📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সেনাপতি নিয়োগ

📄 সেনাপতি নিয়োগ


এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) ধারাবাহিকভাবে তিনজন সেনাপতি নির্বাচন করিয়াছিলেন। এই তিনজনের অনুপস্থিতিতে চতুর্থ সেনাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব উপস্থিত মুসলমানগণের উপর ন্যস্ত করিয়াছিলেন। তাহাদিগের মধ্যে সর্বপ্রথম হইলেন যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা), তিনি শাহাদাত বরণ করিলে মহানবী (সা-এর চাচাত ভাই জা'ফার ইব্‌ন আবূ তালিব (রা), তিনিও শহীদ হইলে কবি 'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবেন। একমাত্র এই অভিযানেই রাসূলুল্লাহ (স) পর্যায়ক্রমে তিনজন সাহাবীকে সেনাপতি নিয়োগ করিয়াছিলেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২০খ., (পৃ. ১)। আল-ওয়াকিদী তদীয় সূত্রে আল-হাকাম হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়তটি বর্ণনা করিয়াছেন। আল-হাকাম বলেন:
جَاءَ النُّعْمَانُ بْنُ فَنْحَصِ الْيَهُودِيُّ فَوَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ أَمِيرُ النَّاسِ فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرُ فَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَإِنْ قُتِلَ عَبْدَ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَلْيَرْتَضِ الْمُسْلِمُونَ بَيْنَهُمْ رَجُلاً فَلْيَجْعَلُوهُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ النُّعْمَانُ أَبَا الْقَاسِمِ إِنْ كُنْتَ نَبِيًّا فَلَوْ سَمَّيْتَ مَنْ سَمَّيْتَ قَلِيلًا أَوْ كَثِيرًا أَصِيبُوا جَمِيعًا إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا سَمُّوا الرَّجُلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالُوا إِنْ أَصِيْبَ - فُلانٌ فَفُلَانٌ فَلَوْ سَمُوا مِائَةً أَصِيبُوا جَمِيعًا ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ لِزَيْدٍ أَعْهُدُ فَإِنَّكَ لَا تَرْجِعُ أَبَدًا إِنْ كَانَ مُحَمَّدٌ نَبِيًّا فَقَالَ زَيْدٌ أَشْهَدُ أَنَّهُ نَبِيُّ صَادِقُ بَارُ (رواه البيهقي).
"নু'মান ইব্‌ন ফানহাস ইয়াহুদী আসিয়া লোকজনের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে দাঁড়াইল। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যায়দ ইবন হারিছা সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি, যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব, জা'ফার শহীদ হইলে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা, আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা শহীদ হইলে মুসলিমগণ তাহাদের পছন্দমত এক ব্যক্তিকে তাহাদিগের সেনাপতি নিযুক্ত করিবে। ইহা শুনিয়া নু'মান বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে আপনি যতজনের নাম উচ্চারণ করিলেন সকলেই শহীদ হইবে। বানী ইসরাঈলের নবীগণ যখন কোন ব্যক্তিকে কোন গোত্রের উপর নির্ধারণ করিয়া দিতেন তখন যদি তাহারা বলিতেন অমুক নিহত হইবে তাহা হইলে সে নিহত হইত। তাহারা যদি এক শত ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করিতেন তাহা হইলে সকলেই নিহত হইত। অতঃপর নু'মান যায়দ (রা)-কে বলিল, আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি মুহাম্মাদ নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে তুমি কখনও ফিরিয়া আসিবে না। তাহার উত্তরে যায়দ (রা) বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, তিনি সত্যবাদী পুণ্যবান নবী" (বায়হাকী আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪১)।
সীরাতবিদগণ বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন তখন জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এই আশা ছিল না যে, আপনি সেনাপতি নিযুক্ত করিতে আমার উপর যায়দকে প্রাধান্য দিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে জা'ফার! তুমি অভিযানে রওয়ানা হও এবং আল্লাহ্র রাসূলের আদেশের অনুগত হও। তুমি একথা অবগত নও যে, তোমার কল্যাণ কোন কাজে রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ., ৪৫৪)।

এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) ধারাবাহিকভাবে তিনজন সেনাপতি নির্বাচন করিয়াছিলেন। এই তিনজনের অনুপস্থিতিতে চতুর্থ সেনাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব উপস্থিত মুসলমানগণের উপর ন্যস্ত করিয়াছিলেন। তাহাদিগের মধ্যে সর্বপ্রথম হইলেন যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা), তিনি শাহাদাত বরণ করিলে মহানবী (সা-এর চাচাত ভাই জা'ফার ইব্‌ন আবূ তালিব (রা), তিনিও শহীদ হইলে কবি 'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবেন। একমাত্র এই অভিযানেই রাসূলুল্লাহ (স) পর্যায়ক্রমে তিনজন সাহাবীকে সেনাপতি নিয়োগ করিয়াছিলেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২০খ., (পৃ. ১)। আল-ওয়াকিদী তদীয় সূত্রে আল-হাকাম হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়তটি বর্ণনা করিয়াছেন। আল-হাকাম বলেন:
جَاءَ النُّعْمَانُ بْنُ فَنْحَصِ الْيَهُودِيُّ فَوَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ أَمِيرُ النَّاسِ فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرُ فَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَإِنْ قُتِلَ عَبْدَ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَلْيَرْتَضِ الْمُسْلِمُونَ بَيْنَهُمْ رَجُلاً فَلْيَجْعَلُوهُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ النُّعْمَانُ أَبَا الْقَاسِمِ إِنْ كُنْتَ نَبِيًّا فَلَوْ سَمَّيْتَ مَنْ سَمَّيْتَ قَلِيلًا أَوْ كَثِيرًا أَصِيبُوا جَمِيعًا إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا سَمُّوا الرَّجُلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالُوا إِنْ أَصِيْبَ - فُلانٌ فَفُلَانٌ فَلَوْ سَمُوا مِائَةً أَصِيبُوا جَمِيعًا ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ لِزَيْدٍ أَعْهُدُ فَإِنَّكَ لَا تَرْجِعُ أَبَدًا إِنْ كَانَ مُحَمَّدٌ نَبِيًّا فَقَالَ زَيْدٌ أَشْهَدُ أَنَّهُ نَبِيُّ صَادِقُ بَارُ (رواه البيهقي).
"নু'মান ইব্‌ন ফানহাস ইয়াহুদী আসিয়া লোকজনের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে দাঁড়াইল। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যায়দ ইবন হারিছা সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি, যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব, জা'ফার শহীদ হইলে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা, আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা শহীদ হইলে মুসলিমগণ তাহাদের পছন্দমত এক ব্যক্তিকে তাহাদিগের সেনাপতি নিযুক্ত করিবে। ইহা শুনিয়া নু'মান বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে আপনি যতজনের নাম উচ্চারণ করিলেন সকলেই শহীদ হইবে। বানী ইসরাঈলের নবীগণ যখন কোন ব্যক্তিকে কোন গোত্রের উপর নির্ধারণ করিয়া দিতেন তখন যদি তাহারা বলিতেন অমুক নিহত হইবে তাহা হইলে সে নিহত হইত। তাহারা যদি এক শত ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করিতেন তাহা হইলে সকলেই নিহত হইত। অতঃপর নু'মান যায়দ (রা)-কে বলিল, আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি মুহাম্মাদ নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে তুমি কখনও ফিরিয়া আসিবে না। তাহার উত্তরে যায়দ (রা) বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, তিনি সত্যবাদী পুণ্যবান নবী" (বায়হাকী আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪১)।
সীরাতবিদগণ বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন তখন জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এই আশা ছিল না যে, আপনি সেনাপতি নিযুক্ত করিতে আমার উপর যায়দকে প্রাধান্য দিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে জা'ফার! তুমি অভিযানে রওয়ানা হও এবং আল্লাহ্র রাসূলের আদেশের অনুগত হও। তুমি একথা অবগত নও যে, তোমার কল্যাণ কোন কাজে রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ., ৪৫৪)।

এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) ধারাবাহিকভাবে তিনজন সেনাপতি নির্বাচন করিয়াছিলেন। এই তিনজনের অনুপস্থিতিতে চতুর্থ সেনাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব উপস্থিত মুসলমানগণের উপর ন্যস্ত করিয়াছিলেন। তাহাদিগের মধ্যে সর্বপ্রথম হইলেন যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা), তিনি শাহাদাত বরণ করিলে মহানবী (সা-এর চাচাত ভাই জা'ফার ইব্‌ন আবূ তালিব (রা), তিনিও শহীদ হইলে কবি 'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবেন। একমাত্র এই অভিযানেই রাসূলুল্লাহ (স) পর্যায়ক্রমে তিনজন সাহাবীকে সেনাপতি নিয়োগ করিয়াছিলেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২০খ., (পৃ. ১)। আল-ওয়াকিদী তদীয় সূত্রে আল-হাকাম হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়তটি বর্ণনা করিয়াছেন। আল-হাকাম বলেন:
جَاءَ النُّعْمَانُ بْنُ فَنْحَصِ الْيَهُودِيُّ فَوَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ أَمِيرُ النَّاسِ فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرُ فَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَإِنْ قُتِلَ عَبْدَ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَلْيَرْتَضِ الْمُسْلِمُونَ بَيْنَهُمْ رَجُلاً فَلْيَجْعَلُوهُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ النُّعْمَانُ أَبَا الْقَاسِمِ إِنْ كُنْتَ نَبِيًّا فَلَوْ سَمَّيْتَ مَنْ سَمَّيْتَ قَلِيلًا أَوْ كَثِيرًا أَصِيبُوا جَمِيعًا إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا سَمُّوا الرَّجُلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالُوا إِنْ أَصِيْبَ - فُلانٌ فَفُلَانٌ فَلَوْ سَمُوا مِائَةً أَصِيبُوا جَمِيعًا ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ لِزَيْدٍ أَعْهُدُ فَإِنَّكَ لَا تَرْجِعُ أَبَدًا إِنْ كَانَ مُحَمَّدٌ نَبِيًّا فَقَالَ زَيْدٌ أَشْهَدُ أَنَّهُ نَبِيُّ صَادِقُ بَارُ (رواه البيهقي).
"নু'মান ইব্‌ন ফানহাস ইয়াহুদী আসিয়া লোকজনের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে দাঁড়াইল। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যায়দ ইবন হারিছা সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি, যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব, জা'ফার শহীদ হইলে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা, আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা শহীদ হইলে মুসলিমগণ তাহাদের পছন্দমত এক ব্যক্তিকে তাহাদিগের সেনাপতি নিযুক্ত করিবে। ইহা শুনিয়া নু'মান বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে আপনি যতজনের নাম উচ্চারণ করিলেন সকলেই শহীদ হইবে। বানী ইসরাঈলের নবীগণ যখন কোন ব্যক্তিকে কোন গোত্রের উপর নির্ধারণ করিয়া দিতেন তখন যদি তাহারা বলিতেন অমুক নিহত হইবে তাহা হইলে সে নিহত হইত। তাহারা যদি এক শত ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করিতেন তাহা হইলে সকলেই নিহত হইত। অতঃপর নু'মান যায়দ (রা)-কে বলিল, আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি মুহাম্মাদ নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে তুমি কখনও ফিরিয়া আসিবে না। তাহার উত্তরে যায়দ (রা) বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, তিনি সত্যবাদী পুণ্যবান নবী" (বায়হাকী আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪১)।
সীরাতবিদগণ বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন তখন জা'ফার ইব্‌ন আবী তালিব আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এই আশা ছিল না যে, আপনি সেনাপতি নিযুক্ত করিতে আমার উপর যায়দকে প্রাধান্য দিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে জা'ফার! তুমি অভিযানে রওয়ানা হও এবং আল্লাহ্র রাসূলের আদেশের অনুগত হও। তুমি একথা অবগত নও যে, তোমার কল্যাণ কোন কাজে রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়াত, ২খ., ৪৫৪)।

এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) ধারাবাহিকভাবে তিনজন সেনাপতি নির্বাচন করিয়াছিলেন। এই তিনজনের অনুপস্থিতিতে চতুর্থ সেনাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব উপস্থিত মুসলমানগণের উপর ন্যস্ত করিয়াছিলেন। তাহাদিগের মধ্যে সর্বপ্রথম হইলেন যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা), তিনি শাহাদাত বরণ করিলে মহানবী (সা-এর চাচাত ভাই জা'ফার ইব্‌ন আবূ তালিব (রা), তিনিও শহীদ হইলে কবি 'আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নেতৃত্ব গ্রহণ করিবেন। একমাত্র এই অভিযানেই রাসূলুল্লাহ (স) পর্যায়ক্রমে তিনজন সাহাবীকে সেনাপতি নিয়োগ করিয়াছিলেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২০খ., (পৃ. ১)। আল-ওয়াকিদী তদীয় সূত্রে আল-হাকাম হইতে নিম্নোক্ত রিওয়ায়তটি বর্ণনা করিয়াছেন। আল-হাকাম বলেন:
جَاءَ النُّعْمَانُ بْنُ فَنْحَصِ الْيَهُودِيُّ فَوَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ أَمِيرُ النَّاسِ فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرُ فَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَإِنْ قُتِلَ عَبْدَ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَلْيَرْتَضِ الْمُسْلِمُونَ بَيْنَهُمْ رَجُلاً فَلْيَجْعَلُوهُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ النُّعْمَانُ أَبَا الْقَاسِمِ إِنْ كُنْتَ نَبِيًّا فَلَوْ سَمَّيْتَ مَنْ سَمَّيْتَ قَلِيلًا أَوْ كَثِيرًا أَصِيبُوا جَمِيعًا إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا سَمُّوا الرَّجُلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالُوا إِنْ أَصِيْبَ - فُلانٌ فَفُلَانٌ فَلَوْ سَمُوا مِائَةً أَصِيبُوا جَمِيعًا ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ لِزَيْدٍ أَعْهُدُ فَإِنَّكَ لَا تَرْجِعُ أَبَدًا إِنْ كَانَ مُحَمَّدٌ نَبِيًّا فَقَالَ زَيْدٌ أَشْهَدُ أَنَّهُ نَبِيُّ صَادِقُ بَارُ (رواه البيهقي).
"নু'মান ইব্‌ন ফানহাস ইয়াহুদী আসিয়া লোকজনের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে দাঁড়াইল। এই সময় রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, যায়দ ইবন হারিছা সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি, যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার ইব্‌ن আবী তালিব, জা'ফার শহীদ হইলে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা, আবদুল্লাহ ইব্‌ن রাওয়াহা শহীদ হইলে মুসলিমগণ তাহাদের পছন্দমত এক ব্যক্তিকে তাহাদিগের সেনাপতি নিযুক্ত করিবে। ইহা শুনিয়া নু'মান বলিল, হে আবুল কাসিম! আপনি যদি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে আপনি যতজনের নাম উচ্চারণ করিলেন সকলেই শহীদ হইবে। বানী ইসরাঈলের নবীগণ যখন কোন ব্যক্তিকে কোন গোত্রের উপর নির্ধারণ করিয়া দিতেন তখন যদি তাহারা বলিতেন অমুক নিহত হইবে তাহা হইলে সে নিহত হইত। তাহারা যদি এক শত ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করিতেন তাহা হইলে সকলেই নিহত হইত। অতঃপর নু'মান যায়দ (রা)-কে বলিল, আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি মুহাম্মাদ নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে তুমি কখনও ফিরিয়া আসিবে না। তাহার উত্তরে যায়দ (রা) বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, তিনি সত্যবাদী পুণ্যবান নবী" (বায়হাকী আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪১)।
সীরাতবিদগণ বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (স) যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন তখন জা'ফার ইব্‌ن আবী তালিব আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এই আশা ছিল না যে, আপনি সেনাপতি নিযুক্ত করিতে আমার উপর যায়দকে প্রাধান্য দিবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে জা'ফার! তুমি অভিযানে রওয়ানা হও এবং আল্লাহ্র রাসূলের আদেশের অনুগত হও। তুমি একথা অবগত নও যে, তোমার কল্যাণ কোন কাজে রহিয়াছে (মাদারিজুন নুবুওয়াত, ২খ., ৪৫৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-এর ক্রন্দন

