📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুসলিম বাহিনীর মা'আন নামক স্থানে উপস্থিতি

📄 মুসলিম বাহিনীর মা'আন নামক স্থানে উপস্থিতি


ইব্‌ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক
স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصُّوانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ
أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”।
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصُّوانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصَّوَانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصَّوَانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শত্রুর সহিত মুসলিম বাহিনীর মুকাবিলা

📄 শত্রুর সহিত মুসলিম বাহিনীর মুকাবিলা


ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু
দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্‌ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্‌ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্‌ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্‌ন মালিক (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرِى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্‌ন আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই" (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।

ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্‌ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্‌ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্‌ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্‌ন মালিক (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرَى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্‌ন আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই” (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।

ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্‌ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্‌ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্‌ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্‌ন মালিক (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرِى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্‌ন আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই” (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।

ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্‌ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্‌ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্‌ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্‌ন মালিক (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرِى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্‌ن আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই” (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-র শাহাদাতবরণ

📄 যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-র শাহাদাতবরণ


ইব্‌ন ইসহাক বলেন, মুসলিম বাহিনী শত্রু বাহিনীর মুখামুখি হইলে যুদ্ধ শুরু হয়। যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর দেওয়া পতাকা হাতে লইয়া যুদ্ধ আরম্ভ করেন। এক পর্যায়ে শত্রুর বল্লমের আঘাতে তাঁহার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬২)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, মুসলিম বাহিনী শত্রু বাহিনীর মুখামুখি হইলে যুদ্ধ শুরু হয়। যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর দেওয়া পতাকা হাতে লইয়া যুদ্ধ আরম্ভ করেন। এক পর্যায়ে শত্রুর বল্লমের আঘাতে তাঁহার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৬২)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, মুসলিম বাহিনী শত্রু বাহিনীর মুখামুখি হইলে যুদ্ধ শুরু হয়। যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর দেওয়া পতাকা হাতে লইয়া যুদ্ধ আরম্ভ করেন। এক পর্যায়ে শত্রুর বল্লমের আঘাতে তাঁহার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., ২৬২)।

ইব্‌ন ইসহাক বলেন, মুসলিম বাহিনী শত্রু বাহিনীর মুখামুখি হইলে যুদ্ধ শুরু হয়। যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর দেওয়া পতাকা হাতে লইয়া যুদ্ধ আরম্ভ করেন। এক পর্যায়ে শত্রুর বল্লমের আঘাতে তাঁহার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয় এবং তিনি শাহাদাত লাভ করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৬২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব (রা)-র শাহাদাতবরণ

