📄 আয়মানের পক্ষ হইতে কৈফিয়ত
হাসসান ইব্ন ছাবিত (রা) আয়মান ইব্ন উম্মু আয়মান উবায়দের পক্ষ হইতে কৈফিয়ত দিয়াও কবিতা রচনা করেন। আয়মান খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নাই। তিনি ছিলেন বানু আওফ ইব্ন খাযরাজ গোত্রের লোক। তাহার মাতা উম্মু আয়মান ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাসী। তিনি উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-এর বৈপিত্রেয় ভাই। হাসসান (রা) তাঁহার সেই কবিতায় বলেন:
سیرۃ وبشکوش (۱) عَلَى حِينٍ أَنْ قَالَتْ لأَيْمَنَ أُمُّهُ - جَبَنْتَ وَلَمْ تَشْهَدُ فَوَارِسَ خَيْبَرَ
(۲) وَأَيْمَنُ لَمْ يُجِبْنَ ولكن مَهْرَهُ - أَضْرَبَهُ شُرْبُ الْمَدِيدَ الْمُخَمِّرِ
(۳) ولولا الَّذِي قَدْ كَانَ مِنْ شَأْنِ مَهْرِهِ - لَقَاتَلَ فِيْهِمْ فَارِسًا غَيْرُ عُسْرٍ
(٤) وَلَكِنَّهُ قَدْ صَدَّهُ فِعْلُ مَهْره - وَمَا كَانَ مِنْهُ عِنْدَهُ غَيْرُ أَيْسَرَ.
(১) “আয়মানের মাতা যখন তাহাকে তিরস্কার করিয়া বলিয়াছিলেন, খায়বার যুদ্ধের অশ্বারোহীদের সঙ্গে যোগ না দিয়া হে আয়মান! তুমি কাপুরুষের মত কাজ করিলে।
(২) আসলে সেই দিন আয়মান কোন কাপুরুষতা প্রদর্শন করে নাই, বরং তাহার ঘোড়াটি আটা মিশ্রিত নেশাযুক্ত পানি পানে পীড়িত হইয়া পড়িয়াছিল।
(৩) যদি সেই দিন তাহার ঘোড়াটির অবস্থা এমন না হইত তাহা হইলে সে অবশ্যই অশ্বারোহী দক্ষতার সহিত যুদ্ধ করিত।
(৪) কিন্তু তাহাকে বাধা প্রদান করিয়াছে তাহার ঘোড়ার ক্রিয়া, অন্যথায় সে দক্ষতার সহিতই যুদ্ধ করিত।"
ইবন হিশাম বলেন, আবূ যায়দ-এর মতে এই কবিতাগুচ্ছ কা'ব ইব্ن মালিক রচিত, তবে উহাতে নিম্নরূপ পরিবর্তন রহিয়াছে:
وَلَكِنْ قَدْ صَدَّهُ شَأْنُ مَهْرِهِ - وَمَا كَانَ لَوْلا ذَاكُمْ بِمُقْصِرٍ.
"বরং তাহাকে আটকাইয়াছে তাহার ঘোড়ার অবস্থা। যদি তাহা না হইত তাহা হইলে সে কোন ত্রুটি করিত না।"
ইবন ইসহাক বলেন, নাজিয়া ইন্ন জুনদুব আসলামী নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেন:
بالعباد الله فيمَ يَرْغَبُ - مَا هُوَ الأَ مَأْكَلُ وَمَشْرَبُ وَجَنَّةً فِيهَا نَعِيمٌ مُعْجَبٌ.
"আক্ষেপ আল্লাহব বান্দাদের জন্য! কিসের আসক্তিতে আচ্ছন্ন? ইহা তো কেবল পানাহারের স্থান, অথচ জান্নাতে রহিয়াছে আকর্ষণীয় নি'মত।"
নাজিয়া ইন্ন জুনদুব আরও বলিয়াছেন,
أَنَا لِمَنْ أَنْكَرَنِي ابْنَ جُنْدُبٍ يَارُبُ + قَرْنٍ فِي مَكْرِي أَنْكَبُ طَاحَ بِمَغْدَى أَنَسْرُ وَتَعْلَبُ.