📄 আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-এর ক্রন্দন


ইবন ইসহাক বলেন, রওয়ানা করিবার প্রাক্কালে লোকজন যখন রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক নিযুক্ত সেনাপতিগণকে বিদায়ী সম্ভাষণ জানাইতে লাগিলেন তখন আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কাঁদিতে লাগিলেন। তাঁহার ক্রন্দনে লোকজন জিজ্ঞাসা করিল, হে রাওয়াহা পুত্র! কোন জিনিস আপনাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করিল? তিনি উত্তরে বলিয়াছিলেন, জানিয়া রাখ, আল্লাহ্র কসম! আমার কাছে দুনিয়ার কোন লোভ-লালসা নাই, তোমাদের ভালবাসাও আমাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করে নাই। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে আল্লাহর কিতাবের একখানা আয়াত পাঠ করিতে শুনিয়াছি যাহাতে তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন। আয়াতটি এই :
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا .
"এবং তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমাদের প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
আমি জানি না, সেখানে অবতরণ করিবার পর আমার কি হইবে। মুসলিমগণ তদুত্তরে বলিলেন, আল্লাহ আপনাদের সঙ্গী হইবেন, আপনাদের কষ্ট লাঘব করিবেন এবং আমাদের নিকট আপনাদিগকে পুণ্যবান ও বিজয়ী হিসাবে ফিরাইয়া আনিবেন। তাহাদের এই কথা শুনিয়া 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিলেন:
وَلَكِنِّي أَسْأَلُ الرَّحْمَنَ مَغْفِرَةً - وَضَرْبَةً ذَاتَ فَرْعٍ تَقْذِفُ الذِّبَكَا أوْ طَعْنَةً بِيَدِى حَرَانَ مُجْهِزَةٍ - بِحَرْبَةٍ تَنْفَدُ الْأَحْشَاءَ وَالْكَبَدَا حَتَّى يَقُولُوا إِذَا مَرُّوا عَلَى جَدَتَيْ - يَا أَرْشَدَهُ اللَّهُ مِنْ غَازٍ وَقَدْ رَشَدًا .
"কিন্তু আমি পরম দয়ালু আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং এমন আঘাত হানার যাহা রক্তের ফোয়ারা বহাইয়া দিতে সক্ষম হয়।
"অথবা আমার হাতের দ্বারা কোন কট্টর কাফিরের উপর এমন প্রচণ্ড আঘাত যাহা নাড়ি-ভুঁড়ি ও কলিজা ভেদ করিবে।
"ইহার ফলে লোকেরা আমার কবর অতিক্রমকালে বলিবে, আল্লাহ এই যোদ্ধাকে সরল পথ প্রদর্শন করুন এবং প্রকৃতপক্ষে সে সরল পথ প্রাপ্ত ছিল"।
ইবন ইসহাক বলেন, ইহার পর লোকজন অভিযানের জন্য প্রস্তুত হইলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হাজির হইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বিদায় জানাইলে 'আবদুল্লাহ (রা) কবিতার আকারে বলিলেন: فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الخَيْرَ نَافِلَةً - اللهُ يَعْلَمُ أَنَّى ثَابِتُ الْبَصَرِ أَنْتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهُ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بِهِ الْقَدَرُ.
“(হে আল্লাহর রাসূল!) আল্লাহ আপনাকে যেই সৌন্দর্য দান করিয়াছেন তাহাতে তিনি আপনাকে সুদৃঢ় রাখুন, যেইভাবে মূসা (আ) ও তাঁহার সাহায্যকারিগণকে সুদৃঢ় রাখিয়ছিলেন।
"আমি স্বীয় অন্তরদৃষ্টিতে দেখিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রহিয়াছে। আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত আছেন যে, আমি যাহা বলিতেছি তাহা নিশ্চিতভাবে জানিয়াই বলিতেছি।
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল। সুতরাং যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণসমূহ ও সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ"।
ইবন হিশাম বলেন, আমাকে জনৈক কাব্যবিশারদ পংক্তিগুলি এইভাবে শিখাইয়াছেন: أنتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهَ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بهِ الْقَدَرُ فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ مُحْسِن - فِي الْمُرْسَلِينَ وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الْخَيْرَ نَافِلَةِ - فِرَاسَةِ خَالِفَتْ فِيكَ الَّذِي نَظَرُوا .
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল! যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণ সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ।
"রাসূলদিগের মধ্যে আল্লাহ আপনার গুণাবলী স্থায়ী করুন পূর্ববর্তী সাহায্যপ্রাপ্ত রাসূলগণের মত আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন।
"আমার দিব্যজ্ঞানে আমি বুঝিতে পরিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ নিহিত আছে। আমার এ প্রজ্ঞা আপনার সম্পর্কে মুশরিকদের সম্পূর্ণ বিপরীত"।
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহদিগকে বিদায় জানাইতে বাহির হইয়া আসেন। তাহাদিগকে বিদায় দিয়া ফিরিয়া আসিলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কবিতার মাধ্যমে বলেন: خَلْفَ السَّلَامِ عَلَى امْرَى وَدَعْتُهُ - فِي النَّخْلِ خَيْرَ مُشَيِّعِ وَخَلِيل:
"বিদায়লগ্নে সেই মহান ব্যক্তিত্বের উপর সালাম বর্ষিত হউক যাঁহার দ্বারা আমি বিদায়ী সম্ভাষণে ভূষিত হইলাম। তিনি হইলেন সর্বোত্তম বিদায় সম্ভাষণকারী ও পরীক্ষিত বন্ধু" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২২১, ১৪২; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৫৯, ২৬০)।

ইবন ইসহাক বলেন, রওয়ানা করিবার প্রাক্কালে লোকজন যখন রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক নিযুক্ত সেনাপতিগণকে বিদায়ী সম্ভাষণ জানাইতে লাগিলেন তখন আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কাঁদিতে লাগিলেন। তাঁহার ক্রন্দনে লোকজন জিজ্ঞাসা করিল, হে রাওয়াহা পুত্র! কোন জিনিস আপনাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করিল? তিনি উত্তরে বলিয়াছিলেন, জানিয়া রাখ, আল্লাহ্র কসম! আমার কাছে দুনিয়ার কোন লোভ-লালসা নাই, তোমাদের ভালবাসাও আমাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করে নাই। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে আল্লাহর কিতাবের একখানা আয়াত পাঠ করিতে শুনিয়াছি যাহাতে তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন। আয়াতটি এই :
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا .
"এবং তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমাদের প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
আমি জানি না, সেখানে অবতরণ করিবার পর আমার কি হইবে। মুসলিমগণ তদুত্তরে বলিলেন, আল্লাহ আপনাদের সঙ্গী হইবেন, আপনাদের কষ্ট লাঘব করিবেন এবং আমাদের নিকট আপনাদিগকে পুণ্যবান ও বিজয়ী হিসাবে ফিরাইয়া আনিবেন। তাহাদের এই কথা শুনিয়া 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিলেন:
وَلَكِنِّي أَسْأَلُ الرَّحْمَنَ مَغْفِرَةً - وَضَرْبَةً ذَاتَ فَرْعٍ تَقْذِفُ الذِّبَكَا أوْ طَعْنَةً بِيَدِى حَرَانَ مُجْهِزَةٍ - بِحَرْبَةٍ تَنْفَدُ الْأَحْشَاءَ وَالْكَبَدَا حَتَّى يَقُولُوا إِذَا مَرُّوا عَلَى جَدَتَيْ - يَا أَرْشَدَهُ اللَّهُ مِنْ غَازٍ وَقَدْ رَشَدًا .
"কিন্তু আমি পরম দয়ালু আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং এমন আঘাত হানার যাহা রক্তের ফোয়ারা বহাইয়া দিতে সক্ষম হয়।
"অথবা আমার হাতের দ্বারা কোন কট্টর কাফিরের উপর এমন প্রচণ্ড আঘাত যাহা নাড়ি-ভুঁড়ি ও কলিজা ভেদ করিবে।
"ইহার ফলে লোকেরা আমার কবর অতিক্রমকালে বলিবে, আল্লাহ এই যোদ্ধাকে সরল পথ প্রদর্শন করুন এবং প্রকৃতপক্ষে সে সরল পথ প্রাপ্ত ছিল"।
ইবন ইসহাক বলেন, ইহার পর লোকজন অভিযানের জন্য প্রস্তুত হইলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হাজির হইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বিদায় জানাইলে 'আবদুল্লাহ (রা) কবিতার আকারে বলিলেন: فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيْتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الخَيْرَ نَافِلَةً - اللهُ يَعْلَمُ أَنَّى ثَابِتُ الْبَصَرِ أَنْتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهُ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بِهِ الْقَدَرُ.
“(হে আল্লাহর রাসূল!) আল্লাহ আপনাকে যেই সৌন্দর্য দান করিয়াছেন তাহাতে তিনি আপনাকে সুদৃঢ় রাখুন, যেইভাবে মূসা (আ) ও তাঁহার সাহায্যকারিগণকে সুদৃঢ় রাখিয়ছিলেন।
"আমি স্বীয় অন্তরদৃষ্টিতে দেখিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রহিয়াছে। আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত আছেন যে, আমি যাহা বলিতেছি তাহা নিশ্চিতভাবে জানিয়াই বলিতেছি।
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল। সুতরাং যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণসমূহ ও সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ"।
ইবন হিশাম বলেন, আমাকে জনৈক কাব্যবিশারদ পংক্তিগুলি এইভাবে শিখাইয়াছেন: أنتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهَ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بهِ الْقَدَرُ فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ مُحْسِن - فِي الْمُرْسَلِينَ وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الْخَيْرَ نَافِلَةِ - فِرَاسَةِ خَالِفَتْ فِيكَ الَّذِي نَظَرُوا .
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল! যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণ সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ।
"রাসূলদিগের মধ্যে আল্লাহ আপনার গুণাবলী স্থায়ী করুন পূর্ববর্তী সাহায্যপ্রাপ্ত রাসূলগণের মত আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন।
"আমার দিব্যজ্ঞানে আমি বুঝিতে পরিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ নিহিত আছে। আমার এ প্রজ্ঞা আপনার সম্পর্কে মুশরিকদের সম্পূর্ণ বিপরীত"।
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহদিগকে বিদায় জানাইতে বাহির হইয়া আসেন। তাহাদিগকে বিদায় দিয়া ফিরিয়া আসিলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কবিতার মাধ্যমে বলেন: خَلْفَ السَّلَامِ عَلَى امْرَى وَدَعْتُهُ - فِي النَّخْلِ خَيْرَ مُشَيِّعِ وَخَلِيل:
"বিদায়লগ্নে সেই মহান ব্যক্তিত্বের উপর সালাম বর্ষিত হউক যাঁহার দ্বারা আমি বিদায়ী সম্ভাষণে ভূষিত হইলাম। তিনি হইলেন সর্বোত্তম বিদায় সম্ভাষণকারী ও পরীক্ষিত বন্ধু" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২২১, ১৪২; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ৩খ., ২৫৯, ২৬০)।

