📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মালিক ইবন যাফিলা-র হত্যা

📄 মালিক ইবন যাফিলা-র হত্যা


ইবন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন, কুতবা ইবন কাতাদা আল-আযরী (রা) মুসলিম সেনাবাহিনীর দক্ষিণাংশের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মালিক ইবন যাফিলার উপর আক্রমণ চালাইয়া তাহাকে হত্যা করিয়াছিলেন। যাফিলা শব্দের স্থলে কেহ কেহ রাফিলা উল্লেখ করিয়াছেন। মালিক ইবন যাফিলা ছিল বেদুঈন নাসারাদের নেতা। তাহাকে হত্যার পর কুতবা ইন্ন কাতাদা (রা) নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন:
طَعَنْتُ ابْنَ رَافِلَةَ بْنِ الآراش - بِرُمْحِ مَضَى فِيْهِ ثُمَّ انْحَطَمَ ضَرَبْتُ عَلى جيده ضَرْبَةً فَمَالَ كَمَا مَالَ عُصْنُ السَّلَم وَسُقْنَا نِسَاءَ بَنِي عَمْهِ - غَدَاةَ وَقُوقِينَ سَوْقَ النَّعَمِ.
"যাফিলা ইবনুল-আরাশের পুত্রের উপর আমি বল্লম দ্বারা এমনি আঘাত হানিলাম-যাহা তাহার দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া ভাঙ্গিয়া গেল।
"আমি তাহার ঘাড়ে এমনি আঘাত হানিলাম যাহার ফলে সে কাঁটাযুক্ত গাছের শাখার ন্যায় ঝুঁকিয়া পড়িল।
"অতঃপর তাহার চাচাত ভগ্নিগণকে সকালবেলা "রাক্কীন" নামক স্থান পর্যন্ত হাঁকাইয়া দিলাম যেইভাবে পশুপালকে হাঁকাইয়া দেওয়া হয়"।
ইব্‌ন হিশাম এই কবিতা সম্পর্কে বলেন, এইখানে ইবনুল আরাশ শব্দটি বর্ণনাকারী ইবন ইসহাক ছাড়া অন্য কেহ সংযোজন করিয়াছেন। তিনি আরও বলিয়াছেন, তৃতীয় পংক্তিটি খল্লাদ ইব্‌ন কুররার।
এই কবিতামালার উল্লেখ করিয়া ইবন কাছীর বলেন, আমরা যে মৃতা যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের মত পোষণ করি ইহা তাহার সমর্থন করে। কারণ সাধারণত দলপতি নিহত হইলে তাহার অধীনস্থ বাহিনী পলায়ন করে। ইহা ব্যতীত কবিতায় ইহাও স্পষ্ট যে, তাহাদের মহিলাদেরকে বন্দী করা হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২৫০; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৫)।

ইবন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন, কুতবা ইবন কাতাদা আল-আযরী (রা) মুসলিম সেনাবাহিনীর দক্ষিণাংশের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মালিক ইবন যাফিলার উপর আক্রমণ চালাইয়া তাহাকে হত্যা করিয়াছিলেন। যাফিলা শব্দের স্থলে কেহ কেহ রাফিলা উল্লেখ করিয়াছেন। মালিক ইবন যাফিলা ছিল বেদুঈন নাসারাদের নেতা। তাহাকে হত্যার পর কুতবা ইন্ন কাতাদা (রা) নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন:
طَعَنْتُ ابْنَ رَافِلَةَ بْنِ الآراش - بِرُمْحِ مَضَى فِيْهِ ثُمَّ انْحَطَمَ ضَرَبْتُ عَلى جيده ضَرْبَةً فَمَالَ كَمَا مَالَ عُصْنُ السَّلَم وَسُقْنَا نِسَاءَ بَنِي عَمْهِ - غَدَاةَ وَقُوقِينَ سَوْقَ النَّعَمِ.
"যাফিলা ইবনুল-আরাশের পুত্রের উপর আমি বল্লম দ্বারা এমনি আঘাত হানিলাম-যাহা তাহার দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া ভাঙ্গিয়া গেল।
"আমি তাহার ঘাড়ে এমনি আঘাত হানিলাম যাহার ফলে সে কাঁটাযুক্ত গাছের শাখার ন্যায় ঝুঁকিয়া পড়িল।
"অতঃপর তাহার চাচাত ভগ্নিগণকে সকালবেলা "রাক্কীন" নামক স্থান পর্যন্ত হাঁকাইয়া দিলাম যেইভাবে পশুপালকে হাঁকাইয়া দেওয়া হয়"।
ইব্‌ন হিশাম এই কবিতা সম্পর্কে বলেন, এইখানে ইবনুল আরাশ শব্দটি বর্ণনাকারী ইবন ইসহাক ছাড়া অন্য কেহ সংযোজন করিয়াছেন। তিনি আরও বলিয়াছেন, তৃতীয় পংক্তিটি খল্লাদ ইব্‌ন কুররার।
এই কবিতামালার উল্লেখ করিয়া ইবন কাছীর বলেন, আমরা যে মৃতা যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের মত পোষণ করি ইহা তাহার সমর্থন করে। কারণ সাধারণত দলপতি নিহত হইলে তাহার অধীনস্থ বাহিনী পলায়ন করে। ইহা ব্যতীত কবিতায় ইহাও স্পষ্ট যে, তাহাদের মহিলাদেরকে বন্দী করা হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২৫০; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৬৫)।

ইবন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন, কুতবা ইবন কাতাদা আল-আযরী (রা) মুসলিম সেনাবাহিনীর দক্ষিণাংশের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মালিক ইবন যাফিলার উপর আক্রমণ চালাইয়া তাহাকে হত্যা করিয়াছিলেন। যাফিলা শব্দের স্থলে কেহ কেহ রাফিলা উল্লেখ করিয়াছেন। মালিক ইবন যাফিলা ছিল বেদুঈন নাসারাদের নেতা। তাহাকে হত্যার পর কুতবা ইন্ন কাতাদা (রা) নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন:
طَعَنْتُ ابْنَ رَافِلَةَ بْنِ الآراش - بِرُمْحِ مَضَى فِيْهِ ثُمَّ انْحَطَمَ ضَرَبْتُ عَلى جيده ضَرْبَةً فَمَالَ كَمَا مَالَ عُصْنُ السَّلَم وَسُقْنَا نِسَاءَ بَنِي عَمْهِ - غَدَاةَ وَقُوقِينَ سَوْقَ النَّعَمِ.
"যাফিলা ইবনুল-আরাশের পুত্রের উপর আমি বল্লম দ্বারা এমনি আঘাত হানিলাম-যাহা তাহার দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া ভাঙ্গিয়া গেল।
"আমি তাহার ঘাড়ে এমনি আঘাত হানিলাম যাহার ফলে সে কাঁটাযুক্ত গাছের শাখার ন্যায় ঝুঁকিয়া পড়িল।
"অতঃপর তাহার চাচাত ভগ্নিগণকে সকালবেলা "রাক্কীন" নামক স্থান পর্যন্ত হাঁকাইয়া দিলাম যেইভাবে পশুপালকে হাঁকাইয়া দেওয়া হয়"।
ইব্‌ন হিশাম এই কবিতা সম্পর্কে বলেন, এইখানে ইবনুল আরাশ শব্দটি বর্ণনাকারী ইবন ইসহাক ছাড়া অন্য কেহ সংযোজন করিয়াছেন। তিনি আরও বলিয়াছেন, তৃতীয় পংক্তিটি খল্লাদ ইব্‌ন কুররার।
এই কবিতামালার উল্লেখ করিয়া ইবন কাছীর বলেন, আমরা যে মৃতা যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের মত পোষণ করি ইহা তাহার সমর্থন করে। কারণ সাধারণত দলপতি নিহত হইলে তাহার অধীনস্থ বাহিনী পলায়ন করে। ইহা ব্যতীত কবিতায় ইহাও স্পষ্ট যে, তাহাদের মহিলাদেরকে বন্দী করা হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২৫০; ইব্‌ن হিশام, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৬৫)।

ইবন ইসহাক উল্লেখ করিয়াছেন, কুতবা ইবন কাতাদা আল-আযরী (রা) মুসলিম সেনাবাহিনীর দক্ষিণাংশের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মালিক ইবন যাফিলার উপর আক্রমণ চালাইয়া তাহাকে হত্যা করিয়াছিলেন। যাফিলা শব্দের স্থলে কেহ কেহ রাফিলা উল্লেখ করিয়াছেন। মালিক ইবন যাফিলা ছিল বেদুঈন নাসারাদের নেতা। তাহাকে হত্যার পর কুতবা ইন্ন কাতাদা (রা) নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন:
طَعَنْتُ ابْنَ رَافِلَةَ بْنِ الآراش - بِرُمْحِ مَضَى فِيْهِ ثُمَّ انْحَطَمَ ضَرَبْتُ عَلى جيده ضَرْبَةً فَمَالَ كَمَا مَالَ عُصْنُ السَّلَم وَسُقْنَا نِسَاءَ بَنِي عَمْهِ - غَدَاةَ وَقُوقِينَ سَوْقَ النَّعَمِ.
"যাফিলা ইবনুল-আরাশের পুত্রের উপর আমি বল্লম দ্বারা এমনি আঘাত হানিলাম-যাহা তাহার দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া ভাঙ্গিয়া গেল।
"আমি তাহার ঘাড়ে এমনি আঘাত হানিলাম যাহার ফলে সে কাঁটাযুক্ত গাছের শাখার ন্যায় ঝুঁকিয়া পড়িল।
"অতঃপর তাহার চাচাত ভগ্নিগণকে সকালবেলা "রাক্কীন" নামক স্থান পর্যন্ত হাঁকাইয়া দিলাম যেইভাবে পশুপালকে হাঁকাইয়া দেওয়া হয়"।
ইব্‌ن হিশাম এই কবিতা সম্পর্কে বলেন, এইখানে ইবনুল আরাশ শব্দটি বর্ণনাকারী ইবন ইসহাক ছাড়া অন্য কেহ সংযোজন করিয়াছেন। তিনি আরও বলিয়াছেন, তৃতীয় পংক্তিটি খল্লাদ ইব্‌ن কুররার।
এই কবিতামালার উল্লেখ করিয়া ইবন কাছীর বলেন, আমরা যে মৃতা যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের মত পোষণ করি ইহা তাহার সমর্থন করে। কারণ সাধারণত দলপতি নিহত হইলে তাহার অধীনস্থ বাহিনী পলায়ন করে। ইহা ব্যতীত কবিতায় ইহাও স্পষ্ট যে, তাহাদের মহিলাদেরকে বন্দী করা হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২৫০; ইব্‌ن হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাদাছ গোত্রের মহিলা জ্যোতিষীর সতর্কবাণী