"যে আমার পরিচয় জানে না আমি তাহার উদ্দেশ্যে বলিতেছি, আমি হইলাম জুনদুবের পুত্র। কত প্রতিপক্ষ আছে যাহারা যুদ্ধকালে আমার কৌশলের কাছে অধোমুখী হয় এবং তাহাদের মৃতদেহ হয় শকুন বা শিয়ালের সকালের খাবার।"
কা'বের কবিতা ইব্ন হিশাম আবূ যায়দ আল-আনসারী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, কা'ব ইবন মালিক (রা) খায়বার দিবসে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন:
(১) وَنَحْنُ وَرَدْنَا خَيْبَراً وَفُرُوضَهُ - بِكُلِّ فَتَى عَارِيُّ الأَشَاجِعِ مَدُودٌ
(২) جواد لَدَى الْغَايَاتِ لا وَاهِنِ الْقَوِيُّ - جَرِى عَلَى الْأَعْدَاءِ فِي كُلِّ مَشْهَدِ
(৩) عَظِيمُ رَمَادِ القدر في كُلِّ شَتْوَة - ضَرُوبٌ بنصلِ الْمَشْرِفِي الْمُهَنَّدِ
(٤) يَرَى الْقَتْلَ مَدْحًا إِنْ أَصَابَ شَهَادَةً - مِنَ اللَّهِ يَرْجُوهَا وَفَوْذَا بِأَحْمَدِ
(٥) يَدُودُ وَيُحمى عن ذِمَارٍ مُحَمَّدٍ - وَيَدْفَعُ عَنْهُ بِالنِّسَانِ وَبِالْيَد.
(৬) وَنَيْصُرُهُ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ يُرِيبُهُ - يَجُودُ لِنَفْسٍ دُونَ نَفْسٍ مُحَمَّدٍ
(৭) يَصْدَقُ بِالأَنْبَاءِ بِالْغَيْبِ مُخْلِصًا - يُرِيدُ بِذَاكَ الْفَوْزُ وَالْعِزَّ فِي غَد.
(১) "আমরা খায়বারে আর ইহার ঘাটিগুলিতে অবতরণ করিযাছি যুবা-কিশোরদের লইয়া, যাহাদের হাতের শিরাসমূহ স্পষ্ট হইয়া উঠে নাই;
(২) লক্ষ্য অর্জনে যাহারা দুর্বল নয়। প্রতিটি ময়দানে শত্রুদের মুকাবিলায় তাহারা সাহসী।
(৩) শীত মৌসুম তাহাদের চুলায় থাকে ছাইয়ের বিরাট স্তূপ।
(৪) নিহত হওয়াকে তাহারা প্রশংসনীয় কাজ মনে করে ও রাসূলুল্লাহ (স)-এর সন্তুষ্টির লাভের উপায় আল্লাহর পথে কাঙ্খিত শাহাদত অর্জন করিতে পারে।
(৫) মুহাম্মাদ (স)-এর অধিকারসমূহ সংরক্ষণে তাহারা সদা প্রস্তুত থাকে, মুখ ও হাত দ্বারা সর্বদা তাহারা তাহার বিরুদ্ধবাদীদেরকে প্রতিহত করে।
(৬) যে কোন আশংকাজনক কাজে তাঁহার সাহায্যে তাহারা আগাইয়া আসে। মুহাম্মাদ (স)-এর প্রাণ রক্ষার্থে তাহারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দেয়।
(৭) গায়বের খবরাদিকে তাহারা নিষ্ঠার সহিত বিশ্বাস করে, ইহার দ্বারা তাহারা কাল কিয়ামতের সম্মান ও সফলতা কামনা করে" (ইব্ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৪০; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৪খ, পৃ. ২১৮)।