📄 জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব (রা)-র শাহাদাতবরণ


যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) শহীদ হওয়ার পর ইসলামী পতাকা হাতে লইয়া জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। ব্যাপক যুদ্ধশেষে তিনিও শাহাদাত লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়ার পিঠ হইতে লাফাইয়া পড়িয়া ঘোড়াটির পা কাটিয়া ফেলেন। ইসলামের ইতিহাসে জা'ফার (রা)-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজ ঘোড়ার পা কাটিয়া জীবন বাজি রাখিয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। ইব্‌ন ইসহাক বলেন, ইয়াহইয়া ইব্‌ন 'আব্বাদ ইব্‌ন 'আবদিল্লাহ ইব্‌ন যুবায়র তাহার পিতা 'আব্বাদের বরাতে আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন।
তিনি বলেন, আমাকে আমার দুধ-পিতা বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি ছিলেন বানু নুররা ইন্ন 'আওফ গোত্রীয়। তিনি মৃতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারিগণের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এখনও দেখিতে পাইতেছি জা'ফার (রা)-কে যখন তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়া হইতে অবতরণ করেন, তাহার পা কাটিয়া দেন এবং শত্রুদিগের সহিত লড়িতে লড়িতে শাহাদাত লাভ করেন। তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন।
يَا حَبَّذا الْجَنَّةَ وَقْتِرَابَهَا - طَيِّبَةً وَبَارِداً شَرَابَهَا وَالرُّوْمُ رُومٌ قَدْ دَنَا عَذَابُهَا - كَافِرَةٌ بَعِيدَةٌ أَنْسَابُهَا عَلَى إِنْ لَا لِقَيْتَهَا ضَرَابُهَا
"কতইনা উত্তম জান্নাত ও তাহার নিকটবর্তী হওয়া, অতি পবিত্র অতি শীতল তাহার পানীয়।
"রোমবাসীরা তো রোমবাসী, তাহাদিগের শাস্তি ঘনাইয়া আসিয়াছে। ইহারা অনেক দূর সম্পর্কীয় লোক। ইহারা আমার সহিত সংঘর্ষে লিপ্ত হইলে করণীয় হইল তাহা প্রত্যাখ্যান করা"।
এই হাদীছটি ইমাম আবু দাউদ আবূ ইসহাকের বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু তিনি উপরিউক্ত কবিতার কথা উল্লেখ করেন নাই।
এই হাদীছ দ্বারা শত্রু প্রাণী দ্বারা উপকৃত হইবার আশংকা দেখা দিলে তাহা হত্যা করিবার বৈধতা প্রমাণিত হয়। যেমন ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, যুদ্ধলব্ধ প্রাণী যদি সঙ্গে চলিবার উপযোগী না হয়, বরং তাহা শত্রুদের সহিত মিলিত হইবার এবং তাহাদের দ্বারা তাহা হইতে উপকৃত হইবার আশংকা থাকে তখন তাহা যবেহ করিয়া জ্বালাইয়া দিবে, যাহাতে শত্রুগণ তাহা হইতে উপকৃত হইবার সুযোগ না পায়। আস-সুহায়লী বলেন, জা'ফার (রা)-এর এই কাজের ব্যাপারে কেহ আপত্তি করেন নাই। সুতরাং তাহা বৈধ হইবার প্রমাণ বহন করে। তবে যদি শত্রু কর্তৃক হস্তগত করিবার আশংকা না থাকে তাহা হইলে বৈধ নহে। প্রয়োজনে এইরূপ প্রাণী বধ করাকে অথবা প্রাণী বধ করার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হইবে না। ইবন হিশাম বলেন, যাহার উপর আস্থা স্থাপন করা