ইবন ইসহাক বলেন, রওয়ানা করিবার প্রাক্কালে লোকজন যখন রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক নিযুক্ত সেনাপতিগণকে বিদায়ী সম্ভাষণ জানাইতে লাগিলেন তখন আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কাঁদিতে লাগিলেন। তাঁহার ক্রন্দনে লোকজন জিজ্ঞাসা করিল, হে রাওয়াহা পুত্র! কোন জিনিস আপনাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করিল? তিনি উত্তরে বলিয়াছিলেন, জানিয়া রাখ, আল্লাহ্র কসম! আমার কাছে দুনিয়ার কোন লোভ-লালসা নাই, তোমাদের ভালবাসাও আমাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করে নাই। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে আল্লাহর কিতাবের একখানা আয়াত পাঠ করিতে শুনিয়াছি যাহাতে তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন। আয়াতটি এই :
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا .
"এবং তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমাদের প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
আমি জানি না, সেখানে অবতরণ করিবার পর আমার কি হইবে। মুসলিমগণ তদুত্তরে বলিলেন, আল্লাহ আপনাদের সঙ্গী হইবেন, আপনাদের কষ্ট লাঘব করিবেন এবং আমাদের নিকট আপনাদিগকে পুণ্যবান ও বিজয়ী হিসাবে ফিরাইয়া আনিবেন। তাহাদের এই কথা শুনিয়া 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিলেন:
وَلَكِنِّي أَسْأَلُ الرَّحْمَنَ مَغْفِرَةً - وَضَرْبَةً ذَاتَ فَرْعٍ تَقْذِفُ الذِّبَكَا أوْ طَعْنَةً بِيَدِى حَرَانَ مُجْهِزَةٍ - بِحَرْبَةٍ تَنْفَدُ الْأَحْشَاءَ وَالْكَبَدَا حَتَّى يَقُولُوا إِذَا مَرُّوا عَلَى جَدَتَيْ - يَا أَرْشَدَهُ اللَّهُ مِنْ غَازٍ وَقَدْ رَشَدًا .
"কিন্তু আমি পরম দয়ালু আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং এমন আঘাত হানার যাহা রক্তের ফোয়ারা বহাইয়া দিতে সক্ষম হয়।
"অথবা আমার হাতের দ্বারা কোন কট্টর কাফিরের উপর এমন প্রচণ্ড আঘাত যাহা নাড়ি-ভুঁড়ি ও কলিজা ভেদ করিবে।
"ইহার ফলে লোকেরা আমার কবর অতিক্রমকালে বলিবে, আল্লাহ এই যোদ্ধাকে সরল পথ প্রদর্শন করুন এবং প্রকৃতপক্ষে সে সরল পথ প্রাপ্ত ছিল"।
ইবন ইসহাক বলেন, ইহার পর লোকজন অভিযানের জন্য প্রস্তুত হইলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হাজির হইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বিদায় জানাইলে 'আবদুল্লাহ (রা) কবিতার আকারে বলিলেন:
فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيْتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الخَيْرَ نَافِلَةً - اللهُ يَعْلَمُ أَنَّى ثَابِتُ الْبَصَرِ أَنْتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهُ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بِهِ الْقَدَرُ.
“(হে আল্লাহর রাসূল!) আল্লাহ আপনাকে যেই সৌন্দর্য দান করিয়াছেন তাহাতে তিনি আপনাকে সুদৃঢ় রাখুন, যেইভাবে মূসা (আ) ও তাঁহার সাহায্যকারিগণকে সুদৃঢ় রাখিয়ছিলেন।
"আমি স্বীয় অন্তরদৃষ্টিতে দেখিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রহিয়াছে। আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত আছেন যে, আমি যাহা বলিতেছি তাহা নিশ্চিতভাবে জানিয়াই বলিতেছি।
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল। সুতরাং যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণসমূহ ও সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ"।
ইবন হিশাম বলেন, আমাকে জনৈক কাব্যবিশারদ পংক্তিগুলি এইভাবে শিখাইয়াছেন:
أنتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهَ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بهِ الْقَدَرُ فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ مُحْسِن - فِي الْمُرْسَلِينَ وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الْخَيْرَ نَافِلَةِ - فِرَاسَةِ خَالِفَتْ فِيكَ الَّذِي نَظَرُوا .
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল! যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণ সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ।
"রাসূলদিগের মধ্যে আল্লাহ আপনার গুণাবলী স্থায়ী করুন পূর্ববর্তী সাহায্যপ্রাপ্ত রাসূলগণের মত আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন।
"আমার দিব্যজ্ঞানে আমি বুঝিতে পরিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ নিহিত আছে। আমার এ প্রজ্ঞা আপনার সম্পর্কে মুশরিকদের সম্পূর্ণ বিপরীত"।
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহদিগকে বিদায় জানাইতে বাহির হইয়া আসেন। তাহাদিগকে বিদায় দিয়া ফিরিয়া আসিলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কবিতার মাধ্যমে বলেন:
خَلْفَ السَّلَامِ عَلَى امْرَى وَدَعْتُهُ - فِي النَّخْلِ خَيْرَ مُشَيِّعِ وَخَلِيل:
"বিদায়লগ্নে সেই মহান ব্যক্তিত্বের উপর সালাম বর্ষিত হউক যাঁহার দ্বারা আমি বিদায়ী সম্ভাষণে ভূষিত হইলাম। তিনি হইলেন সর্বোত্তম বিদায় সম্ভাষণকারী ও পরীক্ষিত বন্ধু" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২২১, ১৪২; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩খ., ২৫৯, ২৬০)।