📄 হাদাছ গোত্রের মহিলা জ্যোতিষীর সতর্কবাণী


ইব্‌ন ইসহাক বলেন, হাদাছ গোত্রীয় জনৈক মহিলা জ্যোতিষী রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাহিনীর আগমন সংবাদ শুনিয়া তাহার স্বগোত্র হাদাছ ও উহার শাখাগোত্র বানু গামের লোকজনকে সতর্ক করিয়া দিয়া বলে:
أَنْذِرُكُمْ قَوْمًا خَزْرا يَنْظُرُونَ شَدْرًا وَيَقُودُونَ الْخَيْلَ تَتْرَى وَيُهْرِيقُوْنَ دَمَّا عَكْرًا.
"আমি তোমাদিগকে এমন এক জাতি সম্পর্কে সতর্ক করিতেছি যাহারা সদন্তে তাকায় এবং ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে সারি সারি অশ্ব হাঁকাইয়া চলে, তাহারা রক্তপাত ঘটায় বিভিন্নভাবে”।
তাহার গোত্র এই কথা গ্রহণ করিয়া সতর্ক হয়। তাহারা বানূ লাখম গোত্রের সংশ্রব হইতে সরিয়া দাঁড়ায়। ফলে হাদাছ গোত্রের মধ্যে বানু গানন্ম সর্বাধিক সমৃদ্ধিশালী হইয়া উঠে। অপরদিকে হাদাছ গোত্রের যাহারা যুদ্ধে ইন্ধন যোগাইয়াছিল তাহারা হইল বানু ছা'লাবা। ইহারা বেশী দিন তাহাদিগের অস্তিত্ব রক্ষা করিতে সক্ষম হয় নাই। ক্রমান্বয়ে ইহাদিগের জনবল হ্রাস
পাইতে থাকে। যাহা হউক, খালিদ (রা) যখন লোকদিগকে লইয়া প্রত্যাবর্তন করিধার ইচ্ছা করেন তখন তিনি কাফেলাসহ প্রত্যাবর্তন করিলেন (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ, ২৬৫, ২৬৬)।
মৃতা-র শহীদগণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন: ইবন সা'দ তদীয় সূত্রে এই সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
وَقَالَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ فَشَقٌ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَصَلَّى الظُّهْرَ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ عَلَى الْقَوْمِ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسُ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلكَ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلِكَ ثُمَّ صَلَّى العَتَمَةَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ صَلَاةُ الصَّبْحِ دَخَلَ الْمَسْجِدَ ثُمَّ تَبَسَّمَ وَكَانَ تِلْكَ السَّاعَهُ لَا يَقُومُ إِلَيْهِ إِنَّاسَ مِّنْ نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ حَتَّى يُصَلَّى الْغَدَاةَ فَقَالَ لَهُ الْقَوْمُ حِينَ تَبَسَّمَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ بِأَنْفُسِنَا أَنْتَ مَا يَعْلَمُ الا اللهُ مَا كَانَ بِنَا مِنَ الْوُجد مُنْذُ رَأَيْنَا مِنْكَ الَّذى رَأَيْنَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ كَانَ الَّذِي رَأَيْتُمْ مِنِّي أَنَّهُ أَحْزَنَنِي قَتْلَ أَصْحَابِي حَتَّى رَأَيْتُهُمْ فِي الْجَنَّةِ اخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ وَرَأَيْتُ فِي بَعْضِهِمْ إِعْرَاضًا كَأَنَّهُ كَرِهَ السَّيْفَ وَرَأَيْتُ جَعْفَرًا مَلَكًا ذَا جَنَاحَيْنِ مُضَرَّجًا بِالدِّمَاءِ مَصْبُونَ الْقَوَادِمِ.
"বর্ণনাকারী বলেন, ইহার পর আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া তাহাকে মুসলিম বাহিনীর বিপর্যয় সম্পর্কে অবহিত করিলাম। তিনি তাহা শুনিয়া এতই মর্মাহত হইলেন যে, যুহরের সালাত আদায় করিয়াই গৃহে প্রবেশ করিলেন। অথচ তাঁহার অভ্যাস ছিল, যুহরের সালাত আদায় করিবার পর দাঁড়াইয়া দুই রাক'আত সুন্নাত আদায় করিতেন, অতঃপর লোকদিগের দিকে মুখ করিয়া বসিতেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর মর্মবেদনা দেখিয়া লোকজনও আতংকিত হইল। ইহার পর আসরের সালাত আদায় করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) পূর্বের মত আচরণ করিলেন। তিনি মাগরিব ও 'ইশার সালাতের পরও তাহাই করিলেন। ফজরের সালাতের সময় হইলে রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে প্রবেশ করিয়া মুচকি হাসিলেন। এই সময় কোন লোক মসজিদের কোন প্রান্ত হইতে তাঁহার নিকট আসিত না, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি ফজরের সালাত আদায় না করিতেন। তাঁহার মুচকি হাসি দেখিয়া লোকজন বলিল, হে আল্লাহ্ নবী! আমাদের প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক! আপনার এই অবস্থা দেখিবার পর আমাদের যেই হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা হইয়াছিল তাহা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেহ জানে না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তোমরা আমাকে এই অবস্থায় দেখিয়াছ এই কারণে যে, আমার সাহাবীদিগের নিহত হওয়ায় আমি বিষণ্ণ হইয়াছিলাম। এমতাবস্থায় আমি স্বপ্নে দেখিলাম, তাহারা জান্নাতে ভাই ভাই হিসাবে সামনা সামনি আসনে উপবিষ্ট। তাহাদের কোন একজনের আসন কিছুটা বক্র
দেখিলাম যেন সে তরবারি গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। আমি জা'ফারকে দেখিলাম দুইটি বাহুবিশিষ্ট ফেরেশতারূপে রক্তে রঞ্জিত পদযুগলসহ” (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৯-১৩০)।
এই রিওয়ায়াত ইবন সা'দ নিজস্ব সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। ইহার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোন কথা বলেন নাই। তবে ইহাতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাসমূহ হইতে কিছুটা বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন বুখারীসহ বিখ্যাত হাদীছ গ্রন্থরাজিতে রহিয়াছে, সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) শহীদ হইয়াছিলেন। কিন্তু উক্ত রিওয়ায়াতে দেখা যায়, জা'ফার ইবন আবী তালিব (রা) সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া শাহাদাত লাভ করিয়াছিলেন। রিওয়ায়াতটি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবার পর মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করিয়াছিল। যাহা বুখারীর রিওয়ায়াত-
ثُمَّ أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفَ اللَّهِ فَفَتَحَ اللَّه عَلَيْهِ.
এর পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে। এই বর্ণনাটি ছাড়াও শুধু রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক মনোনীত পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির জান্নাতে উচ্চাসন লাভ সম্পর্কিত নিম্নোক্ত বর্ণনাটিও এখানে দেওয়া হইল। ইহাও রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন ছিল।
হাফিজ আবু ষুর'আর দালাইলুন নুবুওয়াত গ্রন্থে একটি হাদীছের শেষ অংশে আছে: ثُمَّ أَشْرَفًا بِي شَرَفًا فَإِذَا نَفُرُ ثَلَاثَةُ يَشْرَبُونَ مِنْ خَمْرٍ لَّهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَا هذا جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ.
"তাহারা দুইজনে আমাকে একটি উচু স্থানে লইয়া গেল। আমি সেখানে তিন ব্যক্তিকে দেখিলাম, তাহারা শরাব পান করিতেছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহারা কাহারা? তাহারা উত্তর দিল, ইহারা হইলেন জা'ফার ইব্‌ন আবূ তালিব, যায়দ ইবন হারিছা এবং 'আবদুল্লাহ ইব্‌ রাওয়াহা (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯-২৬০)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, হাদাছ গোত্রীয় জনৈক মহিলা জ্যোতিষী রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাহিনীর আগমন সংবাদ শুনিয়া তাহার স্বগোত্র হাদাছ ও উহার শাখাগোত্র বানু গামের লোকজনকে সতর্ক করিয়া দিয়া বলে:
أَنْذِرُكُمْ قَوْمًا خَزْرا يَنْظُرُونَ شَدْرًا وَيَقُودُونَ الْخَيْلَ تَتْرَى وَيُهْرِيقُوْنَ دَمَّا عَكْرًا.
"আমি তোমাদিগকে এমন এক জাতি সম্পর্কে সতর্ক করিতেছি যাহারা সদন্তে তাকায় এবং ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে সারি সারি অশ্ব হাঁকাইয়া চলে, তাহারা রক্তপাত ঘটায় বিভিন্নভাবে”।
তাহার গোত্র এই কথা গ্রহণ করিয়া সতর্ক হয়। তাহারা বানূ লাখম গোত্রের সংশ্রব হইতে সরিয়া দাঁড়ায়। ফলে হাদাছ গোত্রের মধ্যে বানু গানন্ম সর্বাধিক সমৃদ্ধিশালী হইয়া উঠে। অপরদিকে হাদাছ গোত্রের যাহারা যুদ্ধে ইন্ধন যোগাইয়াছিল তাহারা হইল বানু ছা'লাবা। ইহারা বেশী দিন তাহাদিগের অস্তিত্ব রক্ষা করিতে সক্ষম হয় নাই। ক্রমান্বয়ে ইহাদিগের জনবল হ্রাস পাইতে থাকে। যাহা হউক, খালিদ (রা) যখন লোকদিগকে লইয়া প্রত্যাবর্তন করিধার ইচ্ছা করেন তখন তিনি কাফেলাসহ প্রত্যাবর্তন করিলেন (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ, ২৬৫, ২৬৬)।
মৃতা-র শহীদগণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন: ইবন সা'দ তদীয় সূত্রে এই সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
وَقَالَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ فَشَقٌ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَصَلَّى الظُّهْرَ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ عَلَى الْقَوْمِ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسُ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلكَ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلِكَ ثُمَّ صَلَّى العَتَمَةَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ صَلَاةُ الصَّبْحِ دَخَلَ الْمَسْجِدَ ثُمَّ تَبَسَّمَ وَكَانَ تِلْكَ السَّاعَهُ لَا يَقُومُ إِلَيْهِ إِنَّاسَ مِّنْ نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ حَتَّى يُصَلَّى الْغَدَاةَ فَقَالَ لَهُ الْقَوْمُ حِينَ تَبَسَّمَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ بِأَنْفُسِنَا أَنْتَ مَا يَعْلَمُ الا اللهُ مَا كَانَ بِنَا مِنَ الْوُجد مُنْذُ رَأَيْنَا مِنْكَ الَّذى رَأَيْنَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ كَانَ الَّذِي رَأَيْتُمْ مِنِّي أَنَّهُ أَحْزَنَنِي قَتْلَ أَصْحَابِي حَتَّى رَأَيْتُهُمْ فِي الْجَنَّةِ اخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ وَرَأَيْتُ فِي بَعْضِهِمْ إِعْرَاضًا كَأَنَّهُ كَرِهَ السَّيْفَ وَرَأَيْتُ جَعْفَرًا مَلَكًا ذَا جَنَاحَيْنِ مُضَرَّجًا بِالدِّمَاءِ مَصْبُونَ الْقَوَادِمِ.
"বর্ণনাকারী বলেন, ইহার পর আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া তাহাকে মুসলিম বাহিনীর বিপর্যয় সম্পর্কে অবহিত করিলাম। তিনি তাহা শুনিয়া এতই মর্মাহত হইলেন যে, যুহরের সালাত আদায় করিয়াই গৃহে প্রবেশ করিলেন। অথচ তাঁহার অভ্যাস ছিল, যুহরের সালাত আদায় করিবার পর দাঁড়াইয়া দুই রাক'আত সুন্নাত আদায় করিতেন, অতঃপর লোকদিগের দিকে মুখ করিয়া বসিতেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর মর্মবেদনা দেখিয়া লোকজনও আতংকিত হইল। ইহার পর আসরের সালাত আদায় করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) পূর্বের মত আচরণ করিলেন। তিনি মাগরিব ও 'ইশার সালাতের পরও তাহাই করিলেন। ফজরের সালাতের সময় হইলে রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে প্রবেশ করিয়া মুচকি হাসিলেন। এই সময় কোন লোক মসজিদের কোন প্রান্ত হইতে তাঁহার নিকট আসিত না, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি ফজরের সালাত আদায় না করিতেন। তাঁহার মুচকি হাসি দেখিয়া লোকজন বলিল, হে আল্লাহ্ নবী! আমাদের প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক! আপনার এই অবস্থা দেখিবার পর আমাদের যেই হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা হইয়াছিল তাহা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেহ জানে না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তোমরা আমাকে এই অবস্থায় দেখিয়াছ এই কারণে যে, আমার সাহাবীদিগের নিহত হওয়ায় আমি বিষণ্ণ হইয়াছিলাম। এমতাবস্থায় আমি স্বপ্নে দেখিলাম, তাহারা জান্নাতে ভাই ভাই হিসাবে সামনা সামনি আসনে উপবিষ্ট। তাহাদের কোন একজনের আসন কিছুটা বক্র দেখিলাম যেন সে তরবারি গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। আমি জা'ফারকে দেখিলাম দুইটি বাহুবিশিষ্ট ফেরেশতারূপে রক্তে রঞ্জিত পদযুগলসহ” (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৯-১৩০)।
এই রিওয়ায়াত ইবন সা'দ নিজস্ব সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। ইহার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোন কথা বলেন নাই। তবে ইহাতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাসমূহ হইতে কিছুটা বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন বুখারীসহ বিখ্যাত হাদীছ গ্রন্থরাজিতে রহিয়াছে, সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) শহীদ হইয়াছিলেন। কিন্তু উক্ত রিওয়ায়াতে দেখা যায়, জা'ফার ইবন আবী তালিব (রা) সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া শাহাদাত লাভ করিয়াছিলেন। রিওয়ায়াতটি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবার পর মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করিয়াছিল। যাহা বুখারীর রিওয়ায়াত-
ثُمَّ أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفَ اللَّهِ فَفَتَحَ اللَّه عَلَيْهِ.
এর পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে। এই বর্ণনাটি ছাড়াও শুধু রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক মনোনীত পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির জান্নাতে উচ্চাসন লাভ সম্পর্কিত নিম্নোক্ত বর্ণনাটিও এখানে দেওয়া হইল। ইহাও রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন ছিল।
হাফিজ আবু ষুর'আর দালাইলুন নুবুওয়াত গ্রন্থে একটি হাদীছের শেষ অংশে আছে:
ثُمَّ أَشْرَفًا بِي شَرَفًا فَإِذَا نَفُرُ ثَلَاثَةُ يَشْرَبُونَ مِنْ خَمْرٍ لَّهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَا هذا جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ.
"তাহারা দুইজনে আমাকে একটি উচু স্থানে লইয়া গেল। আমি সেখানে তিন ব্যক্তিকে দেখিলাম, তাহারা শরাব পান করিতেছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহারা কাহারা? তাহারা উত্তর দিল, ইহারা হইলেন জা'ফার ইব্‌ন আবূ তালিব, যায়দ ইবন হারিছা এবং 'আবদুল্লাহ ইব্‌ রাওয়াহা (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯-২৬০)।

