📄 যুদ্ধাভিযানে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার বিলম্ব
ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন: لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্ন রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্ন রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স)
বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন: لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্ন রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্ন রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন:
لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্ন রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্ن রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন:
لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্ن রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্ন রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপদেশ
এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্ن আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্ন রাওয়াহা (রা)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে
বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادَرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।
এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্ন আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্ন রাওয়াহা (را)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادَرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।
এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্ন আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্ن রাওয়াহা (রা)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادَرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।
এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্ন আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্ন রাওয়াহা (রা)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادِرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।
📄 মুসলিম বাহিনীর মা'আন নামক স্থানে উপস্থিতি
ইব্ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক
স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصُّوانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ
أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”।
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।
ইব্ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصُّوانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।
ইব্ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصَّوَانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।
ইব্ন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হইয়া সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে গিয়া উপনীত হয়। ইত্যবসরে মুসলিমগণ অবগত হইল যে, হিরাক্লিয়াস বালকার মাআব নামক স্থানে এক লক্ষ রোমক বাহিনী লইয়া অবস্থান করিতেছেন। ইহাদের সঙ্গে যোগ দিয়াছে লাখম, জুযাম, বুলকীন, বাহরা ও বালা গোত্রের এক লক্ষ সৈন্য। ইহাদের নেতৃত্ব দিতেছে বালা গোত্রের মালিক ইবন যাফিলাঃ নামক এক ব্যক্তি (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪২)। ইবন ইসহাক বলেন, মুসলিমগণের নিকট সংবাদ পৌঁছিল যে, হিরাক্লিয়াস এক লক্ষ রোমক বাহিনী ও এক লক্ষ খৃষ্টান আরব বাহিনী লইয়া মাআব নামক স্থানে অবস্থান করিতেছে (আল-বিদায় ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।
'আল্লামা দিহলাবী বলেন, যায়দ ইবন হারিছা (রা) মুসলিম বাহিনী লইয়া মৃতা অভিমুখে রওয়ানা হইলে শত্রুগণ ইহার সংবাদ পাইল এবং শুরাহবীল এক বিরাট বাহিনী গঠন করিল। মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মা'আন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করিল। এই স্থানে মুসলিম বাহিনী শত্রুদের বিরাট বাহিনীর সংবাদ পাইল। শুরাহবীল তদীয় ভাই শাদূসের নেতৃত্বে পঞ্চাশজন লোকের একটি দল মুসলিম বাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করিল। মুসলিম বাহিনী ইহাদিগকে প্রতিরোধ করিল এবং যুদ্ধের মাধ্যমে শাদূসকে হত্যা করিল। তাহার সঙ্গীগণ পালাইয়া গেল। শূরাহবীল এই সংবাদ পাইয়া দুর্গে প্রবেশ করিল এবং তাহার অপর ভাইকে হিরাক্লিয়াসের নিকট সাহায্যের জন্য প্রেরণ করিল। হিরাক্লিয়াস একটি বাহিনী শুরাহবীলের সাহায্যার্থে প্রস্তুত করিল। আরব গোত্রীয় অনেক মুশরিকও তাহাদের সহিত যোগদান করিল। ফলে শত্রুদের সংখ্যা এক লক্ষের উর্দ্ধে চলিয়া গেল (মাদারিজুন-নুবুওয়াত ২খ., ৪৫৬-৪৫৭)।
এই সংবাদ লাভে মুসলিম বাহিনী সেখানে দুই রাত অবস্থান করিল। এই সময় তাহারা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করিলেন। তাহারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলেন যে, পত্র লিখিয়া আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে শত্রুদের সংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করিব। ইহাতে তিনি হয়ত আরও সৈন্য পাঠাইয়া আমাদিগকে সাহায্য করিবেন কিংবা অন্য কোন নির্দেশ প্রদান করিবেন। সেইমতে আমরা পরবর্তী কাজ করিব।
ইবন ইসহাক বলেন, এই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) মুসলিম সৈন্যদিগকে উদ্বুদ্ধ করিয়া এক বীরত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন, "লোকসকল, আল্লাহর শপথ! এই মুহূর্তে তোমরা যাহা ভাল মনে করিতেছ না, সেই শাহাদাত লাভের নিমিত্ত তোমরা বাহির হইয়াছিলে। আমরা (মুসলমান) সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের উপর নির্ভর করিয়া জিহাদ করি না। সেই দীনের জন্য আমাদের জিহাদ যাহার দ্বারা আল্লাহ আমাদিগকে সম্মানিত করিয়াছেন। অতএব সম্মুখ পানে অগ্রসর হও! দুই কল্যাণের একটি আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী: হয় বিজয়, না হয় শাহাদাত"। ইবন ইসহাক বলেন, তাঁহার এই ভাষণ শ্রবণে সকলেই বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! ইবন রাওয়াহা যথার্থ বলিয়াছেন। 'আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) এই জড়তা দূর করণার্থে কবিতার মাধ্যমে বলেন:
جَلَبْنَا الْخَيْلَ مِنْ أَجَاءَ وَفَرْعِ - تُغَرُّ مِنَ الْحَشِيْشَ لَهَا الْعُكُومُ حَدَوْنَاهَا مِنَ الصَّوَانِ سَبْتًا - أَزَلُّ كَانَ صَفْحَتَهُ أَدِيمُ أَقَامَتْ لَيْلَتَيْنِ عَلَى مَعَانٍ - فَأَعْقَبَ بَعْدَ فَتْرَتَهَا جُمُومٌ فَرُحْنَا وَالْجِيَادُ مُسَوَّمَاتِ - تَنَفَّسَ فِي مَنَاخِرِهَا الشَّمُومُ فَلَا وَأَبِي مَابٌ لَنَاتِينَهَا - وَإِنْ كَانَتْ بِهَا عَذَبٌ وَرُومٌ فَعَبَافَنَا أَعِنْتَهَا جَاءَتْ - عَوَابِسُ وَالْغُبَارُ لَهَا بَرِيمِ بذي لَجَب كَأَنَّ الْبَيْضَ فِيهِ - إِذَا بَرَزَتْ قَوَانِسُهَا النُّجُومُ ففَرَاضِيَةُ الْمَعِشَةِ طَلَّقْتُهَا - أَسِنَّتُهَا فَتَنْكِحُ أَوْ تَنِيمُ
"আজা' ও ফারা' গিরিকন্দর হইতে আমরা সেই সকল অশ্ব লইয়া বাহির হইয়াছি, যেইগুলিকে খাওয়ানো হয় বোঝা বোঝা ঘাস"।
"আমরা পরাইয়া দিয়াছি সেইগুলির পায়ে এমন লৌহ পাদুকা যাহার উপরিভাগ অত্যন্ত মসৃণ এবং চর্মের ন্যায় কোমল"।
"মা'আন নামক স্থানে দুই রাত অবস্থান করিবার পর দুর্বলতা বা স্থবিরতা দূর হইয়া জাগিয়া উঠে নব উদ্যম"।
"ইহার পর শুরু হয় আমাদের অভিযান। আমাদের চিহ্নিত অশ্বগুলি তখন নাসারন্ধ্রে গ্রহণ করিতেছিল উষ্ণ বায়ু"।
"আমি আমার পিতার শপথ করিয়া বলিতেছি! প্রতিপক্ষ আরবের হউক অথবা রোমের হউক মাআবে আমরা পৌছিবই"।
"তাহার পর আমরা অশ্বগুলির লাগাম টানিয়া ধরি। ফলে সেইগুলি অত্যন্ত অনীহা সত্ত্বেও অপ্রসন্ন মুখে এবং ধূলি ধূসরিত অবস্থায় থমকিয়া দাঁড়ায়”
"এইসব অশ্ব এমন এক উদ্দীপিত বাহিনীর সহিত আসিয়াছে যাহাদের শিরস্ত্রাণগুলি নক্ষত্রমালার মত চমকাইতেছিল"।
"অবশেষে বিলাসমত্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মহিলাগণকে আমাদের বল্লমসমূহ পরিত্যাগ করে। তাহারা ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে অথবা বিধবার জীবন অতিবাহিত করিতে পারে" (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ, ২৬০-২৬১; আর-রাওদুল-উনুফ, ৪খ., ৭১)।
📄 শত্রুর সহিত মুসলিম বাহিনীর মুকাবিলা
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু
দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্ন মালিক (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرِى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্ন আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই" (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্ন মালিক (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرَى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্ন আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই” (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্ন মালিক (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرِى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্ন আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই” (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী সম্মুখে অগ্রসর হইয়া বালকা' সীমান্তে উপনীত হইলে মাশারিফ নামক জনপদে তাহাদের সহিত হিরাক্লিয়াসের রোমক ও আরব বাহিনীর মুখামুখি সাক্ষাত ঘটে। শত্রুদল তাহাদের দিকে অগ্রসর হইলে মুসলিম বাহিনী একটু দূরে সরিয়া পার্শ্ববর্তী মুতা নামক একটি পল্লীতে অবস্থান গ্রহণ করে। এই স্থানেই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুসিলম বাহিনীকে এইভাবে বিন্যস্ত করা হয় যে, ডান ভাগের (মায়মানা) দায়িত্ব বনী 'আযরা গোত্রের কুতবা ইব্ন কাতাদা-র উপর অর্পণ করা হয় এবং বাম অংশের (মায়সারা) দায়িত্ব 'ইবায়া ইব্ন মালিক (عباية بن مالك ) নামীয় একজন আনসার সাহাবীর উপর ন্যস্ত করা হয়। ইব্ন হিশামের মতে, তাঁহার নাম 'উবাদা ইব্ন মালিক (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ১৬২; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)। এই প্রসঙ্গে ওয়াকিদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে নিম্নোক্ত হাদীছটি উল্লেখযোগ্য।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُوتَةَ فَلَمَّا دَنَا مِنَّا الْمُشْرِكُونَ رَأَيْنَا مَالَا قِبْلَ لَأَحَدٍ بِهِ مِنَ العِدَّةِ والسلاح والكراع والدِّيباج وَالْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ فَبَرَقَ بَصَرِي فَقَالَ لِي ثَابِتُ بْنُ أَرْقَمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ عَا كَأَنَّكَ تُرِى جَمُوْ كَثِيرَةً قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَنَّكَ لَمْ تَشْهَدْ بَدْرًا مَعَنَا إِنَّا لَمْ تُنْصَرْ بالكثرة (رواه البيهقي).
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি মৃতা অভিযানে শরীক ছিলাম। মুশরিকগণ আমাদের নিকটবর্তী হইলে আমরা এমন একটি অবস্থা প্রত্যক্ষ করিলাম যাহার মুকাবিলা করা কাহারও পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাহা হইল বিপুল সংখ্যাধিক্য, হাতিয়ার, ঘোড়া, রেশমী কাপড় ও স্বর্ণ। ইহা প্রত্যক্ষ করিবার পর আমার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। অতঃপর ছাবিত ইব্ن আরকাম আমাকে বলিলেন, হে আবু হুরায়রা! তুমি যেন বিরাট বাহিনী দেখিতেছ? আমি বলিলাম, হাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি আমাদের সহিত বদর যুদ্ধে শরীক ছিলে না। আমরা সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে বিজয় লাভ করি নাই” (বায়হাকী; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৪)।