যায় এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, জা'ফার (রা) ডান হাতে পতাকা ধারণ করিয়াছিলেন। তাঁহার ডান হাত কর্তিত হইলে বাম হাতে তাহা ধারণ করেন। বাম হাতটিও কাটা গেলে তিনি পতাকাটি বাহুদ্বয়ের সাহায্যে বুকের সহিত জড়াইয়া ধরিয়াছিলেন, এই অবস্থাতেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। তখন তাঁহার বয়স মাত্র তেত্রিশ বৎসর। ইহার কারণে আল্লাহ তাঁহাকে জান্নাতে দুইটি ডানা দান করেন। তিনি ইহার সাহায্যে যেখানে ইচ্ছা উড়িয়া বেড়াইবেন।
এক বর্ণনায় রহিয়াছে, জনৈক রোমক সৈন্য সেই দিন তাঁহাকে একটি প্রচণ্ড আঘাত হানে ইহার ফলে তাঁহার দেহ দ্বিখণ্ডিত হইয়া যায় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ., ৪৫৭)। এই ব্যাপারে ইমাম বুখারীর নিম্নোক্ত হাদীছদ্বয় প্রণিধানযোগ্য:
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ وَقَفَ عَلَى جَعْفَرٍ يَوْمَئِذٍ وَهُوَ قَتِيلٌ فَعَدَدْتُ بِهِ خَمْسِينَ بَيْنَ طَعْنَةٍ وَضَرَبَةٍ لَيْسَ مِنْهَا شَيْءٍ فِي دُبُرِهِ.
"নাফে' হইতে বর্ণিত। ইবন 'উমার (রা) তাহাকে জানাইয়াছেন যে, জা'ফার (রা) যেই দিন শাহাদাত বরণ করেন ঐ দিন আমি তাঁহার নিকট অবস্থান করিয়া তাঁহার দেহে পঞ্চাশটি তলোয়ার ও বল্লমের আঘাত গণনা করিয়াছি। এই আঘাতসমূহের কোনটিই তাঁহার পিছন দিকে ছিল না"।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ فِيهِمْ فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ فَالْتَمَسْنَا جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَوَجَدْنَاهُ فِي الْقَتْلَى وَوَجَدْنَا مَا فِي جَسَدِهِ بِضْعًا وَتِسْعِينَ مِنْ طَعْنَةٍ وَرَمْيَة.
"আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) বলেন, আমি এই যুদ্ধে তাঁহাদিগের সহিত ছিলাম। অতঃপর আমরা জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবকে তালাশ করিয়া তাঁহাকে শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত দেখিতে পাইলাম। আমরা তাঁহার আঘাতের খোঁজ লইয়া তাঁহার দেহে তলোয়ার ও বর্শার নব্বই ঊর্ধ্ব আঘাত দেখিতে পাইলাম” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি মৃতা মিন আরদিশ শাম, ২খ., ৬১১)।
উপরিউক্ত দুই হাদীছে আঘাতের সংখ্যা সম্পর্কে দুই ধরনের তথ্য রহিয়াছে। ইহার নিরসনকল্পে ইবন হাজার 'আসকালানী নিম্নোক্ত অভিমত পেশ করিয়াছেনঃ
(ক) অনেক সময় সংখ্যা দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যা না বুঝাইয়া আঘাতের আধিক্য বুঝানো হয়।
(খ) আঘাতের সংখ্যা অধিক জ্ঞাপক বর্ণনায় তীর নিক্ষেপজনিত আঘাতের কথা ধরা হইয়াছে।
বায়হাকীর "আদ-দালাইল” গ্রন্থে রহিয়াছে, "بضعا وتسعين أو بضعا و سبعين
"নব্বই ঊর্ধ্ব কিংবা সত্তর ঊর্ধ্ব।"
অতঃপর ইমাম বায়হাকী নব্বই ঊর্ধ্বকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হইবার ইঙ্গিত করিয়াছেন।
" لَيْسَ مِنْهَا شَيْى فِي دُبُرِهِ “
"কোন আঘাত তাঁহার পিছনের দিকে ছিল না,” এই কথা তাঁহার বীরত্বের সাক্ষ্য বহন করে (ফাতহুল-বারী, ৭খ., ৫১২)।

যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) শহীদ হওয়ার পর ইসলামী পতাকা হাতে লইয়া জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। ব্যাপক যুদ্ধশেষে তিনিও শাহাদাত লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়ার পিঠ হইতে লাফাইয়া পড়িয়া ঘোড়াটির পা কাটিয়া ফেলেন। ইসলামের ইতিহাসে জা'ফার (রা)-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজ ঘোড়ার পা কাটিয়া জীবন বাজি রাখিয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। ইব্‌ন ইসহাক বলেন, ইয়াহইয়া ইব্‌ন 'আব্বাদ ইব্‌ন 'আবদিল্লাহ ইব্‌ন যুবায়র তাহার পিতা 'আব্বাদের বরাতে আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন।
তিনি বলেন, আমাকে আমার দুধ-পিতা বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি ছিলেন বানু নুররা ইন্ন 'আওফ গোত্রীয়। তিনি মৃতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারিগণের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এখনও দেখিতে পাইতেছি জা'ফার (রা)-কে যখন তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়া হইতে অবতরণ করেন, তাহার পা কাটিয়া দেন এবং শত্রুদিগের সহিত লড়িতে লড়িতে শাহাদাত লাভ করেন। তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন।
يَا حَبَّذا الْجَنَّةَ وَقْتِرَابَهَا - طَيِّبَةً وَبَارِداً شَرَابَهَا وَالرُّوْمُ رُومٌ قَدْ دَنَا عَذَابُهَا - كَافِرَةٌ بَعِيدَةٌ أَنْسَابُهَا عَلَى إِنْ لَا لِقَيْتَهَا ضَرَابُهَا
"কতইনা উত্তম জান্নাত ও তাহার নিকটবর্তী হওয়া, অতি পবিত্র অতি শীতল তাহার পানীয়।
"রোমবাসীরা তো রোমবাসী, তাহাদিগের শাস্তি ঘনাইয়া আসিয়াছে। ইহারা অনেক দূর সম্পর্কীয় লোক। ইহারা আমার সহিত সংঘর্ষে লিপ্ত হইলে করণীয় হইল তাহা প্রত্যাখ্যান করা"।
এই হাদীছটি ইমাম আবু দাউদ আবূ ইসহাকের বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু তিনি উপরিউক্ত কবিতার কথা উল্লেখ করেন নাই।
এই হাদীছ দ্বারা শত্রু প্রাণী দ্বারা উপকৃত হইবার আশংকা দেখা দিলে তাহা হত্যা করিবার বৈধতা প্রমাণিত হয়। যেমন ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, যুদ্ধলব্ধ প্রাণী যদি সঙ্গে চলিবার উপযোগী না হয়, বরং তাহা শত্রুদের সহিত মিলিত হইবার এবং তাহাদের দ্বারা তাহা হইতে উপকৃত হইবার আশংকা থাকে তখন তাহা যবেহ করিয়া জ্বালাইয়া দিবে, যাহাতে শত্রুগণ তাহা হইতে উপকৃত হইবার সুযোগ না পায়। আস-সুহায়লী বলেন, জা'ফার (রা)-এর এই কাজের ব্যাপারে কেহ আপত্তি করেন নাই। সুতরাং তাহা বৈধ হইবার প্রমাণ বহন করে। তবে যদি শত্রু কর্তৃক হস্তগত করিবার আশংকা না থাকে তাহা হইলে বৈধ নহে। প্রয়োজনে এইরূপ প্রাণী বধ করাকে অথবা প্রাণী বধ করার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হইবে না। ইবন হিশাম বলেন, যাহার উপর আস্থা স্থাপন করা যায় এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, জা'ফার (রা) ডান