ইব্‌ن ইসহাক বলেন, হাদাছ গোত্রীয় জনৈক মহিলা জ্যোতিষী রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাহিনীর আগমন সংবাদ শুনিয়া তাহার স্বগোত্র হাদাছ ও উহার শাখাগোত্র বানু গামের লোকজনকে সতর্ক করিয়া দিয়া বলে:
أَنْذِرُكُمْ قَوْمًا خَزْرا يَنْظُرُونَ شَدْرًا وَيَقُودُونَ الْخَيْلَ تَتْرَى وَيُهْرِيقُوْنَ دَمَّا عَكْرًا.
"আমি তোমাদিগকে এমন এক জাতি সম্পর্কে সতর্ক করিতেছি যাহারা সদন্তে তাকায় এবং ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে সারি সারি অশ্ব হাঁকাইয়া চলে, তাহারা রক্তপাত ঘটায় বিভিন্নভাবে”।
তাহার গোত্র এই কথা গ্রহণ করিয়া সতর্ক হয়। তাহারা বানূ লাখম গোত্রের সংশ্রব হইতে সরিয়া দাঁড়ায়। ফলে হাদাছ গোত্রের মধ্যে বানু গানন্ম সর্বাধিক সমৃদ্ধিশালী হইয়া উঠে। অপরদিকে হাদাছ গোত্রের যাহারা যুদ্ধে ইন্ধন যোগাইয়াছিল তাহারা হইল বানু ছা'লাবা। ইহারা বেশী দিন তাহাদিগের অস্তিত্ব রক্ষা করিতে সক্ষম হয় নাই। ক্রমান্বয়ে ইহাদিগের জনবল হ্রাস পাইতে থাকে। যাহা হউক, খালিদ (রা) যখন লোকদিগকে লইয়া প্রত্যাবর্তন করিধার ইচ্ছা করেন তখন তিনি কাফেলাসহ প্রত্যাবর্তন করিলেন (ইবন হিশام, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩খ, ২৬৫, ২৬৬)।
মৃতা-র শহীদগণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন: ইবন সা'দ তদীয় সূত্রে এই সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
وَقَالَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ فَشَقٌ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَصَلَّى الظُّهْرَ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ عَلَى الْقَوْمِ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسُ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلكَ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلِكَ ثُمَّ صَلَّى العَتَمَةَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ صَلَاةُ الصَّبْحِ دَخَلَ الْمَسْجِدَ ثُمَّ تَبَسَّمَ وَكَانَ تِلْكَ السَّاعَهُ لَا يَقُومُ إِلَيْهِ إِنَّاسَ مِّنْ نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ حَتَّى يُصَلَّى الْغَدَاةَ فَقَالَ لَهُ الْقَوْمُ حِينَ تَبَسَّمَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ بِأَنْفُسِنَا أَنْتَ مَا يَعْلَمُ الا اللهُ مَا كَانَ بِنَا مِنَ الْوُجد مُنْذُ رَأَيْنَا مِنْكَ الَّذى رَأَيْنَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ كَانَ الَّذِي رَأَيْتُمْ مِنِّي أَنَّهُ أَحْزَنَنِي قَتْلَ أَصْحَابِي حَتَّى رَأَيْتُهُمْ فِي الْجَنَّةِ اخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ وَرَأَيْتُ فِي بَعْضِهِمْ إِعْرَاضًا كَأَنَّهُ كَرِهَ السَّيْفَ وَرَأَيْتُ جَعْفَرًا مَلَكًا ذَا جَنَاحَيْنِ مُضَرَّجًا بِالدِّمَاءِ مَصْبُونَ الْقَوَادِمِ.
"বর্ণনাকারী বলেন, ইহার পর আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া তাহাকে মুসলিম বাহিনীর বিপর্যয় সম্পর্কে অবহিত করিলাম। তিনি তাহা শুনিয়া এতই মর্মাহত হইলেন যে, যুহরের সালাত আদায় করিয়াই গৃহে প্রবেশ করিলেন। অথচ তাঁহার অভ্যাস ছিল, যুহরের সালাত আদায় করিবার পর দাঁড়াইয়া দুই রাক'আত সুন্নাত আদায় করিতেন, অতঃপর লোকদিগের দিকে মুখ করিয়া বসিতেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর মর্মবেদনা দেখিয়া লোকজনও আতংকিত হইল। ইহার পর আসরের সালাত আদায় করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) পূর্বের মত আচরণ করিলেন। তিনি মাগরিব ও 'ইশার সালাতের পরও তাহাই করিলেন। ফজরের সালাতের সময় হইলে রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে প্রবেশ করিয়া মুচকি হাসিলেন। এই সময় কোন লোক মসজিদের কোন প্রান্ত হইতে তাঁহার নিকট আসিত না, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি ফজরের সালাত আদায় না করিতেন। তাঁহার মুচকি হাসি দেখিয়া লোকজন বলিল, হে আল্লাহ্ নবী! আমাদের প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক! আপনার এই অবস্থা দেখিবার পর আমাদের যেই হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা হইয়াছিল তাহা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেহ জানে না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তোমরা আমাকে এই অবস্থায় দেখিয়াছ এই কারণে যে, আমার সাহাবীদিগের নিহত হওয়ায় আমি বিষণ্ণ হইয়াছিলাম। এমতাবস্থায় আমি স্বপ্নে দেখিলাম, তাহারা জান্নাতে ভাই ভাই হিসাবে সামনা সামনি আসনে উপবিষ্ট। তাহাদের কোন একজনের আসন কিছুটা বক্র দেখিলাম যেন সে তরবারি গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। আমি জা'ফারকে দেখিলাম দুইটি বাহুবিশিষ্ট ফেরেশতারূপে রক্তে রঞ্জিত পদযুগলসহ” (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৯-১৩০)।
এই রিওয়ায়াত ইবন সা'দ নিজস্ব সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। ইহার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোন কথা বলেন নাই। তবে ইহাতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাসমূহ হইতে কিছুটা বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন বুখারীসহ বিখ্যাত হাদীছ গ্রন্থরাজিতে রহিয়াছে, সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া যায়দ ইব্‌ن হারিছা (রা) শহীদ হইয়াছিলেন। কিন্তু উক্ত রিওয়ায়াতে দেখা যায়, জা'ফার ইবন আবী তালিব (রা) সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া শাহাদাত লাভ করিয়াছিলেন। রিওয়ায়াতটি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবার পর মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করিয়াছিল। যাহা বুখারীর রিওয়ায়াত-
ثُمَّ أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفِ اللَّهِ فَفَتَحَ اللَّه عَلَيْهِ.
এর পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে। এই বর্ণনাটি ছাড়াও শুধু রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক মনোনীত পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির জান্নাতে উচ্চাসন লাভ সম্পর্কিত নিম্নোক্ত বর্ণনাটিও এখানে দেওয়া হইল। ইহাও রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন ছিল।
হাফিজ আবু ষুর'আর দালাইলুন নুবুওয়াত গ্রন্থে একটি হাদীছের শেষ অংশে আছে: ثُمَّ أَشْرَفًا بِي شَرَفًا فَإِذَا نَفُرُ ثَلَاثَةُ يَشْرَبُونَ مِنْ خَمْرٍ لَّهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَا هذا جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ.
"তাহারা দুইজনে আমাকে একটি উচু স্থানে লইয়া গেল। আমি সেখানে তিন ব্যক্তিকে দেখিলাম, তাহারা শরাব পান করিতেছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহারা কাহারা? তাহারা উত্তর দিল, ইহারা হইলেন জা'ফার ইব্‌ن আবূ তালিব, যায়দ ইবন হারিছা এবং 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯-২৬০)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, হাদাছ গোত্রীয় জনৈক মহিলা জ্যোতিষী রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাহিনীর আগমন সংবাদ শুনিয়া তাহার স্বগোত্র হাদাছ ও উহার শাখাগোত্র বানু গামের লোকজনকে সতর্ক করিয়া দিয়া বলে:
أَنْذِرُكُمْ قَوْمًا خَزْرا يَنْظُرُونَ شَدْرًا وَيَقُودُونَ الْخَيْلَ تَتْرَى وَيُهْرِيقُوْنَ دَمَّا عَكْرًا.
"আমি তোমাদিগকে এমন এক জাতি সম্পর্কে সতর্ক করিতেছি যাহারা সদন্তে তাকায় এবং ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে সারি সারি অশ্ব হাঁকাইয়া চলে, তাহারা রক্তপাত ঘটায় বিভিন্নভাবে”।
তাহার গোত্র এই কথা গ্রহণ করিয়া সতর্ক হয়। তাহারা বানূ লাখম গোত্রের সংশ্রব হইতে সরিয়া দাঁড়ায়। ফলে হাদাছ গোত্রের মধ্যে বানু গানন্ম সর্বাধিক সমৃদ্ধিশালী হইয়া উঠে। অপরদিকে হাদাছ গোত্রের যাহারা যুদ্ধে ইন্ধন যোগাইয়াছিল তাহারা হইল বানু ছা'লাবা। ইহারা বেশী দিন তাহাদিগের অস্তিত্ব রক্ষা করিতে সক্ষম হয় নাই। ক্রমান্বয়ে ইহাদিগের জনবল হ্রাস পাইতে থাকে। যাহা হউক, খালিদ (রা) যখন লোকদিগকে লইয়া প্রত্যাবর্তন করিধার ইচ্ছা করেন তখন তিনি কাফেলাসহ প্রত্যাবর্তন করিলেন (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ, ২৬৫, ২৬৬)।
মৃতা-র শহীদগণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন: ইবন সা'দ তদীয় সূত্রে এই সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
وَقَالَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ فَشَقٌ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَصَلَّى الظُّهْرَ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ عَلَى الْقَوْمِ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسُ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلكَ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذلِكَ ثُمَّ صَلَّى العَتَمَةَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ صَلَاةُ الصَّبْحِ دَخَلَ الْمَسْجِدَ ثُمَّ تَبَسَّمَ وَكَانَ تِلْكَ السَّاعَهُ لَا يَقُومُ إِلَيْهِ إِنَّاسَ مِّنْ نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ حَتَّى يُصَلَّى الْغَدَاةَ فَقَالَ لَهُ الْقَوْمُ حِينَ تَبَسَّمَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ بِأَنْفُسِنَا أَنْتَ مَا يَعْلَمُ الا اللهُ مَا كَانَ بِنَا مِنَ الْوُجد مُنْذُ رَأَيْنَا مِنْكَ الَّذى رَأَيْنَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ كَانَ الَّذِي رَأَيْتُمْ مِنِّي أَنَّهُ أَحْزَنَنِي قَتْلَ أَصْحَابِي حَتَّى رَأَيْتُهُمْ فِي الْجَنَّةِ اخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ وَرَأَيْتُ فِي بَعْضِهِمْ إِعْرَاضًا كَأَنَّهُ كَرِهَ السَّيْفَ وَرَأَيْتُ جَعْفَرًا مَلَكًا ذَا جَنَاحَيْنِ مُضَرَّجًا بِالدِّمَاءِ مَصْبُونَ الْقَوَادِمِ.
"বর্ণনাকারী বলেন, ইহার পর আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া তাহাকে মুসলিম বাহিনীর বিপর্যয় সম্পর্কে অবহিত করিলাম। তিনি তাহা শুনিয়া এতই মর্মাহত হইলেন যে, যুহরের সালাত আদায় করিয়াই গৃহে প্রবেশ করিলেন। অথচ তাঁহার অভ্যাস ছিল, যুহরের সালাত আদায় করিবার পর দাঁড়াইয়া দুই রাক'আত সুন্নাত আদায় করিতেন, অতঃপর লোকদিগের দিকে মুখ করিয়া বসিতেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর মর্মবেদনা দেখিয়া লোকজনও আতংকিত হইল। ইহার পর আসরের সালাত আদায় করিয়া রাসূলুল্লাহ (স) পূর্বের মত আচরণ করিলেন। তিনি মাগরিব ও 'ইশার সালাতের পরও তাহাই করিলেন। ফজরের সালাতের সময় হইলে রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে প্রবেশ করিয়া মুচকি হাসিলেন। এই সময় কোন লোক মসজিদের কোন প্রান্ত হইতে তাঁহার নিকট আসিত না, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি ফজরের সালাত আদায় না করিতেন। তাঁহার মুচকি হাসি দেখিয়া লোকজন বলিল, হে আল্লাহ্ নবী! আমাদের প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক! আপনার এই অবস্থা দেখিবার পর আমাদের যেই হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা হইয়াছিল তাহা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেহ জানে না। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তোমরা আমাকে এই অবস্থায় দেখিয়াছ এই কারণে যে, আমার সাহাবীদিগের নিহত হওয়ায় আমি বিষণ্ণ হইয়াছিলাম। এমতাবস্থায় আমি স্বপ্নে দেখিলাম, তাহারা জান্নাতে ভাই ভাই হিসাবে সামনা সামনি আসনে উপবিষ্ট। তাহাদের কোন একজনের আসন কিছুটা বক্র দেখিলাম যেন সে তরবারি গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। আমি জা'ফারকে দেখিলাম দুইটি বাহুবিশিষ্ট ফেরেশতারূপে রক্তে রঞ্জিত পদযুগলসহ” (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৯-১৩০)।
এই রিওয়ায়াত ইবন সা'দ নিজস্ব সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। ইহার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তিনি কোন কথা বলেন নাই। তবে ইহাতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাসমূহ হইতে কিছুটা বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন বুখারীসহ বিখ্যাত হাদীছ গ্রন্থরাজিতে রহিয়াছে, সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) শহীদ হইয়াছিলেন। কিন্তু উক্ত রিওয়ায়াতে দেখা যায়, জা'ফার ইবন আবী তালিব (রা) সর্বপ্রথম অস্ত্রধারণ করিয়া শাহাদাত লাভ করিয়াছিলেন। রিওয়ায়াতটি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবার পর মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করিয়াছিল। যাহা বুখারীর রিওয়ায়াত-
ثُمَّ أَخَذَ الرَّايَةَ سَيْفٌ مِنْ سُيُوفِ اللَّهِ فَفَتَحَ اللَّه عَلَيْهِ.
এর পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে। এই বর্ণনাটি ছাড়াও শুধু রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক মনোনীত পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির জান্নাতে উচ্চাসন লাভ সম্পর্কিত নিম্নোক্ত বর্ণনাটিও এখানে দেওয়া হইল। ইহাও রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্বপ্ন ছিল।
হাফিজ আবু ষুর'আর দালাইলুন নুবুওয়াত গ্রন্থে একটি হাদীছের শেষ অংশে আছে: ثُمَّ أَشْرَفًا بِي شَرَفًا فَإِذَا نَفُرُ ثَلَاثَةُ يَشْرَبُونَ مِنْ خَمْرٍ لَّهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَا هذا جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ.
"তাহারা দুইজনে আমাকে একটি উচু স্থানে লইয়া গেল। আমি সেখানে তিন ব্যক্তিকে দেখিলাম, তাহারা শরাব পান করিতেছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইহারা কাহারা? তাহারা উত্তর দিল, ইহারা হইলেন জা'ফার ইব্‌ন আবূ তালিব, যায়দ ইবন হারিছা এবং 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৯-২৬০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শোক প্রকাশের জন্য জা'ফার (রা)-এর গৃহে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পদার্পণ

