতা যুদ্ধের দিন হাসসান ইব্ন ছাবিত (রা) যায়দ ইবন হারিছা ও 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-এর উদ্দেশে শোক প্রকাশার্থে বলেন:
عَيْنُ جُودِى بِدَمْعِكَ الْمَنْزُورِ - وَاذْكُرِى فِي الرَّخَاءِ أَهْلَ الْقُبُورِ واذكرى مُؤْتَةَ وَمَا كَانَ فِيهَا - يَوْمَ رَاحُوا فِي وَقْعَةِ التَّغْوِيرِ حين راخُوا وَغَادَرُوا ثُمَّ زَيْداً - نِعْمَ مَاوَى الضَّرِيكِ وَالْمَأْسُورِ حِبُّ خَيْرُ الأَنَامِ طَراً جَمِيعًا - سَيِّدُ النَّاسِ حُبُّهُ فِي الصُّدُورِ ذَاكُمْ أَحْمَدُ الَّذى لا سواه - ذاكَ حَزْنِي لَهُ مَعًا وَسُرُوري إِنَّ زَيْدًا قَدْ كَانَ مِنَّا بِأَمْرٍ - لَيْسَ أَمْرَ الْمُكَذِّبِ الْمَغْرُورِ ثُمَّ جُودِي لِلْخَزْرَجِي بِدَمْعَ - سَيِّداً كَانَ ثُمَّ غَيْرَ نَزُورٍ قَدْ آتَانَا مِنْ قَتْلِهِمْ مَا كَفَانَا - فَبِحُزْنِ نَبِيْتُ غَيْرَ سُرُورٍ.
"হে নয়ন! তোমার শুকাইয়া যাওয়া অশ্রু প্রবাহিত করিতে উদারতা প্রদর্শন কর। সুসময়ে কবরবাসীদের কথা স্মরণ কর"।
"মৃতা ও তাহাতে যাহা সংঘটিত হইয়াছিল তাহা স্মরণ কর, যেইদিন পারস্পরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়াছিল"।
"যখন তাহারা চলিয়া আসিয়াছিল য়ায়দকে সেখানে রাখিয়া, অথচ উত্তম ঠিকানা লাভ করিলেন এই অসহায় বন্দী লোকটি"।
"সৃষ্টিকুলের সরদার সর্বোত্তম ব্যক্তির তিনি প্রিয়ভাজন, যাঁহার ভালবাসা প্রতিটি অন্তরে বিরাজমান"।
"তিনি হইলেন তোমাদের নবী আহমাদ, যাঁহার কোন জুড়ি নাই, যাহার শোক-দুঃখে ও আনন্দ-উৎফুল্লে আমিও একাত্মতা বোধ করি"।
"নিশ্চয় যায়দ আমাদের পক্ষ হইতে আমীর ছিলেন, যাহার নেতৃত্বে ছিল না কোন মিথ্যা বা প্রতারনা"।
অতঃপর (হে নয়ন!) খাযরাজী লোকটির ('আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা) জন্য অধিক অশ্রু বিসর্জন কর, যিনি ছিলেন জননেতা, চেষ্টার কোন কার্পণ্য করেন নাই।
"তাহাদের শহীদ হইবার যেই খবর আমাদের নিকট আসিয়াছে তাহা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা বিষাদে রাত্রি যাপন করি, একটুও আনন্দ পাই না”।
ইব্ন ইসহাক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, কায়স ইবনুল মুহাসসার আল-ইয়া'মুরী খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) সম্পর্কে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন: فَوَالله لا تَنْفَكُ نَفْسِي تَلُومُنى - عَلَى مَوْقِفِي وَالْخَيْلُ قَابِعَةٌ قَبْلُ وَقَفْتُ بِهَا لاَ مُسْتَجِيْراً فَنَافِداً - وَلَا مَانِعًا مَنْ كَانَ حُمَّ لَهُ الْقَتْلُ على أَنَّنِي آسَيْتُ نَفْسِي بِخَالِدٍ - الا خَالِدٌ فِي الْقَوْمِ لَيْسَ لَهُ مِثْلُ وَجَاشَتْ إِلَى أَنَفْسُ مِنْ النَّحْوِ جَعْفَرٍ - بِمُؤْتَةَ إِذَ لَا يَنْفَعُ النَّابِلَ النَّيْلُ وَضَمَّ إِلَيْنَا حَجْزَتَيْهِمْ كِلَيْهِمَا - مُهَاجِرَةً لَا مُشْرِكُونَ وَلَا عُزْلٌ
"আল্লাহ্র শপথ! আমার আত্মা আমার অবস্থানের উপর আমাকে অনবরত তিরস্কার করিতেছিল, যেই সময় অশ্বসমূহ সম্মুখপানে হাঁপাইতেছিল।
"আমি সেখানে থামিয়াছিলাম, না আশ্রয় লাভের উদ্দেশ্যে যাহাতে আমার কার্যসিদ্ধি হয় এবং না যোদ্ধাদিগকে বারণকারীরূপে।
"তবে আমি খালিদের নেতৃত্বের কারণে নিজেকে সান্তনা দিলাম। খালিদ এমন এক ব্যক্তিত্ব জাতির মধ্যে যাহার তুলনা নাই"।
"মুতায় জা'ফারের পরিণতিতে আমার হৃদয় আবেগপ্রবণ হইয়া উঠিল। যখন তীর নিক্ষেপকারীর তীর কোন কাজে আসিতেছিল না"।
"খালিদ আমাদের নিকট যুদ্ধস্থলের দুই প্রান্তে অবস্থানরত সৈন্যদিগকে একত্র করিয়া দিলেন, ইহারা ছিল সবাই হিজরতকারী, মুশরিক নহে, অস্ত্রহীনও নহে”।
ইব্ন কাছীর এই প্রসঙ্গে বলেন, এই কবিতা দ্বারা ইব্ন ইসহাক তাঁহার অভিমত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিয়াছেন। তাঁহার অভিমত হইল, মুসলিম বাহিনীর স্বল্পতার ভয়ে খালিদ (রা) তাহাদিগকে রোমানদের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। ইহাকেই বিজয় বলিয়া আখ্যায়িত করা হইয়াছে। তবে ইব্ন কাছীর সঙ্গে সঙ্গে তাহার দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে রাসূলাল্লাহ (স) যেখানে বিজয় বলিয়াছেন সেখানে সম্ভাবনার দাবি উত্থাপন শোভা পায় না (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০; ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৯২)।