হাতে পতাকা ধারণ করিয়াছিলেন। তাঁহার ডান হাত কর্তিত হইলে বাম হাতে তাহা ধারণ করেন। বাম হাতটিও কাটা গেলে তিনি পতাকাটি বাহুদ্বয়ের সাহায্যে বুকের সহিত জড়াইয়া ধরিয়াছিলেন, এই অবস্থাতেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। তখন তাঁহার বয়স মাত্র তেত্রিশ বৎসর। ইহার কারণে আল্লাহ তাঁহাকে জান্নাতে দুইটি ডানা দান করেন। তিনি ইহার সাহায্যে যেখানে ইচ্ছা উড়িয়া বেড়াইবেন।
এক বর্ণনায় রহিয়াছে, জনৈক রোমক সৈন্য সেই দিন তাঁহাকে একটি প্রচণ্ড আঘাত হানে ইহার ফলে তাঁহার দেহ দ্বিখণ্ডিত হইয়া যায় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ., ৪৫৭)। এই ব্যাপারে ইমাম বুখারীর নিম্নোক্ত হাদীছদ্বয় প্রণিধানযোগ্য:
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ وَقَفَ عَلَى جَعْفَرٍ يَوْمَئِذٍ وَهُوَ قَتِيلٌ فَعَدَدْتُ بِهِ خَمْسِينَ بَيْنَ طَعْنَةٍ وَضَرَبَةٍ لَيْسَ مِنْهَا شَيْءٍ فِي دُبُرِهِ.
"নাফে' হইতে বর্ণিত। ইবন 'উমার (রা) তাহাকে জানাইয়াছেন যে, জা'ফার (রা) যেই দিন শাহাদাত বরণ করেন ঐ দিন আমি তাঁহার নিকট অবস্থান করিয়া তাঁহার দেহে পঞ্চাশটি তলোয়ার ও বল্লমের আঘাত গণনা করিয়াছি। এই আঘাতসমূহের কোনটিই তাঁহার পিছন দিকে ছিল না"।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ فِيهِمْ فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ فَالْتَمَسْنَا جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَوَجَدْنَاهُ فِي الْقَتْلَى وَوَجَدْنَا مَا فِي جَسَدِهِ بِضْعًا وَتِسْعِينَ مِنْ طَعْنَةٍ وَرَمْيَة.
"আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) বলেন, আমি এই যুদ্ধে তাঁহাদিগের সহিত ছিলাম। অতঃপর আমরা জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবকে তালাশ করিয়া তাঁহাকে শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত দেখিতে পাইলাম। আমরা তাঁহার আঘাতের খোঁজ লইয়া তাঁহার দেহে তলোয়ার ও বর্শার নব্বই ঊর্ধ্ব আঘাত দেখিতে পাইলাম” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি মৃতা মিন আরদিশ শাম, ২খ., ৬১১)।
উপরিউক্ত দুই হাদীছে আঘাতের সংখ্যা সম্পর্কে দুই ধরনের তথ্য রহিয়াছে। ইহার নিরসনকল্পে ইবন হাজার 'আসকালানী নিম্নোক্ত অভিমত পেশ করিয়াছেনঃ
(ক) অনেক সময় সংখ্যা দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যা না বুঝাইয়া আঘাতের আধিক্য বুঝানো হয়।
(খ) আঘাতের সংখ্যা অধিক জ্ঞাপক বর্ণনায় তীর নিক্ষেপজনিত আঘাতের কথা ধরা হইয়াছে।
বায়হাকীর "আদ-দালাইল” গ্রন্থে রহিয়াছে, "بضعا وتسعين أو بضعا و سبعين" "নব্বই ঊর্ধ্ব কিংবা সত্তর ঊর্ধ্ব।"
অতঃপর ইমাম বায়হাকী নব্বই ঊর্ধ্বকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হইবার ইঙ্গিত করিয়াছেন।
" لَيْسَ مِنْهَا شَيْى فِي دُبُرِهِ “ "কোন আঘাত তাঁহার পিছনের দিকে ছিল না,” এই কথা তাঁহার বীরত্বের সাক্ষ্য বহন করে (ফাতহুল-বারী, ৭খ., ৫১২)।

যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা) শহীদ হওয়ার পর ইসলামী পতাকা হাতে লইয়া জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। ব্যাপক যুদ্ধশেষে তিনিও শাহাদাত লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়ার পিঠ হইতে লাফাইয়া পড়িয়া ঘোড়াটির পা কাটিয়া ফেলেন। ইসলামের ইতিহাসে জা'ফার (রা)-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজ ঘোড়ার পা কাটিয়া জীবন বাজি রাখিয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। ইব্‌ন ইসহাক বলেন, ইয়াহইয়া ইব্‌ন 'আব্বাদ ইব্‌ন 'আবদিল্লাহ ইব্‌ন যুবায়র তাহার পিতা 'আব্বাদের বরাতে আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, আমাকে আমার দুধ-পিতা বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি ছিলেন বানু নুররা ইন্ন 'আওফ গোত্রীয়। তিনি মৃতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারিগণের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এখনও দেখিতে পাইতেছি জা'ফার (রা)-কে যখন তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়া হইতে অবতরণ করেন, তাহার পা কাটিয়া দেন এবং শত্রুদিগের সহিত লড়িতে লড়িতে শাহাদাত লাভ করেন। তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন।
يَا حَبَّذا الْجَنَّةَ وَقْتِرَابَهَا - طَيِّبَةً وَبَارِداً شَرَابَهَا وَالرُّوْمُ رُومٌ قَدْ دَنَا عَذَابُهَا - كَافِرَةٌ بَعِيدَةٌ أَنْسَابُهَا عَلَى إِنْ لَا لِقَيْتَهَا ضَرَابُهَا
"কতইনা উত্তম জান্নাত ও তাহার নিকটবর্তী হওয়া, অতি পবিত্র অতি শীতল তাহার পানীয়।
"রোমবাসীরা তো রোমবাসী, তাহাদিগের শাস্তি ঘনাইয়া আসিয়াছে। ইহারা অনেক দূর সম্পর্কীয় লোক। ইহারা আমার সহিত সংঘর্ষে লিপ্ত হইলে করণীয় হইল তাহা প্রত্যাখ্যান করা"।
এই হাদীছটি ইমাম আবু দাউদ আবূ ইসহাকের বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু তিনি উপরিউক্ত কবিতার কথা উল্লেখ করেন নাই।
এই হাদীছ দ্বারা শত্রু প্রাণী দ্বারা উপকৃত হইবার আশংকা দেখা দিলে তাহা হত্যা করিবার বৈধতা প্রমাণিত হয়। যেমন ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, যুদ্ধলব্ধ প্রাণী যদি সঙ্গে চলিবার উপযোগী না হয়, বরং তাহা শত্রুদের সহিত মিলিত হইবার এবং তাহাদের দ্বারা তাহা হইতে উপকৃত হইবার আশংকা থাকে তখন তাহা যবেহ করিয়া জ্বালাইয়া দিবে, যাহাতে শত্রুগণ তাহা হইতে উপকৃত হইবার সুযোগ না পায়। আস-সুহায়লী বলেন, জা'ফার (রা)-এর এই কাজের ব্যাপারে কেহ আপত্তি করেন নাই। সুতরাং তাহা বৈধ হইবার প্রমাণ বহন করে। তবে যদি শত্রু কর্তৃক হস্তগত করিবার আশংকা না থাকে তাহা হইলে বৈধ নহে। প্রয়োজনে এইরূপ প্রাণী বধ করাকে অথবা প্রাণী বধ করার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হইবে না। ইবন হিশাম বলেন, যাহার উপর আস্থা স্থাপন করা যায় এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, জা'ফার (রা) ডান হাতে পতাকা ধারণ করিয়াছিলেন। তাঁহার ডান হাত কর্তিত হইলে বাম হাতে তাহা ধারণ করেন। বাম হাতটিও কাটা গেলে তিনি পতাকাটি বাহুদ্বয়ের সাহায্যে বুকের সহিত জড়াইয়া ধরিয়াছিলেন, এই অবস্থাতেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। তখন তাঁহার বয়স মাত্র তেত্রিশ বৎসর। ইহার কারণে আল্লাহ তাঁহাকে জান্নাতে দুইটি ডানা দান করেন। তিনি ইহার সাহায্যে যেখানে ইচ্ছা উড়িয়া বেড়াইবেন।
এক বর্ণনায় রহিয়াছে, জনৈক রোমক সৈন্য সেই দিন তাঁহাকে একটি প্রচণ্ড আঘাত হানে ইহার ফলে তাঁহার দেহ দ্বিখণ্ডিত হইয়া যায় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ., ৪৫৭)। এই ব্যাপারে ইমাম বুখারীর নিম্নোক্ত হাদীছদ্বয় প্রণিধানযোগ্য:
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ وَقَفَ عَلَى جَعْفَرٍ يَوْمَئِذٍ وَهُوَ قَتِيلٌ فَعَدَدْتُ بِهِ خَمْسِينَ بَيْنَ طَعْنَةٍ وَضَرَبَةٍ لَيْسَ مِنْهَا شَيْءٍ فِي دُبُرِهِ.
"নাফে' হইতে বর্ণিত। ইবন 'উমার (রা) তাহাকে জানাইয়াছেন যে, জা'ফার (রা) যেই দিন শাহাদাত বরণ করেন ঐ দিন আমি তাঁহার নিকট অবস্থান করিয়া তাঁহার দেহে পঞ্চাশটি তলোয়ার ও বল্লমের আঘাত গণনা করিয়াছি। এই আঘাতসমূহের কোনটিই তাঁহার পিছন দিকে ছিল না"।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ فِيهِمْ فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ فَالْتَمَسْنَا جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَوَجَدْنَاهُ فِي الْقَتْلَى وَوَجَدْنَا مَا فِي جَسَدِهِ بِضْعًا وَتِسْعِينَ مِنْ طَعْنَةٍ وَرَمْيَة.
"আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) বলেন, আমি এই যুদ্ধে তাঁহাদিগের সহিত ছিলাম। অতঃপর আমরা জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবকে তালাশ করিয়া তাঁহাকে শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত দেখিতে পাইলাম। আমরা তাঁহার আঘাতের খোঁজ লইয়া তাঁহার দেহে তলোয়ার ও বর্শার নব্বই ঊর্ধ্ব আঘাত দেখিতে পাইলাম” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি মৃতা মিন আরদিশ শাম, ২খ., ৬১১)।
উপরিউক্ত দুই হাদীছে আঘাতের সংখ্যা সম্পর্কে দুই ধরনের তথ্য রহিয়াছে। ইহার নিরসনকল্পে ইবন হাজার 'আসকালানী নিম্নোক্ত অভিমত পেশ করিয়াছেনঃ
(ক) অনেক সময় সংখ্যা দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যা না বুঝাইয়া আঘাতের আধিক্য বুঝানো হয়।
(খ) আঘাতের সংখ্যা অধিক জ্ঞাপক বর্ণনায় তীর নিক্ষেপজনিত আঘাতের কথা ধরা হইয়াছে।
বায়হাকীর "আদ-দালাইল” গ্রন্থে রহিয়াছে, "بضعا وتسعين أو بضعا و سبعين "নব্বই ঊর্ধ্ব কিংবা সত্তর ঊর্ধ্ব।"
অতঃপর ইমাম বায়হাকী নব্বই ঊর্ধ্বকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হইবার ইঙ্গিত করিয়াছেন।
" لَيْسَ مِنْهَا شَيْى فِي دُبُرِهِ ""কোন আঘাত তাঁহার পিছনের দিকে ছিল না,” এই কথা তাঁহার বীরত্বের সাক্ষ্য বহন করে (ফাতহুল-বারী, ৭খ., ৫১২)।