📄 শোক প্রকাশের জন্য জা'ফার (রা)-এর গৃহে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পদার্পণ


আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) ছিলেন জা'ফার (রা)-এর সহধর্মিনী। তিনি বলেন, যেই দিন জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গীগণ শহীদ হইয়াছিলেন সেই দিনিই রাসূলুল্লাহ (স) আমার গৃহে পদার্পণ করিয়াছিলেন (সীরাতে হালাবিয়‍্যা, উরদূ অনু, ৩/৩খ, ৬১)। ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করিয়াছেন: عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ لَمَّا أَصِيبَ جَعْفَرُ وأَصْحَابُهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَقَدْ دَبَعْتُ أَرْبَعِينَ مَنَاءً وَعَجِنْتُ عَجِيْنِي وَعَسَّلْتُ بَنِي وَدَهَنْتُهُمْ وَنَظَفْتُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ انتنى بِبَنِى جَعْفَرٍ فَآتَيْتُهُ بِهِمْ فَشَمُهُمْ وَزَرَفَتْ عَيْنَاهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ
بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا يُبْكَيْكَ ابْلَغَكَ عَنْ جَعْفَرٍ وَأَصْحَابِهِ شَيْ قَالَ نَعَمْ أَصِيبُوا هَذَا الْيَوْمِ قَالَتْ فَقُمْتُ أَصِيْعُ وَاجْتَمَعَ إِلَى النِّسَاءُ وَخَرَجَ وَرَسُولُ اللهِ ﷺ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ لَا تَغْفَلُوا عَنْ الجَعْفَرٍ أَنْ تَصْنَعُوا لَهُمْ طَعَامًا فَإِنَّهُمْ قَدْ شَغَلُوا بِأَمْرِ صَاحِبِهِمْ.
"আসমা' বিনত 'উমায়স (রা) বলেন, জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আমার নিকট আগমন করিলেন। আমি এই সময় চল্লিশটি চামড়া পাকা করিয়াছিলাম, আমার আটার খামির করিয়াছিলাম, আমার সন্তানদেরকে গোসল করাইয়াছিলাম এবং তাহাদের গায়ে তৈল মাখাইয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়াছিলাম। আমার গৃহে রাসূলুল্লাহ (স) তাশরীফ আনিয়া বলিলেন, আমার নিকট জা'ফারের সন্তানদিগকে লইয়া আস। আমি তাহাদিগকে তাঁহার নিকট উপস্থিত করিলাম। তিনি তাহাদিগকে আদর করিলেন। তখন তাঁহার নয়নযুগল হইতে অশ্রু ঝরিতেছিল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হউক! আপনি কেন কাঁদিতেছেন? আপনার নিকট জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ সম্পর্কে কোন সংবাদ পৌছিয়াছে কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: হাঁ, তাহারা সকলে আজ শাহাদাত লাভ করিয়াছে। আসমা (রা) বলেন, ইহা শুনিয়া আমি দাঁড়াইয়া চিৎকার করিয়া কাঁদিতে লাগিলাম এবং মহিলারা আসিয়া জড়ো হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বাহির হইয়া তাঁহার গৃহে গিয়া বলিলেন: জা'ফারের পরিবার সম্পর্কে উদাসীন হইও না। তাহাদিগের জন্য খাবার তৈরী করিতে ভুলিও না। কারণ ইহারা তাহাদিগের কর্তাকে হারাইয়া শোকাভিভূত হইয়া পড়িয়াছে” (আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজা ও ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল হইতে বর্ণিত হইয়াছে)।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক 'আইশা (রা) হইতে এই সম্পর্কিত নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
قَالَتْ لَمَّا أَتَى نَعْتُ جَعْفَرٍ عَرَّفْنَا فِي وَجْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْحُزْنَ قَالَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ النِّسَاءَ عَيَيْنَنَا وَفَتَنَّنَا قَالَ ارْجِعْ إِلَيْهِنَّ فَأَسْكَتْهُنَّ قَالَتْ فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذالك قَالَتْ يَقُولُ وَرُبَّمَا ضَرَّ التَّكَلُّفُ يَعْنِي أَهْلَهُ قَالَتْ قَالَ فَاذْهَبْ فَأَسْكِتْهُنَّ فَإِنْ آبَيْنَ فَاحْتَوا فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ قَالَتْ قُلْتُ فِي نَفْسِي أَبْعَدَكَ اللَّهُ فَوَاللَّهِ مَا تَرَكْتَ يَفْسَكَ وَمَا أَنْتَ بِمُطِيعِ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَتْ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ لَا يَقْدِرُ يُحْيِي فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ.
"তিনি বলেন, জা'ফারের মৃত্যুসংবাদ আসিয়া পৌছিলে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর চেহারায় মনোকষ্টের ছাপ দেখিতে পাইলাম। 'আইশা (রা) বলেন, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট
এক লোক প্রবেশ করিল। সে বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! মহিলাগণ আমাদিগকে অবসন্ন করিয়া তুলিয়াছে এবং ফিতনায় পতিত করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে বারণ কর। 'আইশা (রা) বলেন, লোকটি সেখানে গিয়া আবার ফিরিয়া আসিয়া পূর্বের ন্যায় বলিল। সে আরও বলিতেছিল, অনেক সময় ইহাদিগের ক্রন্দনে তাহার (ঐ লোকের) পরিবার-পরিজনের কষ্ট হয়। তিনি বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে নিবৃত্ত কর। যদি তাহারা নিবৃত্ত হইতে অস্বীকৃতি জানায় তাহা হইলে ইহাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। 'আইশা (রা) বলেন, আমি মনে মনে বলিতেছিলাম, আল্লাহ তোমাকে দূরে রাখুক, আল্লাহ্র শপথ! তুমি নিজেকেও বিরত রাখিতেছ না। আর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশও পালন করিতে পারিতেছ না। তিনি বলেন, আমি জানিতাম যে, সে ঐ মহিলাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ করিতে সক্ষম হইবে না"।
এই রিওয়ায়াতটি একমাত্র ইবন ইসহাকই বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ বর্ণিত এই সম্পর্কিত দীর্ঘ একটি হাদীছের শেষাংশে রহিয়াছে: ثُمَّ أَمْهَلَ الَ جَعْفَرٍ ثَلَاثًا أَنْ يَأْتِيَهُمْ ثُمَّ آتَاهُمْ فَقَالَ لَا تَبْكُوا عَلَى أَخِي بَعْدَ الْيَوْمِ أدْعُوا لِي ابْنَيْ أَخِي قَالَ فَجَنَى بِنَا كَأَنَّنَا أَفْرَخٌ فَقَالَ أَدْعُوا لِي الْحَلَاقَ فَجِيئَ بِالْحَلاقِ فَخَلَقَ رُءُوسَنَا ثُمَّ قَالَ أَمَّا مُحَمَّدٌ فَشَبِيْهُ عَمَّنَا أَبِي طالب وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ فَشَبِيْهُ خَلْقِى وَخُلُقَى ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِى فَأَشَالَهَا وَقَالَ اللَّهُمَّ اخْلُفْ جَعْفَراً فِي أَهْلِهِ بَارِكَ لِعَبْدِ الله في صَفْقَةِ يَمِينِهِ قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ فَجَاءَتْ أُمُّنَا فَذَكَرَتْ لَهُ يُتْمَنَا وَجَعَلَتْ تُفْرِحُ لَهُ فَقَالَ الْعَيْلَةَ تَخَافِينَ عَلَيْهِمْ وَأَنَا وَلِيُّهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ.
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার (রা)-এর পরিবার-পরিজনের, আগমন করিবার জন্য তিন দিনের অবকাশ দিলেন। অতঃপর তিনি তাহাদের নিকট তাশরীফ আনিলেন ও বলিলেনঃ আমার ভাইয়ের জন্য-আজিকার পর ক্রন্দন করিও না। আমার ভ্রাতুষ্পুত্রগণকে আমার নিকট লইয়া আস। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদিগকে আনা হইল আমরা তখন পক্ষি-শাবকের ন্যায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: আমার নিকট একজন ক্ষৌরকার উপস্থিত কর। একজন ক্ষৌরকার আনা হইলে সে আমাদের মাথা মুণ্ডন করিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: মুহাম্মাদ (জা'ফার পুত্র) আমার পিতৃব্য আবূ তালিবের সদৃশ্য। 'আবদুল্লাহ (জা'ফার পুত্র) আমার গঠন ও চরিত্র সদৃশ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আমার হাত উত্তোলন করিয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি জা'ফার পরিবারের অভিভাবক হইয়া যাও। 'আবদুল্লাহ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত দাও। তিনি ইহা তিনবার বলিলেন। অতঃপর আমার মাতা আগমন করিয়া আমাদের পিতৃহীনতার কথা উল্লেখ করিতে লাগিলেন এবং তাহার দুঃখ-বেদনার কথা ব্যক্ত করিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তুমি দারিদ্র্যের চিন্তা করিতেছ? অথচ ইহকাল ও
পরকালে আমি তাহাদের অভিভাবক” (মুসনাদে আহমাদ, ১খ., পৃ. ২০৪, নং ১৭৫০; আবূ দাউদ, তারাজ্জল, বাব ফী হালকির রাস, নং ৪১৯২)।
ইমাম নাসাঈ কিতাবুস সিয়ারে সম্পূর্ণ হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উক্ত হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফায় পরিবারকে তিনদিন ক্রন্দন করিবার অর্থাৎ শোক পালনের অনুমতি দান করিয়াছিলেন, তিনদিন পর তাহা নিষিদ্ধ করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ আল-হাকাম ইবন 'আবদিল্লাহ ইব্‌ন শাদ্দাদ সূত্রে আসমা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন: إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَهَا لَمَّا أُصِيْبَ جَعْفَرُ تُسَلِّبِي ثَلَاثًا ثُمَّ اصْنَعِي مَا شِئْتِ.
"জা'ফার (রা) নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আসমা (রা)-কে বলিয়াছিলেনঃ তুমি ভিম দিন গভীরভাবে শোক পালন কর, ইহার পর যাহা ইচ্ছা তাহা কর"।
ইহা ইমাম আহমাদ হইতে এককভাবে বর্ণিত। এই হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হইবার সম্ভাবনা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) আসমা' (রা)-কে 'তাসাল্লুব' অর্থাৎ অধিক ক্রন্দন ও কাপড়াদি ফাঁড়িয়া ক্রন্দন করার অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ইহা তাহার জন্য বিশেষভাবে অনুমতি ছিল জা'ফারের বিয়োগান্তে তিনি অধিক মাত্রায় ভাঙ্গিয়া পড়ায়। ইহারও সম্ভাবনা আছে যে, 'তাসাল্লুব' অর্থ হইল সাজ-সজ্জা অধিক মাত্রায় তিন দিন পর্যন্ত পরিত্যাগ করা। ইহার পর অন্যান্য 'ইদ্দত পালনকারিনিগণ যেইভাবে সাজ-সজ্জা পরিত্যাগ করিয়া ইদ্দত পালন করিয়া থাকে সেইভাবে যাহা ইচ্ছা তাহা করা। কেহ কেহ تسلبى ثَلَاثًا যাহার আরবী অর্থ تصبری ثَلَاثً )তিন দিন ধৈর্য ধারণ কর)। কিন্তু এইরূপ পাঠ অন্যান্য রিওয়ায়াতের পরিপন্থী।
ইমাম আহমদের এই সম্পর্কিত আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যাহা নিম্নরূপ: عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْيَوْمَ الثَّالِثِ مِنْ قَتْلِ جَعْفَرٍ فَقَالَ لا تُحدِّى بَعْدَ يَوْمِك هذا .
"আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার নিহত হইবার তৃতীয় দিন (আমার গৃহে) প্রবেশ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন: এই দিনের পর তুমি আর শোক প্রকাশ করিও না"।
ইহাও ইমাম আহমাদের একক বর্ণনা। ইহার সনদে কোন আপত্তি নাই। তবে শাব্দিক অর্থে হাদীছ গ্রহণ করিলে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তাহা হইল, সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেনঃ لا يَحِلُّ لَامْرَأَهِ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تَحِدَّ عَلَى مَيِّتِهَا أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ إِلَّا علَى زَوْجِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا .
"যেই মহিলা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে তাহার জন্য মৃত ব্যক্তির উপর তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নহে। তবে সে তাহার স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করিবে”।
এই হাদীছে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু ইহার বিপরীত উপরোল্লিখিত হাদীছে আসমা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। সুতরাং এই সম্পর্কে সমাধান এই যে, যদি ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত রিওয়ায়াতকে সঠিক (محفوظ) গণ্য করা হয় তাহা হইলে ইহা হইবে কেবল এই ঘটনার জন্যই নির্দিষ্ট। অথবা বলা হইবে, এই হাদীছে কেবল এই তিন দিন অধিক মাত্রায় শোক পালনের আদেশ ছিল যাহা ইতোপূর্বে আলোচিত হইয়াছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০-২৫২)।
আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা) তাঁহার স্বামী জা'ফার (রা)-এর মৃত্যুতে নিম্নোক্ত শোক গাহন আবৃত্তি করিয়াছিলেন:
قَالَيْتُ لَا تَنْفَكُ نَفْسِي حَزِينَةً عَلَيْكَ وَلَا يَنْفَكُ جِلْدِي أَغْبَرَ. فَلِلَّهِ عَيْنًا مَنْ رَأَى مِثْلَهُ فَتًى - أَكَرُّوا حُمى فِي الْهَيَاجِ وَأَصْبَرَا.
"আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, আমার হৃদয় তোমার মর্মবেদনা হইতে বিচ্ছিন্ন হইবে না এবং আমার ত্বক ধুলাবালি মুক্ত হইবে না।
"আল্লাহ্র শপথ! এমন কোন চক্ষু দেখা যায় নাই যে তাঁহার মত যুদ্ধে পাল্টা আক্রমণকারী, কঠোর হস্তে দমনকারী ও সহনশীল যুবক দেখিয়াছে"।
অতঃপর আসমা (রা)-এর 'ইদ্দত পূর্ণ হইয়া গেলে আবূ বাক্স (রা) তাঁহার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠাইলেন। আবূ বাক্স (রা) তাঁহার সহিত বিবাহে আবদ্ধ হইয়া ওলীমা অনুষ্ঠান করিলেন। উক্ত ওলীমায় অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে 'আলী ইবন আবী তালিব (রা)-ও ছিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৩)।

আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) ছিলেন জা'ফার (রা)-এর সহধর্মিনী। তিনি বলেন, যেই দিন জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গীগণ শহীদ হইয়াছিলেন সেই দিনিই রাসূলুল্লাহ (স) আমার গৃহে পদার্পণ করিয়াছিলেন (সীরাতে হালাবিয়‍্যা, উরদূ অনু, ৩/৩খ, ৬১)। ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করিয়াছেন:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ لَمَّا أَصِيبَ جَعْفَرُ وأَصْحَابُهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَقَدْ دَبَعْتُ أَرْبَعِينَ مَنَاءً وَعَجِنْتُ عَجِيْنِي وَعَسَّلْتُ بَنِي وَدَهَنْتُهُمْ وَنَظَفْتُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ انتنى بِبَنِى جَعْفَرٍ فَآتَيْتُهُ بِهِمْ فَشَمُهُمْ وَزَرَفَتْ عَيْنَاهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا يُبْكَيْكَ ابْلَغَكَ عَنْ جَعْفَرٍ وَأَصْحَابِهِ شَيْ قَالَ نَعَمْ أَصِيبُوا هَذَا الْيَوْمِ قَالَتْ فَقُمْتُ أَصِيْعُ وَاجْتَمَعَ إِلَى النِّسَاءُ وَخَرَجَ وَرَسُولُ اللهِ ﷺ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ لَا تَغْفَلُوا عَنْ الجَعْفَرٍ أَنْ تَصْنَعُوا لَهُمْ طَعَامًا فَإِنَّهُمْ قَدْ شَغَلُوا بِأَمْرِ صَاحِبِهِمْ.
"আসমা' বিনত 'উমায়স (রা) বলেন, জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আমার নিকট আগমন করিলেন। আমি এই সময় চল্লিশটি চামড়া পাকা করিয়াছিলাম, আমার আটার খামির করিয়াছিলাম, আমার সন্তানদেরকে গোসল করাইয়াছিলাম এবং তাহাদের গায়ে তৈল মাখাইয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়াছিলাম। আমার গৃহে রাসূলুল্লাহ (স) তাশরীফ আনিয়া বলিলেন, আমার নিকট জা'ফারের সন্তানদিগকে লইয়া আস। আমি তাহাদিগকে তাঁহার নিকট উপস্থিত করিলাম। তিনি তাহাদিগকে আদর করিলেন। তখন তাঁহার নয়নযুগল হইতে অশ্রু ঝরিতেছিল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হউক! আপনি কেন কাঁদিতেছেন? আপনার নিকট জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ সম্পর্কে কোন সংবাদ পৌছিয়াছে কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: হাঁ, তাহারা সকলে আজ শাহাদাত লাভ করিয়াছে। আসমা (রা) বলেন, ইহা শুনিয়া আমি দাঁড়াইয়া চিৎকার করিয়া কাঁদিতে লাগিলাম এবং মহিলারা আসিয়া জড়ো হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বাহির হইয়া তাঁহার গৃহে গিয়া বলিলেন: জা'ফারের পরিবার সম্পর্কে উদাসীন হইও না। তাহাদিগের জন্য খাবার তৈরী করিতে ভুলিও না। কারণ ইহারা তাহাদিগের কর্তাকে হারাইয়া শোকাভিভূত হইয়া পড়িয়াছে” (আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজা ও ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল হইতে বর্ণিত হইয়াছে)।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক 'আইশা (রা) হইতে এই সম্পর্কিত নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
قَالَتْ لَمَّا أَتَى نَعْتُ جَعْفَرٍ عَرَّفْنَا فِي وَجْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْحُزْنَ قَالَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ النِّسَاءَ عَيَيْنَنَا وَفَتَنَّنَا قَالَ ارْجِعْ إِلَيْهِنَّ فَأَسْكَتْهُنَّ قَالَتْ فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذالك قَالَتْ يَقُولُ وَرُبَّمَا ضَرَّ التَّكَلُّفُ يَعْنِي أَهْلَهُ قَالَتْ قَالَ فَاذْهَبْ فَأَسْكِتْهُنَّ فَإِنْ آبَيْنَ فَاحْتَوا فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ قَالَتْ قُلْتُ فِي نَفْسِي أَبْعَدَكَ اللَّهُ فَوَاللَّهِ مَا تَرَكْتَ يَفْسَكَ وَمَا أَنْتَ بِمُطِيعِ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَتْ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ لَا يَقْدِرُ يُحْيِي فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ.
"তিনি বলেন, জা'ফারের মৃত্যুসংবাদ আসিয়া পৌছিলে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর চেহারায় মনোকষ্টের ছাপ দেখিতে পাইলাম। 'আইশা (রা) বলেন, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক লোক প্রবেশ করিল। সে বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! মহিলাগণ আমাদিগকে অবসন্ন করিয়া তুলিয়াছে এবং ফিতনায় পতিত করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে বারণ কর। 'আইশা (রা) বলেন, লোকটি সেখানে গিয়া আবার ফিরিয়া আসিয়া পূর্বের ন্যায় বলিল। সে আরও বলিতেছিল, অনেক সময় ইহাদিগের ক্রন্দনে তাহার (ঐ লোকের) পরিবার-পরিজনের কষ্ট হয়। তিনি বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে নিবৃত্ত কর। যদি তাহারা নিবৃত্ত হইতে অস্বীকৃতি জানায় তাহা হইলে ইহাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। 'আইশা (রা) বলেন, আমি মনে মনে বলিতেছিলাম, আল্লাহ তোমাকে দূরে রাখুক, আল্লাহ্র শপথ! তুমি নিজেকেও বিরত রাখিতেছ না। আর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশও পালন করিতে পারিতেছ না। তিনি বলেন, আমি জানিতাম যে, সে ঐ মহিলাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ করিতে সক্ষম হইবে না"।
এই রিওয়ায়াতটি একমাত্র ইবন ইসহাকই বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ বর্ণিত এই সম্পর্কিত দীর্ঘ একটি হাদীছের শেষাংশে রহিয়াছে: ثُمَّ أَمْهَلَ الَ جَعْفَرٍ ثَلَاثًا أَنْ يَأْتِيَهُمْ ثُمَّ آتَاهُمْ فَقَالَ لَا تَبْكُوا عَلَى أَخِي بَعْدَ الْيَوْمِ أدْعُوا لِي ابْنَيْ أَخِي قَالَ فَجَنَى بِنَا كَأَنَّنَا أَفْرَخٌ فَقَالَ أَدْعُوا لِي الْحَلَاقَ فَجِيئَ بِالْحَلَاقِ فَخَلَقَ رُءُوسَنَا ثُمَّ قَالَ أَمَّا مُحَمَّدٌ فَشَبِيْهُ عَمَّنَا أَبِي طالب وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ فَشَبِيْهُ خَلْقِى وَخُلُقَى ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِى فَأَشَالَهَا وَقَالَ اللَّهُمَّ اخْلُفْ جَعْفَراً فِي أَهْلِهِ بَارِكَ لِعَبْدِ الله في صَفْقَةِ يَمِينِهِ قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ فَجَاءَتْ أُمُّنَا فَذَكَرَتْ لَهُ يُتْمَنَا وَجَعَلَتْ تُفْرِحُ لَهُ فَقَالَ الْعَيْلَةَ تَخَافِينَ عَلَيْهِمْ وَأَنَا وَلِيُّهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ.
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার (রা)-এর পরিবার-পরিজনের, আগমন করিবার জন্য তিন দিনের অবকাশ দিলেন। অতঃপর তিনি তাহাদের নিকট তাশরীফ আনিলেন ও বলিলেনঃ আমার ভাইয়ের জন্য-আজিকার পর ক্রন্দন করিও না। আমার ভ্রাতুষ্পুত্রগণকে আমার নিকট লইয়া আস। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদিগকে আনা হইল আমরা তখন পক্ষি-শাবকের ন্যায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: আমার নিকট একজন ক্ষৌরকার উপস্থিত কর। একজন ক্ষৌরকার আনা হইলে সে আমাদের মাথা মুণ্ডন করিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: মুহাম্মাদ (জা'ফার পুত্র) আমার পিতৃব্য আবূ তালিবের সদৃশ্য। 'আবদুল্লাহ (জা'ফার পুত্র) আমার গঠন ও চরিত্র সদৃশ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আমার হাত উত্তোলন করিয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি জা'ফার পরিবারের অভিভাবক হইয়া যাও। 'আবদুল্লাহ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত দাও। তিনি ইহা তিনবার বলিলেন। অতঃপর আমার মাতা আগমন করিয়া আমাদের পিতৃহীনতার কথা উল্লেখ করিতে লাগিলেন এবং তাহার দুঃখ-বেদনার কথা ব্যক্ত করিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তুমি দারিদ্র্যের চিন্তা করিতেছ? অথচ ইহকাল ও পরকালে আমি তাহাদের অভিভাবক" (মুসনাদে আহমাদ, ১খ., পৃ. ২০৪, নং ১৭৫০; আবূ দাউদ, তারাজ্জল, বাব ফী হালকির রাস, নং ৪১৯২)।
ইমাম নাসাঈ কিতাবুস সিয়ারে সম্পূর্ণ হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উক্ত হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফায় পরিবারকে তিনদিন ক্রন্দন করিবার অর্থাৎ শোক পালনের অনুমতি দান করিয়াছিলেন, তিনদিন পর তাহা নিষিদ্ধ করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ আল-হাকাম ইবন 'আবদিল্লাহ ইব্‌ন শাদ্দাদ সূত্রে আসমা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন: إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَهَا لَمَّا أُصِيْبَ جَعْفَرُ تُسَلِّبِي ثَلَاثًا ثُمَّ اصْنَعِي مَا شِئْتِ.
"জা'ফার (রা) নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আসমা (রা)-কে বলিয়াছিলেনঃ তুমি ভিম দিন গভীরভাবে শোক পালন কর, ইহার পর যাহা ইচ্ছা তাহা কর"।
ইহা ইমাম আহমাদ হইতে এককভাবে বর্ণিত। এই হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হইবার সম্ভাবনা আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (স) আসমা' (রা)-কে 'তাসাল্লুব' অর্থাৎ অধিক ক্রন্দন ও কাপড়াদি ফাঁড়িয়া ক্রন্দন করার অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ইহা তাহার জন্য বিশেষভাবে অনুমতি ছিল জা'ফারের বিয়োগান্তে তিনি অধিক মাত্রায় ভাঙ্গিয়া পড়ায়। ইহারও সম্ভাবনা আছে যে, 'তাসাল্লুব' অর্থ হইল সাজ-সজ্জা অধিক মাত্রায় তিন দিন পর্যন্ত পরিত্যাগ করা। ইহার পর অন্যান্য 'ইদ্দত পালনকারিনিগণ যেইভাবে সাজ-সজ্জা পরিত্যাগ করিয়া ইদ্দত পালন করিয়া থাকে সেইভাবে যাহা ইচ্ছা তাহা করা। কেহ কেহ تسلبى ثَلَاثًا যাহার আরবী অর্থ تصبری ثَلَاثً )তিন দিন ধৈর্য ধারণ কর)। কিন্তু এইরূপ পাঠ অন্যান্য রিওয়ায়াতের পরিপন্থী।
ইমাম আহমদের এই সম্পর্কিত আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যাহা নিম্নরূপ: عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْيَوْمَ الثَّالِثِ مِنْ قَتْلِ جَعْفَرٍ فَقَالَ لا تُحدِّى بَعْدَ يَوْمِك هذا .
"আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার নিহত হইবার তৃতীয় দিন (আমার গৃহে) প্রবেশ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন: এই দিনের পর তুমি আর শোক প্রকাশ করিও না"।
ইহাও ইমাম আহমাদের একক বর্ণনা। ইহার সনদে কোন আপত্তি নাই। তবে শাব্দিক অর্থে হাদীছ গ্রহণ করিলে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তাহা হইল, সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেনঃ لا يَحِلُّ لَامْرَأَهِ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تَحِدَّ عَلَى مَيِّتِهَا أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ إِلَّا علَى زَوْجِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا .
"যেই মহিলা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে তাহার জন্য মৃত ব্যক্তির উপর তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নহে। তবে সে তাহার স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করিবে"।
এই হাদীছে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু ইহার বিপরীত উপরোল্লিখিত হাদীছে আসমা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। সুতরাং এই সম্পর্কে সমাধান এই যে, যদি ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত রিওয়ায়াতকে সঠিক (محفوظ) গণ্য করা হয় তাহা হইলে ইহা হইবে কেবল এই ঘটনার জন্যই নির্দিষ্ট। অথবা বলা হইবে, এই হাদীছে কেবল এই তিন দিন অধিক মাত্রায় শোক পালনের আদেশ ছিল যাহা ইতোপূর্বে আলোচিত হইয়াছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০-২৫২)।
আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা) তাঁহার স্বামী জা'ফার (রা)-এর মৃত্যুতে নিম্নোক্ত শোক গাহন আবৃত্তি করিয়াছিলেন:
قَالَيْتُ لَا تَنْفَكُ نَفْسِي حَزِينَةً عَلَيْكَ وَلَا يَنْفَكُ جِلْدِي أَغْبَرَ. فَلِلَّهِ عَيْنًا مَنْ رَأَى مِثْلَهُ فَتًى - أَكَرُّوا حُمى فِي الْهَيَاجِ وَأَصْبَرَا.
"আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, আমার হৃদয় তোমার মর্মবেদনা হইতে বিচ্ছিন্ন হইবে না এবং আমার ত্বক ধুলাবালি মুক্ত হইবে না।
"আল্লাহ্র শপথ! এমন কোন চক্ষু দেখা যায় নাই যে তাঁহার মত যুদ্ধে পাল্টা আক্রমণকারী, কঠোর হস্তে দমনকারী ও সহনশীল যুবক দেখিয়াছে"।
অতঃপর আসমা (রা)-এর 'ইদ্দত পূর্ণ হইয়া গেলে আবূ বাক্স (রা) তাঁহার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠাইলেন। আবূ বাক্স (রা) তাঁহার সহিত বিবাহে আবদ্ধ হইয়া ওলীমা অনুষ্ঠান করিলেন। উক্ত ওলীমায় অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে 'আলী ইবন আবী তালিব (রা)-ও ছিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৩)।

আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) ছিলেন জা'ফার (রা)-এর সহধর্মিনী। তিনি বলেন, যেই দিন জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গীগণ শহীদ হইয়াছিলেন সেই দিনিই রাসূলুল্লাহ (স) আমার গৃহে পদার্পণ করিয়াছিলেন (সীরাতে হালাবিয়‍্যা, উরদূ অনু, ৩/৩খ, ৬১)। ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করিয়াছেন:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ لَمَّا أَصِيبَ جَعْفَرُ وأَصْحَابُهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَقَدْ دَبَعْتُ أَرْبَعِينَ مَنَاءً وَعَجِنْتُ عَجِيْنِي وَعَسَّلْتُ بَنِي وَدَهَنْتُهُمْ وَنَظَفْتُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ انتنى بِبَنِى جَعْفَرٍ فَآتَيْتُهُ بِهِمْ فَشَمُهُمْ وَزَرَفَتْ عَيْنَاهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا يُبْكَيْكَ ابْلَغَكَ عَنْ جَعْفَرٍ وَأَصْحَابِهِ شَيْ قَالَ نَعَمْ أَصِيبُوا هَذَا الْيَوْمِ قَالَتْ فَقُمْتُ أَصِيْعُ وَاجْتَمَعَ إِلَى النِّسَاءُ وَخَرَجَ وَرَسُولُ اللهِ ﷺ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ لَا تَغْفَلُوا عَنْ الجَعْفَرٍ أَنْ تَصْنَعُوا لَهُمْ طَعَامًا فَإِنَّهُمْ قَدْ شَغَلُوا بِأَمْرِ صَاحِبِهِمْ.
"আসমা' বিনত 'উমায়স (রা) বলেন, জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আমার নিকট আগমন করিলেন। আমি এই সময় চল্লিশটি চামড়া পাকা করিয়াছিলাম, আমার আটার খামির করিয়াছিলাম, আমার সন্তানদেরকে গোসল করাইয়াছিলাম এবং তাহাদের গায়ে তৈল মাখাইয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়াছিলাম। আমার গৃহে রাসূলুল্লাহ (স) তাশরীফ আনিয়া বলিলেন, আমার নিকট জা'ফারের সন্তানদিগকে লইয়া আস। আমি তাহাদিগকে তাঁহার নিকট উপস্থিত করিলাম। তিনি তাহাদিগকে আদর করিলেন। তখন তাঁহার নয়নযুগল হইতে অশ্রু ঝরিতেছিল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হউক! আপনি কেন কাঁদিতেছেন? আপনার নিকট জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ সম্পর্কে কোন সংবাদ পৌছিয়াছে কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: হাঁ, তাহারা সকলে আজ শাহাদাত লাভ করিয়াছে। আসমা (রা) বলেন, ইহা শুনিয়া আমি দাঁড়াইয়া চিৎকার করিয়া কাঁদিতে লাগিলাম এবং মহিলারা আসিয়া জড়ো হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বাহির হইয়া তাঁহার গৃহে গিয়া বলিলেন: জা'ফারের পরিবার সম্পর্কে উদাসীন হইও না। তাহাদিগের জন্য খাবার তৈরী করিতে ভুলিও না। কারণ ইহারা তাহাদিগের কর্তাকে হারাইয়া শোকাভিভূত হইয়া পড়িয়াছে” (আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজা ও ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল হইতে বর্ণিত হইয়াছে)।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক 'আইশা (রা) হইতে এই সম্পর্কিত নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
قَالَتْ لَمَّا أَتَى نَعْتُ جَعْفَرٍ عَرَّفْنَا فِي وَجْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْحُزْنَ قَالَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ النِّسَاءَ عَيَيْنَنَا وَفَتَنَّنَا قَالَ ارْجِعْ إِلَيْهِنَّ فَأَسْكَتْهُنَّ قَالَتْ فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذالك قَالَتْ يَقُولُ وَرُبَّمَا ضَرَّ التَّكَلُّفُ يَعْنِي أَهْلَهُ قَالَتْ قَالَ فَاذْهَبْ فَأَسْكِتْهُنَّ فَإِنْ آبَيْنَ فَاحْتَوا فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ قَالَتْ قُلْتُ فِي نَفْسِي أَبْعَدَكَ اللَّهُ فَوَاللَّهِ مَا تَرَكْتَ يَفْسَكَ وَمَا أَنْتَ بِمُطِيعِ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَتْ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ لَا يَقْدِرُ يُحْيِي فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ.
"তিনি বলেন, জা'ফারের মৃত্যুসংবাদ আসিয়া পৌছিলে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর চেহারায় মনোকষ্টের ছাপ দেখিতে পাইলাম। 'আইশা (রা) বলেন, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক লোক প্রবেশ করিল। সে বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! মহিলাগণ আমাদিগকে অবসন্ন করিয়া তুলিয়াছে এবং ফিতনায় পতিত করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে বারণ কর। 'আইশা (রা) বলেন, লোকটি সেখানে গিয়া আবার ফিরিয়া আসিয়া পূর্বের ন্যায় বলিল। সে আরও বলিতেছিল, অনেক সময় ইহাদিগের ক্রন্দনে তাহার (ঐ লোকের) পরিবার-পরিজনের কষ্ট হয়। তিনি বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে নিবৃত্ত কর। যদি তাহারা নিবৃত্ত হইতে অস্বীকৃতি জানায় তাহা হইলে ইহাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। 'আইশা (রা) বলেন, আমি মনে মনে বলিতেছিলাম, আল্লাহ তোমাকে দূরে রাখুক, আল্লাহ্র শপথ! তুমি নিজেকেও বিরত রাখিতেছ না। আর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশও পালন করিতে পারিতেছ না। তিনি বলেন, আমি জানিতাম যে, সে ঐ মহিলাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ করিতে সক্ষম হইবে না"।
এই রিওয়ায়াতটি একমাত্র ইবন ইসহাকই বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ বর্ণিত এই সম্পর্কিত দীর্ঘ একটি হাদীছের শেষাংশে রহিয়াছে:
ثُمَّ أَمْهَلَ الَ جَعْفَرٍ ثَلَاثًا أَنْ يَأْتِيَهُمْ ثُمَّ آتَاهُمْ فَقَالَ لَا تَبْكُوا عَلَى أَخِي بَعْدَ الْيَوْمِ أدْعُوا لِي ابْنَيْ أَخِي قَالَ فَجَنَى بِنَا كَأَنَّنَا أَفْرَخٌ فَقَالَ أَدْعُوا لِي الْحَلَاقَ فَجِيئَ بِالْحَلاقِ فَخَلَقَ رُءُوسَنَا ثُمَّ قَالَ أَمَّا مُحَمَّدٌ فَشَبِيْهُ عَمَّنَا أَبِي طالب وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ فَشَبِيْهُ خَلْقِى وَخُلُقَى ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِى فَأَشَالَهَا وَقَالَ اللَّهُمَّ اخْلُفْ جَعْفَراً فِي أَهْلِهِ بَارِكَ لِعَبْدِ الله في صَفْقَةِ يَمِينِهِ قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ فَجَاءَتْ أُمُّنَا فَذَكَرَتْ لَهُ يُتْمَنَا وَجَعَلَتْ تُفْرِحُ لَهُ فَقَالَ الْعَيْلَةَ تَخَافِينَ عَلَيْهِمْ وَأَنَا وَلِيُّهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ.
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার (রা)-এর পরিবার-পরিজনের, আগমন করিবার জন্য তিন দিনের অবকাশ দিলেন। অতঃপর তিনি তাহাদের নিকট তাশরীফ আনিলেন ও বলিলেনঃ আমার ভাইয়ের জন্য-আজিকার পর ক্রন্দন করিও না। আমার ভ্রাতুষ্পুত্রগণকে আমার নিকট লইয়া আস। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদিগকে আনা হইল আমরা তখন পক্ষি-শাবকের ন্যায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: আমার নিকট একজন ক্ষৌরকার উপস্থিত কর। একজন ক্ষৌরকার আনা হইলে সে আমাদের মাথা মুণ্ডন করিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: মুহাম্মাদ (জা'ফার পুত্র) আমার পিতৃব্য আবূ তালিবের সদৃশ্য। 'আবদুল্লাহ (জা'ফার পুত্র) আমার গঠন ও চরিত্র সদৃশ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আমার হাত উত্তোলন করিয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি জা'ফার পরিবারের অভিভাবক হইয়া যাও। 'আবদুল্লাহ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত দাও। তিনি ইহা তিনবার বলিলেন। অতঃপর আমার মাতা আগমন করিয়া আমাদের পিতৃহীনতার কথা উল্লেখ করিতে লাগিলেন এবং তাহার দুঃখ-বেদনার কথা ব্যক্ত করিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তুমি দারিদ্র্যের চিন্তা করিতেছ? অথচ ইহকাল ও পরকালে আমি তাহাদের অভিভাবক” (মুসনাদে আহমাদ, ১খ., পৃ. ২০৪, নং ১৭৫০; আবূ দাউদ, তারাজ্জল, বাব ফী হালকির রাস, নং ৪১৯২)।
ইমাম নাসাঈ কিতাবুস সিয়ারে সম্পূর্ণ হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উক্ত হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফায় পরিবারকে তিনদিন ক্রন্দন করিবার অর্থাৎ শোক পালনের অনুমতি দান করিয়াছিলেন, তিনদিন পর তাহা নিষিদ্ধ করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ আল-হাকাম ইবন 'আবদিল্লাহ ইব্‌ن শাদ্দাদ সূত্রে আসমা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন: إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَهَا لَمَّا أُصِيْبَ جَعْفَرُ تُسَلِّبِي ثَلَاثًا ثُمَّ اصْنَعِي مَا شِئْتِ.
"জা'ফার (রা) নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আসমা (রা)-কে বলিয়াছিলেনঃ তুমি ভিম দিন গভীরভাবে শোক পালন কর, ইহার পর যাহা ইচ্ছা তাহা কর"।
ইহা ইমাম আহমাদ হইতে এককভাবে বর্ণিত। এই হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হইবার সম্ভাবনা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) আসমা' (রা)-কে 'তাসাল্লুব' অর্থাৎ অধিক ক্রন্দন ও কাপড়াদি ফাঁড়িয়া ক্রন্দন করার অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ইহা তাহার জন্য বিশেষভাবে অনুমতি ছিল জা'ফারের বিয়োগান্তে তিনি অধিক মাত্রায় ভাঙ্গিয়া পড়ায়। ইহারও সম্ভাবনা আছে যে, 'তাসাল্লুব' অর্থ হইল সাজ-সজ্জা অধিক মাত্রায় তিন দিন পর্যন্ত পরিত্যাগ করা। ইহার পর অন্যান্য 'ইদ্দত পালনকারিনিগণ যেইভাবে সাজ-সজ্জা পরিত্যাগ করিয়া ইদ্দত পালন করিয়া থাকে সেইভাবে যাহা ইচ্ছা তাহা করা। কেহ কেহ تسلبى ثَلَاثًا যাহার আরবী অর্থ تصبری ثَلَاثً (তিন দিন ধৈর্য ধারণ কর)। কিন্তু এইরূপ পাঠ অন্যান্য রিওয়ায়াতের পরিপন্থী।
ইমাম আহমদের এই সম্পর্কিত আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যাহা নিম্নরূপ:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْيَوْمَ الثَّالِثِ مِنْ قَتْلِ جَعْفَرٍ فَقَالَ لا تُحدِّى بَعْدَ يَوْمِك هذا .
"আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার নিহত হইবার তৃতীয় দিন (আমার গৃহে) প্রবেশ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন: এই দিনের পর তুমি আর শোক প্রকাশ করিও না"।
ইহাও ইমাম আহমাদের একক বর্ণনা। ইহার সনদে কোন আপত্তি নাই। তবে শাব্দিক অর্থে হাদীছ গ্রহণ করিলে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তাহা হইল, সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেনঃ لا يَحِلُّ لَامْرَأَهِ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تَحِدَّ عَلَى مَيِّتِهَا أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ إِلَّا علَى زَوْجِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا .
"যেই মহিলা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে তাহার জন্য মৃত ব্যক্তির উপর তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নহে। তবে সে তাহার স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করিবে"।
এই হাদীছে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু ইহার বিপরীত উপরোল্লিখিত হাদীছে আসমা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। সুতরাং এই সম্পর্কে সমাধান এই যে, যদি ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত রিওয়ায়াতকে সঠিক (محفوظ) গণ্য করা হয় তাহা হইলে ইহা হইবে কেবল এই ঘটনার জন্যই নির্দিষ্ট। অথবা বলা হইবে, এই হাদীছে কেবল এই তিন দিন অধিক মাত্রায় শোক পালনের আদেশ ছিল যাহা ইতোপূর্বে আলোচিত হইয়াছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০-২৫২)।
আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা) তাঁহার স্বামী জা'ফার (রা)-এর মৃত্যুতে নিম্নোক্ত শোক গাহন আবৃত্তি করিয়াছিলেন:
قَالَيْتُ لَا تَنْفَكُ نَفْسِي حَزِينَةً عَلَيْكَ وَلَا يَنْفَكُ جِلْدِي أَغْبَرَ. فَلِلَّهِ عَيْنًا مَنْ رَأَى مِثْلَهُ فَتًى - أَكَرُّوا حُمى فِي الْهَيَاجِ وَأَصْبَرَا.
"আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, আমার হৃদয় তোমার মর্মবেদনা হইতে বিচ্ছিন্ন হইবে না এবং আমার ত্বক ধুলাবালি মুক্ত হইবে না।
"আল্লাহ্র শপথ! এমন কোন চক্ষু দেখা যায় নাই যে তাঁহার মত যুদ্ধে পাল্টা আক্রমণকারী, কঠোর হস্তে দমনকারী ও সহনশীল যুবক দেখিয়াছে"।
অতঃপর আসমা (রা)-এর 'ইদ্দত পূর্ণ হইয়া গেলে আবূ বাক্স (রা) তাঁহার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠাইলেন। আবূ বাক্স (রা) তাঁহার সহিত বিবাহে আবদ্ধ হইয়া ওলীমা অনুষ্ঠান করিলেন। উক্ত ওলীমায় অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে 'আলী ইবন আবী তালিব (রা)-ও ছিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৩)।

আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) ছিলেন জা'ফার (রা)-এর সহধর্মিনী। তিনি বলেন, যেই দিন জা'ফার ও তাঁহার সঙ্গীগণ শহীদ হইয়াছিলেন সেই দিনিই রাসূলুল্লাহ (স) আমার গৃহে পদার্পণ করিয়াছিলেন (সীরাতে হালাবিয়‍্যা, উরদূ অনু, ৩/৩খ, ৬১)। ইবন ইসহাক তদীয় সূত্রে আসমা' বিন্ত 'উমায়স (রা) হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়াতটি বর্ণনা করিয়াছেন:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ لَمَّا أَصِيبَ جَعْفَرُ وأَصْحَابُهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولُ اللهِ ﷺ وَقَدْ دَبَعْتُ أَرْبَعِينَ مَنَاءً وَعَجِنْتُ عَجِيْنِي وَعَسَّلْتُ بَنِي وَدَهَنْتُهُمْ وَنَظَفْتُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ انتنى بِبَنِى جَعْفَرٍ فَآتَيْتُهُ بِهِمْ فَشَمُهُمْ وَزَرَفَتْ عَيْنَاهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا يُبْكَيْكَ ابْلَغَكَ عَنْ جَعْفَرٍ وَأَصْحَابِهِ شَيْ قَالَ نَعَمْ أَصِيبُوا هَذَا الْيَوْمِ قَالَتْ فَقُمْتُ أَصِيْعُ وَاجْتَمَعَ إِلَى النِّسَاءُ وَخَرَجَ وَرَسُولُ اللهِ ﷺ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ لَا تَغْفَلُوا عَنْ الجَعْفَرٍ أَنْ تَصْنَعُوا لَهُمْ طَعَامًا فَإِنَّهُمْ قَدْ شَغَلُوا بِأَمْرِ صَاحِبِهِمْ.
"আসমা' বিনত 'উমায়স (রা) বলেন, জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আমার নিকট আগমন করিলেন। আমি এই সময় চল্লিশটি চামড়া পাকা করিয়াছিলাম, আমার আটার খামির করিয়াছিলাম, আমার সন্তানদেরকে গোসল করাইয়াছিলাম এবং তাহাদের গায়ে তৈল মাখাইয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়াছিলাম। আমার গৃহে রাসূলুল্লাহ (স) তাশরীফ আনিয়া বলিলেন, আমার নিকট জা'ফারের সন্তানদিগকে লইয়া আস। আমি তাহাদিগকে তাঁহার নিকট উপস্থিত করিলাম। তিনি তাহাদিগকে আদর করিলেন। তখন তাঁহার নয়নযুগল হইতে অশ্রু ঝরিতেছিল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হউক! আপনি কেন কাঁদিতেছেন? আপনার নিকট জা'ফার ও তাহার সঙ্গীগণ সম্পর্কে কোন সংবাদ পৌছিয়াছে কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: হাঁ, তাহারা সকলে আজ শাহাদাত লাভ করিয়াছে। আসমা (রা) বলেন, ইহা শুনিয়া আমি দাঁড়াইয়া চিৎকার করিয়া কাঁদিতে লাগিলাম এবং মহিলারা আসিয়া জড়ো হইল। রাসূলুল্লাহ (স) বাহির হইয়া তাঁহার গৃহে গিয়া বলিলেন: জা'ফারের পরিবার সম্পর্কে উদাসীন হইও না। তাহাদিগের জন্য খাবার তৈরী করিতে ভুলিও না। কারণ ইহারা তাহাদিগের কর্তাকে হারাইয়া শোকাভিভূত হইয়া পড়িয়াছে” (আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজা ও ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল হইতে বর্ণিত হইয়াছে)।
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক 'আইশা (রা) হইতে এই সম্পর্কিত নিম্নোক্ত হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন:
قَالَتْ لَمَّا أَتَى نَعْتُ جَعْفَرٍ عَرَّفْنَا فِي وَجْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْحُزْنَ قَالَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ النِّسَاءَ عَيَيْنَنَا وَفَتَنَّنَا قَالَ ارْجِعْ إِلَيْهِنَّ فَأَسْكَتْهُنَّ قَالَتْ فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذالك قَالَتْ يَقُولُ وَرُبَّمَا ضَرَّ التَّكَلُّفُ يَعْنِي أَهْلَهُ قَالَتْ قَالَ فَاذْهَبْ فَأَسْكِتْهُنَّ فَإِنْ آبَيْنَ فَاحْتَوا فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ قَالَتْ قُلْتُ فِي نَفْسِي أَبْعَدَكَ اللَّهُ فَوَاللَّهِ مَا تَرَكْتَ يَفْسَكَ وَمَا أَنْتَ بِمُطِيعِ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَتْ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ لَا يَقْدِرُ يُحْيِي فِي أَفْوَاهِهِنَّ التَّرَابَ.
"তিনি বলেন, জা'ফারের মৃত্যুসংবাদ আসিয়া পৌছিলে আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর চেহারায় মনোকষ্টের ছাপ দেখিতে পাইলাম। 'আইশা (রা) বলেন, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট এক লোক প্রবেশ করিল। সে বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! মহিলাগণ আমাদিগকে অবসন্ন করিয়া তুলিয়াছে এবং ফিতনায় পতিত করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে বারণ কর। 'আইশা (রা) বলেন, লোকটি সেখানে গিয়া আবার ফিরিয়া আসিয়া পূর্বের ন্যায় বলিল। সে আরও বলিতেছিল, অনেক সময় ইহাদিগের ক্রন্দনে তাহার (ঐ লোকের) পরিবার-পরিজনের কষ্ট হয়। তিনি বলিলেন, যাও, ইহাদিগকে নিবৃত্ত কর। যদি তাহারা নিবৃত্ত হইতে অস্বীকৃতি জানায় তাহা হইলে ইহাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। 'আইশা (রা) বলেন, আমি মনে মনে বলিতেছিলাম, আল্লাহ তোমাকে দূরে রাখুক, আল্লাহ্র শপথ! তুমি নিজেকেও বিরত রাখিতেছ না। আর রাসূলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশও পালন করিতে পারিতেছ না। তিনি বলেন, আমি জানিতাম যে, সে ঐ মহিলাদিগের মুখে মাটি নিক্ষেপ করিতে সক্ষম হইবে না"।
এই রিওয়ায়াতটি একমাত্র ইবন ইসহাকই বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ বর্ণিত এই সম্পর্কিত দীর্ঘ একটি হাদীছের শেষাংশে রহিয়াছে:
ثُمَّ أَمْهَلَ الَ جَعْفَرٍ ثَلَاثًا أَنْ يَأْتِيَهُمْ ثُمَّ آتَاهُمْ فَقَالَ لَا تَبْكُوا عَلَى أَخِي بَعْدَ الْيَوْمِ أدْعُوا لِي ابْنَيْ أَخِي قَالَ فَجَنَى بِنَا كَأَنَّنَا أَفْرَخٌ فَقَالَ أَدْعُوا لِي الْحَلَاقَ فَجِيئَ بِالْحَلاقِ فَخَلَقَ رُءُوسَنَا ثُمَّ قَالَ أَمَّا مُحَمَّدٌ فَشَبِيْهُ عَمَّنَا أَبِي طالب وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ فَشَبِيْهُ خَلْقِى وَخُلُقَى ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِى فَأَشَالَهَا وَقَالَ اللَّهُمَّ اخْلُفْ جَعْفَراً فِي أَهْلِهِ بَارِكَ لِعَبْدِ الله في صَفْقَةِ يَمِينِهِ قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ فَجَاءَتْ أُمُّنَا فَذَكَرَتْ لَهُ يُتْمَنَا وَجَعَلَتْ تُفْرِحُ لَهُ فَقَالَ الْعَيْلَةَ تَخَافِينَ عَلَيْهِمْ وَأَنَا وَلِيُّهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ.
"অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার (রা)-এর পরিবার-পরিজনের, আগমন করিবার জন্য তিন দিনের অবকাশ দিলেন। অতঃপর তিনি তাহাদের নিকট তাশরীফ আনিলেন ও বলিলেনঃ আমার ভাইয়ের জন্য-আজিকার পর ক্রন্দন করিও না। আমার ভ্রাতুষ্পুত্রগণকে আমার নিকট লইয়া আস। বর্ণনাকারী বলেন, আমাদিগকে আনা হইল আমরা তখন পক্ষি-শাবকের ন্যায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: আমার নিকট একজন ক্ষৌরকার উপস্থিত কর। একজন ক্ষৌরকার আনা হইলে সে আমাদের মাথা মুণ্ডন করিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: মুহাম্মাদ (জা'ফার পুত্র) আমার পিতৃব্য আবূ তালিবের সদৃশ্য। 'আবদুল্লাহ (জা'ফার পুত্র) আমার গঠন ও চরিত্র সদৃশ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) আমার হাত উত্তোলন করিয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি জা'ফার পরিবারের অভিভাবক হইয়া যাও। 'আবদুল্লাহ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত দাও। তিনি ইহা তিনবার বলিলেন। অতঃপর আমার মাতা আগমন করিয়া আমাদের পিতৃহীনতার কথা উল্লেখ করিতে লাগিলেন এবং তাহার দুঃখ-বেদনার কথা ব্যক্ত করিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: তুমি দারিদ্র্যের চিন্তা করিতেছ? অথচ ইহকাল ও পরকালে আমি তাহাদের অভিভাবক” (মুসনাদে আহমাদ, ১খ., পৃ. ২০৪, নং ১৭৫০; আবূ দাউদ, তারাজ্জল, বাব ফী হালকির রাস, নং ৪১৯২)।
ইমাম নাসাঈ কিতাবুস সিয়ারে সম্পূর্ণ হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন। উক্ত হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফায় পরিবারকে তিনদিন ক্রন্দন করিবার অর্থাৎ শোক পালনের অনুমতি দান করিয়াছিলেন, তিনদিন পর তাহা নিষিদ্ধ করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ আল-হাকাম ইবন 'আবدিল্লাহ ইব্‌ন শাদ্দাদ সূত্রে আসমা (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন: إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَهَا لَمَّا أُصِيْبَ جَعْفَرُ تُسَلِّبِي ثَلَاثًا ثُمَّ اصْنَعِي مَا شِئْتِ.
"জা'ফার (রা) নিহত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) আসমা (রা)-কে বলিয়াছিলেনঃ তুমি ভিম দিন গভীরভাবে শোক পালন কর, ইহার পর যাহা ইচ্ছা তাহা কর"।
ইহা ইমাম আহমাদ হইতে এককভাবে বর্ণিত। এই হাদীছ দ্বারা এই কথা প্রমাণিত হইবার সম্ভাবনা আছে যে, রাসূলুল্লাহ (س) আসমা' (রা)-কে 'তাসাল্লুব' অর্থাৎ অধিক ক্রন্দন ও কাপড়াদি ফাঁড়িয়া ক্রন্দন করার অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন। ইহা তাহার জন্য বিশেষভাবে অনুমতি ছিল জা'ফারের বিয়োগান্তে তিনি অধিক মাত্রায় ভাঙ্গিয়া পড়ায়। ইহারও সম্ভাবনা আছে যে, 'তাসাল্লুব' অর্থ হইল সাজ-সজ্জা অধিক মাত্রায় তিন দিন পর্যন্ত পরিত্যাগ করা। ইহার পর অন্যান্য 'ইদ্দত পালনকারিনিগণ যেইভাবে সাজ-সজ্জা পরিত্যাগ করিয়া ইদ্দত পালন করিয়া থাকে সেইভাবে যাহা ইচ্ছা তাহা করা। কেহ কেহ تسلبى ثَلَاثًا যাহার আরবী অর্থ تصبری ثَلَاثً (তিন দিন ধৈর্য ধারণ কর)। কিন্তু এইরূপ পাঠ অন্যান্য রিওয়ায়াতের পরিপন্থী।
ইমাম আহমদের এই সম্পর্কিত আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যাহা নিম্নরূপ:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْيَوْمَ الثَّالِثِ مِنْ قَتْلِ جَعْفَرٍ فَقَالَ لا تُحدِّى بَعْدَ يَوْمِك هذا .
"আসমা বিন্ত 'উমায়س (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) জা'ফার নিহত হইবার তৃতীয় দিন (আমার গৃহে) প্রবেশ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন: এই দিনের পর তুমি আর শোক প্রকাশ করিও না"।
ইহাও ইমাম আহমাদের একক বর্ণনা। ইহার সনদে কোন আপত্তি নাই। তবে শাব্দিক অর্থে হাদীছ গ্রহণ করিলে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তাহা হইল, সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেনঃ لا يَحِلُّ لَامْرَأَهِ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تَحِدَّ عَلَى مَيِّتِهَا أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ إِلَّا علَى زَوْجِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا .
"যেই মহিলা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে তাহার জন্য মৃত ব্যক্তির উপর তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নহে। তবে সে তাহার স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করিবে"।
এই হাদীছে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করার কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু ইহার বিপরীত উপরোল্লিখিত হাদীছে আসমা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স) তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। সুতরাং এই সম্পর্কে সমাধান এই যে, যদি ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত রিওয়ায়াতকে সঠিক (محفوظ) গণ্য করা হয় তাহা হইলে ইহা হইবে কেবল এই ঘটনার জন্যই নির্দিষ্ট। অথবা বলা হইবে, এই হাদীছে কেবল এই তিন দিন অধিক মাত্রায় শোক পালনের আদেশ ছিল যাহা ইতোপূর্বে আলোচিত হইয়াছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫০-২৫২)।
আসমা বিন্ত 'উমায়س (রা) তাঁহার স্বামী জা'ফার (রা)-এর মৃত্যুতে নিম্নোক্ত শোক গাহন আবৃত্তি করিয়াছিলেন:
قَالَيْتُ لَا تَنْفَكُ نَفْسِي حَزِينَةً عَلَيْكَ وَلَا يَنْفَكُ جِلْدِي أَغْبَرَ. فَلِلَّهِ عَيْنًا مَنْ رَأَى مِثْلَهُ فَتًى - أَكَرُّوا حُمى فِي الْهَيَاجِ وَأَصْبَرَا.
"আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, আমার হৃদয় তোমার মর্মবেদনা হইতে বিচ্ছিন্ন হইবে না এবং আমার ত্বক ধুলাবালি মুক্ত হইবে না।
"আল্লাহ্র শপথ! এমন কোন চক্ষু দেখা যায় নাই যে তাঁহার মত যুদ্ধে পাল্টা আক্রমণকারী, কঠোর হস্তে দমনকারী ও সহনশীল যুবক দেখিয়াছে"।
অতঃপর আসমা (রা)-এর 'ইদ্দত পূর্ণ হইয়া গেলে আবূ বাক্স (রা) তাঁহার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠাইলেন। আবূ বাক্স (রা) তাঁহার সহিত বিবাহে আবদ্ধ হইয়া ওলীমা অনুষ্ঠান করিলেন। উক্ত ওলীমায় অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে 'আলী ইবন আবী তালিব (রা)-ও ছিলেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৫৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সৈন্যবাহিনীর মদীনা প্রত্যাবর্তন এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর অভ্যর্থনা