হাসসান ইব্ন ছাবিত (রা) আয়মান ইব্ন উম্মু আয়মান উবায়দের পক্ষ হইতে কৈফিয়ত দিয়াও কবিতা রচনা করেন। আয়মান খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নাই। তিনি ছিলেন বানু আওফ ইব্ন খাযরাজ গোত্রের লোক। তাহার মাতা উম্মু আয়মান ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্ত দাসী। তিনি উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-এর বৈপিত্রেয় ভাই। হাসসান (রা) তাঁহার সেই কবিতায় বলেন:
(১) عَلَى حِينٍ أَنْ قَالَتْ لأَيْمَنَ أُمُّهُ - جَبَنْتَ وَلَمْ تَشْهَدُ فَوَارِسَ خَيْبَرَ
(২) وَأَيْمَنُ لَمْ يُجِبْنَ ولكن مَهْرَهُ - أَضْرَبَهُ شُرْبُ الْمَدِيدَ الْمُخَمِّرِ
(৩) ولولا الَّذِي قَدْ كَانَ مِنْ شَأْنِ مَهْرِهِ - لَقَاتَلَ فِيْهِمْ فَارِسًا غَيْرُ عُسْرٍ
(٤) وَلَكِنَّهُ قَدْ صَدَّهُ فِعْلُ مَهْره - وَمَا كَانَ مِنْهُ عِنْدَهُ غَيْرُ أَيْسَرَ.
(১) “আয়মানের মাতা যখন তাহাকে তিরস্কার করিয়া বলিয়াছিলেন, খায়বার যুদ্ধের অশ্বারোহীদের সঙ্গে যোগ না দিয়া হে আয়মান! তুমি কাপুরুষের মত কাজ করিলে।
(২) আসলে সেই দিন আয়মান কোন কাপুরুষতা প্রদর্শন করে নাই, বরং তাহার ঘোড়াটি আটা মিশ্রিত নেশাযুক্ত পানি পানে পীড়িত হইয়া পড়িয়াছিল।
(৩) যদি সেই দিন তাহার ঘোড়াটির অবস্থা এমন না হইত তাহা হইলে সে অবশ্যই অশ্বারোহী দক্ষতার সহিত যুদ্ধ করিত।
(৪) কিন্তু তাহাকে বাধা প্রদান করিয়াছে তাহার ঘোড়ার ক্রিয়া, অন্যথায় সে দক্ষতার সহিতই যুদ্ধ করিত।”
ইবন হিশাম বলেন, আবূ যায়দ-এর মতে এই কবিতাগুচ্ছ কা'ব ইব্ন মালিক রচিত, তবে উহাতে নিম্নরূপ পরিবর্তন রহিয়াছে:
وَلَكِنْ قَدْ صَدَّهُ شَأْنُ مَهْرِهِ - وَمَا كَانَ لَوْلا ذَاكُمْ بِمُقْصِرٍ.
"বরং তাহাকে আটকাইয়াছে তাহার ঘোড়ার অবস্থা। যদি তাহা না হইত তাহা হইলে সে কোন ত্রুটি করিত না।"
ইবন ইসহাক বলেন, নাজিয়া ইন্ন জুনদুব আসলামী নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেন:
بالعباد الله فيمَ يَرْغَبُ - مَا هُوَ الأَ مَأْكَلُ وَمَشْرَبُ وَجَنَّةً فِيهَا نَعِيمٌ مُعْجَبٌ.
"আক্ষেপ আল্লাহব বান্দাদের জন্য! কিসের আসক্তিতে আচ্ছন্ন? ইহা তো কেবল পানাহারের স্থান, অথচ জান্নাতে রহিয়াছে আকর্ষণীয় নি'মত।"
নাজিয়া ইন্ন জুনদুব আরও বলিয়াছেন:
أَنَا لِمَنْ أَنْكَرَنِي ابْنَ جُنْدُبٍ يَارُبُ + قَرْنٍ فِي مَكْرِي أَنْكَبُ طَاحَ بِمَغْدَى أَنَسْرُ وَتَعْلَبُ.