যায়দ ইব্‌ن হারিছা (রা) শহীদ হওয়ার পর ইসলামী পতাকা হাতে লইয়া জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। ব্যাপক যুদ্ধশেষে তিনিও শাহাদাত লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়ার পিঠ হইতে লাফাইয়া পড়িয়া ঘোড়াটির পা কাটিয়া ফেলেন। ইসলামের ইতিহাসে জা'ফার (রা)-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজ ঘোড়ার পা কাটিয়া জীবন বাজি রাখিয়া যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। ইব্‌ن ইসহাক বলেন, ইয়াহইয়া ইব্‌ن 'আব্বাদ ইব্‌ন 'আবدিল্লাহ ইব্‌ন যুবায়র তাহার পিতা 'আব্বাদের বরাতে আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, আমাকে আমার দুধ-পিতা বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি ছিলেন বানু নুররা ইন্ন 'আওফ গোত্রীয়। তিনি মৃতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারিগণের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এখনও দেখিতে পাইতেছি জা'ফার (রা)-কে যখন তিনি তাহার লোহিত বর্ণের ঘোড়া হইতে অবতরণ করেন, তাহার পা কাটিয়া দেন এবং শত্রুদিগের সহিত লড়িতে লড়িতে শাহাদাত লাভ করেন। তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন।
يَا حَبَّذا الْجَنَّةَ وَقْتِرَابَهَا - طَيِّبَةً وَبَارِداً شَرَابَهَا وَالرُّوْمُ رُومٌ قَدْ دَنَا عَذَابُهَا - كَافِرَةٌ بَعِيدَةٌ أَنْسَابُهَا عَلَى إِنْ لَا لِقَيْتَهَا ضَرَابُهَا
"কতইনা উত্তম জান্নাত ও তাহার নিকটবর্তী হওয়া, অতি পবিত্র অতি শীতল তাহার পানীয়।
"রোমবাসীরা তো রোমবাসী, তাহাদিগের শাস্তি ঘনাইয়া আসিয়াছে। ইহারা অনেক দূর সম্পর্কীয় লোক। ইহারা আমার সহিত সংঘর্ষে লিপ্ত হইলে করণীয় হইল তাহা প্রত্যাখ্যান করা"।
এই হাদীছটি ইমাম আবু দাউদ আবূ ইসহাকের বরাতে বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু তিনি উপরিউক্ত কবিতার কথা উল্লেখ করেন নাই।
এই হাদীছ দ্বারা শত্রু প্রাণী দ্বারা উপকৃত হইবার আশংকা দেখা দিলে তাহা হত্যা করিবার বৈধতা প্রমাণিত হয়। যেমন ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, যুদ্ধলব্ধ প্রাণী যদি সঙ্গে চলিবার উপযোগী না হয়, বরং তাহা শত্রুদের সহিত মিলিত হইবার এবং তাহাদের দ্বারা তাহা হইতে উপকৃত হইবার আশংকা থাকে তখন তাহা যবেহ করিয়া জ্বালাইয়া দিবে, যাহাতে শত্রুগণ তাহা হইতে উপকৃত হইবার সুযোগ না পায়। আস-সুহায়লী বলেন, জা'ফার (রা)-এর এই কাজের ব্যাপারে কেহ আপত্তি করেন নাই। সুতরাং তাহা বৈধ হইবার প্রমাণ বহন করে। তবে যদি শত্রু কর্তৃক হস্তগত করিবার আশংকা না থাকে তাহা হইলে বৈধ নহে। প্রয়োজনে এইরূপ প্রাণী বধ করাকে অথবা প্রাণী বধ করার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হইবে না। ইবন হিশাম বলেন, যাহার উপর আস্থা স্থাপন করা যায় এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, জা'ফার (রা) ডান হাতে পতাকা ধারণ করিয়াছিলেন। তাঁহার ডান হাত কর্তিত হইলে বাম হাতে তাহা ধারণ করেন। বাম হাতটিও কাটা গেলে তিনি পতাকাটি বাহুদ্বয়ের সাহায্যে বুকের সহিত জড়াইয়া ধরিয়াছিলেন, এই অবস্থাতেই তিনি শাহাদাত লাভ করেন। তখন তাঁহার বয়স মাত্র তেত্রিশ বৎসর। ইহার কারণে আল্লাহ তাঁহাকে জান্নাতে দুইটি ডানা দান করেন। তিনি ইহার সাহায্যে যেখানে ইচ্ছা উড়িয়া বেড়াইবেন।