📄 সৈন্যবাহিনীর মদীনা প্রত্যাবর্তন এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর অভ্যর্থনা


এই যুদ্ধ মোট সাত দিন অব্যাহত ছিল (সীরাতে হালাবিয়্যা, উর্দু অনুবাদ, ৩/৩খ., ৫৯)। সৈন্যবাহিনী মৃতা হইতে মদীনায় পৌঁছিবার সময় রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জানাইয়াছিলেন। শিশুরা দৌঁড়াইয়া বাহির হইয়াও তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৬)।

এই যুদ্ধ মোট সাত দিন অব্যাহত ছিল (সীরাতে হালাবিয়্যা, উরদূ অনু, ৩/৩খ., ৫৯)। সৈন্যবাহিনী মৃতা হইতে মদীনায় পৌঁছিবার সময় রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জানাইয়াছিলেন। শিশুরা দৌঁড়াইয়া বাহির হইয়াও তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬৬)।

এই যুদ্ধ মোট সাত দিন অব্যাহত ছিল (সীরাতে হালাবিয়্যা, উর্দু অনুবাদ, ৩/৩খ., ৫৯)। সৈন্যবাহিনী মৃতা হইতে মদীনায় পৌঁছিবার সময় রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জানাইয়াছিলেন। শিশুরা দৌঁড়াইয়া বাহির হইয়াও তাহাদিগকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করিয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া; ইব্‌ن হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩খ., ২৬৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00