ইবন ইসহাক বলেন, রওয়ানা করিবার প্রাক্কালে লোকজন যখন রাসূলুল্লাহ (স) কর্তৃক নিযুক্ত সেনাপতিগণকে বিদায়ী সম্ভাষণ জানাইতে লাগিলেন তখন আবদুল্লাহ ইব্‌ن রাওয়াহা (রা) কাঁদিতে লাগিলেন। তাঁহার ক্রন্দনে লোকজন জিজ্ঞাসা করিল, হে রাওয়াহা পুত্র! কোন জিনিস আপনাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করিল? তিনি উত্তরে বলিয়াছিলেন, জানিয়া রাখ, আল্লাহ্র কসম! আমার কাছে দুনিয়ার কোন লোভ-লালসা নাই, তোমাদের ভালবাসাও আমাকে ক্রন্দন করিতে উদ্বুদ্ধ করে নাই। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে আল্লাহর কিতাবের একখানা আয়াত পাঠ করিতে শুনিয়াছি যাহাতে তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন। আয়াতটি এই :
وَإِنْ مِّنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا .
"এবং তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে। ইহা তোমাদের প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত” (১৯: ৭১)।
আমি জানি না, সেখানে অবতরণ করিবার পর আমার কি হইবে। মুসলিমগণ তদুত্তরে বলিলেন, আল্লাহ আপনাদের সঙ্গী হইবেন, আপনাদের কষ্ট লাঘব করিবেন এবং আমাদের নিকট আপনাদিগকে পুণ্যবান ও বিজয়ী হিসাবে ফিরাইয়া আনিবেন। তাহাদের এই কথা শুনিয়া 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিলেন:
وَلَكِنِّي أَسْأَلُ الرَّحْمَنَ مَغْفِرَةً - وَضَرْبَةً ذَاتَ فَرْعٍ تَقْذِفُ الذِّبَكَا أوْ طَعْنَةً بِيَدِى حَرَانَ مُجْهِزَةٍ - بِحَرْبَةٍ تَنْفَدُ الْأَحْشَاءَ وَالْكَبَدَا حَتَّى يَقُولُوا إِذَا مَرُّوا عَلَى جَدَتَيْ - يَا أَرْشَدَهُ اللَّهُ مِنْ غَازٍ وَقَدْ رَشَدًا .
"কিন্তু আমি পরম দয়ালু আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং এমন আঘাত হানার যাহা রক্তের ফোয়ারা বহাইয়া দিতে সক্ষম হয়।
"অথবা আমার হাতের দ্বারা কোন কট্টর কাফিরের উপর এমন প্রচণ্ড আঘাত যাহা নাড়ি-ভুঁড়ি ও কলিজা ভেদ করিবে।
"ইহার ফলে লোকেরা আমার কবর অতিক্রমকালে বলিবে, আল্লাহ এই যোদ্ধাকে সরল পথ প্রদর্শন করুন এবং প্রকৃতপক্ষে সে সরল পথ প্রাপ্ত ছিল"।
ইবন ইসহাক বলেন, ইহার পর লোকজন অভিযানের জন্য প্রস্তুত হইলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট হাজির হইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে বিদায় জানাইলে 'আবদুল্লাহ (রা) কবিতার আকারে বলিলেন:
فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ حَسَنٍ - تَثْبِيْتَ مُوسَى وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الخَيْرَ نَافِلَةً - اللهُ يَعْلَمُ أَنَّى ثَابِتُ الْبَصَرِ أَنْتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهُ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بِهِ الْقَدَرُ.
“(হে আল্লাহর রাসূল!) আল্লাহ আপনাকে যেই সৌন্দর্য দান করিয়াছেন তাহাতে তিনি আপনাকে সুদৃঢ় রাখুন, যেইভাবে মূসা (আ) ও তাঁহার সাহায্যকারিগণকে সুদৃঢ় রাখিয়ছিলেন।
"আমি স্বীয় অন্তরদৃষ্টিতে দেখিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রহিয়াছে। আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত আছেন যে, আমি যাহা বলিতেছি তাহা নিশ্চিতভাবে জানিয়াই বলিতেছি।
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল। সুতরাং যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণসমূহ ও সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ"।
ইবন হিশাম বলেন, আমাকে জনৈক কাব্যবিশারদ পংক্তিগুলি এইভাবে শিখাইয়াছেন:
أنتَ الرَّسُولُ فَمَنْ يُحْرَمُ نَوَافِلَهُ - وَالْوَجْهَ مِنْهُ فَقَدْ أَزْرَى بهِ الْقَدَرُ فَثَبَّتَ اللهُ مَا أَتَاكَ مِنْ مُحْسِن - فِي الْمُرْسَلِينَ وَنَصْرًا كَالَّذِي نُصِرُوا إِنِّي تَفَرَّسْتُ فِيكَ الْخَيْرَ نَافِلَةِ - فِرَاسَةِ خَالِفَتْ فِيكَ الَّذِي نَظَرُوا .
"আপনি আল্লাহ্র রাসূল! যেই ব্যক্তি তাঁহার কল্যাণ সন্তুষ্টি হইতে বঞ্চিত থাকিবে তাহার ভাগ্যই মন্দ।
"রাসূলদিগের মধ্যে আল্লাহ আপনার গুণাবলী স্থায়ী করুন পূর্ববর্তী সাহায্যপ্রাপ্ত রাসূলগণের মত আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন।
"আমার দিব্যজ্ঞানে আমি বুঝিতে পরিয়াছি যে, আপনার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ নিহিত আছে। আমার এ প্রজ্ঞা আপনার সম্পর্কে মুশরিকদের সম্পূর্ণ বিপরীত"।
ইবন ইসহাক বলেন, অতঃপর মুসলিম বাহিনী রওয়ানা করিল। রাসূলুল্লাহ (স) তাহদিগকে বিদায় জানাইতে বাহির হইয়া আসেন। তাহাদিগকে বিদায় দিয়া ফিরিয়া আসিলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ن রাওয়াহা (রা) কবিতার মাধ্যমে বলেন:
خَلْفَ السَّلَامِ عَلَى امْرَى وَدَعْتُهُ - فِي النَّخْلِ خَيْرَ مُشَيِّعِ وَخَلِيل:
"বিদায়লগ্নে সেই মহান ব্যক্তিত্বের উপর সালাম বর্ষিত হউক যাঁহার দ্বারা আমি বিদায়ী সম্ভাষণে ভূষিত হইলাম। তিনি হইলেন সর্বোত্তম বিদায় সম্ভাষণকারী ও পরীক্ষিত বন্ধু" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২২১, ১৪২; ইব্‌ن হিশাম, আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩খ., ২৫৯, ২৬০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুদ্ধাভিযানে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার বিলম্ব