এক বর্ণনায় রহিয়াছে, জনৈক রোমক সৈন্য সেই দিন তাঁহাকে একটি প্রচণ্ড আঘাত হানে ইহার ফলে তাঁহার দেহ দ্বিখণ্ডিত হইয়া যায় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪; মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ., ৪৫৭)। এই ব্যাপারে ইমাম বুখারীর নিম্নোক্ত হাদীছদ্বয় প্রণিধানযোগ্য:
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ وَقَفَ عَلَى جَعْفَرٍ يَوْمَئِذٍ وَهُوَ قَتِيلٌ فَعَدَدْتُ بِهِ خَمْسِينَ بَيْنَ طَعْنَةٍ وَضَرَبَةٍ لَيْسَ مِنْهَا شَيْءٍ فِي دُبُرِهِ.
"নাফে' হইতে বর্ণিত। ইবন 'উমার (রা) তাহাকে জানাইয়াছেন যে, জা'ফার (রা) যেই দিন শাহাদাত বরণ করেন ঐ দিন আমি তাঁহার নিকট অবস্থান করিয়া তাঁহার দেহে পঞ্চাশটি তলোয়ার ও বল্লমের আঘাত গণনা করিয়াছি। এই আঘাতসমূহের কোনটিই তাঁহার পিছন দিকে ছিল না"।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ فِيهِمْ فِي تِلْكَ الْغَزْوَةِ فَالْتَمَسْنَا جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَوَجَدْنَاهُ فِي الْقَتْلَى وَوَجَدْنَا مَا فِي جَسَدِهِ بِضْعًا وَتِسْعِينَ مِنْ طَعْنَةٍ وَرَمْيَة.
"আবদুল্লাহ ইবন 'উমার (রা) বলেন, আমি এই যুদ্ধে তাঁহাদিগের সহিত ছিলাম। অতঃপর আমরা জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিবকে তালাশ করিয়া তাঁহাকে শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত দেখিতে পাইলাম। আমরা তাঁহার আঘাতের খোঁজ লইয়া তাঁহার দেহে তলোয়ার ও বর্শার নব্বই ঊর্ধ্ব আঘাত দেখিতে পাইলাম” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি মৃতা মিন আরদিশ শাম, ২খ., ৬১১)।
উপরিউক্ত দুই হাদীছে আঘাতের সংখ্যা সম্পর্কে দুই ধরনের তথ্য রহিয়াছে। ইহার নিরসনকল্পে ইবন হাজার 'আসকালানী নিম্নোক্ত অভিমত পেশ করিয়াছেনঃ
(ক) অনেক সময় সংখ্যা দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যা না বুঝাইয়া আঘাতের আধিক্য বুঝানো হয়।
(খ) আঘাতের সংখ্যা অধিক জ্ঞাপক বর্ণনায় তীর নিক্ষেপজনিত আঘাতের কথা ধরা হইয়াছে।
বায়হাকীর "আদ-দালাইল” গ্রন্থে রহিয়াছে, "بضعا وتسعين أو بضعا و سبعين "নব্বই ঊর্ধ্ব কিংবা সত্তর ঊর্ধ্ব।"
অতঃপর ইমাম বায়হাকী নব্বই ঊর্ধ্বকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য হইবার ইঙ্গিত করিয়াছেন।
" لَيْسَ مِنْهَا شَيْى فِي دُبُرِهِ ""কোন আঘাত তাঁহার পিছনের দিকে ছিল না,” এই কথা তাঁহার বীরত্বের সাক্ষ্য বহন করে (ফাতহুল-বারী, ৭খ., ৫১২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00