"যে আমার পরিচয় জানে না আমি তাহার উদ্দেশ্যে বলিতেছি, আমি হইলাম জুনদুবের পুত্র। কত প্রতিপক্ষ আছে যাহারা যুদ্ধকালে আমার কৌশলের কাছে অধোমুখী হয় এবং তাহাদের মৃতদেহ হয় শকুন বা শিয়ালের সকালের খাবার।"
কা'বের কবিতা ইব্ন হিশাম আবূ যায়দ আল-আনসারী হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, কা'ব ইবন মালিক (রা) খায়বার দিবসে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করিয়াছিলেন:
(১) وَنَحْنُ وَرَدْنَا خَيْبَراً وَفُرُوضَهُ - بِكُلِّ فَتَى عَارِيُّ الأَشَاجِعِ مَدُودٌ
(২) جواد لَدَى الْغَايَاتِ لا وَاهِنِ الْقَوِيُّ - جَرِى عَلَى الْأَعْدَاءِ فِي كُلِّ مَشْهَدِ
(৩) عَظِيمُ رَمَادِ القدر في كُلِّ شَتْوَة - ضَرُوبٌ بنصلِ الْمَشْرِفِي الْمُهَنَّدِ
(٤) يَرَى الْقَتْلَ مَدْحًا إِنْ أَصَابَ شَهَادَةً - مِنَ اللَّهِ يَرْجُوهَا وَفَوْذَا بِأَحْمَدِ
(٥) يَدُودُ وَيُحمى عن ذِمَارٍ مُحَمَّدٍ - وَيَدْفَعُ عَنْهُ بِالنِّسَانِ وَبِالْيَد.
(৬) وَنَيْصُرُهُ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ يُرِيبُهُ - يَجُودُ لِنَفْسٍ دُونَ نَفْسٍ مُحَمَّدٍ
(۷) يَصْدَقُ بِالأَنْبَاءِ بِالْغَيْبِ مُخْلِصًا - يُرِيدُ بِذَاكَ الْفَوْزُ وَالْعِزَّ فِي غَد.
(১) "আমরা খায়বারে আর ইহার ঘাটিগুলিতে অবতরণ করিযাছি যুবা-কিশোরদের লইয়া, যাহাদের হাতের শিরাসমূহ স্পষ্ট হইয়া উঠে নাই;
(২) লক্ষ্য অর্জনে যাহারা দুর্বল নয়। প্রতিটি ময়দানে শত্রুদের মুকাবিলায় তাহারা সাহসী।
(৩) শীত মৌসুম তাহাদের চুলায় থাকে ছাইয়ের বিরাট স্তূপ।
(৪) নিহত হওয়াকে তাহারা প্রশংসনীয় কাজ মনে করে ও রাসূলুল্লাহ (স)-এর সন্তুষ্টির লাভের উপায় আল্লাহর পথে কাঙ্খিত শাহাদত অর্জন করিতে পারে।
(৫) মুহাম্মাদ (স)-এর অধিকারসমূহ সংরক্ষণে তাহারা সদা প্রস্তুত থাকে, মুখ ও হাত দ্বারা সর্বদা তাহারা তাহার বিরুদ্ধবাদীদেরকে প্রতিহত করে।
(৬) যে কোন আশংকাজনক কাজে তাঁহার সাহায্যে তাহারা আগাইয়া আসে। মুহাম্মাদ (স)-এর প্রাণ রক্ষার্থে তাহারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দেয়।
(৭) গায়বের খবরাদিকে তাহারা নিষ্ঠার সহিত বিশ্বাস করে, ইহার দ্বারা তাহারা কাল কিয়ামতের সম্মান ও সফলতা কামনা করে"।