📄 যুদ্ধাভিযানে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার বিলম্ব


ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন: لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্‌ন রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স)
বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম" (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।

ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন: لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্‌ন রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।

ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন:
لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্‌ن রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।

ইমাম আহমাদ 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-কে একটি যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ঘটনাক্রমে উহা জুমুআর দিন ছিল। ফলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার সঙ্গী যোদ্ধাগণকে অগ্রগামী হইতে বলিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে জুমুআর সালাত আদায়ের নিমিত্ত পিছনে রহিয়া গেলেন। তিনি তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন, সালাত আদায়ান্তে আমি আপনাদের সাথে মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ (স) সালাত আদায় করিবার পর তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, কেন তুমি সকালে রওয়ানা হইলে না?। তিনি বলিলেন, আমি আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিয়া তাহাদিগের সহিত মিলিত হইবার বাসনা পোষণ করিয়াছি। তাহার এ মনোবাসনা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) নিম্নোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন:
لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ غُدُوتَهُمْ
"জগতের সকল কিছু তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করিলেও তাহাদিগের সহিত প্রাতকালে বাহির হইবার পুণ্য লাভ করিতে পারিবে না"।
হাদীছটি ইমাম তিরমিযী (র) বর্ণনা করিয়া উহার সনদে ত্রুটি আছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদীছ দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, মু'তার যুদ্ধে সেনাবাহিনী জুমু'আর দিন যাত্রা করিয়াছিল। ইমাম আহমাদ কর্তৃক 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন মুহাম্মাদ সূত্রে ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে উপরিউক্ত বর্ণনার অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত রহিয়াছে। তাহা হইল:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ بَعَثَ إِلى مُوتَهُ فَاسْتَعْمَلَ زَيْدًا فَإِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَابْنُ رَوَاحَةً فَتَخَلَّفَ ابْنُ رَوَاحَةَ فَجَمَعَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَاهُ فَقَالَ مَا خَلْفَكَ فَقَالَ أَجْمَعُ مَعَكَ قَالَ لَغُدُوةٌ أَوْ رَوَحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا .
"ইবন 'আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মু'তা অভিমুখে সেনাঅভিযান প্রেরণ করিয়া যায়দ (রা)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করিলেন। যায়দ শহীদ হইলে জা'ফার (রা) সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করিবে, জা'ফারও শহীদ হইলে ইব্‌ن রাওয়াহা (রা) দায়িত্ব গ্রহণ করিবে। ইব্‌ন রাওয়াহা যাত্রা বিলম্ব করিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে দেখিতে পাইয়া বলিলেন, রওয়ানা করিতে তুমি বিলম্ব করিয়াছ কেন? তিনি বলিলেন, আপনার সহিত জুমু'আর সালাত আদায় করিবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেনঃ আল্লাহ্র পথে একটি সকাল অথবা একটি বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও দুনিয়ায় যাহা কিছু আছে তাহা হইতে উত্তম” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ, ২৪২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপদেশ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপদেশ


এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্‌ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্‌ن আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে
বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادَرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।

এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্‌ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্‌ন রাওয়াহা (را)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادَرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।

এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্‌ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্‌ن রাওয়াহা (রা)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادَرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।

এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) মুসলিম সেনাদলের জন্য একটি সাদা বর্ণের পতাকা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন। পতাকাটি তিনি যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-এর হাতে তুলিয়া দিয়াছিলেন। যুদ্ধের জন্য রওয়ানা হইবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে তিনি মুসলিম সেনাদলের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করিয়াছিলেন : সকলেই হারিছ ইব্‌ন উমায়রের শাহাদাত লাভের স্থানে সমবেত হইয়া এখানকার অধিবাসিগণকে ইসলামের দিকে আহবান করিবে। তাহারা যদি তাহা গ্রহণ করে তাহা হইলে তো ভাল, অন্যথায় আল্লাহ্র সাহায্য চাহিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। এই উপদেশ দিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বিদায় দানের উদ্দেশ্যে "ছানিয়্যাতুল-ওয়াদা' (تَنيَّةُ الْوَدَاعِ ) পর্যন্ত বাহির হইয়াছিলেন। এই স্থানে দাঁড়াইয়া তিনি তাহাদিগকে বিদায় জানান। সেনাদল রওয়ানা করিলে অন্যান্য মুসলিমগণ উচ্চস্বরে বলিয়া উঠিলেন:
دَفَعَ اللهُ عَنْكُمْ وَرَدَكُمْ صَالِحِيْنَ عَالَمِيْنَ. "আল্লাহ তোমাদিগের দুর্ভোগ লাঘব করুন এবং তোমাদিগকে পুণ্যবান বিজেতা হিসাবে প্রত্যাবর্তন করিবার সুযোগ দান করুন" (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ২খ., ১২৮)।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম (রা) বলেন, আমি 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) কর্তৃক লালিত-পালিত হইয়াছিলাম। আমি ইয়াতীমদের লালন-পালনের ব্যাপারে তাঁহার মত অন্য কাহাকে দেখি নাই। তিনি যখন মুতা-র উদ্দেশে রওয়ানা করেন তখন আমিও তাঁহার বাহনে আরোহী ছিলাম। রওয়ানার প্রাক্কালে এক রাত্রে তিনি কিছু কবিতা পাঠ করিতেছিলেন যাহা হইতে তাঁহার শাহাদাত লাভের আভাস পাওয়া যাইতেছিল। এতদশ্রবণে আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে বৎস! তোমার ইহাতে কি ক্ষতি আছে যদি আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের পিয়ালা পান করান? ইহার ফলে আমি উদয়স্থল, অস্তাচল এবং পার্থিব কলুষতা হইতে পরিত্রাণ লাভ করিয়া আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আখিরাতে চিরস্থায়ী শান্তি লাভ করিব। অতঃপর তিনি স্বীয় বাহন হইতে অবতরণ করিয়া সালাত আদায়ে মগ্ন হইলেন এবং মুনাজাত করিলেন। সালাতশেষে আমাকে বলিলেন, হে বৎস! সম্ভবত আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করিয়াছেন এবং আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করিবেন (মাদারিজুন নুবুওয়া, ২খ, ৪৫৬)।
ইবন ইসহাক বলেন, মুসলমানগণ সম্মুখপানে অগ্রসর হয়। তিনি বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলিয়াছেন, আমি ইব্‌ন রাওয়াহা (রা)-এর পোষ্য ইয়াতীম ছিলাম। এই সফরে তিনি আমাকেও সঙ্গে লইয়া রওয়ানা হইয়াছিলেন। আমাকে তাহার বাহনের হাওদার পিছনে বসাইয়া চলিতে শুরু করিলেন। আমি আল্লাহ্র শপথ করিয়া বলিতেছি, তখন ছিল রাত। চলিবার পথে আমি শুনিতেছিলাম, তিনি নিম্নোক্ত কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করিতেছেন:
إِذا أَدَّيْتَنِي وَحَمَلْتَ رَحْلِى - مَسِيرَةَ أَرْبَعِ بَعْدَ الْحَسَاءِ فَشَأْنُكَ أَنْعُمْ وَخَلَاكَ ذَم - وَلَا أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي وَرَائِي وَجَاءَ الْمُسْلِمُونَ وَغَادِرُونِي - بَأَرضِ الشَّامِ مُشْتَهِي الثَّوَاةِ وَرَدَكَ كُل ذِي نَسَب قَرِيب - إلى الرَّحْمَنِ مَنْقَطَعِ الأَخَاءِ هُنَالِكَ لَا أَبَالِي طَلْعُ بَعْل - وَلَا نَخْلَ أَسَافِلَهَا رَوَاءِ.
“(হে নফস!) তুমি যখন তোমার হক আদায় করিয়াছ এবং আমার হাওদা বোঝাই করিয়া দিয়াছ কংকরময় ভূমি চার দিন সফর করিবার পর,
"তখন তোমার জন্য রহিয়াছে অনেক অনেক নিয়ামত। ইহার অন্যথা করিলে তুমি হইবে নিন্দনীয়। আমি আর পিছনে ফিরিয়া আমার পরিবার-পরিজনের নিকট যাইব না"।
"মুসলিম বাহিনী আমাকে সিরিয়ার মাটিতে আমার কাঙ্খিত শাহাদাত স্থলে রাখিয়া যাইতে আসিয়াছে।
"(হে আমার নফস!) ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করিয়া আমার নিকটাত্মীয়রা তোমাকে দয়াময় আল্লাহ্র হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে"।
"তথায় না কোন নব অংকুরিত চারা গাছের আমি পরওয়া করিব, না থাকিবে খেজুর গাছের পরওয়া, যাহার শাখাসমূহ ঝুঁকাইয়া আমি তাহার ফল চয়ন করিব"।
যায়দ ইব্‌ন আরকাম বলেন, তাহার এই কবিতাগুলি শুনিয়া আমি কাঁদিতে লাগিলাম। তিনি আমাকে তাঁহার হাতের ছড়ি দ্বারা খোঁচা দিয়া বলিলেন, বোকা কোথাকার! আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করিবেন, ইহাতে তোমার অসুবিধা কি? তুমি আমার বাহনের সামনে পিছনে যেখানে ইচ্ছা বসিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবে। ইবন ইসহাক বলেন, তাহার পর সেই সফরের কোন এক মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রা) নিম্নোক্ত পংক্তিটি সুর করিয়া গাইলেন।
يَا زَيْدُ يَا زَيْدُ الْيَعْمَلَاتِ الدَّبَّلِ - تَطَاوَلَ اللَّيْلُ هُدِيْتِ فَأَنْزِلُ.
“হে যায়দ! সেইসব দ্রুতগামী বা কর্মপটু উষ্ট্রীর মালিক যায়দ! যেই উস্ত্রীগুলি উপর্যুপরি সফরে দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। রাত অনেক হইয়া গিয়াছে। তুমি যখন সরল সঠিক পথে রহিয়াছ, সত্বর নামিয়া পড়” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., ২৪৩; আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩ খ., ২৬১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00